RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Wednesday, June 24, 2015

ACCOUNTS OF TRINAMOOL CONGRESS - তৃণমূলের লেনদেনের হিসাব দিলেও ব্যাঙ্কের কাছে আরও তথ্য জানতে চাইলো সি বি আই ****************************************কলকাতা, ৩০শে মে— তৃণমূলের আয়-ব্যয়ের রিপোর্টকে ভিত্তি করে সারদার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের তদন্ত এগোলো আরও এক ধাপ। যা নতুন করে ফের তৃণমূলের সারদা-অস্বস্তি বাড়ালো। তৃণমূলের সন্দেহজনক ২১টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় লেনদেনের তথ্য জানতে চেয়েছিল সি বি আই। এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের হরিশ মুখার্জি শাখার তরফে ৭২ঘণ্টার মধ্যেই সেই তথ্যসহ রিপোর্ট জমা পড়লো সি বি আই দপ্তরে। অবশ্য এই রিপোর্টের পরেও আরও বেশ কিছু তথ্য চেয়ে শনিবার ফের সি বি আই-র তরফে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। তৃণমূলের আর্থিক জালিয়াতির ‘কেউটের ঝাঁপি’ সম্ভবত খুলে যেতে পারে ওই ২১টি অ্যাকাউন্টের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যে— মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরাও। সি বি আই-র একটি সূত্রেই জানা গেছে, শুধু ত্রিনেত্র-র মতো ভুয়ো সংস্থার টাকাই যে শুধু তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে ঢুকেছিল তা নয়, আরও একাধিক ভুয়ো সংস্থার টাকা ঘুরপথে সারদা হয়ে ঢোকে শাসক তৃণমূলের তহবিলে। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এই টাকার ঢোকার পরিমাণ সবথেকে বেশি। এমনকি ওই রাষ্ট্রায়ত্ত এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের ২১টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে এমন বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে যেখানে একই দিনে একাধিকবার বিপুল পরিমাণ টাকা ঢোকে এবং সেদিনই তা তুলে নেওয়া হয়, যা রীতিমতো সন্দেহজনক বলেই মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সি বি আই-র নোটিসের মুখে ২০১০-১৪ পর্যন্ত চার বছরের দলের আয় ব্যয়ের হিসাবের রিপোর্ট জমা দিতে বাধ্য হয়েছিল তৃণমূল। দেড় মাস আগে ৮৭পাতার সেই নথি তৃণমূলের তরফে দেওয়া হয় সি বি আই-র কাছে। একটি চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে রাজ্যের শাসকদলের কাছে হিসাবপত্র চাইতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সি বি আই-কে। গোটা দেশে যা রীতিমত নজিরবিহীন। শাসক তৃণমূলের তরফে হিসাবপত্র জমা দেওয়ার পরেও তাতে সন্তুষ্ট না হওয়ায়, বিস্তর অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়ায় ফের ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে যাবতীয় লেনদেনের হিসাব চাইছে, এটাও বেনজির ঘটনা। কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে এভাবে একটি রাজনৈতিক দলের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকার ঘটনায় বিস্মিত তাঁরা। ব্যাঙ্কের তরফে যে নথিপত্র পাঠানো হয়েছে সে সম্পর্কে সরকারিভাবে সি বি আই-র তরফে কিছু জানাতে অস্বীকার করা হলেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, যে সন্দেহ থেকে সি বি আই ব্যাঙ্কের কাছে তৃণমূলের ২১টি অ্যাকাউন্টের নথি চেয়েছিল, সেই সন্দেহ সত্যি হয়েছে। ‘অনুদানের’ নামে রাষ্ট্রায়ত্ত এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের ২১টি অ্যাকাউন্টগুলিতে বিভিন্ন নির্বাচনের সময়তেই শাসকদলের তহবিলে বিপুল পরিমাণ টাকা ঢোকে। সি বি আই তরফে নির্দিষ্টভাবে কোথা থেকে টাকা ঢুকছে, কোন ব্যক্তির নামে সেই টাকা আসতে কী না, ঐ অ্যাকাউন্টগুলি কে বা কারা খুলেছে, তাই জানতে চাওয়া হয়েছিল। সে সম্পর্কে তথ্যও দিয়েছে এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। যদিও সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই সি বি আই-র আরও কিছু প্রশ্ন রয়েছে লেনদেন সম্পর্কিত। এবার সেই অতিরিক্ত ‘সাপোর্টিভ ডকুমেন্ট’ চেয়ে এদিন ফোন যায় ওই ব্যাঙ্কের হরিশ মুখার্জি রোড শাখায়। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের রিপোর্ট পাওয়ার পরে কী ব্যবস্থা নিতে পারে সি বি আই? একাধিক সম্ভাবনা সামনে আসছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলের আর্থিক লেনদেনের বিস্তর অসঙ্গতির রহস্য জানতে দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কিংবা কোষাধ্যক্ষকে তলব করা হতে পারে। যদিও তৃণমূলের তরফে সি বি আই-কে আগাম জানিয়ে রাখা হয়েছে যে সময়কালের কথা বলা হচ্ছে অর্থাৎ ২০১০-১৪ আর্থিক বর্ষ, সেই দলের সব হিসাবপত্র দেখতেন মুকুল রায়। সি বি আই-র তরফে প্রয়োজনে তাঁকে ফের ডাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। ২০১৩-১৪ সালের আয়-ব্যয়ের যে রিপোর্ট তৃণমূলের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল তাতেই উল্লেখ করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ৩১শে মার্চ ত্রিনেত্র নামক একটি সংস্থা থেকে তহবিলে ঢোকে ১কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের শাখার মারফত এই লেনদেন হয়। যদিও ত্রিনেত্রকাণ্ড সামনে আসার পরে তৃণমূলের তরফে ফের নির্বাচন কমিশনে জানানো হয় ওই টাকা অনুদান নয় ঋণ হিসাবে নেওয়া হয়েছিল। এত বিপুল টাকা ঋণ হিসাবে নিতে গেলেও যে কাগজপত্র দাখিল করতে হয় তা দেখাতে পারেনি তৃণমূল। অসঙ্গতির সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে গিয়েই সি বি আই-র চোখে ধরা পড়ে তৃণমূলের আর্থিক জালিয়াতির সেই চিত্র। তৃণমূলের তরফে জমা দেওয়া চার বছরের আয় ব্যয়ের নথি ঘেঁটে সি বি আই-র গোয়েন্দা আধিকারিকরা রীতিমত বিস্মিত। একদিকে ভুয়ো সংস্থা থেকে টাকার আদানপ্রদান, অন্যদিকে নাম না জানানো ‘সূত্র’ থেকে বেমালুম ২কোটি টাকা নগদে অনুদান নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে তৃণমূলের আয়-ব্যয়ের রিপোর্টে! ত্রিনেত্র-র অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ঢোকার ঠিক দু-সপ্তাহ আগেই ২০১৪ সালের ১৭ই মার্চ একইদিনে দু’দফায় নগদে ১কোটি করে টাকা ঢোকে তৃণমূলের তহবিলে। এক্ষেত্রে অডিট রিপোর্ট এই ২কোটি টাকা ‘অনুদান’ হিসাবেই দেখানো হয়েছে। ত্রিনেত্র নামক কোম্পানি যে আসলে ভুয়ো এবং তার মারফত কালো টাকা সাদা হয়েই যে শাসকদলের তহবিলে ঢুকেছে এবিষয়ে নিশ্চিত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ই ডি’ও। ই ডি-র তদন্তকারী আধিকারিকরা দেখতে পেয়েছেন, ২০১৪ সালের ২৯শে মার্চ ত্রিনেত্র সংস্থায় প্রথমে ঢোকে ১কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। সেখান থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নিজেরা নিয়ে নেওয়ার পরে বাকি ১কোটি ৪০ লক্ষ টাকা দুদিন পরে ৩১শে মার্চ পাঠিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূলের নির্বাচনী তহবিলে!

No comments: