RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, January 28, 2015

Gyan Sangam - A Road Map to Privatisation of Public Sector Banks

http://peoplesdemocracy.in/2015/0125_pd/gyan-sangam-road-map-privatisation-public-sector-banks

Bribe for Bar: Pillai’s Tape Says Mani Received Rs 21 crores

http://peoplesdemocracy.in/2015/0125_pd/bribe-bar-pillai%E2%80%99s-tape-says-mani-received-rs-21-crores

No More Polarisation: CPI(M)

http://peoplesdemocracy.in/2015/0125_pd/no-more-polarisation-cpim

Andaman & Nicobar State Conference of CPI (M) Held

http://peoplesdemocracy.in/2015/0125_pd/andaman-nicobar-state-conference-cpi-m-held

মার্কিন চাপের কাছে আত্মসমর্পন, তীব্র বিরোধিতা পলিট ব্যুরোর


সংবাদ সংস্থা

নয়াদিল্লি, ২৭শে জানুয়ারি — ওবামার সফরে মোদী সরকার যেভাবে ভারতের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কার্যত মার্কিন পরিকল্পনার আজ্ঞাবহের ভূমিকা পালন করেছে, তাতে গভীর উদ্বেগ জানালো সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো। কেন্দ্রীয় সরকারের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পলিট ব্যুরো বলেছে, রাজনৈতিক-সামরিক পরিকল্পনা (স্ট্র্যাটেজিক) এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে মার্কিন চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করলো মোদী সরকার। মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার ভারত সফরের ফলাফল দাঁড়ালো এটিই। 

পলিট ব্যুরো বলেছে, পরমাণু দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ওবামার সফরে যে ‘চুক্তি’ হলো, তাতেই এই আত্মসমর্পণের চেহারা তীক্ষ্ণভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পারমাণবিক দুর্ঘটনা হলে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও ত্রাণের ব্যাপারে ভারতীয় নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই ২০১০সালে ভারতের সংসদে অসামরিক পরমাণু দায়বদ্ধতা আইন পাস হয়েছিলো। ভোপাল গ্যাস কাণ্ডের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক চুল্লি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীদের দায়বদ্ধতার শর্তটি এই আইনে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু দায়বদ্ধতা আইনে এই গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলির বেশ কয়েকটি ধারা বাদ দেওয়ার জন্য ভারতের ওপর ক্রমাগত চাপ দিয়ে গেছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন দাবি মেটাতে মোদী সরকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়বদ্ধতা আইনটি পাস কাটানোর ব্যবস্থা করে ওদের স্বার্থরক্ষার পথই বেছে নিলো। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা কোম্পানিগুলি এবং ভারত সরকারের আর্থিক আনুকূল্যে মিলিতভাবে ১৫০০কোটি টাকার একটি বীমা তহবিল গঠন করে সরবরাহকারীদের দায় পুরোপুরি ভারত এবং ভারতীয় করদাতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হলো। 

এছাড়াও কোন পরমাণু দুর্ঘটনা হলে ক্ষতিগ্রস্তরা তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সরবরাহকারী বা অপারেটরদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারতেন আইনটির যে ৪৬নম্বর ধারায়, তা এড়াতে একটি ‘আইনি বিধি’ জারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মোদী সরকার। ৪৬নম্বর ধারার মূল উদ্দেশ্যটিকেই লঘু করার এই পদক্ষেপ আইনি দিক থেকেও দূরভিসন্ধিমূলক। পারমাণবিক চুক্তির বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০হাজার মেগাওয়াটের পরমাণু চুল্লি আমদানির যে অঙ্গীকার পূর্বতন ইউ পি এ সরকার করেছিলো, তা পূরণের জন্যই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

একইসঙ্গে ওবামার এই সফর এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যৌথ রাজনৈতিক-সামরিক পরিকল্পনা জোরদার করার মার্কিনী লক্ষ্যেও পরিচালিত হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট, এশিয়ায় মার্কিনী রাজনৈতিক-সামরিক কৌশলের মূল স্তম্ভ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে ভারত। মোদীর ‘পুবে চলো’ নীতি যে এখন চীন-বিরোধী মার্কিন কৌশলের সঙ্গেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে, তা যৌথ বিবৃতিতে দক্ষিণ চীন মহাসাগর এবং মার্কিন-জাপান-ভারতের ত্রিপক্ষ জোটের উল্লেখেই বেশ স্পষ্ট হয়েছে।

ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি পরবর্তী দশ বছরের জন্য পুনর্নবীকরণের ঘোষণাতেও এই বোঝাপড়া স্পষ্ট হয়েছে। পুনর্নবীকৃত এই চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। এই চুক্তি যে সামরিকভাবে ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরো কাছাকাছি আনতে বাধ্য করবে এবং তা যে আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বশাসনের পক্ষে ক্ষতিকর হবে, এমন সঙ্গত আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো, মার্কিন বিনিয়োগের বাড়তি মুনাফা সুনিশ্চিত করতে দেশের দরজা আরো হাট করে খুলে দিতে সম্মত হয়েছে ভারত। পরমাণু শক্তির জন্য মার্কিনী উপাদান কিনতে ভারত এখন অঙ্গীকার করেছে। সামরিক সম্ভারের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নির্গমন সীমাবদ্ধ রাখতে ‘প্রযুক্তি’ কিনবে ভারত। ওবামার প্রতিশ্রুত ৪০০কোটি ডলারের বেশিরভাগটাই হলো মার্কিনী পণ্য কেনার ঋণ। ফলে ‘ভারতে বানাও’ নীতির বদলে মোদী সরকার এখন ‘আমেরিকায় তৈরি’ নীতিকেই উৎসাহিত করছে।

অথচ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের দেশ লাভবান হবে, এমন কোন বিষয়ে চাপ দিতে অথবা সাফল্য আনতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে মোদী সরকার। ভারতের পেটেন্ট এবং মেধাসত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা নীতি অথবা ভারতীয় পেশাজীবী বা নাগরিকদের ভিসার ব্যাপারে কোন স্বীকৃতিই দেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সব মিলিয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অধঃস্তন সম্পর্কে নিজেদের আবদ্ধ করার ব্যবস্থা পাকা করলো মোদী সরকার।

এদিকে, ওবামার সফরে দেশের স্বার্থবিরোধী আচরণের দায়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কৈফিয়ত দাবি করেছেন সি পি আই নেতা তথা রাজ্যসভার সদস্য ডি রাজা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা এক চিঠিতে তিনি ভোপাল গ্যাস কান্ড এবং জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মারণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কেন ভারতের দায়বদ্ধতা আইন লঘু করা হলো, তার জবাব চেয়েছেন। পাশাপাশি, পরমাণু চুল্লির দুর্ঘটনার দায় বিদেশী সরবরাহকারীদের বদলে কেন ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং ভারতীয় জনগণ বহন করবেন, তারও কৈফিয়ত প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে চেয়েছেন তিনি।

ব্যয় ছাঁটাইয়ের সরকারকে হারিয়ে গ্রিসে জয়ী সাইরিজা


সংবাদ সংস্থা

এথেন্স, ২৭শে জানুয়ারি— ব্যয় সঙ্কোচের শ্বাসরোধী রাষ্ট্রীয় শাসন পদ্ধতি নির্বাচনে উৎখাত করলেন গ্রিসের মানুষ। 


রবিবার দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফল স্পষ্ট হয়েছে সোমবার। ভোটে জয়লাভ করেছে বামপন্থা ঘেঁষা সাইরিজা। ৩০০আসনের সংসদে, ৩৬শতাংশের সামান্য বেশি ভোট পেয়ে ১৪৯টি আসনে জয়ী সাইরিজা। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে যা মাত্র ২টি আসন কম। পরবর্তী সরকার গঠনে সাইরিজাকে সমর্থন করেছে একটি ‘নির্দল’ গোষ্ঠী, তারা ব্যয়সঙ্কোচ বিরোধী কিন্তু বাকি অবস্থানে সাধারণভাবে দক্ষিণপন্থীই। দেদার কর্পোরেটতন্ত্রের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ জনাদেশ আন্দাজ করেই এবারে নির্দলদের সমর্থনে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সাইরিজার নেতা অ্যালেক্সি সিপারেস।



ভোটের লড়াইয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে নয়া উদারনীতির প্রবক্তা দেশের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী অ্যান্তোনিস সামারাসের দল নিউ ডেমোক্র্যেসি। তাদের প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ২৮শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডার (আই এম এফ), ইউরোপীয় কমিশন (ই ইউ) এবং ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক (ই সি বি)-র শর্ত মেনে গ্রিসের সাধারণ মানুষের ওপরে ব্যয় ছাঁটাইয়ের স্টিমরোলার চালায় সামারাসের সরকার। যাকে নির্বাচনী প্রচারে ‘মানবিক সঙ্কট’ হিসেবেই উল্লেখ করে সাইরিজা। ‘আমাদের ওই জয় গোটা ইউরোপের। সরকারের ব্যয় সঙ্কোচের নীতির প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন এমন সবার’, এথেন্সে উল্লাসে মেতে ওঠা সমর্থকদের মাঝে সাংবাদিকদের বলেন সিপারেস (৪০)। ব্যয় ছাঁটাইয়ের নীতি চাপিয়ে যারা অভিন্ন ইউরোপ তৈরির সম্ভাবনাকে চুরমার করছে তাদের ধিক্কার জানান তিনি। 



নির্বাচনের পরিণাম ফুটে উঠতেই রবিবার রাতে সরকার গঠনে আলোচনায় বসে সাইরিজা এবং নির্দলরা। বৈঠকে অংশ নেন সাইরিজার নেতা সিপারেস এবং দক্ষিণপন্থী নির্দল নেতা পানোস কামেনোস। এই আলোচনা থেকেই গ্রিসের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্ত হয় সিপারেসের নাম। ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, বিভিন্ন দিক থেকেই গ্রিসের ভোট ছিল ঐতিহাসিক। নির্বাচনে ১৭টি আসন পেয়ে তৃতীয় হয়েছে অতি দক্ষিণপন্থী নিও নাৎজি দল গোল্ডেন ডন। বর্তমানে অভিবাসী বিরোধী দলটির বেশ কয়েকজন জয়ী প্রার্থী জেলে। 



‘আগে ক্ষমতায় ছিল এমন আর কোন দলের ওপর আমাদের আস্থা নেই। তাই সাইরিজাকেই ভোট দিয়েছি’, ফলপ্রকাশের পর এথেন্সে সাংবাদিকদের জানান মারিয়া (৭৮)। সূত্রে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সিপরাসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে ই ইউ, আই এম এফ এবং ই সি বি-র সঙ্গে আশু ত্রাণ প্রকল্পের শর্তাবলী সংশোধন করা। কারণ একমাত্র সরকারী ব্যয় ছাঁটাইয়ের শর্তেই গ্রিসকে মন্দার কবল থেকে উদ্ধার করতে ত্রাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য দিতে রাজি হয়েছে আগ্রাসী ত্রয়ী। মনে করা হচ্ছে এথেন্সের সঙ্গে এর ফলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হতে পারে ব্রাসেলস এবং বার্লিনের। আগেই ব্রাসেলসে ই ইউ-র সদরদপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্যায় সঙ্কোচনের নীতি প্রয়োগ করা হলেই গ্রিসকে ত্রাণ দেওয়া হবে। অন্যদিকে গ্রিসের ত্রাণ প্রকল্পের শর্ত কঠোরভাবে কার্যকর করার পক্ষে ময়দানে ওকালতি শুরু করে দিয়েছে ইউরোপের বৃহৎ আর্থিক শক্তি জার্মানিও। 



‘পাঁচ বছরের নির্দয় ব্যয় সঙ্কোচের নীতি চাপিয়ে দেওয়ার পর রবিবার ভোটের লাইনে মনস্থির করেই দাঁড়িয়েছিলেন গ্রিসের ৯০লক্ষ ৮০হাজার মানুষ। নিজেদের সম্ভ্রম উদ্ধারের এটাই ছিল তাদের কাছে শেষ সুযোগ’, রবিবার এথেন্সের কিপ্সেল জেলায় প্রাথমিক স্কুলে ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন সিপারেস। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী সামারাসের সরকারের ব্যায় সঙ্কোচ নীতির জেরে সামাজিক ক্ষেত্রে প্রবল ছাঁটাই হয়েছে। কাজ হারিয়েছেন ৩১লক্ষ মানুষ। অনেকেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় চিকিৎসার সুযোগ পর্যন্ত পাননি। খোদ সরকারী পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বর্তমানে গ্রিসের ১৮শতাংশ মানুষ খাদ্যের জন্য ত্রাণ পাওয়া খাদ্যসামগ্রীর ওপরে নির্ভরশীল। দারিদ্র্যসীমার নিচে এক তৃতীয়াংশ মানুষ। 



ভোটে ভাল ফল করেছে গ্রিসের কমিউনিস্ট পার্টি (কে কে ই)। এবার দলের ৩জন বেশি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ১৫টি আসন পেয়েছে তারা। ভোট বেড়েছে ১শতাংশ। রবিবার এথেন্সে কে কে ই-র কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। এতে পার্টিকে সমর্থন জানানোর জন্য মানুষকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী দিনে সাইরিজার নেতৃত্বে গঠিত জোট সরকারের যে কোন রকমের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধেও মানুষকে সঙ্গে নিয়েই কে কে ই দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয়েছে। কে কে ই-র অবস্থান হলো সাইরিজা গ্রিসের অর্থনৈতিক সঙ্কট মেটাতে সক্ষম বলে তারা মনে করে না। সাইরিজার সরকারকে সমর্থন করছে না কে কে ই।



কয়লাকাণ্ডে আদালতে জমা পড়লো সি বি আই-র প্রাথমিক রিপোর্ট ******************************************নয়াদিল্লি, ২৭শে জানুয়ারি— কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট বিশেষ আদালতে জমা দিলো সি বি আই। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বন্ধ খামে রিপোর্ট জমা করা হয়। রিপোর্টের পাশাপাশি, ইতোমধ্যে তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কথপকথনের রেকর্ডিং ও আদালতে সি বি আই পক্ষ থেকে জমা করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি গিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা করেছে সি বি আই। সূত্রে প্রকাশ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তদন্তকারীদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। উল্লেখ্য, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাক্তন কয়লা সচিব পি সি পারেখ, শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লা প্রমুখের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ২০০৫সালে ওডিশার তলাবিরা ২কয়লা খাদান হিন্দালকোকে বেআইনিভাবে বণ্টন করা হয়েছিল বলেই অভিযোগ। অবশ্য সি বি আই-কে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং জানিয়েছেন, হিন্দালকোকে তলাবিরা ২ কয়লা খাদান বণ্টনের সময় কোনরকমের পক্ষপাতিত্ব হয়নি। মঙ্গলবার মামলার শুনানি হয়। আদালতে খোলা হয় সি বি আই-র জমা করা খাম বন্ধ রিপোর্টটি। রিপোর্টে উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শুনানি চলে। তারপর আপাতত রিপোর্টটিকে খামবন্ধ অবস্থাতেই রাখার জন্য বিচারপতি নির্দেশ দেন। তাই রিপোর্ট সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি। আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী ভি কে শর্মা তদন্তের কাজ চলা পর্যন্ত রিপোর্টটি তদন্তের স্বার্থেই খামবন্ধ অবস্থায় রাখার আবেদন করেন। এর আগে গত ১৬ই ডিসেম্বর বিচারপতি কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা করার বিষয়ে বলেন। আদালতের থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, প্রিন্সিপাল সচিব টি কে এ নায়ার, ব্যক্তিগত সচিব বি ভি আর সুব্রামনিয়ামসহ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পি এম ও)-র শীর্ষ আধিকারিকদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিন আদালতে সি বি আই-র পক্ষ থেকে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যেই তদন্তের কাজ শেষ করার কথা জানানো হয়। তারপর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৯শে ফেব্রুয়ারি ঠিক হয়।

সি বি আই তদন্ত ঠেকাতে রাজ্য-তৃণমূলের মামলার শুনানি হলো না সুপ্রিম কোর্টে

Ganashakti



Centre surrendering strategic interests to US pressures: CPI-M

Ganasakti



Tuesday, January 27, 2015

জ্যোতি বসুকে যতটুকু দেখেছি - সূর্যকান্ত মিশ্র



কমরেড জ্যোতি বসুকে নিয়ে কিছু লেখার যোগ্যতা আমার নেই। আমার মনে হয় জ্যোতি বসুকে আমি দেখ‍‌তেই পাইনি। প্রকৃতি, বস্তু বা কোন ব্যক্তিকে বাহির থেকে দেখে সবটা দেখা যায় না। দেখতে গেলে সঠিক অর্থে ভেতর বাহির ও গতি তথা পরিবর্তনের সবটা মিলিয়ে দেখতে হবে। পুরো একদল ছাত্রীর ক্লাসে একটি মাত্র লাজুক ছাত্র কি করে জ্যোতি বসু বা জ্যোতিবাবু হলেন তা সবটা পড়ে বোঝা যায় না। যাই হোক এখানে আমি ওঁকে যতটুকু দেখেছি সে সম্পর্কে অল্প কিছু বলতে পারি মাত্র।

জ্যোতি বসুকে প্রথম কাছ থেকে দেখি ১৯৭০-এর দশকে সেই ঝোড়োদিনগুলিতে। একদিকে আধা ফ্যাসিস্ত সন্ত্রাস চলছে তার মধ্যে জেলায় জেলায় বামপন্থীদের সমাবেশ। মেদিনীপুরের পুরানো জেলখানার মাঠে জ্যোতি বসু এবং রাজ্যের বামপন্থী নেতাদের সভা। এস ইউ সি তখনও আমাদের সঙ্গে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে একসঙ্গে চলা অসম্ভব। জনসভায় ওঁদের বক্তৃতায়ও তাল কেটে যেতো। জ্যোতি বসুর বক্তৃতার আ‍‌গে তাল কাটলো। জ্যোতি বসু বলতে উঠলেন। চাপা টেনশনে আছি। জ্যোতি বসু বললেন। আবার তাল মিলে গেলো। সাদামাটা কথায় যৌথমঞ্চে কেমন করে বলতে হয়, মনে হলো প্রথম শুনলাম। এরপর জরুরী অবস্থা জারি হলো। সংবিধানের ৪২তম সংশোধনের প্রতিবাদে দেশ জুড়ে সভা ও প্রতিবাদের নানারকম কর্মসূচী। আমরা প্রাথমিক ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠেছি। এসময় জ্যোতি বসুকেও বাইরে মাইক যোগে সভা করার অনুমতি দেওয়া হলো না। ফলে মেদিনীপুরের মল্লিকবাড়িতে জ্যোতি বসুকে সভা করতে হলো। একটি দীর্ঘ বক্তৃতা। ভারতের সংবিধানের ৪২তম সংশোধন কেমন করে সংসদীয় গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর বিরাট আক্রমণ নামিয়ে এনেছে এসব জটিল বিষয় যে এতো সহজে বলা যায় তা এই প্রথম শুনলাম। এরপর জরুরী অবস্থার অবসান, লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিপর্যয়, কেন্দ্রে জনতা পার্টির গঠন ও তারপরে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন এসে গেল। সে নির্বাচনে আমার ওজর আপত্তি অগ্রাহ্য করে আমাকে নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্র পার্টির প্রার্থী করা হলো। প্র্যাকটিশ ছেড়ে পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হতে আমি নিজে থেকেই প্রস্তাব দিয়েছিলাম কিন্তু প্রার্থী হওয়াটা বিপ্লবী কাজ বলে মনে হয়নি। কিন্তু পার্টির সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হলো। জ্যোতিবাবু এলেন প্রচারে। সেই প্রথম জনসভায় ওঁর সঙ্গে এক মঞ্চে বসা। মনে আছে প্রার্থী পরিচিতি পর্বে উনি এগিয়ে গিয়ে সমবেত মানুষকে নমস্কার জানাতে বললেন, লাল সেলাম নয়। সব শেষে ওঁর সেই অননুকরণীয় ভাষণ ও বাচনভঙ্গি। সহজ কথা, মাঝে মাঝে অসমাপ্ত বাক্য, পরিপূর্ণ রসবোধ, জনগণের ওপর গভীর আস্থা, উদাত্ত আহ্বান, সবকিছু নিয়ে কিসে যেন অন্যদের থেকে আলাদা। পরের বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই ওই এলাকায় পার্টি জেলা সম্মেলন হলো। জ্যোতি বসু প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তৃতা করলেন। তারপর বহু সম্মেলনে প্রকাশ্য সমাবেশে বলার পর প্রতিনিধি সম্মেলনেও জ্যোতি বসুকে বলতে শুনেছি। এসব শুনেই আমি প্রথম বুঝলাম এই দু’ধরনের বক্তৃতার পার্থক্য কি। এরপর পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার ঠিক পরে পরেই ৭৮-এর সেই বিধ্বংসী বন্যা। বন্যা ত্রাণ ও পুনর্গঠনে সবে গড়ে ওঠা পঞ্চায়েতের ভূমিকা এবং এসব কেন্দ্র করে জেলা সমাবেশে জ্যোতি বসুর বক্তৃতা। ওইদিন পার্টি অফিসে সুকুমারদার ঘরে জ্যোতি বসুর খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা। আমি তখন সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে জেলা কেন্দ্রের সুকুমারদার ঘরের ঠিক পাশের ঘরটাতেই থাকি। খাওয়ার সময় টুকিটাকি ব্যক্তিগত আলাপচারিতার সুযোগ হলো। এই প্রথম আর এক জ্যোতি বসুকে দেখলাম। খেতে ভালবাসেন, প্রায় শিশুর মতো সরল, নিরহঙ্কার, খোলামেলা, পুরানো দিনের গল্পে হাসি ঠাট্টার মাঝে মাঝে সুকুমারদার একটু মোটা দাগের রসিকতায় ফর্সা মুখ লাল হয়ে ওঠা আরও কত কি! প্রথম থেকেই দুর্ভাগ্যবশত জ্যোতি বসু আমাকে সবসময় আপনি বলে সম্বোধন করতেন। জীবনের শেষ কটা বছরে এটা তুমিতে উঠেছে। অনেকবারই সরকার, পার্টি ও গণসংগঠনের নানা কর্মসূচীতে ওঁর সঙ্গে থাকা খাওয়ার সুযোগ হতো। খাওয়ার সময় আমি কেন কম খাই তাই নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতেন ও রাত্রে খাওয়ার সময় একসঙ্গে খাওয়ার জন্য আগে থেকেই খবর পাঠাতেন। এসব সময় কখনও মনে হয়নি উনি স্বল্পভাষী, গম্ভীর, সমস্যায় ভারাক্রান্ত দূরের একজন কেউ বলে। আমরা নিজেদের মধ্যে হালকা আলাপ আলোচনার সময় জ্যোতি বসুকে পরমহংস বলতাম। কারণ হাঁস যেরকম জল থেকে উঠে গা ঝাড়া দিয়ে প্রায় সব জল ঝেড়ে ফেলে দেয় তেমনি যে কোন সমস্যা, সঙ্কট বা সাফল্যে কোন দুশ্চিন্তা, ভাবাবেগ বা উচ্ছ্বাস তাঁকে স্পর্শ করতে পারত না। প্রত্যেকবারই মনে হতো ঠিক এমনটা আমি আর দেখিনি। 

এমন একটা কথা চালু আছে যে জ্যোতি বসুকে সেই অর্থে পার্টির তাত্ত্বিক নেতা বলা যায় না। তিনি নাকি ভীষণ বাস্তববাদী। আমার কখনও মনে হয়নি এই কথার কোন বাস্তব ভিত্তি আছে। মার্কসবাদে তত্ত্ব ও তার প্রয়োগ আলাদা করে দেখার কোন স্থান নেই। মার্কসবাদ-লেনিনবাদের তত্ত্বের ওপর তাঁর অসামান্য দখল এবং সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার সফল প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর বিচক্ষণতা তাঁকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অন্যতম কিংবদন্তী মার্কসবাদী নেতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল। তিনি চিরায়ত মার্কসবাদী তত্ত্ব এত গভীরভাবে আত্মস্থ করতে পেরেছিলেন বলেই কোন মুখস্থ করা উদ্ধৃতি না দিয়ে এত সহজভাবে তা ব্যাখ্যা করতে পারতেন। তিনি নিয়মিত পড়াশুনা করতেন এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর আত্মপাঠের ক্ষেত্রটিও ছিল ব্যাপক ও বিস্তৃত। এর অজস্র উদাহরণ দেওয়া যায়। একদিনের কথা আমার চিরদিন মনে থাকবে। তখন একটা নির্বাচনে আমাদের ফলাফল অপ্রত্যাশিতভাবে খারাপ হয়েছে। জ্যোতি বসু সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শুরু হওয়ার একটু আগে এসে এক টুকরো কাগজে এক লাইন লিখে কমরেড অনিল বিশ্বাসকে সেটা ধরিয়ে দিয়ে বললন মার্কসের লুই বোনাপার্ট-অষ্টাদশ ব্রুমেয়ার খুঁজে দেখতে এটা কোথায় লেখা আছে। আসল বিষয়টা ছিল ইতিহাস গড়ার কারিগর হিসেবে জনগণের ভূমিকা সম্পর্কে মার্কসবাদের দৃষ্টিভঙ্গি। জ্যোতি বসু প্রায় প্রতিটি জনসভায় বলতেন মানুষের ওপর আস্থা আর বিশ্বাস রাখতে হবে। তাদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য গণসংগঠনের কাজে গুরুত্ব দিতে হবে কারণ মানুষই ইতিহস তৈরি করে। জ্যোতি বসুর দেওয়া ওই কাগজের টুকরোটা নিয়ে আমরা অষ্টাদশ ব্রুমেয়ারের সেই অংশটা খুঁজে বের করলাম। মানুষ অসতর্ক থাকলে যে লুই বোনাপার্টের মতো লুম্পেনবাহিনী নির্ভর এক স্বৈরাচারী শাসন ক্ষমতা দখল করতে পারে এই বিস্মৃতপ্রায় শিক্ষাটি আর একবার আলোচনার সুযোগ পেলাম। আমাদের অন্তত পক্ষে আমার শিক্ষার অসম্পূর্ণতা খানিকটা কাটিয়ে ওঠার এই সুযোগ কখনও ভুলতে পারি না। মানুষই ইতিহাস তৈরি করে কিন্তু তাদের সামনে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার সীমার মধ্যে তারা সেই ইতিহাস তৈরি করতে পারে। ফলে তাঁরা যা চান তার বদলে তার উলটোটাই ঘটতে পারে। আসলে সমাজের বিকাশের নিয়মগুলি মানুষ তৈরি করে না। মানুষ কেবল তা আবিষ্কার ও আয়ত্ত করতে পারে এবং কেবল যতখানি তা আয়ত্ত করতে পারে ঠিক ততখানিই তার ইচ্ছাপূরণের জন্য তা প্রয়োগ করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শিক্ষাগুলির প্রাসঙ্গিকতা সামনে এসে গেছে। বাস্তব পরিস্থিতির ঠিকমতো বিশ্লেষণ করতে পারা এবং তার সঙ্গে মনোগত ইচ্ছা ও সংগঠন সংগ্রাম ইত্যাদি উপাদানের সঠিক সংমিশ্রণই শ্রেণীসম্পর্কের বাঞ্ছিত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এসব জ্যোতি বসু খুব সহজ ভাষায় বলতে পারতেন।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জ্যোতি বসুর ভূমিকা সম্পর্কে দু-একটি কথা বলা দরকার। বর্তমান আর্থ-সামাজিক কাঠামো ও সংসদীয় ব্যবস্থার মধ্যে দীর্ঘতম কাল জুড়ে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের রেকর্ড বিশদ বিশ্লেষণ ও গবেষণার বিষয়। ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার আইনসভার সদস্য, পরবর্তীকালে বিরোধী দলনেতা, দুটি যুক্তফ্রন্ট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও সর্বশেষ বামফ্রন্ট সকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ভূমিকার এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এখানে আলোচনার কোন অবকাশ নেই। তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তাঁকে যতটুকু দেখেছি তার মধ্যে আমার কথা সীমিত থাকবে। জ্যোতি বসু কোন কাজ ফেলে রাখতেন না। কোন সমস্যা নিয়ে গেলে তা বুঝে উঠতে বড়জোর পাঁচ মিনিট সময় নিতেন। অবিশ্বাস্য দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন এবং তা প্রায় সকলেরই মনঃপূত হতো। তাঁর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রায় প্রশ্নাতীত। ভিন্নমত পোষণকারীদের সঙ্গে কি করে সহমতে আসা যায় সে বিষয়ে তিনি সবসময় সচেতন থাকতেন। মন্ত্রিসভা থেকে বিধানসভা সর্বত্রই তাঁর এই ভূমিকা তাঁকে অবিসংবাদী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলার অন্যতম কারিগর হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে এই কাজে সাহায্য করেছিল। তিনি নিয়মিত বিধানসভায় আসতেন। প্রশ্নোত্তরের দিনে ২/৩টি প্রশ্ন ও তার সঙ্গে যুক্ত বহু অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে ধন্যবাদসূচক প্রস্তাব, বাজেট বা অনাস্থাসহ যেকোন প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কে তিনি নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করতেন। বিরোধী দল বা সরকারপক্ষে তাঁর ভাষণগুলি মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। খুব বেশি কথা তিনি বলতেন না। নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু ছাড়া অতিরিক্ত কোন প্রসঙ্গের অবতারণা করতেন না। তাঁর ভাষণ, বাচন ছিল তাঁর শরীরের মতই চিরকাল মেদ বিবর্জিত। পরিমিত, মার্জিত কিন্তু যুক্তির বিচা‍‌রে তীক্ষ্ণ। অন্যদের ভাষণও তিনি মন দিয়ে শুনতেন, তারিফ করতেন, পরামর্শ দিতেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের শ্রেণী চরিত্র সম্পর্কে কোন অতিরিক্ত মোহ পোষণ না করেও তাকে সুরক্ষিত ও প্রসারিত করতে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। যখনই সংসদীয় গণতন্ত্র এবং তার দুটি প্রধান স্তম্ভ ধর্মনিরপেক্ষতা ও যুক্তরাষ্ট্র কাঠামো আক্রান্ত হয়েছে তখনই তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সারা দেশে এমনকি বিদেশেও সাড়া ফেলেছে। সর্বভারতীয় স্তরে এই সমস্ত প্রশ্নে দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছেই তিনি অভিভাবকের আস্থা ও মর্যাদা পেয়েছেন।

পার্টি গণসংগঠন ও বামফ্রন্টের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন করার রুটিন কিন্তু দুরূহ কাজ করার ক্ষেত্রে জ্যোতি বসু দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আমরা যখন স্কুলে পড়ি তখন জ্যোতি বসু পার্টির সম্পাদক ও বিধানসভার বিরোধীদলনেতার দায়িত্ব একসাথে পালন করছেন। তাঁর রাজনৈতিক, সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক নেতৃত্ব কখনই কর্তৃত্বের রূপ নেয়নি। এমন নয় যে আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক বিষয়ে কখনো কোনও মতপার্থক্য হয়নি। কিন্তু পার্টির নিয়মনীতি মেনেই নিষ্পত্তি হয়েছে। জ্যোতি বসু মাঝে মাঝে বলতেন, ‘আমি তো নিজেই পার্টিতে কতবার সংখ্যালঘু হয়েছি’। নিয়মিত পার্টি অফিসে আসতেন। বামফ্রন্টের প্রতিটি বৈঠকে যোগ দিতেন। তাঁর সময়নিষ্ঠা এক বিরল দৃষ্টান্ত। জ্যোতি বসু তাঁর প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে যে অন্যতম প্রধান জননেতা হিসেবে বিবেচিত হতেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সংগঠন ও সংগ্রামে তাঁর নেতৃত্বদায়ী ভূমিকা, আইনসভার ভিতরে ও বাইরে সংগ্রামের মধ্যে সমন্বয় সাধন ছাড়া তিনি জননেতা হতে পারতেন না। এসব কথা বলার উদ্দেশ্য এই নয় যে জ্যোতি বসু সমস্ত ত্রুটিবিচ্যুতির উর্ধ্বে ছিলেন। তিনি নিজে তা কখনই মনে করতেন বলে মনে হয় না। বরং এমনকি জনসভায় বহুবার তাঁকে আত্মসমালোচনায় সরব হতে শুনেছি। তিনি বলতেন আমাদের আত্মসমালোচনা মানুষকে উৎসাহিত করবে। আমাদের ভুলত্রুটিগুলো সম্পর্কে যে আমরা সচেতন তা বুঝলে মানুষের আস্থা কমে না, বাড়ে। জ্যোতি বসু বুঝতেন কোনটা তিনি পারছেন আর কোনটা তিনি পারছেন না। তঁর বহু কথিত একটি বিষয় কখনই ভুলতে পারবো না। তার বিশাল কর্মজীবনের শেষ দিকে তিনি তাঁর দায়িত্ব থেকে কয়েক বছর ধরেই অব্যাহতি চাইছিলেন। তার যুক্তি ছিল কমিউনিস্ট পার্টিতে অবসর গ্রহণের প্রশ্ন ওঠে না কিন্তু সর্বোচ্চ স্তরে দায়িত্ব পালনের প্রশ্নটি ভিন্ন। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিটি দিয়ে আলোচ্য বিষয়ের উপসংহার টানা যায় ‘‘এখন আমি বুঝতে পারি যে আমি পারছি না। আমার ভয় হয় যে কিছুদিন পরে আমি সেটাও বুঝতে পারবো না।’’ এসব বুঝেই জ্যোতি বসু এবং তাঁর প্রজন্মের নেতৃত্ব অপেক্ষাকৃত নবীনদের সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সেই দায়িত্ব পালনে তাদের তৈরি হতে নিরন্তর সাহায্য করে গেছেন। আমাদের প্রজন্মের নেতৃত্বকে জ্যোতি বসুর এই শিক্ষাকে পাথেয় করে সংগঠন ও সংগ্রামের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ-এর মোকাবিলা করতে হবে।

Rewriting of history, through `unscientific temper’

http://ganashakti.com/english/comments/details/158#sthash.5eKOXYRu.dpuf

Rewriting of history, through `unscientific temper’

Ganasakti



Fidel Castro: To my colleagues in the University Student Federation

Ganasakti



India-US can be best partners :Obama

Ganasakti



India needs Beijing as 'crucial' partner, China asserts

Ganasakti



Obama announces USD 4 billion investments, loans to India

Ganasakti



Cartoonist R K Laxman, creator of 'Common Man', dead

Ganasakti



Fidel Castro appears to lend support to Cuba-U.S. talks

Ganasakti



Greece’s left-leaning Syriza Party sweeps national elections

Ganasakti



Modi govt "cementing" India as "subordinate" ally of US: CPI-M

Ganasakti



Monday, January 26, 2015

AMERICA WANTS TO OCCUPY THE WORLD

ANTI IMPERIALIST SOLIDARITY

NARENDRA MODI NAKEDLY SERVES BARAK OBAMA

AMERICA MURDERS SADDAM HOSSAIN

AMERICA IS THE GREATEST ENEMY OF THE HUMANITY

GO BACK BARAK OBAMA

DOWN DOWN BARAK OBAMA

DOWN WITH YANKEE IMPERIALISM - GO BACK OBAMA

Armed security personnel on guard during US President Barack Obama's visit to Mahatma Gandhi's memorial Rajghat in New Delhi on Sunday.

China faces 'unprecedented' security risks, warns CPC

Ganasakti



Never seen such kind of torture on woman: NCW chief

Ganasakti



Thousands rally in Kolkata against Obama’s visit

Ganasakti



Greece begins voting in make-or-break election

Ganasakti



Hasina reaches out to grieving Zia; turned away

Ganasakti



BNP chief accused of instigating arson

Ganasakti



Obama gets ceremonial guard of honour at Rashtrapati Bhavan

Ganasakti



Japan condemns 'outrageous' hostage murder

Ganasakti



NGOs want Modi to discuss Bhopal gas tragedy issue with Obama

Ganasakti



Unprecedented security cover for Obama's visit

Ganasakti



Obama-Modi hold talks on civil nuke deal and a range of issues

Ganasakti



Obama arrives in India

Ganasakti



Friday, January 23, 2015

রং নাম্বার স্বর্ণেন্দু দত্ত ‘ঘর ওয়াপসি’- বাংলা করলে, ঘরে ফেরা। ধর্মান্তরকরণ কর্মসূচীর পোশাকি নাম। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরঙ দলের মতো আর এস এস-এর অসংখ্য শাখা সংগঠনের এখন ‘মনের মতো’ কাজ। সন্ত্রস্ত করে অথবা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ম বদল চালাচ্ছে আর এস এস। এই নিয়ে গোটা দেশে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এরমধ্যে ঝড় উঠছে সিনেমা হলের পর্দাতেও। ঘরে ফিরতে চাওয়া ‘পি কে’ ঝড় তুলেছে। সেই ঝড়ে সন্ত্রস্ত এমনকি ‘ঘর ওয়াপসি’র সংগঠকরাও। পরিচালক রাজকুমার হিরানির ‘পি কে’ ১৯শে ডিসেম্বর রিলিজ করার সপ্তাহখানেক পরে বিভিন্ন শহরের সিনেমা হলে শুরু হয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ। ভাঙচুর, আগুন, ছবির নায়ক আমির খানের পোস্টার ছেড়া, হল মালিকদের হুমকি দিয়ে ছবির প্রদর্শনী বন্ধ করার পাশাপাশি সিনেমাটি নিষিদ্ধ করার দাবিও তোলা হয়। অভিযোগ, হিন্দু দেবদেবী এবং ধর্মগুরুদের অপমান করা হয়েছে ছবিতে। শুধু এই কারণেই হামলা ‘পি কে’র উপর! তাহলে সিনেমা দেখে বেরনো মানুষ উচ্ছ্বসিত কেন? তাঁদের অধিকাংশই তো হিন্দু, তাঁরা প্রতিবাদ করছেন না কেন? এক মাসে প্রায় ৬০০কোটি টাকার ব্যবসা করেছে ‘পি কে’। সব রেকর্ড ভেঙে ফেলা এই ছবি দেখতে তো সমাজের সব অংশের মানুষই যাচ্ছেন। হিন্দুরা না দেখলে এত ব্যবসা হয় এ দেশে? ছবিটি দেখলে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বা ধর্মের ম্যানেজারদের (‘পি কে’ এই নামেই ধর্মের কারবারিদের পরিচয় দিয়েছে) রাগের প্রকৃত কারণটি স্পষ্ট হবে। ছবির শুরুর দিকেই রোমান্টিক প্রেম কাহিনী। হিন্দু মেয়ের সঙ্গে পাকিস্তানি মুসলমান যুবকের। একে তো মুসলমান তায় আবার পাকিস্তানি! আপনি দর্শক হিসেবে যতই সেই মিষ্টি প্রেমকথার মধুর মিলন চান না কেন, তপস্বীজীর ভবিষ্যৎ বাণী- ‘‘মুসলমান ছেলেটি ধোঁকা দেবে। শরীরকে ব্যবহার করবে, ভোগ-বিলাস করবে, কিন্তু বিয়ে করবে না।’’ দেখতে দেখতে আপনার মনে হবে- এ তো ‘লাভ জিহাদ’! মুসলিম ছেলেরা হিন্দু মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফাঁসিয়ে ধর্মান্তরিত করছে- হিন্দি বলয়ে এখন তো এটাই সঙ্ঘ পরিবারের সবচেয়ে জোরালো প্রচার। ধর্মগুরুর ভবিষ্যত বাণী ‘মিলে যাওয়ায়’ মুষড়ে পড়া দর্শককে মুহূর্তে চঞ্চল করে তুলেছে পি কে। শিশুসুলভ আচরণে আমাদের চারপাশের চিরপরিচিত ঘটনাগুলিকে নিয়ে অদ্ভুত প্রশ্ন করেছে। যা দেখে-শুনে হাসতে হাসতে কুটোপাটি দর্শক। হাসতে হাসতেই এক সময়ে সেই দর্শক মনে করেছে ঠিক-ই তো! এভাবে তো ভাবিনি! শুধু বিশ্বাসই করে এসেছি। ধর্মান্ধতা, অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, বুজরুকি-সব মেনে নিয়েছি। প্রশ্ন করিনি কখনও। ‘পি কে’ মুক্তি পাওয়ার প্রায় মাস দু’য়েক আগে ‘‘প্রশ্ন তুলবো কি তুলবো না: এটাই তো এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন’’ শীর্ষক এক স্মারক বক্তৃতায় ঐতিহাসিক রোমিলা থাপার দেখিয়েছেন অতীত দিন থেকে ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন কিছু মানুষ। এরজন্য অনেক সময় বড় মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি এ প্রসঙ্গে সক্রেটিসের উদাহরণ দিয়েছেন। থাপার বলেছেন, ‘‘যারা আমাদের সমাজের কাঠামো তৈরি করছে, তাঁদের সামনে প্রশ্ন তোলার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছেন এঁরাই। ইউরোপে ক্যাথলিক চার্চের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে হিউম, ভলতেয়ার, মন্তেস্কু, রুশো থেকে এ দেশে ব্রাহ্মণ্যবাদের গোঁড়ামি, নিপীড়নের বিরুদ্ধে গৌতম বুদ্ধ প্রশ্ন তুলেছিলেন।’’ দীর্ঘ বক্তৃতায় রোমিলা থাপার প্রশ্ন তুলেছেন আমরা সবকিছুকে সহজে মানিয়ে নেব, নাকি আমাদের চিন্তা-ভাবনার একটা স্বতন্ত্র পরিসর থাকবে? ঠিক এই প্রশ্নই তুলেছে পি কে। ‘ধর্মের বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে নেই, এটা বিশ্বাসের বিষয়’-ছবিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে পি কে-কে। কেউ প্রশ্ন তুললে, ধর্মের ম্যানেজারদের বিরোধিতা করলেই সে বিধর্মী। পি কে প্রশ্ন তোলায় তার সম্পর্কে কিছু না জেনেই ধর্মগুরু তার গায়ে মুসলমান তকমা দেগে বলেছেন- কে এই পি কে? পারভেজ খান না পাসা কামাল! হয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের কথা মেনে নাও, নতুবা তুমি মুসলমান। লোকসভা ভোটের মুখে ঠিক এমন কথাই বলেছিলেন বিহারের বি জে পি নেতা গিরিরাজ সিং। তার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি ছিল, ‘হয় মোদীর সমর্থক হও, না হলে পাকিস্তানে চলে যাও।’ মোদী সেই গিরিরাজকেই এখন মন্ত্রী বানিয়েছেন। কিছুদিন আগেই আরেক মন্ত্রী স্বাধী নিরঞ্জন জ্যোতি বলেছেন, ‘হয় রামজাদে, নতুবা হারামজাদে।’ আপনার কোনো স্বতন্ত্র অস্তিত্বের কথা মানতে রাজি নয় ধর্মের ম্যানেজাররা। তারা আপনার গায়ে কোনো একটা ‘ঠাপ্পা’ লাগিয়েই দেবে। এমনকি সন্ত্রাসবাদী তকমাও লাগিয়ে দেওয়া হবে। ঠিক যেমন করেছেন বি জে পি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তাঁর অভিযোগ, ‘পি কে’ তৈরির অর্থের যোগান এসেছে দুবাই থেকে। যার সাথে অপরাধ জগৎ-সন্ত্রাসবাদের যোগসাজশ রয়েছে। পাকিস্তান-আই এস আইয়ের সম্পর্কও দেখেছেন স্বামী। ‘পি কে’র গায়ে শুধু ‘হিন্দু-বিরোধী’ নয়, ‘দেশ-বিরোধী’ ছাপ্পাও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ম্যানেজারদের কাছে ভয়ে অথবা ভক্তিতে আত্মসমর্পণ করা মানুষই তাদের কাস্টমার। ছবিতে দেখানো হয়েছে ধর্মের ম্যানেজার তপস্বীজীর নামে ফটো, বই, ওষুধ, তেল, ধূপকাঠির দেদার ব্যবসা চলছে। এমনকি ইন্টারনেট আরতি, অনলাইন দর্শন, কুরিয়রের মাধ্যমে প্রসাদের মত অভিনব ব্যবসার কথা দেখে দর্শক হেসেছেন; কিন্তু গায়ে লেগেছে রামদেবের মতো ‘গুরু’দের। সাধারণ যোগ দিয়ে অসংখ্য অনুগামী তৈরি করার পরে এখন সাবান থেকে তেল, কর্নফ্লেক্স- বাবা রামদেব ব্র্যান্ডের ব্যবসার রমরমা। রামদেবের পতাঞ্জলি আয়ুর্বেদ সংস্থা এসব তৈরি করে। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ২০১৪আর্থিক বছরে এই সংস্থা মোট ১২০০কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। আগের বছর যা ছিল ৮৫০কোটি টাকার। চলতি আর্থিক বছরে তা ২০০০কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে সংস্থার আশা। ৬৭শতাংশ বৃদ্ধি। মোদীর হয়ে লাগাতার প্রচার এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের রমরমার কারণেই তার মুনাফার এই উল্লম্ফন কি না জানা যায়নি। যোগগুরু থেকে ধর্মগুরু স্বরূপানন্দ সরস্বতী অনেকেই দাবি করেছেন ‘পি কে’ নিষিদ্ধ করতে হবে। কেন? প্রশ্ন উঠতে শুরু করলে ধর্ম নিয়ে হাজার-কোটির কারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়? গুজরাটে নরেন্দ্র মোদী প্রশাসনের প্রশ্রয়ে বড় হয়ে ওঠা ধর্মের ম্যানেজার আশারাম বাপুর কীর্তি এখন সবার সামনে। একাধিক নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে এখনও জেলেই আছে বাপু। ধর্মের আরেক ম্যানেজার হিসারের রামপালের ঘটনাও সম্প্রতি দেখেছে দেশ। এরপর ধর্মগুরুদের সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা অপরাধ? উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা এখন নতুন প্রচার শুরু করেছে, ‘এক নরেন্দ্রর আদর্শ রূপায়ণের জন্য আরেক নরেন্দ্র দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।’ নরেন্দ্র মোদীকে বিবেকানন্দের অবতার হিসেবে তুলে ধরার এই আয়োজনের মাঝে দেখা নেওয়া দরকার ধর্মের ম্যানেজারদের সম্পর্কে বিবেকানন্দ কী ধারণা রাখতেন। বিবেকানন্দ বলছেন, ‘‘...যে দেশে কোটি কোটি মানুষ মহুয়ার ফুল খেয়ে থাকে। আর দশ-বিশ লাখ সাধু আর ক্রোড় দশেক ব্রাহ্মণ ঐ গরিবদের রস চুষে খায়, আর তাদের উন্নতির কোনো চেষ্টাও করে না। সে কি দেশ না নরক! সে ধর্ম না পৈশাচ নৃত্য!’’ (জাতি সংস্কৃতি ও সমাজতন্ত্র ) অপুষ্টির কারণে শিশুমৃত্যুর এই দেশে লিটার লিটার দুধ ঢেলে ভগবানকে স্নান করানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘পি কে’ তাহলে কী অপরাধ করেছে? ‘রং নাম্বার’ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করলে বিপন্ন হবে ধর্ম নিয়ে কারবার- তাই ধর্মের ম্যানেজাররা প্রশ্ন তুলেছেন ছবির নায়ক আমির খানের ধর্ম নিয়ে। ঠিক ছবিতে তপস্বীজীর মতোই। আমির খান কেন হিন্দু ধর্মগুরুদেরই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছেন না- অভিযোগ রামদেব, স্বরূপানন্দ সরস্বতীদের। অভিযোগ বজরঙ দল, হিন্দু সেনার মতো সঙ্ঘের শাখা-প্রশাখার। ‘পি কে’র প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার-যাঁরা ছবি তৈরির মূল দায়িত্বে তাঁরা সবাই হিন্দু। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেনি আর এস এস-বি জে পি। ছবির সঙ্গে যুক্ত ৯০শতাংশের বেশি হিন্দু। তাঁরা সবাই মিলেই ছবিটি তৈরি করেছেন। তাঁদের সক্কলকে ছেড়ে পাকড়াও অভিনেতাকে। কেন? আমির খান মুসলমান, তাই? উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মতো আমরাও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম যে ছবিটি আমির খান-ই তৈরি করেছেন। তাহলেও কি এই অভিযোগ দাঁড়াচ্ছে যে ‘পি কে’ শুধুই হিন্দু ধর্মের ম্যানেজারদের সম্পর্কে বলেছে, মুসলমান ম্যানেজারদের নিয়ে নীরব থেকেছে? একটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে পি কে দুটি ওয়াইনের বোতল নিয়ে মুসলিম ধর্মস্থানের দিকে এগোচ্ছেন। তাঁর কাঁধে ঝোলানো রেডিওতো তখন বিবিধ ভারতীর গানের অনুষ্ঠানে বাজছে মির্জা গালিব- ‘‘জাহিদ শরাব পিনে দে মসজিদ মে বৈঠ কর। ইয়া ওহ জাগা বতা দে জাহাঁ পর খুদা না হো।’’ এখানে পি কে ধাক্কা দিয়েছে সেই সব ধর্মগুরুদের যাঁরা একদিকে তো বলেন ঈশ্বর সর্বত্র আছেন। আবার তারাই মানুষকে বোঝায় চার দেওয়ালের এই ধর্মস্থানেই একমাত্র ঈশ্বরের আবাস। মালালা ইউসুফজাইয়ের কথা মনে করিয়ে দেওয়া একটি ছোট্ট দৃশ্যে দেখানো হয়েছে মুসলিম মেয়েদের স্কুলে যেতে নিষেধ করে ফতোয়া জারি হয়েছে। তবে সবথেকে মর্মস্পর্শী দৃশ্য ছবির ক্লাইম্যাক্সে। যেখানে সন্ত্রাসবাদী বিস্ফোরণে নিহত বন্ধুর জুতো দু’ হাতে চেপে ধরে পি কে বলছে- ‘‘আজ কেউ তাঁর খুদাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে, আর আমার বন্ধু চলে গেছে। শুধু রয়ে গেছে ওঁর জুতোটা। তোমরা এভাবে ভগবানের রক্ষা করা বন্ধ কর, না হলে এই দুনিয়াতে শুধু জুতোই থেকে যাবে। মানুষ থাকবে না।’’ এত মর্মস্পর্শী অথচ তীক্ষ্ণ, তীব্র সমালোচনা ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের কতজন করতে পেরেছে? ধর্ম নিয়ে ভণ্ডামি, বুজরুকি, ব্যবসার সমালোচনায় কঠোর থেকেছে ‘পি কে’। তা সে যে ধর্মই হোক, হিন্দু, মুসলিম বা খ্রিষ্টান। তাই আর এস এস, হিন্দু মহাসভার সঙ্গে বেশ কয়েকটি মুসলিম মৌলবাদী সংগঠনও ‘পি কে’র বিরোধিতায় পথে নেমেছে। ‘পি কে’ আরো একবার প্রমাণ করে দিলো মৌলবাদীদের কোনো ধর্ম হয় না। এ কথা ঠিক হিন্দু ধর্মের ম্যানেজারদের কারবারই ‘পি কে’-র মুখ্য বিষয়। সে তো স্বাভাবিক। এ দেশে সংখ্যাগুরুর মৌলবাদই সবথেকে বড় বিপদ। ‘পি কে’-তেও সংখ্যাগুরুর মৌলবাদই বেশি জায়গা পেয়েছে। যেমন, এখন নতুন করে রাম মন্দির নির্মাণের জিগির তোলা হচ্ছে। ‘পি কে’-তেও এসেছে মন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ। ধর্মের ম্যানেজার মানুষকে বোঝাচ্ছে ভগবানের ঘর বানানো মহাপূণ্যের কাজ। তাই দু’ হাত ভরে দান করো। তাহলেই সমস্ত পীড়া থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে মানুষ। এইরকম ‘রং নাম্বারে’ বিশ্বাস করেই তো কুড়ি-বাইশ বছর ধরে মানুষ রামমন্দির নির্মাণের জন্য টাকা দিয়ে যাচ্ছেন। যাঁরা অযোধ্যায় গেছেন দেখেছেন, রামমন্দির নির্মাণের জন্য শ্রীরাম জনমভূমি ন্যাস কীভাবে টাকা তুলে যাচ্ছে। মন্দির হওয়ার নিশ্চয়তা নেই, তবে কোটি কোটি মানুষের টাকায় যোগীরা সব ভোগী হয়েছে এটা সহজেই চোখে পড়বে। যে কোনো ভণ্ডামির বিরুদ্ধেই প্রশ্ন তুলেছে ‘পি কে’। যেমন অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুকের সঙ্গে দেখানো হয়েছে সরকারী প্রকল্পসহ বিভিন্ন কাগজে গান্ধীজীর ছবি থাকলেও তাঁর মূল্য রয়েছে শুধুমাত্র রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ছাপানো নোটের ক্ষেত্রেই। দৃশ্যটি অত্যন্ত মজার। কিন্তু শুধুই কী মজার? নাকি কৌশলে কিছু প্রশ্ন তুলে দেওয়া হলো? ধরুন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এখন এক নম্বর কর্মসূচী ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’। গান্ধীজীর ছবি ব্যবহার করে তার দেদার প্রচার চালাচ্ছেন মোদী। আর উলটো দিকে তাঁর আত্মা আর এস এস-হিন্দু মহাসভা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের মন্দির বানাচ্ছে, মূর্তি বসাচ্ছে। মোদীর দলের সাংসদ সাক্ষী মহারাজ সংসদে দাঁড়িয়ে নির্দ্বিধায় বলে দিচ্ছেন গডসে দেশপ্রেমিক। চুপ করে আছেন হিন্দুত্বের ব্র্যান্ডেড ম্যানেজার নরেন্দ্র মোদী। গান্ধীর ছবি ব্যবহার করছেন, গডসে ভজনাও চলছে এক সাথে। পিকে-র ভাষায়- ইয়ে রং নাম্বার হ্যায়! পি কে নিরীশ্বরবাদী নয়। ভগবানের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা জানিয়েছে সে। এমনকি এই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড তৈরি করেছে ভগবান, এমন কথাও জানিয়েছে। ধর্মের নামে গোঁড়ামি, ভণ্ডামি, টাকা উপার্জনের ব্যবস্থা, মানুষে মানুষে বিভাজনের বিরোধিতা করেছে পি কে। তার ভাষায় ‘রং নাম্বার’। ধর্মের ম্যানেজারদের বিরুদ্ধেই তার যুদ্ধ। সিনেমার দিক থেকে ‘পি কে’ কতটা নিখুঁত, সেটা চলচ্চিত্র সমালোচকদের আলোচনার বিষয়। সত্যজিৎ রায়ের ‘গণশত্রু’র মত জনজাগরণ দেখায়নি ‘পি কে’। সেটা বাস্তবসম্মতও হতো না বোধ হয়। কিন্তু হাসাতে-হাসাতে কঠোর বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমাদের। আমরা সবই মেনে নেবো কিনা, মানিয়ে নেবো কিনা, ধর্মের নামে ব্যবসা চলতে দেবো কিনা, মানুষে মানুষে বিভাজন করতে দেবো কিনা- প্রশ্ন তুলেছে ‘পি কে’। ধর্মান্ধতা, অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, বুজরুকি, লোক ঠকানো- এ সব দেখেও চোখ বুজে থাকবো কিনা- প্রশ্ন তুলেছে ‘পি কে’। প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ধর্মান্তরকরণ, লাভ জিহাদের মত বিভাজনের কর্মসূচী সম্পর্কেই। ধর্মের কারবারিদের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন তুলতে বলেছে ‘পি কে’। সে কারণেই শঙ্কিত ধর্মান্ধ শক্তি। তাই সিনেমা হলে আক্রমণ, ছবি নিষিদ্ধের দাবি। সীমান্তে যখন বারুদের গন্ধ, দু’দেশের নেতা-মন্ত্রীরা আস্তিন গোটাচ্ছেন অহরহ- এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে ‘পি কে’ দেখাচ্ছে দু’পারের সাধারণ মানুষের পারস্পরিক আন্তরিকতা, ভালোবাসার চিত্র। যুদ্ধজিগির প্রশমিত করার অভিযোগে ‘পি কে’ আক্রান্ত হবে সেটাই তো স্বাভাবিক। অসংখ্য বক্তৃতা, সেমিনার, আলোচনায় যা মানুষকে বোঝানো যায় না, একটি ছবি বা নাটক তা করে ফেলে সহজেই। এখন বছরে এমন অনেক সিনেমাই হয়, যার সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা আছে। তবে তার অধিকাংশই মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা। আমির খানের মতো তারকারা যখন এই ধরনের ছবি করেন তখন তা সাধারণের হয়ে ওঠে। সরল কৌতুক, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতে করতেই আসল কথাটা মানুষের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। ধর্মের ম্যানেজারদের ভয় সেখানেই। ছবির শেষে টানটান উত্তেজনায় ‘লাভ জিহাদ’র তত্ত্ব যখন মুখ থুবড়ে পড়ছে, হল ফেটে পড়ছে হাততালিতে। ধর্মের ম্যানেজারের ভবিষ্যৎবাণী ব্যর্থ করে যখন ভারতীয় হিন্দু মেয়েটির ফোন যাচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা লাহোরের মুসলিম যুবকের জন্য-আবেগ চেপে রাখতে না পেরে হলের আধা অন্ধকারে চোখের জল মুছছেন অনেকেই। সবার মাথায় এখনো রং নাম্বার ‘ঠোক’ দিতে পারেনি সঙ্ঘ পরিবার। ধর্মোন্মাদদের শঙ্কার আর আমাদের ভরসার জায়গা এটাই।

Ganashakti



বনগাঁয় বামফ্রন্ট প্রার্থী দেবেশ দাস, কৃষ্ণগঞ্জে অপূর্ব বিশ্বাস

Ganashakti



নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে একসঙ্গে পথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বামপন্থীরা

Ganashakti



কথা হলো মহিলা নেত্রীদের সঙ্গে পাড়ুইয়ের নির্যাতিতার পরিবারকে মামলা তুলতে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে তৃণমূলীরা

Ganashakti



CPI(M) slams recommendations for FCI overhaul

Ganasakti



China deploys more troops China deploys more troops in Xinjiang to plug infiltration

Ganasakti



Thai ex-premier Yingluck impeached, faces criminal charges

Ganasakti



Saudi King Abdullah dies, Salman is new ruler

Ganasakti



Ukraine cedes airport on one of bloodiest days of war

Ganasakti



Japan faces deadline to free Islamic State hostages

Ganasakti



Yemen president resigns under pressure from rebels

Ganasakti



Kathmandu, Jan 22 Nepal's political parties missed a deadline to draft a new constitution that expired tonight, as Parliament session here ended without agreeing on its draft amid chaotic scenes.

Ganasakti



BJP suffers loss of face in UP Council polls

Ganasakti



Injured victims being treated in a government hospital after a crude bomb explosion in the civil court premises in Ara, Bihar on Friday.

http://ganashakti.com/english/news/top_story/7624

N. Srinivasan Can't Contest BCCI Elections Till he Gives up Commercial Interests in Cricket: Supreme Court

http://ganashakti.com/english/news/top_story/7622

Wednesday, January 21, 2015

CBI questions Madan Mitra in jail

http://ganashakti.com/english/news/details/7588

CPI(M) General Secretary addressing a rally in connection with the U.P. State Conference at Bulandshahar

CPI(M) Polit Bureau member Sitaram Yechury addressing a public meeting coinciding with the Karnataka State Conference in Bangalore

CBI conducts search operations on MPS Greenery

http://ganashakti.com/english/news/details/7591

CBI to send reminder to Roy if he does not turn up by tomorrow

http://ganashakti.com/english/news/details/7594#sthash.g4mTk1jz.dpuf

US 'wants to dominate the world': Russia

http://ganashakti.com/english/news/details/7606

HC told woman torture case to be handed over to CID

http://ganashakti.com/english/news/top_story/7587#sthash.wE7pZsSO.dpuf

Telangana State: Spurt in Farmer’s Suicides

http://peoplesdemocracy.in/2015/0118_pd/telangana-state-spurt-farmer%E2%80%99s-suicides

Seven Left Parties in Delhi to Contest Assembly Elections Jointly

http://peoplesdemocracy.in/2015/0118_pd/seven-left-parties-delhi-contest-assembly-elections-jointly

Mexico: Fear and Loathing

http://peoplesdemocracy.in/2015/0118_pd/mexico-fear-and-loathing

State Govt Employees Federation Conference Calls For United Struggle against Neo-Liberal Policies

http://peoplesdemocracy.in/2015/0118_pd/state-govt-employees-federation-conference-calls-united-struggle-against-neo-liberal

Demystification of Modi

http://peoplesdemocracy.in/2015/0118_pd/demystification-modi

Changing Policies and the Way Forward: A Discussion in AIDWA

http://peoplesdemocracy.in/2015/0118_pd/changing-policies-and-way-forward-discussion-aidwa

The Length, Breadth & Depth of TCS’ Lay-offs: Why it is Completely Unjustified to Lay-off its Employees

http://peoplesdemocracy.in/2015/0118_pd/length-breadth-depth-tcs%E2%80%99-lay-offs-why-it-completely-unjustified-lay-its-employees

Coal Strike: Govt Resorts to Misleading Statements, Distortion of Facts

http://peoplesdemocracy.in/2015/0118_pd/coal-strike-govt-resorts-misleading-statements-distortion-facts

Mumbo Jumbo as Science in the Science Congress

http://peoplesdemocracy.in/2015/0118_pd/mumbo-jumbo-science-science-congress

Defeating Neo-Liberal Policies & Communalism

http://peoplesdemocracy.in/2015/0118_pd/defeating-neo-liberal-policies-communalism

Tuesday, January 20, 2015

এরা কারা? কয়েকদিন আগে বি জে পি সাংসদ সাক্ষী মহারাজ হিন্দু নারীদের উদ্দেশে বার্তা ‍‌দিয়েছেন তারা যেন কমপক্ষে চার সন্তানের জননী হন। এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের শীর্ষে একজন শঙ্করাচার্য আর এক ধাপ এগিয়ে‍‌ গিয়ে এই উপদেশ দিয়েছেন যেকোন হিন্দু পরিবারকে অন্তত দশটি সন্তানের জন্ম দিতে হবে। এরই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে এক বি জে পি নেত্রী সাধ্বী প্রাচীর মুখে। এই ধরনের অবাস্তব ও উদ্ভট মনোভাবের প্রকাশ এতকাল উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়েই সীমাবদ্ধ ছিল। গৈরিকবাহিনীর ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের সুবাদে ইদানীং দেশের অন্যত্রও এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য উগ্র ও অন্ধ হিন্দুত্ববাদীদের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে। এমনকি বেদনাদায়ক হলেও সত্য নবজাগরণের পীঠস্থান এই বাংলার বুকেও উচ্চকণ্ঠে এমন কথা বলার দুঃসাহস দেখচ্ছে গেরুয়া নেতারা। রবীন্দ্রনাথের অন্যতম সৃষ্টি ও কর্মস্থল বীরভূম জেলার বি জে পি সভাপতি শ্যামল গোস্বামী হিন্দু মহিলাদের জন্য বিধান দিয়েছেন তারা যেন ৫ সন্তানের জননী হন। সঙ্ঘ পরিবার বারবার সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে প্রচার করতো ‘হাম পাঁচ হাম পঁচিশ’। অর্থাৎ মুসলিম মহিলাদের পাঁচটি করে সন্তানের জন্ম দিয়ে দ্রুত মুসলিম জনসংখ্যা বাড়িয়ে যাচ্ছে। হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রচার করা হতো এইভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ভারতে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর সঙ্ঘ পরিবারের চিরাচরিত এই প্রচারে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। এখন সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করেই হিন্দুত্ববাদীরা থেমে থাকছে না। পালটা ফতোয়া জারি করতে চাইছে হিন্দুরাও যেন সন্তান উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে পাল্লা দেয়। সে জন্য প্রত্যেক হিন্দু নারীকে গড়ে চারটি বা পাঁচটি সন্তানের জননী‍‌ হবার পরামর্শ দিচ্ছে বি জে পি নেতা সাংসদরা। আর বি জে পি নেতাদের গুরু শঙ্করাচার্য বিধান ‍‌দিচ্ছেন দশ সন্তানের জননী হতে। কেন এতো সন্তানের জন্ম দিতে হবে তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হচ্ছে। শঙ্করাচার্য বলেছেন হিন্দুরা জোটবদ্ধ (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) হয়েছে বলেই নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে ক্ষমতায় আসা সম্ভব হয়েছে। তেমনি মোদীকে ক্ষমতায় থাকতে হলে এবং ফের ক্ষমতায় আসতে হলে হিন্দুদের জোটবদ্ধ থাকার পাশাপাশি হিন্দু জনসংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। তা না হলে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। মোদীর পক্ষে আর ক্ষমতায় ফেরা হবে না।

ভারতের ম‍‌তো একটি অতিমাত্রায় জনবহুল দেশে এইভাবে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এমন প্রয়াস আত্মহত্যার শামিল হিসেবে সমাজবিজ্ঞানে চিহ্নিত হলেও হিন্দুত্বের ধ্বজাধারীদের কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। এইভাবে লাগাম ছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি যে প্রকৃতি, পরিবেশ এবং অর্থনীতির পক্ষে বিপর্যয়কর তা আধুনিক সমাজে কারও অজানা নয়। এই বিপর্যয় থেকে সমাজকে রক্ষা করতেই জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা চলে বি‍‌শ্বের সর্বত্র। ভারতে চালু আছে জন্ম নিয়ন্ত্রণের নানাবিধ ব্যবস্থা। দারিদ্র্য, বেকারী, অসাম্যের এই দেশে একটি সন্তানকে যথাযথভাবে ভাবী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কালঘাম ছুটছে ৯০ শতাংশ পরিবারের। এইসব দরিদ্র অভাবী পরিবারে ১০টি সন্তান জন্মালে অপুষ্টি, অশিক্ষা, রুগণ্‌তা, কর্মহীনতা তাদের জীবনসঙ্গী ‍হবে। এইসব নিয়ে ভাববার সময় নেই হিন্দুত্ববাদীদের। তারা পরিপূর্ণ মানুষ চায় না, চায় হিন্দু। যে মোদী সরকার উন্নয়নের স্বপ্ন ফেরি করে দেশকে কর্পোরেট পুঁজির অর্ঘে পরিণত করতে চাইছে এই প্রশ্নে তারাও আশ্চর্যজনকভাবে নীরব। আসলে ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়নের গল্প তাদের শোনাতে হয়। ভোটে লড়ার রসদ পেতে কর্পোরেটের কাছে হাত পাততে হয়। বিনিময়ে কর্পোরেট স্বার্থ পূরণ করতে হয়। সর্বোপরি ভোটে জিততে হিন্দুত্ববাদীদের ওপর ভরসা করতে হয়। এমন অদ্ভুত প্রক্রিয়ায় ভণ্ডামি আর প্রতারণা চালাচ্ছে গৈরিকবাহিনী। যার জেরে ভারতীয় সমাজের সংহতির বন্ধনে ক্ষয় শুরু হ‌য়েছে। এই অশুভ শক্তিকে না আটকালে সমাজকে অধঃপতনের কিনারে নিয়ে ছাড়বে।

ধর্ষিতা, অত্যাচারিতাকে সাহায্য করার পরিবর্তে দুষ্কৃতীদের আশ্রয় দেওয়াই এরাজ্যের পুলিসের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বেই রয়েছে পুলিস বিভাগ। ধর্ষিতা অভিযোগ জানাতে এলে সেই পুলিস তার ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট চায়। শাসকের তাঁবেদার এই পুলিসবাহিনী প্রথম ধাপে মহিলাদের ওপর নির্যাতনকারী দুষ্কৃতীদের আশ্রয় দিয়েছে। বর্তমানে তারাই তৃণমূলের সঙ্গেই একযোগে মহিলাদের ওপর অত্যাচারে নেমেছে। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে এই অপরাধী পুলিসের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আশা করা যায় না। হাই‍‌কোর্ট, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জাতীয় মহিলা কমিশনসহ স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করতে হবে। এবং সব অংশের মানুষকে পুলিস শাসকের এই আঁতাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

মধ্যমগ্রামে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিসের ভূমিকা চূড়ান্ত লজ্জাজনক। মধ্যমগ্রামে নির্যাতিতা পুলিসের কাছে অভিযোগ জানা‍‌নোর অপরাধে আবার অত্যাচারিত হন। পুলিস ছিল নীরব দর্শক। পরে নির্যাতিতা ও তার পরিবার দুষ্কৃতীদের ভয়ে এলাকা ছাড়া হন। পরবর্তী সময়ে নির্যাতিতাকে হত্যার পর মৃতদেহ দখলের খেলায় মেতে ওঠে পুলিস। জেলা পুলিসের উচ্চপদস্থ অফিসাররা নির্যাতিতার পরিবারকে মরদেহ পুলিসের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। অমানবিক এই অত্যাচার পুলিস করেছে শাসকদলের স্বার্থে। কারণ সরকার চাইছিল মধ্যমগ্রামের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে। সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে নিহত ধর্ষিতার শেষকৃত্য করার চেষ্টা করে‍‌ছে পুলিস। অপরাধীদের কায়দায় মরদেহ তুলে নিয়ে শ্মশানে যাওয়ার চেষ্টা করেছে পুলিস।

শাসকদলের নির্দেশে পুলিস বেপরোয়াভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের স্বার্থরক্ষা করে চলেছে। তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পুলিস গ্রহণ করে না। খুনের ঘটনা ঘটলেও পুলিস অভিযুক্ত কোনো তৃণমূল নেতাকে জেরার জন্যও ডাক পাঠায় না। গ্রেপ্তার করা বা চার্জশিট দেওয়া তো দূরের কথা বরং অত্যন্ত কৌশলে চার্জশিট থেকে তৃণমূল নেতাদের বাদ দেওয়া হয়। পুলিস প্রশাসন ভেঙে পড়ার নজির রয়েছে বীরভূমেই। একজন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে পুলিস আদালতে পেশ করে। আদালত তাকে পুলিস হেফাজতে পাঠায়। দু’দিন পর আবার সেই ব্যক্তিকেই নতুন করে আদালতে পেশ করে পুলিস।

গত তিনবছরের ম‍‌ধ্যে রাজ্যের পুলিসবাহিনী শাসকদলের ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশে পুলিসবাহিনী যেকোনো ধরনের অন্যায় অবিচার করতে পিছপা হয় না। তৃণমূল কংগ্রেস ও পুলিসের যৌথবাহিনী একজন নিরপরাধ মহিলার ওপর বর্বর অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের পাড়ুইয়ে। রাজ্য সরকার নীরব, নির্বিকার। রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনা সম্পর্কে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনকে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে রাজ্য সরকার। সেকারণে পাড়ুইয়ের এই ঘটনায় রাজ্য মানবাধিকার কমিশনও নীরব। অপরাধী পুলিস বাহিনীকে শাস্তি দেওয়ার কেউ নেই। তৃণমূলের দুষ্কৃতীবাহিনী রয়েছে পুলিসের আশ্রয়ে। গত কয়েক বছর ধরেই বীরভূমের পাড়ুই অঞ্চলে তৃণমূল ও পুলিসের যৌথসন্ত্রাস চলছে। রবিবার পাড়ুইয়ে বোমাবাজির ঘটনায় একজন অভিযুক্তকে ধরতে এসে তার বাড়ি থেকে আত্মীয়াকে তু‍‌লে নিয়ে গিয়ে জঘন্য অত্যাচার করে পুলিস ও তৃণমূল কংগ্রেস। হাইফুন্নেসা বিবি নামে এক মহিলাকে গাছের ডালে বেঁধে সারা গায়ে বিছুটি পাতা ঘষে মারধর করা হয়। ঐ মহিলার হাত পা ভেঙে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে অচৈতন্য অবস্থায় ফেলে রাখা হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। স্থানীয় থানায় পুলিস অফিসার এবং অনুব্রত মণ্ডলের অনুগত তৃণমূল নেতারা সরাসরি যুক্ত ছি‍লেন এই বর্বরোচিত ঘটনায়।

বর্বরতা | এক চরম নিদর্শন দেখালো রাজ্য প্রশাসন।

পথ অবরোধ | পাড়ুইয়ে নৃশংসতার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতার মৌলালিতে মহিলা সমিতি।

নজিরবিহীন আক্রমন | তৃনমূল দুষ্কৃতীদের গুলিতে জখম ইটাহার মেঘনাথ সাহা কলেজের ছাত্র সুদীপ্ত মন্ডল।

কলেজ ক্যাম্পাস লালে লাল | ভিক্টোরিয়া কলেজে এস এফ আই-র বিপুল জয়ের পর সোমবার ছাত্রীদের উচ্ছ্বাস।

দেশপ্রেম দিবশ সহ | চার দফা দাবিতে সোমবার রানী রাসমোণি অ্যাভিনিউয়ে সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লকের আইন অমান্য।

PARTIES SHOULD WORK OUT SOLUTION ON FREQUENT ORDINANCES: PREZ

http://ganashakti.com/english/news/details/7578

Wednesday, January 14, 2015

RSS: The Anti-Constitutional “Power Centre” of the Modi Sarkar

http://www.cpimwb.org.in/issue_details.php?issue_id=35

Agenda of RSS in Indian Science Congress

http://peoplesdemocracy.in/2015/0111_pd/agenda-rss-indian-science-congress

Some Lessons from the Ideas & Work Of Savitribai & Jyotirao Phule

http://peoplesdemocracy.in/2015/0111_pd/some-lessons-ideas-work-savitribai-jyotirao-phule

Predatory Capitalism Leading to Regional Wars: Yechury

http://peoplesdemocracy.in/2015/0111_pd/predatory-capitalism-leading-regional-wars-yechury

TWENTY Six years have elapsed since Safdar Hashmi was felled, while in performance, to the blows of the assassins. The play being performed was Halla Bol, in support of workers' demand of minimum wages. JANAM (Jana Natya Manch) came back to the site of the attack to complete the performance of the play on January 4 that year. On January 1, 1990, Janam performed a play here Natak Jari Hai, The play is going on. Indeed the show must go on, the show is going on.

http://peoplesdemocracy.in/2015/0111_pd/natak-jari-hai

SAHMAT’s Tribute to Safdar Hasmi on 26TH Anniversary of His Martyrdom

http://peoplesdemocracy.in/2015/0111_pd/sahmat%E2%80%99s-tribute-safdar-hasmi-26th-anniversary-his-martyrdom

MAHARASHTRA: Massive CPI(M) March in Solapur on Housing Issue

http://peoplesdemocracy.in/2015/0111_pd/maharashtra-massive-cpim-march-solapur-housing-issue

AIFAWH Organises National Seminar on Malnutrition in India & the ICDS as ‘Mission’

http://peoplesdemocracy.in/2015/0111_pd/aifawh-organises-national-seminar-malnutrition-india-icds-%E2%80%98mission%E2%80%99

Punjab Holds State Conference of Agricultural Workers Union

http://peoplesdemocracy.in/2015/0111_pd/punjab-holds-state-conference-agricultural-workers-union