RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Monday, April 27, 2015

সাতাশে এপ্রিল স্মরণে - বনানী বিশ্বাস ***********************************************‘২৭শে এপ্রিল’ নারী শহিদ দিবস। ১৯৪৯ সালের ২৭শে এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে পরিচালিত কংগ্রেস সরকারের পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে কলকাতার রাজপথে নিখিলবঙ্গ মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির চারজন নেত্রী লতিকা সেন, প্রতিভা গাঙ্গুলি, অমিয়া দত্ত, গীতা সরকার এবং যুবকর্মী বিমান ব্যানার্জি শহীদের মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পর জাতীয় কংগ্রেস দল দেশের পুঁজিপতি ও ভূস্বামীদের স্বার্থে পরিচালিত হয় এবং তাঁদের প্রতিনিধি হিসাবে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-মেহনতি জনগণের ওপর দমন পীড়ন অত্যাচারের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। স্বৈরাচারী শাসকদলের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ, বিক্ষোভ প্রকাশ পায়। প্রতিবাদে গড়ে ওঠে ব্যাপক গণআন্দোলন এবং সংগ্রাম। কৃষকদের জমি ও শস্যের অধিকার রক্ষার আন্দোলন শুরু হয়। নবপর্যায়ের তেভাগা আন্দোলন বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে। জনগণের জীবন-জীবিকার সংগ্রামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসে ‘সাতাশে এপ্রিল ১৯৪৯ সালে।’ অমর শহিদদের স্মৃতি বিজড়িত ‘সাতাশে এপ্রিল’ — সংগ্রামের প্রতীক হিসাবে আমাদের সামনে প্রজ্জ্বলিত ও চিরভাস্বর রূপে বিদ্যমান। রাজ্যের সরকার ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলির শত শত নেতা ও কর্মীকে বিনাবিচারে কারারুদ্ধ করে রাখে। বন্দীদের ন্যূনতম দাবি আদায়ের জন্য কারাগারের অন্তরালে ও বাইরে চলে প্রবল আন্দোলন। কারারুদ্ধ অনশনরত বন্দীদের ওপর ও পুলিশ গুলি চালাতে দ্বিধা করেনি। দমদম জেলে নিহত হন কৃষককর্মী প্রভাত কুণ্ডু এবং ছাত্রকর্মী সুশীল চক্রবর্তী। রাজবন্দীদের রাজনৈতিক মর্যাদা রক্ষার দাবির সমর্থনে এবং তাঁদের মুক্তির দাবিতে রাজবন্দীদের মা ও ভগ্নীরা ‘‘মায়েদের সমিতি’’ গঠন করেন এবং রাজবন্দীদের মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। তাঁদের সঙ্গে মিলিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি ১৯৪৯ সালের ২৭শে এপ্রিল কলকাতার বৌবাজার স্ট্রিটে ভারতসভা হলে একটি প্রতিবাদ সভার আহ্বান করে। সভার পর ১৪৪ ধারা অমান্য করে মহিলাদের মিছিল বের হয়। মিছিলের ওপর পুলিশের বেপরোয়া গুলি ও সেখানে উপস্থিত সমাজবিরোধীদের বোমার আঘাতে নিহত হন লতিকা-প্রতিভা-অমিয়া-গীতা ও যুবক বিমান। সেদিন সারা পশ্চিমবাংলায় কংগ্রেস সরকারের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষ ধিক্কারে গর্জে ওঠে। ১৯৪৯ সালের ২৭শে এপ্রিল গণতান্ত্রিক নারী আন্দোলনের অগ্রগামী অংশ পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কর্মীদের কাছে স্মরণীয়। কংগ্রেস সরকারের দমন পীড়নের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় পশ্চিমবঙ্গ মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির মতন গণসংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করে। তার আগে সমিতির মুখপত্রগুলি ঘরে-বাইরে, জয়া, মুক্তির পথে নারী একে একে বাজেয়াপ্ত হয়। ২৭শে এপ্রিল নারী দিবসকে উপলক্ষ করে প্রতি বছর সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি প্রতিবাদ জানায় এবং নারীদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রদর্শনের দাবি জানায়। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে মা মাটি মানুষের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরো রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে নারীদের ওপর হিংস্র আক্রমণ, নির্যাতন, অত্যাচার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে শুধু অর্থনৈতিক সামাজিক ক্ষেত্রে নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নারীদের ওপর আক্রমণ সংগঠিত হচ্ছে যার প্রতিফলন পশ্চিমবাংলায় দেখা যাচ্ছে। ‘‘এই রাজ্যে কোথাও দিনের কোনো সময়েই মহিলারা নিরাপদ নন।’’ জাতীয় মহিলা কমিশনের এই মন্তব্য শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্যই। ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর কাছে কোন তথ্য নেই — রাজ্য সরকার পরিসংখ্যান পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গে চলছে নৈরাজ্য। প্রায় প্রতিদিন নারীর রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে বাংলার মাটি। শুধু হত্যা নয়, মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষণ করা হচ্ছে, সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য চলছে। তাদের অবাধ বিচরণ। নারীর সম্ভ্রম বিপন্ন। বয়সের কোন সময় সীমা নেই। দুই বছরের শিশু থেকে ছিয়াশি বছরের বৃদ্ধা আক্রান্ত। প্রতিবন্ধী হলেও রেহাই নেই। কেন্দ্রে বি জে পি শাসন চলছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে। আর এস এসের নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো হচ্ছে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী রানাঘাটে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনী ধর্ষিতা হয়ে রাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন। ১৯৪৯-এর ২৭শে এপ্রিল নারী শহিদদের আত্মত্যাগের মর্মকথা ছিল স্বৈরতান্ত্রিক কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ২০১৫ সালের ২৭শে এপ্রিল প্রত্যক্ষ করছে সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারীদের ওপর আক্রমণ। শারীরিক নির্যাতন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নারীদের প্রতি সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে সারা ভারত (পশ্চিমবঙ্গ) গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি।

No comments: