RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, June 21, 2015

MODI IN USA - ‘ফাঁকা আওয়াজ’, ‘ভাঁওতাবাজি’ বাক্যবাণে মোদী সরকারকে বিঁধলো মার্কিন দুই পত্রিকা *****************************************************************************সংবাদ সংস্থা নিউ ইয়র্ক, ২৬শে মে — ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ আসলে ফাঁকা আওয়াজ। মোদী সরকারের এক বছর পূর্তির প্রচারের গ্যাসবেলুন প্রকারান্তরে এই ভাষাতেই ফাটিয়ে দিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বাঘা সংবাদমাধ্যম— নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পকে ‘স্রেফ ভাঁওতাবাজি’ বলে কটাক্ষ করেছে তারা। ভারতে প্রত্যাশামাফিক কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি পায়নি বলে দুই সংবাদমাধ্যমই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল— এই দুই প্রচার মাধ্যমের কড়া ভাষার সমালোচনায় স্পষ্টতই বিব্রত মোদী সরকার। মোদী জমানার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একটি পর্যালোচনা রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের আশায় এক বছর আগে নরেন্দ্র মোদীর হাতে দেশের ভার তুলে দিয়েছিল ভারতের ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। ক্ষমতায় আসার পর উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অভিযান হই হই করে শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উৎপাদনে গতি বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে এই অভিযান করলেও এক বছর পর দেখা যাচ্ছে যত ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বলা হয়েছিল তত সাফল্য আসেনি। বস্তুত গোটা বিষয়টি হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরঞ্জিত প্রচার মাত্র। তাঁর এই অভিযান প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। অর্থনৈতিক বিকাশের মাপকাঠিতে ফেললেই বোঝা যাবে, কীভাবে ধুঁকছে ভারতের অর্থনীতি। এই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গতবছর মূলধনী বিনিয়োগ কমে গিয়েছে। গত পাঁচ মাসে রপ্তানিও কমে গিয়েছে। কর্পোরেটদের আয়ও তেমন বাড়েনি। মে মাস পর্যন্ত বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরাও ভারতীয় শেয়ার বাজার ও বন্ড থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তুলে নিয়েছে। উল্লেখ্য, দিল্লির মসনদে নরেন্দ্র মোদী সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে যখন দেশব্যাপী জনসমাবেশ করে এন ডি এ-র সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরছে বি জে পি, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের সমালোচনার মুখর হলো মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দুটি বড় স্তম্ভ। অবশ্য শুধু মার্কিন দুই সংবাদপত্রই নয়, মোদী সরকারের ‘আচ্ছে দিন’ আনার প্রতিশ্রুতি যে স্রেফ লোকভোলানো ছিল, সেকথা কোনো রাখঢাক না রেখেই বলছে ভারতের সংবাদমাধ্যম। অনেকেই বলছে, নিজের ঢাক নিজে পিটিয়েই এক বছর কাটিয়ে দিলেন মোদী। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর মতোই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনায় মুখর নিউ ইয়র্ক টাইমসও (এন ওয়াই টি)। এন ওয়াই টি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবের মুখোমুখি হওয়া উচিত মোদীর। এই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে কর্পোরেটদের আয়নায় ‘বিদেশ থেকে ভারতের বিকাশ অনেক বেশি বলে আকর্ষণীয় মনে হয়। সেই ছবি দেখলে ধারণা জাগে, খুব শীঘ্রই হয়তো চীনকে ছাপিয়ে বিশ্বের সব চাইতে প্রতিশ্রুতিবান অর্থনীতি গড়ে উঠবে ভারতে। কিন্তু বাস্তবিক এই মুহূর্তে সেখানে কর্মসংস্থানের বিন্দুমাত্র বিকাশ ঘটছে না বললেই চলে। যাও বা হচ্ছে, তার গতি অত্যন্ত শ্লথ। ব্যবসা-বাণিজ্য ‘দেখছি-হবে’ স্তরেই রয়েছে। তার উপর, নরেন্দ্র মোদী সরকারের গায়ে কৃষক-বিরোধী তকমা সেঁটে দিয়েছে বিরোধীরা। মোদী অর্থনৈতিক সংস্কারের রথ আরও কেন দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন না, সেই খেদ ঝরে পড়েছে এন আই টি-র প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, এমন প্রচার করে মোদী ক্ষমতায় এসেছিলেন যে ভাবা হয়েছিল তিনি যাবতীয় বাধা বিপত্তি উড়িয়ে দিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশের হার কয়েক শতাংশ বাড়িয়ে দেবেন, আরও কড়া করবেন শ্রম আইন বা জমি অধিগ্রহণ আইন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে ঝরে পড়েছে হতাশা। লিখেছে, নিউ ইয়র্ক থেকে প্যারিস, আবার সেখান থেকে সিডনি ঘুরে বেড়ালেও অর্থনীতির মূল ক্ষেত্রগুলির সংস্কারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন মোদী। ফলে বিনিয়োগকারীরা বীতশ্রদ্ধ, যাঁরা ভেবেছিলেন সরকার পরিবর্তন হলে অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনারও আমূল বদল ঘটবে।

No comments: