RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, December 3, 2015

মন্দার প্রবণতা বহাল ******************************************************* চলতি অর্থবর্ষের (২০১৫-১৬) দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সামগ্রিক বৃদ্ধির হার (জি ডি পি) ৭.৪ শতাংশ হওয়ায় রীতিমতো খুশিতে ডগমগ অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তার খুশির প্রধান কারণ বৃদ্ধির হার আগের ত্রৈমাসিকের (এপ্রিল-জুন) তুলনায় বেড়েছে। ছিল ৭ শতাংশ হয়েছে ৭.৪ শতাংশ। সন্দেহ নেই এই সংবাদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও সমালোচনা গঞ্জনা থেকে কিছুটা রেহাই দেবে। আসলে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পর থেকেই মোদী-জেটলিরা নিয়ম করে নিয়মিত আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বিকাশের মৌলিক শর্তগুলি শক্তিশালী হচ্ছে। এবার বিকাশের হার বৃদ্ধির গতি জোরালো হবে। আসলে দেশি-বিদেশি কর্পোরেট মহলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মোদীরা নির্বাচনের আগে থেকেই বলে আসছিলেন বিকাশের হার বৃদ্ধির জন্য জরুরি বড় মাত্রার বিদেশি বিনিয়োগ। ঢালাও বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনীতির পালে হাওয়া লাগবে না। আর বিদেশি বিনিয়োগ পেতে হলেও সংস্কারে গতি বাড়াতে হবে। বিদেশি পুঁজির চাহিদা অনুযায়ী ভারতের বাজার খুলতে হবে এবং বিধিনিষেধ, নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করতে হবে। গত দেড় বছর মোদী সরকার অতি বিশ্বস্ততার সঙ্গে একাজ করে গেছে। দেখা গেছে প্রতিমাসেই প্রায় কোনো না কোনো ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি বৃহৎ পুঁজির মুনাফার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে। বস্তুত এই সমস্ত কারণে এবং মোদী সরকারের সংস্কারমুখি দৃঢ়তার কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি বৃদ্ধির হারে অত্যন্ত আশাবাদী। বিশ্বব্যাঙ্ক, আই এম এফ থেকে শুরু করে রেটিং সংস্থা মুডিজ, ফিচ, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর পর্যন্ত সকলেই উচ্চ বৃদ্ধির হা‍‌রে প্রত্যাশা জাগিয়ে চলেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার ৭.৪ শতাংশ হওয়ায় সরকার যেন সোনায় সোয়াগা পেয়ে গেছে। অবশ্য মনে রাখতে হবে গণনার নতুন পদ্ধতিতে যে বৃদ্ধির হার ৭.৪ শতাংশ, পুরানো পদ্ধতিতে (যা পূর্বতন সরকারের আমলে ব্যবহৃত হতো) গণনা হলে বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৫.২ শতাংশ। গণনা পদ্ধতির এমন বড় আকারের তারতম্যের বিষয়টি এখনো সাধারণ মানুষের ধাতস্থ হয়নি বলে উন্নয়নে বিরাট সাফল্য আসছে বলে মোদী-জেটলিরা মানুষকে বোকা বানাবার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি এটাও লক্ষ্য করতে হবে বৃদ্ধির যে হার নিয়ে এতো বাহাদুরি তার ভিত্তি কি? মূলত পরিষেবা ক্ষেত্রই বৃদ্ধিকে এতটা তুলতে সক্ষম হয়েছে। মোদীর সাধের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র দৌলতে আদৌ শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য নয়, কৃষির হাল তো সবচেয়ে খারাপ। শহরাঞ্চলে ক্রয় মানসিকতা খানিকটা বাড়লেও গ্রামাঞ্চলে কমেছে। শিল্প বিকাশের মূল ভিত্তি বা স্তম্ভ হিসে‍‌বে যে ৮টি ক্ষেত্র বিবেচিত সেই বনিয়াদি ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার অক্টোবরে ছিল মাত্র ৩.২ শতাংশ। একবছর আগে ছিল ৯ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে বৃদ্ধির হার আগের বছরের প্রথম ৭ মাসের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। মনে রাখতে হবে বনিয়াদি ক্ষেত্রে বৃদ্ধির স্থিতিশীলতা না থাকলে সামগ্রিক শিল্প বিকাশের গতি স্থায়ী চেহারা পাবে না। তাছাড়া বনিয়াদি শিল্পে মুনাফার হার উদ্বেগজনকভাবে কমছে। নভেম্বর মাসে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে বৃদ্ধি গত দু’বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এদিকে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিতে না পেরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার কমানোর সাহস দেখায়নি। রপ্তানি বৃদ্ধির হার গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার প্রবণতা বহাল। আমেরিকার বৃদ্ধির হার তলানিতে। বেকারি নিয়ে ইউরোপ নাজেহাল। চীনে বিপুল উৎপাদন ক্ষমতায় কিছুটা শিথিলতা। ভারতেও মোট উৎপাদন ক্ষমতার বেশ কিছুটা অংশ ব্যবহার হচ্ছে না। ব্যাঙ্ক অনাদায়ী ঋণের ভারে ন্যূব্জ। কর্পোরেট সংস্থাগুলিও বিপুল দেনায় ডুবে। বিনিয়োগের অবস্থা কম। একমাত্র সরকারি বিনিয়োগ ভরসা। সেটাও সিন্ধুতে বিন্দু মাত্র। অতএব বেশি আশা না করাই ভালো।

No comments: