RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Saturday, June 6, 2015

WEST BENGAL - কাজ করে বকেয়া টাকা চাইতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন গ্রামের গরিব মানুষ। নেপালের ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মানুষের জন্য অর্থ সাহায্যকেও রেহাই দিচ্ছে না শাসকদলের দুষ্কৃতীরা। বোমা-বন্দুক নিয়ে গ্রাম দখলে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন মহিলা ও শিশুরা। বৃহস্পতিবার বিধানসভার শুরুতেই ‘পয়েন্ট অব ইনফরমেশন’ এনে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছিলেন বামফ্রন্ট বিধায়করা। সভার অধ্যক্ষের কাছে ঘটনা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না হলেও পরিষদীয় মন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেছিলেন বামফ্রন্ট বিধায়করা। কিন্তু সেই দাবিতে কর্ণপাত করেননি অধ্যক্ষ। আসলে শুক্রবারই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রদপ্তরের বাজেট নিয়ে বিধানসভায় বিতর্ক হওয়ার কথা। তার একদিন আগেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরকার বিব্রত হোক তা চাননি সরকার পক্ষ। তাই এদিন বোমা-বন্দুক নিয়ে গ্রাম দখল থেকে ন্যায্য দাবি নিয়ে মিছিল করতে গিয়ে রক্তাক্ত কৃষকসভার কর্মী কোনোও বিষয়ই অধিবেশনে আলোচনার সুযোগ পায়নি। বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন রাজ্যজুড়ে শাসকদলের এমন তাণ্ডব আলোচনা না হওয়ায় ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বামফ্রন্ট বিধায়করা। হাউসের মধ্যে বিক্ষোভ চলাকালীন অধ্যক্ষের আসনের কাছে গিয়ে ফের একবার বামফ্রন্ট বিধায়কদের এক মিনিটের জন্য সময় দাবি করে কেবলমাত্র বিষয়টিকে উত্থাপনের দাবি জানান। কিন্তু অধ্যক্ষের কাছ থেকে দাবি নাকচ হয়ে যাওয়ায় বিক্ষোভরত অবস্থাতেই বামফ্রন্ট বিধায়করা কক্ষত্যাগ করেন। এদিন নির্ধারিত সময় সকাল ১১টায় অধিবেশন কক্ষে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবেশ করামাত্রই বামফ্রন্ট বিধায়ক নাজমূল হক অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু নিজের আসনে বসে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সভার কাজ শুরু করে দেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে বামফ্রন্ট বিধায়ক আসন ছেড়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে সাংবাদিকদের কাছে নাজমূল হক বলেন, রাজ্যের মানুষের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মা বোনেদের সুরক্ষা সবাই আজ বিপন্ন। নারায়ণগড়ে কৃষকরা মিছিল করে কাকে ধান বিক্রি করবে জানতে চেয়ে পঞ্চায়েতদপ্তরে যাচ্ছিল। রাস্তাতেই আক্রান্ত হতে হয়েছে তাঁদের। নেপালের ভূমিকম্প পীড়িত মানুষের জন্য অর্থসংগ্রহ করছিলেন বামপন্থীরা। দুর্গাপুরে তাঁদের ওপরও অযথা আক্রমণ করে টাকা পয়সা কেড়ে নেওয়া হলো। আর বীরভূমের পাড়ুই থানা এলাকায় গত দু দিন ধরে গ্রাম দখল করতে গিয়ে যা ঘটেছে তা তো দেখাই যাচ্ছে। আমরা এদিন তাই অধিবেশনের শুরুতে মাত্র ১মিনিট সময় চেয়েছিলাম। পুলিশমন্ত্রী বা পরিষদীয়মন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছিলাম। কিন্তু অধ্যক্ষ আমাদের সেই অনুমতি দিলেন না।’’ অথচ নারায়ণগড় রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানকারই পাকুরসনি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গতকাল ১০০দিনের কাজের বকেয়া টাকা, সহায়ক মূল্যে ধান কেনার দাবি নিয়ে কৃষকসভার নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিলের ওপর হামলা চালায় তৃণমূলীরা। হামলায় কৃষকসভার নেতা মদন বসুর মাথায় পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে। আদিবাসী কৃষক খাঁদু সিং-এর নাকে এমনই ক্ষত তৈরি হয়েছে রক্ত বন্ধ হচ্ছে না। তিন জন আক্রান্তের সি টি স্ক্যান করতে হয়েছে। গতকালই ৯জন জখম মেদিনীপুর হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। আক্রান্ত কৃষকসভার নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধেই এখন জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা শুরু করেছে নারায়ণগড় থানার পুলিশ। এদিন বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের কাছে বামফ্রন্ট বিধায়করা বলছিলেন,‘‘একটা সরকার মাত্র ৪বছর ক্ষমতায় এসেছে। তারমধ্যেই গ্রাম হয়ে উঠেছে রণক্ষেত্র। বীরভূমের সাত্তোর গ্রামে যা ঘটছে দেখে মনে হচ্ছে ইরাক, আফিগানিস্থানের কোনো ঘটনা। আমরা শান্তি চাই। স্থিতিশীলতা চাইছি।’’ এদিন বিধানসভার ভিতরে বামফ্রন্ট বিধায়কদের ‘পয়েন্ট অব ইনফরমেশন’ তুলতে না দিলেও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বেআব্রু চেহারা এদিন অধিবেশনেই ফাঁস করে দেন বামফ্রন্ট বিধায়করা। উল্লেখ পর্বেই যেমন সি পি আই (এম)-র বিধায়ক শাজাহান চৌধুরী নারায়ণগড়ের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন,পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে ১০০দিনের কাজের বকেয়া পাওনা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা পাওনার দাবি নিয়ে মিছিল করার সময় তৃণমূলনেতা গুরুপদ বেরার নেতৃত্বে সশস্ত্রবাহিনী হামলা চালায়। অবিলম্বে গুরুপদ বেরাসহ বাকি দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’’ নারায়ণগড়ের কৃষকসভার মিছিলের ওপর হামলার ঘটনা বিধানসভায় উল্লেখ করেন বিধায়ক বিরাম মান্ডিও। বীরভূমের সাত্তোর গ্রামসহ রাজ্যজুড়ে শাসকদলের সন্ত্রাসে পুলিশ নিষ্ক্রিয়তার কথা বলে অবিলম্বে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি তোলেন বিধায়ক অশোক রায়। রানাঘাট, জীবনতলা, মুরারই, গলসীর দয়ালপুর গ্রামে মহিলাদের ওপর নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন বিধায়ক জাহানারা খান।উল্লেখ পর্বে এরাজ্যে আইনের শাসন কীভাবে ভেঙে পড়ছে তা জানাতে গিয়ে ফের সি পি আই (এম)র বিধায়ক রামেশ্বর দলুই উল্লেখ করেন সাত্তোর, নারায়ণগড়ের ঘটনা। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ অবস্থার কথা উল্লেখ করেন সুন্দরবনের দ্বীপাঞ্চলের বিধায়ক নিরাপদ সরদারও। উল্লেখ পর্ব, দৃষ্টি আকর্ষণী থেকে জিরো আওয়ার যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই বামফ্রন্ট বিধায়কদের মুখ থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা শুনতে শুনতে একসময় সভার অধ্যক্ষ বলে ওঠেন, এক বিষয় নিয়ে বারবার বললে আপনাদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না। বামফ্রন্ট বিধায়ক বাসুদেব মেটে ও বিরাম মাণ্ডির মাইক পর্যন্ত বন্ধ করে দেন। অধ্যক্ষের এই বক্তব্য শুনে সভার মধ্যে বিরোধী বিধায়করা চিৎকার শুরু করেন। চিৎকারের মধ্যেই সি পি আই (এম)-র বিধায়ক আমজাদ হোসেনকে বলতে শোনা যায়,‘‘স্যার গোটা রাজ্যে কোথাও আইন শৃঙ্খলা নেই। তাই তো স্যার সবাই ল অ্যান্ড অর্ডার নিয়ে বলবেই।’’

No comments: