RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, December 3, 2015

দিনের আলোয় — রাতের অন্ধকার -দিলীপ সরকার

সবারই জানা অস্ট্রেলিয়া সফরে মোদীজী একটা বড় চুক্তি করেছেন। কুইন্সল্যান্ডে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কয়লাখনির শর্তাধীন মালিকানার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মোদীজী। বৃহৎ এই কয়লাখনির মালিকানা পেলেন ভারতীয় শিল্পপতি এবং মোদীজীর সফরসঙ্গী গৌতম আদানি। চুক্তির প্রয়োজনে ওই দেশের সরকারকে দেয় ৬.৮০০ কোটি টাকার ব্যবস্থা হয়ে যায় নিমেষই। মোদীজীর সফরসঙ্গী স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার চেয়ারপারসন অরুন্ধতি ভট্টাচার্য ব্যাঙ্ক ঋণের ব্যবস্থা করেন। যদিও জানা যায় গৌতম আদানি ভারতবর্ষের বিভিন্ন সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া কয়েক হাজার কোটি টাকার বকেয়া ঋণ পরিশোধ করেননি, তাতে কি-ই বা আসে যায়! পাঁচ-ছয়মাস ধরে বিগত লোকসভা নির্বাচনে মোদীজী যাঁর উড়ানে সারাভারতে প্রচার করে বেড়িয়েছেন, সেই উড়োজাহাজের মালিক তো গৌতম আদানি, তাই কিছু তো ফেরত দিতেই হবে।


রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্যসূত্রে জানা যায় মোদীজীর এক বছরের শাসনকালে গৌতম আদানির মুনাফার পরিমাণ ৪৮.৮ শতাংশ হলো সর্বকালে সর্ববৃহৎ।

এবার দেখা যাক ‘কালা ধন’ কোথায় গেল। যদিও বর্ষপূর্তির পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোদীজী বলেছিলেন এটা তাদের ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি’। তবুও সরকারি হিসাবে সময়সীমা পেরিয়ে যাবার পর মোট ৬৩৮ জন ৩,৭৭০ কোটি টাকার কালোধনের তথ্য জানিয়েছেন। যদিও ১৯৯৮ সালে সরকারের কোষাগারে কালোধন জমা পড়েছিল ১০,০০০ কোটি টাকা। ১৫ লক্ষ টাকা ‘ফোকোটে’ পাওয়া ভারতবাসীর বিশ্বাস দিবাস্বপ্নের মতো ফানুস হয়ে গেল।

এবার আসা যাক ভিন্ন বিষয়ে। বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন অন্তত ১২টি ঘটনার সি বি আই তদন্ত চেয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। দাবিগুলি ছিল এই রকম—১৯৮৯ বানতলা, ১৯৮৯ বেহালা বিষতেল কাণ্ড, ১৯৯৩ ধর্মতলায় পুলিশের গুলি, ১৯৯৩ ওয়াকফ্‌ দুর্নীতি, ১৯৯৩ ভিখারি পাশোয়ান হত্যা, ১৯৯৮ সালে চম্পলা সর্দার, ২০০০ নানুর সুচপুর হত্যা, ২০০১ গড়বেতা ছোট আঙারিয়া ঘটনা, ২০০৬ সিঙ্গুর তাপসী মালিক, ২০০৭ নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলি, ২০০৭ রিজওয়ানুর কাণ্ড, ২০১০ জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা, ২০১১ নেতাই গণহত্যা।

কিন্তু তারই শাসনে বহু ঘটনার সি বি আই তদন্তের দাবি উঠলেও তিনি নীরব। তার বড় উদাহরণ সারদা সহ চিট ফান্ড ‍‌ কেলেঙ্কারির তদন্তে বিরোধীদের সি বি আই দাবি অস্বীকার। যদিও সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী সি বি আই তদন্ত চলছে।

কয়েকটি প্রশ্ন। ১৯৯৩ সালে ২১শে জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের অবরোধে পুলিশের গুলি চালনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গঠিত কমিশন রায় দিলেও, কোনো ব্যবস্থা নেই কেন। উত্তর একটাই—গুলি চালাবার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনীষ গুপ্ত, এখন মুখ্যমন্ত্রীর পারিষদ সদস্য। নন্দীগ্রামে গুলি চালাবার ঘটনায় সি বি আই তদন্ত ‍‌ রিপোর্ট জমা দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উত্তর একটাই দোষী পুলিশ অফিসার ও পুলিশ কর্মীরা এখন মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহধন্য।

‍‌বিরোধী ও শাসকের মুখ আর মুখোশ এখন ধীরে ধীরে জনসম্মুখে উন্মুক্ত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বোধোদয় ও উপলব্ধির বাক্য জানিয়ে এই পর্ব শেষ করছি—‘‘আমিও আগে সি বি আই চাইতাম। কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিল।’’ (আঃ পঃ ২৭/৫/১৫)।

‘‘দেনার দায়ে ঝুঁকে পড়েছি, বাঁচান’’ (আঃ পঃ ৩০/৯/১৫) বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। লক্ষ্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। একটি প্রশ্ন—মমতাদেবী আপনি কংগ্রেস এবং বি জে পি উভয় সরকারের কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ছিলেন। তখন রাজ্যের জন্য আরও অর্থের দাবি তো কখনও শোনা যায়নি। উলটে বামপন্থীরা সহ্য করেছেন আপনার উষ্মা।

রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ১৯৮৬ সালে মূলত রাজ্যের দাবিগুলি নিয়ে রাজ্যের সমস্ত সাংসদদের একত্রিত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা ডেপুটেশনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মূলত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। তার প্রয়োজনে ‍‌যৌথ সভাও করেছিলেন জ্যোতি বসু। তখন মমতাদেবী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়সহ এরাজ্যে কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ১৬জন। যদিও সেই ডেপুটেশনে আপনারা যাননি। কারণ বামপন্থী শাসিত রাজ্যের হাতে অধিক ক্ষমতার দাবি করা, আপনাদের কি ছিল লাভ?

এখন প্রশ্ন ‘‘দেনার দায়ে ঝুঁকে পড়েছি বাঁচান’—ওকথা কেন? খেলা, মেলা, উৎসব, দানধ্যান প্রভৃতি বাজেট বহির্ভূত খরচ কার স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীজী! শুধুই কি গদিতে থাকাই একমাত্র লক্ষ্য! এই আর্থিক বছর শেষ হ‍‌লে মমতা ব্যানার্জির আমলে নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা।

সত্যিই কি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জন্য বর্তমান রাজ্য সরকার ‘‘দেনার দায়ে ঝুঁকে পড়েছে’’। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য কি দেখা যাক, কেন্দ্রীয় করের ৪২ শতাংশ রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। যা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি। রাজ্য পাঁচ বছরে পেয়েছে ৫৩৯ কোটি টাকা। আগামী পাঁচবছরে পাবে ২লক্ষ ৮৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। নির্দেশাত্মক নীতিতে বলা হয়েছে এই অর্থ খরচের প্রকল্প ঠিক করার স্বাধীনতা রাজ্য সরকারের।

কিন্তু প্রশ্ন (১) সাড়ে চারবছরে রাজ্যে এত ঋণ কেন? (২) বাজেট বহির্ভূত ব্যয়ের সীমা প্রতি বছর লঙ্ঘিত হচ্ছে কেন? (৩) রাজ্যবাসীর প্রয়োজনে প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র কি?

আরও একটি প্রশ্ন— দীর্ঘদিন বি জে পি সরকারের মন্ত্রী থাকার সময় কেন এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কোন পর্যায়ে আলোচনা করেননি মমতা ব্যানার্জি?

শুরু হয়েছে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পক্ষে আনার জন্য অনাবশ্যক কয়েকটি সিদ্ধান্ত। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তরীণ সর্ম্পকিত ৬৪টি ফাইল প্রকাশ। দ্বিতীয়, স্বাধীনতাপূর্ব বঙ্গ দেশের বিধানসভার নথি প্রকাশ।

এই দুটি নথি প্রকাশের ফলে রাজ্যবাসীর জ্বলন্ত সমস্যার কি সমাধান হবে জানিনা, তবে বঙ্গবাসীর আবেগ ভোট বাক্সে দিদির ব্যাগে নিয়ে আসার একটা কৌশল বটে, একথা বলাই যায়।

যে কোন প্রচারেই হোক দল ভাঙিয়ে সর্বস্তরে লুটেপুটে খাওয়ার সরকারকে রাখতেই হবে। এই পথ তৃণমূলের। তাই বিধাননগরে ৭০ বছর ঊর্ধ্ব এক ভোটারকে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে মারছে ২০/২১ বছরের কয়েকজন তরুণ। ‘‘দিনের আলোয় রাতের অন্ধকার’’।

গণতন্ত্র কোথায়? সর্বাংশে না হলেও রাজ্যবাসী আজ আর অবচেতন না থেকে ভাবতে শুরু করেছেন।

তাই আসুন ‘‘দিনের আলোয় রাতের অন্ধকারের’’— এই দৃশ্য বদ্‌লাই।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=75069#sthash.oPhHaCoi.dpuf

No comments: