RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Monday, November 30, 2015

TOTAL DESTRUCTION OF INDUSTRY IN WEST BENGAL BY MAMATA BANERJEE **************************************************কলকাতা, ২৮শে নভেম্বর — এভাবেও পিছিয়ে পড়া যায়, জানাচ্ছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। পশ্চিমবঙ্গে ২০১৪-র এপ্রিল থেকে ২০১৫-র মার্চ — এই এক বছরে রুগ্‌ ণ হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থা। আর মমতা ব্যানার্জির মুখ্যমন্ত্রিত্বের চার বছরে রাজ্যে ৩০ হাজারের বেশি ছোট, ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প রুগ্‌ণ হয়েছে। রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে এই খবর জানা গেছে। এই প্রবল অধোগতির প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পই ছিল রাজ্যের মানুষের কাজের সুযোগের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে রাজ্যে রুগ্‌ণ শিল্প সংস্থার সংখ্যা নিয়ে নানা প্রচার করতেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন সংখ্যা তাঁরা বলতেন। কিন্তু তাঁদের সরকারের মেয়াদপূর্তির আগে রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করতে গিয়ে বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালের রুগ্ ণ ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থা সম্পর্কেও এক আশ্চর্য তথ্য ‘আবিষ্কার’ করেছে প্রশাসন। রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-র মার্চ থেকে ২০১১-র মার্চের মধ্যে রাজ্যের রুগ ণ ছোট এবং ক্ষুদ্র শিল্পে এক বিপুল উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছিল। এই প্রসঙ্গে তথ্য জানাতে গিয়ে ওই দপ্তরের এক অফিসার জানিয়েছেন,‘‘আমরা দেখছি ২০০৯-র মার্চের শেষে রাজ্যে রুগ্ন ছোট এবং ক্ষুদ্র শিল্প ছিল ২১হাজার ৪১৬টি। ২০১১-র মার্চে তা দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৭৯০৪-এ। ওই সময়ে রুগ্ন মাঝারি শিল্প সংস্থা ছিল ৪১৬টি।’’ অর্থাৎ মমতা ব্যানার্জির সরকারি তথ্য মোতাবেক — ২০০৬-০৭ পরবর্তী সময়ে বড় শিল্পের সম্ভাবনাকে ভিত্তি করে রাজ্যের মাঝারি, ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পে যে প্রাণ সঞ্চার হয়েছিল, মমতা ব্যানার্জির মুখ্যমন্ত্রিত্বে সেই রেখচিত্র ঠিক উলটোদিকে দৌড়েছে আশঙ্কাজনক গতিতে। এই শিল্পগুলি সংক্রান্ত দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকে শনিবার এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি দপ্তরের হাল নিয়ে পুস্তিকা প্রকাশ করবেন মমতা ব্যানার্জি। সরকারি খরচে প্রকাশিত পুস্তিকাগুলি মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা আছে। শুধু তাই নয়, ২০১৬-তেও আর একটি প্রশাসনিক ক্যালেন্ডার প্রকাশের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেও পরিসংখ্যান সংগ্রহের কাজ করছে রাজ্যের তথ্য ও পরিসংখ্যান দপ্তর। সব দপ্তরের রিপোর্ট এখনও জমা পড়েনি। তবে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি দপ্তরের মত কিছু দপ্তর তাদের রিপোর্ট পাঠিয়েছে। সেই রিপোর্টে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার সূত্রও উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। আর সেই তথ্য সংবলিত রিপোর্টের ভিত্তিতেই স্পষ্ট — রাজ্যে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের দুরবস্থা চরমে। এই ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে মূল বাধা বলে উল্লেখ করছেন ওই দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁদের মতে, বড় শিল্পের অভাবে ছোট, মাঝারি শিল্পের বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশই রাজ্যে নেই। দ্বিতীয়ত, ছোট, মাঝারি শিল্পের জন্য বিভিন্ন পার্কসহ যে পরিকাঠামো গড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাজ্য সরকার দিয়েছিল তার বেশিরভাগই হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিও পশ্চিমবঙ্গের ছোট, মাঝারি উদ্যোগপতিদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কারণ ‘টাকা জলে যাওয়ার’ ভয়ে। রাজ্যের স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটির সদস্য, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শীর্ষ পদাধিকারী শনিবার জানিয়েছেন,‘‘২০১৫-র মার্চে রুগ্‌ণ ওই ধরনের সংস্থাগুলির কাছে বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮১৪ কোটি ৩৩লক্ষ টাকা। ২০১৩-র মার্চে তা ছিল ১৬৩২ কোটি টাকার মতো। কী হারে সংস্থা রুগ্ন হচ্ছে, আর আমাদের আউটস্ট্যান্ডিংয়ের পরিমাণ কী ভাবে বাড়ছে, তা বুঝতে পারছেন?’’ সম্মিলিত সঙ্কটে মুখ থুবড়ে পড়ছে রাজ্যের দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্রটি। প্রসঙ্গত, গত সাড়ে চার বছরে রাজ্যে কোনও বড় শিল্প হয়নি। গত দু’ বছর ধরে মমতা ব্যানার্জিও শিল্প নিয়ে নিজের প্রচার কৌশল বদলেছেন। ইদানীং তিনি বারবার বলছেন যে, তাঁর সরকার ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে জোর দিয়েছে। কিন্তু সেই কাজে গতির বদলে প্রবল অধোগতি এসেছে। ২০১১-র মার্চের শেষে রাজ্যে রুগ্ন ছোট, ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প সংস্থার সংখ্যা ছিল ৮৩৬৫। এর মধ্যে মাঝারি সংস্থা ছিল ৪৬১টি। ২০১৫-র মার্চের শেষে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮হাজার ৮৩৫টি। গত তিন বছরে এই শিল্পের রুগ্‌ণতা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। ২০১৩-র মার্চের শেষে রাজ্যে রুগ্ন শিল্পের সংখ্যা ছিল ১১হাজার ৫১৭। ২০১৪-র মার্চের শেষে তা দাঁড়িয়েছিল ২৩হাজার ৬২টিতে।

No comments: