RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, November 27, 2015

‘এগিয়ে বাংলা’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেলুলয়েডের জগতে থাকতেই বেশি ভালোবাসেন। বাস্তবের মাটিতে তিনি পা দিতে চান না। পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি ঘটানোর কাজে তাঁর ভরসা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, শিলান্যাস অনুষ্ঠান এবং সর্বশেষে টিভি। রিয়ালিটি শো। রাজ্যের শিল্পায়নের স্বার্থে সরকারি খরচে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শুরু করতে চলেছে একটি রিয়ালিটি শো, ‘এগিয়ে বাংলা’। আগামী ৬ই ডিসেম্বর থেকে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে এই শো-টি শুরু হবে। এই টিভি শো-র প্রধান সঞ্চালক বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলি। বেশ কয়েক বছর হলো, টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে রিয়ালিটি শো শুরু হয়েছে। এই সব শোয়ের আকর্ষণের অন্যতম কারণ সেলিব্রিটি সঞ্চালক। সেই সঙ্গে সাধারণ দর্শক এবং সেলিব্রিটিদের অংশগ্রহণ। এই ধরনের শো-য়ে কোথাও প্রতিভার অন্বেষণ হয়। কোথাও বা সাধারণ জ্ঞান, ঘরোয়া খেলা, বুদ্ধির পরীক্ষা। দামি দামি পুরস্কার, এমনকি কোটি টাকাও পান বিজয়ী অংশগ্রহণকারী। সাধারণত বিজ্ঞাপন ও বিনোদনের জন্যই এই ধরনের রিয়ালিটি শো-য়ের আয়োজন করে টিভি চ্যানেলগুলি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে আগ্রহী উদ্যোগপতিদের উৎসাহ দেওয়ার জন্যই নাকি এই নতুন শো। নামে রিয়ালিটি শো হলেও আসলে সাজানো গোছানো একটি নকল পরিবেশনা। মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন, এই শোয়ের মধ্য দিয়ে আগ্রহী উদ্যোগপতিদের সাহায্য করতে। সাধারণভাবে একজন শিল্পোদ্যোগীর জমি, বিদ্যুৎ, জল, সড়ক প্রভৃতি পরিকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়। সরকারের দিক থেকে এসব সহযোগিতার পর ব্যবসার সাফল্য নির্ভর করে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদার ওপর। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি বড় শিল্পের বরাতের ওপর নির্ভর করে। রাজ্যে বড় শিল্প সংস্থা ছাড়া ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলির বিকাশ ঘটাতে পারবে না। গত সাড়ে চার বছরে একটিও বড় শিল্প তৈরি হয়নি এরাজ্যে। অত্যন্ত দক্ষ টিভি সঞ্চালক হিসেবে সৌরভ গাঙ্গুলি সরকারের প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত সুন্দরভাবে অংশগ্রহণকারীদের বুঝিয়ে দেবেন। ফলে ঐ শো-য়ের অংশগ্রহণকারী এবং দর্শকদের কাছে ‘এগিয়ে বাংলা’ খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সৌরভ গাঙ্গুলি জমি, জল, বিদ্যুৎ বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র, আর্থিক অনুদান, কর ছাড় কিছুই দিতে পারবেন না। দেওয়ার কথাও নয়। সঞ্চালকের কাছে ‘দাদাগিরি’-র মতো এটিও আরেকটি শো মাত্র। আজকের পশ্চিমবঙ্গে শিল্পস্থাপনের বড় বাধা শাসকদলের তোলাবাজি। এই রিয়ালিটি কি কেউ অস্বীকার করতে পারবেন? তোলাবাজি ঠেকানোর কোনও পথ কি বাতলানো সম্ভব হবে এই রিয়ালিটি শো-য়ের মাধ্যমে। এ শো-য়ের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা হয়তো আগ্রহী উদ্যোগপতিদের সুপরামর্শ দিতে পারবেন। কিন্তু টিভি স্টুডিও থেকে বেরোনর পর কি সেই পরামর্শকে বাস্তবায়িত করার কোনও পথ জানা থাকবে? শিল্পায়নের জন্য যে পূর্ণাঙ্গ নীতির প্রয়োজন হয় তা নেই তৃণমূল রাজত্বে। বরং তুঘলকি কায়দায় মুখ্যমন্ত্রী বদলে দেন জমিনীতি। বাংলার অনেক যুবকই হয়তো সরকারি সহযোগিতার আশায় বুক বেধে এই রিয়ালিটি শোয়ে নিজের নাম নথিভুক্ত করছেন। কিন্তু বাস্তবের পশ্চিমবঙ্গে কি সেই স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনা আছে? কেননা বাংলা যেসব ক্ষেত্রে এগিয়ে সেগুলি শিল্পায়নের পরিপন্থী। পশ্চিমবঙ্গ এখন এগিয়ে নারী লাঞ্ছনাসহ সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে। পুলিশ প্রশাসনকে দলদাসে পরিণত করার ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে বাংলা। গ্রামবাংলার কৃষি সংকট ও কৃষক আত্মহত্যায় এগিয়ে গেছে বাংলা। চা বাগান বন্ধ এবং শ্রমিকদের অনাহারে মৃত্যুতে এগিয়ে বাংলা। কলকারখানা বন্ধেও এগিয়ে রয়েছে বাংলা। বেকারি, শিক্ষা ক্ষেত্রে অরাজকতায় এগিয়ে রয়েছে বাংলা। এই বাস্তবকে অস্বীকার করে কোনো রিয়ালিটি শো কি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ গ‍‌ড়ে তুলতে পারে? তেলেভাজা ছাড়া আর কোনও শিল্পে তা সম্ভব বলে মনে হয় না। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই পছন্দের রিয়ালিটি শো-তে সরকারি অর্থের নয়ছয় হবে। তার বেশি কিছু নয়।

No comments: