RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, June 21, 2015

যোগ ধামাকা - হরিলাল নাথ **************************************************************************************** রাষ্ট্রসঙ্ঘের ঘোষণা অনুযায়ী ২১শে জুন পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব যোগ দিবস’। বিশ্বজুড়ে মানব সভ্যতার সামনে নানান সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করা, ক্ষতিকর প্রবণতা থেকে মানুষকে রক্ষা করা, অনেক বিপদ-বিপর্যয় থেকে মানব জাতিকে রক্ষা করার আগাম সতর্কতা ইত্যাদি প্রশ্নে সামগ্রিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে বছরের বিভিন্ন দিনে এক একটি দিবস পালনের আহ্বান জানানো হয়। কিছু কিছু দিবস কোন বছরের একটা দিনেই পালিত হয়। আবার কিছু কিছু দিবস আছে যেগুলি প্রতি বছরই একটা নির্দিষ্ট দিনে পালিত হয়। সমগ্র মানব জাতি তথা মানব সমাজের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবে এধরনের দিবস উদ্যাপনের রীতি চালু হলেও ইদানিং পুঁজিবাদী তথা কর্পোরেট বিশ্বায়নের যুগে বৃহৎ পুঁজি ও কর্পোরেট স্বার্থের চাপেও কিছু কিছু দিবস পালিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে কর্পোরেট সংস্থা ও কর্পোরেট মিডিয়া বাড়তি উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও পরিষেবার বাজার সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করে। পরোক্ষে ভোগবাদী মানসিকতাকে উসকে দিয়ে বাড়তি মুনাফার পথ সুগম করে। যে সমস্ত দিবস পালনে মানব জাতির বৃহত্তর স্বার্থ সুরক্ষিত হবার সম্ভাবনা থাকলেও কর্পোরেট পুঁজির কোন স্বার্থ থাকে না, বরং কর্পোরেট স্বার্থহানির আশঙ্কা থাকে সে সব ক্ষেত্রে কর্পোরেট মিডিয়া হাত গুটিয়ে নেয়। এমনকি বৃহৎ পুঁজির প্রতিনিধিত্বকারী সরকারগুলিও উদাসীন থাকে। এসব ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে আসে জনস্বার্থের পক্ষে আন্দোলনকারী বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি। আবার কিছু ক্ষেত্রে শাসকদলের রাজনৈতিক ও আদর্শগত স্বার্থে সর্বাগ্রে থাকে সরকার ও শাসকদল। ‘বিশ্ব যোগ দিবস’ পালনের সঙ্গে সঙ্ঘ পরিবার এবং বি জে পি তাদের হিন্দু সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদী আদর্শের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে এবং এই দিবসকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও ধর্মীয় মেরুকরণের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছে। তাই বিশ্ব যোগ দিবস পালনের সিদ্ধান্তটি ১৭৭টি দেশের সহমতের ভিত্তিতে গৃহীত হলেও এবং এর উদ্যাপনে বিশ্বের আর কোন দেশে তেমন উৎসাহ দেখা না গেলেও মোদী সরকারের উৎসাহ ও উদ্দীপনার অন্ত নেই। যোগ দিবস পালনের পরিকল্পনা ও প্রচার প্রস্তুতিতে অত্যুৎসাহ ও অত্যাশ্চর্য তৎপরতায় মোদী সরকার যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং তার সঙ্গে বি জে পি তথা গোটা সঙ্ঘ পরিবার যেভাবে মাতামাতি শুরু করেছে তাতে মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে ভারতের জনগণের আর কোন সমস্যা নেই, ছিটেফোঁটা কিছু থাকলেও যোগাসনে মাতাল হাওয়ায় সব ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। সরকার মনে করছে যোগচর্চার মধ্য দিয়ে সারা দুনিয়ায় সাড়া ফেলে দেবে। আর দেশের মানুষের দৃষ্টি যাবতীয় সমস্যা-সংকট থেকে সরিয়ে যোগানন্দে মোহময় করে তুলবে। দেশে ভয়াবহ কৃষি সংকট। কৃষি উৎপাদন তলানিতে। কৃষকের আত্মহত্যার মিছিল দ্রুত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এরই মধ্যে গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মতো খরার আশঙ্কা। শিল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। মানুষের আয় বাড়ছে না। পণ্য-পরিষেবার চাহিদা কমছে। জীবন-জীবিকার সংকট ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এমন এক পরিস্থিতিতে যখন সরকারের যুদ্ধকালীন তৎপরতা নিয়ে কাজে নামার কথা তখন তা না করে সরকার মেতে উঠেছে যোগচর্চায়। প্রধানমন্ত্রী মনযোগ দিয়েছেন প্রতিদিন টুইট করে এক একটি যোগাসন ক্রিয়া বর্ণনায়। প্রতি বছর ৩৬৫ দিনের মধ্যে অন্তত ১৫০ দিন কোন না কোন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হয়। এর অধিকাংশেরই কেউ খবর রাখে না। চলতি জুন মাসেই রয়েছে ১৯টি আন্তর্জাতিক দিবস। এর মধ্যে ১লা জুন পিতামাতা দিবস, ৫ই জুন পরিবেশ দিবস, ৬ই জুন রুশ ভাষা দিবস, ১৪ই জুন রুক্তদান দিবস, ১৫ই জুন বয়স্কদের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা দিবস, ২৩শে জুন বিধবা দিবস, ২৫শে জুন নাবিক দিবস ইত্যাদি। সবকটিই রাষ্ট্রসঙ্ঘ ঘোষিত। এই দিবসগুলি নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য না করলেও মোদী সরকারের পাখির চোখ শুধুমাত্র যোগ দিবসের দিকে। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে বিশ্ব যোগ দিবস পালনের সিদ্ধান্তের পেছনে নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা সর্বাধিক। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বজুড়ে যোগচর্চা ও যোগ সাধনা প্রসারের উদ্দেশ্যে বিশ্ব যোগ দিবস পালনের সওয়াল করেছিলেন মোদী। ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘ সিদ্ধান্ত নেয় ২১শে জুন বিশ্ব যোগ দিবস পালিত হবে। এই ২১শে জুনেই যোগ দিবস পালনের জন্য জোরাজুরিও করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। উদ্দেশ্য পরিষ্কার। ঐদিন আর এস এস-র প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওকারের জন্মদিন। আবার এই আর এস এস-ই বহুকাল ধরে প্রচার করে আসছে যোগ হলো হিন্দুদের জীবনাচরণের অংশ (হিন্দু ওয়ে অব লাইফ) সমস্ত আর এস এস সদস্যদের হিন্দু ধর্মীয় জীবনাচরণে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে নিয়মিত যোগচর্চা বাধ্যতামূলক। তেমনি আর এস এস-র হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ প্রচার ও প্রসারের অন্যতম বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয় যোগচর্চা। দেশে যত ‘যোগগুরু’ আছে তাদের অধিকাংশ প্রায় আর এস এস-র মতাদর্শের অনুসারী। ফলে আর এস এস, বি জে পি, যোগগুরু, মোদী সরকার, যোগচর্চা ইত্যাদি সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে হিন্দুত্ববাদের গহিন জলে। স্বাভাবিকভাবেই যোগ দিবস পালনে মোদী সরকার প্রায় সব দপ্তরের মন্ত্রী-আমলা-কর্মী সকলকে নিয়ে নেমে পড়েছে। বি জে পি-রও এখন একটাই দলীয় কর্মসূচি। যোগ দিবসের কর্মসূচিতে গোটা পার্টিকে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর সঙ্ঘ পরিবার তো আত্মহারা। বিশ্ব যোগ দিবস ঘোষণার পেছনে নরেন্দ্র মোদীর কৃতিত্ব প্রচার করা হলেও এই ভাবনাটা প্রথম মাথায় আসে এক পর্তুগিজ যোগগুরুর। লিসবনের বাসিন্দা জনৈক অমৃতসূর্যানন্দ ২০০৪ সালে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অমৃতসূর্যানন্দর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে যোগগুরু এইচ আর নগেন্দ্রর। বাঙ্গালুরুর স্বামী বিবেকানন্দ যোগ অনুসন্ধান সংস্থানের (ডিম্ড বিশ্ববিদ্যালয়) উপাচার্য হলেন নগেন্দ্র। এই যোগ কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর যাতায়াত আছে। এই নগেন্দ্রকেই মোদী আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অর্গানাইজিং কমিটির প্রধান করেছেন। বস্তুত মোদী ক্ষমতায় আসার পরই যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রচার-পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছিলেন। ডিসেম্বরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফে যোগ দিবস পালনের কথা ঘোষিত হবার পরই মোদী সরকার সিদ্ধান্ত নেয় দেশে ও বিদেশে এই দিবস পালনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের সর্বত্র ৬৫০টি শহরে এই অনুষ্ঠান হবে। দিল্লির রাজপথে হবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। তাতে অংশ নেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। অন্য মন্ত্রীরা যাবেন দেশের অন্যান্য শহরে। দেশের বাইরে ১৯২টি দেশে যেখানে ভারতীয় দূতাবাস আছে সর্বত্র এই কর্মসূচি পালন করবে ভারত। সর্বত্র অনুষ্ঠানগুলিতে প্রশিক্ষক পাঠানো হবে। সমস্ত খরচ হবে ভারত সরকারের তহবিল থেকে। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদর দপ্তরের অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সঙ্গে যাবেন যোগগুরু রবিশঙ্কর। এইভাবে দেশে বিদেশে কয়েক শত প্রশিক্ষক পাঠানোর খরচ দেবে সরকার। দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে থাকবেন রামদেব। দিল্লিতে একযোগে ৩৫ হাজার মানুষের যোগচর্চা করিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করার পরিকল্পনা হয়েছে। তার জন্য ৪৫ হাজার জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে প্রস্তুতি চলছে। সব মিলিয়ে লক্ষ্য ২ কোটি জমায়েতের। ২১শে জুন রবিবার সত্ত্বেও মহারাষ্ট্র সরকার ঐ দিন সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে সকল ছাত্রছাত্রীকে যোগ অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে বলেছে। যোগ দিতে বলা হয়েছে ১১ লক্ষ এন সি সি ক্যাডেটকে। যোগ দিতে হবে ১৩ লক্ষ সেনা জওয়ানকে এবং ৯ লক্ষ সশস্ত্র পুলিশকে। এর বাইরে সঙ্ঘ পরিবার চালিত প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলি হাজির করবে তাদের সঙ্গে যুক্ত সকলকে। বি জে পি-ও তাদের সর্বস্তরের সংগঠনের মাধ্যমে জমায়েত করবে। সন্দেহ নেই যোগ অনুষ্ঠানের নামে সরকারি কোষাগার থেকে বেরিয়ে যাবে কয়েকশো কোটি টাকা। সাধারণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যোন্নতির জন্য মোদী সরকার এমন বিপুলায়তন কর্মসূচি নিয়েছে এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। মূলত তিনটি বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই নজিরবিহীন আলোড়ন সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। প্রথমত, দেশে আর এস এস-বি জে পি-র রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তার ও শক্তিশালী করার জন্য সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও ধর্মীয় মেরুকরণকে জোরদার করা। দ্বিতীয়ত, যোগের ভারতীয় উৎসকে সফ্ট পাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিদেশে ভারতের প্রভাব বিস্তার করা। তৃতীয়ত, জনজীবনের জরুরি সমস্যাগুলিকে চাপা দিতে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি পালনের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে যোগ দিবস নিয়ে অস্বাভাবিক, অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় মাতামাতি করে মানুষের নজর ঘোরানো। এটা ঠিক যোগচর্চার আদি উৎস ভারত। প্রধানত মুনি, ঋষি, সাধু, সন্ন্যাসীরা তাদের ধর্মাচরণের অনুষঙ্গ হিসেবে যোগকে ব্যবহার করতেন। ধ্যানকালে বা দেবতার প্রার্থনায় মনসংযোগ বৃদ্ধির জন্যও যোগচর্চা অভ্যাস করা হতো। গুরু থেকে শিষ্যদের মধ্যে এই চর্চা প্রসারিত হতো। অর্থাৎ শুরুতে হিন্দু ধর্মীয় সংস্কারের অঙ্গ হিসেবে যোগ আচরীয় প্রথায় পরিণত হয়। সেই সুবাদে বেদ-উপনিষদসহ নানা ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মাশ্রয়ী গ্রন্থে যোগ নানাভাবে জায়গা দখল করে নিয়েছে। পরবর্তীকালে আধুনিক চিন্তার বিকাশ ও শিক্ষার প্রসারের ফলে যোগচর্চা শরীর ও মনের সুস্থতা রক্ষায় ব্যায়াম হিসেবে সাধারণের মধ্যে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু তথাকথিত ধর্মগুরুরা তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়াতে ও ধরে রাখতে যোগকে কৌশলে ধর্মাচরণের মোড়কে জনপ্রিয় রাখতে বদ্ধপরিকর। তাই যত যোগগুরুর আবির্ভাব ঘটেছে তাদের প্রায় সকলেরই আধার হিন্দু ধর্মীয় ঘরানা। আশ্রম, ধর্মচর্চা, দেবতার ভজন-পূজন, আধ্যাত্মিক জীবনাচরণ ইত্যাদির সঙ্গে তারা যোগকেও যুক্ত করে নেন। হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতির আধারেই যেহেতু তৈরি হয়েছে আর এস এস-র হিন্দু সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ তাই হিন্দুত্বের ধারণার প্রসারে অন্যান্য অনেক আচরণের সঙ্গে যোগ হয়ে উঠেছে হিন্দুত্বের অন্যতম হাতিয়ার। যোগকে আশ্রয় করে তারা হিন্দুত্বের আওতায় আরও বেশি বেশি মানুষকে আনতে চায়। সেজন্য বহুদিন আগে থেকেই তারা যোগচর্চাকে হিন্দু ওয়ে অব লাইফ হিসেবে প্রচার করছে। বিশ্ব যোগ দিবস এবং তাকে ঘিরে এমন উন্মাদনা ও মাতামাতির রহস্য লুকিয়ে আছে এখানেই। কোন দেশের কোন বিশেষ সামাজিক বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বা উত্তরাধিকারকে ব্যবহার করে অন্য দেশের ওপর প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সফ্ট পাওয়ার’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিভিন্ন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ‘সফ্ট পাওয়ার’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বি জে পি ভারতের অতীত ঐতিহ্যগুলিকে ধর্মীয় মোড়কে সাজিয়ে গুছিয়ে তার উত্তরাধিকার দাবি করছে। এইসব ঐতিহ্যের কিছু কিছু বিদেশে প্রচার করে মোদী সরকার প্রভাব বিস্তার করতে চায়। বৌদ্ধ ধর্মের আবির্ভাব ভারতে। অথচ এখন ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব ক্ষীণ হয়ে গেলেও বিশ্বের বহু দেশে বৌদ্ধই প্রধান ধর্ম। নরেন্দ্র মোদী তার বিদেশ সফরের সময় বৌদ্ধ ধর্মের আদিভূমি হিসেবে ভারতকে তুলে ধরছেন সচেতনভাবে। শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, চীন প্রভৃতি দেশে বৌদ্ধ ধর্মকে ভারতের সফ্ট পাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সেইসব দেশের মানুষের মধ্যে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির চেষ্টা করেছেন। সর্বত্র তিনি বৌদ্ধ মন্দিরে যাচ্ছেন। বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। একইভাবে মোদী সরকার যোগকে সফ্ট পাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বের সব দেশে প্রভাব ফেলতে চান। তাদের সমীহ আদায় করতে চান। তাই বিদেশের মাটিতে ঘটা করে যোগ দিবস পালনের এত আয়োজন। তৃতীয় কারণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবে মাত্র সরকারের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ক্ষমতায় আসার আগে এবং পরে প্রতিশ্রুতি আর বাগাড়ম্বরের বন্যা বইয়ে দিয়ে মানুষকে মোহগ্রস্ত করা হলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এমন একটি ক্ষেত্র নেই যেখানে প্রতিশ্রুতি মতো কাজ হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সংকটের কোন সুরাহা হচ্ছে না। উলটে সংকট আরও বাড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, অসন্তোষ বাড়ছে। কমছে মোদীর জনপ্রিয়তা। সরকারের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস কমছে। এমন এক অস্বস্তিকর পরিবেশে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মাতামাতি, চমক সৃষ্টির মূলে আছে মানুষের দৃষ্টিকে মূল সমস্যা থেকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। তাই বিশ্ব যোগ দিবসকে যোগ ধামাকায় পরিণত করে মানুষকে তাক লাগিয়ে দেবার চেষ্টা হচ্ছে। যোগ দিবসের চারদিন আগে ১৭ই জুন আন্তর্জাতিক মরুভূমি প্রসার ও খরা প্রতিরোধ দিবস। ক্রমবর্ধমান কৃষি সংকট এবং খরার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এখন সবচেয়ে জরুরি এই দিনটি পালন করা। কিভাবে কম বৃষ্টিপাতের মোকাবিলা হবে? অসময়ের অতি বৃষ্টিতে বিপুল ক্ষতি কিভাবে পূরণ হবে? সেচের এলাকা কিভাবে বাড়ানো হবে? এইসব নিয়েই সরকারের সবচেয়ে বেশি মাথা ঘামানো দরকার। অথচ সরকার কৃষক সমাজের তথা সমগ্র দেশবাসীর এই কঠিন সময়ে যোগানন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছে। -


No comments: