RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Sunday, March 31, 2013

৫কোটি টাকা গায়েব, পালালো চিটফাণ্ড সযস্থার মালিক - গণশক্তি

৫কোটি টাকা গায়েব, পালালো চিটফাণ্ড সযস্থার মালিক

নিজস্ব সংবাদদাতা

জলপাইগুড়ি, ৩১শে মার্চ — আমানতকারীদের ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালালো এক চিটফান্ড সংস্থা। জলপাইগুড়ি শহরের ব্যস্ততম স্টেশন রোড এলাকায় ‘অ্যানেক্স’ নামে একটি মানি মার্কেটিং সংস্থা ঝাঁ-চকচকে দপ্তর খুলে মোটা অঙ্কের সুদের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের টাকা জমা নেওয়ার কাজ চালাচ্ছিল। আচমকাই সংস্থার দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে কর্তৃপক্ষ উধাও হয়ে যায়।

গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানার পুলিস সংস্থার দপ্তরে তল্লাশি চালিয়ে এক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম অলকেশ সরকার। শহর লাগোয়া পাতকাটা কলোনির এই যুবককে রবিবার জলপাইগুড়ি জেলা দায়রা আদালতের নির্দেশে সাতদিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। পুলিস এই চিটফান্ড সংস্থার সাথে আরও অন্যান্যদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে।

বেকারদের ভৈরববাহিনীতে কাজ দিচ্ছে তৃণমূল

বেকারদের ভৈরববাহিনীতে কাজ দিচ্ছে তৃণমূল
নিজস্ব সংবাদদাতা

বিষ্ণুপুর, ৩১ শে মার্চ— বেকার যুবক-যুবতীদের কাজে নেইতো কি, তাদের অন্যকিছু বলে মন ঘুরিয়ে দাও, নয়তো কাজ দাও ভৈরববাহিনীতে। এমনটাই চলছে রাজ্যে। রবিবার বিষ্ণুপুরে ডি ওয়াই এফ আই-র বিষ্ণুপুর জোনাল কমিটির উদ্যোগে দিবাকর দত্ত স্মৃতিভবনে বেকারী বিরোধী এক সভায় কথাগুলি বলেন সংগঠনের বাঁকুড়া জেলার সম্পাদক শুভাশিস বিশ্বাস। তিনি বলেন, এখন গ্রামে গ্রামে চলছে তৃণমূল ও পুলিসের যৌথ সন্ত্রাস। মানুষকে একজোট হয়ে এর প্রতিরোধে নামতে হবে। পাশাপাশি কাজ ও নিজের বাড়িতে থাকার দাবিতে মানুষের বুকের ভেতর যে আগুন জমছে তা কাজে লাগাতে হবে অত্যাচারী শাসকদলকে প্রতিহত করতে। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্বজিৎ ঘোষ। 

শুভাশিস বিশ্বাস জানান, এস এস সি পরীক্ষা বেশ কয়েকমাস আগে শেষ হলেও এখনো ফল বের হয়নি। অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও চলছে চরম অব্যবস্থা। এসবের অবসান চেয়ে সোমবার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সামনে সকাল ১২টা থেকে বিক্ষোভ দেখাবে যুবরা। এদিন সভার কাজ পরিচালনা করেন যুবনেতা সাগ্নিক গাঙ্গুলি। 

বাংলাদেশে সেনাবাহিনীকে কেন? (গণশক্তি সম্পাদকীয় )

বাংলাদেশে সেনাবাহিনীকে কেন?

বাংলাদেশের বিরোধী দল বি এন পি-র শীর্ষনেত্রী খালেদা জিয়া রাজনৈতিক হতাশা থেকে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি ভাবছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে অচিরেই তাঁর পুনরায় সরকারে ক্ষমতাসীন হওয়ার আশা অস্তমিত হচ্ছে। তা না হলে তিনি সেনাবাহিনীকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করার ডাক দিলেন কেন? বাংলাদেশ বছরের পর বছর সামরিক শাসনের কবলে ছিল। দেশের শীর্ষ নেতা সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সামরিক শাসকরা আসরে অবতীর্ণ হয়। গণতন্ত্রের বারোটা বাজিয়ে সামরিক শাসকরা তাদের পছন্দসই তথাকথিত নির্বাচনের পথে ক্ষমতাসীন থেকে দেশবাসীকে জানিয়ে দিয়েছে, তারাই দেশের মানুষের হর্তাকর্তাবিধাতা। তবে তারা ‘নির্বাচিত’। এই তথাকথিত নির্বাচনের নাম করে একেক দল সামরিক শাসক ক্ষমতার মসনদে বসে বছরের পর বছর রাজত্ব পরিচালনা করেছে। একজন সামরিক শাসকের তো প্রাণই গেছে তাঁর হাতে গড়া সামরিক বাহিনীর সদস্যের হাতে। তিনি হচ্ছেন জিয়াউর রহমান। বর্তমান বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বামী। জিয়াউর রহমানের নিহত হবার ঘটনার পর তাঁরই পত্নী হিসেবে দেশবাসীর সহানুভূতি কুড়িয়ে তিনি নেত্রী হন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন। কিন্তু সে সুখ বেশি দিন টেকেনি। পুনরায় বিরোধী দলের নেত্রীর আসনে তাঁকে ফিরে আসতে হয়েছে। কারণ তিনি ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষের ঘৃণিত মুসলিম মৌলবাদী দল জামাতে ইসলামীর সমর্থনে। জামাতের সমর্থন নিয়ে সরকার চালাতে গিয়ে তাঁর দল কার্যত জনসমর্থনহীন হয়ে পড়ে। শেষঅবধি ভোটে পরাজিত হয়। ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামি লিগের নেতৃত্বাধীন জোট। প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ভোটের সময় শেখ হাসিনা দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যারা বিরোধিতা করেছে আওয়ামি লিগ সরকার ক্ষমতায় এলে সেই যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা হবে। সেই প্রক্রিয়াই শুরু হয়েছিল। বিচার প্রক্রিয়ার পথে আসামীদের বিরুদ্ধে যখন সাজা ঘোষণা হচ্ছিল তখনই শুরু হয় দেশের নতুন প্রজন্ম তরুণ সমাজের উদ্যোগে আন্দোলন। তাদের দাবি কোনো লঘু শাস্তি নয়, স্বাধীনতার শত্রুরা চরম অপরাধী। তাদের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত ফাঁসি। এই দাবিতেই দেশজুড়ে এখনো উত্তাল আন্দোলনের ধারা অব্যাহত।

এই আন্দোলনের বিরোধিতায়ই নেমেছে বি এন পি এবং তাদের দোসর জামাতে ইসলামী। জামাতে ইসলামী কখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। শুধু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সক্রিয় বিরোধিতা নয়। লক্ষ লক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রামীকে তারা হত্যা করেছে পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে। বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় পাক সেনাদের সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে। অগণিত নারীর ইজ্জত লুটেছে তারা ও পাক সেনারা। তাদের এই বিভীষিকাময় কাজের দ্বারা বাংলাদেশের জনমনে তারা ঘৃণিত। বি এন পি এদের সঙ্গে জোট বেঁধে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন দিয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর জামাতের নেতারা এবং এদের খুনেবাহিনী রাজাকাররা পাকিস্তানে ও বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হবার পর এরা আস্তে আস্তে দেশে ফিরে আসে। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হবার পর জামাতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে পাকাপোক্ত করেছে। বি এন পি-র বড় ভরসা হচ্ছে জামাতেরা। কিন্তু বি এন পি-র গ্রামেগঞ্জে তেমন সাংগঠনিক শক্তি নেই। জামাতের উপর ভরসা করেই তারা এগোতে চাইছে। বি এন পি এবং জামাতে ইসলামীর বিরুদ্ধে জনমত যখন প্রবল আকার নিচ্ছে, তখনই খালেদা জিয়া আওয়ামি লিগকে ঠেকাতে সামরিক শাসন জারির আহ্বান জানালেন। বিরোধী দলের নেত্রীর মতে, দেশজুড়ে তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন যাতে সামরিক বাহিনী আসরে অবতীর্ণ হতে বাধ্য হয়। সামরিক বাহিনীকে ডেকে আনার খালেদা জিয়ার এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা হচ্ছে দেশজুড়ে। এর পেছনে কোনো বিদেশী শক্তি আছে কিনা তা নিয়ে জল্পনা হচ্ছে। কারণ স্বাধীনতার বিরোধীদের বিচারে বেশ কিছু দেশ প্রকাশ্যেই তাদের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছিল। বাংলাদেশের মানুষ এতে সতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, সেনাবাহিনী কি বিরোধী নেত্রীর ডাকে সাড়া দেবে, যদি তা ঘটে তাহলে বিপজ্জনক পথে যাবে বাংলাদেশ।
সমাধান চায় না

পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে সাংবিধানিক সীমা অনেকদিন হলো লঙ্ঘন করেছে রাজ্য সরকার। পরবর্তী পর্যায়ে শাসক দল সাধারণ সভ্যতা, ভব্যতার সীমাও অতিক্রম করল। সরকার তথা শাসক দলের মুখপাত্র মুকুল রায় তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডেকে। মুকুল রায় মন্তব্য করেছেন, আগের সরকার ওর (মীরা পাণ্ডের) মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিল। তাই উনি ওদের হার পিছোতে ভোট পিছিয়ে দিচ্ছেন। মুকুল রায়ের জানা উচিত দেশের নতুন আইন অনুসারেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনারদের মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়ে ৬ বছর হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠিগুলি সম্পর্কে মুকুল রায় বলেছেন, ওই চিঠিগুলি কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস থেকে ড্রাফট করে দেওয়া হচ্ছে। এই বক্তব্যের অর্থ শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনারকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ নয়; নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। সরাসরি অপমানজনক উক্তি এবং হুমকির সাহায্যে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। মুকুল রায় একথাও বলেছেন, গরমে একজনেরও মৃত্যু হলে তাঁর মরদেহ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ হবে। মৃতদেহ নিয়ে মিথ্যার রাজনীতি করতে তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যস্ত। তারই পুনরাবৃত্তি করেছেন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়। কেননা এরাজ্যে মে মাসে লোকসভা ও বিধানসভা ও পঞ্চায়েত মিলিয়ে ৮টি নির্বাচন হয়েছে। সব মিলিয়ে শাসক দলের মনোভাব, প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া এবং সরকারের পদক্ষেপ পঞ্চায়েত নির্বাচনকে জটিলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনের পরিবর্তে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে নির্বাচন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে চলেছে। রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ অবাঞ্ছিতভাবে কমিশনের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করেছে। রাজ্যপাল কমিশন এবং সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও রাজ্য সরকার তা মানতে চায়নি। বরং শাসক দল এব্যাপারে রাজ্যপালের এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

ভোটার তালিকা তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করা, সংরক্ষণ এবং পদাধিকারীদের তালিকা তৈরি করার ভিত্তিতে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট তৈরির দিকে এগোচ্ছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণ অবাধে এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন চেয়েছিল তিনদফায় ভোট। রাজ্য সরকার চেয়েছিল একদফায় ভোট। পরে নামকাওয়াস্তে দু’দফায় ভোটে রাজি হয়। নির্বাচন কমিশন গোড়া থেকেই ভোটের আয়োজনের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছে। এই ক্ষেত্রেও জোরালো আপত্তি রাজ্য সরকারের। কমিশন মনে করে এরাজ্যে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির যেভাবে অবনতি ঘটেছে তাতে ভোটের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন। সরকার মনে করে এরাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতই ভালো যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন নেই। আসলে শাসক দল চায় তাদের হাতের পুতুল রাজ্যের পুলিসবাহিনীকে দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে যাতে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা ভোটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন তৃণমূল আমলে কয়েকটি পৌরসভা ভোটের অভিজ্ঞতা থেকেই পঞ্চায়েতের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছে। কিন্তু এই প্রশ্নে রাজ্য সরকার একেবারেই নারাজ। কারণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে শাসক দলের গুন্ডাবাহিনী অসুবিধায় পড়তে পারে। রাজ্যপাল কমিশনের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বা পঞ্চায়েত মন্ত্রীর পক্ষে দলের স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনে মত‍‌ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই শাসক দলের সমস্ত আক্রমণের টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছেন নির্বাচন কমিশনার তথা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মত একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। দেশের শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চ স্পষ্টভাবে বলেছে, অবাধ ও মুক্ত নির্বাচন করার স্বার্থে যা যা প্রয়োজন তা নিয়ে কমিশনের মতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু এরাজ্যের শাসক দল বা নেত্রী সংবিধান, আদালত, নির্বাচন কমিশন কোনও কিছুই মানেন না। এই সরকারের মন্ত্র হলো হুমকি দিয়ে নতিস্বীকার করানো। রাজ্য সরকার প্ররোচিত এই সংঘাত সুষ্ঠুভাবে নির্দিষ্ট সময়ে ভোটগ্রহণে বাধা হয়ে দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে এই সংঘাত আইনী জটিলতার চেহারা নিয়েছে। এই সমস্যার কোনও সমাধানের পথ বের হোক তা বোধহয় চাইছে না রাজ্য সরকার।

আদ্রায় তৃণমূলী নেতাদের মদতে মনপুরা জঙ্গল কেটে সাফ করছে মাফিয়ারা, নীরব প্রশাসন

আদ্রায় তৃণমূলী নেতাদের মদতে 
মনপুরা জঙ্গল কেটে সাফ করছে 
মাফিয়ারা, নীরব প্রশাসন

বিভু মুখোপাধ্যায়

আদ্রা, ৩১শে মার্চ — পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বন বিভাগ, পুরুলিয়া জেলা পরিষদ এবং রেল দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সাড়ে ৪০০ হেক্টর জমিতে সামাজিক বনসৃজন প্রকল্পে কয়েক লক্ষ গাছ লাগানো হয়েছিল। সময়টা আশির দশক।

রাজ্য সরকারের বন দপ্তর ও রেল দপ্তরের সঙ্গে একটি চুক্তিও সম্পাদিত হয় তখন। যাতে রেলের জমিতে রাজ্য সরকারের বন বিভাগ বনসৃজনের কর্মসূচী নেয়। কর্মসূচী অনুযায়ী শাল, সেগুন, গামার, ‍‌সোনাঝুরি, মেহগিনি, শিশু, দেবদারু গাছ লাগানো হয়। আশির দশকেই রেলশহর আদ্রার ‘‘মনপুরা জঙ্গলে’’ সামাজিক বনসৃজন প্রকল্পে কয়েক লক্ষ গাছ লাগানো হয়। তখন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি ছিলেন স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুরুলিয়া জেলার বিভাগীয় বনাধিকারিক সম্প্রসারণ ছিলেন গুরুদাস মুখোপাধ্যায়।

শাল, সেগুন, গামার, সোনাঝুরি, মেহগিনি, দেবদারু, শিশু ইত্যাদি গাছ লাগানোর ফলে এলাকার সৌন্দর্য বেড়ে যায় ও সকলের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। মনপুরা জঙ্গলের লাগোয়া জায়গায় আদ্রার রেললাইন এবং এফ সি আই বিশাল গোডাউন আছে।

আদ্রার সাহেববাঁধ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় এক বিশাল অরণ্য মানুষকে আকৃষ্ট করতো। কিন্তু রেল শহর আদ্রার ‘‘মনপুরা জঙ্গল’’ পরিবর্তনের নামে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের আমলে তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা দিনরাত মূল্যবান গাছগুলি কেটে লরিতে করে মালদহ, ফরাক্কায় নিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর ইউ পি এ-২-এর কেন্দ্রীয় সরকারের জোটসঙ্গী তৃণমূল কংগ্রেসের রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রথম রেলওয়ে বাজেট ভাষণে আদ্রার মনপুরা জঙ্গলে ১৩০০ মেগাওয়াটসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এখন অবধি আদ্রার মনপুরা জঙ্গলে রেল দপ্তরের উদ্যোগে ১৩০০ মেগাওয়াটসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ছিটেফোঁটা শুরু না হলেও বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে মনপুরা জঙ্গলের নামীদামী গাছগুলি দুষ্কৃতীরা কেটে নিয়ে যাচ্ছে অবাধে। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের রেল দপ্তরের কর্তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।

সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া বারেবারে মনপুরা জঙ্গল পরিদর্শনে গেলে কাঠ দুষ্কৃতীরা সাইকেলে আনা করাত ফেলে, কাটা গাছ ফেলে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যাচ্ছে। জেলা পুলিস সুপারকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান তিনি।

ইউ পি এ-২ সরকারের রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রথম রেল বাজেট ভাষণের সময় ১৩০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে উঠবে আদ্রার ‘‘মনপুরা জঙ্গল’’ এই স্থান নির্বাচিত করে ঘোষণার সময় থেকেই সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া প্রথম থেকেই আপত্তি জানান এবং সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া লোকসভাতে দাঁড়িয়ে বক্তব্যে বিকল্প জায়গায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য প্রস্তাব রাখেন।

গাছ কাটার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

কাশীপুরের ও আদ্রার অনেকেই বলছেন, মনপুরা জঙ্গলের ৬৪/৬৫ কোটি টাকার শাল, সেগুন, মেহগিনি, দেবদারু, গামার, সোনাঝুরি, শিশুসহ বহু মূল্যবান গাছের কাঠ শেষ করে দিলো স্থানীয় বড় বড় কাঠ মাফিয়ারা। অভিযোগ পাওয়া যায় কাশীপুরের স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক স্বপন বেলথরিয়ার উদ্যোগে কাশীপুরের কাঠ মাফিয়ারা বাঁকুড়া, সোনামুখী, ঘাটাল, গড়বেতা, চন্দ্রকোনা রোড, মালদহের ফরাক্কাতে লরিতে করে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে। কেউ ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না।

স্থানীয় এলাকার কিছু গরিব মানুষ পেটের দায়ে দিনমজুরি টাকার বিনিময়ে কাঠ মাফিয়াদের নির্দেশে গাছ কাটতে গিয়ে ৭/৮ জন পুলিসের হাতে ধরা পড়ে। অথচ বড় বড় কাঠ মাফিয়ারা কোটি টাকা কামিয়ে দিব্যি আছে। এইসব কাঠ মাফিয়ারা তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করলো কমিশন সিদ্ধান্ত আজ, জানালেন পাণ্ডে|



আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করলো কমিশন সিদ্ধান্ত আজ, জানালেন পাণ্ডে|

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ৩১শে মার্চসংঘাত না মেটায় শেষ পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেরবিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে দিনভর রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সেই সম্ভবনা আরো বেড়েছেবৈঠক শেষে কমিশন দপ্তর থেকে বেরনোর সময় সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মীরা পাণ্ডে জানান সোমবারই আদালতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে

কমিশন সূত্রের খবর, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে কমিশন কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেতবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এখনও রাজ্যপাল এম কে নারয়াণনের মধ্যস্থতায় আশা রাখছেরাজ্য সরকারের শেষ চিঠি কমিশনকে দেওয়ার পর চিঠির সারমর্ম কমিশনের তরফে রাজ্যপালকে জানানো হয়েছেকমিশন রাজ্যপালের মতামতের জন্য এখনও কিছুটা অপেক্ষা করতে চায়কিন্তু সেই অপেক্ষায় রাজ্য সরকারের সঙ্গে কমিশনের সংঘাত কেটে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেইরবিবার মীরা পাণ্ডে এই প্রসঙ্গে জানান যে রাজ্যপালের সঙ্গে নতুন করে কথা হয়নি

রাজ্য ও কমিশনের সংঘাত শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়বাহিনী মোতায়েন করা নিয়েই চরম আকার ধারণ করলোআর কেন্দ্রীয়বাহিনী ছাড়া যে পঞ্চায়েত ভোট করার কোনো ঝুঁকি কমিশন নিতে চায় না তার বড় প্রমাণ পাওয়া গেল এদিনইরাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নিয়ে এদিন দিনভর যে অব্যবস্থা, বিভ্রান্তি দেখা গেল তাতে কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত ভোট করার পক্ষে কমিশনের যুক্তি আরও বড় মাত্রা পেল বলে মনে করা হচ্ছে

ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও রাজ্য নির্বাচন কমিশন দপ্তরে এদিন ব্যস্ততা ছিলো তুঙ্গেসকাল থেকেই কমিশনার মীরা পাণ্ডে, কমিশনের সচিব তাপস রায়সহ অন্যান্য আধিকারিকরা একদফা বৈঠকে বসেনপরে ফের দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত টানা রুদ্ধদ্বার সভায় ব্যস্ত ছিলেন কমিশনের সদস্যরাসবমিলিয়ে অনুমান করা হচ্ছে, আদালতে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে সারা দিন নিজেদের মধ্যে বৈঠক সেরে নিলো কমিশনতবে পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে রাজ্য সরকার নির্ধারিত দিনে পঞ্চায়েত ভোট করা ক্রমশই ক্ষীণ হয়ে উঠছেশেষ পর্যন্ত কদফায় ভোট হবে তা নিয়ে বিরোধের চেয়ে পঞ্চায়েত ভোটে নিরাপত্তাই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতকে তীব্র করে তুললো

কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়ে ভোট না করানোর নিয়ে রাজ্য সরকারের অনড় অবস্থানই রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিলপ্রথমত, একতরফাভাবে রাজ্য সরকার রাজ্যে দু দফায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে দেয়সেই ঘোষণায় যেভাবে জেলার বিন্যাস করা হয়েছিলো তাতে কার্যত একদিনে রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট সেরে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল রাজ্য সরকারেরপ্রথম ঘোষণায় ২৬শে মার্চ ১৪টি জেলার নির্বাচন ও ৩০শে মার্চ উত্তর দিনাজপুর, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এই তিন জেলার নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিলো রাজ্য সরকারতখনই পঞ্চায়েত ভোট করা নিয়ে রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা প্রশ্নের মুখে পড়েএরপর রাজ্য সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য চিঠি পাঠায় কমিশনসেই চিঠিতে জেলা বিন্যাসের পাশাপাশি কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর পক্ষে জোর সওয়াল করে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকমিশনের চিঠি নিয়ে মহাকরণে নিজের দপ্তরে বসে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘১১পাতার চিঠির মধ্যে সাড়ে ১০পাতা অবান্তরস্কুলবয়দের মতো চিঠি’’ তবে সেই মন্তব্যের পর জেলা বিন্যাস নিয়ে নিজেদের অবস্থান বদল করে রাজ্য সরকারকিন্তু কেন্দ্রীয়বাহিনী প্রসঙ্গে রাজ্য সরকার সব সময় কমিশনের মতকে উপেক্ষা করে এসেছেরাজ্য সরকার বলার চেষ্টা করেছে, আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়সেখানে কমিশনের মতকে গ্রাহ্য করা হবে নাএরাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা অন্য রাজ্যের চেয়ে ভালোতাই কেন্দ্রীয়বাহিনীর দরকার নেইপ্রয়োজনে অন্য রাজ্য থেকে পুলিস এনে ভোট করা হবেকিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশন যখন নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে ফের রাজ্য সরকারের কাছে কেন্দ্রীয়বাহিনীকে পঞ্চায়েত ভোটে ব্যবহার করানোর অবস্থান জানিয়েছে, তখনই রাজ্য সরকার অন্য কথা বলেছেগত শনিবার থেকে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী কেন্দ্রীয়বাহিনী প্রসঙ্গে বলতে শুরু করেন, ৮০০কোম্পানি কেন্দ্রীয়বাহিনী চাইলেই পাবো, এমন নয়’’ অর্থাৎ একবার রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলছেন, কেন্দ্রীয়বাহিনীর দরকার নেইআবার দুদিন সময় নষ্ট করার পর রাজ্য সরকারই জানাচ্ছে, কেন্দ্রীয়বাহিনী চাইলেই পাওয়া যায় নামহাকরণ সূত্রের খবর, অন্য রাজ্য থেকেই পুলিস এনে ভোট করার জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় প্রশাসনকে সেই কাজও করেনি রাজ্য সরকারবিভিন্ন মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকারই আদৌ রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট করা নিয়ে আন্তরিক কি না? রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে চিঠি চালাচালির সময় রাজ্যের এক মন্ত্রীকেই বলতে শোনা গেছে, যা হচ্ছে তাতে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেইরাজ্য পঞ্চায়েত ভোট হলে ভালো, না হলে আরও ভালোতবে পাঁচ বছর পূর্ণ করার পর কোনো নির্বাচিত পঞ্চায়েতই আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে নাভোট না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের ঠিক করা আছে

কমিশনের তরফে শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের সঙ্গে রফার একটা ক্ষেত্র তৈরি হয়রাজ্যের তরফে জেলার বিন্যাস পরিবর্তন করা হয়সেই পরিস্থিতিতে কয় দফায় ভোট হবে সেই বিতর্কে অবস্থান কিছুটা নমনীয় করার ইঙ্গিত দেয় কমিশনকিন্তু কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়ে ভোট করানো নিয়ে কমিশন নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়ই রয়েছেকমিশনের বক্তব্য, নির্বাচন পর্বে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব বর্তায় তাদেরই উপরজেলাশাসক ও পুলিস সুপারদের সঙ্গে বৈঠক থেকে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত যে তথ্য হাতে পেয়েছে কমিশন, তার ভিত্তিতে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে কেন্দ্রীয়বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর পক্ষে কমিশন

কিন্তু কেন্দ্রীয়বাহিনীতে রাজি নয় রাজ্যফলে রাজ্য সরকার ও কমিশন সংঘাত এখন আদালতে ফয়সালা হওয়ার পথে

আজ সব জেলায় বিক্ষোভ দেখাবে যুবরা বেনজির পরীক্ষা-প্রহসনের পরে ফের পরীক্ষা? সিদ্ধান্ত নিয়ে ধন্দে পর্ষদও|

আজ সব জেলায় বিক্ষোভ দেখাবে যুবরা বেনজির পরীক্ষা-প্রহসনের পরে ফের
পরীক্ষা? সিদ্ধান্ত নিয়ে ধন্দে পর্ষদও|

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ৩১শে মার্চদুদফায় পরীক্ষা নেওয়া হলোতাতেও শেষরক্ষা হলো নাফের আরো একবার পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছেরবিবার প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের এই তিন দফার পরীক্ষা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে

পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী এদিন দুপুর ১টা থেকে ২টো পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়ার কথারাজ্যজুড়ে এই সময়েই সব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থাও হয়কিন্তু যানবাহন কম থাকার কারণে বহু পরীক্ষার্থী সঠিক সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননিযাঁরা দুপুর ১টার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি, কিন্তু দুপুর ২টোর আগে কেন্দ্রে পৌঁছতে পেরেছেন, তাঁদের প্রথম দফার পরিবর্তে দ্বিতীয় দফায় দুপুর ২টো থেকে ৩টে পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নির্দেশেইদ্বিতীয় দফার পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্নএকইভাবে প্রশ্ন উঠেছে তৃতীয় দফার পরীক্ষা নিয়েওনিয়োগ সংক্রান্ত এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে এভাবে তিন দফার পরীক্ষা আদৌও আইনত সম্ভব!

এদিন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪পরগনা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু পরীক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবেএব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, ‘এই জেলাগুলির কিছু পরীক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনী পরামর্শ নেওয়া হচ্ছেআইনজীবীদের পরামর্শ ও নির্দেশ মেনেই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবেপর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এই চারটি জেলার অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননিএঁদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবেতবে এর জন্য আইনী পরামর্শ নেওয়া হচ্ছেদুর্ঘটনার কবলে পড়ে মূলত এই চারটি জেলার কিছু পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননিতাঁদেরই আবার পরীক্ষা নেওয়া হবেকিন্তু কত সংখ্যক পরীক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে তা এখনও পর্যন্ত জানায়নি পর্ষদ

দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পরীক্ষা দিতে পারেননিযুক্তিতে যদি আবারো পরীক্ষা নেওয়া হয়, তাহলে কতজনের পরীক্ষা নেওয়া হবে? পরীক্ষার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতি কীভাবেই বা হবে? স্বাভাবিকভাবে এসব প্রশ্ন উঠেছেএনিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন পর্ষদের আধিকারিকেরাএক আধিকারিক জানান, ‘অ্যাডমিট কার্ডের ব্যাপারে এই পরীক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা এই তৃতীয় দফার পরীক্ষার্থী বাছাইয়ের অসুবিধা হবেএই পরীক্ষায় ফরমের সঙ্গেই ছিল অ্যাডমিট কার্ডযা পরীক্ষার্থীর সচিত্র পরিচয়পত্রদুধরনের অ্যাডমিট কার্ডএকটি আসল এবং অন্যটি তার প্রত্যয়িত নকলএই দুধরনের অ্যাডমিট কার্ডের মধ্যে কোনটিই পর্ষদের কাছে নেইদুটির মধ্যে যেটি অরিজিনাল বা আসল অ্যাডমিট কার্ড সেটি পরীক্ষা দেওয়ার পর জমা দিতে হবেপর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যদি চারটি জেলার কিছু পরীক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়, তাহলে কারা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পরীক্ষা দিতে পারেনি তাঁদের চিহ্নিত করা হবে কীভাবে? সবাই তো এসে বলতে পারেন আমরাও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পরীক্ষা দিতে পারিনিসেক্ষেত্রে পর্ষদের যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন ঐ আধিকারিক

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতির দাবি, ‘পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকায় বহু পরীক্ষার্থী সঠিক সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেনিযেমন, বহরমপুরের ভাগীরথী লেবেল ক্রসিংয়ের গেট প্রায় ৪ঘণ্টা বন্ধ ছিলফলে ট্রেনে ও লেবেল ক্রসিংয়ের দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকায় সড়ক পরিবহনে বহু পরীক্ষার্থী আটকিয়ে যানঅন্যদিকে বারুইপুর স্টেশন ও বারাসত স্টেশনের কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে পরীক্ষার্থীরা পড়ে যানপরে ঐ দুটি স্টেশনে হাজার হাজার অপেক্ষারত পরীক্ষার্থী ট্রেন অবরোধ করেনএতে একাধিক পরীক্ষার্থী সঠিক সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেননিএদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরে জাতীয় সড়কে দুটি ট্রাক মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বহু পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননিএইসব দুর্ঘটনার কবলে পড়া পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে

ট্রেনের ব্যাপারে রেল মন্ত্রকের ঘাড়ে দোষ চাপালেও পর্ষদের এক বিচিত্র সিদ্ধান্তে এদিন বহু পরীক্ষার্থীকে নাজেহাল হতে হয়েছেরোল নম্বর মিলিয়ে ওয়েবসাইট থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রের হদিশ খুঁজে বের করতে কালঘাম ছোটাতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদেরওয়েবসাইটে শুধু স্কুল আর থানার কথা উল্লেখ করা হয়েছেকিন্তু একটি থানার অধীন বহু দূরদূরান্তে একাধিক স্কুল রয়েছে, যা খুঁজে বের করতে পারেননি অনেকেইআবার স্কুল খুঁজতে গিয়ে বহু পরীক্ষার্থী পৌঁছেছেন পরীক্ষা শুরু হওয়ার বহু পরেকেউ কেউ হতাশ হয়ে বাড়িও চলে গেছেন পরীক্ষা না দিয়েএব্যাপারে এদিন পর্ষদ সভাপতিকে প্রশ্ন করা হলে তাঁর যুক্তি, ‘ঠিকানার বদলে স্থানীয় থানার নাম জানা থাকলে স্কুল খুঁজে বের করতে বেশি সময় লাগার কথা নয়তাঁর এই যুক্তি যে কতটা বাস্তববর্জিত তা বারাসতের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের কথা বললেই বোঝা যায়বারাসত থানার অধীন দুটি বিধানসভা পড়েশাসন এলাকাটি বারাসত থানার মধ্যেই পড়েকিন্তু শাসনের থেকে বারাসত থানা দূরত্ব কী আদৌও জানা আছে পর্ষদ সভাপতির? ফলে স্থানীয় থানার নাম জানা থাকলে স্কুল খুঁজে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়’—পর্ষদ সভাপতির এই অন্তঃসারশূন্য আশ্বাসের সারমর্ম এদিন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্ত অব্যবস্থা ও দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হলেন রাজ্যের ছাত্র-যুবরানিয়োগের পরীক্ষা দিতে গিয়ে ব্যাপক অব্যস্থার শিকার হন পরীক্ষার্থীরাএদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে ডি ওয়াই এফ আই রাজ্য সভাপতি আভাস রায়চৌধুরী এবং এস এফ আই রাজ্য সম্পাদক দেবজ্যোতি দাস বলেন, ‘রাজ্য সরকারের গাফিলতিতে এই পরীক্ষা এক চূড়ান্ত প্রহসনে পরিণত হয়েছেএর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ডি ওয়াই এফ আই সোমবার কলকাতা সহ সমস্ত জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সামনে বিক্ষোভ দেখাবেঅন্যদিকে পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত হয়রানি এবং প্রশ্নপত্র ও যানবাহনকে ঘিরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ব্যবসা চালানোর অভিযোগে আন্দোলনে নামছে ভারতের ছাত্র ফেডারেশনওআগামী ২রা এপ্রিল সংগঠনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচীতে এই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করে পথে নামছেন এস এফ আই কর্মীরাওঐদিন মিছিল করে এদিনের পরীক্ষা-প্রহসনের প্রতিবাদ জানাবেন ছাত্রছাত্রীরা


রাজ্যজুড়ে চরম অব্যবস্থার নজির গড়লো প্রশাসন নাজেহাল হাজার হাজার ‘টেট’ পরীক্ষার্থী|

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ৩১শে মার্চ — আগাম আশঙ্কা ছিলই। রবিবার সকাল থেকে সেই আশঙ্কাই আতঙ্কে পরিণত হলো। দিনের শেষে চরম অব্যবস্থা, প্রশাসনিক অপদার্থতার নজির গড়ে ফেললো পরীক্ষার্থীর সংখ্যার বিচারে এরাজ্যের বুকে সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষাটি।

তবে পরীক্ষার্থীদের অসুবিধা, নাজেহাল পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করেই পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, ‘পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই মিটেছে’। এমনকি রাজ্য সরকারকে আড়াল করে ‘বিচ্ছিন্ন’ কিছু ঘটনা, অব্যবস্থার জন্য রেল দপ্তরকেই কাঠগড়ায় তুলেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। যদিও পর্ষদের দাবি এদিন দিনভরই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শুধুমাত্র পরীক্ষাকেন্দ্রের ঠিকানা খুঁজে বের করতেই চরম নাজেহাল অবস্থার শিকার হতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। যার দায় সম্পূর্ণভাবেই বর্তাচ্ছে পর্ষদের ওপর। কেননা ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ও থানার নাম উল্লেখ করেই দায়িত্ব সেরেছিল পর্ষদ। পাশাপাশি প্রায় ৪৫লক্ষ পরীক্ষার্থী এদিন রাস্তায়। ফলে সরকারী পরিবহন বেশি সংখ্যায় নামানোর প্রয়োজন থাকলেও অপ্রতুল সরকারী বাস সমস্যাকে চরম আকার দিয়েছে। বাসের ছাদে, ট্রেকারে ঝুলে, ট্রেনের হাতল ধরে ভয়ানক ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের।

কোথাও একটা পাঁচ মিনিটে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকেও পরীক্ষা দিতে পারেননি পরীক্ষার্থীরা, আবার কোথাও বেলা তিনটের পরেও দেওয়া হয়েছে প্রশ্নপত্র। পরীক্ষার সময় বাড়ানো নিয়ে প্রশাসনের একেক সময় একেক রকম এস এম এস-বার্তায় বিভ্রান্তি আরো বাড়ে। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক জখম হওয়া, ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়া, সঠিক সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে না পারায় পরীক্ষায় বসতে না পারা, এমনকি একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছয়নি প্রশ্নপত্র, প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিসের লাঠি খেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের, —দিনভর অসংখ্য এরকম বিভ্রাটের কোলাজই লক্ষ্য করা গেছে গোসাবা থেকে বহরমপুর, মেদিনীপুর থেকে মালদহ। 

পর্ষদের বক্তব্য, দুই ২৪পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও মেদিনীপুরেই একমাত্র বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দুপুর থেকেই রাজ্যের সমস্ত জেলা থেকেই আসতে শুরু করে একের পর এক অব্যবস্থা ও বিভ্রাটের খবর। রবিবার সকাল থেকেই বহরমপুরসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিন বেলা ন’টার পর থেকে জেলা সদর শহর বহরমপুরের সাথে জেলার অন্য প্রান্তের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গাড়িতে এই সময় বহরমপুরে ভাগীরথীর উপর ব্রিজ পেরোতে দু’-আড়াই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। যত সময় বাড়তে থাকে এই যানজট আরো দীর্ঘ হতে থাকে। ফলে বহরমপুর শহর থেকে পরীক্ষার্থীরা জেলার অন্যপ্রান্তে যেতে পারে না। আবার বাইরে থেকে বহরমপুর শহর বা শহরতলিতে পরীক্ষার্থীরা আসতে পারেনি। দেখা মেলেনি পুলিস প্রশাসনেরও। কোন দিকে কোন উপায় না দেখে বেলা ১২টা নাগাদ ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কের উপর বহরমপুর গির্জার মোড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেন। এরপর টনক নড়ে পুলিস প্রশাসনের। হঠাৎই অতিরিক্ত পুলিস সুপারের নেতৃত্বে র‌্যাফসহ পুলিসের একটি দল গিয়ে পরীক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করে। এরপর পুলিস যানজট কাটাতে উদ্যোগী হয়। আধ ঘণ্টার মধ্যে পুলিস যানজট কাটাতে কিছুটা হলেও সমর্থ হয়। কিন্তু ততক্ষণে বহু পরীক্ষার্থীর নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে যাবার সময় পেরিয়ে গেছে। এরপর ফরাক্কা, ধুলিয়ান, সালার, খড়গ্রাম ,জলঙ্গী, ডোমকল, নওদা, রেজিনগরসহ বিভিন্ন এলাকার বহু পরীক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে না পৌঁছতে পেরে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হলেন। একাংশের যুবক-যুবতী পরীক্ষা দিতে না পেরে বহরমপুর পঞ্চাননতলায় মুর্শিদাবাদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের অফিসে গিয়ে ভাঙচুর চালান। তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আবার বহরমপুর থানার ভাকুড়ি উচ্চবিদ্যালয়ে চারশোজন পরীক্ষার্থীর সেন্টার পড়লেও একজনও পরীক্ষার্থী আসেননি। ফলে এই কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র খোলাই হয়নি। এই নজিরবিহীন ঘটনা সরেজমিনে তদন্ত করতে আসেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট অমিতাভ ভট্টাচার্য। কেন একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা দিতে এলেন না, তার কুলকিনারা করতে পারেননি তিনিও। পরীক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে জঙ্গীপুরের ফতুল্লাপুর মনি হাইস্কুলেও। ধুলিয়ানের কয়েকটি স্কুলে আবার পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের বচসার ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলার বারুইপুরে শাসন রোড রেলস্টেশনের কাছে ভিড়ের চাপে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক জখম হয়েছেন রীতা দাস নামে একজন পরীক্ষার্থী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে, পরে সেখান থেকে কলকাতায় চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরো বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীর জখম হওয়ার খবর মিলেছে রাতে। ট্রেনে উঠতে না পেরে বহু পরীক্ষার্থী এদিন বারুইপুর স্টেশনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারী পরীক্ষার্থীরা স্টেশন চত্বরে ভাঙচুরও চালায়। বেলা এগারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত রেল অবরোধও চলে। চাকরির জন্য পরীক্ষায় বসতে না পারা উদ্বিগ্ন পরীক্ষার্থীদের ওপর তৃণমূলীরা হামলা চালায়, এই অভিযোগও ওঠে। এমনিতেই বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র বহু দূরে হওয়ায় সমস্যা বেড়েছে, এই জেলায় তা চরম আকার নিয়েছে। সকাল থেকে গোটা জেলার সড়কপথে উদ্বিগ্ন পরীক্ষার্থীদের ডিড়। নেই পর্যাপ্ত যানবাহন। ট্রেনের কামরায় ছিল না পা রাখার জায়গা। কোনমতে বাসে, ট্রেনে ঝুলে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছলেও সময় পেরিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মথুরাপুরের ঘোড়াদল হাইস্কুলে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। পরীক্ষাকেন্দ্র খুঁজে না পাওয়ায় জয়নগর-১নম্বর বি ডি ও অফিসে বিক্ষোভ দেখায় পরীক্ষার্থীরা। আবার কোথাও পরীক্ষার্থীর তুলনায় প্রশ্নপত্র কম পৌঁছনোর ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে উস্তির কেঁশলী এম দাদিয়া স্কুলে দুপুর আড়াইটে নাগাদ পরীক্ষার্থীরা পৌঁছলে তাঁদের আর পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। স্কুলে মোট ৩০০জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষা দিতে পেরেছেন ১৯৫জন।

দক্ষিণবঙ্গে প্রায় প্রতিটি জেলাতেই অব্যবস্থার চিত্র একই। উত্তর ২৪পরগনায় বারাসত, হাসনাবাদ, বনগাঁ শাখায় ট্রেন অবরোধ হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেননি অসংখ্য পরীক্ষার্থী। তৃণমূলী শিবির থেকে ভুল তথ্য দেওয়ায় কার্যত পরীক্ষাতেই বসতে পারলেন না নিউ বারাকপুরের প্রায় ৩৫জন পরীক্ষার্থী। ইন্টারনেটে তাঁরা জানতে পেরেছিলেন পরীক্ষাকেন্দ্র হাড়োয়ার কালীনগর হাইস্কুলে। দীর্ঘ পথ ট্রেনে, ট্রেকারে চেপে কোনমতে হাড়োয়ায় পৌঁছলে সেখানে তৃণমূলী শিবির থেকে বলা হয়, ঠিকানা ভুল আছে, স্কুলটি সন্দেশখালি-১নম্বর ব্লকে। আবার ট্রেন পালটে, বাস পালটে সন্দেশখালিতে নকালীনগর কলেজে পৌঁছলে বলা হয় এই রোল নম্বর এখানে নয়, ওটি হাড়োয়ায়! তখন ঘড়িতে পৌনে একটা! কার্যত হতাশায়, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ৩৫জন পরীক্ষার্থী। একইরকম দৃশ্য জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। এদিকে ভিড়ের চাপে ট্রেন থেকে শেখ সালাউদ্দিন নামে এক যুবক পড়ে যাওয়ার পরে দুপুর থেকে বারাসত স্টেশনে রেল অবরোধের ফলে গোটা জেলাতেই বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে। স্বরূপনগর, বাদুড়িয়া ব্লকের বিভিন্ন স্কুলে ৫০শতাংশ পরীক্ষার্থী সময়মতো না আসায় পরীক্ষা দিতেই পারেননি। দেগঙ্গাতে বাইক দুর্ঘটনায় আহত হন এক পরীক্ষার্থী।

রবিবারে এমনিই বাস কম চলে, কিন্তু প্রশাসন এত বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থাই করেনি। তাই দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছেন অনেক পরীক্ষার্থী। বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে জখম হয়েছেন অনেকে। ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন অনেক পরীক্ষার্থী। কোন বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না এদিন। এমন ঘটনা হয়, মা ট্রেন থেকে ভিড়ে নামতে গিয়ে জখম হয়েছেন, মেয়ে আর পরীক্ষা দিতে যাননি। কোন হেল্পলাইনও খোলা হয়নি। ফলে পরীক্ষার্থীরা চরম বিভ্রান্ত হয়েছেন। বর্ধমানে যেখানে চার হাজার বাস চলে সাধারণ দিনে, সেখানে এদিন বাস চলেছে মাত্র পৌনে ৩হাজার বাস। ফলে দুর্ঘটনার শিকার হন পরীক্ষার্থীরা। বার্নপুরে বাসের ছাদে চেপে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাবার সময় একটি ব্রিজে ধাক্কা লেগে ৪জন পরীক্ষার্থী গুরুতর জখম হয়েছেন। অন্যদিকে জামালপুরে এক পরীক্ষার্থীসহ বাবা ও তাঁদের সাহায্য করতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় আহত হয়ে ভর্তি ৩জন। মঙ্গলকোটেও ৭জন পরীক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে ছিল চরম বিশৃঙ্খলা। পূর্বস্থলী থেকে দুর্গাপুর বিধানচন্দ্র ইনস্টিটিউশনে টেট পরীক্ষা দিতে এসেও ৪জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারলেন না। অ্যাডমিট কার্ডের পিছনে ব্যাঙ্কের স্ট্যাম্প না থাকায় এদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি। ব‌্যাঙ্ক থেকে স্ট্যাম্প দিয়েই অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করার কথা। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের গাফিলতির শিকার হলেন পরীক্ষার্থীরা।

হাওড়ার শ্যামপুরে আবার একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে আসেননি একজন পরীক্ষার্থীও। হাওড়ার শ্যামপুর থানা এলাকার গোবিন্দপুর নিত্যলাল স্মৃতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে রবিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্মিত সকলেই। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ থেকে পাঠানো নির্দেশিকা অনুসারে এই বিদ্যালয়ে ৫০০জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার কথা। সেই অনুসারে সামগ্রিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। প্রশ্নপত্রও এসেছিল। কিন্তু পরীক্ষার সময় উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও দেখা মেলেনি কোনও পরীক্ষার্থীর। এখানে যে-সমস্ত ফরম নম্বরের পরীক্ষার্থীদের আসন পড়েছিল, আদৌ সেই ফরমগুলি বিক্রি হয়েছিল কিনা তা এখন খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

আবার মেদিনীপুর ‘স্ট্র্যাটেজিক’ লোকেশনে গাড়ি দুর্ঘটনার দিকে আঙুল তুলে দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করলেও বাস্তবে মেদিনীপুর শহরে ঢোকার মুখে মোহনপুরে সকালে একটি লরি খারাপ হওয়াতেই মূল বিপত্তি ঘটে। গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ে যানজট। কিন্তু অদ্ভুতভাবে সকাল পেরিয়ে বিকেল হলেও যানজট ছাড়াতে পুলিস প্রশাসনের কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফলে ঝাড়গ্রাম, দাসপুর, চন্দ্রকোনা, শালবনী ,লালগড় বিভিন্ন ব্লকে পরীক্ষার্থীদের পৌঁছনোই আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। একই ছবি হুগলী, পুরুলিয়া, বীরভূম, নদীয়ার মতো জেলাতেও। খানাকুলের দেবাশিস হাজরা নামে এক পরীক্ষার্থী শেওড়াফুলি স্টেশনে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হন। নদীয়ার বেথুয়াডিহিতে একটি স্কুলে ৮৭টি প্রশ্নপত্র কম যাওয়ায় পরীক্ষায় বসতেই পারেননি পরীক্ষার্থীরা। আবার, রানাঘাটের বিধানচন্দ্র শিক্ষায়তনে পরীক্ষা শুরুর পাঁচ মিনিট পরে পৌঁছলেও বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। যদিও পর্ষদের ঘোষণা ছিল, দুটো বাজতে পাঁচ মিনিট আগে এলেও পরীক্ষায় বসা যাবে।

উত্তরবঙ্গের মালদহ, কোচবিহার, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়িতেও দেখা গেছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে এই চরম অব্যবস্থা, নাজেহাল হওয়ার ঘটনা। মূলত ওয়েবসাইটে এক ঠিকানা, অথচ পরীক্ষা কেন্দ্র আলাদা জায়গায়। আবার কোথাও থানা এলাকার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্র খুঁজতেই হিমশিম খাওয়া পরীক্ষার্থীরা পৌঁছতে পারেননি কেন্দ্রে —এই দৃশ্যই সর্বত্র। মালদহ কলেজে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে রীতিমতো বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। অসংখ্য পরীক্ষার্থী ভুল পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোয় পরীক্ষাই দিতে পারেননি। আবার ফাঁসিদেওয়াতে কোন মহিলা মহাবিদ্যালয় না থাকলেও নাম বিভ্রাটের কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি পরীক্ষার্থীরা, —এঘটনাও ঘটেছে। জলপাইগুড়ি শহরেও একাধিক স্কুলে প্রশ্নপত্র দেরিতে পৌঁছনোয় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পরীক্ষার্থীরা।

ফলে পর্ষদের দাবি থেকে গেছে শুধুমাত্র সাংবাদিক বৈঠকের ভাষ্যেই। দিনভর বাস্তবতা দেখিয়েছে অন্য ছবি।

রাজ্যের ঘোষণা না মানার পথেই কমিশন

আনন্দবাজার পত্রিকা - রাজ্য


রাজ্যপালের পরামর্শও ওড়াল অনড় সরকার

আনন্দবাজার পত্রিকা - রাজ্য


বাড়ছে নির্যাতন, থানারই দোষ দেখছেন মেয়েরা

আনন্দবাজার পত্রিকা - দক্ষিণবঙ্গ


দলে ‘মুকুলায়নের’ অভিযোগ| পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়ছে তৃণমূলেই|

আনন্দবাজার পত্রিকা - রাজ্য


ভোটের ভবিষ্যৎ ঠিক হবে কোর্টেই, স্পষ্ট করল কমিশন

আনন্দবাজার পত্রিকা - রাজ্য


চা-মুড়ি খান, ভোটে দাঁড়াবেন না, প্রচারে তৃণমূল

আনন্দবাজার পত্রিকা - দক্ষিণবঙ্গ

সরকারী কর আদায়ের পাশাপাশি চলছে সমান্তরাল তোলা আদায়। সঠিক হিসেব সংগ্রহ করা সম্ভব হলে দেখা যাবে সরকারী আয় থেকেও তোলাবাজির পরিমাণ বেশি হবে। অর্থাৎ তোলাবাজির সমান্তরাল ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হয়ে উঠেছে। হয়তো তোলাবাজির এই ব্যাপকতা এবং তার থেকে বিপুল অর্থ আয়ের ব্যবস্থাটাকে বর্তমান সরকার উন্নয়নের একটি সূচক হিসেবে গণ্য করছে। আর এটা স্বীকার না করে উপায় নেই যে, এই তোলাবাজির কারবারে যুক্ত থেকে কম-বেশি রোজগার করছে অসংখ্য মানুষ। এদেরকেই সম্ভবত সরকার চাকরি দেবার পরিসংখ্যানে যুক্ত করে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের গল্প শোনা |

ফাঁকা জায়গায় গাড়ি রাখতে গেলেও তোলা।

সরকারী বা বেসরকারী জমিতে ঝুপড়ি করে থাকতে গেলে তোলা দিতে হয়।

রাস্তায় হকারি করলে তোলা, ফুটপাতে বসলে তোলা, স্থায়ী দোকান বা ব্যবসা করতে গেলেও তোলা বাধ্যতামূলক।

জমি বা বাড়ি কিনতে তোলা দিতে হয়। বিক্রির ক্ষেত্রেও তোলা দিতে হয়। ইমারতি দ্রব্যের পুরো ব্যবসাটাই এখন সিন্ডিকেটরূপী তোলাবাজির দখলে। দু’বস্তা বালি বা কটা ইট কিনতে হলেও তোলা দিতে হবে।

দলীয় নেতা খুনে অভিযুক্ত সদ্য-পলাতক তৃণমূলী কাউন্সিলর শম্ভুনাথের দৃষ্টান্ত থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, এরাজ্যে তোলাবাজি কত দ্রুত এগিয়েছে। বেসরকারী হিসেবে শম্ভুনাথ মাসে তোলা আদায় করে ২৪ লক্ষ টাকারও বেশি। কলকাতা কর্পোরেশনের একটিমাত্র ওয়ার্ড এলাকা থেকেই একজন তৃণমূল কাউন্সিলর এত টাকা তোলা আদায়ে পারদর্শী। তাহলে গোটা রাজ্যে বাকি কাউন্সিলর, বিধায়ক, সাংসদ, জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যরা কত তোলা তুলছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর বাইরে অন্য নেতারা কম তোলা তুলছেন না।

রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পর যদি কোথাও নজিরবিহীন রোজগারের রাস্তা খুলে গিয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই তোলাবাজি।

শিল্প-বাণিজ্যের বাকি সবক্ষেত্র লাটে উঠলেও, একটি ক্ষেত্র রমরমিয়ে বাড়ছে। সেটা হলো তোলাবাজি। বস্তুত তোলাবাজিতে এরাজ্য এখন এক নম্বরে। তোলাবাজিতে এখন রাজ্যে যত আয় হচ্ছে, তা অর্থনীতির যে-কোনো ক্ষেত্রকে কানা করে দেবে। তোলাবাজি যেহেতু সম্পূর্ণ বেআইনী কারবার, তাই এই খাতে কত লক্ষ কোটি টাকা আদায় হয়, তার কোনো সীমা-পরিসীমা আন্দাজ করা যায় না। তাছাড়া এটা এমনই একটি কারবার, যা পুরোপুরি করের আওতার বাইরে।

শিল্পায়ন থমকে গেলে উন্নয়ন গতি হারায়। সবচেয়ে বেশি মার খায় কর্মসংস্থান। এতদ্‌সত্ত্বেও সরকার বলে যাচ্ছে শিল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে এবং তার থেকেই বেশি গতিতে হচ্ছে কর্মসংস্থান।

রাজ্যে শিল্পে এখন খরা চলছে। বিনিয়োগে উৎসাহ নেই কোনো শিল্পপতিরই। ধূপকাঠির মতো কিছু শিল্প নিয়ে ফাঁকা কলসিতে আওয়াজ তুলছেন শিল্পমন্ত্রী।


বছরে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষকে চাকরি দিচ্ছেন বলে অহরহ ঢাক পেটাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেটা বাজেট বক্তৃতায় লিপিবদ্ধ করে সরকারী স্বীকৃতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু কবে কোথায়, কার চাকরি হলো, তার তালিকাটা হাজারবার চেয়েও পাওয়া গেলো না। তেমন কোনো তালিকা সরকারের কাছে থাকলে তো পাওয়া যাবে!

রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে রাশি রাশি টাকা বিনিয়োগের গল্প শোনা যায় শিল্পমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতায়। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে তার হদিশ মেলেনা। কোথায় কোন্‌ শিল্পে কত টাকা বিনিয়োগ হয়েছে এবং কত কর্মসংস্থান হয়েছে, তার তালিকা গত ২২ মাসেও তৈরি করতে পারেনি রাজ্য সরকার।


PRATAP NASKAR-SHILADITYA CHOWDHURY


বেলপাহাড়ির পর মহেশতলাপ্রশ্ন তুললে অসহিষ্ণুতার ঐতিহ্যএখনও অটুট

গত বছর বেলপাহাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় সারের দামবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিনপুরের শিলাদিত্য চৌধুরীমাওবাদীতকমা দিয়ে কৃষিজীবী ওই যুবককে গ্রেফতার করতে মঞ্চ থেকেই পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়এ বার মহেশতলায় দিদির খোঁজ নিতে গিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (ববি) রোষ’-এর মুখে পড়লেন জিঞ্জিরাবাজারের প্রতাপ নস্করমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁকে ধরে ফেলেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা


প্রতাপের কথা টিভি দেখে জানতে পারেন বিনপুরের বাসিন্দা শিলাদিত্য চৌধুরীজঙ্গলমহলের এই যুবকের জিজ্ঞাসা, “প্রশ্ন করলে কেন আটক করা হবে? প্রতাপবাবু তো কোনও দোষ করেননি

March 30, 1963

This day that age - March 30, 1963 - The Hindu

State Govt. creating confusion over rural polls, says Congress - The Hindu

State Govt. creating confusion over rural polls, says Congress - The Hindu


In a direct attack on the State Election Commission, all-India general secretary of the Trinamool Congress Mukul Roy alleged here on Friday that the letters written by the Commission are being drafted in the office of “a political party”, implying that the party concerned is the Communist Party of India (Marxist).

Trinamool tirade against poll panel continues - The Hindu


Bengal’s transport units in the red - The Hindu

Bengal’s transport units in the red - The Hindu

Deadlock persists over West Bengal rural polls - The Hindu

Deadlock persists over West Bengal rural polls - The Hindu


IISCO modernisation changing face of Burnpur - The Hindu

IISCO modernisation changing face of Burnpur - The Hindu


Remaining firm in its stand to hold the rural polls without the deployment of central paramilitary forces, the State Government sent another letter to the State Election Commission (SEC) here on Saturday, but that did little to ease the face-off on the issue between the Government and Commission.

Trinamool government sticks to its guns over rural polls - The Hindu


Trinamool-poll panel row tThe ongoing impasse between the State Government and the State Election Commission has turned out to be a major issue with the Opposition parties questioning the State Government’s intention to hold the rural polls and the ruling Trinamool Congress sniffing a grave conspiracy in it all.urns political - The Hindu

Trinamool-poll panel row turns political - The Hindu

WB: TMC attacks State Election Commission, calls it 'biased'

WB: TMC attacks State Election Commission, calls it 'biased'

100 Years of Indian Cinema: The first women directors

100 Years of Indian Cinema: The first women directors


Women constitute only 5.33 per cent of police forces in India

Women constitute only 5.33 per cent of police forces in India


Why historical Spamhaus internet attack was good - Sci/Tech - DNA

Why historical Spamhaus internet attack was good - Sci/Tech - DNA


শ্রীলঙ্কা নিয়ে ফের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সি পি আই (এম)-র


শ্রীলঙ্কা নিয়ে ফের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সি পি আই (এম)-র

সংবাদ সংস্থা

চেন্নাই, ২৮শে মার্চ — শ্রীলঙ্কায় বসবাসরত তামিলদের সমস্যা সমাধানে ফের সুস্পষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব জানালো ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)। 

পার্টির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী এক বিবৃতিতে বলেছে, শ্রীলঙ্কায় বসবাসরত তামিল জনগণ যেসব বাস্তব সমস্যার মধ্যে রয়েছেন, তা বিবেচনার মধ্যে না রেখেই বুধবার একটি প্রস্তাব পাস করানো হয়েছে তামিলনাডু বিধানসভায়। ‘শ্রীলঙ্কায় পৃথক একটি ইলমের দাবিতে গণভোট অথবা শ্রীলঙ্কাকে বন্ধু দেশ হিসেবে না বিবেচনা করার’ মতো প্রস্তাবগুলি সেদেশের তামিলদের কোন কাজে তো লাগবেই না, বরং পরিস্থিতি আরো ঘোরালো করে তুলবে।

সি পি আই (এম) বুধবারই বলেছে, শ্রীলঙ্কা সেনা ও এল টি টি ই-র লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মারাত্মক ঘটনাগুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত তামিল মানুষের জীবন-জীবিকা ও পুনর্বাসনের মৌলিক ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করাই আশু চাহিদা। পাশাপাশি তামিলদের বসবাসের এলাকাগুলি থেকে সশস্র্ব বাহিনী সরিয়ে দ্রুত সেখানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সিংহলীকরণ বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সমাধান এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণের পথেই কেবল সিংহলীদের সমান অধিকার নিয়ে তামিলদের বাঁচার ব্যবস্থা করা সম্ভব। 

আন্তর্জাতিক তদন্ত নয়, আন্তর্জাতিক প্যানেলের বিচারক দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলির বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করানোর জন্য শ্রীলঙ্কা সরকারকেই সম্মত করাতে হবে। দোষী প্রমাণিতদের শাস্তি দিতে হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ-সহ শ্রীলঙ্কার তামিলদের জন্য সর্বোচ্চ স্বশাসন মঞ্জুর করতে শ্রীলঙ্কা সরকারকে চাপ দিতে হবে। এব্যাপারে উদ্যোগী হতে ভারত সরকার এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাছে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে সকলকে। 

প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কা সমস্যা সমাধানের জন্য সি পি আই (এম) প্রথম থেকেই বলছে, সেদেশের তামিল প্রধান উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি মিলিয়ে তামিল জনগণকে বৃহত্তর স্বশাসন দিতে হবে। শ্রীলঙ্কার সমস্ত পর্যায়ে তামিল জনগণ ও তামিল ভাষাকে সমান অধিকারে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তামিল প্রশ্নে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে সার্ক-এর সহযোগী দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে ভারতের কূটনৈতিক সহযোগিতাও দেওয়া উচিত বলে বারেবারে জানিয়েছে সি পি আই (এম)।

CHIT FUND CAUSES HAVOC IN WEST BENGAL


চিটফান্ডের দাপাদাপিতে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে অর্থ জমা সর্বাধিক কমেছে প‍‌শ্চিমবঙ্গে|

নিজস্ব সংবাদদাতা

নয়াদিল্লি, ২৯শে মার্চ— দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সবথেকে বেশি পরিমাণে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে অর্থ জমা কমেছে। আর এই হার কমেছে রাজ্যে পালাবদলের পরই। সংসদে পেশ করা অর্থমন্ত্রীর লিখিত জবাবে এই তথ্য মিলেছে। গত তিন বছরে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে অর্থ সঞ্চয়ের হার নিয়ে লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিটি রাজ্যে এ নিয়ে সঞ্চয়ের তথ্য পরিবেশিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ২০১১ সালের মার্চ মাস অবধি ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি ছিল সারা দেশের মধ্যে সেরা। ২০১১ সালে পালাবদল হওয়ার পর তার সঞ্চয়ের পরিমাণ কমেছে বিপুল হারে। এক বছরে তার পরিমাণ হলো ১০ হাজার কোটি টাকার ওপর। ভারতের আর কোনো রাজ্যে এই বিপুল পরিমাণে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে অর্থ সঞ্চয় কমেনি। অনেকের মত পশ্চিমবঙ্গে চিটফান্ডের বিপুল দাপাদাপির ফলে রাজ্যে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে এই বিপুল হারে অর্থ সঞ্চয় কমেছে। এসব চিটফান্ড সংস্থার অর্থ লোপাট নিয়ে সংসদে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে তা সংসদে পেশ করা হবে বলে লিখিত আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

দেশে ইতোমধ্যেই ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে অর্থ সঞ্চয়ের হার কমছে। এ নিয়ে কেন্দ্রের তরফে নানা বক্তব্য রয়েছে। কিন্তু যেটা লক্ষণীয়, তা হলো দেশের ক্ষুদ্র সঞ্চয় যে হারে কমেছে, তাকে ছাপিয়ে প্রায় দ্বিগুণ হারে এই সঞ্চয় কমেছে পশ্চিমবঙ্গে। যেমন ২০০৯-১০, ২০১০-১১ এবং ২০১১-১২—এই তিন বছরে দেশে মোট ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা, ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৭২০ টাকা এবং ২ লক্ষ ২১ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জি ডি পি) হারে যথাক্রমে ৩.৮৭ শতাংশ, ৩.৫২ শতাংশ এবং ২.৪৭ শতাংশ। অর্থের পরিমাণে সঞ্চয় কমার পরিমাণ হলো প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয় কমার হার গত বছরের তুলনায় বর্তমান বছরে প্রায় ২০ শতাংশ। এই একইসময়ে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের চিত্রে বিপুল হ্রাস ধরা পড়েছে। ঐ তিন বছরে রাজ্যে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩০ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, ৩৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা এবং ২৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। ২০১১ সালের মার্চ মাস অবধি ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের অগ্রগতি ছিল বিপুল হারে। ভারতের কোথাও এই অগ্রগতির চিত্র নেই। এই সময়ে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। মে মাসে পালাবদলের পর ২০১১-১২—এই চিত্র পালটে গেলো। এই সময়ে সঞ্চয় ১০ হাজার কোটি টাকার উপর কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা, যা গত বছরের থেকে হ্রাস পাওয়ার হার হলো ৩৩ শতাংশের ওপর। সর্বভারতীয় গড়-হ্রাসের হার হলো যেখানে ২০ শতাংশ। যদিও পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে রাজ্য সরকার জোর দেয়। পালাবদলের পর তা তুলনামূলকভাবে কম। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সঞ্চয়ে অগ্রগতির হার ছিল অন্যান্য রাজ্যের থেকে অনেক বেশি। পশ্চিমবঙ্গে ২০০৯-১০ সাল থেকে ২০১০-১১সালে ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা ছিল একবছরে। যা ভারতের কোনো রাজ্যে হয়নি। উত্তর প্রদেশে সেই সময় এই সঞ্চয় বেড়েছে ২১ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা থেকে ২৩ হাজার ৬৮৫ কোটি, দিল্লির ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা থেকে ১০ হাজার ৯০৪ কোটি। অন্ধ্রে ১৫ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা থেকে ১৮ হাজার ৭১ কোটি, বিহারে ৮ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা থেকে ১০ হাজার ৮৮ কোটি, মহারাষ্ট্রে ২০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা থেকে ২৩ হাজার ৬৬২ কোটি, গুজরাটে ১৯ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা থেকে ১৯ হাজার ৩৬৬ কোটি, পাঞ্জাবে ১০ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা থেকে ১১ হাজার ২২০ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী তাঁর লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, দেশে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার—উভয়েই ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে উৎসাহ বাড়াতে বিভিন্নভাবে প্রচারাভিযান চালিয়ে থাকে। চ্যানেলে এবং সংবাদমাধ্যমে এতে রাজ্য এবং কেন্দ্রের তরফে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। যদিও পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর এতে রাজ্য সরকারের প্রচারাভিযান সেভাবে লক্ষ্য করা যায় না বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ। চিটফান্ড সংস্থার রমরমা এতে মদত পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় এতে কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে চরম মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞমহল। অর্থমন্ত্রকের সংসদীয় রিপোর্টে সঞ্চয় হার কম হওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক পরামর্শদাতা জানিয়েছেন, পরিবারের আর্থিক সঞ্চয়ের হার ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে কমছে এখন। ২০০৭-০৮ সালে সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ১১ শতাংশ। তা গত দু’বছরে কমে ২০১১-১২ সালে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, সঞ্চয়ের হার ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ছিল মাত্র ১৪ শতাংশ। যা গত এক দশকে সবচেয়ে পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের হার। অর্থ-সংসদীয় কমিটির মত, মূল্যবৃদ্ধির কারণে সঞ্চয়ের হার বিপুলভাবে কমছে। সরকার তা রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সঞ্চয়ের হার কমে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের হাতে কোনো বাড়তি অর্থের সংস্থান থাকছে না।

এদিকে সংসদে এবারে চিটফান্ডের রমরমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো বিভিন্ন রাজ্যে রমরমিয়ে দু-একবছর চলার পর লোপাট হয়ে যাচ্ছে এইসব সংস্থা। সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাই লিখিত প্রশ্নে এতে জানতে চাওয়া হয়েছে—চিটফান্ড সংস্থার নাম, ঠিকানা, তাদের সম্পর্কে অভিযোগের সংখ্যা, মোট লোপাট হওয়ার সংস্থার নাম, জালিয়াতি, অর্থ লোপাট নিয়ে সরকারী কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, লোপাট হওয়া চিটফান্ড সংস্থা ফের নাম বদলে আবার কোথায় তাদের কারবার শুরু করেছে, রাজ্য সরকারগুলি এসব নিয়ন্ত্রণে কোনো আইন করেছে কীনা। এ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তা পুরো জোগাড় হলে সংসদে তা জানানো হবে বলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন।