RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Friday, May 31, 2013

UNPLARALELLED 34 YEARS OF LEFT FRONT RULE IN WEST BENGAL


৩৪ বছর মমতাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে

শেখ ইসরাইল

পঞ্চায়েত নির্বাচন উপলক্ষে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রচারে নামছে। তাদের প্রচারের অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে এরাজ্যে বাম আমলের ৩৪ বছরের শাসনের সাফল্যকে নস্যাৎ করে জনসমক্ষে উপস্থাপিত করা।বাম আমলের একটানা ৩৪ বছর শাসনের সময়কালকে যতই দুঃস্বপ্নের কাল বলে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস চিহ্নিত করার চেষ্টা করুক না কেন, যতই সি পি আই (এম) তথা বামপন্থীদের মুছে ফেলার চেষ্টা হোক না কেন তা কোনোদিন সফল হবে না। ধারাবাহিকভাবে দুনিয়াজুড়ে সাম্রাজ্যবাদ পুঁজিবাদের সেবকরা কমিউনিস্টদের মুছে ফেলার চক্রান্ত করে এসেছে, সফল হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের একমাত্র কর্মসূচীই হলো — সি পি আই (এম) তথা বামপন্থীদের নিশ্চিহ্ন করা, ৩৪ বছরের বাম শাসনের উন্নয়নকে অস্বীকার করে নতুন প্রজন্মকে ভুল পথে চালিত করা। 

এ রাজ্যে সি পি আই (এমথ) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের লক্ষ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস জোট হয়েছিল। কেন্দ্রে রাজ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগিও করে নিয়েছিল। তারপর কংগ্রেস দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে চলতে পারল না। মধুচন্দ্রিমা অচিরেই শেষ হয়ে গেল। ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। কেন্দ্রে ও রাজ্যে মন্ত্রিত্বেও ছেদ পড়ে গেল। অন্যদিকে, মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করেছে। দিনের পর দিন মিথ্যে কথা প্রচার করা, বিভ্রান্ত করার জন্য উন্নয়নের ঘোষণা করা, শিলান্যাস করা, মমতা ব্যানার্জি তাঁর নিজের ছবির প্রচার করা, রঙ-বেরঙের উৎসব নিয়ে মেতে থাকা — এসবের মধ্য দিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে চলেছেন। বাম আমলের ৩৪ বছরের ঋণের জন্য কেন্দ্রকে সুদ দিতে হচ্ছে, উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। বেতন ভাতা বাড়ানো যাচ্ছে না বলে মিথ্যে কথা বলছেন। দিনের পর দিন শাসন পরিচালনায় অযোগ্যতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। 

নিজেদের ব্যর্থতার দোহাই দিতে ৩৪ বছরের জের হিসাবে উল্লেখ করে নিজেদেরকে আড়াল করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। কিন্তু, মানুষ ক্রমেই উপলব্ধি করছেন। হাত দিয়ে সূর্যকে ঢাকা যায় না।

ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক স্বৈরতান্ত্রিক সরকার এসেছে রাজ্যে। এই দু’বছরে এ রাজ্যের জনগণ হাড়ে হা‍‌ড়ে টের পাচ্ছেন। ধারাবাহিকভাবে ভীতি প্রদর্শন, দৈহিক আক্রমণ, খুন, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, তোলাবাজি নিত্যকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফসলের দাম না পেয়ে, মূল্যবৃদ্ধির চাপে ন্যূব্জ কৃষক এ পর্যন্ত ৮৭জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। দু’বছরে তৃণমূল বাহিনীর হাতে ৯০জন বামপন্থী নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। সি পি আই (এমন)-এর বহু পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলা হয়েছে। বহু ট্রেড ইউনিয়ন অফিসে হামলা, ভাঙচুর, দখল হয়েছে। ঘরছাড়া হয়েছেন, বেধড়ক মারধর খেয়ে হাত-পা ভাঙা, বিছানায় পড়ে থাকা আক্রান্ত মানুষও অনেক। মিথ্যা মামলার কোনো পরিসীমা নেই। খোদ বিধানসভায় মারধর, গুণ্ডামি করা হয় বামপন্থী বিধায়কদের উপর। বিরোধী দলের মহিলা বিধায়কও গুরুতর জখম হন। গত ১১ই ডিসেম্বর ’১২ তৃণমূল কংগ্রেস যে কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করলো তা, পশ্চিমবঙ্গের প‍‌রিষদীয় ইতিহাসে কালো দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ৭০বছর বয়সী, ৪০ বছরের বিধায়ককেও মারধর করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেনি মমতার আশীর্বাদপুষ্টরা।

এই আক্রমণ কেবল সি পি আই (এম) তথা বামপন্থীদের নিশ্চিহ্ন করার জন্যই হচ্ছে না, একসময়কার জোটসঙ্গী কংগ্রেসের উপরও হচ্ছে। ওদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীকে আক্রমণ করছে, খুন করছে। অর্থাৎ কোনোরকম বিরোধিতা চলবে না। ভারতবর্ষের আর কোথাও ডাকাত-ধর্ষক-গুণ্ডা-তোলাবাজ-বদমাইশরা এতো নিশ্চিন্তে নিজেদের ভয়ঙ্কর অপকর্মটি করতে পারে না। চোর-ডাকাত, ধর্ষকরা বুঝে গেছে যে তাদেরই সরকার এসেছে রাজ্যে। এখানে কোনো আমলা নিজেদের বিবেক অনুযায়ী কাজ করতে পারবে না। এ রাজ্যে ধর্ষক দমন করতে গিয়ে মহাকরণের নির্দেশে দময়ন্তী অপমানিত ও দমিত হয়েছেন। কোনো আমলা নিজের বিবেক অনুযায়ী কাজ করলে তাকে দময়ন্তী সেনের মতো অবস্থায় পড়তে হবে। এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। নিরাপদ নয় নারীরাও। নারী নির্যাতনের শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ ২৯,১৩৩, দ্বিতীয় অন্ধ্র প্রদেশ ২৮,২৪৩, তৃতীয় উত্তরপ্রদেশ ২২,৬৩৯। এ লজ্জা আমরা ঢাকবো কি করে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে এসব ‘ছোট ঘটনা’ আর ‘রটনা’ ছাড়া কিছু নয়। মা আজ লজ্জায় মুখ ঢেকেছেন, মাটি উৎসবে সীমাবদ্ধ, মানুষ হারিয়ে গেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীই সব। তিনি কখনো ভুল করতে পারেন না, ভুল বলতেও পারেন না। তিনি সকলের সব পরামর্শকে অগ্রাহ্য করে চলেন। তিনি ‘ইয়েসম্যান’দের পছন্দ করেন। কোনো সমালোচনা সহ্য করেন না। তাকে কোনো প্রশ্নও করা যাবে না। তা‍‌কে নিয়ে কার্টুন আঁকাও চলবে না। তাহলে অম্বিকেশ মহাপাত্রের মতো জেলে যেতে হবে। প্রশ্ন করলে বাঁশপাহাড়ির শিলাদিত্য চৌধুরীর দশা হবে। জেলে যে‍‌তে হবে। মমতা সমালোচকদের ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে নিজের সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছেন, ‘রাজা চলে বাজার, কুত্তা ভোকে হাজার’। আজকাল মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদেরও মুখের ভাষার সংযম থাকে না। বিচারপতিদের উপর আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগের জন্য কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিলেও সংযত হননি। মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই রাজ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক তিরস্কৃত হলো। এদের মন্ত্রী রাজ্যপালকে ‘হলুদ’ কার্ড দেখিয়েছেন। রাজ্যপালের কঠোর মন্তব্য, ‘রাজ্যে গুণ্ডাগিরি চলছে’। কলকাতা হাইকোর্ট সমবায় সম্পর্কিত একটি মামলা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছে, ‘রাজ্য নৈরাজ্য চলছে’। সমাজের নানা বিশিষ্টজন মমতা ব্যানার্জি ও তার সরকারের সমালোচনা করলেও এতটুকু শিক্ষা নেননি। সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন যারা তাদের সরকার আঘাত করছেন। কার্যত, সংবিধানকেই মান্যতা দিচ্ছেন না।

এতদিনে একথা স্পষ্ট হয়েছে যে মমতা ব্যানার্জি এ রাজ্যে ‘তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী’ হয়েছেন, জনগণের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারলেন না। তিনি ঘোরতর সি পি আই (এমে) তথা বামবিরোধী। তিনি তার বিরোধীদের বিরোধিতার মাত্রা বাড়িয়ে চলেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাধ্যমিক, এমনকি প্রাথমিক স্তরেও দীর্ঘদিনের প্রচলন ব্যবস্থা ভেঙে নিয়ে, প্রতিষ্ঠানসমূহের কাঠামো ভেঙে দিয়ে শিক্ষায় দলতন্ত্র কায়েম করা হচ্ছে। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এমন একটা দিনও যায়নি, যেদিন শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা হয়নি। বিগত বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে ২৪ ঘণ্টাও কাট‍‌লো না ১৪ই মে ২০১১ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতায় পিটিয়ে খুন করলো প্রাথমিক শিক্ষক জিতেন নন্দীকে (৫৭)। পরবর্তীকালে আর একজন শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস সমাজবিরোধীদের দ্বারা খুন হন। ১৪ই মে ২০১১ থেকে ৩০শে আগস্ট ২০১২ — প্রায় এই ১৬ মাসের তথ্য থেকে দেখা যায়, দৈহিকভাবে আক্রান্ত হন ৩৯, অধ্যক্ষ, অধ্যাপক, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ৫১, এস এফ আই-কে মনোনয়নপত্র তুলতে না দেওয়াসহ হাঙ্গামার ঘটনা ৭০টি। এটি ১৬ মাসের হিসেব। এ পর্যন্ত আরও অনেক বেড়ে গেছে। শিক্ষার হালহকিকত বোঝার জন্য একটি সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। স্কুলে ঢুকে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষককে চড় মারলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভানেত্রী। ঘটনাটি ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩-র। খবরে প্রকাশ, সকালে কালীতলায় বাঁকুড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অতর্কিতে হানা দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষিকা, পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সামনেই স্কুলের শিক্ষক স্বরূপ কর্মকারকে সপাটে চড় মারেন বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভানেত্রী রিঙ্কু ব্যানার্জি। আকস্মিক আক্রমণ সামলাতে না পেরে ঐ প্রতিবন্ধী শিক্ষক উলটে চেয়ারে পড়ে যান। এখানেই শেষ নয়। ঐ শিক্ষককে চড় মেরে সংসদ সভানেত্রী উপস্থিত অভিভাবকদের ডেকে গর্বিত কণ্ঠে বলেন, ‘‘দেখুন, একজন শিক্ষককে কিভাবে শায়েস্তা করতে হয়।’’ ৭ বছর পেরিয়ে যাওয়া একটি মেয়েকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি না করে শিশুশিক্ষা অধিকার আইনের উল্লেখ করেছিলেন এবং মেয়ে‍‌টিকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করতে বলেন। এই ছিল শিক্ষকের অপরাধ। ঐ শিক্ষকের গালে চড় মে‍রে বলেন, ‘‘আমি স্কুল কাউন্সিলের চেয়ারপারসন, আমার কথাই আইন। এবার চড় মারলাম, পরের বার হাত-পা ভেঙে দেব।’’ ৮ই ফেব্রুয়ারি (২০১৩) শুক্রবার স্কুল চলাকালীন স্কুলের মধ্যেই তৃণমূলীদের হাতে আক্রান্ত হলেন ক্যানিং ডেভিড শেষন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। স্কুল চলাকালীন প্রধান শিক্ষকের ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁকে উচিত শিক্ষা দিতেই নাকি তৃণমূলীরা মারধর করেন। ওরা কাকে কখন কোন্‌ শিক্ষা দিতে চান তা বোঝার আগেই আক্রমণ হয়ে যায়।

পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দেহরক্ষী পুলিস আধিকারিকদের ‘চাবকানোর’ কথা বলে আস্ফালন করেন, সাংবাদিকদের ‘চড় মারার’ হুমকি দেন।

আমরা সকলেই জানি, পেটে ভাত থাকলে তবে লেখাপড়া বা শিক্ষার দিকে নজর পড়ে। তা না হলে পেটের জ্বালায় মজুরখাটা, চাকর, বাগাল প্রভৃতির কাজ করতে গিয়ে শৈশব হারিয়ে যায়। সুদূর অতীত থেকে যে কৃষক আন্দোলনের ধারা এ রাজ্যে গড়ে উঠেছিল তার তাৎপর্য না বুঝলে আজকের পরিস্থিতি বোঝা যাবে না।

বামফ্রন্ট সরকার একদিনে একটা ভোটের মধ্য দিয়েই তৈরি হয়নি। তেভাগা আন্দোলন, খাদ্য আন্দোলন, জোতদার, জমিদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৭ সাল ও ১৯৬৯ সালের গড়ে ওঠা যুক্তফ্রন্ট সরকার ও কৃষক আন্দোলন — এ সবের মধ্য দিয়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে এসেছে ১৯৭৭ সাল। বামফ্রন্ট সরকার। তাই, ভূমিসংস্কারের ক্ষেত্রে সমগ্র দেশে সর্বাধিক সাফল্য এ রাজ্যে। ৩০ লক্ষাধিক কৃষক ১১ লক্ষ ২৭ হাজার একরের বেশি জমি বিনামূল্যে পেয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ তফসিলী জাতিভুক্ত, প্রায় ১৮ শতাংশ আদিবাসী। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা পেয়েছেন ১৮ শতাংশ জমির পাট্টা। সারা দেশে জমির মাত্র ৩ ভাগ পশ্চিমবঙ্গে। ভূমিসংস্কারের মাধ্যমে যত জমি সমগ্র দেশে বণ্টিত হয়েছে, তার ২২ ভাগ পশ্চিমবঙ্গেই। এর সঙ্গে সেচের ব্যবস্থার উন্নতির ফলে শস্য চাষের নিবিড়তা বেড়েছে এ রাজ্যে ১৯২ শতাংশ, খাদ্যশস্য উৎপাদনে পরিমাণ হয়েছিল ১৭০ লক্ষ টন। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে পশ্চিমবঙ্গে অগ্রগতি হয়েছিল চমকপ্রদ। ২০০৬-২০০৭ থেকে ২০০৯-২০১০ অর্থবর্ষে এরাজ্যে ১৪২৬ খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পে ৩৩০৫ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে ১ লক্ষ ১৭ হাজারের বেশি লোকের। কৃষির উপর ভিত্তি করে শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। রাজ্যের মধ্যেই ৫০ হাজার কোটি টাকার বাজার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে।

এইসব অগ্রগতির পশ্চাদভূমিতে রয়েছে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ। ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ — জনগণের হাতে ক্ষমতাকে সঞ্চারিত করা। বামফ্রন্ট সরকার প্রথম শপথ গ্রহণকালেই ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের ঘোষণা করা হয়েছিল এবং তা পরবর্তীকালে আইনসঙ্গতভাবে লাগু করা হয়েছিল। সব কিছু মিলে এই রাজ্যে ব্যাপক উদ্যোগ-আ‍‌লোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছিল। এখন মমতা ব্যানার্জির সরকার পঞ্চায়েতের মূলে কুঠারাঘাত করেছে। ক্ষমতা আমলাদের হাতে।

কৃষির উপর ভিত্তি করে শিল্প গড়ে তোলার ভিত্তি প্রস্তুত হয়েছিল। অন্যদিকে বিনিয়োগের হার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। শুধুমাত্র ২০০৯ সালে এ রাজ্যে বিনিয়োগ হয়েছে ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি। পেট্রোলিয়াম কেমিক্যাল, পেট্রো-কেমিক্যাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার ২০০৯ সালে, তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে যেমন বহুগুণ বিনিয়োগ ঘটেছে, তেমনি কাজের সুযোগ বেড়েছে। ১ লক্ষের বেশি ছেলেমেয়ে কলকাতায় তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজ করছে। ভূমিসংস্কার, কৃষি বিকাশ, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত, শিল্পোদ্যোগ, খাদ্য সমস্যা মিটিয়ে দিতে সাহায্য করেছে। রাজ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকার বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল। এরা ক্ষমতায় এসে উলটো পথে হাঁটছে। তৃণমূলীরা রক্তাক্ত হামলা চা‍‌লিয়ে ২৬৮৩৮জন পাট্টাদার ও বর্গাদারকে উচ্ছেদ করেছে। জমির পরিমাণ ৯৪০৪.১৩ একর।

শিক্ষাক্ষেত্রে বাম আমলের বিগত ৩৪ বছরে এ রাজ্যের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। রাজ্যের ৯৯.২৫% শিশুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়। ১০০ শতাংশ করার প্রয়াস চলছিল। ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার বিদ্যালয় স্তর থেকেই গড়ে উঠেছে। বিগত ৩৪ বছরে রাজ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকগুলি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাজ্যের ছেলে‍‌মেয়েদের স্বার্থে অনেকগুলি ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি কলেজ স্থাপিত হয়েছে এ রাজ্যে। বৃদ্ধি পেয়েছে মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা। ১৯৭৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল ২ লক্ষ, ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ১০ লক্ষের বেশি। জনসংখ্যা বেড়েছে ১.৬গুণ। পরীক্ষার্থী ও ছাত্র বেড়েছে ৫ গুণেরও বেশি। গরিব, নিম্নবিত্ত, নতুন পরিবার থেকে শিক্ষার অঙ্গনে এসেছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় ব্যাপক অগ্রগতি ঘটেছে। অর্থ বরাদ্দ বেড়েছে বহুগুণ। শিক্ষা ও শিক্ষকের মর্যাদা বেড়েছে অকল্পনীয়। এরা পরিবর্তনের পরিবর্তন করতে চায়, জাগ্রত জনগণ বাধা দেবেই।

এখন মসজিদের ‘ইমাম’দের কিছু ভাতা পাইয়ে ‘মুসলিম প্রেমের’ ভণ্ডামি করা হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে মমতা ব্যানার্জি বিপজ্জনক খেলায় মেতেছে। মমতা ব্যানার্জি নানা সময়ে অসত্য ঘোষণা করে বসেন। ঘোষণার সঙ্গে পরিকাঠামো ও রূপায়ণ নিয়ে আলোচনা করলেই ফানুস চুপসে যাবে। যেমন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এ রাজ্যে ১০ লক্ষ বেকারের চাকরি দেওয়ার দাবির মানে হলো বাস্তবে ১৮৯৯জনের চাকরি। ঘোষণা, দাবি ও বাস্তবের সঙ্গে এতোটাই ফারাক। এই সরকার এসে অনুমোদিত ৪০টি মাদ্রাসা বাতিল করে দিয়েছে। সংখ্যালঘু সংরক্ষণ (ও বি সি) কথার কথা রয়ে গেছে।

মমতা ব্যানার্জির জমি নীতির কারণে শিল্পায়ন লাটে উঠে গেছে। এখন যা আছে, তাও পালাচ্ছে। এখন যা অবস্থা কোনো উন্নয়ন হবে না, রেল হবে না, সড়ক হবে না। বেকারদের কাজ হবে না। শ্রমদিবস কমে ৪৪ দিনের জায়গায় ২৫/২৬ দিনে নেমেছে জঙ্গলমহলে। অন্যত্র ৯০% থেকে ২৬.৪৭%-এ নেমেছে। জঙ্গল হাসছে না, পাহাড়ও হাসছে না। অশান্তি হচ্ছে। কাঁদছে। এ রাজ্যের সি পি আই (এম)সহ বামপন্থীদের ৩৪ বছর মমতা ব্যানা‍‌র্জিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ভূমিসংস্কারকে চেষ্টা করেও ধ্বংস করতে পারছে না। তবে, কৃষকদের আত্মহত্যার মিছিলের পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছে।

এখন চলছে শিক্ষায় মমতায়‌ন। শিক্ষার সমস্ত স্তরকে মমতাময়ী করার জন্য তাদের ছেলেদের লেলিয়ে দিয়েছে ও দিচ্ছে। অধ্যক্ষ, অধ্যাপক, অধ্যাপিকা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তাদের বশীভূত করতে হবে। না হলে রায়গঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষকে যেভাবে তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত, হেনস্তা হতে হয়েছে, তেমন হবে কিংবা ভাঙড়ের অধ্যাপিকাকে যেমন মস্তান আরাবুল ইসলাম জলের জগ ছুঁড়ে মেরেছিল, তেমন করে মারা হবে। কিংবা চাবি দিয়ে আটকে রাখা হবে। যারা এ কাজ করছে, তারা মমতা ব্যানার্জির স্নেহধন্য তো বটে, বিশেষ ‘এনারজেটিক’ বলে প্রশস্তি হচ্ছে। ফেল করলেও পাস করিয়ে দেওয়ার অদ্ভুত দাবি থেকে নানা ধরনের দাবি ওদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে। পরীক্ষার হলে গণটোকাটুকির প্রতিযোগিতা চলছে।

বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষাকে নিয়ে ছেলেখেলা করছে। রাজ্য সরকার প্রাথমিকে বই দিচ্ছে। ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে গঠিত কমিটি’ বইগুলি প্রস্তুত করেছেন বিজ্ঞাপিত করা হয়েছে। অথচ, এটা উল্লেখের কোনো প্রয়োজন ছিল না। বিষয়বস্তুর মধ্যে ভুল, অবৈজ্ঞানিক ও অসংগত বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার অঙ্গন, কাঠামো, শিক্ষার বিষয়কেও ক্ষতবিক্ষত করার জন্য সচেষ্ট। এভাবেই শিক্ষায় মমতায়ন চলছে। শিক্ষাঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন কোন্‌ স্তরে গেছে যে, গার্ডেনরিচের হরিমোহন ঘোষ কলেজের ঘটনায় একজন কর্তব্যরত পুলিস অফিসারকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ দিতে হলো? অসময়ে এ কোন অন্ধকার নামিয়ে আনা হচ্ছে? বড়ই দুঃসময় এখন। সমাজবিরোধীদের দাপাদাপি চলছে। রক্তাক্ত সমাজ, ক্ষতবিক্ষত শিক্ষাঙ্গন, পরিবেশ কলুষিত। এ রাজ্যে নারীরা আদৌ নিরাপদ নয়।

শিক্ষায় মমতায়নের নামে অধ্যাপক, শিক্ষক, ছাত্রদের খুন, সন্ত্রাস চলছে। এর পাশাপাশি এই সরকারের আমলে চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির মতো কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবাংলার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে দুর্যোগের ঘনঘটা। এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই এগোতে হবে। এগোনো সম্ভব।

WEST BENGAL PANCHAYAT ELECTION BECOMES A FARCE

প্রহসনের আশঙ্কা
(সম্পাদকীয়, গণশক্তি)

অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই ভোট গ্রহণের আগেই ভোটে জিততে চাইছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রথম পর্বের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রথম দিন থেকেই এই উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেছে। মনোনয়নপত্র তোলা থেকেই তৃণমূলের হামলা শুরু হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। বর্ধমান, বাঁকুড়া, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন অঞ্চলে বামফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধি আক্রান্ত হয়েছেন। মনোনয়নপত্র তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তৃণমূল দুষ্কৃতীরা হামলা করেছে। মনোনয়নপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমাও দিতে দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র বামফ্রন্ট প্রতিনিধিরা নন, কংগ্রেস দলের প্রার্থীরাও আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূলের হাতে। মনোনয়নপত্র দাখিল থেকেই যে তৃণমূলের সন্ত্রাস শুরু হবে তার আশঙ্কা ছিল। নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছিল তারা প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত সেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতের আদেশকে মান্যতা দিয়ে নির্বাচন কমিশন ভোটের কর্মসূচী স্থির করেছে। তিন দফায় ভোটগ্রহণ সহ সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। মনোনয়ন থেকে গণনা সবকিছুই শেষ করা হচ্ছে ১৫ই জুলাইয়ের মধ্যে। কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন কি অনুষ্ঠিত হবে? নাকি অষ্টম পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হতে চলেছে? আদালত তার নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কথা না বললেও নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবস্থা করতে বলেছে।

রাজ্য সরকার এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিকে সুকৌশলে এড়িয়ে চলছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে কয়েকটি রাজ্যের কাছে সশস্ত্র বাহিনী চেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই সব রাজ্য থেকে যেটুকু আশ্বাস পাওয়া গেছে তার পরিমাণ খুবই কম। বাহিনীর সংখ্যার বিচারে প্রথম পর্যায়েই প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকছে ৭০ হাজার। ফলে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা থাকবে না। ছত্তিশগড়ের সাম্প্রতিক মাওবাদী হামলার পর অনেক রাজ্য থেকেই বাহিনী পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু সেই বাহিনী আসবে ২৮শে জুন। অর্থাৎ ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েকদিন আগে। তার আগে মনোনয়ন এবং প্রচারে কোনও নিরাপত্তা থাকবে না। প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলে নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিস যে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় তা প্রথম দিনেই বোঝা গেছে। এই অবস্থায় মনোনয়ন দাখিল করতে না পারলে নির্বাচন কমিশনকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রার্থীরা যাতে প্রয়োজনে উচ্চতরস্তরে মনোনয়ন দাখিল করতে পারে সে ব্যাপারে নির্দেশ জারি করতে হবে। রাজ্য সরকারের শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়া কৌশল ছাড়া কিছু নয়। একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বাহিনী চাওয়া পিছু হটা নয় আসলে লোক দেখানো। সরকারে উদ্দেশ্য সময় নেওয়ার আড়ালে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিত না থাকাকে সুনিশ্চিত করা। খাতায় কলমে নিয়ম মানা অথচ কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে না আনা এটাই রাজ্য সরকারের কৌশল। রাজ্য সরকার কমিশনের কাছে যে শেষ চিঠিটি পাঠিয়েছে তাতে কিভাবে বাহিনী মোতায়েন করা হবে তা পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি। নির্বাচনের নিয়ম অনুসারে বিজ্ঞপ্তি জারির পর থেকে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত রাজ্য প্রশাসন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নীতি মানতে চাইছে না। তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করছে শাসক দলের বা রাজনৈতিক স্বার্থে। আদালত কি দেখবে না তাদের আদেশ প্রকৃত অর্থে মানা হচ্ছে কি না? রাজ্য নির্বাচন কমিশন কি শুধুমাত্র নির্বাচনের তারিখ রক্ষার স্বার্থে রাজ্য সরকারের এই কৌশলকে মেনে নেবে? ভোটার, প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হতে বাধ্য।

PANCHAYAT ELECTION-2013 IN WEST BENGAL: VIOLENCE BY TMC GOONS


তৃণমূলের হামলা বর্ধমানের নানা জায়গায় 
আক্রান্ত হয়েও মনোনয়ন পেশ করেছেন বামপন্থী প্রার্থীরা



নিজস্ব সংবাদদাতা

বর্ধমান, ৩০শে মে —তৃণমূলের সন্ত্রাস উপেক্ষা করে বামপন্থী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বৃহস্পতিবার কালনার সুলতানপুর গ্রামপঞ্চায়েতের জন্য। ঘরে ফেরার পরই তাদের উপর আক্রমণ করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। সেই আক্রমণে একটি চোখ হারাতে চলেছেন সিপিআই (এম)’র প্রার্থী নবকুমার শীল। তাঁকে সহ মোট ৪জনের উপর নৃশংস হামলা চালায় তৃণমূলের খুনে বাহিনী। নবকুমার শীলের চোখে আঘাত করার পর তিনি কিছুই দেখতে পারছেন না। তাঁর চিকিৎসা চলছে। জানা গেছে, বাকি সকলেরও গুরুতর আঘাত। অন্যদিকে বর্ধমান বৈকুন্ঠপুর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের কর্মী হেমন্ত ও তাঁর স্ত্রী বর্ণালী দুজনকেই প্রচণ্ড মারধর করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। এরা বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে ভোটে দাঁড়াতে এদিন বড়শুলে এসেছিলেন। সেখানেই তৃণমূলের অন্যগোষ্ঠীর দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই জড়ো হয়েছিল। তারা ওই দম্পতিকে মারধর করে বলে অভিযোগ। দুজনই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দুটি ঘটনায় পুলিস থাকলেও তারা ছিল নীরব দর্শক। 

বর্ধমান জেলায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের ফতোয়া ১০ই জুন পর্যন্ত কোন সিপিআই (এম)’র নেতা বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না। সেই মতো পুলিসকে সাথে নিয়ে বাসে বাসে তল্লাশি চলছে। বৃহস্পতিবারও বামপন্থী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা, মারধর করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। এদিনও পুলিস ছিল তৃণমূলের দাস। পুলিসের সামনেই শুধু আক্রমণ করেছে তাই নয়, পুলিস সিপিআই (এম) নেতাদের ধরে উল্টো রাস্তায় বহু দূরে ছেড়ে দিয়ে উপদেশ দিয়েছে ভোটে কেন দাঁড়াচ্ছেন? ঘরে বসে থাকুন কোন সন্ত্রাস থাকবে না। তবে এদিন অনেক অঞ্চলেই তৃণমূল বাহিনীর বাধা অতিক্রম করেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বামপন্থীরা। 

জামুড়িয়া ব্লকের পার্টি নেতা ও প্রার্থীরা যাতে ব্লক অফিসে মনোনয়নপত্র তুলতে না পারে তার জন্য ওই ব্লক অফিসের সামনে তৃণমূল ক্যাম্প করে বসে বিরোধীদের হুমকি দেয়। তবে মেমারি-২ ব্লকে সিপিআই (এম)’র প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। পার্টি নেতা অমল ঘোষ সহ একাধিক পার্টি কর্মী ও প্রার্থীদের মারধর করে তৃণমূল। এরপরই আশপাশের গ্রাম থেকে খবর পেয়ে গরিব মানুষ দুষ্কৃতীদের প্রতিরোধ করলে তৃণমূলীরা পালিয়ে যায় এবং মনোনয়নপত্র জমা দেন বামপন্থীরা। অন্যদিকে কালনা-১ব্লকে পার্টির নেতা সুনীল সিংহরায় আটঘড়িয়ার মোড়ে প্রার্থীদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে তাঁকে আক্রমণ করে তৃণমূলীরা। পরে পুলিস গিয়ে তৃণমূলীদের কিছু না বলে সুনীল সিংহরায় সহ অন্যান্যদের গাড়ি করে অন্যত্র ছেড়ে দিয়ে উপদেশ দেয় ভোটে কেন দাঁড়াচ্ছেন? না দাঁড়ালে তো এই পরিণতি হয় না। খণ্ডঘোষের পার্টি নেতা অচিন্ত্য রায় সহ অন্যান্য পার্টির প্রার্থীরা ব্লক অফিসে শংসাপত্র নিতে এলে তাঁদের উপর হামলা করে তৃণমূলীরা। তাঁদের বিডিও অফিস থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয়। সেই সময় আত্মরক্ষার জন্য স্থানীয় পুলিস ফাঁড়িতে আশ্রয় নিলে সেখান থেকে পুলিস তাঁদের অমানবিকভাবে তাড়িয়ে দেয়। তাঁদের কাছ থেকে শংসাপত্র, রেশনকার্ড কেড়ে নেয়। এরপর বামুনপুকুর এলাকার এক তৃণমূলের মাতব্বর নিজের ঘর কিছুটা ভেঙে সাজানো মামলা করে পার্টি নেতাদের বিরুদ্ধে। পুলিস আক্রান্ত মানুষদের ধরতেই মীরেপোতা গ্রামে হানা দেয়। এতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গরিব মানুষের মধ্যে। অন্যদিকে রায়না থানার পলাশন গ্রামপঞ্চায়েত প্রধানের শ্বশুরমশাই আত্মীয় বাড়িতে যাচ্ছিলেন, পথে বাস আটকায় তৃণমূলীরা। সাথে ছিল পুলিসও। সেখানে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা হুমকি দেয় ১০ই জুন পর্যন্ত কোন সিপিআই(এম)’র নেতা কোথাও যেতে পারবেন না, এমনকি মেয়ের বাড়িও নয়।


LAUDOHA CPI (M) PARTY OFFICE ATTACKED BY GOONS OF MAMATA BANERJEE


ব্যাপক ভাঙচুর পার্টি দপ্তরে মনোনয়ন দিতে এসে লাউদোহায় আক্রান্ত বামপন্থীরা, জখম ৪ |

নিজস্ব সংবাদদাতা

দুর্গাপুর, ৩০শে মে — বৃহস্পতিবারও পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলে তৃণমূলী সন্ত্রাস জারি রইলো। এদিন পুলিসের উপস্থিতিতে দফায় দফায় তৃণমূলীরা হামলা চালিয়েছে লাউদোহাতে। দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লক অফিসে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে এসেছিলেন বামপন্থী প্রার্থীরা। তৃণমূলীদের হামলায় পার্টিনেতা সুশান্ত ব্যানার্জি সহ মোট ৪ জন আহত হয়েছেন। সুশান্ত ব্যানার্জিকে দুর্গাপুরে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তৃণমূলীরা দু’দফায় চড়াও হয়ে হামলা চালিয়েছে পার্টির লাউদোহা লোকাল কমিটির দপ্তরেও। তৃণমূল নেতা উত্তম মুখার্জি (বাপি), সুজিত মুখার্জির নেতৃত্বে প্রায় ২০০ সশস্ত্র তৃণমূলবাহিনী দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লক অফিস চত্বরের দখল নিয়েছিল। বামপন্থী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে এলেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তৃণমূলবাহিনী। লাউদোহা থানার ওসি সন্দীপকুমার চট্টরাজ নিজে তেড়ে যান পার্টিনেতা সুশান্ত ব্যানার্জিকে লক্ষ্য করে। ওসি সুশান্ত ব্যানার্জিকে হুমকি দিয়ে বলেন, এখানে কেন এসেছেন? আপনাকে গ্রেপ্তার করবো। একদিকে পার্টিনেতাকে ঘিরে ওসি-র হুমকি, অন্যদিকে বামপন্থী প্রার্থী প্রস্তাবকদের ঘিরে মারধর চলে। সুশান্ত ব্যানার্জিকে পুলিসের সামনেই ঘিরে ধরে প্রহার করা হয়। প্রহার করা হয় কাজল চ্যাটার্জিকে। অল্প দূরেই পার্টির লোকাল কমিটির দপ্তর। প্রাণ রক্ষার জন্য বামপন্থী প্রার্থী-প্রস্তাবকরা পার্টি দপ্তরে আশ্রয় নেন। সেখানেও চড়াও হয় তৃণমূলবাহিনী। দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর ও মারধর করা হয়।

এতো কিছুর পরও বামপন্থী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য আবার যান ব্লক অফিসে। আবার তাদের ওপর হামলা হয়। এদিকে অনেক পরে অতিরিক্ত পুলিস কমিশনারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিসবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তৃণমূলীদের হামলা উপেক্ষা করেই বামপন্থী প্রার্থীরা বিডিও দপ্তরে ঢুকেছিলেন। মোট ৩৪ জন বামফ্রন্ট প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বামপন্থী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করতে সমর্থ হওয়ায় তৃণমূলবাহিনী আবার চড়াও হয় পার্টির লোকাল কমিটির দপ্তরে। ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় দ্বিতীয় দফায়। থানায় এফ আই আর হয়েছে। কিন্তু কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

এদিন তৃণমূলবাহিনী রানীগঞ্জে রানীসায়র মোড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে রতিবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বামপন্থী প্রার্থী অশোক বাউরিকে ঘিরে ধরে বেদম প্রহার করে। বিডিও দপ্তর থেকে তফসিলী জাতি সংক্রান্ত শংসাপত্র নিয়ে তিনি ফিরছিলেন। তৃণমূলীরা তার শংসাপত্র ছিঁড়ে দেয়। পুলিসের উপস্থিতিতেই হামলা চালিয়েছে তৃণমূলের ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী। পুলিস ছিল দর্শকের ভূমিকায়। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

গলসীতে তৃণমূলী সন্ত্রাস থেমে নেই। বুধবার রাতে কামালপুর গ্রামে সশস্ত্র তৃণমূলবাহিনী হামলা চালিয়েছে। পার্টি সদস্য সুবিমল ভট্টাচার্যের ওপর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুঁড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সুবিমল এই ধারণা করে তার ওপর হামলা সংগঠিত হয়। রাতে গ্রামের পথে ঘিরে ধরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।


SARADHA SCAM NEEDS CBI ENQUIRY:সারদা কেলেঙ্কারি‍‌তে ফের সি বি আই তদন্তের দাবি |

সারদা কেলেঙ্কারি‍‌তে ফের সি বি আই তদন্তের দাবি |

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি

কলকাতা, ৩০শে মে— সারদাগোষ্ঠীর কেলেঙ্কারির তদন্ত নিয়ে গড়িমসি হচ্ছে। তদন্তের কাজ বিলম্ব হচ্ছে কেন? এখনই উচিত হাই‍‌কোর্টের তত্ত্বাবধানে সি বি আই-কে দিয়ে সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত করানো। বৃহস্পতিবার এক আলোচনাসভায় এই মতামত জানিয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত। এদিন তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সারদা তদন্তে সময় নষ্ট করে প্রতারকদের সম্পত্তি সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে না তো। এদিন ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে আলোচনাসভার আয়োজন করেছি‍‌লো ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (পশ্চিমবঙ্গ)। আলোচনার বিষয় ছিলো ‘চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি, সামাজিক প্রভাব, কার্যকরী নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা।’

আলোচনায় অসীম দাশগুপ্ত বলেন, সারদা কেলেঙ্কারির জন্য আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়া। সাধারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে প্রায় ৩০ লক্ষ আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া এই গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাম্প্রতিক এই কেলেঙ্কারির জন্য ২০ জন আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের করণীয় কাজ গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য সরকার প্রতারকের সম্পত্তি আটক করে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারতো। আদালতের নিয়োগ করা প্রশাসকের মাধ্যমে রাজ্য সরকার আটক করা সম্পত্তি নিলাম করে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দিতে পারতো। এ কাজ বর্তমান রাজ্য সরকার করছে না। বর্তমান রাজ্য সরকার তদন্তের কাজেও কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না। অতীতে এই কাজ (১৯৮০-১৯৮১) অতি দ্রুততার সঙ্গে রাজ্য সরকার করতে সক্ষম হয়েছিলো।

দাশগুপ্ত বলেন, এই ধরনের চিট ফান্ডগুলিকে প্রাথমিক অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প মন্ত্রকের অধীন কোম্পানি নিয়ামক দপ্তর। এই অনুমোদন পেয়েই চিট ফান্ডগুলি দ্বিতীয় অনুমোদন নেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (আর বি আই)। এরপর এ‍ই চিট ফান্ডগুলির বেআইনী কার্যকলাপের যেকোনো লিখিত অভিযোগ পেলে রাজ্য সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের কাজ শুরু করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার মালিককে গ্রেপ্তার করতে পারে রাজ্য সরকার। এছাড়াও রাজ্য সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যেকোনো চিট ফান্ডের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের কাজ করে তার রিপোর্ট আর বি আই এবং সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়াকেই (সেবি) দিতে পারে। বামফ্রন্ট সরকার ২০১০ সালে সারদা গোষ্ঠীর যাবতীয় বেআইনী কার্যকলাপের রিপোর্ট সেবি’র হাতে তুলে দিয়েছিলো। অবাক হওয়ার মতো ঘটনা, সেবি সেই ২০১০ সালের রাজ্য সরকারের রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে ২৩শে এপ্রিল সারদা গোষ্ঠীকে সতর্ক করে। সারদাকে সতর্ক করতে সেবি’র কেন তিনবছর সময় লাগলো সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।

দাশগুপ্ত বলেন, চিট ফান্ড নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার রাজ্যের আইন তৈরি করতে পারে। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সেই আইন তৈরি হয়েছিলো। সর্বসম্মতির সেই আইন বিধানসভায় পাশ হলেও যেকোনো অজ্ঞাত কারণে সেই আইন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি। এই আইন অনুমোদনের জন্য সেসময় রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারকে ১২টি চিঠি দিয়েছিলো। দেশের দুটি রাজ্য এই একই অনুমোদন পেলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে অনুমোদন মেলেনি। সেসময় তৃণমূল কংগ্রেস দল কেন্দ্রীয় সরকারের শরিক ছিলো। তারাও এই আইন অনুমোদনের কথা বলেনি। গত ২ বছর চিট ফান্ডগুলির রমরমা বেড়ে যায়। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে রাজ্য সরকারই আর্থিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি শাখা তৈরি করেছিলো। তৃণমূল দল সরকারের দায়িত্ব নিয়ে সেই আর্থিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ শাখাটি তুলে দেয়।

এদিন দাশগুপ্ত বলেন, সারদা কেলেঙ্কারির সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট এই কেলেঙ্কারির নথিপত্র দেখতে চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। রাজ্য পুলিস কেন্দ্রীয় এই সংস্থাটিকে সারদার নথি দেখাতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত এই কেন্দ্রীয় সংস্থাটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এদিন বলেন, এই ধরনের বেআইনী চিট ফান্ডগুলি নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন সেবি’র ১৯৯২ সালের আইন সংশোধনের প্রয়োজন। সেবি’র আইনে প্রতারককে গ্রেপ্তার করার বা আটক করার কোনো ধারা নেই। প্রতারককে আটক করার ক্ষমতা সেবি’র থাকা উচিত। তিনি ব‍‌লেন, আর বি আই-র প্রতি মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা আছে। এই ধরনের চিট ফান্ডগুলির অনুমোদনের আগে কোম্পানি নিয়ামক সংস্থার সঙ্গে আর বি আই-র আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। আর বি আই-কে এই চিট ফান্ডগুলির মনিটারিংয়ের দায়িত্ব নিতে হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তার সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এই ধরনের আর্থিক সংস্থাগুলির খোঁজ নিতে পারে। এছাড়া সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কেন্দ্রীয় আর্থিক নজরদারি সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এদিন বলেন, রাজ্যগুলির ক্ষুদ্র ঋণ সংগ্রহ অভিযান বাড়াতে এবং আর্থিক প্রতারণার বিরুদ্ধে নজরদারি করতে গণতান্ত্রিক মঞ্চ তৈরি করা প্রয়োজন। এদিন আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তপন দাস। উপস্থিত ছিলেন প্রদীপ বিশ্বাস, জয়দেব দাশগুপ্ত, সুখময় সরকার, কল্যাণী চক্রবর্তী প্রমুখ।

30TH MAY - FOUNDATION DAY OF CENTRE OF INDIAN TRADE UNIONS


শ্রমজীবীর অধিকার রক্ষায় লড়াইয়ের পথেই থাকবে সি আই টি ইউ, ঘোষণা প্রতিষ্ঠা দিবসে |

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি

কলকাতা, ৩০শে মে— আক্রান্ত শ্রমজীবীর সংগঠিত হওয়ার অধিকার। লুট হচ্ছে রুটিরুজির অধিকারও। তবু লড়াইয়ের পথ থেকে সরছে না সি আই টি ইউ। সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসে সি আই টি ইউ-র রক্তপতাকা উত্তোলন করে একথা জানালেন সি আই টি ইউ-র রাজ্য সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় শ্রমিক ভবনে সংগঠনের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাদিবস উদ্‌যাপিত হলো। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সি আই টি ইউ-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দীপক দাশগুপ্ত জানালেন, আগামী ১৫দিন ধরে চলবে এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের নানা অনুষ্ঠান। সি আই টি ইউ রাজ্য সভাপতি এদিন বললেন, যেহেতু এবছর রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে শামিল শ্রমিক- কর্মচারী বন্ধুরা, এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র পেশের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আক্রান্ত বামপন্থীদের পাশে দাঁড়িয়েই সি আই টি ইউ কর্মী-সংগঠকরা নির্বাচনের প্রচারে শামিল হচ্ছেন। তাই অন্যান্য বছরের মতো এবছর সি আই টি ইউ-র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে রাজ্যের সর্বত্র বড় আকারের সভা, সমাবেশ সংগঠিত হচ্ছে না। তবে এদিন কলকাতার সর্বত্র কর্মক্ষেত্রে, সংগঠনের দপ্তরে সি আই টি ইউ-র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে মর্যাদার সঙ্গেই।

সি আই টি ইউ-র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে এদিন শ্রমিক ভবনে শহীদবেদীতে মাল্যদান করেছেন সি আই টি ইউ রাজ্য সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দীপক দাশগুপ্ত, সি আই টি ইউ নেতা কালী ঘোষ, আরতি দাশগুপ্ত, রাজদেও গোয়ালা, অনাদি সাহু, নিরঞ্জন চ্যাটার্জি, দেবাঞ্জন চক্রবর্তী, প্রশান্ত নন্দী চৌধুরি, মৃণাল দাস, মহম্মদ নিজামুদ্দিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এদিন মাল্যদানের পর ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে শ্যামল চক্রবর্তী বলেছেন, গত ২০-২১শে’র ধর্মঘটের আগের দিন পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। তবে শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকেও স্বীকার করতে হয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি ন্যায্য। স্বীকার করেছেন তিনি শুধু শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থবাহী দাবিতে নয়, দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই দাবিগুলি উত্থাপিত হয়েছে। একপ্রস্হ আলোচনা হয়েছে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে। মীমাংসা হয়নি। আশা করি আরও আলোচনা হবে, নতুবা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথেই শামিল হবেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এদিন দীপক দাশগুপ্ত বলেন, আগামী ১৭ই জুন কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচী সংগঠিত হবে সমস্ত সরকারী দপ্তরে। কলকাতায় ঐদিন কেন্দ্রীয় অবস্থান বিক্ষোভের সমাবেশ সংগঠিত হবে সি ই এস সি-র সদর দপ্তর ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে।

এদিন রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা নিয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শ্যামল চক্রবর্তী বলেছেন, রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল সরকার ছেলেখেলা করছে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, আমরা চাই পূর্ণ নিরাপত্তায় ভোট হোক। অনেক আগে থেকেই সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে টালবাহানা করছে। অন্য রাজ্য থেকে যে পর্যাপ্ত বাহিনী মিলবে না তা আগেই জানতো সরকার। আসলে রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট বানচাল করতে, বিলম্বিত করতে মরিয়া সরকার। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে মৃত্যুর মিছিল বইবে।

WEST BENGAL STATE ELECTION COMMISSION UNABLE TO PROTECT OPPOSITION CANDIDATES IN PANCHAYAT ELECTIONS-2013


পর্যাপ্ত বাহিনী না থাকায় মনোনয়নে নিরাপত্তা দিতে পারছে না কমিশন |

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি

কলকাতা, ৩০শে মে— মনোনয়ন জমা নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন অফিসে আসা অভিযোগের পরিমাণ বাড়ছেই। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী না থাকায় কমিশন এখনও পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নিতে পারছে না। বুধবারের মতোই বৃহস্পতিবারও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় বিরোধীদের ওপরে বাধা দেওয়ার প্রচুর অভিযোগ এসেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কিন্তু জেলায় জেলায় কিছু নির্দেশ পাঠানো ছাড়া কমিশন এই সব ক্ষেত্রে প্রায় কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারেনি। কমিশনের পক্ষ থেকে স্বীকারও করে নেওয়া হয়েছে, চাহিদা মতো বাহিনী আমরা মনোনয়ন পর্বে এখনো পর্যন্ত পাইনি। 

এখানেই শেষ নয়, রাজ্য পুলিসের যে বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, তাকেও নিরপেক্ষভাবে কাজের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করতে দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। এই প্রসঙ্গেও সরকার নজিরবিহীন সংঘাতে নেমেছে কমিশনের সঙ্গে। পুলিস কর্তৃপক্ষকে কমিশনের অধীনে পাঠানোয় আপত্তি জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডেকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র। এতে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচন কমিশন স্থির করেছে, আইন স্মরণ করিয়ে কড়া জবাব পাঠানো হবে রাজ্য সরকারকে। 

গত সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশন নোটিফিকেশন বা বিজ্ঞপ্তি জারি করে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়সূচী ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচনী আচরণ বিধি কার্যকরী হয়ে গেছে। এর সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচন কমিশন আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুলিস ও প্রশাসণের সব আধিকারিকদের ঐদিন থেকে কমিশনের আওতায় নিয়ে আসে। বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এভাবেই সরকারী আধিকারিকদের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশের ফলে কমিশনের পক্ষে পুলিস কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়ে। কিন্তু রাজ্য সরকার কোনোমতেই তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ ছাড়তে নারাজ। এই কারণে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডেকে চিঠি লিখে কমিশনের ঐ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রকৃতপক্ষে রাজ্য সরকার কমিশনকে পুলিস আধিকারিকদের নিয়ন্ত্রণ চাওয়ার এক্তিয়ার ছাড়তে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নিতে বলেছে। 

কিন্তু কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কড়া মনোভাব নেওয়া হয়েছে। কমিশনার মীরা পাণ্ডে বলেছেন, রাজ্য সরকারকে নিশ্চয়ই সংবিধানের ২৪৩ (কে) ধারা মনে করিয়ে দিতে হবে না! কমিশন যা করেছে আইন মেনেই করেছে।

বৃহস্পতিবার কমিশনের সচিব তাপস রায় জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘোষণার পরে পুলিস ও প্রশাসন কমিশনের আওতাতেই চলে আসে। রাজ্য সরকারের চিঠি আমরা পেয়েছি, বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই নেই। আমরা রাজ্য সরকারকে জবাব পাঠিয়ে দেবো। 

কিন্তু রাজ্য সরকারের মনোভাব থেকেও স্পষ্ট, তারা পুলিসকে কমিশনের নির্দেশ মেনে চলার বদলে দলীয় স্বার্থে চালিত করতেই ব্যস্ত। মনোনয়ন পত্র তোলা ও জমা দেওয়ার পর্বে দক্ষিণবঙ্গের ৯টি জেলায় দু’দিন ধরে ঘটে চলা হামলা ও ভীতি প্রদর্শনের সময়ে পুলিসের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা থেকেও সেটা প্রমাণিত। বৃহস্পতিবারও নির্বাচন কমিশনের অফিসে এই নিয়ে গোছা গোছা অভিযোগ জমা পড়েছে। কমিশনার মীরা পাণ্ডে বা সচিব তাপস রায় কেউই সাংবাদিকদের বারবার প্রশ্ন সত্ত্বেও ‘নির্বিঘ্নে মনোনয়ন পর্ব চলছে’ এমন কথাটি বলতে পারেননি। তাঁরা যে চেষ্টা করছেন কেবল সেইটুকুই জানিয়েছেন।

তৃণমূলের দলীয় বাহিনীর মতো আচরণ করা পুলিসের হাতে মনোনয়ন পর্ব যে নির্বিঘ্নে হতে পারে না, তার প্রমাণ এদিন মিলেছে হুগলীর হরিপালেও। পুলিসের উপস্থিতি সত্ত্বেও এদিন সেখানে সি পি আই (এম) প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। তৃণমূলের ছোঁড়া ইটের আঘাতে জখম হয়েছেন অনেকে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর এসেছে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। কমিশনের সচিব জানিয়েছেন, ‘‘পুলিস সি পি আই (এম) প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল বি ডি ও অফিসে। সেই সময়ে উভয়পক্ষে ইট পাথর ছোঁড়াছুঁড়ি হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন।’’ পুলিস যাদের নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তাঁরা কী করে আক্রান্ত হলেন, পুলিস থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কেন মনোনয়ন জমা দিতে পারলেন না, এই সব ব্যাখ্যা কমিশনের নাগালের বাইরেই থেকে গেছে। 

এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীপা দাশমুন্সী ও কংগ্রেস বিধায়ক মানস ভুঁইয়া রাজ্য নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন। তাঁরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, শেষবেলায় ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে কী হবে! শাসকদল বি ডি ও অফিসে মনোনয়ন জমা দিতে দিচ্ছে না, ভয় দেখাচ্ছে, হামলা করছে। কমিশন এখনই কিছু ব্যবস্থা করুক। কংগ্রেস নেতাদের কথায়, মীরা পাণ্ডে তাঁর অসহায়তার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে পুরো তথ্য এখনো আমরাই পাইনি সরকারের কাছ থেকে। 

এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যের ৯টি জেলায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ চলছে। কমিশনের সচিব তাপস রায় জানিয়েছেন, বুধবার সবমিলিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ২০৭৯টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৩০৪টি এবং জেলা পরিষদে ১৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। বৃহস্পতিবার গ্রাম পঞ্চায়েতে ২৪৫৩টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৩৪৯টি, জেলা পরিষদে ৩০টি মনোনয়ন পত্র জমা পড়েছে। এরমধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে তৃণমূল ১৪৩০টি, বি জে পি ৯৪টি, কংগ্রেস ৩৮৭টি, সি পি আই (এম) ১৯৮৩টি, সি পি আই ৬১টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৬টি, এবং আর এস পি ৬৬টি মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

VIOLENCE BY GOONS OF MAMATA INSIDE ASANSOL MUNICIPAL CORPORATION


আসানসোলে কর্পোরেশনের বোর্ড সভাতেই তৃণমূলের হাঙ্গামা |

নিজস্ব সংবাদদাতা

আসানসোল, ৩০শে মে — আসানসোল পৌরনিগমের বোর্ড মিটিংয়ে তৃণমূলীদের হাতে প্রহৃত হলেন সি পি আই (এম) কাউন্সিলার। বৃহস্পতিবার আসানসোলে ঠিক যেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঘটে যাওয়া ঘটনার অ্যাকশন রিপ্লে। সেখানে চিট ফান্ড কাণ্ডের কথা তুলতে গিয়ে প্রহৃত হয়েছিলেন বিধায়ক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি। আর এদিন ভুয়া সাফাই কর্মীদের বেতন ও জ্বালানী তেল বাবদ কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির ঘটনা না তুলতে দেবার মরিয়া চেষ্টায় তৃণমূলী এম আই সি অনিমেষ দাসের হাতে মার খেয়ে মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো সি পি আই (এম) কাউন্সিলার ওয়াসিমূল হককে। ধাক্কা মারা হলো সি পি আই (এম) কাউন্সিলার দিপালী মণ্ডলকেও।

এদিন সকাল থেকেই তৃণমূলের জোটসঙ্গী কংগ্রেস দলের কাউন্সিলাররা পূর্ব‍ ঘোষিত মতো সকাল থেকেই পৌর নিগমের সামনে মঞ্চ বেঁধে মাইক লাগিয়ে তৃণমূলী মেয়র ও মেয়র পারিষদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং সাফাইকর্মীদের বেতন ‍‌নিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত তাপস ‍ ঘোষের সঙ্গে তৃণমূলী আঁতাতের অভিযোগে ‍‌ ভাষণ দিতে থাকেন। তারা সেই অবস্থান মঞ্চ‍‌ ‍‌ থেকেই ঘোষণা করেন যে এদিনের বোর্ড মিটিং তারা বয়কট করবেন। উল্লেখ করা যেতে পারে ৫০ জন কাউন্সিলার এর মধ্যে ৩ জন প্রয়াত হওয়ায় এখন মোট কাউন্সিলারের সংখ্যা ৪৭। এরমধ্যে ১২জন কংগ্রেসের।

বেলা ৪টায় বোর্ডমিটিং শুরু হলে দেখা যায় সভায় বামফ্রন্টের ১৫জন ও তৃণমূলের ১২জন কাউন্সিলার উপস্থিত হয়েছেন। স্পষ্টতই সংখ্যালঘু হয়ে পড়া তৃণমূলীরা জানতো এদিনের সভায় অবশ্যই সাফাইকর্মীদের বেতন নিয়ে দুর্নীতি ও ধৃত তাপস ঘোষের সঙ্গে বর্তমান মেয়রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। সেইজন্য প্রথম থেকেই যেনতেন প্রকারে তারা সভা বন্ধ করার প্রয়াস ‍শুরু করে।

প্রথমেই তারা প্রয়াত কাউন্সিলার বীরেন করের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের সঙ্গে বিগত বোর্ডমিটিং-এর কার্য বিবরণী পাস করিয়ে নেবার চেষ্টা করে। কারণ তারা জানতো শোক প্রস্তাবের কেউ বিরোধিতা করবে না আর কার্য বিবরণী পাস করানোর মতো সংখ্যা গরিষ্ঠতা তাদের নেই। স্বভাবতই বামফ্রন্ট কাউন্সিলাররা প্রতিবাদ জানিয়ে বলতে থাকেন দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়, এগুলি আলাদাভাবে পাস করাতে হবে। গোলমালের মধ্যে মেয়র উঠে দাঁড়িয়ে আগেকার বোর্ডের আমলের একটি বাতিল হয়ে যাওয়া চুক্তিপত্র পড়তে থাকেন। স্বভাবতই বামফ্রন্ট কাউন্সিলাররা এর তীব্র প্রতিবাদ করতে থাকেন। গোলমালের মধ্যে তৃণমূলী এম আই সি অনিমেষ দাস, যাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেসীরাই চিট ফান্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগে সোচ্চার, তিনি এসে ওয়াসিমূল হকের বুকে আঘাত করেন। আহত কাউন্সিলার মাটিতে পড়ে যান। এই সময় বামপন্থী কাউন্সিলার দীপালি মণ্ডলকেও ধাক্কা মারা হয়। ওয়াসিমূল হককে গুরুতর আহত অবস্থায় কর্পোরেশন থেকেই মহকুমা হাসপাতালে ভ‍‌র্তি করা হয়।

LAW VIOLATION IN WEST BENGAL: NO NEED FOR PRIOR PERMISSION


আজ রাজ্যজুড়ে আইন অমান্য কারো অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন নেই : বিমান বসু

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি

কলকাতা, ৩০শে মে— শুক্রবার ঝড়-জল-বৃষ্টি যাই হোক, বামফ্রন্টের আইন অমান্য কর্মসূচী হচ্ছেই। বৃহস্পতিবার বামফ্রন্ট চেয়ারম‌্যান এবং সি পি আই (এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিমান বসু সাফ একথা জানিয়ে দিলেন। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটা স্বীকৃত পদ্ধতি আইন অমান্য কর্মসূচী। এই অধিকার আমরা ছেড়ে দিতে চাই না। তাই আইন অমান্য কর্মসূচী হবেই। এর জন্য আমাদের কারো অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, সারদা গোষ্ঠীর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অবিলম্বে আমানতকারীদের টাকা ফেরত, চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে আদালতের তত্ত্বাবধানে সি বি আই তদন্ত, ছাত্রনেতা সুদীপ্ত গুপ্তের মৃত্যুর বিচারবিভাগীয় তদন্ত, রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করা, খাদ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং নারীর মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া—এই ৮ দফা দাবিতে এপ্রিল-মে মাসে রাজ্যজুড়ে লাগাতার প্রচার আন্দোলনের শেষে শুক্রবার প্রতিটি জেলায় আইন অমান্য কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট। প্রতিটি জেলায় এই কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে ব‌্যাপক প্রচার-প্রস্তুতি চলছে। 

এদিন বিমান বসু এই প্রসঙ্গে বলেন, এটা আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচী। প্রতিটি জেলাতেই এই কর্মসূচী হবে। কোথাও একাধিক জায়গায় আইন অমান্য হবে। যেমন, বর্ধমান জেলায় বর্ধমান শহর ছাড়াও দুর্গাপুরে আইন অমান্য করা হবে। একমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার যেহেতু জেলা সদর এখনও আলিপুরে রয়েছে, তাই ওই জেলার বামফ্রন্ট কর্মীরা কলকাতার কর্মসূচীতেই যোগ দেবেন। কলকাতা জেলার কর্মসূচী হবে রানী রাসমণি অ‌্যাভিনিউয়ে বিকাল ৩টায় জমায়েতে । রাজ্য বামফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ কলকাতার কর্মসূচীতেই যোগ দেবেন। বিমান বসু বলেন, আমাদের দাবি পেশের জন্য আমরা আইন অমান্য করবো। তার আগে সভার জন্য আমরা অনুমতি নিয়েছি। কিন্তু আইন অমান্যের জন্য কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই। 

প্রসঙ্গত, কলকাতা পুলিসের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একতরফাভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে শহরে আইন অমান্য কর্মসূচী করা যাবে না। বামফ্রন্টের আইন অমান্যের পূর্বঘোষিত কর্মসূচীকে ঠেকাতেই কলকাতা পুলিসকে দিয়ে এই একতরফা ফতোয়া জারি করেছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। যদিও রাজ্য বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে আগেই সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতই ফতোয়া জারি হোক ৩১শে মে ৮দফা দাবিতে আইন অমান্য হবেই। এদিন বিমান বসুও সেকথা জানিয়ে দেন। 

এদিকে, প্রথম পর্বের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ শুরু হতেই শাসক দল তৃণমূল যেভাবে বিভিন্ন জেলায় বামফ্রন্টের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা-আক্রমণ শুরু করেছে, এদিন তার তীব্র নিন্দা করেন বিমান বসু। তিনি বলেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা নেয়নি। যারফলে, তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা সর্বত্র হামলা-আক্রমণ শুরু করেছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পুলিস-প্রশাসনের একাংশ তৃণমূলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধায় নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হতে চলেছে। 

বিভিন্ন জেলার ঘটনা উল্লেখ করে বিমান বসু বিবৃতিতে বলেন, সরকারী দপ্তর থেকে মনোনয়নপত্র বা শংসাপত্র সংগ্রহ করতে গেলে অথবা মনোনয়ন জমা দিতে গেলে বামফ্রন্ট প্রার্থীরা আক্রমণের মুখে পড়ছেন। অনেক জায়গায় ব্লক অফিসের ভেতরে আধিকারিকদের সামনে এই ঘটনা ঘটছে। সবাইকে শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, বর্ধমান জেলার রায়না-১ ও ২, মেমারি-২, খণ্ডঘোষ, বর্ধমান সদর-১, আউশগ্রাম-১ ও ২, মঙ্গলকোট, কালনা-১, দূর্গাপুর-ফরিদপুর, বরাবনী ব্লক এলাকাতে বামফ্রন্টের প্রতিনিধিরা আক্রান্ত হয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙর-২ ব্লকে বামফ্রন্ট প্রতিনিধিরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় আক্রান্ত হয়েছেন। এই ব্লকের ভোগালি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে বামফ্রন্ট প্রতিনিধিদের ভোটার পরিচয়পত্র, টাকা-পয়সা, দরকারী কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা একাজ করেছে বলে স্থানীয় মানুষজন জানিয়েছেন। 

হাওড়ার উলুবেড়িয়া মহকুমার বিভিন্ন ব্লকে একই ধরনের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর, সোনামুখী, তালডাংরা, জয়পুর, কোতুলপুর, ইন্দাস ও পাত্রসায়ের ব্লকে বামফ্রন্ট প্রতিনিধিদের ওপর আক্রমণ করেছে তৃণমূলীরা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া, মাতঙ্গিনী, পটাশপুর-১ ও পাঁশকুড়া ব্লকে আক্রান্ত হন বামফ্রন্ট প্রতিনিধিরা। এছাড়াও কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমা এবং উত্তর ২৪পরগনার সন্দেশখালিতে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সভা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বামফ্রন্ট সংগঠকরা। 

বিমান বসু এই প্রেক্ষাপটে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত ব‌্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, রাজ্য সরকারের পুলিস-প্রশাসনের একাংশ তৃণমূলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে। যার ফলে গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব‌্যবস্থা আজ বিপর্যয়ের মুখে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন ব‌্যবস্থা না নিলে নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হবে। তিনি বলেন, গত দু’বছরে তৃণমূল যেভাবে দলতন্ত্রের প্রকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করে চলেছে, তাতে গণতন্ত্রের নাভিশ্বাস উঠেছে। তিনি এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের কল‌্যাণী শহরের এক কর্মকর্তাকে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ‌্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত করার উদাহরণ দিয়ে বলেন, বামফ্রন্টের ৩৪বছরে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

BHABATOSH ROY

কমরেড ভবতোষ রায়ের জীবনাবসান

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ৩০শে মে —সরকারী কর্মচারী আন্দোলনের প্রবীণ নেতা কমরেড ভবতোষ রায় বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগরের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩। বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যার জন্য বিধাননগরের একটি বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা চলছিল কয়েকদিন আগে। মঙ্গলবার সেখান থেকে তাঁকে বাড়িতে আনা হয়। কমরেড ভবতোষ রায়ের মৃত্যুতে রাজ্যের সর্বত্রই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারী কর্মচারী, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের মধ্যে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সমিতি সমূহের সেন্ট্রাল কো -অর্ডিনেশন কমিটির নেতৃবৃন্দ, রাজ্য কো – অর্ডিনেশন কমিটি, ১২ই জুলাই কমিটি, পেনশনার্স সমিতির নেতৃবৃন্দ অনেকেই ছুটে যান বাসভবনে। তাঁরা প্রয়াত নেতার প্রতি শোকজ্ঞাপন করেন। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান তথা সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু শোক বিবৃতিতে বলেছেন, ভবতোষ রায় জীবনভর সরকারী কর্মচারীদের স্বার্থে লড়াই করে গেছেন। তিনি ছিলেন একজন সুদক্ষ সংগঠক। সকলের কাছেই গ্রাহ্য এক নেতা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র কমরেড ভবতোষ রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, শিক্ষক, কর্মচারী এবং শ্রমজীবী আন্দোলনকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে আজীবন নিরলস দায়িত্ব তিনি পালন করে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে শ্রমজীবী আন্দোলনে বিরাট ক্ষতি হলো। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি। সি পি আই (এম) রাজ্য দপ্তরে এদিন কমরেড ভবতোষ রায়ের মরদেহ নিয়ে এলে সেখানে বিমান বসু ছাড়াও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পার্টি নেতা মহম্মদ আমিন, মদন ঘোষ, অমিতাভ বসু, অরিন্দম কোঙার, গণশক্তি পত্রিকার সম্পাদক নারায়ণ দত্ত, দেশহিতৈষী পত্রিকার সম্পাদক অশোক ব্যানার্জি সহ আরো অনেকেই। নিমতলা শ্মশানে এদিন বিকালে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। 

তার আগে এদিন দুপুরে কমরেড ভবতোষ রায়ের মরদেহ নিয়ে সতীর্থরা প্রথমে যান পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারী পেনশনার্স সমিতির কেন্দ্রীয় দপ্তরে। সেখানে মরদেহে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনের সহ-সম্পাদক অজয় সেন, প্রবীণ নেতা হিমাংশু রায়,পাঁচকড়ি নায়েক, ভানুদেব চক্রবর্তী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এরপরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ১২ই জুলাই কমিটির কেন্দ্রীয় দপ্তর কে জি বসু ভবনে। এখানে শ্রদ্ধা জানান কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারী আন্দোলনের প্রাক্তন নেতা দীপেন ঘোষ, কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারী আন্দোলনের নেতা পীযূষ রায়, সমীর ভট্টাচার্য, শিবশঙ্কর রায়, রবি ভট্টাচার্য, দিলীপ রায়, অনুপ চক্রবর্তী, নীলিমা ভট্টাচার্য প্রমুখ। এরপরে মরদেহ কর্মচারী সমিতির দপ্তরে গেলে সেখানে মালা দেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক মনোজ গুহ, সভাপতি অশোক পাত্র, রাজ্য সরকারী কর্মচারী আন্দোলনের সর্বভারতীয় ফেডারেশনের নেতা সুকোমল সেন, অজয় মুখোপাধ্যায়, প্রণব চট্টোপাধ্যায়, স্মরজিৎ রায়চৌধুরী, জ্যোতিপ্রসাদ বসু, মলয় রায়,শান্তি ভট্টাচার্য, শুভাশিস গুপ্ত, পীযূষ কর, বিমল দে, বিমল ঘোষদস্তিদার প্রমুখ। রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি এবং অন্তর্ভুক্ত ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সংগঠনের পক্ষে অঞ্জন ঘোষ প্রমুখ।

১৯২৯ সালে অবিভক্ত বাংলায় ফরিদপুরের গ্রামে তাঁর জন্ম। সেখানেই তাঁর ছাত্র জীবনের শুরু। ১৯৪৪ সালে গ্রামের স্কুল থেকেই ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাশ করেন। দেশভাগের পর তিনি কলকাতায় চলে আসেন। এখানে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শুরু করলেও অর্থাভাবে তা মাঝপথে থেমে যায়। এরপরে বেশ কিছুটা সময়ের ব্যবধানে বঙ্গবাসী কলেজ থেকে স্নাতক হন। এরপরেই শুরু পেশাগত জীবন। 

কিছুদিন এক সওদাগরী দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ১৯৫২ সালে পি এস সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরে চাকরিতে যোগ দেন। অর্থ দপ্তরের করণিক হিসাবে কাজে যোগ দেওয়ার সাথে সাথেই তিনি পশ্চিমবঙ্গ সেক্রেটারিয়েট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন। এই সময়টাই ছিল রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের আন্দোলনের যৌথ মঞ্চ রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির গঠন পর্বের কাল। প্রয়াত অরবিন্দ ঘোষ, রাজেন ভট্টাচার্য, শ্যামসুন্দর ভট্টাচার্য, নরেন গুপ্ত, অজয় মুখোপাধ্যায়, সুশীল দাস প্রমুখের নেতৃত্বে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠনের সূচনা পর্ব থেকেই তিনি সংগঠনের কর্মী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করেন। এখানে একটানা ছাব্বিশ বছর কাজ করেছেন। কমরেড ভবতোষ রায় পশ্চিমবঙ্গ সেক্রেটারিয়েট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদকের পদে উন্নীত হন। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং ১৯৯২ সাল পর্যন্ত স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য। ১৯৭১ সালে রাজ্যপালের নির্দেশে বামপন্থী কর্মচারী সংগঠন করার অপরাধে যে ১৩ জন রাজ্য সরকারী কর্মচারীর চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁদের মধ্যে ভবতোষ রায় ছিলেন একজন। পরে ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার গড়লে অন্যদের সঙ্গে তাঁকেও পুনর্বহাল করা হয়। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন শ্রমিক-কর্মচারী-শিক্ষকদের যুক্ত কমিটি ১২ই জুলাই কমিটির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক। ১৯৮৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারী পেনশনার্স সমিতি গঠনেরও অন্যতম পুরোধা ছিলেন কমরেড ভবতোষ রায়। এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীকালে আমৃত্যু তিনি ছিলেন এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম উপদেষ্টা। রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির অন্তর্ভুক্ত সংগঠন কৃষি কারিগরি কর্মী সংস্থা গঠনেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রশাসনের কাজে দক্ষ, আন্দোলনের কাজে নির্ভীক, সৎ, উদ্যমী, সংস্কৃতিমনস্ক, সুলেখক এবং সদালাপী কমরেড ভবতোষ রায় ছিলেন সর্বস্তরের কর্মী সংগঠকদের অত্যন্ত কাছের মানুষ। তাঁর স্ত্রী পদ্মা রায়, দুই পুত্র অর্ণব ও অঞ্জন সহ পুত্রবধূদ্বয় এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজন রয়েছেন।

LEFT FRONT DEMANDS FREE AND FAIR ELECTION IN HOWRAH PARLIAMENTARY ELECTION


হাওড়ায় ভোটদানের পরিস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানালো বামফ্রন্ট |

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ৩০শে মে— উপনির্বাচনের ভোটারদের ভোটদানের পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ চাইলো বামফ্রন্ট। 

এদিনই সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রবীন দেব, হাওড়ার বামফ্রন্ট প্রার্থী শ্রীদীপ ভট্টাচার্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক সুনীল গুপ্তের সঙ্গে দেখা করে অবাধ ভোটের স্বার্থে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসেন।

শুক্রবারই শেষ হচ্ছে হাওড়া সদর লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রচার। আগামী ২রা জুন ভোট। ভোটগ্রহণের দু’দিন আগে হাওড়ায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্ভব হবে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন আকারে দেখা দিয়েছে। কারণ, নির্বাচনের গোটা প্রচারপর্বে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস হুমকি, সন্ত্রাসের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের চূড়ান্ত উদ্যোগহীন আচরণ অবাধ ভোটের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। উপনির্বাচনের অন্তিম পর্বে এসে তাই রাজ্য বামফ্রন্ট হাওড়ার জনগণের ভোটদানের অধিকারকে নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লির মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে ফ্যাক্সে চিঠি পাঠিয়ে হস্তক্ষেপ দাবি করলো। 

কেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দ্বারস্থ হয়ে হস্তক্ষেপ চাইতে হচ্ছে? 

রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু এদিন সি পি আই (এম)-র রাজ্য দপ্তরে সাংবাদিকদের জানান,‘‘অবাধ ভোটের স্বার্থে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সি ই ও)-কে ৯টি চিঠি, রিটার্নিং অফিসারকে ১১টি চিঠি, সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে ১টি চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপনির্বাচনের পর্যবেক্ষককে এখনও পর্যন্ত মোট ৪টি চিঠি দিয়ে হাওড়ার পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে। এত কিছু করার পরেও অবাধ ও শান্তিতে নির্বাচন করার যে পরিস্থিতি তা কার্যত তৈরি হয়নি। এজন্য বাধ্য হয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে হস্তক্ষেপ দাবি করেছি।’’ কার্যত হাওড়ার উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হুমকি, শাসানি অব্যাহত। এদিন বিমান বসুও জানান, ‘‘এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যাতে লোকসভা এলাকার ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া আর কেউ প্রচার করতে পারবে না। হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ভোট গ্রহণের সাত দিন আগে থেকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে। নির্বাচনী সভা সমাবেশ করার ক্ষেত্রেও হুমকি শুনতে হচ্ছে। ভয়ভীতির একটা পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।’’

একই অভিযোগ নিয়ে এদিন রাজ্য নির্বাচন আধিকারিক সুনীল গুপ্তের সঙ্গে দেখা করে রবীন দেব সাংবাদিকদের জানান,‘‘শাসকদলের পক্ষ থেকে একটানা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে কোনোভাবেই সুস্থ ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। ভয় দেখানো হচ্ছে সাধারণ ভোটারদের। বিরোধীরা সভা, সমাবেশ করার জন্য আগাম অনুমতি চাওয়ার পরও তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে আগে শাসকদলকে সুযোগ দেওয়ার পর বিরোধীদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’’ এই পরিস্থিতিতে ভোট পর্ব শান্তিতে ও অবাধ করার জন্য অবিলম্বে হাওড়ায় আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান রবীন দেব সহ বামফ্রন্ট প্রার্থী শ্রীদীপ ভট্টাচার্য। 

প্রসঙ্গত, হাওড়ার উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ এনে রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে অভিযোগ করে বামফ্রন্ট। এরপর দফায়, দফায় প্রতিটি, ঘটনার কথা উল্লেখ করে মোট ৯টি চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় বামফ্রন্ট কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার প্রতিটি ঘটনার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিসের ভূমিকা ছিলো কার্যত দর্শকের। এই প্রসঙ্গে বিমান বসু বলেন, ‘‘উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারকে ১১টি চিঠি দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত হওয়ার প্রতিটি ঘটনায় এফ আই আর করা হয়েছে। কিন্তু পুলিস প্রশাসনের তরফ থেকে চূড়ান্ত উদ্যোগহীনতা লক্ষ্য করা গেছে। এই অবস্থায় অবাধ ভোটকে নিশ্চিত করতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ চাইছি।’’ 

এদিন রাজ্য নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে শ্রীদীপ ভট্টাচার্য জানান, ‘‘গত ২৭শে মে রাত্রে বালি চৈতল পাড়ায় পতাকা এবং পোস্টার লাগানোর সময় পার্টিনেতা প্রদীপ গাঙ্গুলি তার মেয়ে অনুভূতি গাঙ্গুলিসহ অন্যান্য পার্টিকর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনায় বালি থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়। অভিযুক্ত এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে এক সি পি আই (এম) কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তর হাওড়ায় পার্টির লোকাল কমিটির সদস্য, চার জন শাখা সম্পাদক সহ মোট ৮জনকে নির্বাচনের আগে আটক করার পরিকল্পনা নিয়েছে মালিপাঁচঘড়া থানা। অথচ এরা নির্বাচনের দিন কেউ পোলিং এজেন্ট, কেউ ক্যাম্প ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।’’ তৃণমূল কংগ্রেসের পরিকল্পনা অনুসারেই মালিপাঁচঘড়া থানার আধিকারিক এই ষড়যন্ত্র করছে বলে অবজার্ভারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন শ্রীদীপ ভট্টাচার্যের নির্বাচনী এজেন্ট অরূপ রায়। 

এদিন রাজ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে বামফ্রন্টের প্রতিনিধি দল অভিযোগ করেন, কলকাতা, হুগলী, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর থেকেও দুষ্কৃতীদের আনা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে থেকেই তাদের তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলাকা চেনানো হচ্ছে। নির্বাচনের দিন বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে এদের দাঁড় করিয়ে ভোটাররা যাতে ভোট দিতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারেন সেই চেষ্টাও করা হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। বেশ কিছু থানা সরাসরি শাসকদলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করছে। সরকারী বেশ কিছু দেওয়ালে এখনও তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে দেওয়াল লিখন রয়েছে। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানোর পরেও তারা কোনও ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। 

নির্বাচনের দিন সমস্ত ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে অবাধে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দান করতে পারেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে এদিনও সেই দাবি জানান প্রতিনিধি দল।

GOONS OF MAMATA BENERJEE FORCIBLY PREVENT LEFT FRONT CANDIDATES FROM FILING NOMINATION PAPERS IN PANCHAYAT ELECTIONS, 2013


বি ডি ও অফিস ঘিরে রাখছে তৃণমূলের বাহিনী মনোনয়ন তুলতেই দেওয়া হলো না ব্লকে ব্লকে  গ্রামের পর গ্রামে হুমকি, মারধর

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি

কলকাতা, ৩০শে মে— দ্বিতীয় দিনও সন্ত্রাস, রক্তপাত এড়াতে পারলো না। 

বৃহস্পতিবারও প্রথম দফার পঞ্চায়েতের ভোটের মনোনয়নপত্র তোলাকে কেন্দ্র করে জেলাগুলি থেকে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের হামলা, মনোনয়নপত্র কেড়ে নেওয়া, মহিলা প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বর্ধমান, হুগলী ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে। এমনকি পঞ্চায়েত ভোটে বামফ্রন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তারের মতো ঘটনা ঘটাতেও পিছপা হয়নি মমতা ব্যানার্জির পুলিস।

বামফ্রন্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন তোলা ঠেকাতে এদিন তৃণমূল কংগ্রেস ও পুলিসের চোখে পড়ার মতো যৌথ তৎপরতা ছিলো হুগলীর হরিপাল বি ডি ও অফিসে। তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাসের সামনে এদিন হরিপাল ব্লকের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০৮টি আসন ও পঞ্চায়েত সমিতির ৪৫টি আসনের একটিতেও মনোনয়ন তুলতে পারেননি বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। উলটে বি ডি ও অফিসের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীদের আক্রমণে জখম হয়েছেন কমপক্ষে ৩০জন বামফ্রন্ট প্রার্থী। বাদ যাননি মহিলারাও।

এদিন যে হরিপালে এমন ঘটতে পারে তা আগাম আশঙ্কা করে ছিলেন হরিপালের সি পি আই (এম) নেতৃত্ব। কারণ, গতকালই হরিপাল ব্লক অফিসের মূল গেটের দুই প্রান্তে ম্যারাপ বেঁধে স্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে নেয় তৃণমূলীরা। সেই ক্যাম্প থেকে চলে মাইক প্রচার। অবশ্যই সেই প্রচারের একটাই কথা, তৃণমূল ছাড়া হরিপাল বি ডি ও অফিস থেকে আর কোনো দলকে মনোনয়ন তুলতে দেওয়া হবে না। গতকালই ক্যাম্পের কথা জানিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও হুগলীর জেলাশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলো সি পি আই (এম)-র নেতৃবৃন্দ। বি ডি ও অফিস থেকে আধ কিমি দূরত্বে হরিপাল থানা। থানার বড়বাবু বঙ্কিম বিশ্বাসকে গতকালই গোটা ঘটনার কথা জানানোর পর এদিনও সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ এস এম এস করে পার্টির তরফে মনোনয়নপত্র তোলা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিলো। সব তরফ থেকেই আশ্বাস মেলার পর এদিন বেলা পৌনে ১১টা নাগাদ গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থীদের নিয়ে প্রায় ১হাজার মানুষের মিছিল রওনা দেয় বি ডি ও অফিসের দিকে। 

‘‘বি ডি ও অফিসের গেট থেকে ৫০গজ দূরত্বের মধ্যেই তৃণমূলের ক্যাম্প থেকে শুরু হয়ে যায় ইট, আর পাথর বৃষ্টি। তার মধ্যেও আমরা এগিয়ে যাই। কিন্তু হঠাৎ মাঝপথে পুলিস ব্যারিকেড করে দাঁড়িয়ে যায়। পুলিস ব্যারিকেডের ওপ্রান্ত থেকে তৃণমূল কিন্তু ইটবৃষ্টি অব্যাহত রাখে। এরপরই পুলিস লাঠি নিয়ে আক্রমণ করে বসে সি পি আই (এম) কর্মীদের ওপর। এরপরই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মিছিল।’’ জানিয়েছেন সি পি আই (এম) নেতা দুলাল ভৌমিক। গোটা ঘটনায় ৩০জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

বর্ধমান জেলায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের ফতোয়া ১০ই জুন পর্যন্ত সি পি আই (এম)’র কোন নেতা বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না। সেইমতো পুলিসকে সাথে নিয়ে বাসে বাসে তল্লাশি চলছে। বৃহস্পতিবারও বামপন্থী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা, মারধর করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। এদিনও পুলিস ছিল তৃণমূলের দাস। পুলিসের সামনেই শুধু আক্রমণ হয়েছে তাই নয়, পুলিস সি পি আই (এম) নেতাদের ধরে উলটো রাস্তায় বহু দূরে ছেড়ে দিয়ে উপদেশ দিয়েছে ভোটে কেন দাঁড়াচ্ছেন? ঘরে বসে থাকুন, কোন সন্ত্রাস থাকবে না। তবে এদিন অনেক অঞ্চলেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীবাহিনীর বাধা অতিক্রম করেই মানুষ মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছেন। 

এদিন মনোনয়ন তুলতে গিয়ে কালনাতে তৃণমূলীদের হামলার, হুমকির শিকার হতে হয়েছে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের। তা সত্ত্বেও বুধবার কালনা- ১নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির নয়টি ও কালনা- ২নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বামফ্রন্ট প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন। কিন্তু এরপরেই শুরু হয়ে যায় আক্রমণ। তৃণমূলীদের লক্ষ্য বামফ্রন্ট প্রার্থীরা যেন মনোনয়ন জমা দিতে না পারেন। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয় বামফ্রন্টের দুই প্রার্থীকে। আরও দুই বামফ্রন্ট প্রার্থীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে রয়েছেন বামফ্রন্টের এক মহিলা প্রার্থী। তাঁর স্বামীরও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি রাত পর্যন্ত।

মনোনয়নপত্র তোলার পরে বুধবার বিকেলেই বামফ্রন্ট প্রার্থীরা সিমশন এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিল মধুবাজার বাজার দিয়ে যাওয়ার পড়ে তৃণমূলীরা হামলা চালায়। কিন্তু এলাকাবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধে তখনকার মত তৃণমূলীরা পিছু হটে। এরপরেই নতুন ছক কষে তৃণমূলীরা। বোমাবাজির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালনা থানায় সি পি আই(এম)’র স্থানীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে তৃণমূলীরা। তৃণমূলের অভিযোগ পেয়েই ‘সক্রিয়’ হয়ে ওঠা পুলিস সি পি আই(এম) নেতা, কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দেয়। পরিবারের সদস্যদের হেনস্তাও করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় অষ্টগড়িয়া গ্রামের বামফ্রন্ট প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোষ ও শিবেন সিংহরায়কে। বুধবারই রাতে আবার ধাত্রীগ্রাম পঞ্চায়েতের কালীনগর গ্রামে তৃণমূলের সশস্ত্রবাহিনী হামলা চালায়। পার্টিনেতা কেষ্ট নাগসহ ছয়জন গুরুতর আহত হন।

বুধবার রাতে এই হামলার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গ্রামে গিয়ে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের হুমকি দেওয়া শুরু হয়, যাতে তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা না দেন। এদিন সকালে বাখনাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আলাগড় গ্রামে বামফ্রন্ট প্রার্থীর বাড়ি ঘেরাও করে সশস্ত্র তৃণমূলীরা। বামফ্রন্ট প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়। বেগপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাড়-সাহাপুর গ্রামের বামফ্রন্ট প্রার্থী আরতি সরদার ও তাঁর স্বামী মদন সরদারকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বুধবার রাতে তৃণমূলীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়ে হুমকি দেয় তাঁদের। 

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বি ডি ও দপ্তরগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যত প্রহসনে পরিণত করে চলছে মনোনয়ন তোলার পর্ব। চন্দ্রকোনা ১, মেদিনীপুর সদর, খড়্গপুর গ্রামীণ ১, মেদিনীপুর সদর, ঘাটাল, পিংলা ব্লকে বাইরে অপেক্ষা করছে তৃণমূলের বাহিনী। বি ডি ও অফিস যাওয়ার পথে গোটা রাস্তায় চলছে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের টহলদারি। 

মাদপুরে খড়্গপুর গ্রামীণ ২নং ব্লক অফিসের সামনে গতকাল থেকে তৃণমূলীরা অস্ত্রসহ জমায়েত করে রাখে। বামফ্রন্ট প্রার্থীরা মনোনয়ন দিতে এলে তাঁদের পথ আটকে মারধর করে সমস্ত কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। একই পরিস্থিতি ঘাটাল ব্লকেও। ঘাটালের গুণধর দলুইয়ের স্ত্রী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে এদিন বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় তৃণমূলীরা। এদিন ঘাটাল ব্লকের সামনেই মামনি বেগম, চায়না দলুই, অনিমা দলুই, চঞ্চলা মালিকদের ধরে মারধর করে তৃণমূল। এঁরা সকলেই মনোনয়ন তুলতে এসেছিলেন। চন্দ্রকোনা ১নং ব্লকের ক্ষীরপাই ব্লক অফিস থেকে এদিন বিরোধী একজনকেও মনোনয়ন তুলতে দেয়নি তৃণমূলীরা। একই পরিস্থিতি খোদ মেদিনীপুর সদর ব্লকেও।

এদিন হুগলীর গোঘাটে বি ডি ও অফিসে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখে তৃণমূল কংগ্রেস। পর্যাপ্ত পুলিস টহলদারি না থাকায় তৃণমূলীদের সেই বাধা টপকে বিরোধী কোনো দলের প্রার্থীদের পক্ষে এদিন মনোনয়ন তোলা সম্ভব হয়নি। 

তৃণমূলের হুমকি সত্ত্বেও হুগলীর চন্ডীতলা ১নং ও ২নং ব্লকে বামফ্রন্ট প্রার্থীরা ১৬০টি মনোনয়নপত্র জমা দেন। সিঙ্গুর, পোলবা, বলাগড় ব্লকেও বামফ্রন্ট প্রার্থীরা কিছু মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছে।

VOTE FOR LEFT FRONT CANDIDATES IN WB PANCHAYAT ELECTIONS-2013


গরিবের লড়াইয়ের স্বার্থেই জয়ী করুন বামফ্রন্ট প্রার্থীকে

নিজস্ব প্রতিনিধি,গণশক্তি : হাওড়া, ৩০শে মে — গত দু’বছরে কী হয়েছে রাজ্যে! ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি হয়েছে। অথচ জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য জমি পাচ্ছে না ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি। পাততাড়ি গোটাতে চাইছে তারা। ইনফোসিস থেকে শুরু করে একের পর এক শিল্প এ রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছে। জমি পাচ্ছে না। রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার হাওড়ার দানেশ শেখ লেন বাসস্ট্যান্ডে হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সি পি আই (এম) প্রার্থী শ্রীদীপ ভট্টাচার্যের সমর্থনে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরোর সদস্য সূর্যকান্ত মিশ্র। 

এদিনের সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সি পি আই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপক দাশগুপ্ত, সি পি আই রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রবীর দেব প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রলয় তালুকদার। 

সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, গত ২ বছরে শুধু আমাদের তৈরি করে যাওয়া ফ্লাইওভার আর বাড়িগুলোর ফিতে কেটেছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে স্বল্পসঞ্চয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম স্থানে ছিল। সে সব তলানিতে এসে ঠেকেছে। ফুলে ফেঁপে উঠেছে চিট ফান্ডগুলি। শুধু সারদা গোষ্ঠী নয়, লুটেরাদের অংশীদার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীরাও। 

নির্বাচনের আগে বালি, উত্তর হাওড়াসহ হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় বামফ্রন্ট কর্মীদের হুমকি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বামপন্থীদের ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ নেই। ৭২সালে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় মুখ্যমন্ত্রী হন। আমাদের ১১০০ কর্মী খুন হন। ২০ হাজার বাড়িছাড়া। তিন বছর পর ৭৫ সালে জরুরী অবস্থা জারি করেন ইন্দিরা গান্ধী। সমস্ত সন্ত্রাসকে পরাস্ত করেই ৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থীরা সরকার গঠন করে। ইতিহাস সৃষ্টি করে সেই সরকার ৩৪ বছর চলেছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যতই বড় মনে করুন ইন্দিরা গান্ধী, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়দের থেকে বড়, একথা আমরা বলতে পারব না। সূর্যকান্ত মিশ্র আরো বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরাই আজ সুরক্ষিত নন দলীয় কর্মীদের হাত থেকে। তৃণমূলের যখন মাত্র একজন বিধায়ক ছিলেন বিধানসভায় তখন থেকেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধায়ক। সেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেও যখন দলীয় কর্মীদের হাতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিগৃহীত হতে হয়, তখন হাওড়ার এমন কোন বড় নেতা আছেন যিনি নিরাপদ। রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, গত দু’বছরে হাওড়ায় অন্য কোনও কারখানা হয়েছে কিনা জানি না, কিন্তু শাসক দলের নেতাদের প্রশ্রয়ে এবং প্রত্যক্ষ মদতে যে অস্ত্র কারখানা তৈরি হয়েছে তা তো কাগজেই দেখা যাচ্ছে। মহাকরণের নাকের ডগায় অস্ত্র কারখানা চলছে, অথচ রাজ্য পুলিস তার হদিশ জানে না। দিল্লি পুলিসকে এসে অস্ত্র কারখানা খুঁজে বার করতে হচ্ছে। তবু এদের কোনও লজ্জা নেই। মাত্র দু’বছরেই রাজ্য সরকার তোলাবাজদের সরকারে পরিণত হয়েছে। একথা বামপন্থীরা বলছে না, তৃণমূলের সাংসদ, মন্ত্রীরাই বলছে। তৃণমূলের এক মন্ত্রী সিভিক পুলিস, গ্রিন পুলিস নিয়োগের জন্য ফোন নম্বরসহ নামের তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন পুলিস কমিশনারের কাছে। এই তালিকা থেকেই ফোন নম্বরে ফোন করে ডেকে ডেকে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে রেট বাঁধা হয়েছে। 

হাওড়ায় প্রচারে এসে মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রীয় সরকারকে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের হুমকি প্রসঙ্গে সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, কেউ ৩৫৬ চাইছেন না। বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন তিনিই ৩৬৫-৩৬৫ বলে চেঁচাতেন। বামপন্থীরা বরাবরই ৩৬৫ ধারা প্রয়োগ করে নির্বাচিত সরকার ভাঙার বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছে। যদি ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ভাঙার চেষ্টা হয় তাহলে ওঁকে কিছু করতে হবে না, বামপন্থীরাই লড়াইয়ের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবে। আমরা চাই পাঁচ বছরই এই সরকার থাকুক। ২ বছরে মানুষ এই সরকারকে যা চিনেছে, ৫ বছরে হাড়ে হাড়ে চিনবেন। আর বামপন্থীদেরও ৩৪বছর সরকারে দেখেছে। এখন বিরোধী হিসাবে দেখছেন। ৫বছরে বামপন্থীদের বিরোধিতাও দেখবেন মানুষ। বিরোধী নেত্রী হিসাবে আজকের মুখ্যমন্ত্রী বাস ভেঙেছেন, থানা ভেঙেছেন, বিধানসভা ভেঙেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর জোট ভেঙেছেন। বাকি আছে তৃণমূল দলটাকে ভাঙতে। সেটাও ভাঙবেন তিনি। 

সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াই চালানোর জন্যই বামপন্থীদের ২০০’র বেশি কর্মী খুন হয়েছেন তাদের হাতে। তাও জঙ্গলমহলের উন্নতির জন্যই কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রী রামবিলাস পাশোয়ানকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস করতে গিয়েছিলেন তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ফেরার পথে মাওবাদীদের পাতা মাইন বিস্ফোরণ ঘটে। অল্পের জন্য তারা প্রাণে বাঁচেন। অথচ তখন আজকের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন ‘আই ওয়াশ’। তিনি বলেন, বামপন্থীদের জোট নীতির ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল। তাই ৭৭ সালে ৫টি দলকে নিয়ে গড়ে ওঠা বামফ্রন্টে আজ ৯টি দল। সরকারে না থাকার পরেও সেই জোট ভাঙেনি। আর গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে যে রামধনু জোট তৈরি হয় মাত্র এক বছরের মধ্যেই তা ভেঙে গেছে। কারণ নীতিহীনতার জোট কখনোই স্থায়ী হতে পারে না। ফুটবলের ভাষাতে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস গত দু’বছরে এত ফাউল করেছে যে, আগামী ২রা জুন লোকসভা উপনির্বাচনে ওদের সতর্ক করার জন্যই হলুদ কার্ড দেখান। আর লাল কার্ডটা তুলে রাখুন ভবিষ্যতে ব্যবহার করার জন্য। লাল কার্ড দেখিয়ে একেবারে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিতে হবে ওদের। আর গরিব মানুষের লড়াই আন্দোলন সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থেই শ্রীদীপ ভট্টাচার্যকে ভোট দিয়ে জয়ী করে লোকসভায় পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

দীপক দাশগুপ্ত বলেন, বামফ্রন্ট সরকার এ রাজ্যে গণতন্ত্রকে প্রসারিত করেছিল। সাধারণ মানুষের অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বর্তমান সরকার। তাই ফ্যাসিবাদী কায়দায় আক্রমণ চলছে। বালিতে পার্টিকর্মীদের ওপর আক্রমণ হলো। থানায় অভিযোগ জানানো হলো। অথচ পুলিস এক পার্টিকর্মীকেই গ্রেপ্তার করলো। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই পথে নেমে প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গরিব মেহনতী মানুষের ঐক্য গড়েই সন্ত্রাসের শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।

এদিন হাওড়ার টিকিয়াপাড়া বাজারেও এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বক্তব্য রাখেন সূর্যকান্ত মিশ্র, আরশাদ আলি, মহম্মদ জসিমুদ্দিন, ইমতিয়াজ আহমেদ। সভা পরিচালনা করেন গোলাম মোস্তাফা খান। 

এছাড়াও হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের অধীন চওড়া বস্তি, শিবপুর ধর্মতলা লেন, সেখপাড়া তালতলা, রামরাজাতলা বাসস্ট্যাণ্ড, দাশনগর মাদার ডেয়ারি, ওলাবিবিতলা কাঁচকল মোড়, কদমতলা বাসস্ট্যাণ্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাগুলিতে বক্তব্য রাখেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্যামল চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিম, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রবীন দেব, তাপস সিনহা, মোরসালিম মোল্লা, সমীর সাহা, আরশাদ আলি, পারমিতা সেন, মধুজা সেনরায়, জামির মোল্লা, মহম্মদ জসিমুদ্দিন, সায়নদীপ মিত্র, দেবজ্যোতি দাস, অরিন্দম বসু প্রমুখ।

Jairam slams Mamata for daring Centre to impose President's rule

Jairam slams Mamata for daring Centre to impose President's rule


Mamata Banerjee in 'girl-next-door' image at Howrah - The Times of India

Mamata Banerjee in 'girl-next-door' image at Howrah - The Times of India


Jairam calls Mamata bluff

Jairam calls Mamata bluff


Jairam calls Mamata bluff

Jairam calls Mamata bluff


Aruna Roy walks out of Sonia Gandhi-led National Advisory Council - Indian Express

Aruna Roy walks out of Sonia Gandhi-led National Advisory Council - Indian Express

Aruna Roy walks out of Sonia Gandhi-led National Advisory Council - Indian Express

Aruna Roy walks out of Sonia Gandhi-led National Advisory Council - Indian Express

Govt focussing on growth at cost of people: Aruna Roy - Indian Express

Govt focussing on growth at cost of people: Aruna Roy - Indian Express


Jairam Ramesh hits out at Mamata Banerjee for daring Centre to impose President's rule - Indian Express

Jairam Ramesh hits out at Mamata Banerjee for daring Centre to impose President's rule - Indian Express


JAIRAM RAMESH: খেতে আর মিথ্যা বলতে মুখ খোলেন মমতা, বললেন জয়রাম

খেতে আর মিথ্যা বলতে মুখ খোলেন মমতা, বললেন জয়রাম

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ৩০শে মে — রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে মিথ্যাবাদী বলেছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। এদিন দলীয় সভায় রমেশ তৃণমূল নেত্রী সম্পর্কে বলেন, ‘‘ক’টা সত্যি কথা বলেন উনি? উনি দু’বার মুখ খোলেন। একবার খান, আর একবার শুধু মিথ্যা (গলদ) কথা বলেন। এত মিথ্যা কথা বলতে বলতে একবার অন্তত সত্যি কথাটা বলুন।’’ 

এদিন উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে একটি দলীয় কর্মীসভায় ভাষণ দেন রমেশ। পরে হাওড়ায় উপনির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত দুটি সভায় তিনি বক্তব্য রাখেন। তিনি শুধু মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যাবাদী বলেছেন, তাই নয়। তাঁর অভিযোগ, ‘‘রাজ্যের শাসক দল পঞ্চায়েত নির্বাচন করতে চাইছে না। ওরা ভয় পাচ্ছে।’’ রমেশের বক্তব্য, শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকেই নয়, তৃণমূলের মধ্যেকার দ্বন্দ্বকেও ভয় পাচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন,‘‘ভয় পাচ্ছে বলেই ওরা হামলা চালাচ্ছে। আমাদের কর্মীদের মারছে। আমরা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।’’ এদিন জয়রাম রমেশ তৃণমূল এবং বি জে পি-র ঘনিষ্ঠতা, গোপন আঁতাতের প্রসঙ্গও তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য,‘‘ওদের সামনেটা তৃণমূল। পিছনের দিকে বি জে পি। বি জে পি-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তৃণমূল, হাওড়ায় বি জে পি-র প্রার্থীপদ প্রত্যাহার থেকে তা স্পষ্ট।’’ প্রসঙ্গত, এর আগে একাধিকবার মমতা ব্যানার্জির নানা বিষয়ে সমালোচনা করেছেন জয়রাম রমেশ। এমনকি ২০১১-র নভেম্বরে মুখ্যমন্ত্রীকে রীতিমত চিঠি লিখে পঞ্চায়েতের অধিকার সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন তিনি।

যাঁরা মুখ্যমন্ত্রী, নিজেদের পদের সম্মানের কথা মনে রেখে ভাষা প্রয়োগ করা উচিত তাঁদের। মমতা ব্যানার্জিকে এই পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশ। বৃহস্পতিবার শহরে এক অনুষ্ঠানে রমেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে আরো বলেছেন,‘‘মমতা ব্যানার্জি যে সব শব্দ ব্যবহার করেন, তা না বুঝেই ব্যবহার করেন।’’

গত সোমবার বালিতে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে কংগ্রেসকে হুমকি দিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, ‘‘কী ভেবেছে কংগ্রেস? রোজ ষাঁড়ের মতো গুঁতোচ্ছে। কখনো আয়কর দপ্তরকে দিয়ে, কখনো সি বি আই দিয়ে, কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত সংস্থাকে আমাদের বিরুদ্ধে লাগিয়েছে।’’ এর পরেই তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, ‘‘আরে, এত গুঁতোতে হবে না। বাঘের বাচ্চা হলে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করো, বুঝে নেব!’’ এই প্রসঙ্গেই মমতা ব্যানার্জিকে পরোক্ষে পদমর্যাদার কথা খেয়াল রেখে শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন জয়রাম রমেশ। পাশাপাশি মমতা ব্যানার্জি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’-র অভিযোগ করেছিলেন। ঐ ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’-র প্রসঙ্গেই রমেশের বক্তব্য,‘‘মমতা ব্যানার্জি যে সব শব্দ ব্যবহার করেন, তা না বুঝেই ব্যবহার করেন।’’ রমেশের আরো দাবি যে, গত এক বছরে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে রাজ্য যে টাকা পেয়েছে, তা গত দশ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া হয়নি।’’ রেগা প্রকল্পেও টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল নেত্রীর ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’-র দাবিকে নস্যাৎ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রমেশ বলেছেন, ‘‘মমতা ব্যানার্জি আজ পর্যন্ত তিন বছরের বেশি কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেননি। তাই রাজ্যের এই সরকারও আর এক বছর থাকবে, মিলিয়ে নেবেন।’’
খেতে আর মিথ্যা বলতে মুখ খোলেন মমতা, বললেন জয়রাম

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ৩০শে মে — রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে মিথ্যাবাদী বলেছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। এদিন দলীয় সভায় রমেশ তৃণমূল নেত্রী সম্পর্কে বলেন, ‘‘ক’টা সত্যি কথা বলেন উনি? উনি দু’বার মুখ খোলেন। একবার খান, আর একবার শুধু মিথ্যা (গলদ) কথা বলেন। এত মিথ্যা কথা বলতে বলতে একবার অন্তত সত্যি কথাটা বলুন।’’ 

এদিন উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে একটি দলীয় কর্মীসভায় ভাষণ দেন রমেশ। পরে হাওড়ায় উপনির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত দুটি সভায় তিনি বক্তব্য রাখেন। তিনি শুধু মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যাবাদী বলেছেন, তাই নয়। তাঁর অভিযোগ, ‘‘রাজ্যের শাসক দল পঞ্চায়েত নির্বাচন করতে চাইছে না। ওরা ভয় পাচ্ছে।’’ রমেশের বক্তব্য, শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকেই নয়, তৃণমূলের মধ্যেকার দ্বন্দ্বকেও ভয় পাচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন,‘‘ভয় পাচ্ছে বলেই ওরা হামলা চালাচ্ছে। আমাদের কর্মীদের মারছে। আমরা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।’’ এদিন জয়রাম রমেশ তৃণমূল এবং বি জে পি-র ঘনিষ্ঠতা, গোপন আঁতাতের প্রসঙ্গও তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য,‘‘ওদের সামনেটা তৃণমূল। পিছনের দিকে বি জে পি। বি জে পি-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তৃণমূল, হাওড়ায় বি জে পি-র প্রার্থীপদ প্রত্যাহার থেকে তা স্পষ্ট।’’ প্রসঙ্গত, এর আগে একাধিকবার মমতা ব্যানার্জির নানা বিষয়ে সমালোচনা করেছেন জয়রাম রমেশ। এমনকি ২০১১-র নভেম্বরে মুখ্যমন্ত্রীকে রীতিমত চিঠি লিখে পঞ্চায়েতের অধিকার সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন তিনি।

যাঁরা মুখ্যমন্ত্রী, নিজেদের পদের সম্মানের কথা মনে রেখে ভাষা প্রয়োগ করা উচিত তাঁদের। মমতা ব্যানার্জিকে এই পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশ। বৃহস্পতিবার শহরে এক অনুষ্ঠানে রমেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে আরো বলেছেন,‘‘মমতা ব্যানার্জি যে সব শব্দ ব্যবহার করেন, তা না বুঝেই ব্যবহার করেন।’’

গত সোমবার বালিতে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে কংগ্রেসকে হুমকি দিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, ‘‘কী ভেবেছে কংগ্রেস? রোজ ষাঁড়ের মতো গুঁতোচ্ছে। কখনো আয়কর দপ্তরকে দিয়ে, কখনো সি বি আই দিয়ে, কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত সংস্থাকে আমাদের বিরুদ্ধে লাগিয়েছে।’’ এর পরেই তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, ‘‘আরে, এত গুঁতোতে হবে না। বাঘের বাচ্চা হলে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করো, বুঝে নেব!’’ এই প্রসঙ্গেই মমতা ব্যানার্জিকে পরোক্ষে পদমর্যাদার কথা খেয়াল রেখে শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন জয়রাম রমেশ। পাশাপাশি মমতা ব্যানার্জি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’-র অভিযোগ করেছিলেন। ঐ ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’-র প্রসঙ্গেই রমেশের বক্তব্য,‘‘মমতা ব্যানার্জি যে সব শব্দ ব্যবহার করেন, তা না বুঝেই ব্যবহার করেন।’’ রমেশের আরো দাবি যে, গত এক বছরে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে রাজ্য যে টাকা পেয়েছে, তা গত দশ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া হয়নি।’’ রেগা প্রকল্পেও টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল নেত্রীর ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’-র দাবিকে নস্যাৎ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রমেশ বলেছেন, ‘‘মমতা ব্যানার্জি আজ পর্যন্ত তিন বছরের বেশি কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেননি। তাই রাজ্যের এই সরকারও আর এক বছর থাকবে, মিলিয়ে নেবেন।’’