RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, June 24, 2015

TEACHER RECRUITMENT IN WEST BENGAL - শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছ পরীক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ বাঁকুড়ায় ************************বাঁকুড়া, ২৩শে জুন— দিনের পর দিন শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে স্কুলগুলিতে স্বাভাবিক পঠনপাঠন মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিদিন বাইরে বাড়ছে বিপুল সংখ্যক বেকার বাহিনী। নীরব, স্থবির সরকার। সরকারকে এই নির্লিপ্ত আচরণ ছেড়ে বেরিয়ে আসতেই হবে। যোগ্যতা আর স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের অবিলম্বে শিক্ষক-শিক্ষিকার পদে নিয়োগ করতে হবে। সর্বোপরি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজ্যের শাসকদলের দলবাজির ধারাবাহিক অভ্যাস ছাড়তে হবে। দাবি উঠলো শিক্ষক-ছাত্র-যুবকদের মিলিত বিক্ষোভ থেকে। মঙ্গলবার বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া থেকে সহস্রাধিক শিক্ষক, শিক্ষিকা, যুব, ছাত্র, সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ বাঁকুড়ায় এসে এস এস সি-র পশ্চিমাঞ্চল কার্যালয়ে অবস্থান করেন ও ডেপুটেশন দেন। বৃষ্টির মধ্যেই বিশাল মিছিল হয় বাঁকুড়ায়। এদিন পুলিশ আন্দোলনকারীদের আটকে রাখতে পারেনি। দিনের পর দিন বেকারত্বের জ্বালা সহ্য করা যুবকরা সমস্ত বাধা পেরিয়ে বাঁকুড়ায় এস এস সি অফিসের ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। দাবি একটাই— দীর্ঘ তিন বছর কোন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ হয়নি এ রাজ্যে, এই স্বেচ্ছাচারিতার অবসান চাই। তামলিবাঁধ ময়দান থেকে মিছিল বের হয়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল ঘুরে এস এস সি পশ্চিমাঞ্চল কার্যালয়ের সামনে আসে। পুলিশ আগে থেকেই আন্দোলনকারীদের আটকাতে প্রস্তুতি নিয়েছিল। পারেনি। গেট খুলে বেকার যুবক-যুবতীরা ভেতরে ঢুকে যান। পরে নেতৃত্বের কথায় তাঁরা ফিরে আসেন। বাঁকুড়া ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের সামনে সভা হয়। সভা থেকে প্রশ্ন ওঠে: কোথায় যাবেন এই যুবক-যুবতীরা? সরকারের খামখেয়ালিপনায় বহু বেকারের চাকরির বয়স পেরিয়ে গেল। তাঁরা আর এ সুযোগ পাবেন না। এখনও যাঁদের বয়স, যোগ্যতা আছে তাঁদের অবিলম্বে নিয়োগ করতে হবে। এই প্রক্রিয়া করতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগে সম্প্রতি রাজ্য যে নিয়ম জারি করেছে তাতে দুর্নীতি, দলবাজি, অস্বচ্ছতার আভাস পাচ্ছেন মানুষ। মৌখিক পরীক্ষায় ৫নম্বরের বদলে ২০নম্বর করা হয়েছে। এখানেই শাসকদল ইচ্ছামতো কাজ করবে। যোগ্য প্রার্থীরা কি মুখ বুজে এসব দেখবেন? বামপন্থী ২৪টি শিক্ষক যুব, ছাত্র সংগঠনের আহ্বানে এদিন এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। বর্তমানে রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে অরাজকতা, শাসকদলের সরাসরি ছত্রছায়ায় থাকা দুর্বৃত্তদের নিত্যনতুন হামলার ঘটনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংখ্যাও দিনের পর দিন কমছে। বামফ্রন্টের আমলে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছরই শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করা হতো। ১২বছরে ১লক্ষ ৩৫হাজার নিয়োগ করা হয়। তৃণমূলের রাজত্বে ২০১২সালে মাত্র একবার নিয়োগ করা হয়েছিল। সংখ্যাটা মাত্র ২১হাজার। সেখানেও দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে রাজ্য প্রায় ৮০ হাজার মাধ্যমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার পদ ফাঁকা আছে। ১৯দফা জরুরি দাবি অবস্থান কর্মসূচি থেকে তোলা হয়। তার মধ্যে মহার্ঘ ভাতা, ছাত্রছাত্রীদের যথাসময়ে বই দেওয়া প্রভৃতি দাবিও তোলা হয়। এদিন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এ বি টি এ-র রাজ্য সম্পাদক উৎপল রায়, ডি ওয়াই এফ আই-র রাজ্য সম্পাদক জামির মোল্লা, পি এস ইউ-র মহঃ সফিউল্লাহ, এ বি পি টি-এর রাজ্য সভাপতি অভিজিৎ মুখার্জি, বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য নেতা তারাপদ চক্রবর্তী, চঞ্চল মাসান্ত, এস এফ আই নেতা ধর্মেন্দ্র চক্রবর্তী প্রমুখ। এদিন এই আন্দোলনের ২৪টি সংগঠনের আহ্বায়ক সুকুমার পাইনের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল এস এস সি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুশান্তরঞ্জন বারিকের কাছে ডেপুটেশন দিতে যান। চেয়ারম্যান প্রতিনিধিদের জানান তিনি শিক্ষক নেতৃবৃন্দের এই দাবিগুলির সঙ্গে একমত। তবে তাঁর এ ব্যাপারে কিছুই করার নেই। সবই রাজ্যস্তর থেকে হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট জায়গায় বিষয়গুলি জানাবেন। এদিন সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক নেতা বেদব্যাস মুখার্জিসহ পাঁচজনের সভাপতিমণ্ডলী।


No comments: