RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, June 18, 2015

LALIT-SUSHAMA SAMACHAR : আর্থিক দুর্নীতির একগুচ্ছ অভি‍‌যোগের ভিত্তিতে ই ডি এবং আয়কর দপ্তর তদন্ত শুরু করেছিল প্রাক্তন আই পি এল কর্তা ললিত মোদীর বিরুদ্ধে। ২০১০ সালে প্রথম দফা ই ডি এবং আই টি-র জেরার মুখে পড়েই প্রমাদ গোনেন তিনি। তাই আর কালবিলম্ব না করে চটজলদি তল্পিতল্পা গুটিয়ে লন্ডনে পাড়ি দেন তিনি। তারপর থেকে ব্রিটেনই তার বাসস্থান। প্রাক্তন আই পি এল কর্তা ললিত মোদীর লন্ডনে পালিয়ে যাওয়ায় ফাঁপরে পড়ে ই ডি এবং অন্যান্য তদন্ত সংস্থা। তদন্তের কাজ গুটিয়ে আনতে জরুরি ছিল আরও বার কয়েক জেরা করা। কিন্তু পাখি উড়ে যাবার ফলে সেকাজ অথৈ জলে। প্রাক্তন আই পি এল কর্তা ললিত মোদীর বিলাসী জীবন কাটছে বিলেতে। ভারতে বসবাস করার বিন্দুমাত্র আগ্রহও দেখা যায়নি তার। তেমনি বিলেতেও কতদিন ভাল লাগে। এক ঘেঁয়ে হয়ে উঠেছে কয়েক বছরে। তাই মনে মনে বাসনা জাগছে বিশ্ব ভ্রমণের। এক দেশ থেকে অন্য দেশে, এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে আয়েসী-বিলাসী জীবন না কাটলে এমন অঢেল অর্থের মালিকদের কি চলে। বিশেষ করে ৮০ কোটি টাকায় কেনা ব্যক্তিগত বিমানে চলাফেরা যার অভ্যেস তার পক্ষে একটা দেশে কার্যত বন্দি হয়ে থাকা মানায়! প্রাক্তন আই পি এল কর্তা ললিত মোদীর সু‍‌যোগ এসে যায় স্ত্রীর অসুস্থতা। সেই অজুহাতে দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ স্বরাজ পরিবারের সাহায্য প্রার্থনা। এই পরিবারের কত্রীই এখন দেশের বিদেশমন্ত্রী। এই সুযোগ কোন মতেই হাত ছাড়া করা যায় না। তাছাড়া তার হাত ধরে অতীতে এই পরিবার অনেক সুবিধা আদায় করেছে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সুষমা স্বরাজ বিদেশমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২০১৪ সালের ২৭শে মে। মাসখানেক পরেই পলাতক ললিত মোদীর আবদার পৌঁছে যায় সুষমার কাছে। সঙ্গে সঙ্গে অতি তৎপর হয়ে ওঠেন সুষমা। ভারতস্থ ব্রিটিশ হাই কমিশন এবং জনৈক ব্রিটিশ সাংসদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অনতিবিলম্বে ললিত মোদীকে ব্রিটেনের বাইরে যাবার অনুমতির ব্যবস্থা করে দেন। স্ত্রীর চিকিৎসার অজুহাতে অনুমতি হাতিয়ে নিয়ে তিনি এখন বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণ করছেন। সম্প্রতি কিউবায় বিলাসবহুল হোটেলে ও অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গেছে ফুর্তির মেজাজে। প্রশ্ন হলো যে দেশের আইনে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত এড়াতে যিনি বিলেতে পালিয়ে গেছেন তারজন্য সেদেশের বিদেশমন্ত্রীর এত দরদ কেন? ললিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ২০১০ আই পি এল-এ ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিং। বিদেশি মুদ্রা বিধি লঙ্ঘনের জন্য তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত হয়। সব বন্দর-বিমানবন্দরে সতর্কবার্তা জারি হয় তাকে পেলেই ই ডি-র হাতে তুলে দেবার। ভারতে ঢুকলেই তাকে আটক করা হতো। ৪২৫ কোটি টাকা জালিয়াতির তদন্ত চলছে। বিদেশে কালো টাকা পাচারের তদন্তও চলছে। লক্ষণীয় ২০১৩ সালে বি সি সি আই শৃঙ্খলা কমিটি (অরুণ জেটলি এর সদস্য) ললিতকে দোষী সাব্যস্ত করে। এরপরও সুষমার কল্যাণে ললিতের বন্ধন মুক্তি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যাদের এত প্রচার, তারা ক্ষমতায় এসে গর্বে বুক ফোলাচ্ছে দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়ার। বর্ষপূর্তির সময়ও সোচ্চারে দাবি করা হয়েছে মোদী সরকারের কলঙ্কহীনতার। এখন দেখা যাচ্ছে দুর্নীতিরই পৃষ্ঠপোষণ করছে এই সরকার। আরও আশ্চর্যের বিষয় এত বড় একটা অন্যায়-অপরাধ ধরা পড়ার পরও গলার শিরা ফুলিয়ে বলছে যা করেছি বেশ করেছি। বলা হচ্ছে এতে কোন অন্যায় নেই। মানবিকতার খাতিরে একজন ভারতীয়কে সাহায্য করা হয়েছে। ললিত ছাড়া বাকি সব ভারতীয় অপরাধী-অভিযুক্তের ক্ষেত্রেই কি মোদী সরকার এমন মানবিকতা দেখাবে? মানবিকতার দোহাই দিয়ে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত অপরাধীকে সাহায্য করার পরও তার পক্ষে দাঁড়িয়েছে গোটা শাসকদল এবং সঙ্ঘ পরিবার। অতএব বোঝা যাচ্ছে এই সরকারের নৈতিক অভিমুখ কোন দিকে।

No comments: