RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, June 18, 2015

JANGALMAHAL - জঙ্গলমহলে হাতে নেওয়া প্রকল্পের অর্ধেকই শেষ করতে পারেনি রাজ্য *******************************কলকাতা, ১৫ই জুন— প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল ৩২৯টি। তারমধ্যে মাত্র ১২৭টি প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। এই চিত্র মাওবাদী প্রভাবিত পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের ২৪টি ব্লক এলাকার। তথ্য দিয়েছেন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। ৩২৯টি প্রকল্পের মধ্যে ১২৭টি প্রকল্পের বাস্তবায়নের অর্থ, ৬২শতাংশ প্রকল্পের কাজই শেষ করা যায়নি! পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম ও বর্ধমান এই পাঁচ জেলার ৭৫টি ব্লক নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকাণ্ড। তারমধ্যেও মাত্র তিনটি জেলার ২৪টি ব্লককে সরকার আলাদাভাবে মাওবাদী প্রভাবিত অঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত করে উন্নয়ন করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার এই তিন জেলার মাওবাদী প্রভাবিত মাত্র ২৪টি ব্লকেও অর্থ ব্যয় করতে ব্যর্থ রাজ্য সরকার। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে প্রশ্ন করেছিলেন সি পি আই আই (এম) বিধায়ক রামেশ্বর দলুই। বিধায়কের প্রশ্নের লিখিত জবাব দিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। পশ্চিমাঞ্চলের ৫টি জেলায় মাওবাদী প্রভাবিত ব্লকগুলিতে ২০১৪-১৫সালে উন্নয়নের জন্য কতগুলি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল? এই প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‘পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলার মধ্যে এল ডব্লিউ ই (লেফট উইং এক্সটিমিস্ট) প্রভাবিত ব্লকগুলি বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত। এই ২৪টি ব্লকে উন্নয়নের জন্য ৩২৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এরমধ্যে বাঁকুড়া জেলায় ১১৫টি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৬৯টি ও পুরুলিয়া জেলার ১৪৫টি প্রকল্প আছে।’’ প্রসঙ্গত, জঙ্গলমহলের পাঁচ জেলায় সরকারের সব দপ্তরই তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের কাজ করে থাকে। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তর গড়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিল, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাজের পর কোনো শূন্যস্থান থাকলে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তর সেই ‘ক্রিটিক্যাল গ্যাপ’ পূরণ করবে। অর্থাৎ, পূর্ত দপ্তরের কোনো রাস্তা নির্মাণের পর যদি দেখা যায় ওই রাস্তা ব্যবহারের জন্য কোনো এলাকায় কালভার্ট তৈরি করা দরকার তখন সেই কালভার্ট গড়ার দায়িত্ব বর্তায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের ওপর। মূলত, ছোটো ছোটো প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের অন্যান্য দপ্তরের বরাদ্দের সঙ্গে সমন্বয় করার কাজ ছিল পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের। এখন সেই কাজ হাতে নিয়েও মাত্র ৩৮শতাংশ কাজ গত আর্থিক বছরে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। শুধু এখানেই নয়। সি পি আই (এম) বিধায়ক মন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছিলেন, গত ৩১শে মার্চের মধ্যে মাওবাদী প্রভাবিত ব্লকগুলিতে কতগুলি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে? মন্ত্রীর লিখিত জবাব, ‘‘৩২৯টি প্রকল্পের মধ্যে ১২৭টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। মাওবাদী প্রভাবিত ব্লকগুলিতে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ ৭২কোটি ৩০লক্ষ ৮৪হাজার টাকা।’’ মন্ত্রীর লিখিত জবাবে পরিষ্কার হয়ে গেছে জঙ্গলমহলের মাওবাদী প্রভাবিত ২৪টি ব্লকের জন্য বরাদ্দ ৭২কোটি ৩০লক্ষ টাকাও সরকার খরচ করতে পারেনি। ৩২৯টি প্রকল্পের মধ্যে ২০২টি প্রকল্প বর্তমানে কী অবস্থায় আছে তা জানাতে পারেনি রাজ্য সরকার। এমনকি সরকারের দেওয়া ব্লকভিত্তিক বরাদ্দের তথ্যেও দেখা গেছে সীমাহীন বৈষম্যের চিত্র। মাওবাদী প্রভাবিত ব্লকভিত্তিক বরাদ্দের যে তথ্য পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিয়েছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, শুধু বিনপুর ১নং ব্লকে ২০১৪-১৫আর্থিক বছরে সরকার বরাদ্দ করেছিলো, ২৬কোটি ৬৫লক্ষ ৩১হাজার টাকা। ২৩টি প্রকল্পে এই টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। আবার ঝাড়গ্রাম ব্লকে গত আর্থিক বছরে ৮টি প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৭৪কোটি ৭০লক্ষ টাকা। শুধু এই দুই ব্লকেই ২৪টি মাওবাদী অধ্যুষিত ব্লকের মোট বরাদ্দের ৩৮শতাংশ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আসলে বিনপুর ১ ও ঝাড়গ্রাম এই দুই ব্লক বর্তমান আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী সুকুমার হাঁসদার বিধানসভা কেন্দ্র। তিনি নিজেই পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। কেন দুই ব্লকেই এত বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এদিন এই প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরেরই প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ। এদিন বিধানসভার বাইরে তিনি বলেন, ‘‘৭২কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে মন্ত্রী নিজের এলাকাতেই ২৭কোটি টাকা নিয়েছেন। এমন নজির কোথাও নেই। আসলে উন্নয়ন নয়, বরাদ্দ টাকায় শুধু লুট হয়েছে।’’ মন্ত্রীর নিজের এলাকাতে বিপুল এই বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক রামেশ্বর দলুইও। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘বরাদ্দ বাড়িয়েও দপ্তরকে নিজের হাতে রাখতে পারেননি। আসলে কাজের নামে জঙ্গলমহলে লুটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।’’ বরাদ্দের অর্থের বাঁটোয়ারাকে ছাপিয়ে গেছে হাতে নেওয়া প্রকল্পের বাস্তবায়নের হাল। মুখ্যমন্ত্রী নিয়ম করে জঙ্গলমহল সফর করেন। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের নেওয়া প্রকল্পের অবস্থাই দেখিয়ে দিচ্ছে, জঙ্গলমহল থেকে উধাও হচ্ছে হাসি।

No comments: