RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Monday, December 14, 2015

বি জে পি-র চিন্তা ***********************************************************************************************বিহার ভোটে বিপর্যয়ের পর বি জে পি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চিন্তা অনেকটাই বেড়ে গেছে। বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বি জে পি-র অনেক নেতা যেভাবে নর্তন-কুর্দনে মেতে উঠেছিলেন এখন তাঁরা বিমর্ষ, ঝিমিয়ে পড়েছেন। বিহারে নির্বাচনের ফলাফল বি জে পি-র সর্বভারতীয় নেতৃত্বকে এমন ধাক্কা দিয়েছে যে, তাঁরা এখনো গা-ঝাড়া দিয়ে উঠতে পারছেন না। আগামী বছর বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে সেখানে বি জে পি আদৌ সাফল্য পাবে কিনা এখন থেকেই তা নেতাদের ভাবিয়ে তুলেছে। প্রথমে দিল্লিতে হার, তারপর বিহারে শোচনীয় পরাজয় দেখে নেতারা এখন থেকেই সন্দিহান, লোকসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত ৪৩ শতাংশ ভোট বি জে পি ধরে রাখতে পারবে কিনা। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের বি জে পি-র বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি নেতাদের ভাবিয়ে তুলেছে। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে উত্তর প্রদেশ থেকে ৮০টি-র মধ্যে ৭০টি আসন ছিনিয়ে নিয়ে বি জে পি দেশবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। ওই সময় উত্তর প্রদেশে জাতপাতের যে সমীকরণ বি জে পি-র অনুকূলে ছিল এখন তার অনেকটাই বদলে গেছে। কংগ্রেস দল বিহারে বিধানসভা ভোটের পর অনেকটাই ভালো অবস্থায়। উত্তর প্রদেশেও একই রকম ফলাফলের আশাবাদী কংগ্রেস। এই রাজ্যে বিধানসভার আসন সংখ্যা ৪০৩। কংগ্রেস নেতাদের ধারণা এর একটা বড় সংখ্যা এবার বহুজন সমাজ পার্টি (বি এস পি)-র কবজায় যাবে। এই আশায় এখন থেকেই বি এস পি-র সঙ্গে জোট বাধতে কংগ্রেস নেতারা তৎপর হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে বি এস পি-র সতীশচন্দ্র মিশ্র দিল্লিতে কয়েকজন শীর্ষ কংগ্রেস নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বি এস পি নেতাদের ধারণা, রাজ্যে সমাজবাদী পার্টির প্রতি মুসলিম ও দলিতদের সমর্থন যে হারে কমছে, এতে তারাই লাভবান হবেন। কারণ, বিগত নির্বাচনের পর রাজ্যে জাতপাতের সমীকরণ অনেকটাই বদলে গেছে। পিছিয়ে-পড়া বর্গের মানুষরা রাজ্যে ও কেন্দ্রের শাসকদলের দিক থেকে এখনই সরতে শুরু করেছেন। এই অংশের সমর্থন যেদিকে বেশি যাবে তারাই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পারবেন। এই আশায় ভর করে কংগ্রেস বি এস পি-র দ্বারস্থ হয়েছে। কিন্তু গোল বেধেছে বি এস পি সুপ্রিমো মায়াবতীর আচমকা ঘোষণায়। হঠাৎ তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, উত্তর প্রদেশে বি এস পি এবার বিধানসভা ভোটে কোনো দলের সঙ্গেই জোটে যাবে না। একাই লড়বে। তবে, মায়াবতীর মতিগতি এমনটাই যে, ঘন ঘন তিনি অবস্থান বদলাতে দ্বিধা করেন না। সেরকমই কিছু ঘটতে পারে এই আশায় যারা তাঁর দলের সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়ায় যেতে ইচ্ছুক তারা অপেক্ষা করছেন। উত্তর প্রদেশে দলিত ভোট প্রায় ২২ শতাংশ, মুসলিমদের ভোটের হার প্রায় ১৯ শতাংশ। পরিমাণ ভোট এবার বি এস পি-র দিকেই ঝুঁকে আছে। তাছাড়া কংগ্রেস-বি এস পি মিলিতভাবে প্রায় ৩৬ শতাংশ ভোট এখনো ধরে রেখেছে। পরিসংখ্যানের এই চিত্রের উপরই ভর করে বি এস পি-র দি‍‌কে এগুতে চাইছেন কংগ্রেস নেতারা। এতো গেল বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশ। এছাড়া আসাম, পাঞ্জাবেও বি জে পি-র ভবিষ্যৎ চিন্তায়। তবে, আসামে তারা কিছুটা আশাবাদী থাকলেও সেটা নির্ভর করছে কংগ্রেসের জোটের মতিগতির উপর। ইতিমধ্যে কংগ্রেস থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী দল ছেড়ে বি জে পি-তে পাড়ি দিয়েছেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেছেন, দলছুট মন্ত্রীরা ভোটে খুব বেশি বেগ দিতে সক্ষম হবেন না। কংগ্রেস অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এ আই ইউ ডি এফ)-র সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়ায় যেতে চাইছে। ফ্রন্ট আসামের মুসলিমদের এক বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। কংগ্রেস এবং এ আই ইউ ডি এফ-র মিলিত ভোটের শতাংশ হচ্ছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। এই ৪৫ শতাংশ ভোটের এক বড় অংশ যদি বোঝাপড়ায় কংগ্রেস এবং ফ্রন্টের দিকে যায় তাহলে বি জে পি-র আশা বড় ধাক্কা খাবে। এই তো গেল আসামের অবস্থা। পাঞ্জাবে বি জে পি যেভাবে তেড়েফুঁড়ে উঠেছিল এখন তাতে ভাটা পড়েছে। সুতরাং ভোট হলে এসব রাজ্যেও কি বিহারের মতো হাল হবে বি জে পি-র? চিন্তিত নেতারা।

Ganashakti



No comments: