RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, June 21, 2015

DEBAPRIYA CHATTOPADHYAY - দোষীকেই প্রশ্রয় মুখ্যমন্ত্রীর মেয়রের ভাইঝিকে ‘বাচ্চা মেয়ে’ বলে দুষলেন পুলিশকেই নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা, ২৬শে মে— মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এবার ‘বাচ্চা মেয়েদের ঘটনা’। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে ধাক্কা মারা এবং তারপরে ট্রাফিক পুলিশকর্মীকে নিগ্রহ করার ঘটনায় অভিযুক্ত কলকাতার মেয়রের ভাইঝিকে ‘বাচ্চা মেয়ে’ বলে সার্টিফিকেট দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর লাইসেন্স দেখতে চেয়ে নিগৃহীত পুলিশ কর্মীকে দোষ দিলেন স্পর্ধা দেখানোর জন্য, পরামর্শ দিলেন কাউন্সেলিংয়ের। রায়গঞ্জে তৃণমূল নেতারা অধ্যক্ষকে পেটানোর পরে মুখ্যমন্ত্রী সাফাই দিয়ে বলেছিলেন, ছোটো ছোটো ছেলেদের ঘটনা। এবারের ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, বাচ্চা মেয়ের একটা ঘটনা, তারজন্য পুলিশ লাইসেন্স সিজ করে নেবে? কনস্টেবল এরকম করতে পারে নাকি? আমার মনে হয় এদের কাউন্সেলিং দরকার। গত শুক্রবার রাতে রাসবিহারী মোড়ে কলকাতার মেয়র শোভন চ্যাটার্জির ভাইঝি দেবপ্রিয়া চট্টোপাধ্যায় রেস্তোরাঁয় পার্টি সেরে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে ফেরার পথে এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন। কর্তব্যরত ট্রাফিক কনস্টেবল চন্দন পান্ডে গাড়ি আটকে দেবপ্রিয়ার লাইসেন্স দেখতে চান। কিন্তু মেয়রের পরিচয় দিয়ে দেবপ্রিয়া এবং তাঁর বন্ধুরা লাইসেন্স দেখানোর বদলে কনস্টেবলকে মারধর করেন। নিগৃহীত চন্দন পান্ডে থানায় দেবপ্রিয়া চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও পুলিশ তাঁকে তো ধরেইনি, উলটে চন্দন পান্ডেকে ছুটিতে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার বিধানসভায় এই ঘটনাসহ রাজ্যে পুলিশের ওপরে আক্রমণের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব তুলতে চেয়েছিলেন বামফ্রন্ট বিধায়করা। প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার অনুমতি না মেলায় তাঁরা অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন। বিধানসভায় তখন নিজের চেম্বারে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী দল কক্ষত্যাগ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি বিধানসভায় ঢোকেন। তারপরে কংগ্রেস বিধায়ক মানস ভুঁইয়া মালদহে হকার উচ্ছেদ নিয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে বিবৃতি দিতে অনুরোধ করতেই মুখ্যমন্ত্রী উঠে দাঁড়ান এবং প্রথমেই মেয়রের ভাইঝিকে ‘বাচ্চা মেয়ে’-র সার্টিফিকেট দিয়ে দিলেন। দেবপ্রিয়া চট্টোপাধ্যায় যে রাতে কাণ্ডটি ঘটান, সেদিনই দুপুরে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা ব্যানার্জি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে বলেছিলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলায় অবনতির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সব অপপ্রচার, কুৎসা। এদিনও বিধানসভায় বলতে উঠে পুলিশ পেটানোর ঘটনাকে কোনো ঘটনাই নয় বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাচ্চা মেয়েদের একটি ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে এত রাজনীতির কী আছে! এরকম ঘটনা রাস্তায় আপনাদের সঙ্গে ঘটে না? বিধানসভার গেটের বাইরে পুলিশের সঙ্গে বিধায়কদের গোলমাল হয়নি? সাংবাদিকদের সঙ্গে হয় না?’ যা ঘটেছে তার দায়ও পুলিশ কর্মীর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের প্রতি আমার সিমপ্যাথি আছে। কিন্তু সব রাজনীতিক যেমন সৎ নয়, সব পুলিশও সৎ হয় না। পুলিশের মধ্যেও ১শতাংশ থাকে। অনেকেই ভালো কাজ করছেন। কিন্তু কেউ কেউ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বাচ্চা মেয়েদের ঘটনায় পুলিশ লাইসেন্স সিজ করে নেবে? কনস্টেবলের লাইসেন্স সিজ করার অধিকার আছে? আমি মনেকরি শান্ত হয়ে কাজ করলে ভালো কাজ হয়। সবার কাউন্সেলিং দরকার।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই কথার পরে দেবপ্রিয়া চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত কেমন হবে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী একথাও বলেছেন, ‘আমি তদন্তে ইন্টারফেয়ার করছি না। কার বাড়াবাড়ি সেটাও বলছি না।’ মালদহে গুলি চালানো ও পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মালদহের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। প্রথমে আর পি এফ মেরেছে, তারপরে হকাররা মেরেছে। আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়, কিন্তু কাল আর পি এফ একতরফাভাবে হকারদের তুলতে গেছে। রাজ্যের সঙ্গে কথা বলেনি। এটা আর পি এফ –এর ঘটনা। কিন্তু দায় রাজ্যের ঘাড়ে এসে পড়ে। বি এস এফ গুলি চালালেও আমাদের ঘাড়ে দায় এসে পড়ছে। আমরা জোর করে কাউকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে। হকারদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করার বিরুদ্ধে। হকারদের সঙ্গে কথা বলে বুঝিয়ে সুঝিয়ে করলে এত ঝামেলা হতো না। ট্রেন ঠিকমতো চালাতে যা করতে হয় করতে হয় করুক, কিন্তু হকারদের সঙ্গে কথা বলে করুক। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সি পি আই (এম), কংগ্রেস, বি জে পি এক হয়ে গেছে। রামধনু তৈরি করছে। সবাই মিলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসা করছে। বিরোধীরা কোনো দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। রাস্তায় যখন তখন বসে পড়া, প্রতিদিন বন্ধ করা, এসব আমরা কখনো করিনি। কিন্তু এখন নেগেটিভ কাজকেই মিডিয়াতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

No comments: