RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, June 23, 2015

DOLA SEN, RAJYA SABHA MEMBER - দোলা সেনকে ট্রাফিক আইন মানতে বলার খেসারত দিলেন সিভিক পুলিশকর্মী, পাঠানো হলো ছুটিতে*********************************************** দমদম,২২শে জুন—তৃণমূল সরকারের আমলে ‘আইনের পথে চলার’ আরও একটি নজির তৈরি হলো। ট্রাফিক আইন ভাঙা মেয়রের ভাইঝি-র গাড়ি আটকে উলটে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীকেই চলে যেতে হয়েছিল ‘লম্বা ছুটিতে’। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেই ঘটনার হুবহু পুনরাবৃত্তি দোলা সেনকাণ্ডেও। ট্রাফিক আইন ভাঙায় চিনার পার্কে তাঁর গাড়ি আটকে ছিলেন সিভিক পুলিশকর্মী বিভাস রায়। ফলের তাঁকে খেসারত দিতে হলো। তৃণমূল সাংসদের গাড়ি আটকানোর জন্য ওই সিভিক পুলিশকে ‘ছুটিতে’ পাঠানো হলো। আইন রক্ষা করতে গিয়ে আইনরক্ষকদের শাস্তির মুখে পড়ার এই ঘটনাই যেন বেআব্রু করছে তৃণমূলী শাসনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার নিদারুণ চেহারা। যদিও এদিন বিধাননগর কমিশনারেটের তরফে দাবি করা হয়েছে, এরসঙ্গে দোলা সেনের ঘটনার কোন যোগ নেই। ওই সিভিক পুলিশকর্মী আগেই ছুটির দরখাস্ত করেছিল। এদিন তা মঞ্জুর করা হয়। পুলিশি ব্যাখ্যাও দুটি কাণ্ডে হুবহু এক। কলকাতায় মেয়রের ভাইঝি-র কাণ্ডেও অভিযোগকারী পুলিশকর্মীকেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল লম্বা ‘ছুটি’-তে। অবশ্য তা অস্বীকার করে কলকাতা পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছিল, পুলিশকর্মী চন্দন পাণ্ডে নিজেই ছুটির জন্য আবেদন করেছিলেন, সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে, এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই। তবে পুলিশের একাংশের দাবি, গোটাটাই ‘আই ওয়াশ’। যেহেতু কলকাতায় ট্রাফিক আইন ভাঙা ও পুলিশ নিগ্রহের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে খোদ কলকাতার মেয়রের ভাইঝি, তাই মিডিয়ার কাছে যাতে মুখ খুলতে না পারেন সেই কারণেই কৌশলে চন্দন পাণ্ডেকে দিয়েই তড়িঘড়ি ছুটির আবেদন লিখিয়ে নিয়ে তা মঞ্জুর করা হয়। চিনার পার্কের ঘটনাতেও একই অবস্থান নিয়েছে বিধাননগর কমিশনারেট। তবে আশ্চর্যের ঘটনায় দোলা সেনের তরফে কিংবা পুলিশের তরফে কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। ফলে তদন্তও হয়নি। তাহলে এই ঘটনার পরেই কেন ওই সিভিক পুলিশ কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হলো? মুখে কুলুপ বিধাননগর কমিশনারেটের। তবে নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের অভিযোগের আঙুল এক্ষেত্রে তৃণমূলী সাংসদ মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ দোলা সেনের বিরুদ্ধেই। গত ১৯শে জুন সকালে দোলা সেনের গাড়ি বাগুইহাটি-জোড়ামন্দিরের রাস্তা দিয়ে চিনার পার্কের মুখে আসে। গাড়িটা ডিভাইডারের বাঁদিক দিয়ে না গিয়ে ডানদিক দিয়ে রাজারহাট-নিউটাউনের রাস্তার দিকে যেতে চায়। সেই সময়তেই ওই সিগন্যালে কর্তব্যরত এক সিভিক পুলিশকর্মী গাড়িটি আটকান। গাড়ির চালককে ওই পুলিশকর্মী ট্রাফিক সিগন্যাল কেন ভাঙা হলো সেকথা বলেন। তখন ওই গাড়ির চালক পালটা উত্তর দেন যে গাড়িতে ‘এম পি’ বসে আছেন। তখন ওই কর্তব্যরত সিভিক পুলিশকর্মী জানান, ‘এম পি থাকলে কি ট্রাফিক নিয়ম মানা যায় না!’ এই কথা বলার পরেই গাড়ির পিছন সিটে বসা তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন জানলার কাচ নামিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমি বাইরে বেরিয়ে এক থাপ্পড় মারবো, আমি এই রাস্তা দিয়েই যাবো।’ এমনকি পরে তাঁকে উঠবোস করতে বলেন বলেও দাবি করেন তৃণমূলী সাংসদ। পুলিশকর্মীদের অভিযোগ এরপরেই দোলা সেন ওই কর্তব্যরত সিভিক পুলিশের নাম, ঠিকানা সব কাগজে লিখে নিয়ে চলে যান। যাওয়ার সময় হুমকিও দেন, ‘দেখ কী হয়’। দোলা সেনের হুমকিতেই অবশেষে সেই সিভিক পুলিশকে ‘ছুটি’-তে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেই মনে করছেন নিচুতলার পুলিশ কর্মীরাও। যদিও স্বাভাবিকভাবেই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিধাননগর কমিশনারেট। গত চার বছরের তৃণমূল সরকারের আমলে শাসকদলের নেতা, কর্মীদের ‘সাত খুন মাফ’—এই ঘটনার বারে বারে ঘটেছে। তৃণমূল নেত্রী দোলা সেনই নিবেদিতা সেতুতে তাঁর গাড়ি আটকানোর জন্য টোল প্লাজার কর্মীকে প্রকাশ্যে চড় মেরেছিলেন। সেই ঘটনায় আজও কোন মামলা হয়নি। তৃণমূল নেতা আবু আয়েশ মণ্ডল আবার এক ধাপ এগিয়ে জুতোপেটা করেছিলেন টোল প্লাজার কর্মীকে। মমতা ব্যানার্জির ভাইপো আকাশ ব্যানার্জিও ট্রাফিক আইন ভাঙার পরে উলটে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকেই চড় মেরেছিলেন। কিছুদিন আগেই মেয়রের ভাইঝিও ট্রাফিক আইন ভেঙে, পুলিশ নিগ্রহ করেও বহাল তবিয়তে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করলেও আজ পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সাহস দেখাতে পারেনি পুলিশ। বরং বিধানসভায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ‘বাচ্চা মেয়ে’ বলায় তদন্তে যে কার্যত শেষ হয়ে গেছে তাও স্পষ্ট। উলটে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবলই এখন শাস্তির মুখে। ফলে দোলা সেনের ঘটনাতেও কর্তব্য পালন করার পরেও যে ওই সিভিক পুলিশকর্মীকেই ‘ছুটি’-তে পাঠানো হয়েছে তাতে অস্বাভাবিক কিছু দেখছে না সংশ্লিষ্ট মহল। শুধু তাই নয়, সেদিন দোলা সেনের গাড়ি আটকানোর ঘটনার পরে চিনার পার্কে ওই এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকা পুলিশ কর্মীকেই সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরে বিভাস রায় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘দোলা সেনের গাড়ি রংরুট দিয়ে যাচ্ছিল বলেই আটকেছিলাম। বলা হলো এম পি আছে, এবং আমি নাকি তাঁকে গালিগালাজ করেছি। গাড়ির কাচ তো তোলা ছিল। তাহলে উনি শুনলেন কী করে আমি গালি দিয়েছি। পরে উনি গাড়ির কাচ নামিয়ে আমাকে থাপ্পড় মারার কথা বলেন। এম পি বলে কী কারও গাড়ি আইন না মানলেও আটকানো যাবে না?’ সংবাদমাধ্যমের আড়ালে রাখার জন্যই কি তাহলে ওই সিভিক পুলিশ কর্মীকে দোলা সেনের ‘সুপারিশ’ অনুযায়ী ছুটিতে পাঠালো বিধাননগর কমিশনারেট?

No comments: