RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, June 23, 2015

LANGULIA HIGH SCHOOL, BIRBHUM - সিউড়িতে ক্লাস থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নিয়ে শিক্ষককে বেধড়ক পেটালো বহিরাগতরা। ফের কলুষিত শিক্ষাঙ্গন। ******************************************সিউড়ি, ২২শে জুন— ফের বহিরাগতদের তাণ্ডবে কলুষিত শিক্ষাঙ্গন। শাসকদলের তাবড় নেতাদের উপস্থিতিতে নির্বিচারে প্রহার ‘স্পষ্টবাদী’ এক শিক্ষককে। শ্রেণিকক্ষও যে আর শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ নয় তা আবার প্রমাণ হলো সিউড়ি ১নং ব্লকের লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সোমবারের ঘটনায়। তৃণমূল নেতা কর্মীদের প্রত্যক্ষ মদতে অভিভাবকদের একাংশ ও বহিরাগতদের বেপরোয়া তাণ্ডবের সাক্ষী থাকলো সিউড়ি সদর থেকে মাত্র ৬কিমি দূরের খটঙ্গা অঞ্চলের ওই স্কুল। স্কুলে ক্লাস নেওয়ার সময় শিক্ষককে রীতিমতো টেনে হিঁচড়ে বের করে মাটিতে আছড়ে ফেলে নির্বিচারে চললো চড়-ঘুষি-লাথি। প্রায় নিস্তেজ ওই শিক্ষককে চিকিৎসার জন্য প্রথমে সিউড়ি এবং পরে দুর্গাপুর নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। সিউড়ি, ২২শে জুন— এদিন সকালে লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক পার্থপ্রতিম মুখার্জি নবম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছিলেন। শিক্ষক পার্থপ্রতিম মুখার্জি স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে ‘প্রণয়ে’ লিপ্ত এই অভিযোগ তুলে স্কুল গেটের সামনে জমায়েত হয় মারমুখী বহিরাগতরা। বিপদ বুঝে স্কুলের প্রধান শিক্ষক খবর দেন স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি ও সমিতির ‘শিক্ষানুরাগী’ সদস্যকে। স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা স্থানীয় খটঙ্গা অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি সঞ্জিত রায় ও অপর ‘শিক্ষানুরাগী’ সদস্য এলাকারই দাপুটে তৃণমূল নেতা মুক্তার হোসেন খাঁ স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে না করতেই শুরু হয়ে যায় তাণ্ডব। সকাল ১১টা নাগাদ স্কুলের সামনে জড়ো হওয়া তৃণমূলের ছোট-বড় নেতা ও বহিরাগতরা রীতিমত স্কুলে ঢুকে অশ্রাব্যভাষায় গালিগালাজ করতে করতে প্রথমে প্রধান শিক্ষকের ঘরে এবং সেখান থেকে একতলায় থাকা নবম শ্রেণির কক্ষে গিয়ে পড়ানো অবস্থায় শিক্ষককে ক্লাস থেকে টেনে বের করে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে পেটাতে শুরু করে। জ্ঞান হারান শিক্ষক। তাদের প্রিয় শিক্ষকের উপর এই অমানবিক অত্যাচার দেখে কান্নার রোল পড়ে যায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। এমনকি গাড়ি করে ওই শিক্ষককে চিকিৎসার জন্য সিউড়ি আনার তোড়জোড় শুরু করলেও বাধা দেয় আক্রমণকারীরা বলে অভিযোগ। পরে অবশ্য সিউড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় শিক্ষককে। গোটা ঘটনা নীরব দর্শকের মতো দেখতে থাকেন স্কুল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রাজ্য সরকারের মনোনীত পরিচালন সমিতির সদস্য শাসকদলের দুই নেতা। সিউড়ি, ২২শে জুন— ফের বহিরাগতদের তাণ্ডবে কলুষিত শিক্ষাঙ্গন। শাসকদলের তাবড় নেতাদের উপস্থিতিতে নির্বিচারে প্রহার ‘স্পষ্টবাদী’ এক শিক্ষককে। শ্রেণিকক্ষও যে আর শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ নয় তা আবার প্রমাণ হলো সিউড়ি ১নং ব্লকের লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সোমবারের ঘটনায়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সন্তোষ ভাণ্ডারি বলেন, ‘‘অত্যন্ত দক্ষ, সৎ, ছাত্র-দরদী এই শিক্ষক স্কুলের নির্ধারিত সময় ছাড়াও অতিরিক্ত সময়েও বিনামূল্যে কোচিং করান ছাত্রছাত্রীদের। স্কুল পাশ করা বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীও এই শিক্ষকের কাছে কোচিং নিতে আসে। এমন এক শিক্ষকের উপর এইধরনের আক্রমণের ঘটনায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন সমস্ত শিক্ষকরাই।’’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রছাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় পরোপকারী এই শিক্ষক শুধু স্পষ্টবাদীই ছিলেন না, যে কোনো ধরনের অনিয়ম-বেনিয়মের প্রতিবাদে এগিয়ে আসতেন সবসময়। বহু ছাত্রছাত্রীই তাঁর অনুগত হয়ে ওঠে। সেটা ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি অনেকেই। সম্প্রতি এক ছাত্র ওই শিক্ষককে কটূক্তি করলে অন্যান্য ছাত্রছাত্রীরা তার প্রতিবাদ করে ওই ছাত্রটিকে ধমকায়। অভিযোগ, এই অজুহাতেই শিক্ষকের উপর তাদের রোষ উগরে দেয় আক্রমণকারীরা। ঘটনার খবর পেয়ে গ্রামের বাড়ি ভীমগড়ের চূড়র থেকে ছুটে আসা আক্রান্ত শিক্ষকের ভাই ধনঞ্জয় মুখার্জি জানান, ‘‘স্কুল, বই আর ছাত্রছাত্রী ছাড়া আর কোনো জগৎ নেই দাদার। দাদার উপর এমন আক্রমণের ঘটনায় আইনগত লড়াইয়ে যতদূর যাওয়ার যাব।’’ এদিকে, এমন এক জঘন্য ঘটনার পরেও স্কুলের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগই দায়ের করা হয়নি এখনও। জিজ্ঞাসা করলে সদুত্তর মেলেনি প্রধান শিক্ষকের কাছে। পরিচালন সমিতির সভাপতির আবার মন্তব্য, ‘‘ওটা আমার কাজ নয়।’’ তবে আক্রান্তের ভাই অবশ্য কোনো নাম না করে সিউড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন। স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি যিনি গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আক্রমণকারীরা যার কাছে সুপরিচিত তিনি কী পদক্ষেপ নিলেন তার স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে গা বাঁচাতে তৃণমূলনেতা সঞ্জিত রায়ের সাফাই, ‘‘নানা কারণে অভিভাবকদের ক্ষোভ ছিল ওই শিক্ষকের উপর। সেই থেকেই এই ঘটনা। তবে এভাবে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত অন্যায়।’’

No comments: