RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, June 21, 2015

MAMATA ON CBI - মুখ্যমন্ত্রীর সিবিআই-ভুল, তীব্র কটাক্ষ সূর্য মিশ্রর, সহযোগিতার বার্তা রাজনাথের, বিজেপি’র ‘গভীর চিন্তায়’ নিশ্চিন্ত মমতা! নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা, ২৬শে মে — পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ‘গভীর চিন্তা’ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু করার নেই। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ‘প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে পারে।’ তবে মমতা ব্যানার্জি চাইলে। কলকাতা প্রেস ক্লাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তা জানিয়েছেন মঙ্গলবার দুপুরে। আর সেই ‘সহযোগিতার’ ইঙ্গিতে ভর করে এদিনই বিধানসভায় মমতা ব্যানার্জি বিরোধীদের উদ্দেশে শুনিয়েছেন তাঁর নয়া উপলব্ধি — সি বি আই তদন্ত চেয়ে কোনও লাভ নেই। বি জে পি-তৃণমূল কংগ্রেসের চমৎকার বোঝাপড়া ফুটে উঠলো প্রবল আর্দ্রতার দুপুরে, মঙ্গলবার। এই বিষয়ে তাই নরেন্দ্র মোদী-মমতা ব্যানার্জির একান্ত বৈঠকের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা সূর্য মিশ্রের বক্তব্য,‘‘নজরুল মঞ্চের পিছনে যদি ওনাদের এটি আলোচনা হয়ে থাকে ভালো। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে বি জে পি-তৃণমূল কংগ্রেস এমন পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা করতেই পারে।’’ কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের উপর্যুপরি প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বলেছেন,‘‘রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গম্ভীর চিন্তার বিষয়।’’ তারপর বলেছেন, ‘‘অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে যে ধরনের সাহায্য রাজ্য চাইবে, কেন্দ্র তা করবে।’’ আবার ওই একই বিষয়ে আর একটি প্রশ্নের জবাবে সিং বলেন,‘‘রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে অনেক কিছু করার দরকার আছে।’’ মমতা ব্যানার্জির অপশাসনের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি রাজনাথ সিং। বিধানসভাতেও মমতা ব্যানার্জি বি জে পি কিংবা মোদী — কারও বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি। তাঁর আক্রমণের লক্ষ্য ছিল শুধুই সি পি আই (এম)সহ বামফ্রন্ট। বিধানসভায় সি বি আই সম্পর্কে নিজের ‘গবেষণা’ শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পলিটিক্যালি যেটা সুট করবে, ওরা (সিবিআই) শুধু সেটারই তদন্ত করবে।’’ গলায় যথাসম্ভব আক্ষেপ মিশিয়ে বলেছেন,‘‘আমি ১৪টি কেস এদের দিয়েছিলাম ওয়াকফ কেসসহ। চিঠি দিয়ে বলেছে পারবে না তদন্ত করতে।’’ কিন্তু কেন সি বি আই ওই তদন্তগুলি করলো না? তবে কি ওই ১৪টি কেসে বামফ্রন্টকে ফাঁসাতে গিয়ে কি বর্তমান শাসকদলই ফেঁসে যেতে পারে —এমন আশঙ্কা ছিল? প্রশ্ন উঠেছে এদিনই। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ‘ওরা সেই তদন্তই করে, যা ‘পলিটিক্যালি সুট’ করে। আশঙ্কা উসকে উঠেছে রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যেও। বি জে পি-তৃণমূল কংগ্রেসের বোঝাপড়ার কারণেই কি সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তের গতি শ্লথ হয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে রাজনাথ সিং শুধু বলেছেন,‘‘তদন্ত চলছে।’’ জামাত-উল-মুজাহিদিনের মতো উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্যরা রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রয় পাচ্ছে, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কী ভাবছে? এই প্রশ্নের জবাবেও তাঁর কৌশলী উত্তর, ‘‘পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমরা পারস্পরিক সহায়তার পথে এগোচ্ছি।’’ প্রসঙ্গত, খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠতার বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনার তদন্ত করছে এন আই এ। কিন্তু তাদের প্রাথমিক চার্জশিটে ওই চক্র সম্পর্কে একটি কথাও মেলেনি। সি বি আই সহ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সম্পর্কে বলতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি স্বভাব বিরুদ্ধভাবে ‘ভুল স্বীকার’ করেছেন এদিন। কিন্তু সেটিও বিলক্ষণ কৌশল। তিনি বলেছেন,‘‘আমিও আগে সি বি আই, সি বি আই করতাম। কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিল। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, নেতাই, তারপরে রানাঘাট — এসব দেখে সি বি আই সম্পর্কে আমার ধারণা ভেঙে গেলো। বুঝলাম এরা শুধু মার্কেটিং-এ চলছে। রবীন্দ্রনাথের নোবেলটা ওরা আনতে পারলো?’’ প্রসঙ্গত, বিশ্বভারতী থেকে নোবেল চুরির ঘটনার যাবতীয় দায় বামফ্রন্ট সরকারের ঘাড়ে চাপিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি — ‘পলিটিক্যালি সুট’ করেছিল বলে। কিন্তু ইতিহাস কী বলছে? সিঙ্গুরের তাপসী মালিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সি পি আই (এম) নেতাদের হেনস্তা করে ‘পলিটিক্যাল’ সুবিধা পেতে সি বি আই তদন্তের দাবি করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। বামফ্রন্ট সরকার বাধা দেয়নি। ফল কী হয়েছে? সি পি আই (এম) নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় মমতা ব্যানার্জির প্রচারের ফায়দা হলেও ওই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। নন্দীগ্রামের ১৪ই মার্চের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস সি বি আই চেয়েছিল। হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ওই পুলিশি গুলি চালনার ঘটনায় বামফ্রন্টের নেতা, মন্ত্রীদের অপরাধী সাব্যস্ত করতে পারেনি সি বি আই। ওই ঘটনাতেও সি বি আই তদন্তের নির্দেশে মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু মূল অপরাধীরা আড়ালে থেকে গেছে। নন্দীগ্রামের কোনও লাভ হয়নি। উলটে যে পুলিশ অফিসারদের জেরা করার অনুমতি চেয়েছিল সি বি আই, মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সেই অনুমতি দেননি। এদিন নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন,‘‘নন্দীগ্রামে কী করলো সিবিআই? কেবল নিচু তলার কর্মীদের ফাঁসাচ্ছে। উঁচু তলার কর্মীরা বাদ কেন?’’ কে নিচু তলার কর্মী? সি বি আই যে পুলিসকর্মীদের জেরা করতে বা যাদের বিরুদ্ধে ‘প্রসিকিউশন’-র অনুমতি চেয়েছিল, তাঁরা সবাই এস ডি পি ও পর্যায়ের উপরের পর্যায়ের পুলিশ অফিসার। যে ম্যাজিস্ট্রেট গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁকে এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব করেছেন মমতা ব্যানার্জি স্বয়ং। আসলে ওই ঘটনায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কোনও ভূমিকা চেষ্টা করেও খুঁজে পায়নি সি বি আই। বরং পুলিশকে হামলা করা, প্ররোচিত করা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা, কর্মীদের হদিশ পেয়েছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। মমতা ব্যানার্জির ক্ষোভের কারণ এটিই। আর নেতাইয়ের ঘটনা এখন আদালতে বিচারাধীন। যেখানে চার্জশিটে প্রৌঢ়া, অসুস্থ এক সি পি আই(এম) নেত্রী গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ছুটছিলেন বলে চার্জশিটে দাবি করেছে সিবিআই। বলা বাহুল্য, নেতাইয়ের ঘটনার সি বি আই তদন্ত হয়েছে দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের সময়কালে। মমতা ব্যানার্জি তখন সেই সরকারের শরিক। ‘পলিটিক্যালি সুট’ করেছিল বলেই কী সেই তদন্ত, চার্জশিট? মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেছেন,‘‘সারাক্ষণ সারাদিন কেবল কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চাইছে। ফেডারেল স্ট্রাকচারে মোটেই ভালো না এটা।’’ এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা সূর্য মিশ্র বলেন,‘‘কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে আমরাই নীতিনিষ্ঠ অবস্থান নিয়ে চলি। উনি(মুখ্যমন্ত্রী) যখন যেমন, তখন তেমন। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, এই অবস্থানে উনি আগামীদিনে থাকবেন না।’’ এদিন কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজনাথ সিং। মূলত মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বের এক বছরে সরকারের ‘সাফল্য’ তুলে ধরাই ছিল তাঁর উপলক্ষ। একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনায় রক্তাক্ত পশ্চিমবঙ্গ এখন। এই পরিস্থিতিতে রাহুল সিন্হা, শমীক ভট্টাচার্যদের পাশে বসিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী — এমনটাই রাজ্যের বি জে পি নেতাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল। পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একাধিকবার নানা আঙ্গিকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। কিন্তু ‘গম্ভীর চিন্তা’ করা এবং প্রয়োজনে রাজ্যকে সাহায্য করা ছাড়া কোনও কথাই রাজনাথ সিং বলেননি। কেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি এই ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার’ কৌশল? তার ইঙ্গিত এদিন রয়েছে রাজনাথ সিংয়ের অন্য জবাবেই। সংসদের আগামী বর্ষাকালীন অধিবেশনে জমি বিল রাজ্যসভায় পাশ করানো যাবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছেন রাজনাথ সিং। এক্ষেত্রে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে বোঝাপড়ায় পৌঁছানোর সম্ভবনা উজ্বল বলেই বিজেপি মনে করছে। ভারত-বাংলাদেশ জলবণ্টন চুক্তি, যা মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বাধা দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি, সেই চুক্তিও দ্রুত করা সম্ভব হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।’’ -

No comments: