RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, June 24, 2015

SURI LANGULIA HIGH SCHOOL, BIRBHUM - মানসিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও লড়াই থেকে পিছিয়ে যাবেন না, ঘোষণা সিউড়ির আক্রান্ত শিক্ষকের ********************************* সিউড়ি, ২৩শে জুন— যত না শারীরিক আঘাত তার থেকে কয়েক গুণ মানসিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন আক্রান্ত শিক্ষক। দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অস্ফূট স্বরে শিক্ষক থেকে থেকেই খেদ প্রকাশ করে বলছেন, ‘‘আমাকে ওঁরা এইভাবে হেনস্তা করলো! ওই লোকগুলো স্কুলে দাপিয়ে বেড়াবে কোনোমতেই মানব না। ...পুলিশ, প্রশাসন কেউ সাহায্য করছে না। আমি লড়াই চালিয়ে যাব।’’ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শিক্ষকের এই মন্তব্যের কথা জানালেন তাঁর ভাই। সিউড়ি, ২৩শে জুন— গত সোমবার সিউড়ির লাঙ্গুলিয়া স্কুলে তৃণমূলীদের প্রত্যক্ষ মদতে বহিরাগতদের হাতে পাশবিক অত্যাচারের শিকার ‘স্পষ্টবাদী’ ইংরেজি শিক্ষক পার্থপ্রতিম মুখার্জির বুকে, পেটে, পাঁজরে অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ওষুধের প্রভাবে তাঁকে ঘুমে আচ্ছন্ন করে রেখেছেন চিকিৎসকরা। তবে ঘুমের ঘোর কাটলেই সেদিনের ঘটনায় মদত দেওয়ার জন্য বারবার শিক্ষকের গলা থেকে মুক্তার হোসেন খাঁ ও নবি শেখের নাম দুটি বেরিয়ে আসছে। একথা জানিয়ে দাদাকে দিনভর দেখভাল করা শিক্ষককের ভাই ধনঞ্জয় মুখার্জি ফোনে বলেন, ‘‘ওই দুটি নাম ছাড়াও আর কারা ছিল সুস্থ হলেই দাদা বলতে পারবে। সুস্থ হলেই দাদাকে নিয়ে নাম দিয়ে ফের অভিযোগ দায়ের করবো সিউড়ি থানায়। জেলাশাসকের কাছেও অভিযোগ জানাবো এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।’’ আক্রান্ত শিক্ষকের অভিযোগ মত হামলার সময় সশরীরে উপস্থিত এই মুক্তার হোসেন খাঁ হচ্ছেন স্কুল পরিচালন সমিতিতে রাজ্য সরকারের মনোনীত ‘শিক্ষানুরাগী ’ সদস্য ও এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা। ঘটনার পর থেকেই অভিযোগ উঠেছিল এই নেতার বিরুদ্ধে। কারণ যে সমস্ত বহিরাগতরা হামলার সময় সামনের সারিতে ছিলেন তাঁরা সকলেই ওই নেতার অনুগামী বলে পরিচিত। গ্রামে ওই নেতার দাপটের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই বললেই চলে। অপর যে নামটি শিক্ষক করেছেন তিনিও এলাকার তৃণমূল কর্মী বলেই পরিচিত। গত সোমবার সিউড়ির লাঙ্গুলিয়া স্কুলে তৃণমূলীদের প্রত্যক্ষ মদতে বহিরাগতদের হাতে পাশবিক অত্যাচারের শিকার ‘স্পষ্টবাদী’ ইংরেজি শিক্ষক পার্থপ্রতিম মুখার্জির বুকে, পেটে, পাঁজরে অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ওষুধের প্রভাবে তাঁকে ঘুমে আচ্ছন্ন করে রেখেছেন চিকিৎসকরা। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও কোনো তৎপরতা নজরে পড়েনি পুলিশের পক্ষ থেকে। সিউড়ি থানার পুলিশের ব্যাখ্যা, কারো নামেই তো নির্দিষ্ট করে অভিযোগ দায়ের হয়নি। অথচ স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ও গ্রামের লোকজনদের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে হামলাকরীদের নাম। তাহলে এক্ষেত্রেও কি শাসকদলের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় নীরব পুলিশ ? সিউড়ির লাঙ্গুলিয়া স্কুল - এদিকে শিক্ষাক্ষেত্রে এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি। এদিন সিউড়ির জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরের সামনে এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শিক্ষকরা। জেলা পরিদর্শকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে অবিলম্বে ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনা কখনই সমর্থনযোগ্য নয় বলে তাদের নিন্দা করছেন এলাকার সাংসদ শতাব্দী রায় ও বিধায়ক স্বপনকান্তি ঘোষও। অপরদিকে, লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সময়মত খুললেও ছিল থমথমে ভাব। নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের উপর এমন অমানবিক অত্যাচারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্লাস করতে রাজি হয়নি। ফের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেই আশঙ্কায় শিক্ষকরা বুঝিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে পাঠান। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সন্তোষকুমার ভান্ডারি বলেন, ‘‘স্কুলের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটবে তা কল্পনাতীত ছিল। ঘটনায় সমস্ত শিক্ষকরাই নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।’’ সিউড়ির লাঙ্গুলিয়া স্কুল - গ্রাম সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীদের শিক্ষকের উপর অন্যতম রাগের কারণ হচ্ছে বহিরাগত এইসকল মাতব্বরদের ফতোয়া না শোনা। পাশাপাশি পরিচালন সমিতির সদস্যরা অন্যান্য শিক্ষকদের উপর পারলেও পার্থপ্রতিম মুখার্জির উপর প্রভাব খাটাতে পারতেন না। ছাত্রছাত্রীরা তাদের বিপদ আপদ, অভাব অভিযোগে সবসময় পাশে পেত এই শিক্ষককে। এমনকি গ্রামেরই এক নাবালিকাকে তার বাবা-মা বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তা রুখে দেন এই শিক্ষক। দায়িত্ব নেন মেয়েটির পড়াশোনার। তা ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। পাশাপাশি স্কুলের নানাবিধ উন্নয়নমূলক কাজে এলাকার মাতব্বরদের নাক গলানো পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে বারবারই সরব ছিলেন তিনি। গ্রামের অভিভাবকদের একাংশ বা এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই কারণে চটলেও শিক্ষকের পাশেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িয়েছে স্কুলের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দারা। প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।


No comments: