RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, December 25, 2015

DEAF AND DUMB GOVERNMENT OF WEST BENGAL - মূক ও বধির রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির জন্য শাসকদল ও পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করল কলকাতা হাইকোর্ট। সাধারণত বিরোধী রাজনৈতিক দলই শাসকদলকে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সমালোচনা করে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির কঠোর সমালোচনা স্পষ্ট করেছে রাজ্যের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি। বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য তীক্ষ্ণ ভাষায় সরকারকে ভর্ৎসনা করেছেন। তিনি বলেছেন, গোটা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। রাজ্য সরকার তার নিজের জমি রক্ষা করতে ব্যর্থ। সরকার, দল, পুলিশ, ক্লাব, ব্যক্তি একেবারে একটা গোটা চেন চলছে। রাজ্য সরকার চলছে তাদের অঙ্গুলিহেলনে। প্রত্যে‍কেই প্রত্যেকের সঙ্গে জড়িত। এই অবস্থায় কিভাবে আইনের সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বিচারপতি কলকাতা পুলিশ কমিশনারকেও সমালোচনার বাইরে রাখেননি। তিনি প্রশ্ন তু‍লেছেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনার কি মূক-বধির? বেদখল জমি উদ্ধারে আদালতের নির্দেশে পুলিশ গিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূলের কাউন্সিলরের স্বামী পুলিশ কমিশনারের সামনে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। জমি উদ্ধার করলে ঐ ব্যক্তি আত্মহত্যা করবেন এই নাটকীয় হুমকি শুনে পুলিশবাহিনী ফিরে আসে। মেরুদণ্ডহীন পুলিশ কমিশনার এবং তার সহযোগী আই পি এস অফিসাররা শাসকদলের প্রতিনিধিদের সামনে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এই জমির বেদখলের প্রধান অভিযুক্ত হলো তৃণমূল নেতারা। কিন্তু আদালতের আদেশ সত্ত্বেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি। শ্রীকান্ত মোহতার স্টুডিও’র জন্য পোর্টট্রাস্টের জমি বেদখলের ঘটনাতেও পুলিশ ‍নিধিরাম সর্দার হয়েছিল। পুলিশের সামনেই জমির দখলদারদের মাসলম্যানরা পোর্টট্রাস্টের প্রতিনিধিদের বিতাড়িত করে। শ্রীকান্ত মোহতা শাসকদলের তথা মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে তার বেআইনি কাজ বন্ধ করার সাহস দেখাতে পারেনি পুলিশ। পরবর্তী সময়ে জনমতের চাপে শ্রীকান্ত মোহতা বাধ্য হয় বেআইনিভাবে দখল করা স্টুডিও’র জায়গা ছেড়ে দিতে। পুলিশের কোনো ভূমিকাই ছিল না। ‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দ্বিতীয় বছরে কলকাতা হাইকোর্ট মন্তব্য করেছিল, রাজ্য জ্বলছে। আদালতের আদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রেও পুলিশ মান্যতা দেয়নি। রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে তদন্তের মূল দায়িত্ব নিয়ে আদালতে রিপোর্ট পেশ করতে বলেছিলেন বিচারপতি। কিন্তু রাজ্য পুলিশের ডি জি সেই আদেশ এড়িয়ে যান। অনুব্রত মণ্ডল, মনিরুল ইসলামের মতো তৃণমূল নেতারা খুন ও খুনের হুমকি দিয়েছে। পুলিশ চার্জশিটে তাদের নাম আনেনি। মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্য সভায় অনুব্রত মণ্ডলকে সাটিফিকেট দিয়েছেন। তার ফলে পুলিশকে বোমা মারার হুমকি দেওয়াতেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নি‍‌তে পারেনি। কারণ এদের গলায় ঝুলছে তৃণমূলের প্রতীক। তৃণমূল আশ্রিত সিন্ডিকেট রাজ চলছে কলকাতা মহানগরী এবং অন্যান্য জেলা শহরগুলিতে। পুলিশ নিষ্ক্রিয়‌। কলকারখানা, কলেজ সর্বত্র চলছে তৃণমূলের তোলাবাজি। পুলিশ নীরব দর্শক। পুলিশ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের জামিনের ব্যবস্থা করে পাঁচ মিনিটে। যারা অপরাধী নয় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজায় পুলিশ। কলকাতার মেয়রের আত্মীয়া পুলিশ কনস্টেবলকে মারধর করে। তৃণমূল সাংসদরা কর্তব্যরত পুলিশকে চড় থাপ্পড় মারে। পুলিশ নির্বিকার। সাড়ে চার বছরে তৃণমূলের জঙ্গলরাজ রাজ্যকে শোচনীয় অবস্থার দি‍কে ঠেলে দিয়েছে। আদালতের পক্ষে এই পরিস্থিতিতে অপরাধের সুবিচার করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ শাসক, প্রশাসক ও অপরাধী চক্র অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে যাচ্ছে এরাজ্যে। অপরাধীকে পুলিশ সাহায্য করছে তৃণমূল নেতাদের অঙ্গুলিহেলনে। ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী নিজে থানায় গিয়ে অপরাধীকে মুক্ত করে সেই বার্তাই দিয়েছেন।

No comments: