RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, June 16, 2017

সহায়ক মূল্যে ফসল বিক্রির আইন চাই আই এন এন : নয়াদিল্লি, ১৫ই জুন — চাষের খরচের সঙ্গে ৫০শতাংশ লাভ যুক্ত করে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এম এস পি) নির্ধারণে কেন্দ্রীয় আইন তৈরির জন্য এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি চিঠি লিখলেন সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ সীতারাম ইয়েচুরি। সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনেই এই আইন পেশ এবং অনুমোদন করানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখে ইয়েচুরি বলেছেন, সরকার ঘোষিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ফসল বিক্রির অধিকার দিতে হবে কৃষককে। এই অধিকারের সংস্থান রাখতে হবে নতুন আইনে। পাশাপাশি, প্রতি বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে হবে এই আইনে। মূল্যায়নের সময় সেই বছরের ফসল চাষের খরচের সঙ্গে ৫০শতাংশ লাভ হিসেব করেই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে দেশের কৃষকদের সংকট বহুগুণ বেড়ে গেছে। কৃষিকাজে পরপর লোকসান সইতে সইতে কৃষকরা দলে দলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গসহ বহু রাজ্যে তুমুল কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সরকারের উদাসীনতার বিরুদ্ধে পরপর আন্দোলনের কর্মসূচি নিচ্ছে সারা ভারত কৃষকসভাও। এই অবস্থায় দেশের দুর্দশাগ্রস্ত কৃষকসমাজের পাশে দাঁড়িয়ে সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক এদিন যেভাবে তাঁদের মূল দাবিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলেন, তা কেন্দ্রীয় সরকারকে যথেষ্ট চাপে ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইয়েচুরি তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ‘দেশজুড়ে কৃষকরা যে ভয়াবহ সংকটের মধ্যে রয়েছেন, তার দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছি আমি। গত তিন বছরে গ্রামভারতে দুর্দশা চরমে উঠেছে, হাজার হাজার কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। একের পর এক রাজ্যে কৃষক বিক্ষোভ ক্রমশই বাড়ছে। তা সত্ত্বেও আপনার নীরবতা এবং উদাসীনতা খুবই আশ্চর্যের। পাশাপাশি আপনার দল বি জে পি-র পরিচালনাধীন রাজ্য সরকারগুলি পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে গরিব কৃষকদের ওপর বেপরোয়া অত্যাচার চালাচ্ছে। মধ্য প্রদেশে পুলিশের গুলিতে ৬জন গরিব কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। বহু কৃষক জখম হয়েছেন। এর মধ্যেই নানা প্রান্তে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রেও কৃষক আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।’ তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে ইয়েচুরি প্রধানমন্ত্রীকে নজর করিয়েছেন, ‘আপনার দল পরিচালিত মহারাষ্ট্র সরকারও কৃষকদের ন্যায্য দাবিগুলির ব্যাপারে সমান বিবেচনাহীন। কৃষক আন্দোলনের ওপর নির্মম অত্যাচার চালাচ্ছে তারাও।’ ইয়েচুরি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ‘১৫মাস আগে আমি নাসিকে গিয়েছিলাম। ন্যায্য দাবি জানাতে কৃষকরা তখন নাসিক শহরে অবরোধ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তখন কৃষকদের আলোচনায় ডেকে দাবি মেটানোর জন্য ছ’মাস সময় চেয়ে নিয়েছিলেন। তারপরে ১৫মাস কেটে গেছে। কিন্তু কিছুই হয়নি। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে অভিনব আন্দোলনে নামেন। রাজ্যে তাঁরা কৃষক ধর্মঘট করলেন। এই আন্দোলনের জেরে গত সপ্তাহের শেষে ফের আলোচনা হয়েছে। কৃষকরা এখন স্পষ্ট বলছেন, সরকার যদি তার অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পালন না করে, তাহলে আগামী ২৬শে জুলাই থেকে তাঁরা ফের আন্দোলন শুরু করবেন।’ প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর নিজের প্রতিশ্রুতির কথাই মনে করিয়ে দিয়ে ইয়েচুরি চিঠিতে লিখেছেন, ‘ভোটের আগে আপনার একটি অঙ্গীকার এখন আপনাকে মনে করিয়ে দেওয়া আমার কর্তব্য। তিন বছর আগে নির্বাচনী প্রচারে আপনি দেশবাসীকে বলেছিলেন, ফসলের উৎপাদন খরচের সঙ্গে ৫০শতাংশ লাভ যোগ করে কৃষককে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হিসেবে দেওয়া হবে। কিন্তু গত তিন বছরে আপনি এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। এব্যাপারে কিছুই করেননি। বর্তমানে বিভিন্ন ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য হিসেবে আপনার সরকার যা দিয়ে থাকে, তাতে কৃষকের হাতে কিছুই থাকে না।’ ইয়েচুরি আরো লিখেছেন, সরকারের দুই সংস্থা এফ সি আই এবং নাফেড কৃষকের সব ফসল আদৌ কেনে না। এমনকি সরকার ঘোষিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যটুকুও দেওয়া হয়না কৃষককে। এভাবে নিজের কষ্টার্জিত ফসল অভাবী বিক্রিতে কৃষককে বাধ্য করা হয়।’ এই পরিস্থিতিতে কৃষকের অধিকারের আইনি স্বীকৃতি দাবি করে সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনেই এব্যাপারে যথাযথ বিল পেশ এবং অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন ইয়েচুরি। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেছেন, এমন একটি আইন করুন যেটি কৃষককে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ফসল বিক্রির অধিকার দেবে। সংশ্লিষ্ট বছরে ফসলের উৎপাদন খরচের সঙ্গে ৫০শতাংশ লাভ যোগ করে কৃষকের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করবে। এজন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বার্ষিক মূল্যায়নের সংস্থান রাখতে হবে নতুন আইনে। http://ganashakti.com/bengali/current_news_details.php…

No comments: