RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, June 21, 2015

MAMATA GOES TO LONDON - আকাশ সফর ****************************************************************************************চলতি গ্রীষ্মে লন্ডন সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে শিল্পে বিনিয়োগ আনাই নাকি এই বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকায় শিল্পপতির তুলনায় শিল্পীর সংখ্যাই বেশি। ফলে এই সফরের ফলাফলও যে সিঙ্গাপুরের মতোই শূন্যই হবে তা বলাইবাহুল্য। রাজ্যের উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীর দিকে না তাকিয়ে চটকদারি শিল্প সম্মেলনের ও বিদেশ সফরের পথই বেছে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের ওপরই এরাজ্যে প্রকল্প স্থির হয়। অন্যসব প্রকল্পকে উপেক্ষা করে রাজ্যে ২১টি হেলিপ্যাড তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই হেলিপ্যাড তৈরি কোন উদ্দেশ্যে তা পরিষ্কার নয় রাজ্যবাসীর কাছে। মালদহ, বালুরঘাট, দুর্গাপুর, শান্তিনিকেতন, গঙ্গাসাগর ও হলদিয়ায় হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করেছিল রাজ্য সরকার। গত দেড় বছরে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এইসব রুটে যাত্রী মেলেনি বললেই চলে। রাজ্যে পর্যটক ও বিনিয়োগ টানার জন্যই এই হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করা হচ্ছে বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল। কিন্তু অন্যান্য পরিকাঠামোর অভাবে বিনিয়োগ না আসার ফলে এই হেলিকপ্টার পরিষেবার কোনো প্রয়োজন দেখা যায়নি। গত চার বছরে রাজ্যে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়নি। নতুন যে ২১টি হেলিপ্যাড তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে এমন কয়েকটি জায়গা যার পর্যটনগত বা বাণিজ্যিক দিক থেকে কোনো গুরুত্ব নেই। হাওড়ার ডুমুরজলা বা হুগলীর চুঁচুড়ায় হেলিপ্যাড বানানোর আদৌ কি কোনো প্রয়োজন আছে? তৃণমূল সরকারের আমলে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কলকাতাকে লন্ডন, দীঘাকে গোয়া এবং উত্তরবঙ্গকে সুইজারল্যান্ড বানানোর ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাগর, সুন্দরবনে বিনিয়োগ আনা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী দলবল নিয়ে সফর করেছেন। নতুন নতুন নামকরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সচিব স্তরে কমিটিও গড়া হয়েছে পর্যটন শিল্পের জন্য পরিকাঠামো তৈরির। দীঘায় পর্যটন উৎসবও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গে পর্যটন কেন্দ্র গড়া হবে বলে কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু কোনো পরিকাঠামো তৈরি হয়নি পূর্ণাঙ্গভাবে। বিচ্ছিন্নভাবে হেলিপ্যাড তৈরি বা হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করা অর্থহীন ছাড়া কিছু নয়। শিল্পস্থাপন এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে সড়ক উন্নয়ন, জমি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, জল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো প্রয়োজন। গত ৪ বছরে এই পরিকাঠামো উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রাজ্য সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট জমিনীতি গ্রহণ করেনি। তারফলে শিল্পায়নের জন্য জমি মেলেনি। আবার কৃষকের স্বার্থও সুরক্ষিত হয়নি। নতুন বিনিয়োগের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বরং চালু শিল্পগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তোলাবাজি, হুমকির ফলে। প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা মেলেনি কারণ এই তোলাবাজির মূল নায়ক তৃণমূল নেতারা। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির ফলে বিনিয়োগকারীরা এরাজ্যে আসতে ভরসা পাচ্ছেন না। রাজ্য প্রশাসনের টালমাটাল অবস্থা গোটা দেশে পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা নিয়ে গেছে। সরকারি সহযোগিতার অভাবে পর্যটন শিল্পেও রাজ্যে উন্নয়ন ঘটেনি। এই পরিস্থিতিতে হেলিপ্যাড তৈরির কোনো বাণিজ্যিক প্রয়োজন থাকতে পারে না। হেলিপ্যাডগুলি সরকারি কর্তাব্যক্তিরা প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে এই হেলিপ্যাড তৈরির নির্দেশ কী রাজনৈতিক কারণে? মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টার বা ছোট বিমানে ভ্রমণ করতে ভালবাসেন। নির্বাচনের সময় তিনি হেলিকপ্টারে বা ছোট বিমানেই ঘুরে বেড়িয়েছেন। মাঝেমধ্যে দিল্লি সফরেও বেসরকারি ছোট বিমান ব্যবহার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আকাশপথে রাজ্য সফরের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী এই ২১টি হেলিপ্যাডের পরিকল্পনা করেছেন। সরকার বা দলের অথবা বেসরকারি সংস্থার খরচে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক অথবা প্রমোদ ভ্রমণের জন্যই এই হেলিপ্যাড প্রোজেক্ট। এই প্রকল্প রাজ্যের প্রয়োজনে নয়, তৃণমূল নেত্রীর পছন্দে।

No comments: