RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Saturday, November 28, 2015

RAPE AT KATWA - বর্ধমান, ২৭শে নভেম্বর- ভরা এজলাসে বিচারকের রায়ের প্রথম লাইন শুনেই উল্লসিত হয়ে হাত ছুঁড়তে শুরু করে দিলেন কাটোয়া ধর্ষণকাণ্ডে এক অভিযুক্ত। হতবাক, নিস্তব্ধ গোটা আদালত কক্ষ। বিচারকের রায় তখনও সম্পূর্ণ হয়নি। কিন্তু তার আগেই যেভাবে এক অভিযুক্ত উল্লাস করতে শুরু করলেন, সেই দৃশ্যই যেন মুহূর্তে আজকের পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা, নির্যাতিতার অসহায়তার এক নিদারুণ বিজ্ঞাপন হয়ে উঠলো। নির্যাতিতা মহিলা নিজে বয়ান দিয়েছেন, প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে থাকা তাঁর একমাত্র কন্যাও সাক্ষীর বয়ান দিয়েছিলেন। তারপরেও ‘উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে’ কাটোয়ায় ট্রেনে ধর্ষণকাণ্ডে শুক্রবার ৫জন আসামি বেকসুর খালাস পেয়ে গেলো। নির্যাতিতা টি আই প্যারেডে আসামিদের চিনিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও কীভাবে অভিযুক্তরা বেকসুর মুক্তি পেয়ে গেলো তা নিয়ে আদালত চত্বরেই ক্ষোভ তৈরি হলেও তাতে বিস্মিত নন অনেকেই। কেননা এদিন বর্ধমানে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারক আনুষ্ঠানিকভাবে রায় দিলেও এই মামলার ‘বিচার’ হয়ে গিয়েছিল তিন বছর আগে ২৮শে ফেব্রুয়ারিতেই। পার্কস্ট্রিট কাণ্ডের পরে তখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল এই কাটোয়া ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে। ঘটনার মাত্র ৭২ঘণ্টার মাথায় মহাকরণে দাঁড়িয়েই ধর্ষিতা মহিলার অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীবলেছিলেন, ‘ জেনে রাখুন মেডিক্যাল টেস্টে কিছু পাওয়া যায়নি।...শুনে রাখুন ঐ মহিলাই বলেছে যে আমার স্বামী সি পি এমের সমর্থক। এটা প্ল্যান করে সি পি এম সাজাচ্ছে’। চলন্ত ট্রেনে নিজের মেয়ের সামনে এক মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনার পরে যেভাবে দুষ্কৃতীদের পাশে অবলীলায় দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেদিনই যেন কাটোয়াকাণ্ডের ‘রায়’ ঠিক হয়ে গিয়েছিল! স্বামী সি পি আই(এম) করলে স্ত্রী যদি ধর্ষিতা হন তাহলে কী তা কোন অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না এরাজ্যে, এই প্রশ্ন ওঠার আগেই ঐ নির্যাতিত মহিলাই জানিয়েছিলেন, ‘আমার স্বামী ১১ বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন, তখন মেয়ের বয়স ছিল ১৪ দিন’। অভিযোগকারিণীর পাশে দাঁড়িয়ে দলনেত্রীর মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করায় চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই পদ খোয়াতে হয়েছিল কেতুগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের তৎকালীন তৃণমূল সভাপতি বিকাশ মজুমদারকে৷ সরকার, প্রশাসনিক প্রধানের এই মনোভাবই যে এরাজ্যের আইনশৃঙ্খলার আসল বিপদ তা উল্লেখ করেই এদিন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, কাটোয়ায় অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়ে গেছে। কারণ পুলিশ প্রশাসন কোন তদন্তই করছে না। দোষীরা কোথাও শাস্তি পাচ্ছে না। কারণ মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীরা ছোট ঘটনা , সাজানো ঘটনা বলে আগাম মন্তব্য করে দিচ্ছে, তারপরে পুলিশ আর কী তদন্ত করবে। পার্কস্ট্রিট কাণ্ডেও আমরা তা দেখেছি। মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা। গোটা ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্য মিশ্র বলেন, ‘কাটোয়াকাণ্ডে সব অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়ে গেলো তথ্য প্রমাণের অভাবে!এই ঘটনাকেই তো মুখ্যমন্ত্রী সাজানো ঘটনা বলেছিলেন, তাহলে তো বোঝাই গেলো কীভাবে এসব হয়’। আর একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে প্রতিদিনকার বেঁচে থাকার লড়াই লড়তে থাকা কেতুগ্রামের অম্বগ্রামের সেই নির্যাতিতা মহিলা কী বললেন? এদিন বিকালে বর্ধমান আদালতের রায় শোনার কার্যত ভেঙে পড়েছেন তিনি। শুধু বললেন, ‘ কী আর বলতে পারি? নিজের সম্মান কেউ বিক্রি করতে চায়, কেউ এভাবে নিজেকে ধর্ষিতা সাজাতে পারে এমনি এমনি? মুখ্যমন্ত্রী তো মহিলা, উনিও বুঝলেন না এক মহিলার যন্ত্রণা’। তারপরেই কিছুটা ভয়ের সুরেই জানালেন, ‘আমি আমার মেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি গ্রামে, ঘর থেকে এখন বাইরে বেরোতে ভয় লাগছে, সবাই তো ছাড়া পেয়ে গেলো,আমার মেয়েটার জন্যই এখন আরও দুশ্চিন্তা হচ্ছে’। ২০১২সালে ২৫শে ফেব্রুয়ারি কাটোয়া – আমোদপুর ছোটলাইনে অম্বলগ্রাম ও পাঁচুন্দির মাঝে ট্রেন থামিয়ে ডাকাতি ও এক মহিলাকে তাঁর ১১বছরের মেয়ের সামনে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে দুষ্কৃতীরা। ডাকাতি সেরে চলন্ত ট্রেনেই মা-কে যখন ধরে নিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীদল সেই মুহূর্তে চিৎকার করে উঠেছিল ১২বছরের বাণী। সাথে সাথে দুষ্কৃতীরা তাঁর কপালে রিভলবভার ঠেকিয়ে হুমকি দিয়েছিল আওয়াজ করলেই মেরে ফেলবো। সেই রাতে বাণীর সামনেই তাঁর মায়ের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায় দুষ্কৃতীরা। তাঁদের কয়েকজনের মুখে কাপড় ঢাকা থাকলেও দু-একজনের মুখ খোলা ছিল। সেই হিংস্র মুখগুলোর কথা মনে পড়লেই ভয়ে, আতঙ্কে এখনও কেঁপে উঠছে বাণী। অথচ ‘উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে’ এদিন কাটোয়ায় ট্রেনে ধর্ষণকাণ্ডে ৫জন আসামি বেকসুর খালাস পেয়ে গেলো। নির্যাতিতা টি আই প্যারেডে আসামিদের চিনিয়ে দেওয়ার পরেও, নির্যাতিতার উপর ধর্ষণের ঘটনা ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণের পরও কীভাবে তথ্য প্রমাণের অভাব ঘটলো, গুরুতর প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা। পুলিশ প্রথমে মামলাতে দলবদ্ধ ধর্ষণের ধারা যুক্ত করলেও, টি আই প্যারেড নির্যাতিত অভিযুক্তদের চিনিয়ে দিলেও, নির্যাতিতা ও তাঁর মেয়ে বয়ান দিলেও শেষমেশ বিচার চলাকালীন পুলিশ নাকি প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ জমা দিতে পারলো না। সরকারি আইনজীবীও নাকি প্রয়োজনীয় সওয়াল করতে পারলেন না। বর্ধমান আদালতের একাংশের আইনজীবীদের অভিযোগ, সরকারের প্রধান যদি সাজানো ঘটনা বলে তাহলে আর সরকারি আইনজীবী কী করে সওয়াল করবেন। এই রায়ের পরেই তাই নাটকীয়ভাবে তথ্য প্রমাণ হাজির করতে না পারার ‘ব্যর্থতা’ মাথায় নিয়ে সরকারি আইনজীবীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কাঞ্চন মুখার্জি। পুলিশি ব্যর্থতাতেই অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে গেলেও পুলিশের তরফে নিম্ন আদালতে রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কোন কথা এদিন রাত পর্যন্ত জানা যায়নি। ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় আদালত ভাবে জি আর পি’র তরফে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কেতুগ্রাম দুটি মামলাকে একত্রিত করে তদন্ত চালায়। জি আর নং ৩৮/১২। চার্জশিট জমা পড়ে। তাতে ডাকাতির পাশাপাশি দলবদ্ধ ধর্ষণের ধারা যুক্ত করা হয়। রেজাউল মির্জা, নয়ন সেখ, ফরিদ সেখ, স্বপন সেখ, কালেম সেখ, নূর মহম্মদ, সেন্টু সেখ ও কায়েত সেখ সহ ৮জনকে অভিযুক্ত করা হয়। যদিও তিন বছর কেটে গেলেও পুলিস অন্যতম অভিযুক্ত কায়েত সেখকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ৮জনের মধ্যে সাতজন গ্রেপ্তার হয়। তার মধ্যে দুজন (ফরিদ ও কালেম শেখ) জামিনে থাকার সময় পথ দুর্ঘটনায় মারা যায়। বাকি পাঁচজনের মধ্যে শেষপর্যন্ত চারজন জেলে ছিল, একজন জামিনে মুক্ত ছিল। মোট ৩৯জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয় মামলায়। এদিন কাটোয়ার ফাস্ট ট্রাক কোর্টে ভিড়ে ঠাসা এজলাসে বিচারক কাজী আব্দুল হাসেম এই কেসের রায় দিতে গিয়ে প্রথমেই বলেন উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের অভাবে সবাই বেকসুর খালাস। এরপরেই এক অভিযুক্ত আদালত কক্ষেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। তাতে মৃদু ভর্ৎসনাও করেন বিচারক। পরে রায়ের সম্পূর্ণ বয়ান পাঠ করে বলেন পুলিস ও সরকারি আইনজীবী উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেনি। রেল ডাকাতি ও ধর্ষণ হয়েছে ঠিকই কিন্তু তাতে এই ব্যক্তিরাই যুক্ত সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি সরকারি আইনজীবী। এরাজ্যের বুকে ধর্ষনের ঘটনায় এভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সাফাই কিংবা অভিযুক্তদের পক্ষে দাঁড়ানোর ঘটনা যদিও সেই কাটোয়াকাণ্ডেই থেমে নেই।পার্কস্ট্রিটের ঘটনাতেও মুখ্যমন্ত্রী বেমালুম বলেছিলেন ‘সাজানো ঘটনা’, তা মিথ্যা প্রমাণ করায় শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল তৎকালীন গোয়েন্দাপ্রধান দময়ন্তী সেনকে। তৃণমূলী সাংসদ অর্পিতা ঘোষের নিদান ছিল, এটা পারসেপশনের সমস্যা। আরেক তৃণমূলী মহিলা সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার পার্কস্ট্রিট কাণ্ডকে গ্রাহকের সঙ্গে মহিলার বচসা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। -------------------------------- আদালত কক্ষেই উচ্ছ্বাস অভিযুক্তের -------------------------------------------------- নাটকীয়ভাবে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা সরকারি আইনজীবীর ----------------------------------------------------------- তিনবছর আগে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যেই লেখা হয়ে গিয়েছিল কাটোয়া কাণ্ডের পরিণতি --------------------------------------- অভিযুক্তরা ছাড়া পাওয়ায় আতঙ্কিত নির্যাতিত, ‘মুখমন্ত্রী মহিলা হয়েও বোঝেন না মহিলার যন্ত্রণা’আক্ষেপ নির্যাতিতার

Ganashakti



No comments: