RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, June 18, 2017

সি বি আই কি ভারত সরকারের মুখপাত্র? ******************* সি‍ বি আই কি ভারত সরকারের মুখপাত্রের দায়িত্ব পেয়েছে? এই প্রশ্ন উঠেছে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত সি বি আই-র একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। এন ডি ‍‌টি ভি-র প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক প্রণয় রায়ের বাড়িতে সি বি আই-র তল্লাশির জেরে ৭ই জুন ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ একটি সম্পাদকীয় লিখে সি বি আই-র এই কাজের কড়া সমালোচনা করে। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’এর সম্পাদকীয়র মোদ্দা কথা ছিল, ‘ভারতের স্বাধীন সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত’। এতেই আঁতে ঘা লাগে সি বি আই কর্তাদের। সি বি আই-র প্রেস ইনফরমেশন অফিসার আর কে গৌর সোজা চিঠি লিখে নিউইয়র্ক টাইমস-র বক্তব্যকে ‘একপেশে’ বলে মন্তব্য করেছেন। অথচ সি বি আই-র এই কাজের ইতিমধ্যেই তীব্র সমালোচনা হয়েছে দেশে ও বিদেশে। সাংবাদিক ও সম্পাদকদের বেশির ভাগ সংগঠন এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রীতি অনুযায়ী ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগের মন্ত্রী কিংবা বিদেশ মন্ত্রকের কোনও মুখপাত্রের মাধ্যমে মার্কিন দৈনিকের সম্পাদকীয় মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা উচিত ছিল। কিন্তু সে পথে ভারত সরকার না গিয়ে খোদ সি বি আই-র মুখপাত্রকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। সি বি আই মুখপাত্রের চিঠিটি ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-র ‘সম্পাদক সমীপেষু’ কলামে প্রকাশিত হয়। চিঠিটিতে এমন সব শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত রীতিবিরুদ্ধ। এতেই ভারতে, এমনকি বিদেশেও তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। চিঠিটি সাধারণ কিংবা মামুলি ধরনের একটি প্রতিবাদপত্র হিসাবে গণ্য করা উচিত নয়। কারণ, চিঠিতে বেশ বড়াই করেই উল্লেখ করা হয়েছে : ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-র কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নেবার দরকার নেই। অর্থাৎ ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বর্তমান সরকার ও শাসকদলের পক্ষ থেকে খর্ব করার চেষ্টা হলেও দেশে যেমন কেউ গলা চড়িয়ে প্রতিবাদ করতে পারবেন না তেমনি দে‍‌শের বাইরে থেকে কেউ কিছু বললে পালটা জানিয়ে দেওয়া হবে, ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বাইরের কোনও উপদেশ মানতে আমরা রাজি নই। এন ডি টি ভি-র সাংবাদিকের বাড়িতে সি বি আই-র হানা নিয়ে ক’দিন আগেই দিল্লি প্রেস ক্লাবে বসে দেশের প্রবীণ সাংবাদিকরা প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। অনেকে এই ঘটনাকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। মোদী সরকার চায় সংবাদমাধ্যম অন্ধভাবে তাদের ঢাক পেটাক। সরকারের তিন বছরের সাফল্য যে বাক্‌শূন্য প্রচারের চাতুরিতেও সেটা আড়াল করা যাচ্ছে না। রাজ্যে রাজ্যে কৃষক অসন্তোষ, কর্মচারী, শিক্ষক, ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। শ্রমজীবী মানুষের আয় কমছে। কর্মসংস্থান স্থবিরতায় আক্রান্ত। এর দরুন মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ-অসন্তোষ আজ নানা স্থানে ফেটে পড়ছে। মানুষের কোনও জ্বলন্ত সমস্যার যে সুরাহা হচ্ছে না, ব্যাপক কৃষক বিক্ষোভই তা প্রমাণ করে। তাই মোদী সরকার চায় এসব নিয়ে তাদের কোনও সমালোচনা করা যাবে না। এটা মেনে না চললে সংবাদমাধ্যমকে সহবৎ শেখাতে যেসব পদক্ষেপের প্রয়োজন সেসবের আশ্রয় নেওয়া হবে। প্রথমে হেনস্তা করা ও ভয় দেখানো হবে। যদি তাতেও কাজ না হয় সরকারি সংস্থাকে পেছনে লাগিয়ে দেওয়া হবে। যেমন করা হয়েছে এন ডি ‍‌টি ভি-র ক্ষেত্রে। এতেই বোঝা যাচ্ছে, কোনোরকম সমালোচনা সহ্য করতে অপারগ হচ্ছে মোদী সরকার। এটা উপলব্ধিতে রাখা প্রয়োজন যে, হিন্দুত্বের মতাদর্শে বিশ্বাসী এই সরকার তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার কোনও পরিসরকে জায়গা দিতে রাজি নয়। এন ডি ‍‌টি ভি-র ঘটনায় সরকারের অসহিষ্ণুতার দিকটি আরো একবার সামনে নিয়ে এলো। কারণ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বাক্‌-স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সহ্য করতে সরকার একদম রাজি নয়। সরকারের এই মনোভাবের বাস্তব দিকটি উঠে এসেছে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত সি বি আই-র জনৈক অফিসারের চিঠিতে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিদেশি সংবাদপত্রের কোনও উপদেশও শুনতে চায় না ভারত। সরকারের অসহিষ্ণুতা, ঔদ্ধত্যের দিকটিও ফুটে উঠেছে একজন অফিসারের মনোভাবে। এটা শুধু অফিসারের মনের কথা নয়, সরকারেরই মনোভাব। সরকারের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্তসুলভ মনোভাবেরই প্রকাশ ঘটেছে এন ডি টি ভি-র ঘটনায়। আসলে এটা এন ডি টি ভি-কে দিয়ে শুরু। পরিণতিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করে দেবার অশুভ পদক্ষেপ।

No comments: