RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, June 23, 2015

LAND ACQUISITION BILL - জনমতের চাপ, মোদীর জমি বিলের বিরোধিতায় সঙ্ঘঘনিষ্ঠ দুই সংগঠনও ****************************************** নয়াদিল্লি, ২২শে জুন — দেশজোড়া জনমতের চাপে মোদী সরকারের দানবীয় জমি অধিগ্রহণ বিলের বিরোধিতা জানাতে বাধ্য হলো সঙ্ঘ পরিবারের অধীন দু’টি সংগঠনও। কৃষকের জীবন-জীবিকা কেড়ে নিতে সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদীর সরকার যে বিল পাশ করাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, তারই বেশ কয়েকটি সংস্থানের সরাসরি বিরোধিতা করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আর এস এস) অনুমোদিত স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ এবং ভারতীয় কিষান সঙ্ঘ। জমি অধিগ্রহণ বিল খতিয়ে দেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে লিখিতভাবে নিজেদের মতামত জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আর এস এস) অনুমোদিত স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ এবং ভারতীয় কিষান সঙ্ঘজমি বিল নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদের সুরেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে দুই সংগঠন বলেছে, মোদী সরকারের প্রস্তাবিত বিলের বেশ কিছু অংশ ‘ঘৃণিত’ এবং ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। প্রসঙ্গত, ২০১৩সালে তৎকালীন ইউ পি এ আমলে সংসদে সর্বসম্মতভাবেই পাশ হয়েছিলো জমি অধিগ্রহণ আইন। সেই আইনকে সমর্থন করেছিলো বি জে পি-ও। বামপন্থীদের টানা লড়াইয়ের ফলে সেই আইনে জমিদাতা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বার্থে অল্প কয়েকটি রক্ষাকবচের সংস্থানও রাখা সম্ভবপর হয়েছিলো। মোদী সরকার ক্ষমতায় এসেই জমি অধিগ্রহণ আইনকে রদ করে কৃষকের স্বার্থবাহী ন্যূনতম ব্যবস্থাগুলি কেড়ে নিয়ে নতুন জমি অধিগ্রহণ অর্ডিন্যান্স জারি করে। এর প্রতিবাদে বামপন্থী কৃষক সংগঠনগুলির নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। সংশোধনী বিল পেশ হলে সংসদে ভেতরেও প্রবল প্রতিবাদ হয়। জমি বিল ঘিরে সংসদের ভেতরে-বাইরে বর্তমানে নজিরবিহীন বিরোধী ঐক্য গড়ে উঠেছে। এর জেরে রাজ্যসভায় সংশোধনী বিল পেশই করতে পারেনি সরকারপক্ষ। বাধ্য হয়ে পরপর তিনবার জমি অর্ডিন্যান্স জারি করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। দেশজুড়ে এই জনমতের চাপেই সঙ্ঘ পরিবারের অধীন সংগঠনগুলি নিজেদের সরকারের প্রস্তাবিত আইনের বিরোধিতা করতে বাধ্য হলো বলে মনে করা হচ্ছে। যৌথ সংসদীয় কমিটি জমি অধিগ্রহণ বিল নিয়ে সকলের মতামত জানতে চাওয়ায় বহু সংগঠন এবং ব্যক্তি ইতিমধ্যেই নিজেদের মতামত পেশ করেছে। আর এস এস অনুগামী স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ (এস জে এম)-র তরফে জাতীয় সহ-আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজন লিখিতভাবে কমিটিকে বলেছেন, আমাদের সুচিন্তিত অভিমত, ২০১৩সালের জমি বিল বদলে দিতে বর্তমান সরকার অযথা তাড়াহুড়ো করছে। নতুন আইনে যেসব সংস্থান রাখা হয়েছে, তার অনেকগুলিই সমর্থনযোগ্য নয়। ‘ঘৃণিত’ এবং ‘অ-গ্রহণযোগ্য’ নানা ধারা যুক্ত করে জমি অর্ডিন্যান্স জারি করেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার। আগের আইনে জমিদাতা কৃষকদের বাধ্যতামূলক সম্মতিগ্রহণ এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের সামাজিক প্রভাব সমীক্ষার যে সুযোগগুলি ছিলো। আর এস এস অনুগামী স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ (এস জে এম)-এর দাবি, অধিগ্রহণের পরে জমি ব্যবহারের উদ্দেশ্য বদল করতে দেওয়া উচিত হবে না। যে প্রকল্পের কথা বলে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তার অন্যথা হলে জমি ফিরিয়ে নিতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কৃষিজমি এবং বনাঞ্চল অন্য কোন উদ্দেশে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া চলবে না। অন্যদিকে, ভারতীয় কিষান সঙ্ঘ (বি কে এস)-র সাধারণ সম্পাদক প্রভাকর কেলকার সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন, সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা এবং অব্যবহৃত জমি ফেরত নেবার সংস্থানগুলি তুলে দিয়ে আসলে কৃষকের স্বার্থকেই উপেক্ষা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অধিগ্রহণের আগে অন্তত ৫১শতাংশ জমিদাতার সম্মতি বাধ্যতামূলক করার দাবি তুলেছেন তিনি। উল্লেখ্য, বি জে পি সাংসদ এস এস আলুওয়ালিয়ার নেতৃত্বাধীন যৌথ সংসদীয় কমিটির ষষ্ঠ এবং সপ্তম সভা বসছে সোমবার ও মঙ্গলবার। জানা গেছে, আর এস এসের এই দুই সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছাড়াও কমিটির সামনে বক্তব্য জানাতে আসতে পারেন প্রাক্তন বি জে পি তাত্ত্বিক কে এন গোবিন্দাচার্য, আম আদমি পার্টির প্রাক্তন নেতা যোগেন্দ্র যাদব, বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রমুখ। ইতিমধ্যেই গোবিন্দাচার্য তাঁর লিখিত বক্তব্যে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘২০১৩সালের জমি অধিগ্রহণ আইন পরিবর্তন করা হবে বলে বি জে পি কি তাদের নির্বাচনী ইশ্‌তেহারে কোন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো? যদি তা হয়, তাহলে কি কারণে এত তাড়াহুড়ো, এমনকি বারবার অর্ডিন্যান্স পর্যন্ত জারি করতে হচ্ছে?’ তাঁর স্পষ্ট অভিমত, ‘দিকে দিকে এই বার্তা চলে গেছে যে, সাধারণ মানুষ এবং কৃষকের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে মোদী সরকার আসলে শিল্পপতি ও পুঁজিপতিদের স্বার্থরক্ষায় অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।’

No comments: