RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, December 15, 2015

PARIS CLIMATE CHANGE SUMMIT - জলবায়ু চুক্তি ***************************************************জলবায়ু সংক্রান্ত বিশ্ব সম্মেলনে প্যালেস্তাইনসহ ১৯৬টি দেশ শেষ পর্যন্ত ন্যূনতম সহমতে এসে একটা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির বয়ানে যেসব পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে তাতে মূল সমস্যা কতটা মোকাবিলা করা যাবে অথবা ছোট ও আর্থিকভাবে দুর্বল দেশগুলির আশু বিপদ কতটা লাঘব করা সম্ভব হবে তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও মন্দের ভালো একটা চুক্তিতে অন্তত আসা গেছে। ভূ-উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৮০-র দশকে। পরিবেশবিদ এবং পরিবেশ আন্দোলনকারীরাই বিষয়টি আলোচনা ও বিতর্কের মঞ্চে নিয়ে আসে এবং রাজনৈতিক স্তরে ভাবনা ও হস্তক্ষেপের দাবি জানায়। পরে রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনা পর্বেই জলবায়ু পরিবর্তন ও উষ্ণায়নের পেছনে প্রধানত গ্রিন হাউ‍‌স গ্যাস (কার্বন-ডাই-অক্সাইড) দায়ী কিনা তা নিয়েও জোরালো বিতর্ক চলে। অনেক বিজ্ঞানী ও গবেষণা সংস্থা এমন দাবিও জোরালোভাবে তোলেন যে উষ্ণায়নের সঙ্গে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের কোন সম্পর্ক নেই। এই যুক্তির বেশিটাই আসতে থাকে প্রধানত উন্নত দেশ থেকে। আসলে জীবাশ্ম জ্বালানি (তেল, কয়লা ইত্যাদি)-কে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহার করে শিল্প বিপ্লব থেকে আজ পর্যন্ত বিকাশের যে ব্যবস্থা বিরাজমান তার অনিবার্য পরিণাম কার্বন নিঃসরণ। প্রকৃতিতে বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলে ক্রমবর্ধমান হারে কার্বন নিঃসরণ করেই শিল্পোন্নত দেশগুলি উন্নত হয়েছে এবং আজও উন্নত রয়েছে। এখন ভূ-উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে কার্বন নিঃসরণকেই যদি দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাহলে সব দায় গিয়ে বর্তায় উন্নত দেশগুলির ওপর। এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই গত দু’শতাধিক বছর ধরে পৃথিবীতে যত কার্বন নিঃসরণ হয়েছে তার ৯০ ভাগই এসেছে উন্নত দেশ বিশেষ করে আমেরিকা থেকে। গত দু’আড়াই দশক ধরে জলবায়ু নিয়ে আলোচনায় উক্ত বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় বিতর্ক ও মতবিরোধ তুঙ্গে ওঠে। মার্কিন নেতৃত্বে উন্নত দেশের দাবি ছিল কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে সব দেশকেই ভূমিকা নিতে হবে। বিপরীতে উন্নয়নশীল দেশগুলির বক্তব্য ছিল প্রকৃতিকে কার্বনে ডুবিয়ে দিয়ে উন্নতরা উন্নত হয়েছে। এখন তারাই উন্নয়নশীল দেশকে কার্বন নিঃসরণ বন্ধ করার চাপ দিচ্ছে। অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশগুলির উন্নত হবার পথ চিরতরে বন্ধ করে দিতে চাইছে। উন্নত দেশ তাদের অর্থ ও প্রযুক্তি দিয়ে বিকল্প শক্তির জোগান বাড়াতে পারবে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের সেই সামর্থ্য নেই। মূলত এই বিরোধই কিয়োটো থেকে জলবায়ু সংক্রান্ত আলোচনার অগ্রগতি অবরুদ্ধ হয়ে যায়। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে প্যারিসে একটা সহমতে আসা সম্ভব হয়েছে। এবার আমেরিকা যেমন একগুঁয়েমি কিছুটা শিথিল করেছে তেমনি উন্নয়নশীল দেশগুলি অনেকটা সমঝোতা করেছে। তাছাড়া নিরপেক্ষভাবে বিশ্ব জনমতের চাপ ক্রমাগত যেভাবে বাড়ছিল তাতে একটা কিছু করা ছাড়া রাষ্ট্রনেতাদের সামনে বিকল্প কিছু ছিল না। প্যারিসে যেকোনভাবে একটা চুক্তি না করতে পারলে নিজ নিজ দেশেও তারা সমালোচিত হতো। তাই দীর্ঘ আলোচনা, অনেক বোঝাপড়া ও খসড়া সংশোধনের পর একটা চুক্তি খাড়া করা গেছে। এই চুক্তির যেহেতু আইনি বাধ্যবাধকতা নেই তাই কার্যকর করার ক্ষেত্রে কে কতটা দায়বদ্ধ হবে সন্দেহ থেকেই যায়। যদি কার্যকর করতে হয় তবে সব দেশকেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধন করতে হবে। সেটা যেহেতু অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তাই বিশ্ব অর্থনীতির এই সংকটের কালে কোন দেশ কতটা ঝুঁকি নেবে তা ভবিষ্যৎই বলতে পারবে।


No comments: