RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, June 21, 2015

DOLA SEN - ট্রাফিক কর্মীকে কান ধরে ওঠবোসের নির্দেশ তৃণমূল সাংসদের নিজস্ব সংবাদদাতা দমদম, ১৯শে জুন- এবার আর শুধু শাসানি নয়, কর্তব্যরত ট্রাফিক কর্মীকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কান ধরে ওঠবোস করার নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন। আগেই পুলিশ কর্মীকে চড় মেরে হাত পাকানো এই সাংসদ শুক্রবার রাজারহাটে ট্রাফিক আইন ভেঙে উলটে কর্তব্যরত সিভিক পুলিশ কর্মীকে ‘থাপ্পড় মারবো’ বলে ধমকানোর পর তাঁকে রাস্তাতেই কান ধরে ওঠবোস করার নির্দেশ দেন। সাম্প্রতিক সময়ে সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, মেয়রের ভাইঝি ও তৃণমূলের আরো বেশ কিছু নেতানেত্রীর পর পুলিশ ধমকানোর তালিকায় আবার নাম তুললেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। এই ধরনের ঘটনা দোলা সেনের ক্ষেত্রে প্রথম নয়। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই দোলা সেনের ‘দিদিগিরি’ প্রত্যক্ষ করেছিলেন রাজ্যবাসী। সেদিন নিবেদিতা সেতুর টোল প্লাজায় ভুল লেনে গাড়ি ঢোকানোর পরে তা আটকান কর্তব্যরত কর্মীরা। গাড়ি থেকে নেমে সপাটে চড় মেরেছিলেন তৃণমূলের এই নেত্রী। সেদিনও কোন মামলা হয়নি। শুক্রবার দুপুরে চিনার পার্কে সিভিক পুলিশ কর্মীকে প্রকাশ্যে চড় মারার হুমকির পরও কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। বরং তৃণমূল নেত্রীর রোষানলে পড়ে ঐ কর্তব্যরত সিভিক পুলিশ কর্মী চাকরি খোয়াবে কিনা সেই সংশয়ই বড় হয়ে দাড়িয়েছে। কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেনকে সপাটে চড় মারার পরেও তৃণমূলের শাসনে ‘আইন আইনের পথেই’ চলেছে। গ্রেপ্তার তো দূরের কথা মিনিট খানেকের জন্য আটকও করা হয়নি তৃণমূলের সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কলকাতার মেয়রের ভাইঝি থেকে আবু আয়েশ মণ্ডল, শাসকদলের তকমা থাকলেই ‘সাত খুন মাফ’। ট্রাফিক আইন ভেঙে উলটে পুলিশ কর্মীকেই নিগ্রহের ঘটনায় মেয়রের ভাইঝিও রেহাই পেতে চলেছেন। বরং কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ কর্মীকেই পাঠানো হয়েছিল ‘লম্বা ছুটিতে’। খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় আইন ভাঙা মেয়েরের ভাইঝিকেই সমর্থন করে বলেছিলেন ‘বাচ্চা মেয়ে’। তবে দোলা সেনও সেই ‘বাচ্চা মেয়ের’ তালিকায় পড়ছেন কিনা তাও এখন দেখার। এবার আর শুধু শাসানি নয়, কর্তব্যরত ট্রাফিক কর্মীকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কান ধরে ওঠবোস করার নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন। তৃণমূলের শাসনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার এখন এটাই দস্তুর। শুক্রবারের ঘটনা তা যেন আরও একবার স্পষ্ট করলো। কী হয়েছিল শুক্রবার দুপুরে রাজারহাটের চিনার পার্কে? এদিন বেলা সওয়া বারোটা নাগাদ একটা অ্যাম্বাসডার গাড়ি বাগুইহাটি-জোড়ামন্দিরের রাস্তা দিয়ে চিনার পার্কের মুখে আসে। গাড়িটা ডিভাইডারের বাঁদিক দিয়ে না গিয়ে ডানদিক দিয়ে রাজারহাট-নিউটাউনের রাস্তার দিকে যেতে চায়। সেই সময়েই ঐ সিগন্যালে কর্তব্যরত এক সিভিক পুলিশ কর্মী গাড়িটি আটকান। গাড়ির চালককে ঐ পুলিশ কর্মী ট্রাফিক সিগন্যাল কেন ভাঙা হলো সেকথা বলেন। তখন ঐ গাড়ির চালক পাল্টা উত্তর দেন যে গাড়িতে এম পি বসে আছে। তখন ঐ কর্তব্যরত সিভিক পুলিশ কর্মী জানান, এম পি থাকলে কি ট্রাফিক নিয়ম মানা যায় না! এই কথা বলার পরেই গাড়ির পিছন সিটে বসা তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন জানালার কাচ নামিয়ে চিৎকার করে বলতে, থাপ্পড় মারবো, আমি এই রাস্তা দিয়েই যাবো। শুরু হয় বচসা। ততক্ষণে রাস্তায় যানজট শুরু হয়ে যায়। লাগোয়া ট্রাফিক বুথ থেকে একজন সাব-ইনস্পেক্টরও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি দোলা সেনকে অনুরোধ করেন যাতে গাড়িটি ব্যাক করে তিনি চলে যান। এতে আরও অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠনে মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ এই সাংসদ। রাস্তায় দাঁড়িয়ে পুলিশ কর্মীকে ধমকানো শুরু করেন তিনি। তিনি ঐ সাব ইন্সপেক্টরকে নির্দেশ দেন যাতে তাঁর গাড়ি আটকানো ঐ সিভিক পুলিশ কর্মীকে তাঁর সামনে কান ধরে উঠবোস করতে হবে। যতক্ষণ না রাস্তায় দাড়িয়ে উঠবোস করবে ততক্ষণ আমি যাবো না। এর মধ্যেই বারবার ঐ সিভিক পুলিশ কর্মীকে থাপ্পড় মারা এমনকি চাকরি কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দিতে থাকেন এই তৃণমূলী সাংসদ। ততক্ষণে আরও পুলিশ কর্মী ছুটে আসেন। যদিও তাতে নেত্রীর রাগ গলেনি, বরং মেজাজ আরও বেড়ে যায়। তাঁর মেজাজের সামনে পুলিশও তটস্থ হয়ে দাড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষণ তা চলার পরে ঐ কর্তব্যরত সিভিক পুলিশের নাম, ঠিকানা সহ তথ্য নিয়ে দোলা সেন রাজারহাট নিউটাউনের দিকে গাড়ি নিয়ে চলে যান। আশ্চর্যের হলো, এত কিছুই পরেও তিনি সেই ট্রাফিক নিয়ম না মেনে গাড়ি ঐ রাস্তা দিয়েই নিয়ে যান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলী সাংসদের গাড়ি আটকানো ঐ সিভিক পুলিশের নাম বিভাস রায়। যদিও এদিন ঘটনার কয়েকঘণ্টা পরেই ঐ এলাকায় ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা পুলিস কর্মীদের তুলে নেওয়া হয়। যদিও দোলা সেন পরে দাবি করেছেন, এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি, গোটাটাই মিথ্যা কথা। তবে সংবাদমাধ্যমের সামনে ঐ সিভিক পুলিশ কর্মী বিভাস রায় জানিয়েছেন, গাড়ি রংরুট দিয়ে যাচ্ছিলো বলেই আটকেছিলাম। বলা হলো এম পি আছে, এবং আমি নাকি তাঁকে গালিগালাজ করেছি। গাড়ির কাচ তো তোলা ছিল। তাহলে উনি শুনলেন কী করে আমি গালি দিয়েছি। পরে উনি গাড়ির কাচ নামিয়ে আমাকে থাপ্পড় মারার কথা বলেন’।

No comments: