RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, April 26, 2015

এবারের ২৭শে এপ্রিলের আহ্বান মিনতি ঘোষ ১৯৪৯ সালের ২৭শে এপ্রিল গণতান্ত্রিক তথা নারী আন্দোলনের পক্ষে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। এই দিনেই কলকাতার রাজপথ মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির চার পুরোধা নেত্রী লতিকা সেন, প্রতিভা গাঙ্গুলি, অমিয়া দত্ত, গীতা সরকার এবং একজন যুবক বিমান ব্যানার্জির রক্তে লাল হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট। ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে কোন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা আসেনি। বরং রক্ত ঝরেছিল — অনেক রক্ত ভাইয়ে ভাইয়ে দাঙ্গায়। ১৯৪৬ সালে হিন্দু-মুসলমানের সেই দাঙ্গার উৎস কোথায়, কারা চেয়েছিল পরস্পরের মধ্যে স্থায়ী অবিশ্বাস আর সন্দেহের চিরকালীন বীজ বপন করে দুটি সম্প্রদায়ের মধুর সম্পর্ককে বিনষ্ট করতে এ ইতিহাস কারও অজানা নয়। কংগ্রেস আর মুসলিম লিগের পারস্পরিক সম্পর্কের বিনিময়ে ব্রিটিশ সরকারের সাথে গোল টেবিল বৈঠকের মধ্য দিয়ে দেশকে দু-টুকরো করে স্বাধীনতা ঘোষিত হলো। ভারত আর পাকিস্তান। দেশ শুধু দু-টুকরো হলো না, মানুষও ভাগ হলো। মাত্র এক বৎসর আগেই স্বজন হারানোর বেদনায় বিদ্ধ সাধারণ মানুষ তার উপর দেশভাগের যন্ত্রণা। স্বাধীনতা লাভের আনন্দে যখন দু’দলের নেতৃত্ব উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা সেই সময়েই বাংলা আর পাঞ্জাবের উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আর এক আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে। কারণ এই দুটি প্রদেশেও সীমানাভাগের আইন কেটে দিয়েছে দুই প্রদেশকে, তাদের মানুষকে। ছিন্নমূল হয়ে উদ্বাস্তু পরিবার সাত পুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হলেন এ-পার বাংলায়। পাঞ্জাবের উদ্বাস্তুদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার। বাংলা সম্পর্কে তাদের উদাসীনতার সাক্ষী লক্ষ লক্ষ মানুষ। বন কেটে বসত গড়ে, জল-জঙ্গল ভরাট করে শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই জোগাড় করার লড়াইয়ে তাদের একমাত্র ভরসাস্থল ছিল কমিউনিস্টরা। তাদের লড়াই আন্দোলনের ফলেই মিলেছিল পুনর্বাসন। জীবন-জীবিকার লড়াই, খাদ্যের দাবিতে লড়াইয়ের পুরোভাগে থেকেছে কমিউনিস্ট পার্টি। দু’বৎসরের স্বাধীনতার আসল চেহারা কিন্তু ততদিনে জনগণ বুঝতে পারছেন। প্রধানমন্ত্রী হয়েই জওহরলাল নেহরু ঘোষণা করেছিলেন কালোবাজারিদের ল্যাম্পপোস্টে ঝুঁলিয়ে ফাঁসি দেবেন। বলতে বাধ্য হয়েছিলেন এ কারণে যে তখন দেশজুড়ে তীব্র খাদ্যাভাব, অপরদিকে কংগ্রেস মদতপুষ্ট কালোবাজারি মুনাফাখোরদের রমরমা বাজার। বুর্জোয়া জমিদারদের মদতপুষ্ট কংগ্রেস দল তাদেরই স্বার্থরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করবে— এটাই স্বাভাবিক। গরিবের জন্য আইন হয়েছে কিন্তু কখনও গরিবের স্বার্থরক্ষা করেনি। নির্বাচনের সময় গরিব ঠকানো মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ঝুলি যা আজও করে চলেছে বি জে পি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস। কমিউনিস্ট পার্টি তার জন্মলগ্ন থেকেই শ্রেণি শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল পার্টি। স্বাধীনতা লাভের পরও মজুর-কৃষকদের সংগঠিত করে উত্তাল আন্দোলন গড়ে তুলেছে কমিউনিস্ট পার্টি। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের দাবিতে, বিনা ক্ষতিপূরণে কৃষকের হাতে জমি তুলে দেওয়া, বর্গাদারের তেভাগার দাবিতে কৃষকসভার নেতৃত্বে গ্রামে গ্রামে গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে। এরই পাশাপাশি নারী আন্দোলনও নতুন শক্তি নিয়ে বিকশিত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী, ফ্যাসিবিরোধী সংগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বিভিন্ন অংশের জনগণ নিজেদের সংগঠন গড়ে তুলেছিল। ১৯৪৩ সালের ৯ই মে গড়ে উঠল মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি। গ্রাম-শহরে, দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের পাশে থেকে লড়াইয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান-এর দাবিতে শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত, অভিজাত সব অংশের মহিলাদের মধ্যে সংগঠনকে প্রসারিত করার কাজটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে করা হয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে কৃষকসভার নেতৃত্বে তেভাগার দাবির আন্দোলনে শতাধিক কৃষকরমণী শহীদ হয়েছেন। যে ধারা আজও বহমান। আন্দোলনের ব্যাপকতা, তীব্রতা তখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা বাংলায়। রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেন প্রথমেই বিনাবিচারে আটকের নিরাপত্তা আইন পাশ করেন। জনগণের ধূমায়িত ক্ষোভ আছড়ে পরলো চারদিকে। এ যেন স্বপ্ন থেকে মাটিতে নেমে আসার আঘাত। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বাসস্থানের দাবি একটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকারের লক্ষ্যেই কমিউনিস্ট নেতৃত্ব আন্দোলন গড়ে তোলেন। শুরু হলো দমন-পীড়ন। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে কলকাতায় পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেস শেষ হবার পরই পার্টিকে বেআইনি ঘোষণা করা হলো। পার্টি ও গণসংগঠনের নেতৃত্বকে কারাগারের অন্ধকারেই শুধু নিক্ষেপ করা নয় তাঁদের তৃতীয় শ্রেণীর কয়েদি হিসাবে ঘোষণার ফলেই সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। শুরু হলো আন্দোলনের নবপর্যায়। বিভিন্ন গণসংগঠনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দিনে মিছিল, সভা হয় ধৃত নেতাদের মুক্তির দাবিতে, তাঁদের প্রথম শ্রেণির রাজনৈতিক বন্দির মর্যাদার দাবিতে। ১৯৪৯ সা‍‌লের ২৭শে এপ্রিল মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি এবং ‘মায়েদের সমিতি’ ভারতসভা হলে সভা করে বৈশাখের খর রোদকে উপেক্ষা করে মিছিল করে বৌবাজার স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এসে পৌঁছানোমাত্র স্বাধীন রাষ্ট্রের পুলিশবাহিনী শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুরোভাগে থাকা নেত্রীরা লুটিয়ে পড়লেন কলকাতার রাজপথে। রক্তে ভিজে গেল পিচ রাস্তা। নাকি কংক্রিটের রাস্তায় পরতে পরতে তাঁদের শোণিতধারা মিশে গিয়ে অযুত নতুন বীজের জন্ম দিয়েছে, যে বীজ প্রতিদিন নতুন নতুন লড়াইয়ের প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। ৬৬ বৎসর পার হয়ে গেল, তবু ভোলা যায় না তাঁদের আত্মত্যাগের কথা। স্বাধীনতার ৬৮ বৎসর — বারবার দিল্লিতে সরকার বদল হয়েছে। জনতা ওই সময়ের মধ্যে কংগ্রেসের ধনিক তোষণ নীতির ফলে সাধারণ মানুষ সরে গিয়েছেন তার পাশ থেকে। কংগ্রেসের হাত ধরেই উদারনীতির প্রবেশ ভারতবর্ষে। কংগ্রেস মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও এই প্রশ্নে তাদের দৃঢ়তার অভাব এবং সুবিধাবাদী নীতি চরম দক্ষিণপন্থী দল বি জে পি-র দ্রুত উত্থানকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করেছে। ইতিমধ্যে দু’বার তারা কেন্দ্রে কিছু দিনের জন্য ক্ষমতাও ভোগ করেছে। বি জে পি’র ২০১৪ সালে উত্থান চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে ভারতবাসীকে। বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যই ভারতের সুমহান ঐতিহ্য। বি জে পি একান্তভাবেই উগ্রহিন্দুত্ববাদ এবং ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী দর্পণদ্বারা পরিচালিত হিন্দু রাষ্ট্রের স্লোগানের আড়ালে দেশকে তারা হাজার বছর পিছিয়ে দিতে চাইছে। হিন্দুত্ববাদী আর এস এস পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধের দ্বারা পরিচালিত মহিলাদের প্রতি পোশাক থেকে বাইরের জগতে চলাফেরার ক্ষেত্রেও বিধি নিষেধ আরোপ করে চলেছে যা আগামী দিনের ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত। রান্নাঘর, উপাসনাগৃহ আর সন্তান উৎপাদন এই তিনটিতেই তারা মেয়েদের আবদ্ধ রাখতে চাইছে। আর এস এস শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সবক্ষেত্রে পশ্চাদগামী চিন্তা চেতনার অনুপ্রবেশ ঘটাতে সক্রিয়। অপরদিকে কর্পোরেটদের স্বার্থরক্ষায় তারা কতটা সক্রিয়— সংসদে বিমা বিল, পেনশন‍‌ বিল, খনিজ সম্পদ, রেল, কয়লা বিলকে পাশ করিয়ে নেবার মধ্য দিয়েই মুখোশ খুলে গিয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে তুষ্ট করতে জমি অধিগ্রহণ বিলকে কার্যকর করার লক্ষ্যে গোপনে তৃণমূল কংগ্রেস দলের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তায়ও গিয়েছে। অপর দিকে ঘরওয়াপসি’র নামে সংখ্যালঘুদের ধর্মান্তরিত করার হীন প্রয়াস আমাদের রাজ্যেও শুরু হয়েছে। ভয়ঙ্কর এক সন্ত্রাসের আবহে আমাদের রাজ্যে প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে প্রতিটি দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। ভূলুণ্ঠিত ব্যক্তি স্বাধীনতা, মানবাধিকার। নারীর সম্ভ্রম, ইজ্জত সুরক্ষিত থাকবে কি না তা নির্ভর করছে একদল উচ্ছৃঙ্খল, লুম্পেন, সমাজবিরোধীদের উপর। ২০১১ সালে হিংস্র, নীতিহীন, আদর্শহীন একটি দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি আস্থা জানিয়েছে রাজ্যের একাংশের নাগরিক। ৩৪ বৎসরের বামপন্থী সরকারকে বড্ড একঘেয়ে আর আটপৌরে বলে মনে হচ্ছিল। তাই পরিবর্তন। এই সময়কালে পঞ্চায়েত নির্বাচন, লোকসভা নির্বাচন এবং অতি সম্প্রতি কলকাতা কর্পোরেশনসহ শিলিগুড়ি, চন্দননগর এবং ৯১টি পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল ফল ঘোষণা। প্রতিটি নির্বাচন হয়েছে রক্তাক্ত। গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক সমস্ত রীতিনীতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। অফুরন্ত টাকার খেলা। একমাস ধরে লাগাতার ভোজ সভা। উপঢৌকন, মাংস আর মদের ফোয়ারা ক্লাবে, পাড়ায়, নতুন একটি সংস্কৃতির উদ্ভব ঘটেছে এ বাংলায় ক্লাব সংস্কৃতিতে। তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে সমাজকে, সাধারণ মানুষকে জোর করে প্রার্থীপদ থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচনের প্রাক্‌কালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানো, হামলা, হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর চলছেই। শ্রমজীবী পাড়ায় প্রকাশ্যে নেশার দোকান, গভীর রাত পর্যন্ত হই-হুল্লোড়, বাইকবাহিনীর গর্জন — মেয়েরা ঘরে খিল এঁটে বসে থাকেন। ফ্ল্যাগ, ফেস্টুন ছেঁড়া তো ওদের কাছে সামান্য ঘটনা। এক অচেনা দমবন্ধ করা পরিবেশ। ভোটের দিন বহিরাগত সমাজবিরোধীরা বুথ দখল করেছে। পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি দৈহিক আক্রমণ, হিংস্রবাহিনীর হাতে পুলিশ অফিসারও রক্তাক্ত। নির্বাচন কমিশনার যেন সেই ছেলেবেলার মেলায় কেনা বুড়োর মতো যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কথায় বলে চলেছেন — সব ঠিক, ঠিক, ঠিক। আর রয়েছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। উভয়ে মিলেই নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। এটাই এ রাজ্যের গণতন্ত্র। নির্বাচনের ফলাফল কি হবে তার উপর নির্ভর করে থাকবে না আমাদের সংগঠনের কর্মীরা। ১৯৪৩ সালে মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি গঠনের সময় কোন সরকার গঠনের স্বপ্ন ছিল না তাদের চোখে। তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটা শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের। সেই স্বপ্ন এখনও শুকিয়ে যায়নি। কোন দিন শুকিয়ে যাবে না। যতদিন শ্রেণি শোষণ থাকবে, সমাজে বৈষম্য থাকবে। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার চলবে ততদিন এই স্বপ্ন বুকে নিয়ে লাখো লাখো মানুষ পথ চলবে। তার সাথে বিশ্বজুড়ে আমাদের দেশে এবং পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ প্রতিরোধের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে বীরাঙ্গনার ভূমিকায় লড়ছেন মেয়েরা। ২৭শে এপ্রিলের রক্তেভেজা মাটিতে দাঁড়িয়ে আমাদের শপথ হোক লড়াইয়ের ময়দান থেকে পিছুহটা নয়, আগামীদিনে আরো কঠিন কঠোর সংগ্রামের লক্ষ্যে নিজেদের চেতনাকে শাণিত করে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে চলা।


No comments: