RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, December 1, 2015

শাসক দলের ছত্রছায়ায় অবাধে চরবৃত্তি স্থানীয় পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগের অভিযোগ উঠছে নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা, ৩০শে নভেম্বর — পুলিশ আসে আর পুলিশ যায়। কাজের কাজ কিছুই হয় না। লাগাতার নাশকতার নানা ঘটনা ঘটতে থাকলেও কখনও ‘মাইনরিটি ইস্যু’, কখনও ‘মামুলি ঘটনা’ বলে বিষয়গুলোকে চাপা দিয়ে গেছে বন্দর এলাকার থানাগুলি। সেই জন্যই সিমির সদস্য হারুণ রশিদকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে না কলকাতা পুলিশের এস টি এফ। এখন উত্তরপ্রদেশ এস টি এফ মহম্মদ ইজাজকে গ্রেপ্তার করে সংবাদমাধ্যমে ঢাক ঢোল বাজিয়ে সাংবাদিক বৈঠক না করলে তৃণমূলের নিশ্চিন্ত ছত্রছাত্রায় থাকা ইরশাদদের ধরার ক্ষমতা কলকাতা পুলিশের ছিলো না। এমনটাই মনে করছেন পাহাড়পুরের বাসিন্দারা। কোথায় কে কীভাবে কী কাজ করে চলছে সে সম্পর্কে কোন খবরই রাখে না স্থানীয় থানা। খিদিরপুর ফ্যান্সি মার্কেটে অস্ত্র উদ্ধার কিংবা রামনগর লেনের অদূরে ভারী বিস্ফোরণের ঘটনাকেও সুন্দরভাবে চেপে গেছে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা বিষয়টি নিয়ে সামান্য তদবির করার চেষ্টা করলেও তৃণমূলের বন্দর এলাকার নেতাদের চাপে সব ফাইলই চাপা পড়ে গেছে। এখন একই পরিবারের তিনজন পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থা আই এস আই চর সন্দেহে ধরা পড়ার পর পুরোনো সব কথা মনে করতে চাইছেন এলাকার বাসিন্দারা। রামনগর লেনে বাসিন্দাদের ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে এলাকার তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। পাহাড়পুরের ঘিঞ্জি রামনগর লেন থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে স্থানীয় মসজিদের পুকুরে ২০১২সালের ৮ই আগস্ট মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটেছিলো। কিন্তু ঐ ঘটনাকে স্থানীয় তৃণমূলের নেতারা সামলে দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও কোন সূত্রই নাকি পায়নি। অথচ কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিলো ঐ পুকুরে উগ্রপন্থী সংগঠনদের ব্যবহৃত আইইডি ফাটানো হয়েছিলো। দীর্ঘদিন ধরে গার্ডেনরিচের সশব্দ এলাকায় একের পর এক আইইডি তৈরির কাজ ঘটে চলেছিলো। এখন পুরোনো ঐ সব ঘটনাকে তদন্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন এস টি এফের গোয়েন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা জাফর আলমের খেদোক্তি বিস্ফোরণের ঘটনার পরে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিলে গুপ্তচর বৃত্তির জন্য এলাকার বদনাম হতো না। ইরশাদ আনসারি যে ফ্ল্যাটে থাকতো সেখানে নিয়মিত বহিরাগতদের আসা যাওয়া ছিলো। অনেকে আবার দিনকতক সেখানে থেকে চলে যেত অন্যত্র। ইরশাদ গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সে কাজ করে। সেখানকার সে তৃণমূল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, ছেলে আসফাক আনসারি গার্ডেনরিচ হরিমোহন ঘোষ কলেজের তৃণমূলের ছাত্রনেতা। সব মিলিয়ে তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা থাকায় স্থানীয় লোকজনের কিছু বলার সাহস ছিলো না। সোমবার সকালে এস টি এফের গোয়েন্দারা এলাকায় গেলে স্থানীয় মানুষজন গোয়েন্দাদের নানা তথ্য বলার পাশাপাশি তাঁদের এক হাত নিতেও ছাড়েননি। স্থানীয় থানায় বারেবারে নানা তথ্য দিলেও সেগুলোকে রাজনৈতিক চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে উলটে বলতে আসা মানুষজনকেই শাসিয়ে দিয়েছেন পুলিশ কর্তারা। সবটার পরিণতি এই জায়গায় পৌঁছেছে। এলাকার মানুষ মীরাটে ধৃত মহম্মদ ইজাজ প্রায় দেড় বছর ইরশাদের বাড়িতে থাকতো। তৃণমূলের নেতা হওয়ার সুবাদে সে-ই মহম্মদ ইজাজকে ভোটের কার্ড, প্যান কার্ডসহ ভারতীয় পাশপোর্টও বানিয়ে দিয়েছে। ইরশাদের ক্ষমতা বলেই বন্দর এলাকায় একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত বানিয়েছিলো ইজাজ। কলকাতা পুলিশ তাঁদের কিছু করতে পারবে না তা একপ্রকার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতো ইরশাদ-আসফাক-জাহাঙ্গিররা। কলকাতার বসে এতদিন ধরে গুপ্তচরের কাজকর্ম চালিয়ে গেলেও কলকাতা পুলিশের নজর না আসাটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সবটা জানার পরেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের চাপে মুখ বন্ধ করে রেখেছিলো এস টি এফ। তবে এখন অবশ্য এস টি এফ নিজেদের সাফাই গাইতে শুরু করেছে। এস টি এফ জানাচ্ছে মহম্মদ ইজাজ কলকাতায় আসার আগে থেকেই ইরশাদ নাকি আইএসআই-এর হয়ে কাজ করে যাচ্ছিলো। সোমবার গার্ডেনরিচ থেকে ধৃত ইরশাদ-আসফাক-জাহাঙ্গিরদের কলকাতার নগর দায়রা আদালতে পেশ করে কলকাতা পুলিশের এস টি এফের গোয়েন্দারা। ধৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যুদ্ধ ঘোষণার ষড়যন্ত্রসহ সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মের ইউএপিএ ধারা যুক্ত করা হয়। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আই এস আইয়ের হয়ে কাজ করার অভিযোগ নিয়ে এদিন ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারপতি বিশাল মঙ্গতির এজলাসে পেশ করা হয় ইরশাদদের। সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ মুখার্জি জানান, ধৃতদের কাছ থেকে গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস (খিদিরপুর) ডকের হাতে আঁকা ছবি পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে পাঁচ লক্ষ নকল টাকা। সব কিছু মেলার পর আইনজীবী বিস্তারিত তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের আরো ১৪দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার আবেদন করেন। আদালত তার মঞ্জুরি দেয়। সরকারি আইনজীবী উদ্ধার হওয়া জাল নোট শালবনীতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কারখানায় পাঠিয়ে তা পরীক্ষা করানোর আবেদন জানান। সেটিও আদালত মেনে নিলেও আলাদা করে কোন বাড়তি নির্দেশ দেয়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য ফাঁসের ঘটনা জানাজানি হওয়ায় সোমবার সকাল থেকেই নড়েচড়ে বসেছেন সেনা গোয়েন্দারা। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ‌আই বি এবং এন আই এ যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। সোমবার কয়েক দফায় এন আই এ’র গোয়েন্দারা কথাবার্তা বলছেন কলকাতা পুলিশের এস টি এফের সঙ্গে। উত্তরপ্রদেশের এস টি এফের সঙ্গেও লাগাতার যোগাযোগ রেখে চলেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কথায় শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি নয়, বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের নিরিখেও গার্ডেনরিচ কারখানাটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে খিদিরপুর বন্দরের সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত জানার অর্থ উপকূলীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে আরো চাপ তৈরি। মুম্বাইয়ে হানা হওয়ার পরে ডুবোজাহাজে চেপে কোন বর্হিশত্রুর হানা দেওয়াটা নিয়ে ইতোমধ্যেই সেনা গোয়েন্দারা খুবই উদ্বিগ্ন। এই জন্যই ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী জাহাজ তৈরির উপর ইদানিং সবচেয়ে জোর দিয়েছে নৌসেনা। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা হলো ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী সব যুদ্ধ জাহাজই তৈরি হয়েছে কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের কারখানায়। নৌ সেনা সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান ইদানিং ডুবোজাহাজ তৈরির নতুন কার্যক্রম শুরু করেছে। আর এই পরিস্থিতিতে গার্ডেনরিচে তৈরি হওয়া ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী জাহাজগুলির নকশা আর তাতে থাকা অস্ত্রের খুঁটিনাটি পাকিস্তানে চলে যাওয়ার অর্থ জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান আরো শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকল্পনা করতে পারে। গার্ডেনরিচের ভিতরের সেই সব ছবি বা নকশার তাই আন্তর্জাতিক মহলে বেশ দাম ছিলো বলে মনে করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের মতো সংস্থায় পাকাপাকিভাবে চাকরি করার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনটি জোরালোভাবে করাই নিয়ম। প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে পাঠাতেও হয় সেসব তথ্য। ঠিকাদার সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রে ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড ও ঠিকানার পুলিশ ভেরিফিকেশন করে অস্থায়ী পাস দেওয়া হয়। কিন্তু ইরশাদ শাসক দলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি’র নেতা হওয়ার জন্য নিজের ক্ষমতাবলে অনেক সময়ই বাইরের লোকজনকে ‘ডেইলি পাস’ বানিয়ে দিয়ে ঢুকিয়ে নিতো। তবে এটাও ঠিক ভোটার কার্ড কিংবা আধার কার্ড দেখে গোয়েন্দা নজরদারি সম্ভবপর নয়। কিন্তু ইরশাদ আনসারির শাসক শ্রমিক সংগঠনের নেতা হওয়ার জেরে তার ওপর কারো কথা বলারই ছিলো না। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থা। শাসক দল ও স্থানীয় পুলিশ অফিসারের দহরম-মহরমের জেরেই ইরশাদ আনসারি ছিলো বন্দরে অপ্রতিরোধ্য এখন ঠেকে স্বীকার করছে এস টি এফ। কেন এমনটা হলো তার কারণ দর্শাতে সোমবার গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল অনিলকুমার বর্মাকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা দপ্তর। তা নিয়ে সোমবার জোরতালে তদন্তও শুরু হয়েছে। সোমবার সেখানে মোতায়েন হয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সিআইএসএফ জওয়ান। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এন আই এ কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে ইরশাদদের কেসটি নেওয়ার তোড়জোর শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশ ও বিহার পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করার একাধিক প্রমাণ মেলায় এন আই এ এই পথে যাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ এস টি এফ ইতিমধ্যেই এন আই এ’কে সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কলকাতা পুলিশের এস টি এফ এখনও সে অর্থে উৎসাহ দেখায়নি। শাসক দলের নেতাদের নাম পাছে জুড়ে গিয়ে বিপত্তি ঘটে তাই কলকাতার এস টি এফ সোমবার বিকাল পর্যন্ত এন আই এ নিয়ে কোন মন্তব্যের পথে হাঁটেনি।

Ganashakti



No comments: