RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, May 5, 2015

মার্কসবাদ—শোষণ মুক্তির মতবাদ


শ্রীদীপ ভট্টাচার্য


পূর্ব ইউরোপ ও পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের বিপর্যয়ের পর বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর শক্তি সাময়িককালের জন্য হলেও কিছুটা দুর্বল। বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বেশকিছুটা পরিমাণে অনুকূল পরিস্থিতি পেয়েছে। তাতে কি পুঁজিবাদ সংকট থেকে মুক্ত হতে পেরেছে? না, মোটেই না। নতুন করে ২০০৭ সাল থেকে যে ভয়াবহ মন্দার সংকটে সমগ্র বিশ্ব পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ছিল জর্জরিত, তার থেকে পূর্ণ মুক্তি তারা অর্জন করতে পারেনি। অগ্রগতির যে দাবি বিশ্ব পুঁজিবাদ ও তার মুখ্য প্রবক্তারা করছে তা অত্যন্ত শ্লথ ও অনিশ্চিত। উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলিতে সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য যে ব্যয় সংকোচের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তাতে শ্রমজীবী জনগণ, মেহনতি মানুষ সরাসরি আক্রান্ত। অর্জিত অধিকার আক্রান্ত, আক্রান্ত রুটি-রুজি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত। পুঁজিবাদ তার অভ্যন্তরীণ গতিধারার পরিণতিতে সংকটে জর্জরিত। মুষ্টিমেয় মানুষের ক্রমস্ফীত সম্পদের বিনিময়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের দারিদ্র্য, কর্মহীনতা, বুভুক্ষা, অধিকারহীনতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিকে মুষ্টিমেয় শোষক, যারা শ্রমিকের রক্ত-ঘামের সৃষ্টিকে কেড়ে নিচ্ছে, অপরদিকে অগণিত শোষিত, বঞ্চিত জনগণ — এটাই হলো পুঁজিবাদ। পুঁজিবাদ মানেই বৈষম্য ও তার বৃদ্ধি। এই বাস্তব তথা সত্যকে উদ্ঘাটিত করলো, উপস্থিত করলো মার্কসবাদ। কার্ল মার্কস ও তার সহযোগী ফ্রেডরিক এঙ্গেলস উনবিংশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠা করলেন মার্কসবাদ। শোষণমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকনির্দেশ করলো মার্কসবাদ।

মার্কসবাদ-শোষণহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার হাতিয়ারমার্কসবাদই প্রথম বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে শুধু বিশ্লেষণই করলো না, এই ব্যবস্থার মধ্যেকার অবর্ণনীয় ও অমানবিক শোষণের দিকটা তুলে ধরলো। শোষণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য। মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে পুঁজিপতিরা কাজ করে। মুনাফার সর্বোচ্চকরণই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উন্নতিকে কাজে লাগিয়ে উদ্বৃত্ত মূল্য (Surplus Value) যা শ্রমিকের শোষণের পরিণামে সৃষ্ট তার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করতে চায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। এরফলে নিঃস্ব, সর্বহারা মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, বাজারের সংকট ক্রমাগত পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে গ্রাস করে। বেকারদের মজুতবাহিনী, কর্মহীনতার বৃদ্ধি এইগুলি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ভূষণ। সাময়িককালের জন্য সংকট মুক্তির রাস্তা পুঁজিবাদ যদি বার করতে পারেও, তাহলে তা সৃষ্টি করবে আগামীদিনের তীব্রতর সংকট। পুঁজিবাদ সম্পর্কে এটাই হলো মার্কসবাদের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা। পুঁজিবাদের অবসান না ঘটলে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। ছোটখাটো সংস্কার পুঁজিবাদী সংকট অর্থাৎ বেকারী, দারিদ্র্য, বৈষম্য, বুভুক্ষার চূড়ান্ত সমাধান করতে সক্ষম নয়, প্রয়োজন পুঁজিবাদের অবসান — যার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে শোষণহীন উন্নত, সমৃদ্ধ সাম্যবাদী সমাজ। সমাজতন্ত্রের মধ্য দিয়েই মানব সমাজের উত্তরণ ঘটবে সাম্যবাদে। সমাজতন্ত্রই উন্নত, সমৃদ্ধ, শোষনহীন সমাজের প্রথম রূপ। পুঁজিবাদের সংস্কার নয়, পুঁজিবাদের অবসান সম্পর্কে এই দিকনির্দেশ, শিক্ষা উপস্থিত করলো মার্কসবাদ।

দর্শন-অর্থনীতি-বিপ্লবের তত্ত্ব

বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি হলো দর্শন। মার্কসীয় দর্শনই হলো মার্কসবাদের ভিত্তি। দর্শন সম্পর্কে এতকালের ভাবনাকে সম্পূর্ণ পালটে দিলো মার্কসীয় দর্শন।

‘দার্শনিকরা এতকাল নানাভাবে পৃথিবীটাকে ব্যাখ্যা করেছেন, কিন্তু মূল কথা হলো একে পরিবর্তিত করা।’ ফয়েরবাখ প্রসঙ্গে থিসিসে কার্ল মার্কস এই বক্তব্যর মধ্য দিয়ে মার্কসীয় দর্শনের মর্মবস্তুকে তুলে ধরলেন।

দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ হলো মার্কসীয় দর্শন। একদিকে বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি (ভাববাদের সম্পূর্ণ বিপরীত) ও তার সাথে দ্বন্দ্বমূলক পদ্ধতির সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠলো দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ—মার্কসীয় দর্শন। দ্বন্দ্বমূলক পদ্ধতির মূল কথা হলো, কোনো কিছুই স্থির নয়, সবকিছুই গতির মধ্যে বিরাজ করছে। স্থিরতা হলো আপেক্ষিক। গতির ফলেই পরিবর্তন। নিরন্তর পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্যে এই বিশ্বজগত বিরাজ করছে। দ্বান্দ্বিকতার নিয়ম হিসেবে বলা হলো—

 সমস্ত বস্তু ও ঘটনার মধ্যে বৈপরীত্য বিরাজ করছে। বিপরীতের সংঘাতই গতির জন্ম দেয়।

 গতির ফলেই পরিবর্তন। পরিবর্তনের ধারা হলো প্রথমে ধীরে, তারপর দ্রুত ও মৌলিক। পরিমাণগত পরিবর্তন থেকে গুণগত পরিবর্তন। সরল থেকে জটিল। অজৈব থেকে জৈব পদার্থে রূপান্তর — প্রাণের আবির্ভাব ও বিবর্তন।

 পুরাতনের বিকাশের মধ্যে দিয়ে নতুনের আবির্ভাব, সেই নতুনের বিকা‍‌শের মধ্য দিয়ে নতুনতরর আবির্ভাব—এভাবেই নেতির নেতিকরণের মধ্য দিয়ে বিকাশের ধারা।

মানব সমাজের ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের নীতিগুলির প্রয়োগে গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। দ্বন্দ্বমূলক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদই হলো মার্কসীয় দর্শন। মানব সমাজের বিকাশের ধারা সঠিকভাবে উপলব্ধি সম্ভব করলো ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। বিকাশের ধারাতেই শ্রেণিহীন স্তর থেকে মানব সমাজের উত্তরণ ঘটলো শ্রেণিবিভক্ত স্তরে। ক্রমোন্নতির ধারাতে অসভ্য থেকে সভ্য স্তরে যেমন মানব সমাজের উত্তরণ ঘটলো, দেখা দিলো শ্রেণী বিভাগ। শ্রেণি বিভক্ত সমাজের ক্রমাগত বিকাশের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাদী সমাজের আবির্ভাব ঘটলো। বিকাশের ধারাতেই পুঁজিবাদী সমাজের নেতি (বাতিল) হবে। শ্রেণি সংগ্রামই হলো এই সমাজ পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। শ্রমিক বনাম পুঁজিপতি-পুঁজিবাদী সমাজের মূল শ্রেণি সংগ্রাম। এই সংগ্রামে শ্রমিক শ্রেণির জয়লাভের মধ্য দিয়ে সর্বহারার রাষ্ট্র স্থাপিত হবে। পুঁজিবাদী সমাজে শোষণে জর্জরিত শ্রমিক শ্রেণি সর্বহারার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শোষণের অবসান ঘটাবে। সর্বহারার রাষ্ট্র বিকাশের ধারায় সেই স্তরে উপনীত হবে যখন শ্রেণির অস্তিত্বের ভিত্তি অবলুপ্ত হবে—রাষ্ট্রও শুকিয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্যবাদ। বিকাশের সম্পূর্ণ নতুন ধারা শুরু হবে।

মার্কসীয় দর্শনের দিকনির্দেশকে অবলম্বন করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত গতি বোঝার প্রয়াস থেকেই মার্কসীয় অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হলো। পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে বোঝার চেষ্টা স্মিথ, রিকার্ডোর মতো দিকপাল অর্থনীতির পণ্ডিতরাও করেছিলেন। মার্কস-ই প্রথম বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে দেখালেন যে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যেই রয়েছে শোষণের উৎস। উদ্বৃত্ত মূল্য (Surplus value) সৃষ্টি ও তাকে আত্মসাৎ করাই হলো পুঁজিবাদী সমাজের বৈশিষ্ট্য। মুষ্টিমেয় পুঁজিপতি যারা বিপুল সম্পদের মালিক, অপরদিকে অগণিত মেহনতি জনগণ, যাঁরা শোষণের শিকার, সম্পদহারা—এটাই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মর্মবস্তু। অথচ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বিজ্ঞান-প্রযুক্তির প্রভূত বিকাশের কারণে উৎপাদনের চরিত্র সামাজিক। একক নয়, উৎপাদনের চরিত্র ক্রমাগত হয়ে উঠেছে সামাজিক। অথচ মালিকানা পুঁজিবাদী—ব্যক্তিগত। সামাজিক উৎপাদনের সাথে ব্যক্তিগত পুঁজিবাদী মালিকানার দ্বন্দ্বই পুঁজিবাদী সমাজের মৌলিক দ্বন্দ্ব। এই মৌলিক দ্বন্দ্বের কারণে পুঁজিবাদী সমাজের পতন ঘটে প্রতিষ্ঠিত হবে সামাজিক মালিকানার সমাজ—সমাজতন্ত্র। এই রূপান্তর ঘটবেই এবং তা ঘটবে সমাজ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। এইভাবে পুঁজিবাদী সমাজের পতনের অবশ্যম্ভাবীতাই তুলে ধরলো মার্কসীয় অর্থনীতি/ অবধারিত বিপ্লবের কথাই তুলে ধরলো।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটাবে শ্রমিক বিপ্লব— সর্বহারার বিপ্লব। সর্বহারার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। সর্বহারাকে বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করা—বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজন সর্বহারার পার্টি— কমিউনিস্ট পার্টি।শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মহান ঐতিহাসিক লক্ষ্য নিয়েই কমিউনিস্ট পার্টির কার্যধারা। ১৮৪৮ সালে ‘কমিউনিস্ট ইশ্‌তেহার’-এর মধ্যে দিয়ে যে লক্ষ্য নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি তা তুলে ধরলেন মার্কস ও এঙ্গেলস। বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় রেখেই দেশে দে‍‌শে কমিউনিস্ট পার্টিকে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রণনীতি গ্রহণ করতে হবে। সেই রণনীতিকে সামনে রেখে পরিস্থিতির নিরন্তর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রণকৌশল স্থির করার দায়িত্ব দেশে দেশে কমিউনিস্ট পার্টিগুলির। সর্বহারার বিপ্লবই পুঁজিপতিদের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে অপসারিত করবে — গড়ে তুলবে সর্বহারার রাষ্ট্র। সর্বহারার রাষ্ট্রের পরিচালনায় সমাজ এগিয়ে যাবে আগামী সাম্যবাদী সমাজের দিকে।

পুঁজিবাদী সমাজের পতন শ্রেণি বিভক্ত সমাজব্যবস্থার অবসান ঘটাবে। স্বাভাবিকভাবেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রেণি সংগ্রামের তীব্রতম রূপ উপস্থিত। এর পূর্বে এক ধরনের শোষণের পরিবর্তে আর এক ধরনের শোষণ দেখা দিয়েছে। সমাজ বিপ্লবের মধ্যে দিয়েই এই রূপের পরিবর্তন ঘটেছে। পুঁজিবাদী সমাজের অবসান ঘটার মধ্যে দিয়ে নতুন কোন শ্রেণী শোষণের আবির্ভাব ঘটবে না। প্রতিষ্ঠিত হবে শোষণহীন সমাজ — যা শ্রেণিহীন সাম্যবাদী যাওয়ার পথ ক্রমান্বয়ে প্রস্তুত করবে। মার্কসবাদ এই মহান শিক্ষা উপস্থিত করলো।

মার্কসবাদ নির্দেশিত পথেই অগ্রসর হচ্ছে পৃথিবী

মার্কসবাদ-এর আবির্ভাবের পর ১৬৫ বছরের বেশি সমাজকাল অতিবাহিত। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে নতুন নতুন সঙ্ক‍‌টে জড়িয়ে পড়ছে। শোষণ, দারিদ্র্য, বৈষম্য, বেকারীর সঙ্কট পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অঙ্গ। মূল্যবোধ, নীতিবোধ, সংস্কৃতি সমস্ত কিছু পুঁজির অনুগত দাসে পরিণত করার নিরন্তর প্রয়াস চালাচ্ছে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। সাম্রাজ্যবাদের যুগে পুঁজিবাদী আরো বেশি হিংস্র, অমানবিক। অসংখ্য যুদ্ধের সাথে দুইটি ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধ পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের অবদান। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ওপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা চালিয়েও সঙ্কটকে আড়াল করতে ব্যর্থ পুঁজিবাদ। উপর্যুপরি পুঁজিবাদী সঙ্কট মার্কসবাদের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি করছে। এটাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সমাজতন্ত্রের সাময়িক বিপর্যয়ে উল্লসিত বিশ্ব পুঁজিবাদী শিবির যেভাবে মার্কসবাদকে ভ্রান্ত প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছিল, তার মধ্যে দিয়ে তাদের আতঙ্কই মূর্ত হয়ে উঠেছে। সাময়িক বিপর্যয় বিজ্ঞানকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে না, পক্ষান্তরে এর মধ্যে দিয়ে বিজ্ঞান পুষ্ট হয়, পূরণ করে তার ঘাটতির দিকগুলি। মার্কসবা‍‌দের ক্ষেত্রেও তাই। মার্কসবাদ হলো মানব সমাজের বিকাশের ধারার বিজ্ঞান। মানব সমাজের নিরন্তর বিকাশ ঘটছে বলেই মার্কসবাদ সৃজনশীল বিজ্ঞান। নিরন্তর এই বিকাশ ঘটচ্ছে। প্রতিটি মার্কসবাদীর কর্তব্য হলো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বৈশিষ্ট্যগুলি অনুধাবন করে, সুনির্দিষ্ট ভাবে মতবাদকে প্রয়োগ করা — সর্বহারা বিপ্লবের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য।

মহান কার্ল মার্কসের ১৯৮তম জন্মদিবসে তাঁকে শুধু স্মরণ করলেই হবে না, অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। ‘মার্কসবাদকে আত্মস্থ‌ করে মানবসমাজের বুক থেকে শোষণ ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটানোর সংগ্রামকে তীব্র থেকে তীব্রতর করবোই। কোন প্রতিকূলতার কাছে আত্মসমর্পণ নয়। দু‍‌নিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শকে পাথেয় করে পুঁজিবাদী-সামন্তবাদী শোষক, প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বৈরাচারী শক্তিকে পরাভূত করার লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমরা অগ্রসর হবো।’ 

No comments: