RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Tuesday, April 29, 2014

কেন এই ছায়াযুদ্ধ? - নীলোৎপল বসু


অবাক কাণ্ড। চোখে দেখেও বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। সমস্ত বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল আর খবরের কাগজগুলোর আট কলম হেডলাইন। বিষয়বস্তু নরেন্দ্র মোদী আর মমতা ব্যানার্জির তীব্র বাক্‌যুদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আর তার লেফটেন্যান্টরা মোদীর হাতে দেখছেন গুজরাটের গণহত্যার ‘রক্তের দাগ’। আরও তীক্ষ্ণভাবে ‘কসাই’ বলতেও দ্বিধা করছেন না।

আর উল্টোদিকে মোদী তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছেন মমতাকে। বলছেন মমতাও বামপন্থীদের ‘জন‍‌বিরোধী রাস্তা’য় পথ হাঁটছেন। ‘ভোট ব্যাঙ্ক রাজনীতি’র কংগ্রেসী ‘কু-অভ্যাস’ ত্যাগ করতে পারেননি। সব মিলিয়ে মমতা সরকারের ৩৪ মাস বামপন্থী শাসনের ৩৪ বছরের থেকেও পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে চূড়ান্ত ক্ষতি করে দিয়েছে। সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে বিঁধছেন। প্রশ্ন করছেন ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকায় ‘চিত্রকর’ মমতার ছবিটি কে কিনলেন?

অবাক করে দেওয়ার মতোই ঘটনা। অতীতের অভিজ্ঞতায় এমনকি সাম্প্রতিককালেও যে সম্পর্ক দেশের মানুষ—পশ্চিমবাংলার মানুষ বি জে পি আর তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে দেখেছেন তার আলোয় এটা এককথায় অবিশ্বাস্য। কিন্তু তাও এই বাক্‌যুদ্ধ পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে নতুন প্রাপ্তি। সংবাদমাধ্যমের ভাষায় ‘সেনসেশনাল’। নাটকীয়তা এনে একটি ইংরেজি দৈনিক তো তার হেডলাইনে লিখেই ফেলেছে এই যুদ্ধ ‘ফোটো ফিনিসের দিকে যাচ্ছে।’ যেটা অনুক্ত — এটাই যদি মূল লড়াই হয় তাহলে তো হযবরল’র ভাষায় বামপন্থীদের হাতে পড়ে থাকবে পেন্সিল।

(১)

আসলে এই অবাককাণ্ডের রহস্য ভেদ করতে হলে এবারের নির্বাচনের প্রচারের গতি প্রকৃতির দিকে একটু তীক্ষ্ণ নজর দেওয়া দরকার। এই নির্বাচনের পটভূমি নি‍য়ে খুব‍‌ বেশি বিতর্ক নেই। ১০ বছরের ইউ পি এ সরকার বিশেষ করে ২০০৮ সালে বামপন্থীরা সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর যে কুশাসনের নজির গড়ে‍‌ছে তাতে দেশের মানুষ ক্ষিপ্ত। কর্মসংস্থান হয়নি। শিল্প উৎপাদনও তলানিতে এসে ঠেকেছে। কৃষিতে সঙ্কট। সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক দুর্মূল্য। আর ফসল বেচতে গিয়ে কৃষকের মাথায় হাত। কারণ উৎপাদন আর বিক্রয় — দুটি ক্ষেত্রেই বাজারের নিরঙ্কুশ বাড়বাড়ন্ত। চড়া হারে মহাজনের থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করা কৃষকের সামনে আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো রাস্তা খোলা থাকছে না।

কিন্তু, বাজারে পণ্যের দাম কমছে না। ঊর্ধ্বমুখী। রেশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। ভারতবর্ষের ইতিহাসে এতো দীর্ঘ লাগাতার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির তিক্ত অভিজ্ঞতা অতীতে মানুষের হয়নি।

ফাটকা বাজারে পণ্যের দাম স্থির হচ্ছে। আর পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিনের মতো জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। সরকারী ট্যাক্সের বিপুল হার। আসলে সরকারের কর নীতিটাই এতো বেশি বড়লোকদের পক্ষে যে, সেখানেও সাধারণ মানুষের বোঝা লাঘব করার বিসদৃশ অনুপস্থিতি। গত ৫ বছরে প্রায় ২৩ লক্ষ কোটি টাকার কর কর্পোরেটদের থেকে উসুল করার বদলে মাফ করে দিয়েছে সরকার।

আর সঙ্গে সঙ্গে পর্বত প্রমাণ দুর্নীতি সার কেলেঙ্কারি। কালো অধ্যায়। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ম্লান হয়ে গেছে। এক একটা কেলেঙ্কারি কোথাও ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি, কোথাও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি, কোথাও ৪০ হাজার কোটি টাকা সরকারী কোষাগারে আসার পরিবর্তে চলে গেছে বড় বড় কর্পোরেটদের পকেটে।

স্বাভাবিক সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত, ক্ষিপ্ত। কিন্তু এই বোঝা প্রায় পুরোটাই সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপলেও বড় কর্পোরেটগুলির মুনাফা কিন্তু কমেনি বরং বেড়েছে। আর সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান কর্মহীনতা এবং আয় হ্রাসের পরিণতিতে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে এসেছে শ্লথগতি।

মুনাফা না কমলে বড় ক‍‌‍‌র্পোরেটগুলো চায় মুনাফায় রকেট গতি। ৫ বছর আগে মনমোহন সিংয়ের পিঠ চাপড়ে দেওয়া কর্পোরেটরাই বলছে মনমোহন সিং কংগ্রেস অচল। চাই নতুন নেতা — ‘মোদী লাও দেশ বাঁচাও’।

(২)

স্বভাবতই এই প্রচারের সামনের সারিতে মোদী, আম্বানি, আদানিরা। তারাই চাপ দিয়েছিলেন মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানো হবে এই প্রশ্নটিকে লোকসভায় ভোট যুদ্ধে মুখ্য প্রশ্ন হিসেবে বি জে পির প্রচারের সামনে আনতে হবে। হয়েছেও তাই। কিন্তু মোদীর অতীত ২০০২-র গণহত্যা? রক্তের দাগ তো মুছ‍‌তেই হবে। তাই, মোদীকে দেখানো হচ্ছে যেন তিনি উন্নয়নের প্রতীক। গুজরাট মডেল। কিন্তু নীতির যে অভিমুখ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গোটা দেশজুড়ে আক্রোশের ঝড় বইয়ে দিচ্ছে — তারই আরও আক্রমণাত্মক সংস্করণ কীভাবে বিপণন হবে মানুষের মধ্যে? অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মতো হিন্দুত্বের সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি তাই সমান্তরাল চলবে। ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদী’ মোদী তাই ঘুঁটি সাজালেন। নকল এনকাউন্টারের অভিযোগে অপরাধী অমিত শাহ, জামিনে থাকা অমিত শাহ উঠে এলেন উত্তর প্রদেশে। দাঙ্গা, ছোট বড়ো দাঙ্গা। আর সবশেষে মুজফ্‌ফরনগর।

প্রচার যত এগোচ্ছে গুজরাট মডেলের উপরে স্পট লাইট উন্মুক্ত করে দিচ্ছে পশ্চিমের ঐ রাজ্যটির সামাজিক, অর্থনৈতিক বাস্তবতা। সামাজিক ক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য — ঋণগ্রস্ততার নিরিখে নেহাতই পিছিয়ে পড়া গুজরাট। আর কমছে গুজরাটের শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি। মুনাফার মৃগয়াক্ষেত্র গুজরাট। দুর্নীতির ধাত্রীগৃহ গুজরাট। আনন্দের হিল্লোল বয়ে যাচ্ছে দেশের কর্পোরেট মহলে। ছোট্ট উদাহরণে আরও স্পষ্ট হবে পরিস্থিতি। এক, সিঙ্গুর থেকে সানন্দে তুলে নিয়ে যাওয়া ন্যানো কারখানার জন্য গুজরাটের করদাতাদের ৩৩ হাজার কোটি টাকা জমির দামে, প্রায় বিনা সুদের ঋণে, নিঃশুল্ক বিদ্যুৎ, জল, রেল আর সড়কপথের যোগাযোগে মোদী তুলে দিয়েছেন টাটাদের হাতে। একলাখি প্রতিটি ন্যানো গাড়ির জন্য টাটারা পাচ্ছে ৬০ হাজার টাকার ছাড়।

ফলে কোন অসুবিধাই হচ্ছে না। সাদা চোখে যেটা দেখা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচা হয়ে গেছে বি জে পি-র নির্বাচনী প্রচারে; বলা ভালো মোদীর বিপণনে। বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তুতে স্পষ্ট মোদী জাদুকর। একাই হিন্দি সিনেমার স্টাইলে পাল্টে দেবেন ভারতবর্ষকে। পালটে দেবেন দেশের রূঢ় বাস্তবতা। পার্টি নেই, রাজনীতি নেই, কীভাবে এই পরিবর্তন আসবে তার কোন রূপরেখা নেই। এটাই নাকি পরিবর্তন।

কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। ফলে দাঁত, নখ বেরিয়ে পড়ছে। কেউ বলছেন দাঙ্গার শিকার মুসলিমদের বিরুদ্ধে বদলা নিতে হবে ভোট বাক্সে। কেউ বলছেন হিন্দু এলাকায় মুসলিমদের জমি কিনতে দেওয়া হবে না। কেউ বলছেন মোদীর বিরোধিতা করলেই পাকিস্তানে নির্বাসন নিতে হবে। আর একজন গেরুয়াধারী যোগগুরু কুৎসিত ইঙ্গিত করছেন দলিতদের বিরুদ্ধে। আর মোদী নিজেই বারাণসীতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে দাবি করলেন তিনি ‘ঈশ্বর প্রেরিত’। ভারতীয় জনগণের সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্ত করবার ভগীরথ। স্বয়ং মা গঙ্গা তাঁকে ডেকে এনেছেন কাশীতে। একটি অদ্ভুত গণ-উন্মাদনা তৈরির প্রচেষ্টায় যারা মোদীর প্রচারে টাকা জোগাচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গণমাধ্যমগুলিও অক্লান্ত। চোখের পলক না ফেলেই শুধু খবর নয় প্রাক্‌-নির্বাচনী সমীক্ষাগুলিও মোদী ঝড়ের ইতিবৃত্ত শোনাচ্ছে মানুষকে।

(৩)

কিন্তু, মানুষ তো কল্পলোকে থাকেন না। জীবনের নিত্য-নৈমিত্তিক রূঢ় বাস্তবতা তাদের প্রতিটি মুহূর্তকে ক্ষতবিক্ষত করছে। তারা চায় কাজ। তারা চায় দু’বেলা দু’মুঠো আহার। ঘরের ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষা। অসুস্থ হলে চিকিৎসার গ্যারান্টি। এ নিয়ে যারা ভাবেন সেই মানুষের মধ্যে কোন ঝড় কেন, হাওয়ারও কোন অস্তিত্ব নেই। আর আঞ্চলিক দলগুলোর শক্তিশালী উপস্থিতি কংগ্রেসের মতো জনবিচ্ছিন্ন নয়। সুতরাং প্যাঁচ কষতে হচ্ছে।

(৪)

পশ্চিমবাংলার রাজনৈতিক অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। পশ্চিমবাংলায় বড় আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তারাই এরাজ্যে সরকার চালায়। প্রায় ৩ বছর ধরে চলা সরকারের নীতি জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। কৃষকরা আত্মহত্যার পথে, বেকার যুবকরা কাজ পাচ্ছে না। প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষকের চাকরির আশায় পরীক্ষায় বসে কখনো নির্বাচিত হয়েও বেকার, প্রতারিত। শাসক দলের দপ্তরে হাজিরা না দিলে বা কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলে চাকরি নেই। শ্রমিকরা মাইনে পাচ্ছে না, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা পেনশন পাচ্ছে না। এদেরও অনেকে আত্মহত্যা করছেন। আর আন্দোলন করলে জুটছে লাঠি বা শাসকদলের ভৈরববাহিনীর আক্রমণ। সামাজিক ক্ষেত্রের সঙ্কট ফুটে উঠছে গভীর ক্ষতের মতোন। দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ উঠে এসেছে ১ নম্বর জায়গায় মহিলাদের উপর অত্যাচারে, ধর্ষ‍‌ণে। গ্রামের গরিব অতীতে পাওয়া পাট্টা-বর্গার অধিকার হারাচ্ছেন। আর সবকিছু ছাপিয়ে উঠে সামনে আসছে আর্থিক কেলেঙ্কারি চিট ফান্ডে। যদিও কেউই অস্বীকার করতে পারছে না যে লোক ঠকিয়ে গরিব, নিম্নবিত্ত মানুষের সঞ্চয় চলে গেছে ক্ষমতাশালীদের পকেটে। কিন্তু সরকারের একমাত্র অগ্রাধিকার লোক ঠকানোর অভিযোগে অভিযুক্ত না করে একটি ছদ্ম-বিচারের আড়ালে সত্য গোপন করা। শুধু বিরোধীরা নয় খোদ সুপ্রিম কোর্টকেই প্রশ্ন করতে হচ্ছে কত টাকা তুলেছে প্রতারক চিট ফান্ডের মালিক? কোথায় গেল সে টাকা? কারা পেল লাভের বখরা?

স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের বাগাড়ম্বর অন্তর্হিত। আগামী লোকসভায় তৃতীয় বৃহত্তম দল হবার দাবিটাও আর সোচ্চার নয়। স্পষ্টতই পায়ের তলার থেকে মাটি সরছে তৃণমূল কংগ্রেসের। নেত্রীর ছবি সংবলিত প্রচার সামগ্রীতে ‘সততার প্রতীক’ এই বিশেষণটিও অন্ত‍‌র্হিত। সন্ত্রাস, গণতন্ত্রের উপর বিরোধীদের উপর আক্রমণ, খুন, ভিটে থেকে উচ্ছেদ, জোর করে টাকা আদায় করা, পুলিসী হেফাজতে পিটিয়ে মেরে ফেলায় আইন-কানুন ভেঙে প্রশাসনকে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করা কোনকিছুই ঠেকিয়ে রাখতে পারছে না প্রতিবাদকে।

(৫)

ফলে ভোটের প্রচার যত এগোচ্ছে, তীব্র হচ্ছে শাসকদলের সঙ্কট। সরকার ধাক্কা খাচ্ছে আদালতে। নির্বাচন কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বদল হচ্ছে প্রশাসনের। সাংবিধানিক সংস্থার নজরদারিতে কোণঠাসা মুখ্যমন্ত্রী চিৎকার করছেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছেন। কিন্তু কোন কিছুই বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। আর দলীয় অন্তর্কলহ। পুলিসকে বোম মারার পরামর্শ দেওয়া নেতাদের খাসতালুকে বোম বাঁধতে গিয়ে মারা পড়ছে শাসকদলের জড়ো করা সমাজবিরোধীরা। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল।

আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন বিপদ। সংখ্যালঘু মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য নির্বাচনের আগে দেদার প্রতিশ্রুতি। বাস্তবায়িত করার সামান্যতম প্রচেষ্টার অভাবও ক্ষিপ্ত করছে মানুষকে। শাড়ির প্রান্ত টেনে হিজাবের অনুকরণ বা প্রসঙ্গহীনভাবে ব্যবহার করা ‘আদাব’ ‘ইনসাল্লাহ’-র মতো শব্দবন্ধের অকারণ প্রয়োগও ভবি ভোলাতে পারছে না।

(৬)

এমতাবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রাথমিকভাবে ছক কষেছিল ভোটে রাজ্যের রাজনীতি নিয়ে কথা বলবে না। ফেডারেল ফ্রন্ট নামক একটি অবাস্তব হাঁসজারু উদ্ভাবিত হয়েছিল। ৩০শে জানুয়ারির ব্রিগেড মিটিংয়ে। কিন্তু ধোপে টেঁকেনি। কারণ আঞ্চলিক দলগুলো যাদের কংগ্রেস এবং বি জে পি বিরোধিতার অতীত আছে তারা সবাই বামপন্থীদের সঙ্গে। দ্বিতীয় পরিকল্পনা সততা নিয়ে বিবর্ণ হতে থাকা ভাবমূর্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে আন্না হাজারের সঙ্গে ফ্রন্ট। রামলীলাতেই তার সলিল সমাধি।

তৃণমূল প্রাথমিকভাবে নিশ্চুপ ছিল বি জে পি, নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে। ৫ই ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড মিটিংয়ে নরেন্দ্র মোদী জল্পনাটিকে উসকে দিয়েছিলেন। দুই লাড্ডুর তত্ত্বে। লোকসভা ভোটের পরে দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদী আর কলকাতায় মমতা ব্যানার্জি সহাবস্থানের প্রসঙ্গে। তখনও অনুমান ছিল হই হই করে ভোটে জিতবে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে বাস্তব পরিস্থিতি বদলেছে।

(৭)

দ্রুত জনসমর্থন কমছে তৃণমূল কংগ্রেসের। বামপন্থীদের প্রচারও তীক্ষ্ণ হয়েছে। কংগ্রেসের নীতির কোন বিকল্প নরেন্দ্র মোদী হাজির করতে পারেন না। যুক্তি তথ্য সহকারে মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছে বামপন্থী কর্মীরা। আর তৃণমূল কংগ্রেস? ১৯৯১ সালের পরে শুরু হওয়া সংস্কারের নীতির শরিক কংগ্রেস-বি জে পি ছাড়াও ২০০৪ থেকে ২০০৮ এই ৪ বছর বাদ দিয়ে সবসময়ই তৃণমূল কংগ্রেস—মমতা ব্যানার্জি। উদারীকরণের, বেসরকারীকরণের প্রতিটি প্রস্তাব, প্রতিটি আইন, প্রতিটি বাজেটেই তারা সহযাত্রী। আর গত ৩ বছরের রাজ্য সরকার পরিচালনায়ও বেসরকারীকরণ, পঞ্চায়েতকে আমলাতন্ত্রের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা, ভূমিসংস্কারের প্রক্রিয়ায় ছেদ, শিক্ষায় গণতন্ত্রের বদলে সরকারী নিয়ন্ত্রণের রক্তচক্ষু। সবমিলিয়ে দিল্লির সঙ্গে কোন তফাতই থাকছে না নবান্নের।

ফলে, এই ক্রমবর্ধমান জনবিচ্ছিন্নতার নির্বাচনী পরিণতি তো বামপন্থীদের শক্তিকে বাড়াবে। লোকসভায় বামপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি তো বিকল্প নীতির সপক্ষে জমায়েতে অনুঘটকের কাজ করবে।

(৮)

অতএব, এই বাকযুদ্ধ—কিন্তু ছায়াযুদ্ধ করে কি সত্যকে লুকিয়ে রাখা যায়? মমতা ব্যানার্জি বা তার চিফ লেফটেন্যান্ট মুকুল রায়ের মোদীবিরোধী বাক্যবাণ শুনে যেকোন সচেতন মানুষের হাসির উদ্রেক হবে। কারণ, যে গুজরাট গণহত্যা নিয়ে তাদের এই তোপদাগা তার পরে তো তৃণমূল কংগ্রেস নতুন করে বি জে পি-র সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। মোদী প্রথম ভোটযুদ্ধে জেতার পর পুষ্পগুচ্ছ নিয়ে শুভেচ্ছা পাঠানো হয়েছিল। তখন এই রক্তের দাগ কোথায় ছিল?

আর এখন তো হাতে এসে গেছে অকাট্য প্রমাণ। প্রাক্তন সাংসদ কৃষ্ণা বসু তাঁর আত্মজীবনীমূলক এই ‘অ্যান আউট সাইডার ইন পলিটিকস’-এ লিখছেন : ‘‘বি জে পি-র ভূমিকায় আমি তীব্র বিরক্ত ছিলাম। কিন্তু আমার দলে আমি ছিলাম একা। এই প্রশ্নে মমতার দু’মুখো আচরণে আমি হতাশ ছিলাম, হতবুদ্ধিও হয়ে পড়েছিলাম। ওকে সবাই ধর্মনিরপেক্ষ ও মুসলিমদরদী বলেই জানত। কিন্তু গুজরাট সঙ্কটের তাৎপর্য ও কেন বুঝতে পারছিল না বা বুঝতে চাইছিল না, তা আমার কাছে ছিল রহস্য।...সংসদে এ প্রশ্নে বিতর্ক ও ভোটাভুটির ঠিক আগে ও সংসদীয় দলের সভা ডাকে। ও প্রত্যেকের কাছে এক এক করে জানতে চায়। ততোদিনে সকলেই বুঝে গিয়েছে ওঁর নিজের মত কী। সেই অনুযায়ীই সকলে সায় দিতে থাকে এবং বলে যে সরকারের সমালোচনা করা হোক কিন্তু সরকারের পক্ষেই ভোট দেওয়া হোক। আমিই ছিলাম একমাত্র বিরোধী কণ্ঠস্বর। আমি দাবি করি এই প্রশ্নে দল সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিক।’’ কিন্তু ইতিহাস এবং লোকসভায় রেকর্ড জানে তৃণমূল কংগ্রেস ঐ বিতর্কে বাজপেয়ী সরকারকেই সমর্থন করেছিল।

ছায়াযুদ্ধে পারদর্শী তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জি—চিরকালই, এখনো তাই। নির্বাচনী ভরাডুবির হাত থেকে বাঁচতে তাই—খড়কুটো তাই বি জে পি, নরেন্দ্র মোদী। পারস্পরিক বিষোদ্গার আসলে তৃণমূল কংগ্রেস সম্পর্কে মোহভঙ্গ হওয়া পশ্চিমবঙ্গবাসীকে বি জে পি-র দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা। আপাতদৃষ্টিতেই স্পষ্ট বামপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি আটকাতে। আর অন্যদিকে বামপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধিতে শঙ্কিত মোদীও। তৃণমূল কংগ্রেস—মমতা ব্যানার্জির বিশ্বাসযোগ্যতাকে রক্ষা করতে তৎপর—ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের মধ্যে।

কিন্তু, ছিন্নভিন্ন হবেই এ ‘ছদ্ম আচরণ’। ছায়াযুদ্ধ কখনো প্রকৃত বাস্তবতাকে বিকৃত করতে পারে না। মানুষের চেতনাকে দৃঢ় করতে এই ছায়াযুদ্ধের পটভূমিটি বামপন্থী কর্মীদের স্পষ্ট করে দিতেই হবে।

Monday, April 28, 2014

স্কুলে চাকরি করতে ১৭লক্ষ যুবক-যুবতী পরীক্ষা দিল। একজনেরও চাকরি হলো না। এত অপমান ছেলেমেয়েদের। এ কী অবস্থা চলছে রাজ্যে? এখন তো আবার সারদা নিয়ে কথা বললেই ওরা ভয় পায়। আমরা জানতে চাই কার পকেটে ঐ বিপুল পরিমাণ টাকা গেল। জানতে চাই গরিব মানুষ টাকা ফেরত পাবেন কী করে। আমরা এর বিচার চাই। সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত করুক। বিচার করুক। এতবড় অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, বাজারে এখন কোন জিনিসে হাতে দেওয়া যাচ্ছে না। চাল, ডাল, ডিম ,সবজি সব আকাশছোঁয়া দাম। বলে বেড়াচ্ছেন যা করার সব হয়ে গেছে। উৎসব করছেন। কার টাকায় এসব হচ্ছে? মানুষের টাকায় এসব হচ্ছে। এর কৈফিয়ত ওদের দিতেই হবে। দিনে রাতে মিথ্যা কথা বলে চলেছেন। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। এত টাকা কোথা থেকে ওরা পাচ্ছে? কে টাকা দিচ্ছে? এসব পাপের টাকা। এসব পাপের টাকা আমরা কোন দিন হাত দেবো না। তৃণমূল কংগ্রেস পাপের টাকায় হাতে দিয়েছে ,তাই হেলিকপ্টার চড়ছে। এই নির্বাচনেও তাই এই শক্তিকেও পরাজিত করুন।

তৃণমূল চিরকাল কংগ্রেস, বি জে পি-র সঙ্গে থেকেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম কংগ্রেস থেকে। কংগ্রেস বা বি জে পি-র এমন কোন অপরাধ নেই যে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন করেনি। গুজরাটের দাঙ্গায় সারা দেশে যখন ছিঃছিঃ হচ্ছে সেই সময় তৃণমূল নেত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফুল পাঠালেন। একবার সেসব নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর লজ্জা নেই। একবারও উনি বলছেন না বি জে পি-র সঙ্গে থেকে ভুল করেছি। একবারও উনি বলছেন না বি জে পি-র সঙ্গে যাবো না। আসলে ওরা একসঙ্গেই থাকবে।

বামপন্থীরা সহ ১১টি পার্টি এক হয়েছে যাদের ভোট কংগ্রেস – বি জে পি-র থেকে কম নয়। নেতা বা প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সেটা বড় কথা নয়। কেমন সরকার হবে, তার নীতি কী হবে সেটাই বড় কথা। আমরা চাই দেশে এমন একটা সরকার হোক যাদের জমি নেই তাদের জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করবে, ২টাকা কেজি দরে ৩৫ কেজি চাল-গম প্রতি পরিবারকে দেবে, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১০ হাজার টাকা, ন্যূনতম পেনশন হবে ৪ হাজার টাকা। এই নীতিতেই ভোট হোক। এই নীতিকে আপনারা জেতান। দিল্লিতে একটা বিকল্প সরকার গড়ে উঠুক।

দিল্লিতে এমন একটা সরকারই গড়তে হবে যে বিকল্প নীতি নেবে। বামপন্থীদের শক্তি বৃদ্ধি হলে অন্যায় আইন করতে বাধা দেবে। দেশের মানুষের জন্য বামপন্থীরা ভাল কাজ করবে। এবারের নির্বাচনে আবার সুযোগ এসেছে বামপন্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করার। -বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

Thursday, April 24, 2014

তৃণমূল নেত্রী মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কপ্টারে চড়ে সাথে করে ফিল্মস্টারদের নিয়ে ঘুরছেন। পরাজয় নিশ্চিত বুঝে ঘৃণ্য ভাষায় আক্রমণও করছেন বামপন্থীদের। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আমাদের ভোট দাও যাতে আমরা সারদার কেস থেকে বাঁচতে পারি। দিল্লিতে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, লুট হয়েছে। এর জন্য জেলে কাটাতে হয়েছে কংগ্রেসের মন্ত্রীদের। সেই দিল্লির ছায়া এবার পশ্চিমবঙ্গেও দেখছি। দিল্লিতে যখন দুর্নীতি হচ্ছিল তখন মুখে তালা দিয়ে কেন ছিলেন তৃণমূলের নেতারা? কারণ দুর্নীতির তালা-চাবি ছিল সুদীপ্ত সেন সারদার জন্য। -বৃন্দা কারাত।

সারদা থেকে বাঁচার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি যেতে চায়

“আমরা দিল্লি যেতে চাই মানুষের জন্য। শ্রমিক-কৃষক বিরোধী যে নীতি তার পরিবর্তনের জন্য। আর ওরা দিল্লি যেতে যায় সারদা কেলেঙ্কারি থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য। তাই ওদের পরাজিত করে আপনার আওয়াজ পৌঁছে দিন দিল্লিতে।” বৃন্দা কারাত।

কলকাতা, ২৩শে এপ্রিল- এদিন ইডি’র দপ্তরে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এক ব্যবসায়ীকে। শাসক শিবিরের একাধিক ব্যক্তির পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলো সদ্য রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ হওয়া আহমেদ হাসান ইমরানকে। তিনি শাসক দলের অনুগত একটি পত্রিকা ‘কলম’-এর সম্পাদক। সারদার একটি কাগজের মালিকানার হস্তান্তর কীভাবে হলো, কীভাবে সেই কাগজ চলছে তাই এবার জানতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার আগে পর্যন্ত ‘আজাদ হিন্দ’ ও ‘কলম’ পত্রিকা দুটির সম্পাদক ও মালিকানা ছিল প্রতারক সুদীপ্ত সেনের নামে। প্রথমটি উর্দু দৈনিক এবং দ্বিতীয়টি বাংলা দৈনিক। দুটি সংবাদপত্রই কার্যত শাসক তৃণমূলের প্রচারকের ভূমিকা পালন করে। সেই ‘দায়িত্ব’ এখনও পালন করে আসছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সুদীপ্ত সেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাতারাতি এই দুটির প্রিন্টার্স লাইন পরিবর্তন হয়ে নতুন সম্পাদক ও প্রকাশকের নাম যুক্ত হয়েছে।

এখন স্পষ্ট, সারদা তদন্তে সিট ও বিধাননগর কমিশনারেটের সীমাবদ্ধতা। ইডি’র এক আধিকারিকের কথায়, কেন এধরনের ঘটনা ঘটছে বলতে পারবো না। আমরা আইন মেনেই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তদন্তের অগ্রগতির স্বার্থে যা পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার আমরা নেবো।

রাজ্য সরকার যে কখনই চায়নি সুদীপ্ত সেন ও পিয়ালি সেনের যৌথ ব্যাঙ্ক লকার ইডির হাতে আসে তা স্পষ্ট হয়েছে ঘটনাক্রমেই। সারদা কাণ্ডে ৩৩ নম্বর মামলায় গত বছর ২৩শে এপ্রিল বিধাননগর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ঐ শাখায় সুদীপ্ত-পিয়ালির যৌথ লকারটি বাজেয়াপ্ত করে বিধাননগর পুলিস। পরবর্তীতে ১০২ নম্বর মামলার সঙ্গে তা যুক্ত করা দেওয়া হয়। গত ৬ই মে সারদার এক আমানতকারীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলাকেই নাকি ‘মডেল মামলা’ হিসাবে দেখছে কমিশনারেট। এবং সেই মামলার প্রয়োজনে এক বছর পরে মঙ্গলবার বিকেলে তড়িঘড়ি আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে রাতেই লকারের দখল নেওয়া হয়।

লকার-কাণ্ডে দৃশ্যতই বিব্রত ইডি’র আধিকারিকরা। এদিন বিধাননগর সি জি ও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডাইরক্টরেটের যুগ্ম অধিকর্তা যোগেশ গুপ্তার নেতৃত্বে দফায় দফায় বৈঠক চলে। জানা গেছে ইডি গোটা বিষয়টি আদালতে পিটিশন দায়ের করেই জানাবে। এদিন সন্ধ্যায় বিধাননগর কমিশনারেটের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে যোগেশ গুপ্তা বলেন, আমরা বিষয়টি আইনী ভাবেই দেখবো। অর্থাৎ সারদা কাণ্ডে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথেই চলে গেলো রাজ্য পুলিস। যদিও ইডি’র এই অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন নয়। এর আগে সারদা কেলেঙ্কারির প্রথম দিকে এমনকি সামান্য কেস ডায়েরিও দেখতে বাধা দেওয়া হয়েছিল ইডিকে। আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে এসেই কেস ডায়েরি হাতে পেয়েছিল এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

খোদ মমতা ব্যানার্জির তৈরি করে দেওয়া তদন্তকারী সংস্থা ‘সিট’ জানাচ্ছে একেবারেই উলটো তথ্য। যেখানে সরাসরি সুদীপ্ত সেনের শর্ত মেনেই তাঁর পরিবারকে তদন্তের আওতা থেকে রাখার চেষ্টা যে নিপুণ ভাবে চালিয়েছে তাই স্পষ্ট হয়েছে। কেননা গত ১৮ই ডিসেম্বর পি এফ কমিশনের তরফে সল্টলেক ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় নতুন করে এফ আই আর রুজু করা হয়েছিল। কেস নম্বর ১২২/২০১৩।সেই এফ আই আর’এ উল্লেখ ছিল পিয়ালি সেনের নামও। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পি এফের টাকা নয়ছয় সংক্রান্ত মামলার চার্জশিট থেকে বাদ চলে গেছে চিট ফান্ড প্রতারণার নায়ক সুদীপ্ত সেনের স্ত্রী পিয়ালি সেনের নাম। কেন? উত্তর দিতে পারেনি পুলিসের কোন কর্তাই।

স্রেফ ১২লক্ষ টাকার সম্পত্তি উদ্ধারে এত তৎপরতা কেন বিধাননগর কমিশনারেটের? আড়াই হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারিতে ১২লক্ষ টাকা গয়না উদ্ধারেই এত পরিশ্রম করতে হলো? নিছকই গয়না ভর্তি লকার যদি ইডি খুলতো তাহলে কীসের সমস্যা হতো পুলিসের? কেন পিয়ালি সেনকে এক বছর ধরে গ্রেপ্তার করার কোন চেষ্টাই করলো না বিধাননগর কমিশনারেট? গোয়েন্দা আধিকারিকের জবাব, আমরা পিয়ালি সেন ও শুভজিৎ সেনকে হেফাজতে নেওয়ার কথাও এখন ভাবছি না। যে মামলাগুলি চলছে তাতে এই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এমনকি পিয়ালি সেনের বিরুদ্ধে কোন এফ আই আরও হয়নি সারদার কোন মামলায়, জানিয়েছেন অর্ণব ঘোষ ।

সুদীপ্ত ও পিয়ালি সেনের লকার যাতে ইডি না খুলতে পারে সেই কারণেই বিধাননগর কমিশনারেটের তরফে যে মঙ্গলবার রাতে তৎপরতার সঙ্গেই লকার খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা এদিন কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন বিধানগনগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষ। তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘ ইডি ঐ লকার খুলতে চাইছে তা জানার পরেই আমরা লকার খুলে নিয়েছি। কারণ তা তো আমরাই বাজেয়াপ্ত করেছিলাম’। কিন্তু এক বছর ধরে সেই লকার খোলা না হলেও হঠাৎ করে মঙ্গলবার কেন করা হলো? অর্ণব ঘোষের উত্তর, ‘সেটা তো আমাদের ব্যাপার। সি আর পি সি-তে তিন বছর সময় আছে। এতদিন খুলিনি, এখন লকার খুললাম, অন্যায়ের কী আছে’। এরপরেই তাঁর আরও সংযোজন, ‘সেরকম কিছু পাওয়া যায়নি। ২৫ভরি সোনা ও চারটে রুপোর কয়েন পাওয়া গেছে। প্রায় ১২লক্ষ টাকার সম্পত্তি’।

সারদা কেলেঙ্কারির রহস্য আরও জটিল করে তুললো এবার খোদ রাজ্য পুলিসই। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সুদীপ্ত সেন ও পিয়ালি সেনের ব্যাঙ্কের লকার কেন ইডি’র হাত থেকে বাঁচাতে এত মরিয়া হয়ে উঠলো পুলিস? এমন কোনো নথিপত্র কি রয়েছে যা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গেলে বিপদে পড়তে পারে সরকার নিজেই? এক বছর আগে সিজ্‌ করা লকার এতদিন ধরে সুরক্ষিত রাখার পরে ইডি তদন্ত শুরু করতেই কেন মঙ্গলবারই আদালতের নির্দেশ নিয়ে তা খুলতে তৎপর হয়ে উঠলো পুলিস? সারদা কাণ্ডে কেন কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে কার্যত সংঘাতে চলে গেলো রাজ্য পুলিস, সেই প্রশ্নও উঠছে। কার নির্দেশে, কী আড়াল করতে চাইছে পুলিস? বিস্মিত ইডি’র আধিকারিকরাও। এমন কোন কাগজপত্র, কিংবা চুক্তিপত্র কি ছিল তাতে যা ইডি’র হাতে গেলে বিপদ বাড়তে পারে শাসক শিবিরের?

কলকাতা, ২৩শে এপ্রিল- রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সুদীপ্ত সেন ও তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী পিয়ালি সেনের যৌথ লকার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ২৩শে এপ্রিল। করেছিল বিধাননগর কমিশনারেট। অথচ একবছরে একবারের জন্যও তা খোলা হয়নি। আশ্চর্যজনকভাবে তরফে পিয়ালি সেনকে হেফাজতে নিয়ে ইডি তা খোলার উদ্যোগ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অবিশ্বাস্য তৎপরতায় মঙ্গলবার রাতেই সেই লকারের দখল নিলো বিধাননগর কমিশনারেট।

হঠাৎ লকারের দখল নিতে তৎপর কেন রাজ্য পুলিস?

Saturday, April 19, 2014

আজ বিশিষ্টদের সভা বালুরঘাটে নিজস্ব প্রতিনিধি বালুরঘাট, ১৭ই এপ্রিল— শনিবার বালুরঘাটে নাট্যতীর্থে সভা করবেন বুদ্ধিজীবীরা। বর্তমান সময়ে দেশে ও পশ্চিমবঙ্গে যে রাজনৈতিক বিপদ মাথা তুলেছে সেই সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে এই সভা বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মীর পরিচয় দিয়ে বালুরঘাটের তৃণমূল প্রার্থীর রাজনৈতিক সত্যকে আড়ালের চেষ্টার সম্পর্কেও সতর্ক করা হবে মানুষকে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসম্পন্ন বালুরঘাটে অনেক নাট্যদল, লিটল ম্যাগাজিন, শিল্পী সাংস্কৃতিক কর্মীরা কাজ করেন। তেভাগা আন্দোলনের ঐতিহ্য সম্পন্ন বালুরঘাটের এই সাংস্কৃতিক ধারাতেও সেই কৃষক আন্দোলন ও গণআন্দোলনের প্রভাব প্রকট। কিন্তু সেই বালুরঘাটে এখন শাসকের প্রতাপে তৃণমূল কংগ্রেস সবাইকে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করছে, অথবা ভয় দেখিয়ে দমন করে রাখার চেষ্টা করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অর্পিতা ঘোষকে জেতানোর জন্য কলকাতা থেকে তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবীরা ইতোমধ্যেই বালুরঘাটে এসে প্রচার করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু দপ্তরের কাজ শিকেয় তুলে এখানে এসে প্রচারে মন দিয়েছেন। তৃণমূল কর্মীদের সভায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য এসে বলে গিয়েছেন, তৃণমূল কর্মীদেরই শিক্ষকতার চাকরিতে নিয়োগ করা হবে। এভাবেই বালুরঘাটে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন অর্পিতা ঘোষ। সাংস্কৃতিক ধারার এই অবক্ষয়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে শনিবার বামপন্থার প্রতি আস্থাশীল শিক্ষক বুদ্ধিজীবী, বালুরঘাটের বিভিন্ন নাট্যদলের কর্মী, চিত্রশিল্পী প্রমুখ একটি সভা অনুষ্ঠিত করছেন নাট্যতীর্থে। কলকাতা থেকে সৌমেন্দ্রনাথ বেরা, চন্দন সেন, ভারতী মুৎসুদ্দি, শুভেন্দু মাইতি, মন্দাক্রান্তা সেন প্রমুখ আসছেন সভায় যোগ দিতে। বালুরঘাটের কবি ব্রততী ঘোষ রায়, লেখক পুষ্পজিৎ রায় প্রমুখও থাকবেন সভায়।

Friday, April 18, 2014

বৃহস্পতিবার রাতে রাজারহাট পৌরসভা এলাকার পূর্ব নারায়ণতলার শ্রীগোপাল আবাসনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ই ডি’র আধিকারিকরা গ্রেপ্তার করেন পিয়ালি সেনকে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ঐ ফ্ল্যাটে তাঁকে নিরাপদে থাকার সুযোগ করে দিয়েছিলেন মন্ত্রী? যদি তাই হয় তবে রাজ্যেরই বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তের মধ্যেই কীভাবে, কেন রাজ্যের এক মন্ত্রী তাঁকে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তা-ও খতিয়ে দেখছেন ই ডি’র আধিকারিকরা।

কলকাতা, ১৭ই এপ্রিল— বুধবার রাতে সুদীপ্ত সেনের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী পিয়ালি সেন ও ছেলে শুভজিৎ সেনকে গ্রেপ্তার করে রাতেই সল্টলেকের সি জি ও কমপ্লেক্সে ডি’র দপ্তরে নিয়ে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ জেরা করা হয়। সূত্র মারফত জানা গেছে, জেরার প্রাথমিক পর্বেই পিয়ালি সেন স্বীকার করেছেন কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় তাঁকে গা-ঢাকা দিয়ে থাকতে সাহায্য করেছেন রাজ্যের এক দাপুটে মন্ত্রী যার বিরুদ্ধে এর আগে বারবার সারদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছিল।

কলকাতা, ১৭ই এপ্রিল— সারদা তদন্তে নতুন মোড়। সিট ও বিধাননগর কমিশনারেটের তদন্তের আওতা থেকে ‘রেহাই’ পেয়ে যাওয়া শাসকদলের শীর্ষস্তরের তিন প্রভাবশালী নেতাকে এবার জিজ্ঞাসাবাদ করতে চলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ই ডি)। জানা গেছে, সারদার টাকা বিদেশে লগ্নির বিষয়ে শুক্রবারই এই তিনজনের মধ্যে একজনকে দিল্লিতে জেরা করবেন ই ডি-র গোয়েন্দারা। তিনি তৃণমূলের সাংসদ। পরবর্তীতে বাকি দুই শীর্ষ নেতাকেও জেরার প্রস্তুতি নিয়েছে ই ডি।

বহু বছর ধরেই বালুরঘাট থেকে আর এস পি প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন। গতবার জয়ী হয়েছিলেন আর এস পি নেতা প্রশান্ত মজুমদার। এবার বামফ্রন্টের নতুন প্রার্থী বিমল সরকার ছাত্র আন্দোলন থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। যুব আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন এবং শ্রমিক আন্দোলনেরও অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে, অর্পিতা ঘোষের মতো কোনো নেতিবাচক পরিচয়ের বোঝা তাঁর কাঁধে নেই। বামফ্রন্ট কর্মীরাও তাঁর প্রচারে রাজনৈতিক বিষয়ই তুলে ধরছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনের পরে জেলায় উন্নয়নের শ্লথতা, পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট লুটের ঘটনা, কৃষকের সমস্যা, সবই তুলে ধরে মানুষের কাছে জবাব চাইছে বামফ্রন্ট।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এই একটিই লোকসভা কেন্দ্র। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্রও এই লোকসভার কেন্দ্রের অন্তর্গত। বরাবর বামফ্রন্টের হাতে থাকা বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল জয়ের ব্যপারে আশাবাদীই ছিলো। কারণ এই কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে ৬টিতেই তৃণমূলের বিধায়ক রয়েছেন। কিন্তু হিসাব এলোমেলো হয়ে গেছে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হওয়ায়। কলকাতা থেকে কংগ্রেসের ওমপ্রকাশ মিশ্র এখানে এসে প্রার্থী হয়েছেন। আর বি জে পি প্রার্থী বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী তাঁর প্রচারে প্রচুর অর্থব্যয় করছেন। বি জে পি-র প্রচার এখানে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে গত লোকসভার মতো এবারও বালুরঘাটে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বামফ্রন্ট প্রার্থী বিমল সরকার।

অর্পিতা ঘোষ - তাঁর নির্বাচনী প্রচারেই হিলি, গঙ্গারামপুর আর কুমারগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারিতে অনেকে আহতও হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে তাই বুধবার বালুরঘাটে বলতে হয়েছে, ‘সাংস্কৃতিক কর্মী আবার বাইরের লোক কি! রবীন্দ্রনাথ কি দার্জিলিঙে গিয়ে কবিতা লেখেননি? নেতাজী যদি বাইরের লোক না হয়, মাতঙ্গিনী হাজরা যদি বাইরের লোক না হয় তাহলে অর্পিতা কেন বাইরের লোক হবে?’

নিন্দুকের মতো বিরোধীরা যে সব প্রশ্ন তুলছে তাতে কর্ণপাত না করলেও দলের লোকেরাই যে আপত্তি তুলেছেন তা সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে অর্পিতা ঘোষকে। বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তাঁর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই হরিরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিপ্লব মিত্র এবং তাঁর অনুগামীরা খাপ্পা। জেলারই তৃণমূলের আরেক বিধায়ক মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর গোষ্ঠীর লোকেদের প্রবল বিবাদ। এই গোষ্ঠী বিবাদ আর ‘কলকাতা থেকে উড়ে আসা বাইরের প্রার্থী’ এই তকমা ঘোচাতে দম বেরিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল প্রার্থীর।

সারদার টাকার প্রশ্ন যে উঠছে, তা শুধু অর্পিতা ঘোষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও জানেন। তাই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জনসভায় উড়ে এসে বুধবার তিনি সার্টিফিকেট দিয়ে গেছেন, ‘অর্পিতা খুব ডেডিকেটেড ভালো মেয়ে। ও কালো টাকার কাছে মাথা নোয়াবে না।’

সারদা বিপর্যয় প্রকাশ্যে আসার পরেই বালুরঘাটে হাহাকার পড়ে গিয়েছিলো। তারপরেই টাওয়ার গ্রুপের অফিসে টাকা চেয়েও না পেয়ে ভাঙচুর চলে। সেই অফিস এখনো বন্ধ। চিটফান্ডের এক এজেন্ট আত্মঘাতীও হয়েছেন। সি পি আই (এম)-র দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সম্পাদক মানবেশ চৌধুরীর প্রশ্ন, কুনাল ঘোষ সারদা থেকে মোটা মাইনে তুলে এখন জেলে আছেন। আর সারদা গোষ্ঠীরই টাকায় ‘এখন সময়’ নামের একটি টিভি চ্যানেলের কর্মী হিসাবে (শুভাপ্রসন্নকে মাথায় রেখে তৈরি এই চ্যানেলটি সম্প্রচার শুরু করতে পারেনি) অর্পিতা ঘোষ মোটা মাইনে তুলেও কেন চিটফান্ড প্রতারণার দায় নেবেন না?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে হেলিকপ্টারে চড়ে বালুরঘাট, কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুরে উড়ে বেড়াচ্ছেন অর্পিতা ঘোষ, প্রচার করছেন নির্বাচনে। অনুতাপের কোনো সময় তাঁর নেই। কলকাতা থেকে দলে দলে ‘বুদ্ধিজীবীরা’ তাঁর হয়ে প্রচার করে যাচ্ছে। ‘বুদ্ধিজীবীরা’? নাকি জয় গোস্বামীর কবিতার অন্য কয়েদীরা? যারা ‘গরাদের ভিতর সোৎসাহে হাততালি দিতে থাকে’ আর ‘সে নিশ্চিন্তে বসে থাকে গরাদের মধ্যে রাখা সিংহাসনটিতে’? চারিদিকে চিটফান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের কান্নার রোলের মাঝেও অর্পিতা ঘোষ এখন তাকিয়ে আছেন সাংসদ সিংহাসনের দিকে।

নাট্যকর্মী? নাকি সারদাকর্মী? এই প্রশ্নটাই বিরোধীরা তুলছেন। বিরোধীদের কথা অর্পিতা ঘোষ কানে তোলেন না। কিন্তু পরিবর্তনের লড়াইতে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী কবি জয় গোস্বামী একটি পত্রিকায় গত মাসে যা লিখেছেন সেটাও কি তাঁর নজর এড়িয়ে গেছে? ‘গরাদ গরাদ’ শিরোনামে একগুচ্ছ কবিতায় জয় গোস্বামী লিখছেন, ‘কি করেছি! কি করেছি!/ অনুতাপ করি।/ এখানে কি আর কেউ অনুতাপ করে!/ কেউ না, কেউ না।/ আমার চারপাশে শুধু কবি কবি। লেখক লেখক।/ গরাদে গরাদে গিয়ে মাথাঠোকা একমাত্র কাজ/ গরাদের হাসি শোনো ঠক ঠক ঠক।’

তেভাগা আন্দোলনের মাটিতে চিটফান্ডের লুটতরাজের জন্য কি তাঁর কোনো অনুতাপ আছে? যে চিটফান্ড লক্ষ লক্ষ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে, সেই সারদার একটি টিভি চ্যানেল থেকে ৫০হাজার টাকা মাইনে নেওয়ার জন্য তিনি কি ভুল স্বীকার করেন? না, এসবের ধারকাছ দিয়ে না গিয়ে বালুরঘাটের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ গর্ব সহকারেই নিজেকে ‘নাট্যকর্মী’ পরিচয় দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

Thursday, April 17, 2014

বি জে পি এবার আরো আগ্রাসী সাম্প্রদায়িক - ইরফান হাবিব

Ganashakti



Modi should be isolated: Karat

Modi should be isolated: Karat | Communist Party of India (Marxist)



আসন্ন লোকসভা নির্বাচন ও শ্রমিকশ্রেণী - দীপক দাশগুপ্ত

Ganashakti



একবালপুরের ঘটনার প্রতিবাদে বিশাল মিছিল মহিলাদের, ডেপুটেশন থানায়

Ganashakti



আচরণবিধি ভেঙে তৃণমূল বিধায়কদের অধিকার প্রকল্পের চেক দিয়েছেন বাঁকুড়ার জেলাশাসক

Ganashakti



সুদীপ্ত সেনের স্ত্রী-পুত্রকে গ্রেপ্তার করলো ই ডি সারদায় সি বি আই কি না, জানতে আরো অন্তত এক সপ্তাহ

Ganashakti



MAKINENI Basavapunnaiah and the International Communist Movement

MB and the International Communist Movement | Peoples Democracy



Scams & False Promises Backfire in Bengal | Peoples Democracy

Scams & False Promises Backfire in Bengal | Peoples Democracy



Scams & False Promises Backfire in Bengal | Peoples Democracy

Scams & False Promises Backfire in Bengal | Peoples Democracy



Monday, April 14, 2014

অশোক ঘোষও বলেন, দেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সঙ্গে সুভাষিণী আলির পরিবার যুক্ত ছিল। তিনি বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের দুরবস্থার জন্য তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, নৈরাজ্যের পরিবেশ থেকে রাজ্যবাসীকে মুক্ত করতে, গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে জয়ী করতে বামফ্রন্টকে জয়ী করুন। মঞ্জুকুমার মজুমদার বলেন, ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের একটা পরিবেশ তৈরি করছে তৃণমূল। গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা চলছে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে ছবি বেচে নাকি প্রচারের খরচ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী! এবারে কাদের টাকায় হেলিকপ্টার চড়ছেন? মনোজ ভট্টাচার্য বলেন, খুন করে ভয় দেখিয়ে কণ্ঠরোধ করতে চাইছে তৃণমূল। কিন্তু চিরকাল এভাবে কণ্ঠরোধ করা যায় না।

কংগ্রেসকে সরাতে হবে। কিন্তু তার বিকল্প হিসাবে যাকে দেখানো হচ্ছে, সেই নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বি জে পি আরো ভয়ঙ্কর। আর এস এস-এর লোক মোদী দেশকে সাম্প্রদায়িকভাবে বিভাজন করতে চায়। আমরা বামপন্থীরা তা কখনোই হতে দেবো না। আমরা কংগ্রেস ও বি জে পি-র বিরুদ্ধে যারা লড়ছে, সেই দলগুলিকে নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ও মানুষের স্বার্থে বিকল্প নীতি নিয়ে একটি সরকার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। যে সরকার সমস্ত পরিবারের জন্য রেশনে ২টাকা দরে মাসে ৩৫কেজি চাল-গম দেবে, যে সরকার ভূমিহীনদের হাতে চাষের জমি দেবে, শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি ও পেনশন দেবে। সকলের জন্য লেখাপড়া ও চিকিৎসার সুযোগের ব্যবস্থা করবে। কোনো নেতা নয়, বিকল্প নীতির সরকার গড়ার জন্যই মানুষ ভোট দিন, এটা আমরা চাই।

তৃণমূলের এক জেলা নেতা প্রকাশ্যে বলছে, যারা বিরোধিতা করছে, তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দাও। আর পুলিস যদি বাধা দেয় তবে পুলিসের ওপর বোমা মারো! তারপরেও সে বাইরে ঘুরছে শুধু নয়, তাকে নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমিও দশ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমাদের সরকার থাকলে ওই নেতা সে রাতেই জেলে ঢুকতো, তারপর দেখতাম কোন আইনে তাকে সাজা দেওয়া যায়। তিনি বলেন, সমাজবিরোধীদের এই দাপট যে মানুষ অনুমোদন করছেন না, তা এই নির্বাচনে সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

রাজ্য সরকারের মনোভাবের জন্যই এই সব ঘটনা আরো বাড়ছে। সরকার কী করছে? হয় সেই পরিবারের মানুষদের চুপ করে থাকার জন্য ধমক দিচ্ছে, না হলে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। এরকম ঘটনা ভাবা যায়! ধর্ষিতার পরিবারকে টাকা দিয়ে চুপ করানো হচ্ছে, আর অপরাধীদের পুলিস পাহারায় সরকারী দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই তো সরকারের মনোভাব!

একটু ভালো চাল ৩৫-৩৮টাকা কেজি হয়ে গেছে। কেন চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না? আলুর দামও প্রতি সপ্তাহে দু’টাকা করে কেজিতে বেড়ে যাচ্ছে। সরকারের কোনো ভূমিকাই নেই! তিনি বলেন, এদিকে কিছুদিন পরপরই সরকার থেকে দাবি জানানো হচ্ছে ৯৯শতাংশ কাজই হয়ে গেছে। আবার কখনো বলছে ৯০শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। এটা কখনো সম্ভব! আসলে সরকারের কাজটা কী, সেটাই এঁরা জানেন না! তাই এসব দাবি করছেন। -বামফ্রন্ট

রাজ্যের তৃণমূলের সরকার আসার পর থেকেই বিশেষ করে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক সন্ত্রাস চলছে। বিভিন্ন এলাকায় সি পি আই (এম)সহ বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির অফিস দখল করা, আগুন লাগানো, লুঠপাট করার সঙ্গে বামফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ চলছেই। নির্বাচনী প্রচারের সময়েও তৃণমূলের হুমকি, আক্রমণ লেগেই আছে।

রাজ্য সরকারের মনোভাবের ওপরেই নির্ভর করছে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য বাড়বে না কমবে, মহিলাদের ওপর অত্যারচার বাড়বে না কমবে। তৃণমূল সরকারের সেদিকে কোনো লক্ষ্যই নেই। ভট্টাচার্য বলেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে দেশে জনবিরোধী নীতির পরিবর্তে জনস্বার্থে নীতি নেবে এমন সরকার গঠনের লড়াই যেমন আছে, তেমনি এরাজ্যের সরকারকেও বুঝিয়ে দেওয়া উচিত, সমাজের ওপর সমাজবিরোধীদের যে দাপট চলছে, তাকে মানুষ অনুমোদন করছেন না।

রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার থাকলে পুলিসের ওপর বোমা মারার হুমকি দেওয়া নেতা সে রাতে জেলেই থাকতো। আর এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেই ‘বোমা মারা’ নেতাকে নিয়েই নির্বাচনী প্রচারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

চিট ফান্ডের কালো টাকায় নির্বাচনী প্রচার করছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারে আসার আগে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে চিট ফান্ড মালিকদের দোস্তি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ১কোটি ৮৬লক্ষ টাকায় চিট ফান্ড মালিক কিনেছেন। এখন মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে বোকা বানানোর জন্য নিজেদের ‘গরিবের পার্টি’ বলে বেড়াচ্ছেন, আর আরেকটি চিট ফান্ড মালিকের চার্টার্ড বিমানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মীরাও নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন তৃণমূলের কর্মীদের হাতে। আমরা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে বরাবরই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সক্রিয়তা দাবি করে আসছি। আমরা চাই, মানুষ যেন অবাধে ভোট দিতে পারেন। কিন্তু শাসকদল প্রশাসনকে পঙ্গু করে রাখার চেষ্টা করছে, আমরা তার প্রতিবাদ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। আমরা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে চাইছি, শান্তিতে অবাধে ভোট হোক, তাহলে রাজ্যের সব কেন্দ্রেই বামফ্রন্টই ভালো ফল করবে।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতোই লোকসভা নির্বাচনকেও প্রহসনে পরিণত করে জেতার পরিকল্পনা তৃণমূল কংগ্রেস করেছে। এরাজ্যের সরকার এত উদ্ধত ও অগণতান্ত্রিক যে তারা সংবিধানের নামে শপথ নিলেও সংবিধান মানে না। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে মান্য করে না। এরাজ্যের শাসকদল বিরোধীদের ওপরেও মারমুখী, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও মারমুখী।

কংগ্রেস এবং বি জে পি-র মতোই এরাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসকেও প্রত্যাখ্যান - কংগ্রেস আর বি জে পি-র অর্থনৈতিক নীতি এক। আর তৃণমূল কংগ্রেস মুখে যাই বলুক আসলে তাদের অর্থনৈতিক নীতিও কংগ্রেসের মতোই ধনীদের স্বার্থ রক্ষার। উপরন্তু পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে, মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে এখন কেবল তৃণমূলের দখলদারির রাজনীতি চলছে।

দেশ ও দেশবাসীকে রক্ষার জন্য এই সময়ে কেন্দ্রে একটি বিকল্প নীতির সরকার গড়া প্রয়োজন। কেন্দ্রে শাসকদলের পরিবর্তন হলেই কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির পরিবর্তন যে হয় না, সেটা গত দুই দশকে প্রমাণিত হয়ে গেছে। জোট সরকার দেশের সামনে অনিবার্য। এখন নতুন যে বিকল্প শক্তি বিন্যাস তৈরি হতে চলেছে তা বিকল্প নীতির ওপরে দাঁড়িয়ে। কংগ্রেস এবং বি জে পি-র বিরোধী গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিকে নিয়ে এই বিকল্প নীতির সরকার গড়তে হবে। যারা প্রকৃতপক্ষেই আম আদমির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে। জাত ধর্ম ভাষার বিভাজন না করে দেশকে মজবুত ঐক্যের ভিত্তিতে গড়ে তুলবে। এইজন্যই বামপন্থীদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শক্তি বাড়াতে হবে।

এখনো চিট ফান্ডের টাকায় তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনী প্রচার সারছে। মুখ্যমন্ত্রী কেন প্রতারক চিট ফান্ড মালিকদের আড়াল করছেন তা বোঝাই যাচ্ছে। এখনো শাসকদল চিট ফান্ডের লুটের টাকায় নির্বাচনী প্রচার সারছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেই টাকায় হেলিকপ্টার আর চার্টার্ড বিমানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সি বি আই তদন্ত করে চিট ফান্ড কাণ্ডের প্রতারকদের শাস্তি এবং সর্বস্বান্ত মানুষদের টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশাসনকেও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কাজ করানো যায়নি। এবারের লোকসভা নির্বাচনের আয়োজনকারী নির্বাচন কমিশনকে অসাংবিধানিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল। কিন্তু হুমকি ও প্ররোচনার মধ্য দিয়ে পরিবেশকে সন্ত্রস্ত করে তোলার চেষ্টা চালাবে শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের পশ্চিমবঙ্গের ওপর বিশেষ নজর রাখা দরকার। নিষিদ্ধ হওয়া দরকার প্রচারে প্ররোচনা।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল গোটা রাজ্যজুড়েই গায়ের জোরে ভোট করেছে। লাগাতার সন্ত্রাসের প্ররোচনা দিয়েছে শাসকদল। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তৃণমূলের কোনো নেতা নেত্রীকে নিয়‌ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি। বরং রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে খারাপ ভাষায় আক্রমণ করতে দ্বিধা করেনি শাসকদল।

অনুব্রত মণ্ডলের পুলিসকে বোমা মারা অথবা সি পি এম-কে ইঁদুরের মতো বিষ দিয়ে মেরে ফেলার হুমকির পরেও প্রশাসন নিষ্ক্রিয়। এবং তৃণমূলের বীরভূমের জেলা সভাপতিকে আইনি আড়াল দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে রাজ্য প্রশাসন।

এবারের নির্বাচনেই তৃণমূল প্রার্থী সৌগত রায় বুথ দখলের নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় কর্মীদের। তিনি বিরোধী দলের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছ থেকে সাহস পেয়ে তৃণমূলের বি‍রোধিতা করবেন না। কেননা কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের পরে আর পাড়ায় থাকবে না। এই ধরনের পরিকল্পিত প্ররোচনার বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু এই ধরনের ঘটনার পদক্ষেপ গ্রহণে দেরি হলে তা ফলপ্রসূ হয় না।

সরকারের স্তুতি না করায় তিনি হুমকিী দিয়েছেন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, তার ভাষা এবং ভঙ্গিমা গণ্ডগোল বাধানোর উসকানি বা প্ররোচনা ছাড়া কিছু নয়। তিনি তাঁর দলীয় কর্মীদের সবসময় উত্তেজিত রাখতে চান বিরোধীদের সম্পর্কে।

শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনকেই নয় বিরোধীদলকে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি হুমকি দিয়েছেন ১৬ই মে’র পর দেখে নেব।

অমিত শাহের মতো আজম খানও লাগাতার সাম্প্রদায়িক প্ররোচনামূলক ভাষণ শুনিয়েছেন। তিনি কারগিল যুদ্ধে সেনাদের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের কথা বলেছেন। এই ধরনের দেশবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ঐক্যবিরোধী বক্তৃতাকে নিষিদ্ধ করা নির্বাচন কমিশনের অত্যন্ত সঠিক কাজ। নির্বাচন কমিশন সারা দেশেই নির্দেশ দিয়েছে, প্ররোচনামূলক বা উসকানিমূলক বক্তব্য হলে জেলাশাসকদের দ্রুত ব্যবস্থা ‍নিতে হবে। যিনি সভার আয়োজনকারী তাকে সভা শেষের ৬ ঘণ্টার মধ্যে পুরো বক্তাদের বক্তব্য অটুট রেখে সিডি পৌঁছে দিতে হবে জেলাশাসকের কাছে। বক্তৃতায় আচরণবিধি ভাঙলে কমিশন সেই বক্তা এবং দলের ‍বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। রিটার্নিং অফিসার এবং অবজারভারদের এ ব্যাপারে সতর্ক নজর রাখতে বলা হয়েছে। প্রচারের নামে তৃণমূল কংগ্রেস এরাজ্যে নৈরাজ্যের প্ররোচনা শুরু করেছে।

উত্তর প্রদেশে বি জে পি নেতা অমিত শাহ এবং সমাজবাদী পা‍র্টির নেতা আজম খানের প্রচার ‍‌নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। উসকানিমূলক মন্তব্য এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে এই দুই নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন মনে করছে এদের বক্তৃতা শুধুমাত্র নির্বাচনী আচরণবিধিই লঙ্ঘন করেনি; এই ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অনৈক্য, ঘৃণা এবং শত্রুতার বাতাবরণ তৈরি করতে পারে। একটি জনসভায় অমিত শাহ বলেছিলেন, মোদীকে ভোট দিয়ে বদলা নিন। তিনি কুৎসিত ভাষায় সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করে বলেন, কসাইখানা চালিয়ে ভিখিরিগুলো এখন কোটিপতি হয়েছে।

প্রশাসনকেও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কাজ করানো যায়নি। এবারের লোকসভা নির্বাচনের আয়োজনকারী নির্বাচন কমিশনকে অসাংবিধানিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল। কিন্তু হুমকি ও প্ররোচনার মধ্য দিয়ে পরিবেশকে সন্ত্রস্ত করে তোলার চেষ্টা চালাবে শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের পশ্চিমবঙ্গের ওপর বিশেষ নজর রাখা দরকার। নিষিদ্ধ হওয়া দরকার প্রচারে প্ররোচনা।

Friday, April 11, 2014

শুধু বামপন্থীরাই নয়, তৃণমূলের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না নির্বাচন কমিশনও


উৎপল মজুমদার: পাকুয়াহাট (মালদহ), ১০ই এপ্রিল— তৃণমূলকে রাজ্যে সরকারে আনতে সাহায্য করে খাল কেটে কুমির এনেছে কংগ্রেস। বি জে পি-কেও বাড়তে সাহায্য করেছে কংগ্রেসের নীতি। এই পাপের ফল কংগ্রেসকে ভুগতে হবে। বৃহস্পতিবার মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্টের সি পি আই (এম) প্রার্থী খগেন মূর্মুর সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার করতে গিয়ে একথা বলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। এদিন তিনি বলেন, এরাজ্যে তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা সামনের সারিতে আছি বলেই গত তিন বছরে ১৪৭জন বামফ্রন্ট কর্মী খুন হয়েছেন। তৃণমূলের আক্রমণ থেকে শুধু বামপন্থীরাই নয়, কংগ্রেস, বি জে পি, আদালত, এমনকি নির্বাচন কমিশনও রেহাই পাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে রিলায়েন্সের মালিক মুকেশ আম্বানি এবং এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, দুজনেই নির্বাচন কমিশনকে মানতে চাইছেন না। আসলে তৃণমূল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, তাই ওরা নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের বারেবারে আক্রমণ করছে। 

এদিন পাকুয়াহাট-ধানহাটি, হরিশচন্দ্রপুর ও চাঁচল কলমবাগানে তিনটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন সূর্যকান্ত মিশ্র। জনসভাগুলিতে প্রার্থী খগেন মুর্মু ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সি পি আই (এম)-র জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র, মহিলা নেত্রী ছবি দেব, সি পি আই (এম) নেতা নিমাই সাহা, রেজাউল হক, আলি আহ্‌সাদ আসান, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা হাফিজ আলম সৈরানি ও জাকির হোসেন, সি পি আই নেতা শ্রীকুমার মুখার্জি ও তরুণ দাস, আর এস পি নেতা গৌতম গুপ্ত ও সাকিরুদ্দিন সরকার প্রমুখ। পাকুয়াহাট ধানহাটির সভায় সভাপতি ছিলেন পাণ্ডব মুর্মু, হরিশচন্দ্রপুর গার্লস হাইস্কুল মাঠের সভায় সভাপতিত্ব করেন তাজমূল হোসেন এবং চাঁচল কলমবাগানে সভাপতি ছিলেন নাজমূল হক। 

এদিন সূর্যকান্ত মিশ্র কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউ পি এ সরকারের ১০বছর শাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একেবারে দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির শিরোনামে উঠে এসেছে এই দলটা। কংগ্রেসের সরকারের প্রধান কাজ হলো, কর্পোরেট মাতব্বরদের কিভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলা যায়। ওদের নীতির জন্যই জিনিসের দাম বাড়ছে, যার আঘাত গরিব সাধারণ মানুষকে সইতে হচ্ছে। মাটির নিচে যে প্রাকৃতিক গ‌্যাস আছে, তার মালিক দেশের মানুষ। এই গ‌্যাস থেকেই জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ তৈরি হয়। কৃষ্ণা-গোদাবরী এলাকায় প্রাকৃতিক গ‌্যাসের যে বিশাল ভান্ডার আছে, তা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে না দিয়ে রিলায়েন্সের মুকেশ আম্বানিকে দিয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। এখন ওদের দাবি, গ‌্যাসের দাম ডবল করতে হবে। তা যদি হয়, তবে জ্বালানি, সার, বিদ্যুতের দামও ডবল হবে এবং তার বোঝা বইতে হবে আমাদেরকে, দেশের সাধারণ মানুষকেই। নির্বাচন কমিশন দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিলেও শুনতে চাইছে না আম্বানিরা। 

মিশ্র বলেন, বামপন্থীরা বারে বারে দাবি জানিয়ে এসেছে যে, দেশের গরিব মানুষের মধ্যে বিভাজন না ঘটিয়ে সব গরিব মানুষকে ২টাকা কে জি দরে মাসে ৩৫ কে জি চাল ও গম মিলিয়ে খাদ্যশস্য দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য। কেন্দ্রীয় সরকার কিছুতেই এই বাবদ ভরতুকি দিতে রাজি নয়। বরং তাদের কাছে ২জি স্পেক্ট্রাম কেলেঙ্কারিতে ১লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি উধাও করার কাজটা অনেক বেশি জরুরী। বড়লোকদেরই কেবল ছাড় দিচ্ছে কংগ্রেস সরকার। সূর্যকান্ত মিশ্র এদিনের নির্বাচনী সমাবেশে বি জে পি-কে ভোট দেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, কংগ্রেস ও বি জে পি’র অর্থনৈতিক নীতি একই, শুধু পার্থক্য এই যে, কংগ্রেস সরাসরি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদীদের পক্ষ নিয়ে না দাঁড়ালেও কখনও কখনও প্রচ্ছন্ন ভাব দেখায়। আর বি জে পি একেবারে খোলাখুলি সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তির পক্ষ নিয়ে গরিব মানুষের আন্দোলনকে বিভাজনের নীতি নিয়ে চলে। মিশ্র বলেন, সেইজন্য আমরা বলেছি, দেশ থেকে কংগ্রেসকে হটাতে হবে, বি জে পি-কে রুখতে হবে এবং তৃণমূলকে হারাতে হবে-দেশের স্বার্থে এবং রাজ্যের স্বার্থে এটা জরুরী। 

সূর্যকান্ত মিশ্র তৃণমূল সরকারের গত তিন বছরের শাসনে রাজ্যের সাধারণ মানুষের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, কেন্দ্রে কংগ্রেস বা বি জে পি-যেই সরকারে থাকুক না কেন, বিভিন্ন সময়ে তাদের সহযোগী হয়েছে তৃণমূল। এদের নীতির জন্যই গরিব আরো গরিব হচ্ছে, বড়লোক আরো বড়লোক হচ্ছে। আর তৃণমূল সেই সব সিদ্ধান্তে সমর্থন জুগিয়েছে। তাই কেন্দ্রে অ-কংগ্রেসী, অ-বি জে পি, ধর্মনিরপেক্ষ বিকল্প সরকার গড়তে হলে এরাজ্যে তৃণমূলকেও পরাস্ত করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থবাহী সরকার গড়তে সর্বত্র বামপন্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। 


- See more at: http://ganashakti.com/bengali/breaking_news_details.php?newsid=1686#sthash.2bHd0s0A.dpuf

Thursday, April 10, 2014

MAMATA BANERJEE CHALLENGES ELECTION COMMISSION OF INDIA












সুপ্রিম কোর্টে কুণাল ঘোষের তরফে আইনজীবী উপস্থিত হয়ে ডিভিসন বেঞ্চের কাছে জানান, তাঁরা এই মামলায় ইন্টারভেন পিটিশন জমা করতে চান। কারণ হিসাবে বলা হয়, ইতোমধ্যে নিম্ন আদালতে কুণাল ঘোষ গোপন জবানবন্দী দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও পুলিস প্রশাসন তাঁকে বাধা দিয়েছে। তিনি এখন গোপন জবানবন্দী দিতে চান।

রাজ্য সরকার হলফনামায় নির্দিষ্টভাবে বিধাননগর থানা এলাকায় জনৈকা মল্লিকা চ্যাটার্জির দায়ের করা একটি মামলা ( কেস নম্বর ১০২)-র ভিত্তিতে সেই রিপোর্ট জমা দেয়। কিন্তু প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে একজন আমানতকারীর প্রায় ৬লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার পরে তা ফেরত না দেওয়ার মামলাকে সামনে রেখে আদৌ এই কেলেঙ্কারির শিকড়ে পৌঁছানো সম্ভব? উঠছে সেই প্রশ্নই।

ডিভিসন বেঞ্চের নির্দেশ মতো রাজ্য সরকার যে হলফনামা এবং মুখবন্ধ করা খামে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তা নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মুখবন্ধ খামে কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ রয়েছে যাঁরা সারদা কাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। এমনকি সারদা তদন্তে চার প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও রিপোর্টে জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে এদিনও এই মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হলেও আদালত তা খারিজ করে আগামী ১৬ই এপ্রিল ফের শুনানির দিন ধার্য করেছে।

নয়াদিল্লি, ৯ই এপ্রিল— বুধবার সুপ্রিম কোর্টে সারদা মামলার শুনানিতে এই প্রশ্নের মুখে অস্বস্তিতে পড়েন রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টে সারদা কাণ্ডের তদন্ত নিয়ে বারে বারেই ভর্ৎসিত হয়েছে রাজ্য সরকার। তদন্তে গাফিলতি নিয়েও কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এদিন রাজ্য সরকারের তরফে আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পরেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি টি এস ঠাকুর এবং সি নাগাপ্পনের ডিভিসন বেঞ্চ জানায়, এটা কোন সাধারণ মামলা নয়, এটা ব্যতিক্রমী ধরনের মামলা। সারদা কাণ্ডে ‘বড় ধরনের ষড়যন্ত্র’ নিয়ে কী তদন্ত হয়েছে তা স্পষ্ট করেই আদালত জানতে চায়।

শুধুই কি পুলিসের মনোবল ভেঙে যাবে সেই কারণে সি বি আই’তে আপত্তি করছেন নাকি অন্য কোন কারণ আছে? সারদা মামলায় এবার সরাসরি রাজ্য সরকারের উদ্দেশে এই প্রশ্ন তুললো সুপ্রিম কোর্ট।

জেলার জেলাশাসক এবং পুলিস সুপার ও অবজার্ভাররা মিলে ঠিক করবেন কোথায় কোথায় ফ্ল্যাগ মার্চ বা রুট মার্চ হবে। প্রসঙ্গত, গত ৬ই এপ্রিল কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে সি পি আই (এম)-এর প্রতিনিধি দল আবেদন করেছিল রাজ্যে সুষ্ঠু, অবাধ এবং স্বাধীনভাবে ভোট দানের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ‍‌ ভোট গ্রহণের অন্তন্ত ১৪ দিন আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাস্তায় নামিয়ে ফ্ল্যাগ মার্চ ও রুট মার্চ শুরু করতে হবে। যাতে মানুষ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোট দিয়ে এসে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেই ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে কমিশনকেই। এখনো পর্যন্ত যে সেই পরিস্থিতি রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় নেই তাও কমিশনকে জানান সি পি আই (এম) নেতৃবৃন্দ। এদিন কমিশনের নির্দেশ মতো হিসাব করলে ভোট গ্রহণের ৭দিন আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মার্চ করানোর কথা বলা হয়েছে।

২০০৯ সালে এ রাজ্যে তিন দফায় লোকসভা নির্বাচন হয়, ২২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই নির্বাচনে পাঠানো হয়েছিল। দ্বিগুণ অর্থাৎ এবার এরাজ্যে নূন্যতম ৪৪০ কোম্পানি বাহিনী আসছে ধরে নেওয়াই যায়। বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সুনীল গুপ্তা বলেন, প্রথম দফায় ৪টি কেন্দ্র অবস্থান করছে দার্জিলিঙ, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার এই তিনটি জেলায়। ১৭ই এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশ পাঠিয়েছে তাতে বলা হয়েছে প্রথম দফায় দার্জিলিঙ, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার কেন্দ্রে সংবেদনশীল এলাকাগুলি, স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর এলাকায় এখন থেকেই রাজ্য পুলিসের সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে ফ্ল্যাগ মার্চ, রুট মার্চ শুরু করে দিতে হবে।

এরাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের ও এস ডি বরুণ রায়কে সরিয়ে দিল কমিশন। মুকুল রায় যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন এই বরুণ রায় ছিলেন তাঁর দপ্তরের ও এস ডি। বেশকিছুদিন ধরে বরুণ রায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছিল। এমন অভিযোগও ছিল কমিশনের সমস্ত গোপন তথ্য মুকুল রায়কে সরবরাহ করেন বরুণ রায়। কমিশনের নজরে আসে বিষয়টি। তারপরেই গতকাল নির্বাচন কমিশন বরুণ রায়কে উত্তর প্রদেশে অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করে চিঠি পাঠিয়ে দেয় সি ই ও দপ্তরে। এরফলে আর এ রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না, এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে।