RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, December 15, 2015

আঁধারে বাংলা *********************************************************************************************আহারের উৎসবের পর চলচ্চিত্র উৎসব। তারপরেই টেলিসম্মান, যাত্রা উৎসব প্রভৃতি। শুরু হয়েছে গান মেলা। কোথাও বা হচ্ছে মৎস্য উৎসব। আনন্দ উদ্‌যাপনের কোনো ঘাটতি নেই পশ্চিমবঙ্গে। এজন্য সরকারি কোষাগারের কোনো সমস্যা নেই। ঋণের বোঝা নিয়ে কোনও চিন্তা নেই। মুখ্যমন্ত্রী একটি মঞ্চের উৎসব থেকে অন্য উৎসবের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমি খুব গান ভালোবাসি। আমি গাড়িতে যখন লম্বা সফরে যাই, তখন গান না শুনলে আমার যাত্রা সম্পূর্ণ হয় না। আত্মঘাতী কৃষকের গ্রামের পাশের হাইওয়ের ওপর দিয়ে যখন তার কনভয় ছোটে, তখন তিনি কী গান শোনেন জানা নেই। উত্তরবঙ্গে চা বাগানগুলিতে যখন অপুষ্টিতে মারা যান শ্রমিক, তখন তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কী ‍‌ ‍গান শোনেন মুখ্যমন্ত্রী? মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাললাগাগুলি রাজ্যবাসীর পক্ষে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ‘মা মাটি মানুষের’ এই সরকার কৃষক স্বার্থের দিকে ফিরেও তাকায় না। গানে বিভোর মুখ্যমন্ত্রী কী জানেন, কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা‌য় সরকার একেবারেই নেই। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি কয়েকদিনের মধ্যেই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি বর্ধমানের মঙ্গলকোটে মুখ্যমন্ত্রী কৃষকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘অন্য কাউকে ধান দেবেন না। বোনাস দিতে হলে দেবো।’ কিন্তু কোথায় রাজ্য সরকার? ধান কেনার চলতি মরশুমে অর্থাৎ গত আড়াই মাসে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনায় সরকার কার্যত অদৃশ্য। ধান কেনার ২৭২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২৭টিতে ধান কেনাই হয়নি। গোটা রাজ্যে এ পর্যন্ত ২৪১৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনেছে সরকার। তিনটি জেলার একজন কৃষকের কাছ থেকেও ধান কেনেনি সরকার। ৬টি জেলায় মাত্র একজন করে কৃষকের ধান কিনেছে সরকার। সরকারের দিক থেকে কৃষকের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান কেনার উদ্যোগ না থাকায় ফড়েদের কাছেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষককে। রাজ্যে ধানের সহায়কমূল্য কুইন্টাল পিছু ১৪১০ টাকা। এই দামও উৎপাদনের খরচের থেকে কম। সেই দাম না পাওয়ার ফলে কৃষকরা সর্বোচ্চ দাম পাচ্ছেন ১১৫০ টাকা। জেলার ফারাকে সেই দাম দাঁড়াচ্ছে ৮৬০ টাকা। অর্থাৎ অর্ধেকের কিছু বেশি। রাজ্য সরকার কেজি-প্রতি ১৫ পয়সা করে বোনাস ঘোষণা করেছে। বোনাসের এই পরিমাণ কৃষকের কাছেও উৎসাহজনক নয়। কারণ পরিবহণ খরচ করে কৃষককে সরকার নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এসব কিছু থেকেই মুনাফা লুটছে ফড়েরা। কৃষক কোনরকমে হাতে কিছু টাকা নিয়ে তাঁর জীবনধারণে ও ঋণ শোধ করতে ব্যস্ত। কিন্তু ফড়েদের কাছ থেকে পাওয়া দামে ধান বিক্রি করে কৃষকরা জড়িয়ে পড়ছেন ঋণের জালে। তারই পরিণামে আত্মঘাতী হচ্ছেন কৃষক। সেই আত্মহত্যাকে ব্যক্তিগত তথা পারিবারিক বিবাদের ফল বলে অভিহিত করছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে গান শোনার কাজে ব্যস্ত রেখে কৃষকের ঋণের ভারে আত্মহত্যাকে আড়াল করছেন। গ্রামবাংলায় কৃষকরা ফসলের দাম না পাওয়ায় ব্যাপক সংখ্যায় কৃষক আত্মহত্যার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। রাজ্য সরকারের উচিত, অবিলম্বে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী গান মেলাসহ বিভিন্ন আনন্দ-উৎসবে ব্যস্ত। ফলে কৃষিক্ষেত্রে এই সংকট নিয়ে উদাসীন থাকায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শ্রেয়। একইভাবে তিনি উপেক্ষা করছেন উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের। রুগ্‌ণ ও বন্ধ ২৯টি চা বাগানে ৪০ হাজার শ্রমিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই বাগানগুলিতে রেশন নেই, ওষুধ নেই। অনাহার, অপুষ্টি এবং চিকিৎসার অভাবে গত ৯ মাসে আড়াইশোর বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী লোকদেখানো বৈঠক করছেন বন্ধ চা বাগানের মালিকদের সঙ্গে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি। চা বাগানে এই মৃত্যুমিছিল বেড়েই চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী ব্যস্ত আনন্দ-অনুষ্ঠানে, গান মেলায়। মানুষের সঙ্গে এই নিষ্ঠুর রসিকতা করতে পারেন আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই।

No comments: