RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, June 24, 2015

AMBEDKAR-PERIYAR STUDY CIRCLE - স্বেচ্ছাচারী প্রবণতা দেশে কি মগের মুলুক চালু হয়েছে? নাকি জরুরি অবস্থা? যে দেশ বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে দাবি করে সেখানে সরকারের সমালোচনা করার অপরাধে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হয়! সংবিধান তার প্রত্যেক নাগরিককে বাক্স্বাধীনতা দিলেও সরকার রক্তচক্ষু দেখিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নিতে চায়! গণতন্ত্রে সরকারের পক্ষে বলার অধিকার যেমন আছে তেমনি সমালোচনা করারও পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যারা ক্ষমতার আসনে বসবেন তাদের সর্বাগ্রে দরকার সমালোচনা বা বিরোধিতা শোনার সহনশীলতা, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা। নচেৎ গণতন্ত্রে তারা পরিত্যজ্য। কেন্দ্রে মোদী সরকারের ক্ষেত্রে এখন এই গুরুতর বিষয়টিই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ভারতের একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুঘলকি কর্মকাণ্ডে। আর সেই গর্হিত ও নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের মদতদাতা হিসেবে যদি খোদ কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের নাম উঠে আসে তাহলে গোটা সরকারের মুখেই একটি স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা সভায় মোদী সরকারের সমালোচনা হতে পারে এই আশঙ্কায় শুধু অনুষ্ঠানটিই বন্ধ করা হয়নি, উদ্যোক্তা ছাত্র সংগঠনটিকেও নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমধন স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কাম্য হতে পারে না। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আই আই টি) মাদ্রাজের তফসিলি জাতি-উপজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরি সংগঠন ‘আম্বেদকর পেরিয়ার স্টাডি সার্কল।’ এই সংগঠনের উদ্যোগে একটি সভার আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রচারিত লিফলেটে মোদী সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে। এটাই গুরুতর অপরাধ। অতএব এক কলমের খোঁচায় নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে সংগঠনটি। এমন স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব এই ঘটনায় নানাভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আই আই টি) মাদ্রাজের তফসিলি জাতি-উপজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরি সংগঠন ‘আম্বেদকর পেরিয়ার স্টাডি সার্কল।’আশ্চর্যজনক ঘটনা হলো, যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এমন কর্মকাণ্ড সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিষয়টি নিয়ে গোড়ায় তেমন কোন উচ্চবাচ্য না করলেও কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের তাড়নায় আচমকা অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার অভিযোগপত্র হিসেবে গৃহীত চিঠিটি মাদ্রাজ আই আই টি কর্তৃপক্ষের কাছে যায়নি। গিয়েছে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরে, যার মন্ত্রী বিতর্কিত স্মৃতি ইরানি। যে চিঠিটি চেন্নাই থেকে ইরানির কাছে পৌঁছেছে তা বেনামী। সাধারণভাবে কোনো বেনামী চিঠির গ্রহণযোগ্যতা না থাকলেও এক্ষেত্রে ইরানির দপ্তর চিঠিটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। সম্ভবত তাতে মোদী সরকারের সমালোচনার গন্ধ পাওয়া গিয়েছে বলেই ইরানি অতি তৎপরতা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি আই আই টি মাদ্রাজ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠির কপি পাঠিয়ে তাদের মতামত চেয়ে পাঠানো হয়। আই আই টি কর্তৃপক্ষ ধরে আনতে বলার পর বেঁধে আনার মতো সংগঠনটিকেই নিষিদ্ধ করে দেয়। এখন প্রশ্ন হলো চিঠিটি কে বা কারা বেনামে লিখেছে? আই আই টি কর্তৃপক্ষের কাছে না পাঠিয়ে কেনই বা ইরানির কাছে পাঠানো হয়েছে? ইরানিই বা একটা বেনামী চিঠি নিয়ে এতোটা সক্রিয় হলেন কেন? বোঝাই যাচ্ছে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। ব্যাপারটা পূর্ব পরিকল্পিত বা সাজানো হলেও আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না। কারণ ঘটনা পরম্পরা তেমনটাই ইঙ্গিত করছে। ছাত্র সমাজে মোদী সরকার সম্পর্কে মোহভঙ্গের বাস্তবতার মধ্যে মোদীর সমালোচনা বৃদ্ধিকে মেনে নিতে রাজি নয় সরকার। তাই গোড়াতেই কণ্ঠরোধ করতে তৎপর। তাই বাক্স্বাধীনতা কেড়ে নেবার এমন ঔদ্ধত্য।

No comments: