RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Monday, June 5, 2017

বাইশে’র শহীদ - রবিবারের সকাল বয়ে নিয়ে এল এক মর্মান্তিক দুঃসংবাদ। মৃত্যু হয়েছে কমরেড সলিল বসুর। নবান্ন অভিযানের প্রথম শহীদ হলেন দমদমের বাসিন্দা কমরেড সলিল বসু। নবান্ন অভিযানে নিরস্ত্র, শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর পুলিশের বর্বর আক্রমণের জেরে শহীদ হলেন ঐ কমরেড। সলিল বসুর মৃত্যুর আপাত ডাক্তারি কারণ দেখি‍‌য়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছে কলকাতার পুলিশ। কিন্তু সকলের চোখে কলকাতা পুলিশই হত্যাকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশের বর্বরতা রুখতে মরণজয়ী সাহসিকতার নজির তৈরি করলেন কমরেড সলিল বসু। গত ২২শে মে নবান্ন অভিযানকে রুখতে পেশাদারি উর্দি ছেড়ে তৃণমূলের ঝান্ডাধারী কর্মীতে পরিণত হয়েছিল কলকাতা পুলিশ। বামকর্মী সমর্থকদের উদ্দেশে পুলিশের মুখে ছিল অশ্রাব্য গালিগালাজ। আই পি এস অফিসাররা নিজেদের শাসকের দলদাসে পরিণত করেছিল। শান্তিপূর্ণ মিছিল আটকাতে উচ্চপদস্থ অফিসাররা অবস্থানকারীদের ওপর নির্বিচারে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। মিছিলের মানুষগুলির বয়সের তোয়াক্কা করেনি। পুলিশবাহিনী ধর্মতলা চত্বরজুড়ে অত্যাচার নামিয়ে এনেছে নারী, পুরুষ, তরুণ, বৃদ্ধ নির্বিচারে সকলের ওপর। কাঁদানে গ্যাস, বিষাক্ত রাসায়নিকে ছটফট করতে হয়েছে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের। রাজপথে ফেলে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে ছিলেন না। পরিকল্পনামাফিক তিনি চলে গিয়েছিলেন কলকাতার বাইরে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই পুলিশ তার বর্বর চেহারা প্রকাশ করেছে। পুলিশের উর্দি পরে শাসকদলের মুখপাত্র হয়ে ওঠে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু পুলিশের নৃশংস আচরণ দমন করতে পারেনি বামপন্থী কর্মীদের। পুলিশের লাঠি, কাঁদানে গ্যাসকে উপেক্ষা করে মিছিল এগিয়েছে নবান্নকে লক্ষ্য করে। ২২শে মে তৃণমূলের পুলিশ শুধু লাঠি চালায়নি, ইটও ছুঁড়েছে। পুলিশ মেরেছে মাথায়, পিঠে, হাতে, পায়ে, কোমরে। রক্তাক্ত মানুষকেও আবার মেরেছে পুলিশ। মহিলাদের ওপরও অত্যাচার চালিয়েছে। সারা শরীরে আঘাত নিয়ে অনেককেই ফিরতে হয়েছিল। পুলিশের লাঠির আঘাতকে পরোয়া করেননি মিছিলের মানুষ। পরের দিন পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে মিছিলে আবার ফিরে এসেছেন সেইসব লড়াকু মানুষ। কমরেড সলিল বসু তাদেরই একজন। তিনিও তাঁর আঘাতকে উপেক্ষা করেছিলেন। আঘাতের কথা না ভেবে ২৩শে মে আবার মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঐ আঘাতের জেরেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আজ পুলিশ এই আঘাতের কোনও দায় নিতে রাজি নয়। তারা এই মৃত্যুকে অসুস্থতার কারণে মৃত্যু বলে ব্যাখ্যা দিতে চাইছে। তৃণমূলের মুখপত্রের মতো তারা রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার করছে। পুলিশের সাহস থাকে তো ময়না তদন্ত হোক। পরিবারের দাবি মেনে কমরেড সলিল বসুর মৃত্যুর কারণ জানতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে ময়না তদন্ত করা হোক। শুধুমাত্র বিবৃতি দিয়ে নিজেদের দায় এড়াতে পারে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ। ছাত্রনেতা সুদীপ্ত গুপ্ত পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়। পুলিশি হেপাজতে থাকাকালীন আহত সুদীপ্তের মৃত্যু হয়। কিন্তু পুলিশ মানতে চায়নি। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘ছোট্ট’ এবং ‘দুর্ঘটনা’ বলে অভিহিত করেন। ভাঙড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ২ জন আন্দোলনকারী। ২০১১ থেকে গণআন্দোলনকে দমন করতে নানা পথ নিয়েছে পুলিশ। লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, গুলি থেকে শুরু করে মিছিল, সভার অনুমতি দেওয়া বন্ধ করেছে পুলিশ। কিন্তু দমন করতে পারেনি বামপন্থীদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনকে। পুলিশের স্বৈরাচারী স্পর্ধাকে মেনে নেননি এরাজ্যের লড়াকু মানুষ। শ্রমজীবী মানুষের দাবি নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সেই আন্দোলনের সাহসী সৈনিক ছিলেন কমরেড সলিল বসু। প্রতিবাদ, আক্রান্ত হওয়া, আবার প্রতিবাদে শামিল হওয়ার মধ্য দিয়েই কমরেড সলিল বসু রাজ্যের শাসকদলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যু আমাদের কাছে গভীর শোকের, দুঃখের। আবার এই মৃত্যুই আমাদের সকলকে আগামীদিনের সংগ্রামে পথ হাঁটতে সাহস জোগাচ্ছে। কমরেড সলিল বসু লালসেলাম।

No comments: