RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, December 9, 2015

পশ্চাতে অগ্রগমন ******************************************************************************************কয়েকমাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা প্রচার-প্রস্তুতির কাজ এখনো সেই অর্থে শুরু হয়নি। তবে সরকারি অর্থ ও পরিকাঠামো ব্যবহার করে শাসকদল, বিশেষ করে স্বয়ং দলনেত্রী প্রাথমিক প্রচার পর্ব শুরু করে দিয়েছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আপন কীর্তি জাহির করার সুযোগ বিরোধীদের নেই। তাই বলে তারাও বসে নেই। বিশেষ করে বামপন্থীরা সম্প্রতি জাঠা-মিছিলের মাধ্যমে রাজ্যের সর্বত্র প্রতিটি বুথ এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এমন এলাকা কম নেই যেখানে গত সাড়ে চার বছরে বামপন্থীদের প্রবেশাধিকার ছিল না। শাসকদলের হিংস্রতা-বর্বরতার আবহে এমন এক সন্ত্রাস জারি ছিল তাতে বামপন্থীরা কোনমতেই প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশ নিতে পারত না। এমনকি রাজনৈতিক কথাবার্তা, আলোচনা, সরকার বা শাসকদলের কাজের সমালোচনা করার অধিকারও ছিল না। এইসব সন্ত্রাস কবলিত বধ্যভূমিতেও এবারের জাঠা প্রবেশ করেছে বীরদর্পে। স্বাভাবিকভাবেই শাসকদলের লেঠেলবাহিনী মেনে নেয়নি বামপন্থীদের এমন ঔদ্ধত্য ও বেয়াদপি। ‘উচিত’ শাস্তি দিতে জায়গায় জায়গায় মিছিল আটকেছে। সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে মিছিল রক্তাক্ত করেছে। মিছিলকারীদের শেষ পর্যন্ত খুন করতে না পারলেও বেপরোয়া অমানুষিক মারধর করে মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে অনেককে। এত করেও মিছিল থামাতে পারেনি। ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী মিছিল ৭৬ হাজার বুথের প্রায় অধিকাংশকেই মানুষের হৃদয়ে উত্তাপ সঞ্চার করে দিয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর এই মিছিলের উত্তাপে সম্মেলনে যে নতুন উদ্দীপনার ভ্রূণ জন্ম নিচ্ছে কয়েকদিন পর ব্রিগেডের মহামিছিলের অঙ্গনে তা ভূমিষ্ঠ হবে। তারপর থেকে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারের জনজোয়ার। ইতিমধ্যে পথে-ঘাটে ট্রেনে-বাসে, আড্ডায়-জটলায়, চায়ের দোকানে কমবেশি জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ভাবনার যেমন অন্ত নেই তেমনি কৌতূহলেরও সীমা পরিসীমা নেই। কারো প্রশ্ন, এ সরকার এবার যাবে তো? কারো জবাব আপদ গেলে মঙ্গল। কারো উদ্বেগ প্রশাসনিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনই লাগাম ধরা না গেলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। কেউ বলছে শিক্ষা একেবারে রসাতলে গেছে। কেউ বলছে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পের মরুভূমি। রসিকজনের উত্তর ধূপকাঠি, গুড় শিল্প থাকতে ভাবনা কিসের! তেলেভাজা, চা দোকান আছেই! দালালি, সিন্ডিকেট, তোলাবাজির মতো বিকাশমান শিল্প থাকতে অন্য কোন শিল্পের দরকার আছে কি? তাছাড়া চাকরির প্রত্যাশায় বেকার থাকার কোন অর্থ হয় না। রাজ্যে যত বেকার আছে সব নেমে পড়ো দালালি, তোলাবাজিতে, সিন্ডিকেটে। গত সাড়ে চার বছরে রাজ্যে যে নতুন সংস্কৃতির আমদানি হয়েছে তাতে ‘গীতাঞ্জলি’ বিসর্জন দিয়ে কথাঞ্জলির আবাহন হয়েছে। চিন্তার গভীরতা এরাজ্য থেকে ছুটি নিয়েছে। এরাজ্যকে এখন ফুর্তি, লারেলাপ্পা, উন্মাদনা, নাচাগানাতে ডুবিয়ে রাখতে চাইছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অধঃপতনের রাস্তা বাতলানো ছাড়া এরাজ্যের আর দেবার কিছু নেই। সাড়ে চার বছরে তৈরি হয়েছে লুম্পেন সংস্কৃতি ও লুম্পেন রাজনীতি। সামাজিক মূল্যবোধ পরিত্যজ্য। উন্নয়ন মানে চমক আর বহিরঙ্গের ঠাটবাট। হাসপাতালে ডাক্তার নেই, নার্স নেই, ওষুধ নেই, যন্ত্রপাতি নেই। বাইরে চোখ ঝলসানো তোরণ হচ্ছে কোটি টাকা খরচ করে। লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ ছাড়া চাকরি নেই। চাকরির যোগ্যতা কেনা যায় টাকা দিয়ে বা দলীয় আনুগত্যের প্রমাণ দিয়ে। জনগণের প্রতি আস্থা নেই, ভোটে জিততে তাই বুথে বুথে ক্লাব। সরকারি টাকায় চলবে সেই ক্লাব। কাজ করবে তৃণমূলের দলীয় ভোট মেশিনারি হিসেবে। পুরস্কার সম্মানের নামে টাকা দিয়ে কিনে নিতে হবে ‍শিল্পী, অভিনেতা, লেখকদের। সকলে মিলে ব্যক্তির তোষামোদ, ব্যক্তির জয়ধ্বনি দেবে। বাংলা আজ যা করছে, ভারত অতীতে তা বর্জন করেছে।

No comments: