RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Saturday, February 18, 2017

উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে! *****************************************নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা, ১৭ই ফেব্রুয়ারি— ছিল বেড়াল, হলো রুমাল। টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অথচ নিয়োগ করা হবে পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে! জেলায় জেলায় টেট উত্তীর্ণ সফল চাকরি প্রার্থীদের কাউন্সেলিংয়ে ধরা পড়েছে একই চিত্র। তৃণমূলের নজিরবিহীন দুর্নীতি, বলছেন চাকরিপ্রার্থীরা। ই-মেলে ডাক এসেছে, এসেছে এস এম এস। কাউন্সেলিংয়ে গিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা জানতে পারছেন তাঁদের পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এমনই অভিজ্ঞতা বর্ধমানের নাজিমুল হকের, উত্তর চব্বিশ পরগনার স্বাতীলেখা ঘোষের, মুর্শিদাবাদের আরজুননাহার বেগমের। জেলায় জেলায় ক্রমশ বাড়ছে চাকরি প্রার্থীদের অসন্তোষ। বিক্ষোভ আছড়ে পড়ছে জেলা সদরগুলিতে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দপ্তরগুলির সামনে। বৃহস্পতিবার বারাসতের মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল স্কুলে কাউন্সেলিংয়ে আসেন চাকরি প্রার্থী তৃষা রায়। সটান তাঁকে জানানো হয়, তিনি প্রাথমিক শিক্ষকপদে উত্তীর্ণ হননি, হয়েছেন পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে। ই-মেলের প্রিন্ট আউট, এস এম এস দেখিয়েও ফল হয়নি। একই অভিজ্ঞতা উত্তর চব্বিশ পরগনার স্বাতীলেখা ঘোষ, শরিয়ত উল্লাহ মণ্ডল, জুলিয়াস রহমান, সুমিতা দাসদের। ক্ষোভে ফেটে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে ঘেরাও করে রাখেন উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি সম্রাট চ্যাটার্জিকে। চলতে থাকে বারাসত কলোনি মোড়ে অবরোধ। সন্ধে গড়িয়ে নেমেছে রাত। ক্লান্ত, অবসন্ন শরীর নিয়েই অবরোধ চালিয়েছেন তাঁরা। পাশে ডি ওয়াই এফ আই, এস এফ আই। শুক্রবার সকালেও টেট উত্তীর্ণ প্রায় সাড়ে চারশোজন যুবক যুবতীকে বলা হয় ২২শে ফেব্রুয়ারি ফের আসার জন্য। অবশ্য সভাপতি এদিন দপ্তরে আসার সাহস দেখাননি। সারারাত ঘেরাও হয়ে থাকার পরে ভয়ে এদিন দুপুরে গেটে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা। বাইরে ছয়লাপ পুলিশ। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন চাকরিপ্রার্থীরা। আগামী বুধবারের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগপত্র না পেলে অচল হবে জেলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় বারাসত কলোনি মোড়ে পথসভা করে ডি ওয়াই এফ আই। একই ছবি বর্ধমানেও। গত মঙ্গলবার কাউন্সেলিংয়ে জেনেছিলেন কোন স্কুলে পড়াতে যাবেন প্রিয়াঙ্কা রায়। অথচ তাঁকে বলা হলো প্রাথমিক শিক্ষিকা হিসেবে নয়, পার্শ্বশিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ হবেন। বুধবার, বৃহস্পতিবার দেখা মেলেনি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান অচিন্ত্য চক্রবর্তীর। বর্ধমান সদরে জেলাশাসকের দপ্তরে লাগাতার ধরনার পর বলা হয়েছে তাঁদের শংসাপত্র, যাবতীয় তথ্য ফের খতিয়ে দেখা হবে। ই-মেল, এস এম এস থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ না মেলায় নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন অনুপম ঘোষ, শিল্পী মোদকরা। ২০৯ জন চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় ডি ওয়াই এফ আই। ডি ওয়াই এফ আই এবং এস এফ আই’র ডাকে মিছিল কার্জনগেট থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সামনে যায়। সেখানে ছাত্র-যুবরা বিক্ষোভ দেখায়। তাঁদের দাবি ছিল চাকরির সমস্ত প্যানেল প্রকাশ করতে হবে। দুর্নীতি, স্বজনপোষণ বন্ধ করতে হবে। সমস্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এখানে এক বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন ডি ওয়াই এফ আই’র জেলা সম্পাদক পরেশ মণ্ডল। শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগে শুক্রবার উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে বিক্ষোভ দেখায় ডি ওয়াই এফ আই, এস এফ এফ আই । এদিন ডি ওয়াই এফ আই এবং এস এফ আই-র পক্ষ থেকে ডি পি এস সি-র সভাপতির কাছে স্মারকলিপি সহ ডেপুটেশন দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিক্ষোভের ভয়ে তিনি অনুপস্থিত থাকায় সংসদ অফিসের বাইরেই বিক্ষোভ ছাত্র-যুবদের সঙ্গে চাকরি প্রার্থীরা। ডি ওয়াই এফ আই-র জেলা সম্পাদক কার্তিক দাস অভিযোগ করে বলেন,স্বচ্ছভাবে এই নিয়োগ হচ্ছে না। দুর্নীতি ঢাকতে সফল প্রার্থী তালিকা চেয়ারম্যান গোপনে তাঁর আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছেন। সফল প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ ও স্বচ্ছভাবে নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি। কোচবিহারেও চাকরিপ্রার্থীরা কাউন্সেলিংয়ে এসে জানতে পারেন পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে নিয়োগের কথা। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলাশাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ দেখান চাকরি প্রার্থীরা। এস এফ আই-র জেলা সম্পাদক শুভ্রালোক দাস বলেছেন চাকরির ক্ষেত্রে একদিকে যেন দুর্নীতি অন্যদিকে সংরক্ষণের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তফসিলি ছাত্রদের। মুর্শিদাবাদে বৃহস্পতিবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান চাকরি প্রার্থীরা। ছিলেন এস এফ আই- ডি ওয়াই এফ আই-র কর্মীরাও। কাউন্সেলিংয়ে এসেও নিয়োগপত্র পাননি আব্দুর রহিম, সারবান তাহারারা। অবিলম্বে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত না হলে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সংসদের দপ্তর অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাকরি প্রার্থীরা। প্রতারণার একই ছবি বীরভূমে। কেন কাউন্সেলিংয়ের পরেও নিয়োগপত্র মিলছে না ? প্রাথমিক শিক্ষা সংসদও দিতে পারছেন না স্পষ্ট ব্যাখ্যা। শিক্ষা সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছিল প্যারাটিচার ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসাবে। নিয়োগপত্র দিতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁরা সেই শ্রেণিতে পড়েন না। নথি ফের না দেখে নিয়োগপত্র দিতে চাননি কর্তারা। শিক্ষা সংসদের এক কর্মী জানান, বোর্ড থেকেই ৪৪ জনের তালিকা পাঠিয়ে নিয়োগপত্র না দেওয়ারই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা বিষয়টি বোর্ডকে জানানো হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশমতো পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে নথি যাচাইয়ের অজুহাতে এই ঘটনার পেছনে অন্য চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন সকলেই। যেমন বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, এই ৪৪ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া নিয়ে এই টালবাহানা হলেও জেলায় এমনও নজির আছে যে উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০ শতাংশেরও কম নম্বর পাওয়া এবং ওডিশা থেকে এক বছরের কোনো একটি কোর্স করে আসা ছাত্রকে স্নাতকের সমতুল দেখিয়ে দিব্যি দিয়ে দেওয়া হয়েছে নিয়োগপত্র। মোটা টাকার বিনিময়ে চলবে নিয়োগ, এমনই আশঙ্কা টেট উত্তীর্ণদের। শুক্রবার মেদিনীপুর শহরে নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হন চাকরি প্রার্থীরা। দাবি, অবিলম্বে প্রকাশ্যে মেধাতালিকা প্রকাশ করুক শিক্ষাদপ্তর। সকাল থেকে দুপুর সাড়ে তিনটে অবধি বিক্ষোভ দেখান টেট উত্তীর্ণরা। জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দপ্তরের সামনে পোড়ানো হয় সভাপতির কুশপুতল।

http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=92883


No comments: