RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Monday, March 31, 2014

সংসদীয় গণতন্ত্রে লড়াইটা নীতির, লড়াইটা কোনো ব্যক্তির নয়, একথাটা বোঝাতে হবে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে, তরুণ সম্প্রদায়কে, যারা অত্যাধুনিক মিডিয়ার সাথে পরিচিত। যারা বেশি বেশি করে দেশের খবর জানার চেষ্টা করে। যারা বিভ্রান্ত হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার দ্বারা, বিভ্রান্ত হচ্ছে ইন্টারনেটে। রাজনৈতিক দলগুলির বিলুপ্তি ঘটে যদি ব্যক্তিপ্রাধান্য সূচিত হয়, তাহলে ভারতের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব সব কিছুই বিপন্ন হবে। দেশী বিদেশী কর্পোরেট সংস্থাগুলির মিলিত অ্যাজেন্ডা অগ্রাধিকার পাবে। ভারতের মতো একটি সুমহান ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী দেশের পক্ষে তা সুখকর হবে না। একমাত্র বামপন্থীরাই পারে দেশকে এ বিপদ থেকে রক্ষা করতে। জনগণকে একথা বোঝাতে হবে।

মনে রাখতে হবে যৌথ নেতৃত্বে বিশ্বাসী বামপন্থী দলগুলি কোনোকালেই ব্যক্তিপূজারী ছিল না, এখনও নয়। এমনকি বামফ্রন্টের মধ্যে সি পি আই (এম) বৃহত্তম দল হলেও নির্বাচনে বা সরকার পরিচালনায় বা সংসদে সর্বদাই বামফ্রন্ট নামেই অংশগ্রহণ করে থাকে। কোনো দাদা বা দিদির আশীর্বাদ তো দূরের কথা সি পি আই (এম) নিজেকে কখনো জাহির করে না। কিন্তু মিডিয়া ছাড়বে কেন? তারা ‘আলিমুদ্দিন’ ‘বিমান বসুরা’ ‘কারাটেরা’ ইত্যাদি শব্দগুলি ব্যবহার করে বামফ্রন্টের বদলে ব্যক্তিকেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরে সবাইকে এক বন্ধনীর মধ্যে ভাবাতে শুরু করেছে ইচ্ছাকৃতভাবে। ফলে সংবাদপত্র পাঠকেরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এর আগে ‘বেঙ্গল লাইন’ ‘কেরল লাইন’ নামে এরা মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টিতে কাল্পনিক বিভাজন টেনে পাঠকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল।

এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসাবে কতকগুলি নাম শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনী লড়াইটা রাজনৈতিক দলের মধ্যে নয়, লড়াইটা হচ্ছে যেন মোদী, জয়ললিতা, মমতা, মায়াবতী, মুলায়াম‍ সিং যাদব, লালুপ্রসাদ এদের মধ্যে অন্তত মিডিয়া সেভাবেই প্রচার চালাচ্ছে। তুলনায় রাহুলের পরিবর্তে কংগ্রেসের নাম এলেও আগে থেকেই এরা রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বানিয়ে ছেড়েছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রে ভোটাররা রাজনৈতিক দলকেই ভোট দেন, তাই যে দলকে তাঁরা ‍ভোট দিচ্ছেন তার শিল্পনীতি, বিদেশনীতি, শিক্ষানীতি, স্বাস্থ্যনীতি কোন শ্রেণীর স্বার্থরক্ষা করছে তা জানার অধিকার তাঁদের আছে। কিন্তু এভাবে দলকে এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র ব্যক্তিকে তুলে ধরলে ভোটারদের কাছে দলের নীতি অধরাই থেকে যায়। প্রচারের চোটে ভোটাররা তা জানারও চেষ্টা করেন না। ফলে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভোটারদের যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ার সুযোগ থাকে, সে সুযোগ থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হন। ঠিক এই কারণেই পাঁচের ছয়ের এমন কি সাতের দশকেও যখন নকশাল আন্দোলন ছাত্র সমাজকে প্রভাবিত করেছিল। সেই সময়ের ছাত্রছাত্রী অপেক্ষা বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের একটি অংশ রাজনৈতিক ঘটনাবলীর প্রতি অনীহা থাকাই পছন্দ করেন। এই পরিমণ্ডল তৈরি করতে পেরেছে ব্যবসায়িক মিডিয়া। আর মানুষ যত রাজনীতি থেকে দূরে থাকবে, রাজনীতিকে ঘৃণা করতে শিখবে, তখন বহুজাতিক বৃহৎ পুঁজিপতি ও ভূস্বামীদের লাভ।

আমরা জানি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। কিন্তু এদেশে তো সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন না। অথচ, এভাবেই প্রচার হচ্ছে। গুজরাটকে মডেল হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে, যদিও পরিসংখ্যান বলছে গুজরাট অপেক্ষা ১৭টি রাজ্য উন্নয়নে এগিয়ে, যদিও বামফ্রন্ট আমলের পশ্চিমবঙ্গ ভূমিসংস্কারে এবং পঞ্চায়েত শাসনে সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। পশ্চিমবঙ্গের প্রশংসা করতে যাদের গাত্রদাহ সেই কর্পোরেট সংস্থা ও মিডিয়া গুজরাট এবং মোদীকে তুলে ধরতে চাইছে। এত এত বিজ্ঞাপন পেলে সংবাদপত্র ব্যবসায়ী কি বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রশংসা না করে থাকতে পারে? যেন লড়াইটা হচ্ছে মোদী বনাম রাহুল, ‍‌বি জে পি-কংগ্রেস এখানে গৌণ।

ইদানীংকালে কেন্দ্রেও এই প্রবণতাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করার বহু আগে থেকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদীকে উপস্থাপিত করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন ভাষার বিভিন্ন দৈনিকে তাঁর পাতা জোড়া বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কর্পোরেট হাউসগুলি এবং মিডিয়া বি জে পি নয়, নরেন্দ্র মোদীর হয়েই প্রচার করছেন।

মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে বা পরে, এমন কি যখন থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস নামে একটি দল গঠন করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তখন থেকেই তিনি নিজেকে একেশ্বরী বলে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইন্দিরা কংগ্রেসে যদিও কিছু স্তাবক ছিল এবং এমার্জেন্সি জারির সময় দেবকান্ত বড়ুয়া ইন্দিরা ইজ্‌ ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইন্ডিয়া ইজ ইন্দিরা বলে ইন্দিরাস্তুতি করেছিলেন, তবুও দলটাকে দল বলা যেত, ইন্দিরা গান্ধীরও ‍‌বিরোধীদের প্রতি সৌজন্যবোধ ছিল। কংগ্রেস নামক দলটির অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেহাত একটি দল গড়তে হয় বলে দল তৈরি করেছেন, কার্যত এই দলের তিনিই সর্বেসর্বা এবং একদা তিনি ৪২টি আসনেই একাকী লড়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। সত্য কথাটি, তাঁর মনের গোপন কথাটি তিনি গোপন রাখেননি। এভাবে দলের না হয়ে যদি ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে গণতন্ত্রের দফারফা হতে বাকি থাকে কি?

পশ্চিমবঙ্গে কোনোদিনই ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির প্রচলন ছিল না, বিধান রায়ের আমলেও নয়। প্রফুল্ল সেন, প্রফুল্ল ঘোষ, অজয় মুখার্জি, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রত্যেকেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। ব্যতিক্রম মমতা ব্যানার্জি।

নেহরুর মৃত্যুর পর লালবাহাদুর শাস্ত্রী, গুলজারিলাল নন্দও প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। ইন্দিরা কংগ্রেসের দেখাদেখি দক্ষিণভারতে এবং পরে উত্তর ভারতেও ব্যক্তিনির্ভর দল গঠনের হিড়িক পড়ে গেল। অন্ধ্র প্রদেশে এন টি রামারাও-এর তেলুগুদেশম্‌, ওডিশায় বিজু পট্টনায়েকের বিজু জনতা দল ছাড়াও তামিলনাড়ুতে জয়ললিতার এ আই এ ডি এম-কে, উত্তর প্রদেশে মায়াবতীর সমতা পার্টি, বিহারে লালুপ্রসাদ যাদবের আর জে ডি ইত্যাদি দলগুলি গঠিত হলো আঞ্চলিক দল হিসাবেই। সারা ভারতে এদের কোনো প্রভাবই রইল না, প্রয়োজনও ছিল না— কেন্দ্রে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন করাই হলো এদের একমাত্র কাজ। এদের সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট কর্মসূচীও নেই। নেই কোনো দীর্ঘমেয়াদী বা স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা। আসলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আঘাত হানলে এবং রাজ্যের হাতে নির্দিষ্ট ক্ষমতা না দিলে আঞ্চলিক দলের রমরমা বাড়ে, যা দেশের উন্নতির পক্ষে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

ইন্দিরা গান্ধীর আততায়ীর হাতে মৃত্যু হলে রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হন, অতঃপর তাঁরও আততায়ীর হাতে মৃত্যু ঘটলে কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের জোট ভোটে জিতলে নেহরু পরিবারের বাইরের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। যেমন ছিলেন পি ভি নরসিমা রাও এবং বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ১৯৭৭ সালে জনতা দলের সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন মোরারজি দেশাই। বি জে পি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হন অটলবিহারী বাজপেয়ী। মাঝে মাঝে বিশ্বনাথপ্রতাপ সিং, ইন্দ্রকুমার গুজরাল, এইচ ডি দেবেগৌড়া, চৌধুরী চরণ সিংও প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। একবার কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসুর নামও এসেছিল প্রধানমন্ত্রী হিসাবে। কিন্তু এঁরা নির্বাচিত বা এঁদের নাম প্রস্তাবিত হয়েছিল ভোটের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে।

সর্বভারতীয় স্তরের দলগুলির একেক ধরনের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। কিন্তু বিগত সাতের দশক থেকে কংগ্রেস দলে ব্যক্তির নাম যুক্ত হয়ে ইন্দিরা কংগ্রেসে পরিণত হলো এবং সর্বস্তরেই নির্বাচন নয়, মনোনয়নের মধ্য দিয়ে সভাপতি নিযুক্ত করা শুরু হলো। বলাই বাহুল্য ইন্দিরা গান্ধীই দলে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়ে মনোমত ব্যক্তিকে বিভিন্ন স্তরে সভাপতির পদে বসাতেন, আবার ইচ্ছা হলে তাকে পদচ্যুত করতেন। এইভাবে ইন্দিরা গান্ধী দলে এবং দেশেও ধীরে ধীরে একনায়কতন্ত্রের আমদানি করলেন। ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর দলের শোচনীয় পরাজয় ঘটলে জনতা দল স্বল্পসময়ের জন্য শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। পরে আবার ইন্দিরা গান্ধীর প্রত্যাবর্তন ঘটে।

দলনেত্রীর ইচ্ছানুযায়ীই সব পরিচালিত হচ্ছে ও হবে। কমিউনিস্ট পার্টিগুলিরও নেতা নির্বাচিত হয় একেবারে শাখা কমিটির সদস্যদের দ্বারা শাখা সম্পাদক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এভাবে লোকাল ক‍‌মিটি (কো‍‌নো কোনো রাজ্যে জোনাল কমিটি) জেলা কমিটি, রাজ্য কমিটি নির্বাচিত হয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। আবার, নির্বাচিত কমিটিগুলিই তাঁদের সম্পাদক নির্বাচন করেন। পার্টি কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটি ও কমিটির দ্বারা সম্পাদক নির্বাচিত হন। জেলা ও রাজ্যস্তরে সম্পাদক ছাড়াও সম্পাদকমণ্ডলী নেতৃত্বে থাকেন। কারো ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নয়, সদস্যদের দ্বারাই নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। অথচ, এত সুন্দর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মিডিয়াকুল ব্যঙ্গ করতে ছাড়ে না। মানুষকে ভুল বোঝানো হয়।

“পাঁচের দশকের শেষে যখন আমরা কলেজের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছি তখন আমাদের এক ক্লাস মেট্‌-এর মা মণ্ডল কংগ্রেসের সভাপতি পদের নির্বাচনে পরাজিত হন, জেতেন একজন কোলিয়ারি ও কারখানা মালিক। মাসীমা ছিলেন স্বাধীনতাসংগ্রামী - আমাদের বন্ধুটির জন্ম হয়েছিল জেলেই। যাক, এসমস্ত কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু সভাপতি পরিচালিত এই দলটির নেতা নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই প্রচলিত ছিল, একথা বোধ হয় এযুগের অনেক কংগ্রেস কর্মীই জানেন না। কংগ্রেস থেকে উদ্ভূত তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা এ পদ্ধতি স্বপ্নেও ভাবতে পারেন না। এঁদের দলের যে কর্মপদ্ধতি তাতে এঁরা কোনদিনই নির্বাচনের দিকে যাবেন না।” -অশোক দাস

ভারতের জাতীয় কংগ্রেস দলটিতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র যে ছিল, তার প্রমাণ কংগ্রেস সভাপতি পদে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর পছন্দের প্রার্থী পট্টভি সীতারামায়াই-র পরাজয়। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু তাঁকে পরাজিত করেন। তখন সর্বভারতীয় স্তর ছাড়াও রাজ্য কংগ্রেস, জেলা কংগ্রেস, মহকুমা কংগ্রেস এবং মণ্ডল কংগ্রেসে (তখন ব্লক বা প্রখণ্ড-এর সৃষ্টি হয়নি) নির্বাচন হতো। সাধারণ নির্বাচনের মতোই দলের ভোটার লিস্ট ছিল, প্রচার ছিল এবং ব্যালটে ভোট হতো। দীর্ঘদিন এই প্রক্রিয়া চালু ছিল।

প্রতিটি দলই কোনো না কোনো শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে। সব দলই জনগণের উন্নতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও কোনো দল বিদেশী পুঁজিপতিদের। কেউ দেশীয় বৃহৎপুঁজিপতি ও ভূস্বামীদের, কেউ শ্রমিক-কৃষকের প্রতিনিধি। আবার কোনো কোনো দল আঞ্চলিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে একজন ব্যক্তির উপর নির্ভর করেও গঠিত হয়। প্রতিটি দলের শ্রেণী চরিত্র আলাদা বলেই এত দলের সৃষ্টি। কিন্তু সাধারণ মানুষের তা বোধগম্য হয়না, রাজনৈতিক দলগুলিও অসদুদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করে না, আবার কোনো কোনো দলের সৎ উদ্দেশ্য থাকলেও তারা যে কোনো কারণেই হোক সাধারণ মানুষকে বোঝাতে অসমর্থ হয়।

বর্তমানে ভারতের কোনো দলেরই এককভাবে দেশ শাসন করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন এবং বি জে পি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারগুলি একাধিকবার কেন্দ্রে শাসনক্ষমতায় এসেছে। কমিউনিস্ট দল দুটি ১৯৬৪ সালে বিভক্ত হয়। এর মধ্যে কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরাতে শাসন ক্ষমতায় থাকা ছাড়াও আসাম, বিহার, পাঞ্জাব, অন্ধ্র প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ইত্যাদি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচিতও হয়েছেন বেশ কয়েকবার।

ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন বৃহত্তম দলটির নাম ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। এছাড়াও ভারতীয় জনতা পার্টি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী পার্টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ইত্যাদি দলগুলিও সর্বভারতীয় দল হিসাবে স্বীকৃত। এদের মধ্যে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস, সি পি আই (এম), সি পি আই, বি জে পি-র সারা ভারতে প্রায় সব রাজ্যেই সংগঠন আছে। সব রাজ্যেই রাজ্য শাখা আছে— কোনো কোনো রাজ্যে এই দলগুলির জেলা, মহকুমা এমনকি স্থানীয় স্তরেও শাখা বিস্তৃত। এদের মধ্যে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় দু’দশক ধরে নিরঙ্কুশভাবে কেন্দ্রে ও বিভিন্ন রাজ্যে একক বৃহত্তম দল হিসা‍‌বে নির্বাচিত হয়ে এসেছে।

ভারতে ১৯৫০ সালে সংবিধান রচিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন বা সংসদকে ব্যবহার করেন অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই। ভারতে জাতীয় ও আঞ্চলিক দল মিলে ছোট বড় দেড়শোরও বেশি দল আছে। সংখ্যাটা বলা গেল না এই কারণে যে প্রতিনিয়ত নতুন দল গঠিত হচ্ছে, পুরাতন দল ভেঙে যাচ্ছে। কোনো কোনো দলের অবলুপ্তি ঘটছে। ১৯৫২র প্রথম সাধারণ নির্বাচনে যে যে দল অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের মধ্যে বেশ কিছু দলের আজ অস্তিত্ব নেই।

পার্লামেন্টারি ডেমোক্র্যাসিতে রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকাই প্রধান। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনা করে কোনো ব্যক্তি নয়। একটি দল। রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলটির অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। অনুরূপভাবে বিরোধী নেতাও নির্বাচিত করেন বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই। রাজনীতিকে বলা হয় নীতির রাজা। দেশে যদি রাজনীতি না থাকে, যদি রাজনৈতিক দল না থাকে তা হলে সে দেশের না হয় কোনো পরিকল্পিত উন্নয়ন, না থাকে কোনো নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদী বা দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচী। নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলি তাঁদের নিজস্ব ধারাবাহিক কর্মসূচী ছাড়াও নির্বাচনী ইশ্‌তেহার প্রকাশ করে। প্রতিটি দলেরই প্রতিশ্রুতি থাকে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন, কতটা সে প্রতিশ্রুতি পালিত হয় তা জনগণ বিচার করেন, কিন্তু নির্বাচকরা ভোট দেন ইশ্‌তেহার পড়ে বা নির্বাচনী বক্তৃতা শুনে। এভাবেই নির্বাচকরা পছন্দমত দলকে ভোট দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর বাইরে একটা অংশ আছেন যাঁরা কোনো না কোনো দলের সদস্য, কর্মী বা অন্ধ সমর্থক। তাঁরা কোনোমতেই বক্তৃতায় বা ইশ্‌তেহারে প্রভাবিত হন না। কিন্তু এঁদের চেয়ে দোদুল্যমান নির্বাচকের সংখ্যাই বেশি এবং বলতে গেলে তাঁদের ‍ভোটেই সরকার গঠিত হয়।

অশোকনগরের তৃণমূল বিধায়ক ধীমান রায়ের উপস্থিতিতে কিছু লোক বিডিও (হাবরা ২ ব্লক) দীনবন্ধু গায়েনকে শারীরিক-মানসিক ভাবে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিডিও-কে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও হয়েছে। ঘটনা গড়িয়েছে থানা-পুলিশ পর্যন্ত। ওই ঘটনায় রবিবার অশোকনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ জন তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আনন্দবাজার - দক্ষিণবঙ্গ - বিডিওকে হেনস্থার অভিযোগ



গত মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) এমনই কিছু অভিযোগ জানাতে গিয়ে অশোকনগরের তৃণমূল বিধায়ক ধীমান রায়ের উপস্থিতিতে কিছু লোক বিডিও (হাবরা ২ ব্লক) দীনবন্ধু গায়েনকে শারীরিক-মানসিক ভাবে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিডিও-কে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও হয়েছে। ঘটনা গড়িয়েছে থানা-পুলিশ পর্যন্ত। ওই ঘটনায় রবিবার অশোকনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ জন তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও এ দিনই সকলে বারাসত আদালত থেকে জামিন পেয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। কর্তব্যরত সরকারি আধিকারিককে হুমকি, নিগ্রহের ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হল না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে জেলা সিপিএম। যদিও জেলা পুলিশের একাংশের ব্যাখ্যা, জামিন-অযোগ্য ধারাতেও (৩৫৩) মামলা রুজু হয়েছিল। তবে জামিন মঞ্জুর হবে কি না, তা আদালতের বিচার্য বিষয়।

Saturday, March 29, 2014

লাভপুরে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, রাজ্য সরকার যে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে তা যথেষ্ট নয়। কোনো ক্ষতিপূরণ দিয়েই ধর্ষিতার ক্ষতির পূরণ হতে পারে না। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন ওই তরুণীর মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, রাজ্যের পুলিস-প্রশাসন কি এই ঘটনা আটকাতে পারতো? বিচারপতিরা নিজেরাই বলছেন, নিশ্চয়ই পারতো। কিন্তু এক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে রাজ্য ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র আদালতকে জানিয়েছিলেন, ওই তরুণীকে ৫০হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছে, তা মোটেই যথেষ্ট নয়। এক মাসের মধ্যে ৫লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত মহিলাকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে কিনা, তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছে আদালত। মুখ্যসচিবের রিপোর্টে এ ব্যাপারে অস্পষ্টতা রয়েছে। বিচারপতিরা বলেছেন, ঘটনার চরিত্র বিচার করলে এমন আশঙ্কা থেকে যায় যে ওই তরুণীর পরিবার সামাজিক ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন। অন্যদিকে তদন্তে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। সুতরাং তাদের ধারাবাহিক নিরাপত্তা দেওয়াও রাজ্য প্রশাসনের কর্তব্য। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ওই এলাকার পুলিসের সার্কেল অফিসারকে প্রতিদিন আক্রান্তদের এলাকায় গিয়ে নজরদারি করতে হবে।

লাভপুরে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নিজেই তদন্তের নথিপত্র চেয়ে পাঠায়, রাজ্যের মুখ্যসচিবকেও নির্দেশ দেওয়া হয় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে জানাতে। সেই রিপোর্ট জমা পড়ে ফেব্রুয়ারিতে। সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। ৩রা মার্চের মধ্যে আবার সমস্ত নথি শীর্ষ আদালতে জমা দেবার নির্দেশ দেন বিচারপতিরা। ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরাকে ‘আদালত-বান্ধব’ নিয়োগ করে মামলার নথিপত্র খতিয়ে দেখতে বলে। ১৩ই মার্চ আদালত বান্ধবের রিপোর্ট ও রাজ্য সরকারের আইনজীবীর বক্তব্য বিশদে শোনে আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি পি সথাসিভম, এস এ বোবদে এবং এন ভি রামানার বেঞ্চ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তাঁদের অভিমত দিয়েছে।

বীরভূমের লাভপুরে অন্য সম্প্রদায়ের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হতে হয়। অভিযোগ ওঠে, ‘সালিশী সভা’ বসিয়ে ধর্ষণের ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। যদিও তদন্তের ধাপে ধাপে এ কথা সামনে এসেছে যে আদিবাসী সমাজের প্রথাগত ‘সালিশী সভা’ নয়, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিই এই ফতোয়ার পিছনে ছিলেন। লাভপুরের বর্বরতার সংবাদ প্রকাশিত হবার পরেই গত ২৪শে জানুয়ারি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সুপ্রিম কোর্ট লাভপুরের ঘটনা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। বীরভূমের জেলা জজকে তদন্ত করে শীর্ষ আদালতকেই রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরে বীরভূমের জেলা জজ মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমাও দেন। কিন্তু সেই রিপোর্ট শীর্ষ আদালতকে সন্তুষ্ট করেনি।

নয়াদিল্লি, ২৮শে মার্চ- পশ্চিমবঙ্গের রাস্তাঘাটে এখন যে কথা সব সময়েই শোনা যায়, আইনের ভাষায় শুক্রবার তা-ই বললো দেশের শীর্ষ আদালত। লাভপুরে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, একজন মহিলার মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাজ্য ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ধর্ষণের পরেও তদন্তে গাফিলতি, নিয়মবিধি না মানা এবং আক্রান্ত মহিলাকে যথেষ্ট সুরক্ষা না দেবার ব্যাপারেও শীর্ষ আদালতের উষ্মা এদিন প্রকাশিত হয়েছে। ধর্ষিতা আদিবাসী মহিলাকে মাত্র ৫০হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে দায় সারতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্ট ৫লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দিয়েছে।

LABHPUR GANG-RAPE CASE: সুপ্রিম কোর্টের মতে, লাভপুর-মামলাটি মহিলাদের বিরুদ্ধে আক্রমণের এক বিরল দৃষ্টান্ত। সমাজ দ্রুতগতিতে আধুনিক হয়ে ওঠার পরেও এমন কাণ্ড আরও বেশি মর্মান্তিক। নির্যাতিতাকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য, “মেয়েটিকে যে অপমান ও অসম্মানের মুখোমুখি হতে হয়েছে, সে ক্ষত কোনও ভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। আর্থিক ক্ষতিপূরণ তাতে অন্তত কিছুটা প্রলেপ দিতে পারে।” মুখ্যসচিবের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, নির্যাতিতার কিছু সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ হয়েছে তাঁর মায়ের নামে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: তরুণী যে হেতু প্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাঁর নামেই যাবতীয় সুরাহার বন্দোবস্ত করতে হবে।

লাভপুরের আদিবাসী তরুণীকে গণধর্ষণের মামলায় তদন্তের ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। কী রকম? লাভপুর-কাণ্ডে এফআইআর লিখিয়েছিলেন অনির্বাণ মণ্ডল নামে গ্রামের এক বাসিন্দা। কিন্তু তিনি কেন থানায় এলেন, তার ব্যাখ্যা মেলেনি। নিয়ম হল, এ জাতীয় এফআইআর নেবেন মহিলা পুলিশ। তা মানা হয়নি। উপরন্তু পুলিশের ডিএসপি তিন বার বয়ান নথিভুক্ত করেছিলেন, তা-ও সারসংক্ষেপ করে। ফলে পরস্পর-বিরোধী বয়ান আসতে পারে, যাতে তদন্তে সমস্যার সম্ভাবনা। নির্যাতিতা তাঁর দাদাকে যে সব ফোন করেছিলেন, তার ‘কল ডিটেল’ আসেনি। সুবলপুরের সালিশিতে পাশের গ্রাম বিক্রমপুর-রাজারামপুরের লোকজন কেন এসেছিলেন, তার ব্যাখ্যা মিলছে না। সর্বোপরি, সালিশি সভাটি ঠিক কখন বসেছিল ২০ জানুয়ারি রাতে নাকি পর দিন সকালে, সে সম্পর্কে জেলা জজের রিপোর্ট ও এফআইআরে ফারাক রয়েছে। উপরন্তু এফআইআরে এক অভিযুক্তের নাম বলা হয়েছে রাম সোরেন, জেলা জজের রিপোর্টে যে হয়ে গিয়েছে ভায়েক সোরেন। এর ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্ট লাভপুরের আদিবাসী তরুণীকে গণধর্ষণের মামলায় অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সিদ্ধার্থ লুথরাকে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ বা আদালত-বন্ধু হিসেবে মামলায় নিয়োগ করে।রাজ্যের পাঠানো নথি দেখে পুলিশি-তদন্ত নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন লুথরা। অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছেন। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, লুথরার রিপোর্ট অনুযায়ী তদন্তকারীরা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪এ ও ৩৫৪বি ধারা কাজে লাগাতে পারতেন। আইনজীবীদের ব্যাখ্যা: নির্ভয়া-কাণ্ডের পরে যৌন নির্যাতনের কড়া শাস্তির লক্ষ্যে ধারা দু’টি সংশোধন হয়েছে। প্রথমটিতে যৌন নির্যাতনের অপরাধে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, দ্বিতীয়টিতে কোনও মহিলাকে নগ্ন করার অপরাধে সাত বছরের জেল। লুথরা-রিপোর্ট এ-ও বলছে, সালিশি সভায় নির্যাতিতাকে জরিমানা করা হয়েছিল। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগেও মামলা করা যেত। হুমকি-আঘাতের অভিযোগ জোড়া যেত। অথচ তা হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে বীরভূমের জেলা জজের রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তাতে পুলিশি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে কিছু উল্লেখ না-থাকায় মুখ্যসচিবের রিপোর্ট তলব করা হয়। মুখ্যসচিবের চার পৃষ্ঠার রিপোর্ট পেয়েই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, আরও কার্যকরী পদক্ষেপ প্রয়োজন। ঘটনায় এফআইআর, কেস ডায়েরি, তদন্তের অগ্রগতি, নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট, পুলিশের কাছে অভিযুক্তদের বিবৃতি, ফরেন্সিক-রিপোর্টও চাওয়া হয়। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সিদ্ধার্থ লুথরাকে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ বা আদালত-বন্ধু হিসেবে মামলায় নিয়োগ করা হয়।

মিথ্যা প্রচারের বিভ্রান্তির কুয়াশায় বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বীরভূম জেলার উন্নয়নের আসল চেহারা আড়াল করা হচ্ছে। অন্যান্য বিষয়ের মতো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ করে রেলওয়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই জেলার বামপন্থী সাংসদরা একাদিক্রমে প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন যার ফলে সাঁইথিয়া- খানা ও সাঁইথিয়া-অণ্ডাল ডবল লাইন এবং বৈদ্যুতিকীকরণ সমাপ্ত প্রায়।

রেলের উন্নয়নের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বন্যার ঘোলা জল এ রাজ্যের অন্যান্য জেলার মত বীরভূম জেলাতেও প্রস্তর ফলকে সূচিত হয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছিল, যেমন লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরাটাকায় প্রস্তর ফলকে একসঙ্গে শতাধিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেখা যাচ্ছে। এগুলির অন্তর্জলী যাত্রা রেলের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মতই নদীগর্ভে নিক্ষিপ্ত হবে সে সম্বন্ধে সন্দেহ নেই। জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার এই পচা কৌশল সম্বন্ধে ইতোমধ্যে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া থানার দেরিয়াপুর গ্রামের জনগণ তৃণমূলী সাংসদ অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে।

২০০৯ সালে দ্বিতীয় ইউ পি এ জোট সরকারে থাকাকালীন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো ছিলেন ভারত সরকারের রেলমন্ত্রী। পরবর্তীকালে এ রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পরেও ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন বছর ঐ দলের অধীনে ছিল ভারতের রেলমন্ত্রক। রেলমন্ত্রী থাকার সুবাদে তৃণমূল সুপ্রিমো রেলের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন। যে পরিমাণ প্রস্তর খণ্ড এই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে ব্যবহৃত হয়েছিল তাতে কয়েকশো সমাধি ফলক নির্মিত হতে পারত। বস্তুত প‍‌ক্ষে সেই সমস্ত উন্নয়নের প্রস্তর ফলকের অধিকাংশ এখন উধাও, সেই সঙ্গে উধাও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।

বাঁকুড়ায় পুলিস সুপারকে দিয়ে ক্লাবকে টাকা বিলি বাঁকুড়া, ২৮শে মার্চ— তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সেরে রাখা হয়েছে। ইস্যু হয়ে যাওয়া চেকের জেরক্স কপি করে রেখেছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা। ক্লাবগুলিকে এবং সেখানকার সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের তা দেখিয়েই মন কাড়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ যাচ্ছে শুনে সমস্ত তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টাও শুরু হয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্কের শাখার কর্মীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে, চেক ইস্যুর তথ্য লোপাট করার জন্য।

বাঁকুড়া, ২৮শে মার্চ— গত বুধবার জেলাশাসক বিজয় ভারতীর সঙ্গে দেখা করেন অমিয় পাত্র। তিনি সরাসরি জানতে চান পুলিসের মাধ্যমে এখন কীভাবে সরকারী টাকা বিলি হচ্ছে? নির্বাচনী বিধি সরকারী কর্মচারী হয়ে পুলিসসুপার কী করে ভাঙছেন? বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে দেখে জেলাশাসক ঘটনাটি অস্বীকার করেননি। তবে প্রক্রিয়াটি বিধি মেনে হচ্ছে এমন দাবিও তিনি অভিযোগকারীদের কাছে করেননি। পরে দেখা যায়, জেলা প্রশাসন অনেক আলোচনা করে আপাতত চেকগুলিকে বণ্টন না করে ফের থানা থেকে তুলে এনে জমা রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই অনুযায়ী থানায় থানায় নির্দেশ যায়, পাঠিয়ে দেওয়া চেক পুলিসের মাধ্যমেই ফের সদরে ফেরানো হয়। বান্ডিল করে গচ্ছিত রাখা হয় ভবিষ্যতে বণ্টনের জন্য।

বাঁকুড়ায় পুলিস সুপারকে দিয়ে ক্লাবকে টাকা বিলি বাঁকুড়া, ২৮শে মার্চ— জানা গেছে, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তর থেকে জেলা পুলিস সুপারের ট্রেজারি অ্যাকাউন্টে (নম্বর- ২২০৪০০-১০২-এম পি -০১০-ভি-৩১) ১৭ই মার্চ তারিখে পাঠানো হয় ৮০ লক্ষ ২৫হাজার টাকার একটি চেক এবং ২১শে মার্চ তারিখে পাঠানো হয় ৮লক্ষ ৪হাজার টাকার একটি চেক। এরপর বাঁকুড়া ট্রেজারি থেকে ঐ পরিমাণ টাকার দুটি চেক ইস্যু করা হয় জেলার পুলিসসুপারের অ্যাকাউন্টে। বাঁকুড়া স্টেট ব্যাঙ্কে পুলিসসুপারের দুটি অ্যাকাউন্টে (নম্বর ৯৮৫৪৫০০২২২ এবং ৯৮৬০২০০২২৬) টাকাগুলি জমা পড়ে। এরপর ২৫ ও ২৬শে মার্চ তারিখে জেলা পুলিসসুপার মুকেশ কুমার স্টেট ব্যাঙ্কের ঐ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০০টি ব্যাঙ্কার্স চেক ইস্যু করেন বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনের নামে। ৯৬৭৬১৩ থেকে শুরু হয়েছে এই চেকগুলির নাম্বার। পুলিসের পরিকাঠামো ব্যবহার করে দ্রুত বণ্টনের জন্য থানায় থানায় পাঠানো হয় চেকগুলি। কিছু বণ্টনের কাজও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে এই বিধিভাঙা কাজের খবর পেয়ে গেছেন সি পি আই (এম) নেতারা।


বাঁকুড়া, ২৮শে মার্চ— শুক্রবার বাঁকুড়ায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী বাসুদেব আচারিয়া এবং জেলা বামফ্রন্টের আহবায়ক অমিয় পাত্র পুলিসের মাধ্যমে বিধি ভেঙে টাকা বণ্টনের তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। বাসুদেব আচারিয়া বলেন, জেলার পুলিসসুপারের পদে এমন পুলিস অফিসার থাকলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্ভব নয়। এই কারণে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। আগামী ৩১শে মার্চ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে বামপন্থীদের যে প্রতিনিধিদল যাবে তারাও বিষয়টি কমিশনের কাছে জানাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নির্বাচনী বিধি ভেঙে ভোটের মুখে বাঁকুড়ার ক্লাবগুলিকে টাকা বিলোতে গিয়ে রাজ্য সরকার ধরা পড়ে গেছে। আরো বড় কথা, বেআইনি কাজটি রাজ্য সরকারের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তর করাচ্ছিলো জেলার পুলিসসুপার মুকেশ কুমারকে দিয়ে। স্বয়ং পুলিসসুপারের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো মোট ৮৮ লক্ষ টাকার চেক স্থানীয় ক্লাব কর্তাদের মধ্যে বিলি করানোর বন্দোবস্ত হয়েছিলো জেলার থানাগুলির মাধ্যমে।

র্নিবাচনী প্রচার | বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সি পি আই (এম) প্রার্থী শেখ সাইদুল হক র্নিবাচনী প্রচার ।

ভোটের প্রচার | বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মনোহর তিরকের সমর্থনে ভোটের প্রচার

ভোটের প্রচার | বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সি পি আই (এম) প্রার্থী সুস্মিতা বাউরির সমর্থনে ভোটের প্রচার ।

র্নিবাচনী প্রচার | মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সি পি আই প্রার্থী প্রবোধ পণ্ডার সমর্থনে ভোটের প্রচার ।

র্নিবাচনী প্রচার | কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সি পি আই (এম) প্রার্থী ড. শান্তনু ঝাঁর সমর্থনে ভোটের প্রচার ডি ওয়াই এফ আই এর উদ্যোগে। ভোট প্রচারে |

শুক্রবার বাঁকুড়ায় বাসুদেব আচারিয়া এবং অমিয় পাত্র সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিস সুপারের মাধ্যমে টাকা বিলির ঘটনার অভিযোগ জানাচ্ছেন।

নয়াদিল্লি, ২৮শে মার্চ — সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে, মহিলাদের অধিকার ও বিয়েতে পছন্দের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব সমস্ত রাজ্য সরকারের।

লাভপুরে নির্যাতিতার মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাজ্য ব্যর্থ: সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি, ২৮শে মার্চ— গোটা ঘটনায় পুলিস কী পদক্ষেপ নিয়েছে, জানুয়ারির ৩১তারিখ দেশের শীর্ষ আদালত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে তা জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়। মুখ্যসচিবের কাছ থেকে সেই রিপোর্ট পেয়ে এদিন ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, রাজ্য সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও, আরও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী ছিল। জানুয়ারির ২৪তারিখ স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই জেলা বিচারপতিকে ঘটনাস্থল ঘুরে এসে রিপোর্ট জমা দিতে বলে সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট বলে ‘অস্বস্তিকর ঘটনা’। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাও রুজু করে।

ভিন বর্ণ, ধর্মের পুরুষকে ভালোবাসার মাসুল দিতে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ওই তরুণী। অভিযোগ, গ্রামের সালিশী সভার বর্বর সিদ্ধান্তেই এই দলবদ্ধ ধর্ষণ চলে ওই আদিবাসী তরুণীর ওপর। আদিবাসী কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, গ্রামের সালিশী সভাই হুলিয়া জারি করে আদিবাসী মেয়েটিকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করতে হবে। হরিয়ানায় খাপ পঞ্চায়েতের ফতোয়া এবং তথাকথিত ‘সম্মান রক্ষায় হত্যাকাণ্ডের’ অনেক ঘটনা জনসমক্ষে এসেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে এমন ঘটনায় রাজ্যে আইনের শাসন নিয়ে আবারও ওঠে গুরুতর প্রশ্ন। এমন ঘটনায় গ্রামের তৃণমূল পঞ্চায়েতের ভূমিকা কী ছিলো, প্রশ্ন ওঠে তা নিয়েও।

নয়াদিল্লি, ২৮শে মার্চ— লাভপুরে আদিবাসী তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় রাজ্য সরকারকে তিরস্কার করল সুপ্রিম কোর্ট। নির্যাতিতাকে রাজ্যের দেওয়া ক্ষতিপূরণে আদৌ সন্তুষ্ট নয় সর্বোচ্চ আদালত। তাই আরও পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্য বিচারপতি পি সথশিবমকে নিয়ে গঠিত তিন-সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার খেদের সঙ্গে বলেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বীরভূমের আদিবাসী তরুণীকে ১৩জন গ্রামবাসীর ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিতার মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

Friday, March 28, 2014

“রাজ্য সরকারের নীতিগুলি তো অনেকাংশে ছাত্রযুবদের বিরুদ্ধে গিয়েছে। টেট দুর্নীতি, এস এস সি পরীক্ষা না হওয়া, চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি, জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধি, বেকারি বৃদ্ধি করা, শিল্পায়নকে থমকে দেওয়া এসবই প্রচারের আলোয় তুলে আনতে হবে ছাত্রযুবদের। এবারের নির্বাচনে বামগণতান্ত্রিক শক্তিকে জেতাতে হবে দেশের স্বার্থে। প্রতিহত করতে হবে নীতিহীন কংগ্রেস, সাম্প্রদায়িক বি জে পি এবং সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করা তৃণমূল কংগ্রেসকে। - বামফ্রন্ট

“এবারের নির্বাচনে দেশের ছাত্রযুব কর্মীরাই বামপন্থীদের মূল প্রচারক। এই প্রচার বাহিনীই পারবে কংগ্রেস, বি জে পি, তৃণমূলীদের মুখোশ খুলে দিতে। প্রতিটি ছাত্রযুবর মধ্যে প্রতিভা রয়েছে। এখন দরকার তাদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো।” - বামফ্রন্ট

“পূর্ব মেদিনীপুরের দুটি কেন্দ্রেই নতুন প্রার্থী করা হয়েছে। একজন ছাত্র সংগঠনের নেতা, অন্যজন যুব সংগঠনের নেতা। এরাই আগামী ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি। রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাসের আবহ আছে। কিন্তু সম্ভাবনার পরিবেশ রয়েছে। তাই ছাত্রযুবদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেবল আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। ছাত্রযুব শক্তিই পারে ঘটমান পরিস্থিতিকে উপলব্ধি করে কিভাবে চলা উচিত তার পথ খুঁজে বের করতে।” - বামফ্রন্ট

কংগ্রেস-বি জে পি-তৃণমূলের মুখোশ খুলে দিতে হবে।

কংগ্রেস ও বি জে পি-র মার্কিন ঘেঁষা অর্থনীতির ফলেই গরিব শ্রমজীবী মানুষের জীবনে দুর্দশা বেড়েছে। আর এই দু’দলের দোসর তৃণমূল কংগ্রেসও একই নীতিতে পথ চলে।

ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী বামফ্রন্ট বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী লালঝাণ্ডাকে অবমাননা করে, লালঝাণ্ডার প্রতি অসম্মান করে আজ ঘাসফুলের প্রার্থী হয়ে ভোট চাইছেন। ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে ফের ময়নাগুড়ি কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী ও সংসদে গরিব মানুষের বার্তা তুলে ধরতে ফের জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীকে নির্বাচিত বিপুল ভোটে জয়ী করুন।

শ্রমিক-কৃষক মেহনতী মানুষের আন্দোলনকে যাঁরা ভাঙতে চায় এবারের নির্বাচনে সেই শক্তিকে যোগ্য জবাব দিতে হবে। দেশের গরিব মানুষের জীবনে দুঃখ-দুর্দশা, দারিদ্র্- লাঞ্ছনা বেড়েছে কংগ্রেস, বি জে পি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নীতির ফলে। কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে। বেকারী বাড়ছে। দারিদ্র্য বাড়ছে। ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে হটাতে হবে। একই সাথে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরির শক্তি বি জে পি কেও পরাস্ত করতে হবে। আর এরাজ্যের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কে‍‌ড়ে নেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসকেও পরাস্ত করতে হবে।

নির্বাচন বিধিতে সাউন্ড বক্স বা মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় ছাত্র-ছাত্রীদের শব্দদূষণের ফলে যাতে অসুবিধা না হয়, সেক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই এই বিধি চালু হয়েছে।

জলপাইগুড়িতে রেলের বড় আকারের অ্যাক্সেল কারখানা গড়ার প্রতিশ্রুতি, উত্তরবঙ্গকে সুইজারল্যান্ড করার প্রতিশ্রুতি সহ মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিয়ে গরিব মানুষের সাথে যারা প্রতারণা করে চলেছে, তাদের যোগ্য জবাব দিতে হবে।

The Supreme Court on Friday directed the West Bengal government to pay Rs five lakh compensation in addition to already sanctioned Rs 50,000 to the 20-year-old Birbhum gang-rape victim. A bench of Chief Justice P Sathasivam, S A Bobde and N V Ramana also said the state government has failed to protect the fundamental right of the victim, a young tribal woman who was gangraped allegedly by 13 villagers in Birbhum district in January this year.

http://timesofindia.indiatimes.com/india/Birbhum-gang-rape-SC-asks-West-Bengal-govt-to-pay-Rs-5-lakh-to-victim/articleshow/32841823.cms

প্রায় সাড়ে ১৩লক্ষ ভোটার রয়েছেন বালুরঘাট কেন্দ্রে। রয়েছে ১হাজার ৬০০-র কিছু বেশি বুথ। ৯পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে বংশীহারি, কুশমণ্ডি এবং হরিরামপুরে বামপন্থীরা ভালো জায়গায় রয়েছে। বাকি ৬টি পঞ্চায়েত সমিতিতেও রীতিমতো লড়াই হবে। বামফ্রন্ট ইতোমধ্যেই সর্বত্র কর্মীসভাগুলি সেরে ফেলেছে। প্রতিটি কর্মীসভায় উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। এখন বুথ ধরে ধরে সংগঠন তৈরির কাজ প্রায় শেষ। বামফ্রন্টের আশা, পঞ্চায়েতে যে ৪১ শতাংশ ভোট পাওয়া গিয়েছিল এবার লোকসভা নির্বাচনে এই ভোটের হার আরো বাড়বে।

দক্ষিণ দিনাজপুর: এখানকার রাজবংশীরা এবং আদিবাসী সমাজের মধ্যে খন গান, মুখা নাচ বিখ্যাত। আঞ্চলিক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকশিল্পীরা খন গান বাঁধেন। প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার লোকশিল্পী রয়েছেন কুশমণ্ডি অঞ্চলে। বামফ্রন্ট আমলে এই লোকশিল্পীদের উৎকর্ষতা বাড়াবার জন্য মহিষবাথানে নাট্যচর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। এখানে এসে এই লোকশিল্পীদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছেন তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ।

দূরবর্তী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা থেকে ব্রিগেডে চার হাজার মানুষ গিয়েছিলেন। ফলে এবারের লোকসভা নির্বাচনে কর্মীরাও অনেকটা উজ্জীবিত। মানবেশ চৌধুরীর কথায়, বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রটির তিনদিকে বাংলাদেশ সীমান্ত। এই সীমান্ত ঘেরা গ্রামগুলিতে রাজবংশী এবং ক্ষত্রিয়দের মধ্যে বি জে পি ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাছাড়া টেট পরীক্ষা এবং শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নে যুব সমাজের মধ্যেও কিছু প্রশ্ন উঠেছে।

দক্ষিণ দিনাজপুর: পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তৃণমূলের প্রতি মানুষের আরো মোহভঙ্গ ঘটেছে। জমির মিউটেশন খরচ, জমির রেজিস্ট্রেশন খরচ, ইলেট্রিকের বিল যেভাবে বাড়ানো হয়েছে তাতে গ্রামে গরিব মানুষ রীতিমতো ক্ষুব্ধ। সাধারণ ঘরের যুবক ছেলে অটোর লাইসেন্স পেতে গেলে অনেক টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সবশেষে পঞ্চায়েতে যে সন্ত্রাস এই জেলায় হয় তা মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন। তারই কিছুটা প্রতিফলন ঘটে সর্বশেষ ব্রিগেডের সমাবেশে।

বালুরঘাট: পাশাপাশি দলের মধ্যেও তৃণমূল প্রার্থীকে নিয়ে নাজেহাল দলের নেতারা। হিলিতে কর্মীসভায় নিজেরা মারামারি করে ৪তৃণমূল কর্মী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। করদহে ক্ষোভের আগুনে নিজেদের অফিসই পুড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুর সর্বত্র প্রার্থীকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কর্মীরাই।

ARPITA @ SARADHA GHOSH

ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ নিজেকে নাট্যকর্মী পরিচয় দিচ্ছেন কেন? উনি তো আসলে চিট ফান্ড সারদা’র কর্মী।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এই বালুরঘাটই রাজ্যের মধ্যে ধর্ষণে প্রথম স্থান লাভ করেছে তৃণমূল সরকারের আমলে। এই সরকারের আমলে বালুরঘাট কেন্দ্রের অন্তর্গত এলাকায় ২৩জন নারী লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ৩জনকে। বালুরঘাট পুলিস লাইনের মধ্যে ধর্ষণের পর দুষ্কৃতীরা খুন করে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে। তপনের মহুয়াকুড়িতে ধর্ষণের পর খুন করা হয় নবম‍‌শ্রেণীর ছাত্রীকেও। তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ নিজেকে নাট্যকর্মী পরিচয় দিয়ে ঘুরছেন কিন্তু কীভাবে রক্ষা করবেন মহিলাদের মান সম্মান? প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষই।

এবারই শারদ উৎসবে অষ্টমীর দিন গঙ্গারামপুর দুর্গামণ্ডপের মধ্যে ধর্ষণের পর খুন হন একজন মধ্য বয়স্কা মহিলা। পার্ক স্ট্রিটে দলবদ্ধ ধর্ষণকাণ্ডের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গলা মিলিয়েছিলেন বালুরঘাট আসনের তৃণমূল প্রার্থী এই অর্পিতা ঘোষ। বলেছিলেন, এত রাতে মেয়েরা বাইরে থাকবেন কেন?

ভোটে লড়ার আগেই হার সুগত বসুর, প্রেসিডেন্সিতে ৮৯২ ভোটে পরাজিত যাদবপুরের তৃণমূল প্রার্থী

Last Updated: March 28, 2014
ভোটের আগেই হার তৃণমূল প্রার্থী সুগত বসুর প্রেসিডেন্সিতে ছাত্রদের গণভোটে ৮৯২ ভোটে পরাজিত হলেন সুগত বসু লোকসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন তিনি তাই প্রেসিডেন্সির মেন্টর গ্রুপের প্রধানের পথে তাঁর থাকা উচিত্ কি না এই নিয়ে গণভোটের আবেদন করেছিল ছাত্র সংসদ দিন সুগত বসুর পদত্যাগের পক্ষে ভোট পড়েছে ১২০৮টি মাত্র ৩১৬ জন ভোট দিয়েছে তাঁর মেন্টর গ্রুপের প্রধানের পদে থাকার পক্ষে

ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনা রাজনীতির প্রভাব মুক্ত করার কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতির ছায়া যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ্য শিক্ষার পরিবেশকে গ্রাস না করে শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন্টরগ্রুপের চেয়রম্যান পদে বসিয়েছিলেন হার্ভাড ফেরত ইসিহাসের অধ্যাপক সুগত বসুকে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই শিক্ষাবীদ সুগত ভোটে দাঁড়িয়েছেন প্রশ্ন উঠেছিল, সরাসরি তৃনমূলকে সমর্থনের পর সুগত বাবুর কি আদোও মেন্টর পদে থাকা উচিত? মেন্টর গ্রুপের প্রধান পদ থেকে পদত্যাগের দাবিতে প্রসিডেন্সিতে গণভোটের আয়োজন করেছিল ছাত্র সংসদ ছাত্র ছাত্রীদের দাবি, মেন্টর গ্রুপ থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভোট লড়ুন সুগত বসু

সুগত বসুর পক্ষে দিন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদে থাকতে পারেন ছাত্র সংসদের আয়োজিত গণভোট অসাংবিধানিক" 

http://zeenews.india.com/bengali/kolkata/sugata-basu-loses-in-presidency_21292.html

Monday, March 24, 2014

“লড়াইয়ে থাকা মানুষকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে হবে বামপন্থীদেরই।” - বামফ্রন্ট

দার্জিলিঙ : নীতির উপর ভিত্তি করে সমর্থন চায় বামপন্থীরা

অশোক ভট্টাচার্য

আবার আলাদা রাজ্য, আবার গোর্খাল্যান্ড। লোকসভা নির্বাচনে এই প্রশ্ন দার্জিলিঙ লোকসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে তো আছেই, আছে বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষেত্রেও। অন্ধ্র প্রদেশ ভেঙে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠন করে বাজিমাত করতে চেয়েছিল কংগ্রেস। বি জে পি-ও কম যায়নি! আপাতত কংগ্রেসের সে গুড়ে বালি, অর্থাৎ লোকসভার কয়েকটি অতিরিক্ত আসন লাভের আশাতেই কংগ্রেস অন্ধ্র প্রদেশ ভাঙার জন্যে তাড়াহুড়ো করেছিল। কিন্তু টি আর এস পার্টি এখনও পর্যন্ত খবর সেই আশাতে জল ঢেলে দিয়েছে। বি জে পি তাদের ছোট ছোট রাজ্য গঠনের কথা ফেরি করা শুরু করে দিয়েছে এবারও। আসামে, বোড়োল্যান্ড পিপল্‌স্‌ পার্টি বা বিভিন্ন বোড়ো জঙ্গী গোষ্ঠীগুলির সমর্থন আদায় করতে কংগ্রেস দল বোড়োল্যান্ড নিয়ে পৃথক রাজ্য গঠনের সম্ভাবনা বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে দিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছে। স্রেফ ভোট লুটবার আশায়।

(২)

দার্জিলিঙ লোকসভা কেন্দ্রে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা তৃণমূল কংগ্রেস দলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে বি জে পি দলের প্রার্থীকে সমর্থন জানাচ্ছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বি জে পি প্রার্থী যশবন্ত সিং-কে সমর্থন জানিয়েছিল। যদিও ২০০৭-০৮ সালে মোর্চা আবির্ভাবকাল থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস দল তাদের সাথে সুসম্পর্ক ও নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলত। মোর্চাকে দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে তিনটি কাজ তৃণমূল কংগ্রেস করাতে পেরেছিল। এক, লাগাতার অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টি করে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারকে ব্যতিব্যস্ত রাখা। দুই, সেই সময় দার্জিলিঙ সমস্যা নিরসনে যে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা চলছিল তাতে মোর্চার চূড়ান্ত সম্মতি না দেওয়া। তিন, জঙ্গলমহলে জনসাধারণের কমিটির আন্দোলনের সাথে পাহাড়ের আন্দোলনের যোগসূত্র স্থাপন করা। এসব কারণেই মোর্চার সাথে তদানীন্তন বামফ্রন্ট সরকার যে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করেছিল তা সফল হবার পর্যায়ে গিয়েও চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারেনি।

২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কিন্তু গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস জোট ব্যবহার করেছিল সি পি আই (এম) তথা বামফ্রন্টকে পরাজিত করতে। মোর্চা নেতা বিমল গুরুং এখন মাঝে মাঝেই প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে এই সত্যতা স্বীকার করে যাচ্ছেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সেই সময় মোর্চা নেতাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাদের সরকারে আনলে তৃণমূল কংগ্রেস দল মোর্চার মূল দাবিগুলি বিশেষভাবে বিবেচনা করতে পারে। এও উল্লেখ করা প্রয়োজন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা যখন পৃথক রাজ্যের দাবি জানিয়ে আন্দোলন সংঘটিত করে দার্জিলিঙে এক অচলাবস্থা ও নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল সেই সময় একবারের জন্যেও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর মুখ থেকে এর বিরোধিতা বা নিন্দা করার মতো ভাষা বের হয়নি। ২০১১ সালের মে মাসে রাজ্যে সরকারে আসার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মোর্চা ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত করতে পেরেছিলেন। আত্মপ্রকাশ করে গোর্খা টেরিটোরিয়াল এড্‌মিনিসট্রেশন বা জি টি এ। যদিও এই জি টি এ গঠনের বেশিরভাগ আলোচনাই বিগত বামফ্রন্ট সরকারের সময়েই ত্রিপাক্ষিক পর্যায়ে হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে বর্তমান সরকারের পক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি। বিগত সরকারের সময়ের আলোচনার যে মূল সুর থেকে বর্তমান সরকার বেরিয়ে এসে চুক্তিপত্র রচনা করেছিল, তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ডের দাবির সরকারীভাবে স্বীকৃতি প্রদান। বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাধারণভাবে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি এবং জি টি এ গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হলেও, পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ডের বিষয়টির স্বীকৃতি প্রদান ভবিষ্যতে অনেক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। যদিও জি টি এ পরিচালনা ও দার্জিলিঙে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে বিরোধী দলে থেকেও বামপন্থীরা সবরকম সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে। আবার এই চুক্তি ও আইনের মধ্যে যে সমস্ত স্ববিরোধিতা ছিল তাও চিহ্নিত করে সেগুলি দূর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বা এই সরকার বামফ্রন্টের বিন্দুমাত্র পরামর্শগুলি গ্রহণ করার মতো সৌজন্য দেখায়নি। বরং বিমল গুরুঙ-কে বাগে আনতে পেরেও জি টি এ চুক্তি সম্পাদিত করে তার সব কৃতিত্বের দাবিদার হতে চেয়েছিলেন। সেই সময় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সুবাস ঘিষিঙকে নাকি বিভিন্ন সময় তোল্লাই দিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার—এসব কথা বলে উভয়কেই এক হাত নিয়েছিলেন। বলা হয়েছিল সুবাস ঘিষিঙ থেকে বিমল গুরুঙ কতটা বেশি পরিণত রাজনৈতিক নেতৃত্ব, তাও! বিমল গুরুঙ, রোশন গিরিদের নিজেদের ভাই বলে যেমন সম্বোধন করেছিলেন, তেমনি বিমল গুরুঙও মমতা ব্যানার্জিকে নিজের মা বলে (আমা যস্ত) সম্বোধন করতে ভোলেননি। সেই সময় আমরা দেখেছি মমতা ব্যানার্জি কত প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন বিমল গুরুঙ, রোশন গিরিদের। কত প্রতিশ্রুতিই না তিনি দিয়েছিলেন দা‍‌র্জিলিঙের উন্নয়নের। কথায় কথায় সুইজারল্যান্ড বানাবার প্রতিশ্রুতি দিতেন মুখ্যমন্ত্রী।

(৩)

কিন্তু এই গলাগলি বেশিদিন এগোতে পারল না। যখনই অন্ধ্র প্রদেশ ভেঙে তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পথে এগোতে শুরু করল, তখন থেকেই শুরু হয়ে গেল দার্জিলিঙে পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে তীব্র আন্দোলন। শুরু হলো দিনের পর দিন বন্‌ধ, ঘেরাও, অবরোধ, অচলাবস্থা। তাদের হাতিয়ার হলো দু’টি : এক, চুক্তির মধ্যে পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ড দাবির স্বীকৃতি প্রদান; দুই, মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের জি টি এ-তে হস্তান্তরিত বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা নাক গলান। এই দু’টি বিষয় মোর্চাকে আন্দোলনে উসকে দিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রীরা দার্জিলিঙ পাহাড়ে চালু করলেন এক সমান্তরাল প্রশাসন। অগ্নিতে ঘৃতাহুতি দেবার মতো কাজ করল মুখ্যমন্ত্রীর পৃথক লেপচা উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা। এর পর শুরু হলো একের পর এক উপজাতি বা জনজাতিদের জন্যে পৃথক উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করার দাবি। মুখ্যমন্ত্রীও এই সমস্ত দাবিগুলিকে নানাভাবে উৎসাহিত করা শুরু করলেন। আশ্বাস দিলেন এসব দাবিগুলি মেনে নেবারও। কিছু কিছু দাবি মেনেও নিলেন। প্রশ্ন উঠল তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভাগ কর ও শাসন কর’ নীতি অনুসরণের, জাতি বিভাজনের রাজনীতি করার। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুরু করলেন একের পর এক দমন পীড়নের অভিযান। বেশ কয়েক বছরের পুরাতন মামলা দিয়ে প্রায় ৪ হাজার মোর্চা নেতা, কর্মী, সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা হলো। তার মধ্যে ছিলেন বেশ কয়েকজন জি টি এ-র নির্বাচিত সদস্য বা সদস্যাও, ছিলেন কয়েকজন পৌরসভা কাউন্সিলরও।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দমন পীড়নের মধ্যে দিয়ে মোর্চার আন্দোলনকে দাবাতে পেরে খুবই স্বস্তি উপলব্ধি করলেন। অনেক সংবাদমাধ্যম মুখ্যমন্ত্রীর এই সমস্ত উদ্যোগকে ঢালাওভাবে সমর্থন জানাল। বহু অ-নেপালী মানুষকেও বলতে শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দার্জিলিঙে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গেলেন! যা নাকি বামফ্রন্ট সরকার পারেনি! যদিও বাস্তব হলো, বামফ্রন্ট সরকারই ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দার্জিলিঙে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রেখেছিল। এই সময়ে পৃথক রাজ্যের দাবিতে দার্জিলিঙ-এ কোনো আন্দোলন হয়নি। বরং সুবাস ঘিষিঙ প্রস্তাবিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংবিধান স্বীকৃত ষষ্ঠ তফসিলীভুক্ত পার্বত্য পরিষদ গঠনের দাবির সাথে সহমত পোষণ করে কেন্দ্রকে সাথে নিয়ে নতুন একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করেছিল বামফ্রন্ট সরকার। উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রকে দিয়ে সংবিধান সংশোধনী বিল অনুমোদনের। সেই ষষ্ঠ তফসিলের বি‍‌রোধিতা করেছিলেন বর্তমান মোর্চা নেতৃত্ব। তারা কিছুতেই তফসিলী উপজাতি পর্যায়ভুক্ত হতে চাননি। মোর্চার মতোই অবস্থান নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস দলও।

(৪)

অন্যদিকে নতুন করে পৃথক রাজ্যের আন্দোলনের কয়েক মাসের মধ্যেই মোর্চানেতা বিমল গুরুঙ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মধ্যে এক নতুন বোঝাবুঝির মধ্যে দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহৃত হলো। বিমল গুরুঙ এই বিরোধকে নিজেদের পরিবারের মধ্যে বিরোধ বলে উল্লেখ করে পুনরায় মমতা ব্যানার্জিকে ‘আমা’ বলে সম্বোধন করলেন। মোর্চা নেতারা তাদের ক্ষোভ, অসন্তোষকে দূরে সরিয়ে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে মমতা ব্যানার্জির পথে দার্জিলিঙে উন্নয়নের কাজে আত্মনিয়োগ করার কথা ঘোষণা করলেন। তাদের তিনজন বিধায়ক বিধানসভায় পুনরায় ট্রেজারি বেঞ্চে বসতে শুরু করলেন। রাজ্যসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে সাড়া দিয়ে তিনজন মোর্চা বিধায়কই সমর্থন করলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের। তারপর শুরু হলো আলোচনা উভয়ের মধ্যে, লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী পদ নিয়ে। মোর্চা নেতৃত্বের অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস দল তাদের সাথে কোনো আলোচনা না করেই এককভাবে প্রার্থীপদ ঘোষণা করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলীয় নেতৃত্ব কম চেষ্টা করেননি মোর্চার সমর্থন আদায় করতে তাদের প্রার্থীর পক্ষে।

সর্বশেষ, বি জে পি দল এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মোর্চার সমর্থন আদায় করে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। এখন জল্পনা বি জে পি এই নির্বাচনে দার্জিলিঙ সমস্যার বিষয়ে কী বলবে? ইতোমধ্যে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে পৃথক রাজ্যের দাবির প্রতি তাদের সমর্থন থাকবে। তৃণমূল কংগ্রেস বা কংগ্রেস দলও পরিষ্কার করে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইছে না। সব দলই চাইছে, জাতিগত আবেগ ও অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে এই নির্বাচনে ভোট অর্জন করতে।

(৫)

এখানেই একমাত্র ব্যতিক্রম সি পি আই (এম) দল। অন্ধ্র প্রদেশ ভেঙে তেলেঙ্গানা গঠনের প্রস্তাবের সময়ে এই দল অবিচল ছিল ভাষাভিত্তিক রাজ্য ভাঙার বিরুদ্ধে, শ্রীকৃষ্ণ কমিশনও স্বীকার করেছে তাদের প্রতিবেদনে যে, সি পি আই (এম)-ই হলো একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা ধারাবাহিকভাবে রাজ্য ভাঙার বিরোধিতা করে এসেছে ও একই অবস্থানে অবিচল থেকেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিয়েছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সুবিধাবাদী অবস্থান এই প্রশ্নে। তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় ছিল ভোটের রাজনীতি।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) দার্জিলিঙ পাহাড়ের সমস্যাকে কখনও শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতি বা আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা বলে অভিহিত করেনি। তারা এই সমস্যাকে রাজনৈতিক সমস্যা বলেই মনে করে এর রাজনৈতিক সমাধান চেয়েছে। সেই রাজনৈতিক সমাধানে পৃথক রাজ্য নয়, রাজ্যের মধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সংবিধান স্বীকৃত একটি আঞ্চলিক স্বশাসিত পরিষদ।

এই লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিঙ পাহাড় ও সমতলের ভোটদাতাদের কাছে সমর্থনের জন্যে তারা প্রস্তুত করেছে দার্জিলিলিঙের বিশেষ পরিস্থিতির পরপ্রেক্ষিতে একটি বিশেষ প্রস্তাব। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে সমস্ত ভাষা-ভাষী, পাহাড়-সমতলের মানুষের সমর্থন চেয়েছে সি পি আই (এম) বা বামফ্রন্ট। এই প্রস্তাবে দার্জিলিঙ পার্বত্য এলাকায় ঘনসন্নিহিতভাবে বসবাসকারী নেপালী ভাষী বা গোর্খাদের বেশ কিছু বিশেষ সমস্যার কথা স্বীকার করেও, তাদের জাতিগত আবেগ ও অনুভূতিকে অমর্যাদা না করে তাদের উন্নত জীবনযাপনের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে। সি পি আই (এম) এই সমস্ত প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার মধ্যে গণতান্ত্রিক উপাদানগুলিকে চিহ্নিত করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বিশ্বাস করে। কিন্তু তারা কোনো জাতিগত আবেগ ও অনুভূতি নিয়ে সঙ্কীর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। এই কারণেই পৃথক রাজ্য নয়, সংবিধানের ২৪৪নং ধারা ও ষষ্ঠ তফসিল সংশোধন করে, বর্তমান জি টি এ এলাকার মধ্যে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন স্বশাসিত পরিষদ চায় তারা। যার থাকবে সর্বোচ্চ স্বশাসন। যে স্বশাসিত ব্যবস্থায় রাজ্য সরকারের অহেতুক হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকবে না। যারা দায়বদ্ধ থাকবে জনগণের কাছে।

দার্জিলিঙ লোকসভা কেন্দ্রের মানুষ বেশ কয়েক বছর ধরে দেখে আসছেন ভোট এলেই জাতিগত আবেগের অপব্যবহার। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে, বোকা বানিয়ে এই সমস্ত জনপ্রতিনিধিরা রাজনৈতিক দলগুলি বিজয়ী হয়ে মানুষকে ভাঁওতা দিয়ে আসছে। এই নির্বাচনে সি পি আই (এম) তথা বামফ্রন্টের আহ্বান—ভাঁওতা ও ধোঁকাবাজিতে বিভ্রান্ত হওয়া নয়, নীতির ওপর ভিত্তি করে সমর্থন করুন বামফ্রন্টকেই।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=53642#sthash.NEspVdZp.dpuf

মোদীর ইচ্ছায় - নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়েছে ঠিকই কিন্তু ভোটপর্ব শেষ হতে এখনো অনেকটা সময় বাকি। তারপর হবে জয়-পরাজয়। আরও পরে তৈরি হবে নতুন সরকার। কিন্তু গুজরাট দাঙ্গায় অভিযুক্ত নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বি জে পি ধরেই নিয়েছে তারা জিতে গেছে। মোদী তো এখনই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। আর এস এস-র প্রথম পছন্দ হিসেবে দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবার পর থেকেই দলে নিজের অবস্থানকে নিষ্কণ্টক করার কাজ শুরু করে দেন। এক্ষেত্রে তিনি দোসর হিসেবে সঙ্গে পান একান্তই অনুগত দলের সভাপতি রাজনাথ সিং-কে। শুরুতে দলের চালক হিসেবে রাজনাথকে দেখা গেলেও যতদিন যাচ্ছে ততই দলে স্টিয়ারিংটাও চলে যাচ্ছে মোদীর হাতে। ইদানীংকালে দলের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলিও গৃহীত হচ্ছে মোদীর অঙ্গুলিহেলনে। অর্থাৎ মোদীর পছন্দ-অপছন্দ, ইচ্ছা অনিচ্ছাকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে দল। রাজনাথ নেহাতই কাঠের পুতুলে রূপান্তরিত। গুজরাটে মোদীর উত্থান এবং মুখ্যমন্ত্রী হবার পর থেকে যে কৌশলে ও ঘরানায় গুজরাট বি জে পি-কে নিজের পকেটস্থ করেছিলেন অনেকটা সেই কায়দায় এবং মানসিকতায় এখন গোটা দলটাকেই নিজের অনুগত ও ভক্তদের নিয়ে কুক্ষিগত করতে চাইছেন। অর্থাৎ বি জে পি-তে তিনি নিজেকে শেষ কথা বলার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। তেমন যদি বি জে পি-র নেতৃত্বে সরকার হয় এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হন তাহলে তিনি চান সংসদে এমন একজন সাংসদও যাতে না থাকে যিনি মোদীর আজ্ঞাবাহী হবেন না। ঘটনাচক্রে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যদি দু’চারজন মোদী বিরোধী সাংসদ হয়ে যায় তাহলে তাদের সরকারের ত্রিসীমানায় না রাখারই তিনি পক্ষপাতী। আগামীদিনে দলের ও সরকারের সর্বাধিনায়ক হতে চান তিনি। মুখ্যমন্ত্রিত্বকালেও তিনি দলে ও সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা দখল করেছিলেন। গুজরাটে মোদী-বিরোধী বা মোদীর সমালোচক কোন নেতার দলে জায়গা হয়নি। মোদী তাদের কোণঠাসা করতে করতে সাইড লাইনের বাইরে বের করে দিয়েছেন। দলে তিনি বিপরীত মেরুর কোন শক্তি বরদাস্ত করেন না। তিনি চান তাঁকে কেন্দ্র করেই দল ও সরকার আবর্তিত হবে। দলে বাকিরা হবে তাঁর অনুগামী বা অনুগত। রাজ্য ছেড়ে জাতীয় স্তরে প্রবেশের পর তিনি এখন দলকে নিজের মত করে সাজাচ্ছেন। জাতীয় স্তরে এখনো সক্রিয় ও সতেজ আছেন অনেক শীর্ষ নেতা। বি জে পি-কে গড়ে তোলার পেছনে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি আছেন তারাও। অর্থাৎ এতদিন মোদী যাদের নেতা বলে মেনে এসেছেন তাঁরা বিরাজ করছেন দলের অনেকটা জায়গাজুড়ে। এঁদের অবস্থান মোদীর স্বপ্ন পূরণের বাধা হতে পারে। তাছাড়া এঁরা থাকলে দলে বা সরকারে নিজের খুশি মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। তাই এইসব নেতাদের নানাভাবে অপমান করে, প্রার্থী করার ক্ষেত্রে প্রতিপদে বিড়ম্বনা তৈরি করে সরিয়ে দেবার ব্যবস্থা হচ্ছে। এইভাবে আদবানির মতো নেতার প্রার্থী পদ ঝুলিয়ে রেখে শেষে একটা কেন্দ্র চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরলী মনোহর যোশীর মতো নেতাদের নিজের জেতা আসন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যশবন্ত সিংকে তো প্রার্থীই করা হয়নি। অর্থাৎ মোদী-বিরোধী বা মোদী সমালোচকদের প্রায় সকলকেই এইভাবে কোণঠাসা করে মোদী অনুগতদের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রার্থী করা হয়েছে তাদের প্রায় সকলকে যারা সদ্য অন্য দল থেকে বি জে পি-তে এসেছে। দলে প্রভাবহীন-শেকড়হীনদের প্রার্থী করায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দলকে মোদীসর্বস্ব করে সেই মত প্রার্থী ঠিক করা হয়। এইসব দেখে ক্ষুব্ধ যশবন্ত সিং বলেছেন বি‍‌ জে পি এখন আসল বি জে পি এবং নকল বি জে পি-তে ভাগ হয়েছে। মাতব্বরি করছে নকল বি জে পি-ই। - See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=53641#sthash.rZgUMiKU.dpuf

Ganashakti



ELECTION MANIFESTO OF TRINAMOOL CONGRESS-2014

কোন মুখে!

তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে প্রতিশ্রুতির দৌড়ে পাল্লা দেওয়া কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। বিশেষত নির্বাচন এলেই তাঁর মুখ থেকে প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। এবারের লোকসভা নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম নয়। কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে ‘যে ভিশন ও মিশন নিয়ে কাজ করবে’ তা বলা হয়েছে তৃণমূলের সদ্য প্রকাশিত নির্বাচনী ইশ্‌তেহারে। তৃণমূল যেকোন পথ ধরে কেন্দ্রে ক্ষমতার অংশীদার হতে চায়। সেজন্য ভোটের পর কংগ্রেস এবং বি জে পি দুই শিবিরে যাওয়ার পথই খোলা রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস এবং বি জে পি’র কাছ থেকেও তৃণমূলের প্রতি সখ্যতার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। কংগ্রেস এবং বি জে পি-র সর্বভারতীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কেন্দ্রে তৃণমূলকে ওয়াকওভার দিতে দুর্বল প্রার্থী দিয়েছে। অতীতে কখনও ইউ পি এ, কখনও বা এন ডি এ শিবিরে থেকে কেন্দ্রে ক্ষমতার শরিক হয়েছে তৃণমূল। অতীতই বলছে ভোটের পর অবস্থান বদলাতে এক মুহূর্ত সময় নেবেন না তৃণমূলনেত্রী। সে কারণে তৃণমূলের ভিশন ও মিশন বাস্তবে মূল্যহীন।

নির্বাচনী ইশ্‌তেহার প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রী কালো টাকা আটকানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর ইশ্‌তেহারে লেখা হয়েছে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপরাধীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ আটকাতে হবে’। তৃণমূল বিশ্বাস করে ‘দুর্নীতিহীন রাজনীতির লক্ষ্যে পৌঁছানোর সময় হয়েছে’। ক্ষমতায় এলে তৃণমূল কী করবে তা অনেক পরের কথা। এই নীতিবাক্যগুলি তৃণমূল নেত্রীর মুখে মানায়না। চোরের মায়ের বড় গলা ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না এ প্রসঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযুক্ত হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার কুপন কেলেঙ্কারিতে। তৃণমূলের সাংসদ বিমানবন্দরে ধরা পড়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ। মুখ্যমন্ত্রীর ‘নিজের আঁকা’ ছবি বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা সংগৃহীত হয়েছে। এই অর্থের কোনও হিসাব পাওয়া যায়নি। সারদা চিটফান্ডসহ অনেকগুলি চিট ফান্ডের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের যোগসাজশ বেরিয়ে এসেছে। সারদা গোষ্ঠী এরাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষকে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রতারণা করেছে। সেই টাকা কোথায় পাচার হয়ে গেল তার কোন তথ্য এখনও জানা যায়নি। তৃণমূলেরই এক সাংসদ সারদা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এ‍‌নেছেন মুখ্যমন্ত্রীসহ দশ নেতার বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগ আনার দায়ে ঐ সাংসদ বর্তমানে জেলে (তিনি নিজেও সারদার কর্মকর্তা ছিলেন)। সারদা কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের আঁতাত এবং তদন্তে দুর্বলতার পরেও দুর্নীতি দমনের কথা কি তৃণমূলের মুখে শোভা পায়। সদ্য অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভা নির্বাচনে দলের এক প্রার্থীকে জেতানোর জন্য টাকার খেলায় মেতেছিলেন তৃণমূল নেত্রী।

এইভাবেই কি দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির সন্ধান দেবেন মমতা ব্যানার্জি? এই নির্বাচনী ইশ্‌তেহার যেদিন প্রকাশ করছেন মমতা ব্যানার্জি সেদিনই ঝাড়খণ্ডে তৃণমূলের আহ্বায়ক গ্রেপ্তার হচ্ছেন ফৌজদারি অভিযোগে। ঝাড়খণ্ডের কয়েকটি লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল নিজস্ব কিছু প্রার্থী খুঁজে পেয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে পালামৌ কেন্দ্রে প্রাক্তন মাওবাদী জোনাল কমান্ডার কামেশ্বর বৈঠা। কামেশ্বরের বিরুদ্ধে খুন, গণহত্যাসহ ৫৩টি অভিযোগ। তার মাথার দাম ধার্য হয়েছিল ৭ লক্ষ টাকা। লোহারদাগা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী চামরা লিন্ডার বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে হামলা, খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। রাঁচির তৃণমূল প্রার্থী বন্ধু তিরকের বিরুদ্ধে বেআইনি টাকা লেনদেন, বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সি বি আই তদন্ত চলছে। এদের কাউকে অপরাধী বলে মনে করেন না তৃণমূল নেত্রী। এরা সবাই তাঁর চোখে সোনার ছেলে। এই বাহিনী নিয়েই ‘দুর্নীতিহীন দেশ এবং অপরাধীহীন নির্বাচন’ চায় তৃণমূল। বাস্তবে তৃণমূলের ওই চেহারা নিয়ে দলনেত্রী যে ইশ্‌তেহার ঘোষণা করেছেন তার যে কোন মূল্য নেই সেকথা বলার প্রয়োজন হয় না।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=53640#sthash.DTMChyZy.dpuf

মাদ্রাসার জমি পড়েই আছে, চালু হয়নি আই টি আই

মাদ্রাসার জমি পড়েই আছে, চালু হয়নি আই টি আই

নিজস্ব প্রতিনিধি

উলুবেড়িয়া, ২৩শে মার্চ— একটি জমি রাখা হয়েছিলো বিশাল আধুনিক মাদ্রাসা তৈরির জন্য। আরেকটিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিলো আই টি আই বিল্ডিংয়ের। তিন বছর কেটে গেলেও তৃণমূল সরকার এক পাও এগোয়নি। মাদ্রাসা নির্মাণ দূরের কথা, সাড়ে তিন একর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর নতুন ঝকঝকে দোতলা আই টি আই বিল্ডিংটি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়ে ছাত্র-শিক্ষকশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। কেবল তালাবন্ধ বিল্ডিংটিকে পাহারা দিচ্ছেন সিকিউরিটি এজেন্সির কয়েকজন কর্মী। 

জমি ও ভবনের অভাবে যেখানে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করা যায় না, সেখানে উলুবেড়িয়ার চেঙ্গাইল স্টেশনের পাশেই জমি ও বিল্ডিংয়ের এই অবহেলা মানুষের মধ্যে যুগপৎ বিস্ময় ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। যে উলুবেড়িয়ায় জনসংখ্যার প্রায় চল্লিশ শতাংশ মুসলিম, সেই জায়গাতেও সংখ্যালঘুদের শিক্ষা নিয়ে তৃণমূল সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি কেন? মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শিক্ষা প্রসারে তৃণমূল সরকারের যাবতীয় ঘোষণা কি কেবলই প্রতারণামূলক? মুসলিমদের কি কেবল ‘ভোটার’ হিসাবেই দেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি? লোকসভা নির্বাচনের মুখে উলুবেড়িয়া কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুলতান আহমেদকে তাড়া করছে প্রশ্নগুলি।

রাজ্যে তৃণমূল সরকার তৈরি হওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঘোষণা করেছিলেন, সংখ্যালঘুদের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য ১০হাজার মাদ্রাসার অনুমোদন দেওয়া হবে। গত মাসেই রাজ্য সরকারের পাতা জোড়া বিজ্ঞাপনে সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের যে সাফল্যের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে, তাতে সে কাজের সাফল্যের কোনো উল্লেখ নেই। কিন্তু ১২টি ইংরেজি মাধ্যম মাদ্রাসা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কেমন সেই উদ্যোগ? দেখা গেলো উলুবেড়িয়ার চেঙ্গাইল স্টেশনের পাশেই ল্যাডলো জুট মিলের লাগোয়া জমিতে। 

জঙ্গলের মতো হয়ে পরিত্যক্ত বিরাট জমিতে পড়ে আছে একখণ্ড শিলালিপি। তাতে লেখা আছে, ২০১০ সালের ৯ই অক্টোবর এই জমিতে একটি ইংরেজি মাধ্যম আবাসিক মাদ্রাসা তৈরির প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তরের মন্ত্রী আবদুস সাত্তার। এতদিনেও কেন তৈরি হয়নি সেই মাদ্রাসা?

উলুবেড়িয়ার প্রাক্তন সি পি আই (এম) বিধায়ক মোহন মণ্ডল ঐ জমিতে নির্মাণের জন্য মাদ্রাসা বিল্ডিংয়ের একটি অনুমোদিত প্ল্যান- এর কপি দেখিয়ে বললেন, বামফ্রন্ট সরকার সব প্রস্তুতিই সেরে ফেলেছিলো। কিন্তু বর্তমান সরকার মুখে যাই বলুক মুসলিমদের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কিছুই করতে চায় না। রাজ্যের কোথাও একটিও নতুন মাদ্রাসা তৈরি করেনি, উলুবেড়িয়ার মাদ্রাসাটিও বাস্তবায়িত হয়নি।

২০১০ সালেই বামফ্রন্ট সরকার আধুনিক মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য রাজ্যের ১২টি জেলায় ১২টি ইংরেজি মাধ্যম মাদ্রাসা তৈরির প্রকল্প নিয়েছিলো। হাওড়া জেলায় উলুবেড়িয়াতে এমন প্রতিষ্ঠান তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। লাডলো জুটমিলের সংলগ্ন প্রায় দশ একরের মতো জমি জবরদখল হয়েছিলো মিল কর্তৃপক্ষের হাতে। উলুবেড়িয়ার বামপন্থীরা অনেক চেষ্টা করে বামফ্রন্ট সরকারকে দিয়ে জমিটি খাস করায় এবং সেখানে সাড়ে তিন একর জমিতে ইংরেজিমাধ্যম মাদ্রাসা তৈরির সিদ্ধান্ত করায়। মোহন মণ্ডল দেখালেন, বিধায়ক হিসাবে আমি সেই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরকে চিঠি দিয়ে মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছিলাম। ২০১০ সালেই মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর পূর্ত দপ্তরকে এখানে বিল্ডিং নির্মাণের দায়িত্ব দেয়, বিল্ডিং প্ল্যান হয়ে গিয়েছিলো, ৭কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিলো এরজন্য। ঐ বছরের অক্টোবর মাসে শিলান্যাস হয়েছিলো, কিন্তু কয়েকমাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন ঘোষিত হয়ে যাওয়ায় নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। 

তারপর? নতুন সরকার এসে মাদ্রাসা তৈরির ঘোষণা করলেও জমিসহ সব প্রস্তুতি সেরে রাখা উলুবেড়িয়ার মাদ্রাসাটিরও নির্মাণ করেনি। তিন বছরে রাজ্যের অন্য অঞ্চলের জন্য বাকি মাদ্রাসাগুলির নির্মাণ কেমন হয়েছে, সেটাও সহজেই অনুমেয়।

শুধু মাদ্রাসা নির্মাণ নিয়েই নয়, উলুবেড়িয়ার সংখ্যালঘুদের জন্য তৃণমূল সরকারের প্রতারণার আরো জঘন্য নমুনা রয়েছে এখানেই। ল্যাডলো জুটমিলের হাত থেকে উদ্ধার করা জমির যে অংশে মাদ্রাসার শিলান্যাস করা হয়েছিলো, তার পাশের জমিতেই বামফ্রন্ট সরকার তৈরি করেছিলো একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা আই টি আই। স্থান হিসাবে আই টি আই–র জন্য জায়গাটি আদর্শ। হাওড়ার শিল্পাঞ্চলের মধ্যে একপাশে চেঙ্গাইল রেলস্টেশন আর অন্যদিকে গঙ্গার লঞ্চঘাট। হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার দিক থেকে যাতায়াতের পক্ষে সুবিধাজনক। বামফ্রন্ট সরকারের কারিগরি শিক্ষাদপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, স্থানীয় সংখ্যালঘু মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য এই আই টি আই-তে জরিশিল্পের প্রশিক্ষণ এবং চটশিল্পের যন্ত্রাংশের কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দোতলা বিল্ডিংটিও প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আগেই। কিন্তু তারপর?

মুখ্যমন্ত্রী প্রায় প্রতিটি ব্লকে একটি করে আই টি আই এবং পলিটেকনিক তৈরির ঘোষণা করলেও তিনবছরে সেকাজ কতটা হয়েছে? চেঙ্গাইলে তৈরি হয়ে যাওয়া আই টি আই-তে রঙের প্রলেপ দেওয়ার কাজ হয়েছে। তারপর দু-দুবার উদ্বোধন হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটির। গত সেপ্টেম্বরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ধুলাগড় থেকে রিমোটে এর উদ্বোধন করেন। মাস তিনেক পরে এই কেন্দ্রের বিধায়ক মন্ত্রী হায়দর আজিজ সফি এসে উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু আড়াই বছর আগেই তৈরি হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটিকে চালু আর করা হচ্ছে না। কারণ, প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। ভিতরে যন্ত্র বসানোও হয়নি। ঝকঝকে বিল্ডিংয়ে গিয়ে দেখা গেলো, কয়েকজন সিকিউরিটি কর্মী বসে আছেন। তাঁরা সাফ বলে দিলেন, আমরা কিছু জানি না।

উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্টের প্রার্থী সাবিরুদ্দিন মোল্লা বয়সে তরুণ, যুব আন্দোলনের নেতা। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলনে তিনি বরাবরই রয়েছেন। এখন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে তিনি সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে রাজ্য সরকারের এই প্রতারণামূলক ভূমিকার কথাও তুলে ধরছেন। সি আই টি ইউ নেতা শামসূল মিদ্যা জানালেন, আমি এখানকার চেঙ্গাইল হাই মাদ্রাসায় পড়েছি। তখন অবশ্য ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ছিলো, পরে বামফ্রন্ট সরকার উন্নীত করেছে, মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো বাড়িয়েছে। উলুবেড়িয়ায় সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য এই আধুনিক মাদ্রাসাটির প্রয়োজন ছিলো, আর শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সুবিধা হতো।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=53629#sthash.KfpcQ0JG.dpuf

DR. SURYA KANTA MISHRA: লড়াইয়ে থাকা মানুষকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে হবে বামপন্থীদেরই : মিশ্র

লড়াইয়ে থাকা মানুষকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে হবে বামপন্থীদেরই : মিশ্র

কলকাতা, ২২শে মার্চ— রাজ্যজুড়ে এক স্বৈরাচারী সরকার চলছে। দেড়শোর বেশি বামপন্থী কর্মী খুন হয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন বহু। তাঁদের কোনও চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ৫৫ হাজার বামপন্থী কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। এখন এই আক্রমণ নেমে আসছে সাধারণ মানুষের ওপরে। মানুষ এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। বামপন্থীদের কাজ তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। শনিবার যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের এক কর্মীসভায় একথা বলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। বিজয়গড় নিরঞ্জন সদনে বামফ্রন্ট প্রার্থী সুজন চক্রবর্তীর সমর্থনে আয়োজিত এই কর্মীসভায় সভাপতিত্ব করেন সঞ্জয় ব্যানার্জি। টালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার কর্মী সংগঠকদের এই সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় সূর্যকান্ত মিশ্র আরও বলেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে এই বাংলায় মূল স্লোগান স্বৈরাচারী, গণতন্ত্র হত্যাকারী তৃণমূলকে সর্বশক্তি দিয়ে রুখতে হবে। একদিকে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকারে জনবিরোধী নীতির ফলে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি এই রাজ্যে এক চরম নৈরাজ্যের পরিবেশ কায়েম করার চেষ্টা চলছে। নারী নির্যাতনে রাজ্য এখন দেশের মধ্যে এক নম্বর। মানুষের সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূলের শাসনে রাজ্যের অর্থনীতি দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। প্রায় ষাট হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে সরকার সারা বছর ধরে উৎসব করছে। অন্যদিকে কৃষক ফসলের দাম না পেয়ে আত্মহত্যা করছে। না খেতে পেয়ে মরছে চা বাগানের শ্রমিক। চালু কারখানা তৃণমূলী উৎপাতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকারী হিসাবেই নষ্ট হয়েছে ৩.৫০ কোটি শ্রমদিবস। এর বিরুদ্ধে লড়াই‍‌কে আরও শক্তিশালী করতে বামপন্থীদের জয়ী করার আহ্বান পৌঁছে দিতে হবে সর্বস্তরের মানুষের কাছে। একই সঙ্গে ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করার চক্রান্তকে রুখতে হবে। কংগ্রেসের জায়গায় বি জে পি ক্ষমতায় আসলে আরও বড় সর্বনাশ হবে। তাই কেন্দ্রে অ-কংগ্রেসী,অ-সাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গড়ার একমাত্র পথ বামপন্থীদের শক্তিশালী করা।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/breaking_news_details.php?newsid=1597#sthash.MvKCzac3.dpuf

লুধিয়ানায় বললেন বৃন্দা কারাত ‘মোদী হাওয়া’ বলে কিছুই নেই দেশে

লুধিয়ানা, ২৩শে মার্চ — দেশে ‘মোদী হাওয়া’ বলে কিছুই নেই। রবিবার এই মন্তব্য করেছেন সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত। এখানে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, কংগ্রেস এবং বি জে পি-র বিকল্প শক্তিকে ছোট করে দেখা ঠিক নয়। বিকল্প শক্তি একাই কেন্দ্রে সরকার গঠনের ক্ষমতা রাখে।


সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সংগ্রামের অসমসাহসী সেনানী ভগৎ সিং, রাজগুরু ও সুকদেবের শহীদীবরণের দিনে লুধিয়ানায় জনসভার আয়োজন করেছিলো সি পি আই (এম)। জনসভার পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বৃন্দা কারাত বলেন, কংগ্রেস এবং বি জে পি-র বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন আঞ্চলিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। প্রথম দিকে সংবাদমাধ্যমের একাংশ এই শক্তিকে খাটো করেও দেখাচ্ছিলো। তবে লোকসভা ভোটের পরে বিকল্প শক্তি একাই কেন্দ্রে সরকার গঠনের ক্ষমতা রাখবে।

বৃন্দা কারাত বলেন, দেশজুড়ে নজিরবিহীন দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতির জন্য দায়ী কংগ্রেস এবং বি জে পি। এই দুই দলের নীতিতেই দেশে ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস এবং বি জে পি আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। 

এর আগে শহীদ ভগৎ সিং, রাজগুরু ও সুকদেব স্মরণে আয়োজিত সভায় বৃন্দা কারাত জনগণকে দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আহ্বান জানান। বি জে পি নেতৃত্বাধীন গুজরাট সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা গরিব কৃষকের স্বার্থের বিনিময়ে কর্পোরেটের মুনাফা বাড়ানোর পথ করে দিয়েছে। 

এদিন পার্টিনেতৃত্বের সঙ্গে বৃন্দা কারাত শহীদ সুকদেবের বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/breaking_news_details.php?newsid=1598#sthash.9glaB5Et.dpuf

GUJRAT: হাত গুটিয়েছে সরকার, ,গরিবের পড়াশোনা শিকেয়



চন্দন দে, আমেদাবাদ : ২৩শে মার্চ— করণের বাবা যখন ওদের ছেড়ে গিয়েছিল, তখন ওর গোঁফের রেখা ফুটতে শুরু করেছে। এখন বয়স সাতাশ। বাপুনগরে ওর বাবার নতুন সংসার থেকে ছিন্নমূল হয়ে মাকে নিয়ে চলে এসেছিলেন আম্বারওয়াড়িতে। কদিন বাদে দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে সেই ঘরে এসে উঠতে হয়েছে ওর দিদিকেও। অম্বরওয়াড়া থেকে ঘিকাটার গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে যাতায়াতেই প্রতিদিন করণ পারমারকে গুণতে হয় চল্লিশ টাকা। দিন পনেরোর পাঁচশো টাকার মজুরিতে নতুন জামার উপর ইস্ত্রি ঘষে মাস গেলে যেটুকু আসে তা দিয়ে পেট চালানোর পর পড়াশোনার খরচ জোটানো দায়। তবু করণের গোঁয়েই ভাগ্নে-ভাগ্নী দুটো স্কুলে যায়। সরকারী স্কুলে নয়, কাছের প্রাইভেট স্কুলে। 

দিনভর ঘুরে পাড়ায় পাড়ায় ব্যাগবোঝাই নকল গয়না ফিরি করে ফিরেই রাতের রান্না সারতে বসতে যাওয়া করণের মা মঞ্জুলাবেন দিচ্ছিলেন মাসিক খরচের হিসেবপত্র। ক্লাস সিক্সে পড়া নাতি রোহিতের স্কুল মাইনে ২৮০টাকা। স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে নাতনি করিশমা। তারও স্কুলের মাইনে মাসে ১৭০টাকা। দু-কিলোমিটার দূরের সেই স্কুলে ছেলে-মেয়ে দুটোকে অটোয় পাঠাতে লেগে যায় কুড়ি টাকা। 

সরকারী বা কর্পোরেশন স্কুলে পাঠান না কেন? ভিড়ে মিশে থাকা করণের দিদি বলে উঠলেন, ‘জানোয়ার নাকি! ওখানে জানোয়রদেরও শিক্ষা মিলবে না।’

পরদিন দুপুরে কথা হলো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সুরেশ মেহতার সঙ্গে। শিক্ষা, স্কুল প্রসঙ্গ তুলতেই শান্ত-দর্শন সুরেশ ঝাঁঝিয়ে উঠলেন, ‘‘গত দশবছরে মোদীর আমলে একটাও সরকারী প্রাথমিক স্কুল তৈরি হয়নি। বরং বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুধুই প্রাইভেট প্রাইভেট।’’ 

তারপর বললেন, ‘‘আপনাকে একটা অঙ্ক দিচ্ছি, কষে নেবেন।’’ গড়গড় করে বলে গেলেন ২০০২-এ গুজরাটের জনসংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি। স্কুলে ঢুকেছে ৮২লাখ। নিজেই হিসেব কষে দিলেন, ‘‘রাফলি ১৬পারসেন্ট’’। তখন কিন্তু স্কুলে পাঠানোর জন্য ‘প্রবেশ উৎসব’ বা তেমন কোনো অভিযান ছিল না। আর ২০১২-এ গুজরাটের জনসংখ্যা ৬কোটিতে পৌঁছেছে, আর এখন তা ৬.২৫কোটি। তাহলে ১৬পারসেন্ট ক্লাস ওয়ানে ঢুকলে ১কোটি ছেলেমেয়ের থাকার কথা। কিন্তু ঢুকেছে ৮০লাখ, মানে ১০বছর আগের থেকে দু’লাখ কম। শতাংশে ধরলে ১৩শতাংশ। বাড়েনি বরং কমেছে।

পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ -এর সাধারণ সম্পাদক গৌতম ঠাকরের কথায়, ‘‘এমনিতেই তো শিক্ষাক্ষেত্রে স্কুল-কলেজের নামে দোকান খুলে বসা হয়েছে। এর জন্য একটার পর একটা ট্রাস্ট খোলা হচ্ছে। আর তারা লাখ-লাখ মানুষের থেকে ফিজ নিয়ে মুনাফা লুটছে।’’ সরকারী-বেসরকারী স্কুল পরিকাঠামোর আরো একটা ভালো হিসেব তুলে দিলেন গৌতম, গত দশবছরে কোনো শহরে কোনো নতুন সরকারী প্রাইমারি স্কুল চালু হয়নি। বেসরকারী প্রাইমারি স্কুল হয়েছে ২৬হাজার। সেখানে ছাত্র ভর্তি হয়েছে ২৯,৩৮,৭০০। দশ বছর আগে সংখ্যাটা ছিল দু’লক্ষ। দশ বছরে নতুন বেসরকারী হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল হয়েছে ২৫হাজার। সেখানে ছাত্র ঢুকেছে ২২,৪৩, ২৭৫। তুলনায় সরকারী স্কুলে মাত্র ৬,৫০,৪৫৯। 

বেসরকারী স্কুলের এই বাড়বাড়ন্ত আর আকাশছোঁয়া ফি-এর দাপট, সরকারী স্কুলের করুণ হালে বহু গরিব মানুষ তাঁদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানোর কথা ভুলতে বসেছেন। বেড়ে চলেছে ড্রপ-আউট বা স্কুলছুটের হারও। বিশেষ করে দলিতদের মধ্যে। সমাজকর্মী লালজী দেশাই জানালেন, মেহসানা, কচ্ছ, সৌরাষ্ট্রে এই হার খুবই বেশি। এরই পথ ধরে বেড়ে চলেছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। ৫টি জেলার ৮০০গ্রাম ঘুরে সমীক্ষার কাজ সম্প্রতিই শেষ করেছেন লালজীরা। তার হিসেব দিয়ে বললেন, গড়ে স্কুলছুট ৭০শতাংশ। এমন বহু গ্রামের খোঁজই তাঁর কাছে রয়েছে, যেখানে অন্তত ১০০জন করে শিশুশ্রমিকের খোঁজ মিলবে। এরা চলে যাচ্ছে বিটি কটনের খেতে তুলো তোলার কাজে, কেউ যাচ্ছে হোটেল দোকানে কাজের খোঁজে। ভাইব্র্যান্ট গুজরাটে বাড়ছ ড্রপআউট। সে যতই কথায় কথায় উৎসবে নেমে পড়া মোদী নিজে হাজিরা দিয়ে সরকারী অর্থে ‘প্রবেশ উৎসবে’র নামে নিজের প্রচার চালান।

মার্চ, ২০১৩-র এন এস এস ও-র তথ্য বলছে, গ্রামীণ গুজরাটে প্রাথমিক স্তরে ৬-১০বছরের গ্রুপে স্কুলে হাজিরার হার ৭৩শতাংশ। জাতীয় গড় ৭৮-এর নিচে তো বটেই, বিহার আর ঝাড়খণ্ড বাদ দিলে সকলেই গুজরাটের উপরে। ১১-১৩বছরের গ্রুপে এই হার নেমে যাচ্ছে ৫১-এ, ১৪-১৫ (মাধ্যমিক স্তরে) ৪০শতাংশ আর ১৬-১৭ বছর (উচ্চ মাধ্যমিক স্তর)-এর গ্রুপে অবস্থা খুবই করুণ, হার মাত্র ২১শতাংশ। 

শুধু গ্রাম নয়, পিছিয়ে আছে শহর গুজরাটও। সেখানেও প্রাথমিকে উপস্থিতির হার ৭৬শতাংশ, জাতীয় গড় যেখানে ৭৮। অন্য ধাপগুলিতে যথাক্রমে ৬১, ৪৫ আর ৪২। 

প্রাথমিক, মাধ্যমিকের এই হাল হলে উচ্চশিক্ষার হাল কী? প্রশ্ন শুনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য হলো, উচ্চশিক্ষা তো পরের ব্যাপার। প্রাথমিক শিক্ষা জোগানো সরকারের সাংবিধানিক কর্তব্য, সেটা তো আগে পালন করুক। 

শিক্ষার খবর রাখা মানুষরা জানাচ্ছেন, মোদীর লোক না হলে আর তাঁর কথা শুনে না চললেই কেউই কোনো পদে থাকে না, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই হোন বা অন্য কোনো সাংবিধানিক পদ। ২০০৬ থেকে ২০১২ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভি সি ছিলেন পরিমল ত্রিবেদী। মোদীর পা ছুঁয়ে প্রণাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিট নিয়ে কেলেঙ্কারি, জাত তুলে বিষোদ্গার— কী ছিল না ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ। পরে মহিলা অধ্যাপককে অত্যাচার করে গ্রেপ্তার হয়ে তাঁকে সরতে হলো। বসানো হলো মোদীর আরেক কাছের লোক মদের কারবারি আদেশ পালকে। বিতর্ক শুরু হওয়ায় লিকার লাইসেন্স সারেন্ডার করেন আদেশ পাল। কিছুদিন যেতেই তাঁকেও সরতে হয়েছে নানা ঝামেলায়। এখন এসেছেন এম এন পাটিল। এক সাংবাদিকের কথায়, ‘‘এক নম্বর কা ডাফর’’। 

আসলে ভাইব্রান্ট গুজরাটের প্রকম্পনে এই অকর্মণ্য, নির্বোধদেরই বোধহয় বেশি কাটতি। শর্ত একটাই মোদীর গুণগান গেয়ে চলো। না হলে দশা হবে শশীরঞ্জন যাদবদের মতো। এই শিক্ষাবিদকে সরানোর পর গত দু-বছর ধরে কচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো উপাচার্য নেই। 

পশ্চিমবাংলার পাঠকের হয়তো পরিবেশটা অচেনা ঠেকছে না। গত আড়াই বছরে ঘন ঘন উৎসব, উপাচার্য-চেয়ারম্যান বদলে পরিচিত তাঁরা হয়তো দেশের পূর্ব-পশ্চিমে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পাবেন!

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/breaking_news_details.php?newsid=1599#sthash.hZt2yXru.dpuf

BUDDHADEB BHATTACHARJEE: সাক্ষাৎকারে বললেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বি জে পি-কে ঠেকাতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে বামপন্থীরা



নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ২৩শে মার্চ — বি জে পি-কে ঠেকাতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে বামপন্থীরা। জনবিরোধী নীতির জন্য কংগ্রেসকেও হারাতেই হবে। তারা একই ভারতে দুটি দেশ গড়ে তুলেছে। একদিকে মুষ্টিমেয় ধনীদের ভারত। আর একদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ গরিব মানুষের দেশ। লোকসভা নির্বাচনে বামপন্থীদের এই লক্ষ্য উল্লেখ করে সি পি আই (এম)-র পলিটব্যুরোর সদস্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এক সাক্ষাৎকারে রবিবার বলেছেন, ‘‘ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, জনস্বার্থবাহী বিকল্প গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করাই আমাদের লক্ষ্য।’’

সংবাদ সংস্থা পি টি আই ভট্টাচার্যের এই সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছেন,‘‘কংগ্রেস দ্রুত জমি হারাচ্ছে তাদের জনবিরোধী নয়া-উদারনীতির জন্য। সেই জায়গায় উঠে আসতে চাইছে বি জে পি। যদিও তাদের আর্থিক নীতিও কংগ্রেসেরই মত। বামপন্থীদের পক্ষে এই পরিস্থিতি জটিল এবং কঠিন। একটি প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, জনস্বার্থবাহী নীতির মাধ্যমে পরিচালিত বিকল্প গড়ে তুলতে বামপন্থীদের ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।’’ 

সাক্ষাৎকারে নরেন্দ্র মোদী এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রসঙ্গ এসেছে। জিজ্ঞাসা করা হয়েছে রাহুল গান্ধীর প্রসঙ্গেও। বি জে পি-র প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীকে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর উপর এক বিপদ হিসাবে বর্ণনা করে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন,‘‘এক ব্যক্তিবিশেষের উচ্চাকাঙ্ক্ষার মত সহজ বিষয় হিসাবে এটিকে দেখা ঠিক হবে না। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এবং দেশের কর্পোরেট সংস্থাগুলির যৌথ উদ্যোগেই মোদীকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে।’’ তাঁর মতে এটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’।

উন্নয়ন সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদীর ধারণাকে বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলির মুনাফা-কেন্দ্রিক উন্নয়ন হিসাবে বর্ণনা করেছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন,‘‘আমরা সামগ্রিক উন্নয়নের পক্ষে। গরিব, মধ্যবিত্তের সামগ্রিক উন্নয়ন আমরা চাই। গুজরাটে শিক্ষা, স্বাস্থ্যের হাল মোটেই আনন্দজনক নয়। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।’’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, বিভিন্ন সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থীদের মধ্যে মোদী অনেক এগিয়ে আছেন বলা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ভট্টাচার্য বলেছেন,‘‘তাতে কী? তার মানে এই নয় যে মোদীর নীতিগুলি ন্যায়সঙ্গত, ভালো। আর চ্যানেল এবং এজেন্সিগুলির সমীক্ষা করার পদ্ধতি নিয়ে আমার কিছু সন্দেহ আছে।’’ তিনি মনে করিয়ে দেন যে গুজরাটে সংখ্যালঘু-নিধনের ঘটনায় মোদীর ভূমিকা এখনো সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। এরপরই তিনি বলেন,‘‘১৯৩৩-এ হিটলার জার্মানিতে নির্বাচনে জিতেছিলেন, তার মানে কী হিটলারের নীতিগুলি ঠিক ছিল?’’ 

মমতা ব্যানার্জির ফেডারেল ফ্রন্ট প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেন,‘‘ ওই ধরনের ফ্রন্টে যাওয়ার কেউ নেই। সবাই ওনার কাজের পদ্ধতি জানেন।’’ তাঁর কাছে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী সম্পর্কেও প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছিল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছেন,‘‘তিনি চেষ্টা করছেন। চেষ্টা চালিয়ে যান। আমি তাঁর সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে চাই না।’’ 

ভট্টাচার্য এদিন বলেন,‘‘বামপন্থীরা একটি বিকল্প ফ্রন্ট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।’’ এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তিনি বলেন,‘‘গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং তৃণমূল মিলিতভাবে ৪৬/৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। বাকি দলগুলি ৫০ ভাগের বেশি ভোট পেয়েছিল। আমরা এই ৫০ভাগকে এক জায়গায় আনতে চাই। এই দলগুলিকে আমরা ধর্মনিরপেক্ষতা, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং জনস্বার্থবাহী নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করতে চাইছি। নির্বাচনের পরে এই বিষয়গুলি সামনে আসবে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই ইস্যুগুলির ভিত্তিতে আমরা তৃতীয় বিকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবো।’’ কিন্তু ইতোমধ্যেই এ ডি এম কে বিকল্প ফ্রন্ট ত্যাগ করেছেন? এই পরিস্থিতিতে ওই ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ কী? বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এই প্রশ্নের জবাবে বলেন,‘‘আমরা কোনও দল বা নেতা-নেত্রীর পিছনে ছুটছি না। আমরা নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুর ভিত্তিতে সবাইকে একজোট করতে উদ্যোগ নিয়েছি।’’ তিনি আরও বলেছেন,‘‘সব সমীক্ষা বলছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বি জে পি কিংবা কংগ্রেস কেউই একা সরকার গঠনের মত জায়গায় পৌঁছোতে পারবে না। তাই আমরাও চেষ্টা চালাচ্ছি। সঠিক জনস্বার্থবাহী নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, এমন একটি সরকার গঠনই আমাদের লক্ষ্য।’’

নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের মত জনসমর্থন না পেলে কংগ্রেস-বি জে পি-র মত বড় দলগুলি কী করতে পারে? ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেছেন,‘‘বড় পার্টিগুলি, বিশেষত কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রিত্বের টোপ দিয়ে এ ডি এম কে, টি এম সি, সমাজবাদী পার্টির মত আঞ্চলিক দলগুলিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে একটি বিকল্প গঠনের উদ্যোগ আমরা চালিয়ে যাবো। কে নেতা হবেন, এটি আমাদের কাছে বিষয় নয়। আমাদের প্রধান বিবেচ্য সরকারের নীতি কী হবে।’’ আর সেই বিকল্প নীতি মানে যে সবার জন্য সস্তায় রেশন, ভূমিসংস্কার, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণ আটকানো, খাদ্য সুরক্ষা, সবার জন্য শিক্ষা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা — তাও সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। 

কিন্তু যদি ২০০৪-র মত পরিস্থিতি তৈরি হয়? যদি বি জে পি সরকার গঠনের খুব কাছকাছি পৌঁছে যায়? তাহলে? এই প্রশ্ন করা হয়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। তিনি বলেছেন, ‘‘যেমন করে হোক কিছু শক্তিকে সমবেত করে নির্বাচনের পরে কংগ্রেসের পিছনে গিয়ে দাঁড়ানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তা আমাদের কৌশলগত লাইনও নয়। আমরা আশা করি ২০০৪-র মত পরিস্থিতি তৈরি হবে না। তখন সাম্প্রদায়িক বি জে পি-কে ঠেকাতে আমাদের কংগ্রেসকে সমর্থন করতে হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না বলেই আমরা আশা করি।’’ প্রসঙ্গত, ২০০৪-এ বামপন্থীরা বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার পরই প্রথম ইউ পি এ সরকার তৈরি হয়েছিল। বামপন্থীরা সেবার ৬১টি আসনে জয়লাভ করেছিল। বামপন্থীদের লাগাতার দাবিতেই একাধিক জনস্বার্থবাহী পদক্ষেপ নিতে সেই ইউ পি এ সরকার বাধ্য হয়। তার মধ্যে অন্যতম একশো দিনের কাজের প্রকল্প। এমনকি ব্যাঙ্ক, বীমাসহ রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থার শেয়ার বিক্রীও অনেকটাই আটকে দিয়েছিল বামপন্থীরা। আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তির উদ্যোগ নিলে বামপন্থীরা মনমোহন সিং সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে। মুখে সেই চুক্তির বিরোধিতা করলেও সমাজবাদী পার্টি সংসদের অভ্যন্তরে ভোটাভুটিতে কংগ্রেসকে বাঁচিয়ে দেয়। তৃণমূলও সেই পরমাণু চুক্তির বিষয়ে তখন নিশ্চুপ ছিল। ভোটাভুটির সময়ে সংসদেই ছিলেন না তৃণমূলের একমাত্র সাংসদ মমতা ব্যানার্জি।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/breaking_news_details.php?newsid=1600#sthash.pOFGEOi8.dpuf