RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, December 1, 2015

‘আমরা সবাই চোর’ ছেড়ে এখন মমতা বলছেন ‘ইন্ডিভিজুয়াল’ চোরের কথা ***********************************************************************************নিজস্ব সংবাদদাতা উলুবেড়িয়া, ৩০শে নভেম্বর— মদন মিত্রর গ্রেপ্তারির প্রতিবাদ জানিয়ে ‘আমরা সবাই চোর’ ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে কলকাতায় মিছিল করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। এখন সেই তিনিই সারদা কেলেঙ্কারিতে ধৃতদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানো শুরু করেদিলেন। সোমবার হাওড়ার আমতায় সরকারি কর্মসূচিতে মমতা ব্যানার্জি বলেন,‘‘ টাকা পয়সা হাতে পেয়ে গেলে ইন্ডিভিজুয়াল চোর হয়। দল চোর হয় না।’’ সরকারি মঞ্চ থেকে চুরির দায় থেকে নিজের ও দলের দায় বাঁচানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এই মরিয়া মন্তব্যের পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়ে যায়। গত বছর দলের সহকর্মী, মন্ত্রিসভার সদস্য মদন মিত্রের গ্রেপ্তার হওয়ার নবান্ন থেকে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সি বি আই—এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে কলকাতায় ‘আমরা সবাই চোর’ ব্যানার নিয়ে মমতা ব্যানার্জি মিছিল করেছিলেন। গ্রেপ্তারি পর্বে মমতা ব্যানার্জি মদন মিত্রকে মন্ত্রিসভাতে রেখেও দিয়েছিলেন। জেলখানার বদলে গ্রেপ্তার হওয়া মদন মিত্র রাজ্যের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের প্রেসিডেন্সিয়াল সুইটকে ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেলেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুমোদন ছাড়া এই কাজ যে কোনোভাবেই সম্ভব ছিলো না। এদিন মমতা ব্যানার্জির ‘‘টাকা পয়সা হাতে পেয়ে গেলে ইন্ডিভিজুয়াল চোর হয়। দল চোর হয় না।’’ এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে এতদিন মদন মিত্র-র প্রতি এই সখ্য কেন দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী। তখন কেন গ্রেপ্তারির পর মদন মিত্রকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিলেন না? কেনই বা গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে কলকাতায় নিজে উপস্থিত থেকে মিছিল করলেন? রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য,‘‘ সেদিন কেন মুখ্যমন্ত্রীর মনে হলো না, ব্যক্তি চোর হয়, দল চোর হয় না। রাজনৈতিক মহলের মত অবশ্য খুব সচেতনভাবেই এদিন মমতা ব্যানার্জি দলের সঙ্গে ‘চোর’ এর দূরত্ব রক্ষা করার এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। কারণ হিসাবে বর্তমান সময়কেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ বলেই মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। মমতা ব্যানার্জি তাঁর ক্ষমতায় থাকার মেয়াদকাল প্রায় সম্পূর্ণ করে এনেছেন। আর চার, পাঁচ মাসের মধ্যে রাজ্য বিধানসভার ভোট। এখন তাই নিজের সঙ্গে দল ও সরকারের ইমেজ পুনরুদ্ধরার করা খুবই জরুরি। তাই এদিন আমতার সরকারি সভা থেকে মমতা ব্যানার্জিকে বলতে শোনা গেছে, ‘‘আমার কর্মীরা কষ্ট করে চলবে। তারা লাকজুরিয়াস লাইফ লিড করবে না। সংগ্রাম থাকলে তবেই মানুষ, মানুষ তৈরি হয়। টাকা পয়সা হাতে পেয়ে গেলে ইন্ডিভিজুয়াল চোর হয়। দল চোর হয় না। দলের মানুষও চোর হয় না। এটা মাথায় রাখবেন।’’ আসলে প্রশাসনের একটা মহল আবার মনে করেছে, আগামী দু-তিন মাসে সি বি আই আরও সক্রিয় হয়ে চাপ বাড়াতে চলেছে। তার জেরে শাসকদলের বেশ কিছু নেতা সারদা, রোজভ্যালি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়তে চলছে। তাই নিজের ইমেজ ও দল বাঁচাতে আগাম এই সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু চুরির দায় দলের ওপর না পড়ার এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করার পরও নিজেকে ও দলকে সারদা কেলেঙ্কারিতে রক্ষা করা যে খুবই মুশকিল তা মমতা ব্যানার্জির কাছে কোনো অজানা বিষয় নয়। তাঁর হাতে আঁকা ছবি বিক্রি হয়েছে ১কোটি ৮৬লক্ষ টাকায়! ২১টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা চালান হয়েছে শাসকদলের তহবিলে। এসব টাকার উৎস কোথায় তা মমতা ব্যানার্জির অজানা নয়। তাই এদিন চুরির দায় থেকে দলকে রক্ষা করার মরিয়া চেষ্টার পাশাপাশি নিজের ‘সততার প্রতীক’ ইমেজকেও পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। আমতা থেকে মমতা ব্যানার্জি বলেছেন,‘‘...নতুন করে আমার একটা বাড়ি করারও দরকার নেই। আমার গাড়ি করারও দরকার নেই। আমার জমি করারও দরকার নেই। আমি সারা জীবন এইভাবেই চালিয়েছি। কষ্ট করেই চলবো।’’ চার দিন আগে এক সভায় তাঁর স্বভাবসুলভ হুমকির সুর থেকে সরে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন,‘‘আমার পিছনে কেউ যদি সি বি আই লাগায়, লাগাক। জেলে যেতে আমি ভয় পাই না। জেলে নিয়ে গেলে তো ভালোই। জেলে গেলে কয়েকদিন বিশ্রাম পাব।’’ সরকারি সভা হোক বা আমন্ত্রণী বক্তৃতা সি বি আই, চোর, চুরি পিছু ছাড়ছে না মুখ্যমন্ত্রীর।

Ganashakti



No comments: