RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, April 30, 2015

US and Vietnam, 40 years after Saigon's fall, by the numbers - The Hindu

US and Vietnam, 40 years after Saigon's fall, by the numbers - The Hindu



‘Results not people’s verdict’ - The Hindu

‘Results not people’s verdict’ - The Hindu



BJP suffers loss of face in West Bengal civic polls - The Hindu

BJP suffers loss of face in West Bengal civic polls - The Hindu



Mamata goes all out to foil strike - The Hindu

Mamata goes all out to foil strike - The Hindu



Ten sentenced to 25 years for 2012 attack on Malala - The Hindu

Ten sentenced to 25 years for 2012 attack on Malala - The Hindu



ইংরেজ বাজার পৌরসভায় মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর দুর্গ বলে পরিচিত ১ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। এই পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে বামফ্রন্ট। পুলিস প্রশাসন এখানে নির্লজ্জ ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ। সাধারণ মানুষের অনেকেরই অভিযোগ পুলিসের একটি চক্র সাদা পোশাকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূলের পক্ষে প্রচার, হুমকি চালিয়েছে ভোটের আগে।

সন্ত্রাস এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব– দুই মিলিয়ে গোটা মালদহ উত্তাল হয়ে ওঠে ভোটের আগেই। ওল্ড মালদহ পৌরসভায় তৃণমূল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ২০টি আসনের মধ্যে ১০টিতে জয়ী তৃণমূল। ৩টি বামফ্রন্ট, ৫টি বিজেপি ও ২টি ওয়ার্ডে নির্দল জয়ী হয়েছে। এখানে তৃণমূল পৌরপ্রধান পরাজিত হয়েছে।

ইসলামপুর পৌরসভায় ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস ১১টিতে জয়ী। বিজেপি ৩টি এবং টি এম সি ৩টি আসন পেয়েছে। দুটি জায়গাতেই বহু সংখ্যক বহিরাগত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসে জড়ো হয়েছিল বলে বামফ্রন্ট নেতৃত্বের বক্তব্য। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি পৌরসভার ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডে তৃণমূল কায়েম হয়েছে। বাকি ৫টি ওয়ার্ড সি পি আই (এম) এবং ৫টি কংগ্রেসের দখলে। মালবাজার পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টি তৃণমূল। বাকি ৪টি ওয়ার্ড বামফ্রন্ট ও ২টি ওয়ার্ড কংগ্রেস পেয়েছে। ভোটের দিনও এই জেলায় বাইক বাহিনী দাপিয়ে বেড়িয়েছে। তৃণমূলের অশান্তির ছকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয় বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উত্তর দিনাজপুর জেলায় কালিয়াগঞ্জ ও ইসলামপুর পৌরসভায় চূড়ান্ত বিপর্যস্ত শাসক দল। কালিয়াগঞ্জে ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি কংগ্রেস তাদের নিজেদের দখলে রেখেছে। সি পি আই (এম) ও বিজেপি একটি করে ওয়ার্ড জিতেছে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে সি পি আই (এম) প্রার্থী গণেন্দ্রনাথ মজুমদার পরপর ৩ বার জয়ের ধারা বজায় রেখেছেন।

ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের নির্লজ্জ রূপ দেখলো দক্ষিণ দিনাজপুর। গঙ্গারামপুরে ১৮টি ওয়ার্ডই তৃণমূল দখল করেছে। ভোটের আগেই হুমকির পর হুমকি এসেছে বিভিন্ন এলাকায়। মানুষ ভোট দিতে বেরিয়ে আবার ফিরে গিয়েছে। ভোটের দিন প্রতিটি ওয়ার্ডেই বামফ্রন্টের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যাপক ছাপ্পা ভোট দিয়েছে তৃণমূলী বহিরাগতরা। সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশ হয়েছে তা। শুধু তাই নয়, ৬, ৭ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ভয় দেখিয়ে সি পি আই (এম) এবং দুই আর এস পি প্রার্থীকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে বাধ্যকরেছে। নির্বাচনের আগেই হামলা হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সম্পাদক নারায়ণ বিশ্বাস ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী শঙ্কর শর্মার ওপর।

তৃণমূলের হাতে থাকা কোচবিহার পৌরসভায় শাসকদল ১০টি ও বামেরা ৮টি ওয়ার্ড পেয়েছে। নির্দল পেয়েছে ২টি। ৪টি পৌরসভা মিলিয়ে ভোটের হার ছিল ৮১.২৫শতাংশ। সি পি আই (এম) কোচবিহার জেলা সম্পাদক তারিণী রায় বলেন, ২০১১ সাল থেকে তীব্র সন্ত্রাস চলছে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে পঞ্চায়েত ও লোকসভায় ভোট লুট করেছে তৃণমূল। এবার মানুষ প্রতিরোধে নেমেছিলেন। তা সত্ত্বেও মাথাভাঙা ও তুফানগঞ্জে সন্ত্রাস চলেছে। পোলিং এজেন্টকে মারধর করে বের করে দিয়েছে বহু জায়গা থেকেই। বহিরাগতরা ঢুকে আশ্রয় নিয়েছিল বিভিন্ন হোটেল ও লজে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকেও দুষ্কৃতীরা এসেছিল বলে খবর। মঙ্গলবার ভোটের ফলাফল বেরনোর সঙ্গেই ১৮ নম্বর ওয়ার্ড তোর্ষার চর এলাকায় সি পি আই (এম) কর্মী মজিনা বিবির ওপর হামলা হয়েছে। তাঁর ছেলেকেও মারধর করেছে তৃণমূলীরা। ভাঙচুর করেছে দোকান ও বাড়ি।

শনিবার ব্যাপক সন্ত্রাস চালিয়ে তুফানগঞ্জ ও মাথাভাঙা পৌরসভা দখল করেছে তৃণমূল। কিন্তু তাদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে দিনহাটাতে। এই পৌরসভায় ১৬টির মধ্যে ১৩টি ওয়ার্ড বামফ্রন্ট পেয়েছে। এখানে জয়ের সাফল্য ছাপিয়ে গিয়েছে সন্ত্রাসকে। সন্ত্রাস হুমকি উপেক্ষা করে প্রতিরোধ গড়ে মানুষ এখানে ভোট দিতে পেরে স্বভাবতই বেশ খুশি ছিলেন ভোটের দিন। ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছে কোচবিহার পৌরসভা। শাসক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবার এখানে পায়নি।

উত্তরবঙ্গের ভোটেও সন্ত্রাসের ছায়া। ফলাফলেও তার প্রমাণ। যেখানে প্রতিবাদ প্রতিরোধে তৃণমূলী বহিরাগতরা ঢুকতে পারেনি, সেখানে অপেক্ষাকৃত ভালো ফল হয়েছে বামফ্রন্টের। দিনহাটাতে জয় এসেছে বামফ্রন্টের পক্ষে। মানুষ যেখানে ভালোভাবে ভোট দিতে পেরেছেন সেখানে ভোটপর্ব ভালোই হয়েছে বলে বক্তব্য এলাকার সাধারণ মানুষেরই। মানুষ ভোট দিতে পারেননি গঙ্গারামপুরে। সেখানে গায়ের জোরে সবকটি আসন দখল করেছে তৃণমূল। শিলিগুড়ি ও কয়েকটি পৌরসভা ছাড়া গোটা উত্তরবঙ্গেই নির্বাচন যে প্রহসনে পরিণত হয়েছে, ভোটের ফলাফলেই তা প্রমাণিত।

নানা প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে গণতন্ত্রের হত্যালীলায় যুক্ত রয়েছে। ছাত্রনেতা সুদীপ্ত গুপ্তর পুলিশের হেপাজতে মৃত্যু হলো। সুদীপ্ত গুপ্তের কী অপরাধ ছিল? সে তো ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আইন অমান্য আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। সুদীপ্তের হত্যার কোনো বিচার হলো না! আর দোষীদের চিহ্নিত করা হলো না।

বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই পঞ্চায়েত ও পৌর নির্বাচনে অনেক জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি বা গ্রাম পঞ্চায়েতে, পৌরসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস জয়ী হয়ে পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় বোর্ড গঠন করেছিল। তখন কিন্তু বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে বামফ্রন্ট বিরোধী শক্তি সম্পর্কে এরকম গণতন্ত্র বিরোধী মন্তব্য করা হয়নি এবং পঞ্চায়েত ও পৌর এলাকায় উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ কমানো হয়নি। তখন সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিরোধীদের এলাকার উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল।

এরাজ্যে শাসকদলের কথা শুনে মনে হয় এখানে রাজতন্ত্র চলছে আর প্রজাদের কোনো গণতান্ত্রিক অধিকার থাকবে না। তা তো হতে পারে না। বর্তমান শাসকদল ২০১১সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বিধানসভা নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ভোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে সরকার গঠন করেছে। একথা কী করে ভুলে যায়!

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ছোট-বড় তৃণমূল নেতারা প্রচার করেছেন বিরোধীদের পৌর এলাকায় শূন্য করে দিতে হবে। অন্যদিকে প্রচার করেছে শাসকদলের প্রার্থীরা জয়ী না হলে উন্নয়নের টাকা দেওয়া হবে না। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় কোনো রাজ্যের শাসকদল এধরনের ফরমান জারি করতে পারে না।

একথাও সত্য বেশ কিছু পৌরসভার কিছু কিছু ওয়ার্ডে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ সংগঠিত হয়েছে। বিশেষকরে শিলিগুড়ি কর্পোরেশন এলাকায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নাগরিকদের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ উল্লেখযোগ্য। দলমত নির্বিশষে তৃণমূল বিরোধীরা বহিরাগতদের দাপাদাপি বন্ধ করার ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিল যা গণতন্ত্রের পক্ষেও উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

MAMATA BANERJEE: ৯২টি পৌরসভার ফল প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্যবাসী অবহিত আছেন পৌর নির্বাচনে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এবং সন্ত্রাসের আবহকে বজায় রেখে কীভাবে পৌরবাসীদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর আরামবাগ, তারকেশ্বর এবং গয়েশপুর পৌরসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ বামফ্রন্ট প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রসহ নানা প্রক্রিয়ায় ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে তিনটি পৌরবোর্ড দখলের নকশা তৈরি করেছিল। তাও রাজ্যবাসী অবহিত আছেন। পরে নির্বাচনী প্রচারে বাধা, পার্টি অফিস আক্রমণ, প্রার্থীদের বাড়িসহ মুখ্য নির্বাচনী প্রচারকারীদের বাড়িতে হামলা ও এলাকার মানুষকে সন্ত্রস্ত করার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। ১৮ই ও ২৫শে এপ্রিল যে পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে এবং বহুক্ষেত্রে ভোট লুটেরা তৃণমূল কংগ্রেস দাপিয়ে বেড়িয়েছে তার পরিণতিতে পৌরভোটের ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে।

Wednesday, April 29, 2015

MUNICIPAL ELECTIONS IN WEST BENGAL HELD ON 18-04-2015 AND 25-04-2015 Polling booths were captured, opposition parties agents driven out and voting manipulated. A small contingent of central forces sent on the eve of the election were not deployed by the state government and instead sent for sightseeing. This is a blot on Indian democracy.

The elections to 91 municipalities including two corporations in West Bengal held on April 25, 2015 constitute a total mockery of democracy. In these and the election to the Kolkata Municipal Corporation a week earlier, there was a high degree of people’s enthusiasm and a large number of women turned out to cast their vote. However, these innocent people were met with political workers and armed hooligans representing the ruling party in the state, the Trinamool Congress, who denied them the right to a free and fair election.

Blatant Attack on Democracy in West Bengal

Ganasakti



WEST BENGAL: INTUC CALLS FOR ‘12 HOUR BANGLA BANDH’ ON 30TH APRIL

Ganasakti



AIAWU Oppose- MP Land Ordinance

Ganasakti



MISHRA CALLS FOR RESISTANCE CUTTING ACROSS POLITICAL LINES ON THE DAY OF THE GENERAL STRIKE

Ganasakti



SFI OPPOSES UGC GUIDELINES

Ganasakti



EWS TRENDS MORE TOWARDS MOBILE AND SOCIAL MEDIA

Ganasakti



POLICE LATHI-CHARGE TO DISPERSE DYFI MEMBERS

Ganasakti



AIKS VEHEMENTLY OPPOSE- MP LAND ORDINANCE FOR REAL ESTATE BUSINESS ON AGRICULTURE LAND

Ganasakti



Kolkata, April 29th – Thousands of commoners joined a victory rally at Siliguri making it into a huge celebration of the hard earned victory at the closely fought Siliguri Municipal Corporation Elections. Bearers of red flags swarmed the rally coming in from the different part of the city and meeting at Baghajatin Park of Siliguri. From there the rally traversed the city moving along the city lifeline i.e. the Hillcart Road. The rally was led by Darjeeling district Left Front Convener and the probable mayoral candidate of the Left Front Ashok Bhattacharya , CPI(M) Darjeeling district Secretary Jibesh Sarkar, Saman Pathak , Ujjal Choudhury (CPI) Aniruddha Bose ( Forward Block) , Tapash Goswami (RSP ) and the Left Fronts victorious councilors of the Municipal Corporation. The rally witnessed high-pitched slogans in support of the strike call of the Leftists tomorrow in the state. Alongside the rally called for defeating any ploy of conspiracy in debarring the Left from forming the board. Women joined in a large number in the rally which saw determined commoners coming to the road to celebrate what can be touted as enormous victory of the progressive people in the North Bengal.

EMPTY STREETS OF KOLKATA ON THE DAY OF GENERAL STRIKE ON 30-04-2015 CALLED BY ALL CPI (M), CONGRESS, BJP, NAXALITES AND OTHER POLITICAL PARTIES AGAINST RIGGING OF KOLKATA CORPORATION AND 91 MUNICIPAL ELECTIONS BY MAMATA AND HER GANG OF ARMED CRIMINALS WITH THE HELP OF POLICE AND THE STATE ELECTION COMMISSIONER

WEST BENGAL OBSERVES GENERAL STRIKE ON 30-04-2015

কলকাতার বুকেও দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের অশনিসংকেত। খোদ মমতা ব্যানার্জির ওয়ার্ডে তৃণমূলের পরাজয়, ডাকাবুকো বিধায়ক পরেশ পালের পরাজয়, এসব তো আছেই। আগামী দিনের জন্য তৃণমূলের কাছে আরো বড় দুঃসংবাদ হলো, এমনকি কলকাতা শহরেও বি জে পি-র ভোট কমছে। গত লোকসভা নির্বাচনে কলকাতায় বি জে পি ২৬টি ওয়ার্ডে এগিয়েছিলো বলে ‘মোদী হাওয়া’ নিয়ে অনেকেই হই চই শুরু করেছিলেন। বামফ্রন্টের বদলে বি জে পি-কেই আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী শক্তি হিসাবে প্রচার শুরু হয়েছিলো। কিন্তু এক বছরের মধ্যে ‘মোদী হাওয়া’ উধাও। বি জে পি কলকাতায় আসন পেয়েছে মাত্র ৭টি, বামফ্রন্টের অর্ধেকেরও কম।

বি জে পি-র বিরুদ্ধে মুখে যতোই যুদ্ধ করুন, এভাবে বিরোধী ভোট ফের লালপতাকার নিচেই জড়ো হতে থাকলে আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রীর মেজাজ আরো চড়ে যাওয়ার কারণ ঘটতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

বর্ধমানে দাঁইহাটে জয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছে বামফ্রন্ট। পুরুলিয়ার ঝালদা পেয়েছে কংগ্রেস। বাকি সব তৃণমূলের। যেভাবে ভোট হয়েছে ফলাফলও তেমনি হয়েছে। চন্দ্রকোনায় ১২টির মধ্যে ১১টি আসন দখল করেছে তৃণমূল। খরারে ১০টির মধ্যে ৯টিই তৃণমূলের। নবদ্বীপে ২৪টির মধ্যে ২৩টি দখল করেছে তৃণমূল। কাঁচড়াপাড়ায় ২৪টির মধ্যে ২২টি আসনে জয়ী তৃণমূল। হালিসহরে ২৩টির মধ্যে ২১টি, নৈহাটিতে ৩১টির মধ্যে ৩১টি, ভাটপাড়ায় ৩৫টির মধ্যে ৩৩টি, উত্তর বারাকপুরে ২৩টির মধ্যে ২০টি। এমনই ধারা তৃণমূলের জয়ের।

দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনের দিন গন্ডগোলের ঘটনা ঘটেছিলো। তৃণমূলের বহিরাগত দুষ্কৃতীবাহিনীর হিংস্র আক্রমণ, বোমা, গুলিতে আহত এসবের কোনো কমতি ছিলো না এখানকার বুথগুলিতে। ফলাফলও সেই অনুসারেই হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলী, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, বাঁকুড়া, এতগুলি জেলার একটি পৌরসভাও কোনো বিরোধীরা পায়নি। তবে টাকি, ভদ্রেশ্বর, রামজীবনপুর, খড়্গপুর, বাঁকুড়া, কাটোয়া অমীমাংসিত অবস্থায় রয়ে গেছে।

WB MUNICIPAL ELECTIONS: মুর্শিদাবাদে বিশেষ আঁচড় না ফেলতে পারলেও তার নিচে অর্থাৎ দক্ষিণে বিপুল সংখ্যক পৌরসভার ফলাফলে তৃণমূলের সন্ত্রাসের আঁচড়ের দাগ স্পষ্ট। নদীয়া জেলায় ৮টি পৌরসভার মধ্যে কেবলমাত্র তাহেরপুরে বামফ্রন্ট জয়ী হয়েছে। নির্বাচনের দিন সেখানে সাধারণ মানুষ তৃণমূলের বহিরাগত দুষ্কৃতীদলকে প্রচণ্ড সাহসের সঙ্গে অনেকটাই রুখে দিতে সফল হয়েছিলেন। তার ফলে ১৩টির মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডেই জয়ী হয়েছে বামফ্রন্ট। আর সফল প্রতিরোধ না থাকলে কী হয় তার নমুনা বহন করছে হরিনঘাটাসহ নদীয়ার বাকি পৌরসভাগুলি। হরিণঘাটাকে বিরোধীশূন্য করে তৃণমূল ১৭টির মধ্যে ১৭টি ওয়ার্ডেই জিতেছে। একইরকম চিত্র উত্তর ২৪পরগনার বহু পৌরসভায়।

SILIGURI: কলকাতা থেকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু অভিনন্দন জানিয়েছেন অশোক ভট্টাচার্যকে। জলপাইগুড়ি পৌরসভা এবং মাল পৌরসভায় কিন্তু তৃণমূলই জয়ী হয়েছে। কোচবিহারের চারটি পৌরসভার মধ্যে তিনটিতেও জিতেছে তারা। এছাড়া উত্তরবঙ্গে তাদের জয় দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর এবং মালদহে।

SILIGURI: শিলিগুড়িতে প্রাক্তন পৌর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যকে আগাম মেয়র পদপ্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে বামফ্রন্ট নির্বাচনে লড়েছিলো। অশোক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘এটা শিলিগুড়ির উন্নয়ন আর গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।’ মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি শিলিগুড়িতে গিয়ে অশোক ভট্টাচার্যকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, ‘উনি ক্ষমতালোভী। তাই একসময়ে কর্তা ছিলেন, এখন কর্মচারী হওয়ার জন্যও ভোটে লড়ছেন।’ মানুষ কিন্তু বামফ্রন্টের লড়াইকেই সমর্থন করেছেন।

SILIGURI: যে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সঙ্গে তৃণমূল একসময়ে জোট করেছিলো, সেই মোর্চার সঙ্গে জোট করেই বি জে পি গতবছর লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিঙ লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলো। শিলিগুড়ি পৌর এলাকা দার্জিলিঙ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে। মিডিয়াতে প্রচার হয়েছিলো, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে শিলিগুড়িতে বি জে পি ২১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অতএব এবার বি জে পি-র প্রবল সম্ভাবনা পৌর নির্বাচনে। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেলো, বি জে পি পেয়েছে মাত্র ২টি আসন। তৃণমূল ১৭টি আসন, কংগ্রেস ৪টি। কিন্তু একজন নির্দল প্রার্থীর সমর্থন নিয়ে বামফ্রন্ট পৌঁছে গেছে গরিষ্ঠতার সংখ্যা ২৪-এ।

গতবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে তৃণমূল শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের বোর্ড চালিয়েছিলো। এবার নির্বাচনী প্রচারপর্বে দলীয় নেতাদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমার শিলিগুড়ি চাই।’ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী শিলিগুড়িতে বসে পুলিশ প্রশাসনকে সেই অনুযায়ী সাজিয়েছিলেন। সেই শিলিগুড়ি মুখ্যমন্ত্রী তো পেলেনই না, বরং ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেলো বামফ্রন্ট।

মুর্শিদাবাদ জেলায় ধূলিয়ান ছাড়া সর্বত্র কংগ্রেসের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই হয়েছে বামফ্রন্টেরই। ফলাফলে সেখানে তৃণমূল বা বি জে পি-র অস্তিত্ব প্রায় দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে। মুর্শিদাবাদের ছয়টি পৌরসভার মধ্যে বামফ্রন্ট দুটিতে এবং কংগ্রেস দুটিতে জয়ী হয়েছে। দুটি ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছে।

নির্বাচনের পরে দেখা যাচ্ছে মোট ২০৯০টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল ১৪২৭টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে। বামফ্রন্ট জয়ী হয়েছে ৩২৪টি ওয়ার্ডে। কংগ্রেস ১৯২টি এবং বি জে পি ৮১টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে। এই হিসাব অনুসারে শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে রাজ্যের প্রায় সর্বত্র মুখোমুখি লড়াইতে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বামফ্রন্ট। কংগ্রেস রয়েছে তৃতীয় স্থানে, আর বি জে পি নেমে গেছে চতুর্থ স্থানে।

কলকাতাসহ মোট ৯২টি পৌরসভায় ২০৯০টি ওয়ার্ডে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। এরমধ্যে ৬০টির বেশি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনের আগেই বামফ্রন্ট প্রার্থীসহ বিরোধীদের মনোনয়নপত্র জোর করে প্রত্যাহার করিয়ে ছেড়েছিলো তৃণমূল কংগ্রেস।

বিপুল জয়ের পরেও এইজন্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কণ্ঠে ছিলো অন্যরকমের সুর। নির্বাচনী সন্ত্রাসের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবারের সাধারণ ধর্মঘটের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কীসের বন্ধ? একটাও পাওয়ার কথা ছিলো না, তাও এতগুলো সিট তো পেয়েছে! আবার বন্ধ কীসের?’ বিরোধীশূন্য করে দিতে না পারার আক্ষেপ ঝড়ে পড়েছে হুমকির সুরে।

মুখ্যমন্ত্রীর ‘সেফটি ভালভ’ বি জে পি-র শক্তিবৃদ্ধি নিয়ে যে জল্পনা চলছিলো, আপাতত তার ওপরে যতিচিহ্ন এঁকে দিলো পৌর নির্বাচনের ফলাফল। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, কোথাও নিজেদের বেড়ে ওঠার ছাপ ফেলতে পারেনি বি জে পি। বরং বিগত লোকসভা নির্বাচনের সময়ের থেকে তাদের হ্রাস ধরা পড়েছে। একটি পৌরসভাতেও তাদের জয় আসেনি।

মুখ্যমন্ত্রীর সব হিসেবনিকেশ উলটে দিয়ে রাজ্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলিগুড়ি কর্পোরেশনসহ ৬টি পৌরসভায় বামফ্রন্ট জয়লাভ করলো। এরমধ্যে ৩টিই তারা ছিনিয়ে নিয়েছে শাসকদলের কাছ থেকে। নিজেদের পুরানো ‘ঘাঁটি’ বলে পরিচিত ৫টি পৌরসভায় জিতে গেলো কংগ্রেসও। ৮টি পৌরসভায় রয়ে গেলো ত্রিশঙ্কু অবস্থা।

সন্ত্রাসের অভিযান চালিয়েও রাজ্যকে বিরোধীশূন্য করে দিতে পারলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার ৯২টি পৌরসংস্থার নির্বাচনী ফলাফলে একই সঙ্গে ফুটে উঠলো দুটি দিক। একদিকে ফলাফলে সন্ত্রাসের ছাপ। অন্যদিকে কিছু জায়গায় তার সফল প্রতিরোধের চিহ্ন। কলকাতা কর্পোরেশনসহ দক্ষিণবঙ্গের ৬৫টি পৌরসভায় নিজেদের দখলদারিই কায়েম করলো তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তরবঙ্গে আরো ৮টি পৌরসভাতেও তারা জিতেছে।

তাহেরপুর পৌরসভায় জয়ের পর বামফ্রন্টের বিজয়ী প্রর্থীরা।

৩০শে সাধারন ধর্মঘট সফল করার আহ্বানে হাওড়ায় মিছিল।

এদিন নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদ পৌরসভার ২টি ওয়ার্ডে, রঘুনাথপুর পৌরসভার ১টি ওয়ার্ডে এবং মধ্যমগ্রাম পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে ই ভি এম খোলা যায়নি। ফলে এই চারটি ওয়ার্ডে ভোট গণনা বন্ধ আছে। ই ভি এম খোলা না গেলে এই চারটি ওয়ার্ডে পুনরায় ভোট নেওয়া হবে। এই চারটি ওয়ার্ডের ফলাফলের ওপর সংশ্লিষ্ট তিনটি পৌরসভার বোর্ড গঠন নির্ভর করছে না। তিনটি পৌর সভার ফলাফল ইতিমধ্যে ঘোষণা হয়েছে। রাজ্যে ৯২ পৌর সভার মধ্যে আটটি পৌরসভার ফলাফল অমীমাংসিত রয়েছে। এই পৌরসভাগুলিতে এখনই কোন রাজনৈতিক দল বোর্ড গঠন করতে পারছে না। এই পৌরসভাগুলি হলো ধূলিয়ান, বেলডাঙা, টাকি, ভদ্রেশ্বর, রামজীবনপুর, খড়গপুর, বাঁকুড়া এবং কাটোয়া।

WEST BENGAL STATE ELECTION COMMISSION: 29-04-2015: রাজ্য নির্বাচন কমিশনার এদিন যে ৯২টি পৌরসভার ফলাফল জানিয়েছেন তার মধ্যে রাজ্যে মোট ২০৯০ টি ওয়ার্ড রয়েছে। এই ২০৯০ টির মধ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস একাই পেয়েছে ১৪২৭টি ওয়ার্ড। বাকি ৬৬৩ টি ওয়ার্ড পেয়েছে বিরোধী দলগুলি। নির্বাচন কমিশন যে ফলাফল ঘোষণা করেছে সেখানে দেখা গেছে রাজ্যের বহু পৌরসভা বিরোধীশূন্য হয়ে গেছে। বহু পৌরসভায় বিরোধীরা একটি করে আসন পেয়েছে। কল্যাণী, হরিণঘাটা, গয়েশপুর, সাঁইথিয়া, আরামবাগ, তারকেশ্বর, কাঁথি পৌরসভায় বিরোধীরা কোন আসন পায়নি। এর মধ্যে আরামবাগ এবং তারকেশ্বরে নির্বাচনের অনেক আগেই সন্ত্রাসের ওপর ভর করে বিরোধীদের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করিয়ে পৌর বোর্ডের দখল নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। গয়েশপুর পৌরসভার বোর্ডও নির্বাচনের আগে দখল নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

KOLKATA: সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের দিন তারিখ ঠিক করা এবং নির্বাচনপর্ব চলাকালীন সময়ে পুলিশ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকা উচিত। একথা বলে সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায় পরিষ্কার করেছেন নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে শাসকদল। পুলিশ প্রশাসনের ওপর নির্বাচন কমিশনের কোন নিয়ন্ত্রণই ছিল না। নির্বাচন কমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাজ্যে যে ভাবে নির্বাচন পরিচালিত হলো তাতে নির্বাচন কমিশনের মাথায় কি কলঙ্কের বোঝা চেপে রইলো? এই প্রশ্নের উত্তরে উপাধ্যায়ের বক্তব্য, এই প্রশ্নের বিচার করবেন আপনারাই।

MADHYAMGRAM: কলকাতার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ৩০হাজার ২৫০ ভোটে জয়ী হয়ে নজির গড়েছেন। এই ফলাফলের পর মঙ্গলবার কমিশনার বলেছেন, বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আমার পদত্যাগ চেয়েছেন। পদত্যাগের বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। তবে আমার মনে হয় নির্বাচন পরিচালনার কাজে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের যে অধিকার রয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনেরও সেই ক্ষমতা থাকা উচিত। এদিন তিনি আরও জানিয়েছেন একই দল বেশি দিন সরকারে থাকে না। তাই সরকারের উচিত এমন আইন তৈরি করা যেখানে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে ভোট নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকে। একথা বলে তিনি বুঝিয়েছেন, মঙ্গলবার শেষ হওয়া পৌর নির্বাচনের গোটাটাই তাঁর হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়ে রাজ্য সরকার বিশেষ করে শাসকদলই ভোট পরিচালনা করেছে।

কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনের পরেই নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন কলকাতায় পৌর নির্বাচনের আদর্শ পরিবেশ ছিল না। কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনের ফলাফল জানিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসের ভোটের কী অস্বাভাবিক ফলাফল হলো। কলকাতার ১৪৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ১১৪টি ওয়ার্ড।

তৃণমূল নেত্রীর ‘প্রাইভেট আর্মি’-র মতই অনেকাংশে কাজ করেছে পুলিশ বাহিনী। তাদের পাহারাতেই চমৎকার ‘ভোট’ করেছে শাসকের দুর্বৃত্তরা। আধা সামরিকবাহিনী নামেই টহল দিয়েছে। তাদের কাজেই লাগানো হয়নি। বরং মুর্শিদাবাদে তাদের দেখা গেছে হাজারদুয়ারি ভ্রমণে। সরকারি কর্মী যাঁরা পোলিং অফিসার হিসাবে গেছিলেন তাঁদের অভিজ্ঞতাও দুর্বিষহ। বেশিরভাগ জায়গায় তাঁদের স্রেফ বসিয়ে রেখে ছাপ্পা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন।

নির্বাচনের প্রচার পর্বেই এই জায়গাগুলিতে প্রাক্তন বিধায়ক, এস এফ আই-র রাজ্য সম্পাদক, প্রবীণ বামপন্থী নেতা কিংবা সদ্য বামপন্থী আন্দোলনে যোগ দেওয়া তরুণী — হামলার শিকার হয়েছেন নির্বিচারে। এরপর যদি শুধু ওই ৫০টিরই নির্বাচনের দিনের ছবি আর একবার মনে করা হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে সর্বত্র দাপিয়ে বেড়িয়েছিল মমতা ব্যানার্জির ‘প্রাইভেট আর্মি’। গুলি চলেছে, বোমা পড়েছে, দেদার বুথ দখল হয়েছে। বৈধ ভোটাররা ভোটই দিতে পারেননি সিংহভাগ জায়গায়।

যদিও পৌরসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের জন্য তাঁর তূণীরে থাকা যাবতীয় কৌশল, হাতিয়ার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী বিলক্ষণ কাজে লাগিয়েছিলেন। উত্তর ২৪পরগনা, হুগলী, নদীয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর — এই চারটি জেলায় মোট ৫০টি পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে। অর্থাৎ মোট ৯২টি অর্ধেকের বেশি পৌরসভা ছিল এই চারটি জেলায়। এই ৫০টি পৌরসভার মধ্যে শাসকদল জিতেছে ৪৮টিতে। কেবলমাত্র বর্ধমানের দাঁইহাট এবং নদীয়ার তাহেরপুরে তাদের হারতে হয়েছে।

তবু ফলাফলের দিন তিনি রেগে গেলেন। ‘জয়’ এলো। কিন্তু রাগ গেলো না তাঁর। আসলে এই রাগ ভয়ের আড়াল। নির্বাচনী ফলাফলে মুখ্যমন্ত্রী, শাসকদল ভয় পেয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর রাগের কারণ আছে। প্রথমত, অনেক হামলা, হুমকি সত্ত্বেও কলকাতা কর্পোরেশনকে বিরোধী শূন্য করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনের আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে তেমনই আহ্বান তিনি দলের কর্মীদের উদ্দেশে রেখেছিলেন। দ্বিতীয়ত, মহানগরের একাধিক জায়গায় এমন বেশ কিছু ওয়ার্ড আছে যেখানে রিগিং না করলে শাসকদলের পক্ষে জেতা ছিল অসম্ভব। বেলেঘাটায় কর্পোরেশনের বিরোধী দলনেত্রী রূপা বাগচী যে ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেই ৩২ নং ওয়ার্ডে কিংবা ই এম বাইপাস সংলগ্ন ১০৯নং ওয়ার্ড কিংবা দীর্ঘদিন কর্পোরেশনের মেয়র পরিষদ সদস্য থাকা সুধাংশু শীলের ২০ নং ওয়ার্ডে বামফ্রন্টকে পরাজিত করতে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা কী কাণ্ড করেছেন — তার সাক্ষী গোটা শহর, সারা রাজ্য। এছাড়াও এমন অনেক ওয়ার্ড আছে, যেখানে বুথ দখল, ছাপ্পা, মারধর, হুমকি ছাড়া শাসকদলের পক্ষে জেতা সম্ভবই হতো না। মমতা ব্যানার্জি দলের নেত্রী হিসাবে তা বিলক্ষণ জানেন। আর তাই নির্বাচনের দিনই মুখ্যমন্ত্রী কোনও বাধা না দেওয়া পুলিশকে ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ আখ্যা দিয়েছিলেন।

তিনি, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ এবং একমাত্র নেত্রী মনে করেছিলেন বিরোধীরা একটিও ওয়ার্ড জিতবে না। একটিও পৌরবোর্ড তো দূরের কথা। সম্ভবত তাঁর দলের নেতারা এবং বশংবদ পুলিশ অফিসাররা তেমনই রিপোর্ট দিয়েছিল তাঁকে। তীব্র সন্ত্রাস, পুলিশি নিপীড়ন এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের মোকাবিলা করে রাজ্যে ৬টি পৌরবোর্ড গঠন করার অবস্থায় পৌঁছে গেছে বামফ্রন্ট। শিলিগুড়িতে, যেখানে গত চার বছরে বারবার ছুটে গেছেন, থেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী, সেখানে পর্যুদস্ত হয়েছে তাঁর দল। সেই পৌরসভার দায়িত্বে ছিলেন মমতা ব্যানার্জির বিশ্বস্তদের অন্যতম রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী গৌতম দেব।


শিলিগুড়ি গভীর আঘাত, সন্দেহ নেই। দিনহাটা, দাঁইহাট, তাহেরপুর, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ এবং জঙ্গীপুরেও ধাক্কা। কিন্তু মমতা ব্যানার্জিকে আরও আহত করেছে খোদ কলকাতা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে তাঁর খাসতালুক। মুখ্যমন্ত্রী যে ওয়ার্ডের ভোটদাতা, সেখানে শাসকদল কুপোকাৎ। তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার কথায়,‘‘নিজের ওয়ার্ডের এই ফলে খুবই রেগেছেন দিদি। একপ্রস্থ ধমকেছেন নেতাদের। কাননও(শোভন চ্যাটার্জি) ভালো করে আনন্দই করতে পারলো না।’’ প্রসঙ্গত, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির ওয়ার্ড, ১০০নং-এ শাসকদল বিস্তর ছাপ্পা ভোটের পরে জিতেছে মাত্র ৩ ভোটে!

28-04-2015: এদিন সাধারণ ধর্মঘট সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়ার মধ্যে নির্বাচনী ফলাফল সংক্রান্ত তাঁর উষ্মা, ক্রোধ প্রকাশ করে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন,‘‘কিসের জন্য বন্ধ করবেন? ১টা সিটও পাওয়া উচিত ছিল না আপনাদের। এতগুলো সিট পেয়েছেন। আবার কী?’’ এই কথায় স্পষ্ট — মানুষ বিরোধীদের জেতানোর চেষ্টা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী সেটিকে অনুচিত মনে করেছেন। তাই ফলাফলকে স্বাগত জানাননি। কারণ, নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন যে, সরকারি দল পৌরসভা জিতলে নাকি কাজে সুবিধা।

KOLKATA: মঙ্গলবার ৯২টি পৌরসভার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। শাসকের দেদার ছাপ্পা আর মানুষের ভোট মিলেমিশে প্রকাশিত হয়েছে ‘জনাদেশ’। তারপর, মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ভাব, প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা গেলো স্পষ্ট — ‘জিতেছেন’। তবু শাসক মমতা ব্যানার্জির ভয় ঢাকতে রাগের দরকার পড়লো মঙ্গলবারের শেষ বিকালে।

KOLKATA: তাঁর সব ‘আর্মি’, যাবতীয় হাতিয়ার, রহস্যময় অর্থ, আর হুঙ্কার প্রয়োগ করেছিলেন অকাতরে, নির্দ্বিধায়। তারপর ‘জয়’ এসেছে। কিন্তু আকাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নয়। তাই ক্রোধ যায়নি মমতা ব্যানার্জির। ফলে ‘জয় করে তবু ভয় কেন তোর যায় না?’ কবিগুরুর লেখা গানটিই মঙ্গলবার মনে পড়িয়ে দিলেন তিনি, মুখ্যমন্ত্রী। তবে একটু অন্যভাবে, সামান্য বদলে।

বিরোধীদের জয়কে অনুচিত বললেন, ছাপ্পা, সন্ত্রাস সত্ত্বেও বিরোধী শূন্য করার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি, ‘জয়’ করে তাই ক্রোধ মমতার।

Tuesday, April 28, 2015

মানুষ তৃণমূলকে ভালোভাবে নিচ্ছে না বুঝতে পেরেই তৃণমূল গায়ের জোরে, সন্ত্রাস করে ভোট লুট করেছে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই। রাজ্য জুড়ে চলা এই নৈরাজ্য বন্ধ হওয়া দরকার। বৃহস্পতিবার তাই ধর্মঘট হবে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই।


গত ৪ বছর ধরেই চলছে বীভৎসতা। ক্রমশ তা মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল যে কোনোভাবেই মরিয়া। দুর্নীতির জালে আবদ্ধ গোটা দল। সারদা কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি, প্রোমোটিং- সিন্ডিকেটরাজ, শ্রমিককর্মীদের অধিকার হরণ, সংগঠন করার অধিকারে হস্তক্ষেপ, পরিবহণকর্মীদের বেতন, পেনশনে কোপ, শিক্ষায় দুর্নীতি, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা— এরাজ্যের মানুষ ভুগছেন এক তীব্র সঙ্কটে।

বৃহস্পতিবার (30-04-2015) গোটা দেশে ২৪ ঘণ্টা পরিবহণ ধর্মঘটের সঙ্গে ১২ঘণ্টা সাধারণ ধর্মঘট পালিত হবে রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গ কলেজ শিক্ষাকর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মৃণাল দাস। এদিন ধর্মঘটের পক্ষে বিভিন্ন জেলায় প্রচার কর্মসূচি পালিত হয়েছে বামফ্রন্ট ও ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে। জলপাইগুড়ি জেলায় মেঠেলি, নাগরাকাটা, বানারহাট, ডুয়ার্সের ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়ি সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার প্রচার চলেছে। ধূপগুড়িতে মিছিল হয়েছে পরিবহণ শ্রমিকদের। সি পি আই (এম)-র পক্ষ থেকে কাজিরহাটে মিছিল ও পথসভা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (30-04-2015) গোটা দেশে ২৪ ঘণ্টা পরিবহণ ধর্মঘটের সঙ্গে ১২ঘণ্টা সাধারণ ধর্মঘট পালিত হবে রাজ্যে।শ্রমিক-কর্মচারী, শিক্ষক শিক্ষাকর্মীদের জীবন জীবিকা রক্ষার লক্ষ্য সুনিশ্চিত করতে এই ধর্মঘট অত্যন্ত সঙ্গত। এছাড়া ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছেন সি পি আই (এম এল)-র পক্ষে সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ রানা ও রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়ার পক্ষে সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় মল্লিক। পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংঘের সম্পাদক অশোক বকশি ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ ও রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতির বিরুদ্ধে ডাকা এই ধর্মঘট অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এছাড়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন পশ্চিমবঙ্গ-এর পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক জয়দেব দাশগুপ্ত এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট ও হরতালকে সমর্থন জানিয়েছেন।

ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। ১২ই জুলাই কমিটির পক্ষ থেকে ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সমীর ভট্টাচার্য ও তপন দাশগুপ্ত। সমীর ভট্টাচার্য বলেন, এ রাজ্যে এক বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে গণতন্ত্র। মধ্যবিত্ত কর্মচারী, শিক্ষক শিক্ষাকর্মী তো আক্রান্ত অনেকদিন ধরেই। তার ওপর নির্বাচনে পোলিং বুথে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়েছে তাঁদের। তাই সব মিলিয়ে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ডাকা এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানাচ্ছে ১২ই জুলাই কমিটি।

বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, আক্রান্ত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে মানুষ রাস্তায় নামবেন। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এলেই সন্ত্রাসকারী শাসকদল পিছু হটবে। এটা প্রমাণিত সত্য। তাই একই সঙ্গে হবে সাধারণ ধর্মঘট ও পরিবহন ধর্মঘট। মঙ্গলবারও এক সাংবাদিক বৈঠকে বিমান বসু বলেন, আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। তা আমরা যে কোনোভাবেই করব। ঐদিন আই পি এল খেলা থাকলেও ক্রীড়ামোদীদের কোনো অসুবিধা হবে না। সন্ধ্যা ৬টায় ধর্মঘট শেষ হয়ে যাওয়ার দরুন তাঁদের কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে যেহেতু সি এ বি কর্মকর্তাদের আরো আগে থেকেই মাঠে যাওয়ার কর্মসূচি থাকে, সেহেতু উপযুক্ত প্রমাণ দেখালে তাঁদের ধর্মঘটের সময় ছাড়পত্র পাবেন। মঙ্গলবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু একথা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (30-04-2015) গোটা দেশে ২৪ ঘণ্টা পরিবহণ ধর্মঘটের সঙ্গে ১২ঘণ্টা সাধারণ ধর্মঘট পালিত হবে রাজ্যে। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি একযোগে পরিবহণ ধর্মঘটে শামিল হওয়ার জন্য এই শিল্পের শ্রমিককর্মীদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। কেন্দ্রের নতুন সর্বনাশা পরিবহণ আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার তাঁরা। বেসরকারিকরণের লক্ষ্যে রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড সেফটি বিল আনছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চালকেরা। এসবের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টা পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সি আই টি ইউ, এ আই টি ইউ সি, আই এন টি ইউ সি, ইউ টি ইউ সি, টি ইউ সি সি, এ আই সি সি টি ইউ, বি এম এস, এইচ এম এস সংগঠনগুলি। একই সঙ্গে রাজ্য জুড়ে চলা নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে বামফ্রন্টের সাধারণ ধর্মঘট চলবে ওইদিন।

শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, নারী নির্যাতন, শ্রমিককর্মীদের ওপর আক্রমণ, রুজি রোজগারে আঘাত, কর্মীদের সংগঠন করার অধিকারে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বারবারই পথে নেমেছেন মানুষ। সেই আন্দোলনকে এবার আরো জোরদারভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট। সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি রাজ্য জুড়ে চলা নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে আরো বেশি করে গণপ্রতিরোধে শামিল হতে আহ্বান জানিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে সমৃদ্ধ বাংলা গড়ে তোলার কথা বলেছেন তিনি।

যতই দিন যাচ্ছে, ততই আক্রান্ত মানুষ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন জোরদার করে তুলছেন। ভোটের বেশ কিছু আগে থেকে ব্যাপক সন্ত্রাস করেছে তৃণমূল। তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মানুষ। শুধু তাই নয়, গত ৪ বছর ধরেই মানুষ প্রতিরোধ বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের স্বৈরাচারী শাসনের।

বৃহস্পতিবার (30-04-2015) স্তব্ধ হবে গোটা রাজ্য। তৃণমূলের অবাধ সন্ত্রাস, ভোট লুট ও গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে ওইদিন সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট। আবার শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকে সেদিনই পরিবহণ শিল্পেও ধর্মঘটের আহ্বান। ধর্মঘটে যোগ দেবেন সমস্ত ক্ষেত্রের পরিবহণ শ্রমিকরা। তবে যে কোনোভাবে এই ধর্মঘটের বিরোধিতা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে তৃণমূলের চোখ রাঙানিকে উড়িয়ে দিয়ে ধর্মঘট ও হরতালের সমর্থনে এদিন প্রচার কর্মসূচি পালিত হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। বিভিন্ন বাম সংগঠনগুলির পক্ষ থেকেও ধর্মঘট ও হরতালকে সমর্থন জানানো হয়েছে।

৩০শে সাধারন ধর্মঘটের সমর্থনে বর্ধমানে মিছিল।

Monday, April 27, 2015

CPI (M) General Secretary Sitaram Yechury also attacked the Modi Government as a combine of two objectives that is the anti people economic policies and the danger of communalism . Bengal he said is now a rupture point between the politics and majority Communalism and minority fundamentalism he warned in the press conference. He also strikes away any electoral alliance with the Congress and said that the merger between the CPI (M) and the CPI is not on the agenda right now. ‘Any merger between the communist parties takes place in a programmatic ideological basis and the bifurcation too had happened in the same manner ‘. He also informed that the party is not contemplating alliance with other parties (Non Left ) but can come together based on the issues , like the case of Floor Co ordination with the Congress on the parliament on Various issues against the Modi Government.

CPI (M) General Secretary Sitaram Yechury informed that the party has already asked the Central Election Commission to take note of what is happening in West Bengal and how elections are taking place there as the state is facing assembly elections next year. He also informed that the party will organize an organizational plenum in order to bolster the party organization. He also appealed to all political parties especially the common people to unite against the politics of terror. He also did not wilted away suggestion of a covert arrangement between the Modi Government and Mamata as in the Rajyasabha , the Modi Government is wooing the TMC to pass the major bills .

ELECTION IN KOLKATA MUNICIPAL CORPORATION AND 91 MUNICIPALITIES IN WEST BENGAL: CPI(M) General Secretary Sitaram Yechury congratulated the Party workers , Left activists and the common people who heroically confronted such violence .

Kolkata , April 26th – Earlier in the day flanked by CPI(M) State Secretary Suryakanta Mishra he met with the reporters in a Prèss Conference at Abdul Halim Hall of Muzaffar Ahmad BHawan in Kolkata where he called the entire polling exercise in the state to be a mockery of democracy . He added that despite the politics of terror large number of voters had turned out to vote especially woman in large numbers only to be met with Armed political activists of the Trinamool Congress . ‘ IT is a big blot on Indian democracy ‘. He also called on for wide spread resistance against this politics of terror being pursued by the ruling party

Kolkata , April 26th – CPI(M) General Secretary Sitaram Yechury today rushed to Kolkata to stand besides the victims of the TMC led Poll violence . He went to several Hospitals of state and met with the injured left activists who are there under treatment for bullet injury. In RG Kar medical college Sanat Biswas of Madyamgram and in NRS Medical college he met with Shatrughna Singha of Bhatpara both of them receiving bullet injury .

সাতাশে এপ্রিল স্মরণে - বনানী বিশ্বাস ***********************************************‘২৭শে এপ্রিল’ নারী শহিদ দিবস। ১৯৪৯ সালের ২৭শে এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে পরিচালিত কংগ্রেস সরকারের পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে কলকাতার রাজপথে নিখিলবঙ্গ মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির চারজন নেত্রী লতিকা সেন, প্রতিভা গাঙ্গুলি, অমিয়া দত্ত, গীতা সরকার এবং যুবকর্মী বিমান ব্যানার্জি শহীদের মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পর জাতীয় কংগ্রেস দল দেশের পুঁজিপতি ও ভূস্বামীদের স্বার্থে পরিচালিত হয় এবং তাঁদের প্রতিনিধি হিসাবে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-মেহনতি জনগণের ওপর দমন পীড়ন অত্যাচারের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। স্বৈরাচারী শাসকদলের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ, বিক্ষোভ প্রকাশ পায়। প্রতিবাদে গড়ে ওঠে ব্যাপক গণআন্দোলন এবং সংগ্রাম। কৃষকদের জমি ও শস্যের অধিকার রক্ষার আন্দোলন শুরু হয়। নবপর্যায়ের তেভাগা আন্দোলন বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে। জনগণের জীবন-জীবিকার সংগ্রামের সঙ্গে নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসে ‘সাতাশে এপ্রিল ১৯৪৯ সালে।’ অমর শহিদদের স্মৃতি বিজড়িত ‘সাতাশে এপ্রিল’ — সংগ্রামের প্রতীক হিসাবে আমাদের সামনে প্রজ্জ্বলিত ও চিরভাস্বর রূপে বিদ্যমান। রাজ্যের সরকার ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলির শত শত নেতা ও কর্মীকে বিনাবিচারে কারারুদ্ধ করে রাখে। বন্দীদের ন্যূনতম দাবি আদায়ের জন্য কারাগারের অন্তরালে ও বাইরে চলে প্রবল আন্দোলন। কারারুদ্ধ অনশনরত বন্দীদের ওপর ও পুলিশ গুলি চালাতে দ্বিধা করেনি। দমদম জেলে নিহত হন কৃষককর্মী প্রভাত কুণ্ডু এবং ছাত্রকর্মী সুশীল চক্রবর্তী। রাজবন্দীদের রাজনৈতিক মর্যাদা রক্ষার দাবির সমর্থনে এবং তাঁদের মুক্তির দাবিতে রাজবন্দীদের মা ও ভগ্নীরা ‘‘মায়েদের সমিতি’’ গঠন করেন এবং রাজবন্দীদের মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। তাঁদের সঙ্গে মিলিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি ১৯৪৯ সালের ২৭শে এপ্রিল কলকাতার বৌবাজার স্ট্রিটে ভারতসভা হলে একটি প্রতিবাদ সভার আহ্বান করে। সভার পর ১৪৪ ধারা অমান্য করে মহিলাদের মিছিল বের হয়। মিছিলের ওপর পুলিশের বেপরোয়া গুলি ও সেখানে উপস্থিত সমাজবিরোধীদের বোমার আঘাতে নিহত হন লতিকা-প্রতিভা-অমিয়া-গীতা ও যুবক বিমান। সেদিন সারা পশ্চিমবাংলায় কংগ্রেস সরকারের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষ ধিক্কারে গর্জে ওঠে। ১৯৪৯ সালের ২৭শে এপ্রিল গণতান্ত্রিক নারী আন্দোলনের অগ্রগামী অংশ পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কর্মীদের কাছে স্মরণীয়। কংগ্রেস সরকারের দমন পীড়নের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় পশ্চিমবঙ্গ মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির মতন গণসংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করে। তার আগে সমিতির মুখপত্রগুলি ঘরে-বাইরে, জয়া, মুক্তির পথে নারী একে একে বাজেয়াপ্ত হয়। ২৭শে এপ্রিল নারী দিবসকে উপলক্ষ করে প্রতি বছর সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি প্রতিবাদ জানায় এবং নারীদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রদর্শনের দাবি জানায়। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে মা মাটি মানুষের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরো রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে নারীদের ওপর হিংস্র আক্রমণ, নির্যাতন, অত্যাচার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে শুধু অর্থনৈতিক সামাজিক ক্ষেত্রে নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নারীদের ওপর আক্রমণ সংগঠিত হচ্ছে যার প্রতিফলন পশ্চিমবাংলায় দেখা যাচ্ছে। ‘‘এই রাজ্যে কোথাও দিনের কোনো সময়েই মহিলারা নিরাপদ নন।’’ জাতীয় মহিলা কমিশনের এই মন্তব্য শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্যই। ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর কাছে কোন তথ্য নেই — রাজ্য সরকার পরিসংখ্যান পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গে চলছে নৈরাজ্য। প্রায় প্রতিদিন নারীর রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে বাংলার মাটি। শুধু হত্যা নয়, মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষণ করা হচ্ছে, সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য চলছে। তাদের অবাধ বিচরণ। নারীর সম্ভ্রম বিপন্ন। বয়সের কোন সময় সীমা নেই। দুই বছরের শিশু থেকে ছিয়াশি বছরের বৃদ্ধা আক্রান্ত। প্রতিবন্ধী হলেও রেহাই নেই। কেন্দ্রে বি জে পি শাসন চলছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে। আর এস এসের নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো হচ্ছে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী রানাঘাটে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনী ধর্ষিতা হয়ে রাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন। ১৯৪৯-এর ২৭শে এপ্রিল নারী শহিদদের আত্মত্যাগের মর্মকথা ছিল স্বৈরতান্ত্রিক কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ২০১৫ সালের ২৭শে এপ্রিল প্রত্যক্ষ করছে সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারীদের ওপর আক্রমণ। শারীরিক নির্যাতন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নারীদের প্রতি সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে সারা ভারত (পশ্চিমবঙ্গ) গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি।

KOLKATA, 26-04-2015: এদিন বিকালে সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র ও সাংসদ ঋতব্রত ব্যানার্জিকে সঙ্গে নিয়ে সীতারাম ইয়েচুরি এন আর এস হাসপাতাল এবং আর জি কর হাসপাতালে যান। আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মধ্যমগ্রামের সনৎ বিশ্বাস। শনিবার ভোটের দিনে তিনি তৃণমূল দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত হয়েছিলেন। এন আর এস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শত্রুঘ্ন সিনহা ভাটপাড়ার ১৪নম্বর ওয়ার্ডে ভোট দিতে গিয়ে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত হয়েছিলেন। সীতারাম ইয়েচুরি হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং কীভাবে তাঁরা আক্রান্ত হয়েছিলেন তা আহতদের কাছ থেকেই শোনেন। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যের কথা বামফ্রন্ট সাংসদরা সংসদেও তুলবেন বলে আশ্বাস দিয়ে গেছেন তিনি।


26-04-2015: সাম্প্রদায়িক এবং জনবিরোধী আর্থিক নীতি নিয়ে চলা মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সি পি আই (এম) অন্য রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে চলবে কিনা সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ইয়েচুরি বলেন, জনগণের ইস্যুতে আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে সহমত হয়ে যারা আসবে তাদের সঙ্গে নিয়ে লড়তে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। ইস্যুতে সহমত হওয়ার ওপরেই এই যৌথ আন্দোলন নির্ভর করবে, এর সঙ্গে জোটের কোনো প্রশ্ন নেই। পশ্চিমবঙ্গেও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আমরা সবাইকে শামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু রাজনৈতিক দলের জোট নয়, আমাদের মূল লক্ষ্য তলা থেকে মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলা।

এরাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও কেন্দ্রের শাসকদল বি জে পি-র মধ্যে সমঝোতার ইঙ্গিত যথেষ্টই আছে বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্তব্য করেছেন ইয়েচুরি। তিনি বলেন, অতীতে ওরা একসঙ্গেই ছিলো। এখন লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে মোদী সরকার সব কিছু পাশ করিয়ে নিচ্ছে। নতুন বিলও স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে পাঠাচ্ছে না। কিন্তু রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাদের তৃণমূলের মতো দলের ওপরে নির্ভর করতে দেখা যাচ্ছে। জি এস টি চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য প্রাথমিকভাবে রাজস্ব ক্ষতির শিকার হবে। কেন্দ্রীয় সরকার সেই ক্ষতির কতটা পূরণ করে দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এবার দেখবো রাজ্যসভায় তৃণমূল জি এস টি বিল নিয়ে কী ভূমিকা নেয়।

“আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে সন্ত্রাস মোকাবিলায় ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যাশা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইয়েচুরি বলেন, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের নির্বাচনগুলির অভিজ্ঞতা লক্ষ্য করে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচন যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয় সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।” -সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি

“আমরা দেশের মানুষকে জানাবো যে, পশ্চিমবঙ্গে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা ঘটছে না, সংবিধানের ওপরে আক্রমণ চলছে যা গণতন্ত্রের মূল আধার। দেশব্যাপী সব গণতান্ত্রিক ফোরামে আমরা এই কথা তুলে ধরবো। সংসদের ভিতরেও বলবো।” -সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি

26-04-2015: পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এই প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানিয়ে সারা দেশে সি পি আই (এম) প্রচার কর্মসূচি নেবে বলেও জানিয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরি। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ঠিক কী পর্যায়ের আক্রমণ ঘটছে তা সারা দেশের মানুষকে জানাতে হবে। সাতের দশকে পশ্চিমবঙ্গে আধাফ্যাসিবাদী আক্রমণের কথা দেশের অন্যান্য অংশের মানুষজন প্রথমে বুঝতে পারেননি, পরে ইন্দিরা গান্ধী যখন জরুরি অবস্থা জারি করলেন তখন বুঝতে পেরেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের সংগ্রামকে সমর্থন করেছিলেন।

26-04-2015: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ‘বেটার বেঙ্গল’ বা সমৃদ্ধ বাংলা গড়ে তোলার পথে অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করে ইয়েচুরি বলেন, শিল্পোন্নয়ন, গ্রামোন্নয়ন, সবক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ এখন পিছোচ্ছে। কৃষক আত্মহত্যার মতো ঘটনা যা পশ্চিমবঙ্গে আগে শোনা যেতো না, এখন সেই সব ঘটনা ঘটছে। এই পশ্চাদগতি রুখে সমৃদ্ধ বাংলার পথে এগোতে হলে আগে গণতন্ত্র ফেরাতে হবে।

SITARAM YECHURY: এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন বা ৩৫৬ধারা জারির মতো দাবি সি পি আই (এম) করছে কিনা সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের জবাবে ইয়েচুরি বলেন, না আমরা ৩৫৬ধারা জারি চাই না। আমরা বরাবরই এই ধারা প্রয়োগের বিরোধিতা করেছি, এখন তা প্রয়োগের দাবি করবো না। বরং গণপ্রতিরোধের জন্যই মানুষকে সংগঠিত করবো, এটাই আগামী দিনের একমাত্র রাস্তা।

“মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি এরাজ্যে ব্যর্থ হয়েছে। এখন জনগণের প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনো পথ নেই এমন অবস্থাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সেটা ছাড়া পথ নেই, কাজেই সেই পথেই হাঁটতে হবে। সাতের দশকেও বাংলার মানুষ এমন প্রতিরোধ করেছিলেন। এই পৌর নির্বাচনেও পশ্চিমবঙ্গের যে মানুষজন এবং বামপন্থী কর্মীরা আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধের কাজ করেছেন আমি তাঁদের সেলাম জানাই।” -সীতারাম ইয়েচুরি

শুধু সন্ত্রাস নয়, প্রশাসনিক মদতে নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বেআইনি হস্তক্ষেপ করেছে, ভোটসংখ্যাকে নিজেদের অনুকূলে আনতে প্রক্রিয়ায় নানারকম বিকৃতি ঘটিয়েছে তারও সমালোচনা করে ইয়েচুরি বলেছেন, বহু বুথে রিগিং এবং ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপি করেছে শাসকদল। কলকাতার বুথে ১০৪ থেকে ১৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে শুনলাম। ব্যাপক কারচুপি ছাড়া এটা সম্ভব? বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়েও শাসকদল একাজ করেছে, এখনও করছে।

সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে শাসকদলের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে শনিবারের নির্বাচনে। গণপ্রতিরোধ বাড়ছে এবং শাসকদলের সন্ত্রাসের এটাই একমাত্র জবাব।

26-04-2015: ইয়েচুরি কলকাতার নির্বাচন এবং শনিবারের পৌরসভাগুলির নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘গণতন্ত্রের নামে প্রহসন’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এটা ভারতের গণতন্ত্রের ওপরে আঘাত করেছে, ক্ষতি করেছে। রাজ্যজুড়ে এই হিংসাত্মক নির্বাচনের মধ্যে আমরা দুটি পরস্পর বিরোধী দিকই লক্ষ্য করেছি। একটা দিক হলো, মহিলা ও বৃদ্ধসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোটদানের জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। এটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, এর থেকে প্রমাণিত হয় পশ্চিমবঙ্গের মানুষ গণতন্ত্রের ওপরে আস্থাশীল, তাঁরা ভোটদানের ওপরে ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু বিপরীত মনোভাবটা দেখা গেছে শাসকদলের। তারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরে আস্থা রাখেনি। সশস্ত্র দুষ্কৃতীবাহিনী দিয়ে ভোটদাতাদের ওপরে হামলা করেছে, ভোট লুট করেছে।

শনিবার রাজ্যের ৯১টি পৌরসভার নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক হামলা সন্ত্রাসে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে রবিবার সকালেই কলকাতায় চলে আসেন সীতারাম ইয়েচুরি। ঠিক এক সপ্তাহ আগে বিশাখাপত্তনমে পার্টির ২১তম কংগ্রেসে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরে এটাই তাঁর প্রথম কলকাতায় আসা। সন্ধ্যার বিমানে দিল্লি ফিরে যাওয়ার আগে বিকালে তিনি কলকাতার দুটি হাসপাতালে গিয়ে ভোটের দিনে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত চিকিৎসাধীনদের সঙ্গে দেখাও করে গিয়েছেন।

কলকাতা, ২৬শে এপ্রিল— পৌরভোটের অভিজ্ঞতা থেকে গণপ্রতিরোধের পথে হেঁটে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে গেলেন সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। রবিবার কলকাতায় এসে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেছেন, ভারতের সংবিধান প্রদত্ত গণতন্ত্র রক্ষার জন্য রাষ্ট্রের যে প্রতিষ্ঠানগুলি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এই অবস্থায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য মানুষের প্রতিরোধ গড়ে তোলাই একমাত্র উপায়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে সংগঠিত করে সেই কাজ করাতেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে সি পি আই (এম)।

26-04-2015: বিমান বসু এদিন বলেন, ২৮শে এপ্রিল গণনার দিনও কারচুপি করতে পারে শাসকদল। স্বৈরতান্ত্রিক দল প্ররোচনার ফাঁদ তৈরি করার চেষ্টা করবে। রাজ্যের জনগণকে এর বিরুদ্ধে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করছি। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বিমান বসু ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সি পি আই নেতা মঞ্জুকুমার মজুমদার, সি পি আই (এম) নেতা রবীন দেব, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা হাফিজ আলম সইরানি, আর এস পি নেতা ক্ষিতি গোস্বামী ও মনোজ ভট্টাচার্য, ডি এস পি নেতা নজরুল ইসলাম, এস পি নেতা শ্যামধর সিং, আর সি পি আই নেতা সুভাষ রায়, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা শিবনাথ সিনহা, বলশেভিক পার্টির নেতা সমর বর্ধন, সি পি আই নেতা প্রবীর দেবসহ নেতৃবৃন্দ।

বেশ কয়েকটি পৌরসভায় তৃণমূলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সাহসের সঙ্গে বামফ্রন্ট কর্মীরা ভোট লুট আটকেছেন, এরকম ঘটনাও রয়েছে। শুধু বামফ্রন্টই নয়, ভাটপাড়ার একটি ওয়ার্ডে সি পি আই (এম এল)-লিবারেশন-এর প্রার্থী তৃণমূলের ভোট লুট করতে বাধা দেওয়ায় তাঁকে এবং তাঁর নির্বাচনী এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যারা অন্যায় করেছে তাদের গ্রেপ্তার না করে, যাঁরা তার প্রতিবাদ করেছেন তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ নির্লজ্জভাবে শাসকদলের হয়ে কাজ করেছে।

বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভার মোট ৩৯৫টি বুথে নিয়মমাফিক পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিকভাবে প্রায় ৭৫০ বুথে বামফ্রন্ট পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এদিন ৩৬টি বুথে পুনর্নির্বাচন করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হলে বিমান বসু বলেন, বামফ্রন্টের দাবির সঙ্গে এটা মেলে না। আসলে তৃণমূল যেখানে ভোট লুট করতে পারেনি, সেরকম কিছু বুথেই পুনরায় নির্বাচন দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা কর্পোরেশনসহ ৯২টি পৌরসভার নির্বাচনে পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ব্যাপক সন্ত্রাস ও বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কার্যত শাসকদলের হাতের পুতুলে পরিণত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বামফ্রন্ট সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর প্রতিবাদ আন্দোলনের কর্মসূচি নেবে, সেকথা শনিবার জানানো হয়েছিল। এদিন বিমান বসু সাংবাদিকদের তৃণমূলের ভোট লুটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, শাসকদল এরাজ্যে কিভাবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করার চক্রান্ত করছে, তার নমুনা এই নির্বাচনে পাওয়া গেছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনার এই ভোটকে ‘শান্তিপূর্ণ’ নির্বাচন বলেছেন। বিমান বসু এন আর এস, মেডিক্যাল কলেজ, আর জি কর সহ রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে তৃণমূলীদের আক্রমণে আহত হয়ে ভর্তি বামফ্রন্ট কর্মীদের নাম উল্লেখ করে বলেন, অসংখ্য মানুষ আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন। ‘শান্তিপূর্ণ’ নির্বাচন হলে এত মানুষকে আহত হতে হলো কেন?

প্রসঙ্গত, দানবীয় পরিবহণ বিলের বিরুদ্ধে ও পরিবহণ শিল্পে যুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আগামী ৩০শে এপ্রিল কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিন এরাজ্যের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি বৈঠক করে এরাজ্যে ওইদিন ২৪ ঘণ্টা সাধারণ ধর্মঘট করার ডাক দেয়। বিমান বসু এপ্রসঙ্গে বলেন, পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবিগুলি এবং এই ধর্মঘটের প্রতি বামফ্রন্টের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে বামফ্রন্ট ওইদিন যে সাধারণ ধর্মঘট ও হরতালের ডাক দিয়েছে তা সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ঘণ্টা চলবে। এই ধর্মঘটের আওতা থেকে দুধ, জল, বিদ্যুৎ, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পরিষেবাগুলি বাদ থাকবে। বাকি সমস্ত ক্ষেত্রে এই ধর্মঘট হবে।

বিমান বসু এস ইউ সি আই (সি) এবং সি পি আই (এম এল)-লিবারেশনসহ রাজ্যের বামপন্থী দলগুলির কাছে আগামী ৩০শে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ১২ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট ও হরতালকে সমর্থন করার আবেদন জানান। এদিকে, এস ইউ সি আই (সি)-র রাজ্য সম্পাদক সৌমেন বসু এদিন এক বিবৃতিতে এই সাধারণ ধর্মঘটের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

KOLKATA: পশ্চিমবাংলায় তৃণমূল সরকার এবং শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যেভাবে সাধারণ মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে, গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে, নারীর ইজ্জত লুট হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর আক্রমণ নেমে আসছে, শ্রমিক-কর্মচারী-শিক্ষকদের বেতন বকেয়া রাখা হচ্ছে, কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, নতুন বিনিয়োগ না আসায় বেকার যুবক-যুবতীদের নতুন কাজের সুযোগ বন্ধ হচ্ছে, শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য নামিয়ে আনা হচ্ছে—তার প্রতিবাদে বামফ্রন্ট রাজ্যের মানুষকে আগামী ৩০শে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ১২ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট ও হরতালকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার আবেদন জানাচ্ছে।

কলকাতা কর্পোরেশনসহ রাজ্যের ৯২টি পৌরসভার নির্বাচনে সংসদীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টার প্রতিবাদে আগামী ৩০শে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ১২ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট ও হরতালের ডাক দিলো রাজ্য বামফ্রন্ট।

Sunday, April 26, 2015

এবারের ২৭শে এপ্রিলের আহ্বান মিনতি ঘোষ ১৯৪৯ সালের ২৭শে এপ্রিল গণতান্ত্রিক তথা নারী আন্দোলনের পক্ষে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। এই দিনেই কলকাতার রাজপথ মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির চার পুরোধা নেত্রী লতিকা সেন, প্রতিভা গাঙ্গুলি, অমিয়া দত্ত, গীতা সরকার এবং একজন যুবক বিমান ব্যানার্জির রক্তে লাল হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট। ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে কোন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা আসেনি। বরং রক্ত ঝরেছিল — অনেক রক্ত ভাইয়ে ভাইয়ে দাঙ্গায়। ১৯৪৬ সালে হিন্দু-মুসলমানের সেই দাঙ্গার উৎস কোথায়, কারা চেয়েছিল পরস্পরের মধ্যে স্থায়ী অবিশ্বাস আর সন্দেহের চিরকালীন বীজ বপন করে দুটি সম্প্রদায়ের মধুর সম্পর্ককে বিনষ্ট করতে এ ইতিহাস কারও অজানা নয়। কংগ্রেস আর মুসলিম লিগের পারস্পরিক সম্পর্কের বিনিময়ে ব্রিটিশ সরকারের সাথে গোল টেবিল বৈঠকের মধ্য দিয়ে দেশকে দু-টুকরো করে স্বাধীনতা ঘোষিত হলো। ভারত আর পাকিস্তান। দেশ শুধু দু-টুকরো হলো না, মানুষও ভাগ হলো। মাত্র এক বৎসর আগেই স্বজন হারানোর বেদনায় বিদ্ধ সাধারণ মানুষ তার উপর দেশভাগের যন্ত্রণা। স্বাধীনতা লাভের আনন্দে যখন দু’দলের নেতৃত্ব উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা সেই সময়েই বাংলা আর পাঞ্জাবের উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আর এক আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে। কারণ এই দুটি প্রদেশেও সীমানাভাগের আইন কেটে দিয়েছে দুই প্রদেশকে, তাদের মানুষকে। ছিন্নমূল হয়ে উদ্বাস্তু পরিবার সাত পুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হলেন এ-পার বাংলায়। পাঞ্জাবের উদ্বাস্তুদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার। বাংলা সম্পর্কে তাদের উদাসীনতার সাক্ষী লক্ষ লক্ষ মানুষ। বন কেটে বসত গড়ে, জল-জঙ্গল ভরাট করে শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই জোগাড় করার লড়াইয়ে তাদের একমাত্র ভরসাস্থল ছিল কমিউনিস্টরা। তাদের লড়াই আন্দোলনের ফলেই মিলেছিল পুনর্বাসন। জীবন-জীবিকার লড়াই, খাদ্যের দাবিতে লড়াইয়ের পুরোভাগে থেকেছে কমিউনিস্ট পার্টি। দু’বৎসরের স্বাধীনতার আসল চেহারা কিন্তু ততদিনে জনগণ বুঝতে পারছেন। প্রধানমন্ত্রী হয়েই জওহরলাল নেহরু ঘোষণা করেছিলেন কালোবাজারিদের ল্যাম্পপোস্টে ঝুঁলিয়ে ফাঁসি দেবেন। বলতে বাধ্য হয়েছিলেন এ কারণে যে তখন দেশজুড়ে তীব্র খাদ্যাভাব, অপরদিকে কংগ্রেস মদতপুষ্ট কালোবাজারি মুনাফাখোরদের রমরমা বাজার। বুর্জোয়া জমিদারদের মদতপুষ্ট কংগ্রেস দল তাদেরই স্বার্থরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করবে— এটাই স্বাভাবিক। গরিবের জন্য আইন হয়েছে কিন্তু কখনও গরিবের স্বার্থরক্ষা করেনি। নির্বাচনের সময় গরিব ঠকানো মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ঝুলি যা আজও করে চলেছে বি জে পি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস। কমিউনিস্ট পার্টি তার জন্মলগ্ন থেকেই শ্রেণি শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল পার্টি। স্বাধীনতা লাভের পরও মজুর-কৃষকদের সংগঠিত করে উত্তাল আন্দোলন গড়ে তুলেছে কমিউনিস্ট পার্টি। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের দাবিতে, বিনা ক্ষতিপূরণে কৃষকের হাতে জমি তুলে দেওয়া, বর্গাদারের তেভাগার দাবিতে কৃষকসভার নেতৃত্বে গ্রামে গ্রামে গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে। এরই পাশাপাশি নারী আন্দোলনও নতুন শক্তি নিয়ে বিকশিত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী, ফ্যাসিবিরোধী সংগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বিভিন্ন অংশের জনগণ নিজেদের সংগঠন গড়ে তুলেছিল। ১৯৪৩ সালের ৯ই মে গড়ে উঠল মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি। গ্রাম-শহরে, দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের পাশে থেকে লড়াইয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান-এর দাবিতে শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত, অভিজাত সব অংশের মহিলাদের মধ্যে সংগঠনকে প্রসারিত করার কাজটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে করা হয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে কৃষকসভার নেতৃত্বে তেভাগার দাবির আন্দোলনে শতাধিক কৃষকরমণী শহীদ হয়েছেন। যে ধারা আজও বহমান। আন্দোলনের ব্যাপকতা, তীব্রতা তখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা বাংলায়। রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেন প্রথমেই বিনাবিচারে আটকের নিরাপত্তা আইন পাশ করেন। জনগণের ধূমায়িত ক্ষোভ আছড়ে পরলো চারদিকে। এ যেন স্বপ্ন থেকে মাটিতে নেমে আসার আঘাত। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বাসস্থানের দাবি একটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকারের লক্ষ্যেই কমিউনিস্ট নেতৃত্ব আন্দোলন গড়ে তোলেন। শুরু হলো দমন-পীড়ন। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে কলকাতায় পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেস শেষ হবার পরই পার্টিকে বেআইনি ঘোষণা করা হলো। পার্টি ও গণসংগঠনের নেতৃত্বকে কারাগারের অন্ধকারেই শুধু নিক্ষেপ করা নয় তাঁদের তৃতীয় শ্রেণীর কয়েদি হিসাবে ঘোষণার ফলেই সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। শুরু হলো আন্দোলনের নবপর্যায়। বিভিন্ন গণসংগঠনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দিনে মিছিল, সভা হয় ধৃত নেতাদের মুক্তির দাবিতে, তাঁদের প্রথম শ্রেণির রাজনৈতিক বন্দির মর্যাদার দাবিতে। ১৯৪৯ সা‍‌লের ২৭শে এপ্রিল মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি এবং ‘মায়েদের সমিতি’ ভারতসভা হলে সভা করে বৈশাখের খর রোদকে উপেক্ষা করে মিছিল করে বৌবাজার স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এসে পৌঁছানোমাত্র স্বাধীন রাষ্ট্রের পুলিশবাহিনী শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুরোভাগে থাকা নেত্রীরা লুটিয়ে পড়লেন কলকাতার রাজপথে। রক্তে ভিজে গেল পিচ রাস্তা। নাকি কংক্রিটের রাস্তায় পরতে পরতে তাঁদের শোণিতধারা মিশে গিয়ে অযুত নতুন বীজের জন্ম দিয়েছে, যে বীজ প্রতিদিন নতুন নতুন লড়াইয়ের প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। ৬৬ বৎসর পার হয়ে গেল, তবু ভোলা যায় না তাঁদের আত্মত্যাগের কথা। স্বাধীনতার ৬৮ বৎসর — বারবার দিল্লিতে সরকার বদল হয়েছে। জনতা ওই সময়ের মধ্যে কংগ্রেসের ধনিক তোষণ নীতির ফলে সাধারণ মানুষ সরে গিয়েছেন তার পাশ থেকে। কংগ্রেসের হাত ধরেই উদারনীতির প্রবেশ ভারতবর্ষে। কংগ্রেস মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও এই প্রশ্নে তাদের দৃঢ়তার অভাব এবং সুবিধাবাদী নীতি চরম দক্ষিণপন্থী দল বি জে পি-র দ্রুত উত্থানকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করেছে। ইতিমধ্যে দু’বার তারা কেন্দ্রে কিছু দিনের জন্য ক্ষমতাও ভোগ করেছে। বি জে পি’র ২০১৪ সালে উত্থান চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে ভারতবাসীকে। বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যই ভারতের সুমহান ঐতিহ্য। বি জে পি একান্তভাবেই উগ্রহিন্দুত্ববাদ এবং ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী দর্পণদ্বারা পরিচালিত হিন্দু রাষ্ট্রের স্লোগানের আড়ালে দেশকে তারা হাজার বছর পিছিয়ে দিতে চাইছে। হিন্দুত্ববাদী আর এস এস পিতৃতান্ত্রিক মূল্যবোধের দ্বারা পরিচালিত মহিলাদের প্রতি পোশাক থেকে বাইরের জগতে চলাফেরার ক্ষেত্রেও বিধি নিষেধ আরোপ করে চলেছে যা আগামী দিনের ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত। রান্নাঘর, উপাসনাগৃহ আর সন্তান উৎপাদন এই তিনটিতেই তারা মেয়েদের আবদ্ধ রাখতে চাইছে। আর এস এস শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সবক্ষেত্রে পশ্চাদগামী চিন্তা চেতনার অনুপ্রবেশ ঘটাতে সক্রিয়। অপরদিকে কর্পোরেটদের স্বার্থরক্ষায় তারা কতটা সক্রিয়— সংসদে বিমা বিল, পেনশন‍‌ বিল, খনিজ সম্পদ, রেল, কয়লা বিলকে পাশ করিয়ে নেবার মধ্য দিয়েই মুখোশ খুলে গিয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে তুষ্ট করতে জমি অধিগ্রহণ বিলকে কার্যকর করার লক্ষ্যে গোপনে তৃণমূল কংগ্রেস দলের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তায়ও গিয়েছে। অপর দিকে ঘরওয়াপসি’র নামে সংখ্যালঘুদের ধর্মান্তরিত করার হীন প্রয়াস আমাদের রাজ্যেও শুরু হয়েছে। ভয়ঙ্কর এক সন্ত্রাসের আবহে আমাদের রাজ্যে প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে প্রতিটি দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। ভূলুণ্ঠিত ব্যক্তি স্বাধীনতা, মানবাধিকার। নারীর সম্ভ্রম, ইজ্জত সুরক্ষিত থাকবে কি না তা নির্ভর করছে একদল উচ্ছৃঙ্খল, লুম্পেন, সমাজবিরোধীদের উপর। ২০১১ সালে হিংস্র, নীতিহীন, আদর্শহীন একটি দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি আস্থা জানিয়েছে রাজ্যের একাংশের নাগরিক। ৩৪ বৎসরের বামপন্থী সরকারকে বড্ড একঘেয়ে আর আটপৌরে বলে মনে হচ্ছিল। তাই পরিবর্তন। এই সময়কালে পঞ্চায়েত নির্বাচন, লোকসভা নির্বাচন এবং অতি সম্প্রতি কলকাতা কর্পোরেশনসহ শিলিগুড়ি, চন্দননগর এবং ৯১টি পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল ফল ঘোষণা। প্রতিটি নির্বাচন হয়েছে রক্তাক্ত। গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক সমস্ত রীতিনীতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। অফুরন্ত টাকার খেলা। একমাস ধরে লাগাতার ভোজ সভা। উপঢৌকন, মাংস আর মদের ফোয়ারা ক্লাবে, পাড়ায়, নতুন একটি সংস্কৃতির উদ্ভব ঘটেছে এ বাংলায় ক্লাব সংস্কৃতিতে। তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে সমাজকে, সাধারণ মানুষকে জোর করে প্রার্থীপদ থেকে শুরু হয়েছে নির্বাচনের প্রাক্‌কালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানো, হামলা, হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর চলছেই। শ্রমজীবী পাড়ায় প্রকাশ্যে নেশার দোকান, গভীর রাত পর্যন্ত হই-হুল্লোড়, বাইকবাহিনীর গর্জন — মেয়েরা ঘরে খিল এঁটে বসে থাকেন। ফ্ল্যাগ, ফেস্টুন ছেঁড়া তো ওদের কাছে সামান্য ঘটনা। এক অচেনা দমবন্ধ করা পরিবেশ। ভোটের দিন বহিরাগত সমাজবিরোধীরা বুথ দখল করেছে। পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি দৈহিক আক্রমণ, হিংস্রবাহিনীর হাতে পুলিশ অফিসারও রক্তাক্ত। নির্বাচন কমিশনার যেন সেই ছেলেবেলার মেলায় কেনা বুড়োর মতো যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কথায় বলে চলেছেন — সব ঠিক, ঠিক, ঠিক। আর রয়েছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। উভয়ে মিলেই নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। এটাই এ রাজ্যের গণতন্ত্র। নির্বাচনের ফলাফল কি হবে তার উপর নির্ভর করে থাকবে না আমাদের সংগঠনের কর্মীরা। ১৯৪৩ সালে মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি গঠনের সময় কোন সরকার গঠনের স্বপ্ন ছিল না তাদের চোখে। তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটা শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের। সেই স্বপ্ন এখনও শুকিয়ে যায়নি। কোন দিন শুকিয়ে যাবে না। যতদিন শ্রেণি শোষণ থাকবে, সমাজে বৈষম্য থাকবে। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার চলবে ততদিন এই স্বপ্ন বুকে নিয়ে লাখো লাখো মানুষ পথ চলবে। তার সাথে বিশ্বজুড়ে আমাদের দেশে এবং পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ প্রতিরোধের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে বীরাঙ্গনার ভূমিকায় লড়ছেন মেয়েরা। ২৭শে এপ্রিলের রক্তেভেজা মাটিতে দাঁড়িয়ে আমাদের শপথ হোক লড়াইয়ের ময়দান থেকে পিছুহটা নয়, আগামীদিনে আরো কঠিন কঠোর সংগ্রামের লক্ষ্যে নিজেদের চেতনাকে শাণিত করে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে চলা।


মমতা ব্যানার্জির আমলে শুধু সাড়ে তিন বছরেই বাজার থেকে ধারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫হাজার কোটি টাকারও বেশি। রাজ্যের এই ঋণ নেওয়ার ভয়াবহ প্রবণতা এতাটাই যে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ঋণের জন্য সুদ দিতে হতো ১৪হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এখন রাজ্য সরকারকে ঋণ পরিশোধের জন্য সুদ দিতে হয় ২৩হাজার কোটি টাকা। মাত্রাতিরিক্ত ধার করার জন্যই এখন রাজ্য সরকারকে সুদ দেওয়ার জন্য বাড়তি ৯হাজার কোটি টাকা দিতে হচ্ছে। নয়া আর্থিক বছরের শুরুতে ধার এখন বছর শেষে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার।

গত ২০১১সালের ১৮ই মে এরাজ্যের ঋণের পরিমাণ ছিলো ১লক্ষ ৯২হাজার কোটি টাকা। এই ঋণের মধ্যে ৭৯হাজার কোটি টাকা স্বল্প সঞ্চয় খাতের ঋণ। কেন্দ্রীয় সরকারের আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক এই ঋণকে বামফ্রন্ট সরকার নিতে বাধ্য থাকে। এরপর কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা খাতের বরাদ্দের ৭০শতাংশকে ঋণ হিসাবে রাজ্য সরকারকে নিতে হয়। এই ঋণের পরিমাণ ছিলো ১২হাজার ৩০০কোটি টাকা। নাবার্ড সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের সাহায্য থেকে রাজ্যের ৩৪বছরে ঋণ দাঁড়ায় ৮হাজার ৫০০কোটি টাকা। পি এফ তহবিলে ঋণের পরিমাণ ছিলো ৮হাজার কোটি টাকা। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকার আর্থিক বছর শেষের মুখে অর্থাৎ, মার্চ মাসের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে বিভিন্ন খাতের টাকা রাজ্যে পাঠায়। কিন্তু আর্থিক বছর শেষের মুহূর্তে ওই টাকা খরচ করার কোনো সুযোগই রাজ্য সরকারের থাকতো না। অব্যয়িত ওই টাকা পরের আর্থিক বছরে ঋণ হিসাবে গণ্য করা হতো। এইরকম অব্যয়িত অর্থ থেকে রাজ্যের ঋণ দাঁড়ায় ১২হাজার কোটি টাকা। এরসঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার ৩৪বছরে বাজার থেকে ধার করে ৭২হাজার কোটি টাকা। এই সব ঋণের টাকা একসঙ্গে যোগ করলে ১লক্ষ ৯২হাজার কোটি টাকা দাঁড়ায়।

ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসা করতে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ করতেন মমতা ব্যানার্জি। এমনকি গত সাড়ে তিন বছরে বিভিন্ন সময় বামফ্রন্ট সরকারের আমলের ঋণ নিয়ে লাগাতার মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হলো, গত সাড়ে তিন বছরে অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে বাজার থেকে ধার করা হয়েছে। গত সাড়ে তিন বছরে এমন কোনো মাস নেই যে মাসে রাজ্য সরকার বাজার থেকে ধার করেনি। এমনকি এমনও মাস গেছে যে মাসে সর্বোচ্চ তিন বার পর্যন্ত ধার করতে হয়েছে রাজ্য সরকারকে।

রাজ্যের ঋণ মকুবের দাবি নিয়ে মমতা ব্যানার্জি গত মার্চ মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। তার আগেই গত ১০ই মার্চ রাজ্য সরকার বাজার থেকে ধার করে। আর্থিক বছর শেষের মুখে সেবার রাজ্য সরকার বাজার থেকে ১হাজার ৩০০কোটি টাকা ধার করেছিলো। সদ্য শেষ হওয়া আর্থিক বছরের সেই ধারের পর নতুন শুরু হওয়া আর্থিক বছরেও ধার অব্যাহত রাখলো মমতা ব্যানার্জির সরকার।

গত তিন বছর ধরে বাজার থেকে ধার করায় শীর্ষস্থানে ছিলো মমতা ব্যানার্জির সরকার। গত ২০১৪-১৫আর্থিক বছরেও রাজ্য সরকার বাজার থেকে ২১হাজার ৯০০কোটি টাকা ধার করে। সবে শুরু হয়েছে নতুন আর্থিক বছর। বছর শুরুর মাস থেকেই ফের বাজার থেকে ধারের খাতা খুলে ফেললো মমতা ব্যানার্জির সরকার।চলতি মাসে দেশের ১১টি রাজ্য বাজার থেকে ধার করতে চলেছে। তাদের মিলিত ধারের পরিমাণ ৭হাজার ৫০০কোটি টাকা। সর্বোচ্চ ১৬০০কোটি টাকা ধার করছে উত্তর প্রদেশ। পশ্চিমবঙ্গ ও সদ্য গঠিত রাজ্য তেলেঙ্গানা ১হাজার কোটি টাকা ধার করছে।

কলকাতা, ২৬শে এপ্রিল— আর্থিক বছর শুরুর প্রথম মাসেই বাজার থেকে ধার করা শুরু করে দিলো রাজ্য সরকার। চলতি মাসে ১হাজার কোটি ধার করতে চলেছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। আগামী মঙ্গলবার রাজ্য সরকার এই ধার নিতে চলেছে। মমতা ব্যানার্জির আমলে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার বাজার থেকে ৮৫হাজার ২৬৪কোটি টাকা ধার করে ফেললো! বামফ্রন্ট সরকারের আমলে গোটা ৩৪বছরে বাজার থেকে ধার ছিলো ৭২হাজার কোটি টাকা। কিন্তু তৃণমূলের আমলে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই ধার ৮৫হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেল।

রবিবার সি পি আই (এম) নেতা রবীন দেব বলেন, বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে যে সমস্ত বুথে পুনরায় ভোট চাওয়া হয়েছিল তা নির্বাচন কমিশন মানেননি। শাসকদলের পক্ষ নিয়েই পুনর্নির্বাচনের তালিকা তৈরি হয়েছে। এদিন তিনি রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে ভোট গননা কেন্দ্রগুলিকে সুরক্ষিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। রবীন দেব দাবি করেছেন, অস্থায়ী কর্মী বা চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছে এমন কোন কর্মীকে ভোট গণনা কেন্দ্রের সুপারভাইজার করা যাবে না। তিনি দাবি করেছেন সুপারভাইজারের টেবিলে রাজনৈতিক দলের কাউন্টিং এজেন্ট রাখতে হবে। গণনা কেন্দ্রে সি সি টিভি এবং ভি ডি ও রেকর্ডিং-এর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

KOLKATA: কমিশনার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায় জানান, যে সমস্ত বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে সেগুলির মধ্যে অধিকাংশতেই ই ভি এম ভাঙার কারণে আবার ভোট নেওয়া হচ্ছে। বেশ কয়েকটি বুথ রয়েছে যেখানে ওয়েব ক্যাম ভাঙা হয়েছে। সাংবাদিকরা নির্বাচন কমিশনারকে প্রশ্ন করেন, কলকাতায় যে ৭টি বুথে ওয়েব ক্যাম ভাঙা হয়েছিল সেগুলিতে পুনরায় ভোট গ্রহণ হলো না কেন? অল্প সময় চুপ করে থেকে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাকে ‌আর বিতর্কের মধ্যে জড়াবেন না।

KOLKATA: কলকাতা, ২৬ শে এপ্রিল— সোমবার রাজ্যে বিভিন্ন পৌরসভার ৩৬টি বুথে পুনরায় ভোট নেওয়া হবে। এর মধ্যে ২৪টি বুথ রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায়। বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে যে সমস্ত বুথে পুনর্নির্বাচনের কথা বলা হয়েছিল সেগুলিতে পুনরায় ভোট গ্রহণের কোন উদ্যোগ রাজ্য নির্বাচন কমিশন নেয়নি। যে সমস্ত বুথে পুনরায় ভোট গ্রহণ হচ্ছে তার মধ্যে অধিকাংশ বুথ রয়েছে যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস সুবিধা করতে পারেনি। রাজ্য নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারের নির্লজ্জ তাঁবেদারি করতেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কোন অভিযোগ বিবেচনার মধ্যে আনছে না।

রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত হলেও পশ্চিমবঙ্গের এই ঘটনাক্রম অবশ্যই ভারতের নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনা করে দেখা উচিত। ২০১৬সালে নির্ধারিত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের কথা ভেবে এই ঘটনাক্রম থেকে তাদেরও শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। - পলিট ব্যুরো, সি পি আই (এম)

অতীতে এদেশে শীর্ষস্তরের বিভিন্ন সাংবিধানিক পদ অলঙ্কৃত করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের এমন কয়েকজন মানুষ এবং বহু বুদ্ধিজীবী মিলিতভাবে ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি ফোরাম’ নামে একটি মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এবারের ভোটে অগ্রণী আইনজীবীদেরও অনেককেই তাঁদের আইনি অধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হয়নি।

স্বৈরাচারী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে পশ্চিমবঙ্গবাসীর। জনগণকে নিয়ে সাহসী লড়াই চালিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নজিরও অতীতে তৈরি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। তাই বর্তমানে গণতন্ত্রের ওপর তৃণমূল কংগ্রেস যে আক্রমণ নামিয়ে এনেছে, তা প্রতিরোধের জন্য রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছে সি পি আই (এম)।

নয়াদিল্লি, ২৬শে এপ্রিল — সাম্প্রতিক পৌর নির্বাচনে যেভাবে হিংসাত্মক আক্রমণ চালিয়ে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের মানুষের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলো সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো। গণতন্ত্রের ওপর এই আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে পলিট ব্যুরো।

পেশিশক্তি প্রদর্শন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার এসব ঘটনারবিরুদ্ধে অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গাতেই ব্যাপক গণপ্রতিরোধের দৃশ্যও দেখা গিয়েছে। বহু মানুষ জখম হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে গত ২৫শে এপ্রিল ৯১টি পৌরসভা এবং ২টি কর্পোরেশনের নির্বাচন পুরোপুরি গণতন্ত্র প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে গত ২৫শে এপ্রিল ৯১টি পৌরসভা এবং ২টি কর্পোরেশনের নির্বাচন পুরোপুরি গণতন্ত্র প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এই নির্বাচনে এবং এক সপ্তাহ আগে কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন নির্বাচনে মানুষ বিশেষত মহিলারা খুবই উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভোট দিতে গিয়ে এই নিরীহ ভোটদাতারা শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী এবং সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের মুখোমুখি পড়েছেন। ভোটদাতাদের অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটদান করতে দেয়নি শাসকদলের এই কর্মী এবং সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। পোলিং বুথ দখল করা হয়েছে। বিরোধী দলের প্রার্থীদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। দলবদ্ধভাবে ছাপ্পা ভোট দেওয়া হয়েছে। ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে খুবই সামান্য পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পাঠানো হয়েছিলো বটে, কিন্তু ভোটকেন্দ্রে তাদের মোতায়েন রাখেনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভোটের তদারকি না করিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ভ্রমণে পাঠিয়ে দিয়েছিলো রাজ্য সরকার! এই ঘটনা ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে কলঙ্ক হিসেবেই চিহ্নিত হলো।

এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের মতোই অভিজ্ঞতা হয় রাজ্য বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের। সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের কাছে বিমান বসু ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে ভোটে হামলা, লুটের যা ঘটনার তালিকা আছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে তার অর্ধেকও নেই। আমরা ওঁকে বললাম, কিছু করতে না পারলে সাংবাদিকদের কাছে গিয়ে বলে দিন, আমি পদত্যাগ করছি।’’ সাংবদিক বৈঠকের শেষপর্বে পদত্যাগ প্রশ্নেই অবস্থা। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায় শুধু সামান্য ইতিবাচক হয়ে বলে ওঠেন, ‘‘আমাকে ভেবে দেখতে হবে।’’

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার ঢের আগে দপ্তরে বসেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার ফোন পেয়েছিলেন তাঁর মেয়ের। টিভি দেখে তাঁর মেয়েই বাবার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথে না থেকে মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে! মেয়েকে তিনি এর উত্তরে কী বলেছেন, তা জানা সম্ভব হয়নি। তবে সাংবাদিকদের কাছে তিনি জানান, ‘‘কোথায় ঘুরেছে জানি না। তবে এস পি-র কাছে জানতে চেয়েছি।’’

নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, চার জায়গায় গুলি চলেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে খবর, কাটোয়ার ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আর চন্দননগর কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে গুলি চলেছে। বাকি জায়গা কোথায়? ‘‘সেটা আমি বলতে পারবো না’’, প্রশ্ন শুনে জানান নির্বাচন কমিশনার। সকাল থেকে রাজ্যবাসী জেনে গেছেন কাটোয়ার গুলি চালানোয় একজনের মৃত্যুর খবর। এদিন সেই মৃত্যুর খবরও জানাতে পারেননি কমিশনার। কাটোয়াতে একটি বুথের ই ভি এম পাওয়া যায় শাসক দলের অফিসে। সেই খবরও জানা নেই কমিশনের। তিনি নিজেই ঘরে বসে দেখেছেন, বুথের মধ্যে ভাঙা হয়েছে ওয়েব ক্যামেরা। সাংবাদিকদের তিনি নিজে বলেছেন, অন্তত ৫টি বুথে ভেঙে ফেলা হয়েছে ই ভি এম। কিন্তু পুনর্নির্বাচন কোথায় হবে, তা জানা নেই কমিশনের।

শুধু কি ভোটের হার? ভোটপর্ব শান্তিতে মিটেছে কি না, সেই প্রশ্নেও তাঁর অবস্থান ছিল বখাটে সন্তানকে সামলাতে না পারা অসহায় অভিভাবকের মতো। সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়াতে পারছেন না, আবার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জবুথবু অবস্থা। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়র কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ভোট কি অবাধ ও শান্তিতে হয়েছে বলে মনে করেন? উত্তর এসেছে, ‘‘শান্তিপূর্ণ না অশান্তিপূর্ণ কোনোটাই বলছি না।’’ তাহলে আপনি কী মনে করছেন? তিনি শুধু বললেন, ‘‘আমরা উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়, বারাকপুর, ভাটপাড়া, কাঁচরাপাড়া, হালিশহরসহ বেশ কিছু এলাকাতে ১০০টার মতো অভিযোগ পেয়েছি। তার কোনোটাতেই এজেন্টকে বসতে দেওয়া হয়নি। লাইন থেকে ভোটারদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ এসেছে বুথ দখল হয়ে যাওয়ারও। আর টুকরো টুকরো কিছু অভিযোগ এসেছে কাটোয়া, বাঁশবেড়িয়া, রিষড়া, শ্রীরামপুর পৌর এলাকা থেকে।’’ তাঁর মুখে ভোট সংক্রান্ত সব অভিযোগ শুনে সাংবাদিকরা জানতে চান, ‘‘এসবকে অভিযোগ বলছেন কেন? এগুলি ঘটনা। এসব ঘটনা তো ঘটেছে।’’ তাঁর মুখে তখন শুধু একটাই কথা, ‘‘আমি অভিযোগ এসেছে এটুকুই শুধু বলতে পারি।’’ এরপরও টানা প্রায় ৫০ মিনিট সাংবাদিক বৈঠকে বসে তাঁর মুখে শুধু একটাই উত্তর, ‘‘জানা নেই।’’

সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ৯১টি পৌরভোটে কত শতাংশ ভোট পড়লো? সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘এই মতামত দিয়ে আমি কোনো বিতর্ক তৈরি করতে চাই না।’’ শুনে তো সাংবাদিকরা থ। কত শতাংশ ভোট পড়েছে, তা বলার সঙ্গে বিতর্কের যোগ কীভাবে! রাজ্য নির্বাচন কমিশনার তখন বলছেন, ‘‘কলকাতার ভোটের হার নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাই আমি ভোটদানের হার নিয়ে কিছু বলবো না।’’ আসলে কলকাতা কর্পোরেশনের ভোটপর্ব মেটার পর রুটিন সাংবাদিক বৈঠকে এসে কমিশনার বলেছিলেন, কলকাতায় ভোট পড়েছে ৬২.৪২ শতাংশ। আর তার ৪৮ ঘণ্টা পরে সেই তিনিই জানান, কলকাতায় ভোটের হার ৬৮.৫৬ শতাংশ। ৬ শতাংশের উপর ভোট বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। আর এদিন তাই রুটিন সাংবাদিক বৈঠকে এসে ভোটের হার নিয়ে একটি শব্দও খরচ করলেন না সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়। রাত ১০টাতেও তিনি ভোটদানের হার নিয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

নির্বাচনে অবাধে গুলি চলেছে। মুড়ি মুড়কির মতো বোমা পড়েছে। কমিশনের দপ্তরে বসে তিনি নিজে দেখেছেন, বুথের মধ্যে রাখা ওয়েব ক্যাম ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। বোমা-গুলিতে আহত হয়েছেন ভোটাররা। কাটোয়া পৌরসভায় নির্বিচারে গুলি চালানোয় একজন মারাও গেছেন। কিন্তু সাংবাদিক সম্মেলনে এসে কোনো প্রশ্নেরই জবাব মিললো না নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে। বরং সাংবাদিকদের কাছে কখনও তাঁর অসহায় উক্তি, ‘‘আর কনট্রোভার্সি তৈরি করতে চাই না।’’ কখনও তিনি বলেছেন,‘‘আই অ্যাম নট এ সোস্যাল সায়েন্টিস্ট।’’

জবাব দিতে পারেননি সাংবাদিকদের। উত্তর ছিল না মেয়ের প্রশ্নেরও! ভোট শেষ হয়েছে দুপুর ৩টায়। তারও তিন ঘণ্টা পরে তিনি মুখোমুখি হলেন সাংবাদিকদের। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে খুব স্বাভাবিক প্রশ্নগুলির উত্তরে তাঁর জবাব এলো, ‘‘জানা নেই।’’ কখনও বললেন, ‘‘বলতে পারবো না।’’ কখনও আবার তাঁর মুখে ছিল, ‘‘আর বিতর্ক তৈরি করতে চাইছি না।’’ তিনি রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়। এদিন ৯১টি পৌরসভার ভোট শেষে সাংবাদিক বৈঠকে এসেও নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে কি না, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেন না রাজ্য নির্বাচন কমিশনার।

Bonhomie between rivals mark civic polls in Siliguri - The Times of India

Bonhomie between rivals mark civic polls in Siliguri - The Times of India



Opposition accuses TMC of rigging municipal polls - The Hindu

Opposition accuses TMC of rigging municipal polls - The Hindu



Friday, April 24, 2015

Renaming townships triggers social media stir

http://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/Renaming-townships-triggers-social-media-stir/articleshow/47045802.cms

Bengal civic polls: Central forces arrive for duty, but who called them?

http://timesofindia.indiatimes.com/india/bengal-civic-polls-central-forces-arrive-for-duty-but-who-called-them/articleshow/47046318.cms

West Bengal civic polls: TMC worker shot dead

http://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/West-Bengal-civic-polls-TMC-worker-shot-dead/articleshow/47046823.cms

What enables rape reporting? - The Hindu

What enables rape reporting? - The Hindu



90% donations to political parties from corporates - The Hindu

90% donations to political parties from corporates - The Hindu



Over 3,000 farmers committed suicide in the last 3 years - The Hindu

Over 3,000 farmers committed suicide in the last 3 years - The Hindu

257 farmers committed suicide in Maharashtra this year - The Hindu

257 farmers committed suicide in Maharashtra this year - The Hindu



NARENDRA MODI IS ADAMANT TO GET LAND ACQUISITION BILL PASSED IN THE PARLIAMENT AT THE COST OF FARMERS

Farmer’s suicide a matter of shame: Somnath - The Hindu

Farmer’s suicide a matter of shame: Somnath - The Hindu



31 companies of BSF to be deployed during Bengal civic polls today - The Hindu

31 companies of BSF to be deployed during Bengal civic polls today - The Hindu



Voting begins in West Bengal civic polls - The Hindu

Voting begins in West Bengal civic polls - The Hindu



কমরেড জ্যোতি বসু বলতেন— পার্টির নিজস্ব কোনো স্বার্থ নেই। জনগণের স্বার্থই পার্টির স্বার্থ। মানুষ আমাদের ভালোবাসা দিয়েছেন; মানুষ আমাদের উপর অভিমানও করেছেন। এমন সরকার আমরা গড়বো আর এমনভাবে সে সরকার চালাবো যে মানুষের সাথে বামদের আর কোনো বিচ্ছিন্নতা গড়ে উঠবে না।

এই রাজ্যে সরকার হারিয়ে গেছে। আমরা সেই আকাঙ্ক্ষিত সরকার হাজির করব। বহুদিন মানুষ যাতে মনে রাখে (যেটা আমাদের সব কাজের চরমতম পরমতম উদ্দেশ্য) সেভাবেই আমাদের কর্মসূচি তৈরি হবে শুধু তাই না, সময় নির্দিষ্ট করে আমরা সেই কার্যসূচি রূপায়িত করব। শিল্প আমাদের লক্ষ্য, কৃষি আমাদের ভিত্তি। আর দেশের গরিব মানুষ আমাদের ‘আমরা’। সব কাজের মধ্যে ধ্রুবতারার মতো থাকবে এই গরিব মানুষের উন্নতি। সব কাজের সাফল্য ব্যর্থতা যে নিরিখে বিচার হবে তা হলো গরিব কত কমল।

আগামী বছরটা অর্থাৎ ৩৬৫দিন, অর্থাৎ যে সময়ের মধ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে মানে একেকটা দিন ক্যালেন্ডারে শুধু টিক্ মারা নয়, মানে সূর্য পুবে উঠল আর পশ্চিমে ঢলে পড়ল এইভাবে শেষ হবার না, দিন কাটবে ঘটনার পর ঘটনার টেক্টনিক আঘাতের মধ্য দিয়ে। বলা বাহুল্য সেই আঘাত সৃষ্টি করবে প্রচণ্ড উত্তাপ; আবহাওয়ায় আনবে প্রচণ্ড পরিবর্তন। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের দ্বন্দ্বতত্ত্বে সমস্ত বিষয় বিচার বিবেচনা করা দরকার in its motion, স্থানুবৎ অবস্থায় নয়। মমতা অথবা মমতার পুলিশ, অনুমতি দিক আর না দিক মিছিল মিটিং-এ শহর প্রকম্পিত হবে, আইন অমান্য হবে নিরবচ্ছিন্নভাবে।

কোর্ট যা বিচার করছে তার সাথে পরিবারের ভদ্র সদস্যরা খোঁজ নিক অপরাধের এই তালিকাটি ঠিক কি না। লাটাগুড়িতে বৌ-বাচ্চা জানুক বাড়ির কর্তা হুগলীর অমুক থানায় কি করে বেড়াচ্ছেন! কত মানুষের চোখের জল ঝরছে। শান্তিপূর্ণভাবে অত্যাচারী পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে এটা একটি সত্যাগ্রহ। এছাড়া কোর্ট-কাছারি, নির্দিষ্ট অপচেষ্টাকে সামনে রেখে মামলা তো করতেই হবে, পুলিশের মধ্যে যে বিপুল অংশ আইন অনুযায়ী কাজ করতে চায়, তারা সক্রিয় হবেন। সাহসী হবেন। আর নির্বাচন কমিশন কিছু অফিসারকে শাস্তি দিয়ে তাদের কর্তৃত্বের মহালয়া শুরু করবেন এটা স্বাভাবিক। পুলিশের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন সইবেরিয়ার পাখিদের চঞ্চল করে তুলবে। এসব শুনে পার্থ এসে প্রেস কনফারেন্স করে বলবেন, খোয়াব দেখছে দেখুক! গাছে কাঁঠাল, গোঁফে তেল? আর মমতার তো রায় অনেক আগেই ঘোষণা করা হয়ে গেছে। ১০ বছর মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে সি পি আই (এম) চুপ করে থাকুক!!

মমতার স্নেহভাজন পুলিশ অফিসারদেরও কপালে দুঃখ আছে। প্রথম কথা, রাজ্যের অপরাধী-পুলিশ-অফিসারদের লিস্ট বানানো খুব কঠিন কাজ নয়। সংখ্যায় এরা খুব বেশি নয়। দেশ, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের স্বার্থে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সাধারণ প্রশাসনের কিছু অফিসারসহ। এরা কারা? তালিকা, ঠিকানা, পরিবারের সদস্য সব নির্ভুলভাবে তৈরি করে বাড়িতে অন্তত দু-একটা গোলাপ ফুল পাঠিয়ে জানানো যায় বৌ-বাচ্চাকে যে উনি বড্ড দুষ্টুমি করছেন।

লুম্পেনদের আনুগত্য, নীতিভিত্তিক অবস্থান এসবের বালাই নেই। হাওয়া খারাপ দেখলে দাদার লগে লগে ঝাঁকে ঝাঁকে সাইবেরিয়ার পাখির মতো ভালো আবহাওয়ার সন্ধানে ছুটে পালাবে।

বি জে পি-এর সাথে আঁতাত করে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে হাইজ্যাক না করলে মমতা টের পাবেন থানার ওসি আর লুম্পেন দিয়ে সব ভোট করানো মুশকিল। আর সেই বোঝাপড়া করাটা খুব সহজ কাজ নয় এখন। সে কারণে খুব বেশি দেরি নেই। পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে যারা সামনে থেকেছেন চিত্তরঞ্জন, নেতাজী, বিধান রায়, জ্যোতি বসু থেকে শুরু করে অসংখ্য দেশ কাঁপানো ব্যক্তিত্ব সেই পশ্চিমবাংলার রাজনীতি মমতা বেচে দিয়েছেন টালিগঞ্জের চ্যাংড়াদের হাতে। এর জবাবও মানুষ দেবেন। এটা বাংলার অসম্মান, বাঙালির অসম্মান।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে নিজের বাসস্থানের কাছাকাছি এলাকায় যখন পার্টি বা বামফ্রন্ট তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনো মিটিং আহ্বান করছে সেই মিটিং-এ সংশ্লিষ্ট এলাকার অনেক কর্মী সমর্থক তারা কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। আবার পাড়া থেকে বেশ খানিকটা দূরে পৌরসভার কেন্দ্রীয় স্থানে যদি জনসভা ডাকা হয় সে সভায় তারাই হইহই করে অংশ নিচ্ছেন। জেলা পার্টির ডাকে কলকাতার সমাবেশে হাজারে হাজারে মানুষ যাচ্ছেন; যাচ্ছেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পার্টির ডাকে সমাবেশকে ঐতিহাসিক সভায় পরিণত করার জন্য। ট্রেনে বাসে তর্কাতর্কিতেও যুক্ত হচ্ছেন, কঠোর সমালোচনায় মমতা সরকারকে বিদ্ধ করছেন আবার পাড়ার চা-এর দোকানে তর্কে অংশ নেওয়ার আগে চারপাশটা একবার দেখে নিচ্ছেন। ভয় এবং আতঙ্কে।

এছাড়াও কত কাজ— ভোটারের হয়ে ভোট দেওয়া, ছিটকে কোনো ভোটার বুথে ঢুকে গেছে— সে কালির দাগ পাবে কিন্তু ভোটটা দিতে হবে আমাকে। তাই এইসব মিলে বড় অঙ্কের জলজ্যান্ত মানুষ বলতে যা বোঝায় সেটা দরকার। প্রশ্ন হচ্ছে মাথা গুনে দেখা গেল যে তৃণমূলের হয়ে এই জাতীয় ছেলেমেয়েরা এই দুষ্কীতিগিরিতে যে অংশ নিল তার সংখ্যা হয়তো সারা রাজ্যে ১০ লক্ষের কাছাকাছি। আঁৎকে ওঠার কোনো কারণ নেই। এই ১০ লক্ষ মানুষ তৃণমূলের সদা সর্বদা কর্মী বাহিনীর সদস্য নয়। এদের অনেকেই এই নির্বাচনের দিনের জন্য মারামারি কাটাকাটির ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বাকিরা রোজ রোজ সারাদিন তৃণমূল করে তা নয়। দাদাভিত্তিক দল আর লুম্পেনদের বৈশিষ্ট্য দাদাভিত্তিক চলা তাই দাদার নির্দেশ পালন করাটা এইসব লুম্পেনদের কাছে অবশ্যই পালনীয়। স্বাভাবিকভাবেই এইরকম একটা বিরাট সংখ্যক যুবককে একটা নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে এবং নির্দেশের অধীনে রেখে যদি পরিচালনা করা হয় তাহলে এই সংখ্যাটা শুধু সংখ্যা থাকে না। এটা একটা বিরাট সাংগঠনিক শক্তিতে পরিণত হয়। আর যদি এই শক্তিকে রক্ষা করার জন্য এদের নিরাপত্তার দায়িত্বপালন করার জন্য এগিয়ে আসে পুলিশ বা প্রশাসন তাহলে তো আর কিছু বলার প্রশ্নই ওঠে না। এবং সংখ্যার বিচারে সাধারণ মানুষ এদের তুলনায় অনেক বেশি হলেও এবং তারা এই সব অসভ্যতার বিরুদ্ধে হলেও কার্যত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের করার কিছু থাকে না।

এইসব পণ্য যখন জন্মগ্রহণ করে তখন নপুংসকেরাও ওসব বাড়িমুখো হয়নি। আর জন্ম যেখানেই হোক জন্মাবধি লালিত পালিত হয়েছে শহরের বিশেষ বিশেষ পল্লীতে, দুঃখের হলেও এটা সত্য যে ঐ জাতীয় লুম্পেন শহরের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য। সিন্ডিকেটের নামে তোলাবাজির দৌলতে, ব্যবসা বাণিজ্য যারা করেন তাদের কাছ থেকে হিস্যা বাবদ অর্থ আদায়ের মধ্য দিয়ে, পৌরসভার ও অন্যান্য দপ্তরের ঠিকাদারদের কাছ থেকে দুষ্কৃতী ফি বাবদ অর্থসংগ্রহ করে এরা এদের সংসার চালাচ্ছে। মমতার তেলেভাজা শিল্প আর কি। রাজ্যজুড়ে এরকম মানুষের সংখ্যা কত? সরাসরি জনগণনার বই থেকে এর উত্তর বের করা যাবে না। কিন্তু সেনসাস নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞরা আপনাকে ধারণা দিতে পারবেন যে লুম্পেন অংশের মানুষ যেসব ক্ষেত্র এবং এলাকা থেকে উঠে আসে তার মিলিত জনসংখ্যা কত? কারণ এটা বোঝা যাচ্ছে যে ওদের কাছে অস্ত্র যেমন আছে পাশাপাশি ভোটার তাড়াবার মতো ছেলে এ গলিতে ও গলিতে পোস্টিংও আছে। একশ মিটারের এলাকাকে পুলিশ পারুক বা না পারুক নিষিদ্ধ করার জন্য ছেলে লাগে অনেক। যারা সুনিশ্চিত করবে ভোটার যেন ভোট কেন্দ্রে না আসে অথবা নির্বাচন কমিশনের অনুমতি থাকলেও প্রেসের লোক যাতে ঐ এলাকায় না থাকতে পারে।

চালু কথাতেও যাদের বলা হয় ভদ্রলোক তাদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। চেহারা এবং ছবির সাথে মিলিয়ে এরা শহর কলকাতার বিশেষ বিশেষ পাড়ার পরিচিত মুখগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যে কারণে শুধু তৃণমূলের হয়ে সন্ত্রাস করার কথা থাকলেও অতিরিক্ত পাওনা হিসাবে ঐ ভদ্রমহিলার হারটা ছিনতাই করতে ওদের কোনো অসুবিধা হলো না। এবং প্রেস থাক আর যেই থাক রূপা বাগচীকে দেখিয়ে এই বিশেষ সম্প্রদায়ের নেতাটি তার বাহিনীকে নির্দেশ দিলেন ‘ওর কাপড়টা টেনে খুলে দে— তাহলে এ বুথ অন্য বুথ ঘোরা বন্ধ হয়ে যাবে’।

হ্যাঁ গণতন্ত্রের এই লড়াইয়ে ব্যারিকেডের ওধারে আছে উন্মত্ত, উচ্ছৃঙ্খল, সশস্ত্র শাসকদল যাকে সামনে পিছনে রক্ষা করতে ঘিরে এগিয়ে আসছে পুলিশ এবং প্রশাসন। তৃণমূলের প্রধান শক্তি কোথায়? রাজ্যের লুম্পেন অংশের মানুষ বিশেষ করে যুব বয়সীরা। কর্পোরেশনের নির্বাচনের দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যে কোনো একটি টি ভি চ্যানেলের তোলা এবং দেখানো ছবি থেকে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের আলাদা করুন; পার্টি অথবা পুলিশ অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে সেই মানুষগুলির পরিচয় সংগ্রহ করুন।

হ্যাঁ গণতন্ত্রের এই লড়াইয়ে ব্যারিকেডের ওধারে আছে উন্মত্ত, উচ্ছৃঙ্খল, সশস্ত্র শাসকদল যাকে সামনে পিছনে রক্ষা করতে ঘিরে এগিয়ে আসছে পুলিশ এবং প্রশাসন। তৃণমূলের প্রধান শক্তি কোথায়? রাজ্যের লুম্পেন অংশের মানুষ বিশেষ করে যুব বয়সীরা। কর্পোরেশনের নির্বাচনের দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যে কোনো একটি টি ভি চ্যানেলের তোলা এবং দেখানো ছবি থেকে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের আলাদা করুন; পার্টি অথবা পুলিশ অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে সেই মানুষগুলির পরিচয় সংগ্রহ করুন।

সাজানো বাংলা শব্দের সমাহারে তৈরি সুন্দর একটি স্লোগান নয়; রাজ্যের প্রায় দশ কোটি মানুষের জীবন জীবিকার প্রশ্ন; রাজ্য হিসাবে পশ্চিমবাংলার আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদার প্রশ্ন; রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ফুটন্ত যৌবন তার স্বপ্ন পূরণের অন্তত পরিবেশটা পাবে কি পাবে না তার প্রশ্ন; বিশ্বময় গণতন্ত্র যখন রঙ্গিন ডানা মেলে এমনকি আরব মুলুকে মরুভূমিতেও শিকড় পাতছে সে সময়ে পলিমাটির বাংলা, সবুজে ঢাকা বাংলা— রবীন্দ্রনাথ লালন ফকিরের সঙ্গীতময় সে বাংলায় গণতন্ত্র গঙ্গা-পদ্মা ভাঙনের মতো বিপর্যয়কর ক্ষত সৃষ্টি করে শুধু এরাজ্য নয় সমগ্র দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে মমতার দৌলতে। তৃণমূলের পৈশাচিক লুম্পেনগিরিতে ঘটতে থাকা এ লজ্জা কেন আমরা বহন করব।

আসলে নির্বাচন কমিশন চোখ বন্ধ করে আছে যাতে তৃণমূলের এই দৃর্বত্তপনা তাকে দেখতে না হয়। কারণ তার নিয়োগ কর্তারা বলে দিয়েছে, ‘আপনি কিন্তু কিছুই দেখেননি নির্বাচন কমিশনার মহাশয়।’

বর্তমান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায় প্রবীণ অর্থনীতিবিদ ও মার্কসবাদী বুদ্ধিজীবী অশোক মিত্রের ‘The Hoodlum Years’ পুস্তকটির ৪১-৪৪ পাতা পড়ে দেখতে পারেন। তা হলেই জানতে পারবেন ১৯৭২ সালের নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকার সাথে তাঁর আজকের ভূমিকায় কি অদ্ভুত মিল। ‘‘...প্রিসাইডিং অফিসার আর পোলিং অফিসারবৃন্দ নীরবে এই দৃশ্য অবলোকন করলেন। কে কী বলবে — প্রাণের মায়া আছে সকলের। নিপুণতায় সব কার্য সমাপনান্তে প্রিসাইডিং অফিসারকে দিয়ে যথাবিধি স্বাক্ষর করানো হলো ও যথাস্থানে প্রেরিত হলো। পশ্চিমবঙ্গের অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন। ....প্রথমত আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষকদের স্নেহধন্য সবচেয়ে নিকৃষ্ট সমাজবিরোধীরা সেদিন মানুষকে আতঙ্কে বোবা বানিয়ে দিয়েছিল। ...সবাই জানে, সেদিন ভোটের নামে কী হয়েছিল। কিন্তু দলবদ্ধভাবে তার প্রতিবাদ! তাহলে তক্ষুনি ঝাঁপিয়ে পড়বে ঠ্যাঙাড়েরা আর পুলিশ দাঁড়িয়ে অবলোকন করবে সমগ্র দৃশ্য।’’ আতঙ্কে মানুষকে যে বেশিদিন বোবা বানিয়ে রাখা যায় না, — তা ১৯৭৭ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছিল।

বর্তমান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায় প্রবীণ অর্থনীতিবিদ ও মার্কসবাদী বুদ্ধিজীবী অশোক মিত্রের ‘The Hoodlum Years’ পুস্তকটির ৪১-৪৪ পাতা পড়ে দেখতে পারেন। তা হলেই জানতে পারবেন ১৯৭২ সালের নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকার সাথে তাঁর আজকের ভূমিকায় কি অদ্ভুত মিল।

২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্ মুহূর্তে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় বলেছিলেন, ‘‘কি করে ভোটে জিততে হয় তা আমি দেখিয়ে দিয়েছি। মমতা আমার যোগ্য উত্তরসূরি।’’ মমতা যে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের যোগ্য উত্তরসূরি তা ইতিমধ্যে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন।

আগামী ২৫শে এপ্রিল ৯১টি পৌরসভার নির্বাচন খুবই অর্থবহ হয়ে উঠেছে। বামফ্রন্টকে একসাথে তৃণমূলের ভৈরব বাহিনীর সন্ত্রাসের ও তৃণমূলমুখী পুতুল নির্বাচন কমিশনারের অকর্মণ্যতার মোকাবিলা করতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বামফ্রন্টের সেই প্রতিরোধ সংগ্রাম আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে এক বড় বদল আনতে সক্ষম হবে।

এত সন্ত্রাস, হুমকি, বুথ দখলের মধ্যেও বাম কর্মী ও নেতারা অসীম সাহসে ভর করে সাধ্যমতো প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে গিয়েছেন। রক্তাক্ত হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, বোমা ছোঁড়া হয়েছে তবু অসম লড়াই জেনেও তাঁরা দাঁতে দাঁত দিয়ে নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। এই রাজ্যে যারা বামফ্রন্টের জায়গায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার দিবাস্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বি জে পি’কে নির্বাচনের দিন খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের ভৈরব বাহিনীর সন্ত্রাসের মোকাবিলায় প্রতিরোধের দেওয়াল তুলেছিল বামফ্রন্টের কর্মীরা।

ভোটের নামে যে প্রহসন হয়েছে, এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে কমিশন এক একবার একেকরকম ভোটদানের শতাংশ প্রকাশ করায়। ভোটের দিন কমিশনের তরফ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানানো হয়েছিল। ভোট শেষের কিছুটা আগে ৩টা নাগাদ জানানো হয় ৫৮ শতাংশ। রাত ৮টায় বলা হয় ভোট পড়েছে ৬২.৪২ শতাংশ। নির্বাচনের দুদিন পর কমিশনের ওয়েবসাইটে জানানো হয় ভোট পড়েছে ৬৮.৫৬ শতাংশ। এই ৬ শতাংশ ভোট বৃদ্ধি মানে আরও আড়াই লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন ৩টার পর, যা এককথায় অসম্ভব। আসলে তৃণমূলের ছাপ্পা ভোটকে আড়াল করার জন্য কমিশনের এই তৎপরতা। কমিশন রাজ্য সরকারের পুতুল হয়ে গেছে বলে যে সব অভিযোগ ইতিমধ্যে উঠেছে, এই ঘটনাগুলি তার সত্যতা প্রমাণ করছে।

গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের মতো কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে রিগিং করতে বাইরের লোকজন জুটিয়ে, বোমা-গুলি মজুত করে আগে থেকেই ভালোমতো প্রস্তুতি নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনা যে ঘটতে চলেছে, তা কলকাতা পৌরভোটের প্রচারপর্বেই বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল কমিশনের কাছে। ভোটকে প্রহসনে পরিণত করতে বুথ দখল থেকে শুরু করে বহিরাগতদের তাণ্ডব, গুলি-বোমা কিছুই বাদ যায়নি। এদিন কলকাতা শহর ছিল কার্যত তৃণমূলের দুষ্কৃতীবাহিনীর দখলে।

গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের মতো কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে রিগিং করতে বাইরের লোকজন জুটিয়ে, বোমা-গুলি মজুত করে আগে থেকেই ভালোমতো প্রস্তুতি নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনা যে ঘটতে চলেছে, তা কলকাতা পৌরভোটের প্রচারপর্বেই বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল কমিশনের কাছে। ভোটকে প্রহসনে পরিণত করতে বুথ দখল থেকে শুরু করে বহিরাগতদের তাণ্ডব, গুলি-বোমা কিছুই বাদ যায়নি। এদিন কলকাতা শহর ছিল কার্যত তৃণমূলের দুষ্কৃতীবাহিনীর দখলে।

তৃণমূলের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে প্রচারে মাইক ব্যবহারের যে নির্দেশ কমিশন দিয়েছিল, তাও বাতিল হয়ে যায় কোর্টের রায়ে। পরীক্ষার মধ্যে নির্বাচনী প্রচারে মাইক ব্যবহার করা যে নিষিদ্ধ, তা নির্বাচন কমিশন জানতো। আসলে কর্তার ইচ্ছেয় কর্ম করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তার নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে মুখে চুন কালি মাখতে হয়েছে।

সরকারি নির্দেশে পক্ষপাতিত্ব শুরু হয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের দিন ঘোষণার মধ্য দিয়ে। বিরোধীরা যাতে প্রচার করতে না পারে তার জন্য পরীক্ষার মধ্যে নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়। যে সাতটি পৌরসভার মেয়াদ বহুদিন আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে, সেইসব পৌরসভার নির্বাচনের দিন ঘোষণা না করে মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে কয়েকমাস বাকি থাকা সত্ত্বেও কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয় সর্বপ্রথম।

অস্ত্রের জোরে হুমকি দিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করিয়ে বিরোধী শূন্য করে আরামবাগ, তারকেশ্বর ও গয়েশপুর পৌরসভা দখল করা ও বিভিন্ন পৌরসভায় বামফ্রন্টের প্রার্থীদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে সুস্পষ্ট অভিযোগ জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ তাঁর তরফ থেকে নেওয়া হয়নি।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডের অবসরের পর অনেক চিন্তাভাবনা ও হিসাব-নিকাশ করে মমতা ব্যানার্জি রাজ্য নির্বাচন কমিশনার হিসাবে সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়কে নিয়োগ করেন। তাঁর হিসাব-নিকাশ যে মিলেছে, তার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে ৯২টি পৌর নির্বাচনের দিন ঘোষণা থেকে পরবর্তীকালে মনোনয়নপত্র পেশ ও প্রচার পর্বে তৃণমূলের ব্যাপক হুমকি, বাধাদান ও সন্ত্রাসের অজস্র ঘটনায় কমিশনের উদাসীন থাকার মধ্য দিয়ে।

বামফ্রন্টের শাসকদলের ৩২টি বড় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে ৭টা ছিল পঞ্চায়েত নির্বাচন। প্রতিটি নির্বাচনই সময়মতো হয়েছে, কখনই নির্বাচন নিয়ে কমিশনের সাথে সংঘাতে যেতে হয়নি। বামফ্রন্ট আমলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলি সুরক্ষিত ছিল। মমতা ব্যানার্জির শাসনকালে যা নির্লজ্জভাবে পদদলিত হচ্ছে প্রতিমুহূর্তে।

এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বড় নির্বাচন ছিল পঞ্চায়েত নির্বাচন। ২০১৩ সালের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের বহু পূর্ব থেকেই ১৯৭২ সালের রিগিং নির্বাচনের মতো সন্ত্রাস, বুথ দখল ও ছাপ্পা ভোটের ব্লু প্রিন্ট প্রস্তুত করেছিল তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। এই কাজে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডে সহায়তা করতে অস্বীকার করায় শুরু হয় সংঘাত। নির্বাচন কমিশনের সাথে এই সংঘাত গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট অবধি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী এলেও তাদের বসিয়ে রেখে কার্যত বুথ দখল করে নেয় তৃণমূলের ভৈরব বাহিনী।

মহিলা নির্যাতনে শীর্ষে এই রাজ্য। অথচ, রাজ্যে মহিলা কমিশন বলে যে একটি কমিশন আছে, তা না বলে দিলে মানুষ জানতেই পারতেন না। রাজ্য মানবাধিকার কমিশনকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে, তাও এই রাজ্যের মানুষ দেখেছেন। বাকি ছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাকেও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করেছে এই সরকার।

ক্ষমতা লাভের পর যতদিন যাচ্ছে, ততই মমতা ব্যানার্জির স্বৈরাচারী চেহারা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সামনে পরিস্ফুট হচ্ছে। মমতা ব্যানার্জি চান একনায়কি গণতন্ত্র, যার নির্গলিতার্থ অর্থ হচ্ছে আইনের তোয়াক্কা না করে তিনি যা চাইবেন, সবাইকেই তা পালন করতে হবে। পুলিশ, আমলা সবাইকেই তাঁর আজ্ঞাবহ হয়ে চলতে হবে, নতুবা তাঁদের মাথার ওপর শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে। প্রথম থেকেই সাংবিধানিক সংস্থাগুলিকে জো-হুজুরে পরিণত করাই ছিল এই সরকারের প্রথম কাজ।

হাওড়ার উলুবেড়িয়াতে বামফ্রন্টের মিছিলের প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া ছিলো। তাও বামফ্রন্টের মিছিলকে ব্যর্থ করতে তৃণমূলকে একই সময়ে মিছিল করার অনুমতি দেয় প্রশাসন। আগাম অনুমতি সত্ত্বেও তৃণমূলের মিছিলের জন্য এদিন বামফ্রন্টের মিছিলের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়। প্ররোচনা, বাধাকে পেরিয়ে বামফ্রন্টের ডাকে মিছিল উলুবেড়িয়ার গঙ্গারামপুর থেকে শুরু হয়, বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সমর্থনে মিছিলে পা মেলান প্রাবন্ধিক আজিজুল হক, অভিনেত্রী পাপিয়া দেবরাজন, সি পি আই (এম) নেতৃবৃন্দ। সিউড়ি পৌরসভার লাগামহীন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পৌরপ্রধানকে পরাজিত করে এলাকার উন্নয়ন সুনিশ্চিত করার আহবান জানিয়েও সিউড়িতে মিছিল করেছে বামফ্রন্ট।

বীরভূমের সাঁইথিয়ায় নির্বাচনী প্রচারের শেষপর্বে শহরের উন্নয়ন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি মুক্ত পৌরসভার ডাক দিয়ে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সমর্থনে মহামিছিল হয় শহরে। মিছিলে ছিলেন ডাঃ রামচন্দ্র ডোমসহ বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ। শহরের ১৬টি ওয়ার্ডের হাজার হাজার বস্তিবাসী ও সাধারণ মানুষ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে ঝাউতলা, ১০নং ওয়ার্ডের প্রেমনগর, ১৪নং ওয়ার্ডের কলকাতা টকিজ, ৪নং ওয়ার্ডের ভাটপাড়া রায় স্টুডিওর সামনে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সমর্থনে সভায় ভাষণ দেন সি পি আই (এম)-র পলিটব্যুরো সদস্য সুভাষিণী আলি। তিনি বলেন, এ রাজ্যে মানুষের প্রতি আস্থা নেই তৃণমূলের। তাই ভোট লুট করতে নেমেছে। এর বিরুদ্ধে চাই সর্বাত্মক প্রতিরোধ। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পারলে সেখানেই প্রতিবাদ করুন।

উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর ও কালিয়াগঞ্জ শহরে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস টাকা দিয়ে ভোট কেনার চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে বার বার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা দুই কংগ্রেস গরিব এলাকায় ধর্মগ্রন্থ হাতে নিয়ে ভোট নিতে চাইছে। বৃহস্পতিবার প্রচারের শেষ মুহূর্তেও এই পরিবেশ থেকে মানুষকে সজাগ থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আবেদন জানান বামফ্রন্ট নেতারা। শিলিগুড়িতে সি পি আই (এম) নেতা অশোক ভট্টাচার্য সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করেছেন, শিলিগুড়িতে কলকাতার মতো ভোট লুটের চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে। শিলিগুড়িতে হোটেলে পুলিশ কমিশনারকে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বৈঠক করে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

প্রচারের শেষপর্বে কোচবিহার শহরসহ জেলার মাথাভাঙা, দিনহাটা, তুফানগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার সেরেছেন বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। কোচবিহার শহরের ২০টি ওয়ার্ডেকর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচার করতে বের হয়েছিলেন এই পৌরসভার বামফ্রন্টের প্রার্থীরা। ৭নং ওয়ার্ডে বামফ্রন্টের বর্ণাঢ্য প্রচার মিছিলে শামিল হয়েছিলেন প্রচুর মানুষ। লালপতাকায় সুজ্জিত সারি সারি টোটো গাড়ি নিয়ে সুসজ্জিত প্রচার মিছিল বের হয় সেখানে। মাথাভাঙা ও তুফানগঞ্জ পৌরসভায় তৃণমূলী সন্ত্রাসের আবহের মধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার সেরেছেন এই পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। জলপাইগুড়ির মাল পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডেই সকাল থেকে লাগাতার প্রচার মিছিল চলে। কোথাও কোথাও দু’তিনটি পাশাপাশি ওয়ার্ডের বামফ্রন্টকর্মীরা ভোটারদের সাথে নিয়ে প্রচার করেছেন। এরকম যৌথ নির্বাচনী মিছিল দেখা গেছে মাল পৌরসভার ৭, ১৪, ১৫নং ওয়ার্ডে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাঁচ পৌরসভা এলাকায় মিছিল, সভায় নির্বাচনী প্রচারের ঝড় তুললেন বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। তৃণমূলীদের বাধা, হুমকিকে উপেক্ষা করেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৫পৌরসভা রাজপুর-সোনারপুর, মহেশতলা, বজবজ, বারুইপুর ও জয়নগর-মজিলপুর পৌরসভা এলাকায় বামফ্রন্টকর্মী, সমর্থকদের সঙ্গেই সাধারণ মানুষ নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন। বামফ্রন্ট প্রার্থীরা সকাল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় মিছিল করেছেন, কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন। বিভিন্ন জায়গায় ওয়ার্ড ভিত্তিক সাইকেল মিছিল, পথসভাও হয়েছে। মিছিল ও সভা থেকে আওয়াজ উঠেছে পৌরসভা নির্বাচনে ভোট লুটের চেষ্টা হলে মানুষকে সঙ্গে নিয়েই প্রতিবাদ প্রতিরোধ হবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাঁচ পৌরসভা এলাকায় মিছিল, সভায় নির্বাচনী প্রচারের ঝড় তুললেন বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। তৃণমূলীদের বাধা, হুমকিকে উপেক্ষা করেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৫পৌরসভা রাজপুর-সোনারপুর, মহেশতলা, বজবজ, বারুইপুর ও জয়নগর-মজিলপুর পৌরসভা এলাকায় বামফ্রন্টকর্মী, সমর্থকদের সঙ্গেই সাধারণ মানুষ নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন। বামফ্রন্ট প্রার্থীরা সকাল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় মিছিল করেছেন, কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন। বিভিন্ন জায়গায় ওয়ার্ড ভিত্তিক সাইকেল মিছিল, পথসভাও হয়েছে। মিছিল ও সভা থেকে আওয়াজ উঠেছে পৌরসভা নির্বাচনে ভোট লুটের চেষ্টা হলে মানুষকে সঙ্গে নিয়েই প্রতিবাদ প্রতিরোধ হবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাঁচ পৌরসভা এলাকায় মিছিল, সভায় নির্বাচনী প্রচারের ঝড় তুললেন বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। তৃণমূলীদের বাধা, হুমকিকে উপেক্ষা করেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৫পৌরসভা রাজপুর-সোনারপুর, মহেশতলা, বজবজ, বারুইপুর ও জয়নগর-মজিলপুর পৌরসভা এলাকায় বামফ্রন্টকর্মী, সমর্থকদের সঙ্গেই সাধারণ মানুষ নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন। বামফ্রন্ট প্রার্থীরা সকাল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় মিছিল করেছেন, কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন। বিভিন্ন জায়গায় ওয়ার্ড ভিত্তিক সাইকেল মিছিল, পথসভাও হয়েছে। মিছিল ও সভা থেকে আওয়াজ উঠেছে পৌরসভা নির্বাচনে ভোট লুটের চেষ্টা হলে মানুষকে সঙ্গে নিয়েই প্রতিবাদ প্রতিরোধ হবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাঁচ পৌরসভা এলাকায় মিছিল, সভায় নির্বাচনী প্রচারের ঝড় তুললেন বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। তৃণমূলীদের বাধা, হুমকিকে উপেক্ষা করেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৫পৌরসভা রাজপুর-সোনারপুর, মহেশতলা, বজবজ, বারুইপুর ও জয়নগর-মজিলপুর পৌরসভা এলাকায় বামফ্রন্টকর্মী, সমর্থকদের সঙ্গেই সাধারণ মানুষ নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছেন। বামফ্রন্ট প্রার্থীরা সকাল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় মিছিল করেছেন, কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন। বিভিন্ন জায়গায় ওয়ার্ড ভিত্তিক সাইকেল মিছিল, পথসভাও হয়েছে। মিছিল ও সভা থেকে আওয়াজ উঠেছে পৌরসভা নির্বাচনে ভোট লুটের চেষ্টা হলে মানুষকে সঙ্গে নিয়েই প্রতিবাদ প্রতিরোধ হবে।

শেষদিনের প্রচারে বামফ্রন্টের পাশাপাশি তৃণমূলও সামিল হয়েছিলো। আর সেইক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকাও দেখা গেছে। উত্তর ২৪পরগনার গোবরডাঙায় পুলিশের পক্ষ থেকে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের মাইক প্রচারের অনুমতি দেওয়া না হলেও তৃণমূল প্রার্থীদের মাইক লাগিয়ে প্রচার করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বারাসতে আদালত চত্বর থেকে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংঘের কর্মীরা মিছিল করে বারাসত শহরে পথ পরিক্রমা করেছেন। বারাসতের ১৬নম্বর ওয়ার্ডে বামফ্রন্টের মিছিল আক্রান্ত হয়েছে তৃণমূলী দুষ্কৃতীবাহিনীর হাতে।

উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন পৌরসভায় এদিন বামফ্রন্ট প্রার্থীরা শেষ প্রচারে বেরিয়ে দেখেছেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা এখনো ভয় ভীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন ভোটারদের ওপরে। তাঁরা যাতে শনিবার ভোট দিতে না বের হন একদিকে সেই চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে বুথে যাতে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের হয়ে কোনো এজেন্ট না বসে তার জন্যও চোরাগোপ্তা সন্ত্রাসের স্রোত বইছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যেও দানা বাঁধছে জেদ। গণতন্ত্র বাঁচানোর জেদ তৈরি হচ্ছে ঘরে ঘরে। এই জেদের কাছেই শেষবেলায় আবেদন রেখে গেলেন বামফ্রন্ট কর্মীরা। কোথাও মিছিল করে স্লোগান দিয়ে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আবেদন করা হয়েছে, কোথাও অটোরিক্সায় মাইক লাগিয়ে এই আবেদন ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শেষবেলাতেও বামপন্থীদের এই মিছিলগুলিকে অনেক জায়গাতেই শান্তিতে শেষ করতে দেয়নি তৃণমূলের দুষ্কৃতীবাহিনী। শেষদিনেও মিছিল আক্রান্ত হয়েছে অনেক জায়গায়। এদিন নদীয়ার নবদ্বীপে বামফ্রন্টের শেষ প্রচারের মিছিলে সামিল হয়ে পা মিলিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও।

সন্ত্রাস যতই হোক, পৌর নির্বাচনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত দাঁতে দাঁত চেপে প্রচার করে বামফ্রন্ট বুঝিয়ে দিলো লড়াইয়ের ময়দানেই আছে তারা। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারের সময়সীমা ছিলো। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ২১টি পৌরসভা থেকে শুরু করে উত্তরে শিলিগুড়ি কর্পোরেশন এবং জলপাইগুড়ি জেলার পৌরসভাগুলিতেও বামপন্থীরা এদিন মিছিলের ঝড় তুলেছিলেন একের পর এক জায়গায়। সব জায়গাতেই জনগণের কাছে তাঁরা আবেদন জানিয়েছেন, ভয় ভীতি উপেক্ষা করে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য দৃঢ়তার সঙ্গে বুথে যান শনিবার।

শনিবার রাজ্যের ৯১টি পৌরসভার ভোটের প্রস্তুতির জন্য বৃহস্পতিবার ভি ডি ও কনফারেন্সে নির্বাচন কমিশনার জেলাগুলির পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাজ্যে ৯১টি পৌরসভার ভোটে ৯১ জন পর্যবেক্ষক থাকছেন। শিলিগুড়ি পৌরসভায় দু’জন পর্যবেক্ষক এবং একজন বিশেষ পর্যবেক্ষক থাকবেন। উত্তর চব্বিশ পরগনা, হুগলি এবং নদীয়ায় একজন করে বিশেষ পর্যবেক্ষক থাকবেন।

শনিবার (18-04-2015) ভোটের দিন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ২৫ নম্বর অংশের বুথে তালিকায় ৩৬৭ জন পুরুষ ভোটার ছিলেন, মহিলা ভোটার ছিলেন ৩৫৪ জন। অথচ ভোট শেষ হবার পর দেখা যায় ৩৮৪ জন পুরুষ ভোট দিয়েছেন। পুরুষদের ভোট দেওয়ার শতাংশ দাঁড়ায় ১০৪. ৬৩। ছাপ্পা ভোট ছাড়া ১০০ শতাংশের বেশি ভোট দেওয়া সম্ভব নয়। ওই বুথের তথ্য পৌর নির্বাচনী অফিসারের কাছ থেকে চেয়ে পাঠিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।

যে সমস্ত প্রিসাইডিং অফিসার