RESIST FASCIST TERROR IN WB BY TMC-MAOIST-POLICE-MEDIA NEXUS

(CLICK ON CAPTION/LINK/POSTING BELOW TO ENLARGE & READ)

Thursday, February 28, 2013

তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগে ধৃত দলীয় কাউন্সিলর



তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগে ধৃত দলীয় কাউন্সিলর

নিজস্ব সংবাদদাতা

আউশগ্রাম, ২৮শে ফেব্রুয়ারি— বুধবার সকাল থেকে গুসকরা শহর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে। অভিযোগ,গুসকরা পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের তৃণমূলী কাউন্সিলর মনোজ মেটে মদ্যপ অবস্থায় শহরের বিবদমান অপর গোষ্ঠীর ১১নং ওয়ার্ডের তৃণমূল অফিসে গিয়ে হামলা চালায়। ৪-৫জন মিলে হামলা চালানোর সময় পার্টি অফিসে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের আউশগ্রাম ১নং ব্লকের সভাপতি শেখ সালেক রহমান (টগর)। 

তাঁদের অভিযোগ, পৌরসভার তৃণমূলী কাউন্সিলর মনোজ মেটে দল বেঁধে গিয়ে দলের ব্লক সভাপতির উপরও হামলা চালায়। সেই মর্মে আউশগ্রাম থানার গুসকরা বিট হাউসের পুলিসের কাছে শাসক দলের ব্লক সভাপতি অভিযোগ করেন। হাতেনাতে মদ্যপ অবস্থায় তৃণমূলী কাউন্সিলর মনোজ মেটেকে হামলার অভিযোগে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিস অভিযুক্ত গুসকরা শহর পৌরসভার তৃণমূলী কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করার পরই শহরজুড়ে উত্তেজনা ছড়ায়। ফলে পুলিস বাধ্য হয়ে অভিযুক্তকে আউশগ্রাম থানায় নিয়ে গিয়ে তোলে। এদিন সন্ধে নাগাদ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে বর্ধমান থেকে ডি এস পি (ক্রাইম) কাজী সামসুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

পৌরসভার তৃণমূলী প্রধান চঞ্চল গড়াই অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে ছাড়াতে গুসকরা বিট হাউসের পুলিসের কাছে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে পুলিসের বচসাও শুরু হয়। পরে প্রধানের কাছ থেকেও একটি অভিযোগ নেওয়া হয়েছে অপর তৃণমূলী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। যদিও ডি এস পি ক্রাইম জানান, পরের অভিযোগটি নেওয়া হলেও এখনও তদন্ত না করে কিছু বলা যাবে না। তবে এদিন রাত পর্যন্ত বেশকিছু তৃণমূল কর্মী গুসকরা পুলিস ফাঁড়িতে বিক্ষোভ দেখায়।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=36597#sthash.L6aEk4dj.dpuf

আয়কর অপরিবর্তিতই



আয়কর অপরিবর্তিতই

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ২৮শে ফেব্রুয়ারি— টানাটানির দিন যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের। এই যুক্তি দেখিয়েই এবারের বাজেটে আয়কর ছাড়ের সীমা বাড়ালেন না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। আয়করের হারও পরিবর্তন করলেন না। তবে সর্বনিম্ন স্তরের করদাতাদের জন্য তিনি প্রদেয় করের উপর দু’হাজার টাকা ছাড় ঘোষণা করেছেন। আবার উলটোদিকে অতি-ধনীদের প্রদেয় আয়করের উপর ১০ শতাংশ সারচার্জ ধার্য করেছেন এক বছরের জন্য। বৃহস্পতিবার সংসদে ২০১৩-১৪ আর্থিক বছরের বাজেট পেশ করতে গিয়ে এই প্রস্তাব রেখেছেন তিনি। 

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০০০ টাকা কর ছাড়ের সুবিধা পাবেন প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ করদাতা, যাঁদের বার্ষিক আয় ২ লক্ষ টাকার বেশি হলেও ৫ লক্ষ টাকার মধ্যে। তাতে কর বাবদ রাজস্ব খাতে সরকারের আয় কমবে প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, অতি-ধনী বলতে তিনি চিহ্নিত করেছেন তাঁদের, যাঁদের বার্ষিক আয় এক কোটি টাকার বেশি। চিদাম্বরম বলেছেন, দেশে এখন এমন করদাতার সংখ্যা মাত্র ৪২৮০০। আগামী আর্থিক বছরে এই করদাতাদের কাছ থেকে আয়করের উপর ১০ শতাংশ সারচার্জ নেবে সরকার। ব্যক্তি ছাড়াও এই সারচার্জ প্রযোজ্য হবে হিন্দু একান্নবর্তী পরিবার, খামার ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান সি রঙ্গরাজন অতি-ধনীদের ক্ষেত্রে কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিছুদিন আগে। উইপ্রোর চেয়ারম্যান আজিম প্রেমজী তা সমর্থনও করেছিলেন। গরিব-মধ্যবিত্তদের বদলে বরাবরই ধনীদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল অর্থমন্ত্রী এদিন অতি-ধনীদের উপর সারচার্জ চাপাতে গিয়ে প্রেমজীকে ঢাল হিসাবে ব্যবহারও করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক উচ্চবিত্ত করদাতার মধ্যে কিছুটা হলেও আজিম প্রেমজীর মতো স্পিরিট আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি নিশ্চিত যে, তাঁরা আনন্দের সঙ্গেই এক বছর এই ক্ষুদ্র বোঝা বহন করবেন।

এদিন আয়করের ধাপ ও হার অপরিবর্তিত রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী অর্থনীতির কঠিন অবস্থার কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন। বস্তুত, সেই স্বীকারোক্তিকে সামনে রেখেই তিনি এদিন বলেন, এ‍‌ই অবস্থায় করের হার বা কর সংগ্রহ অনেকটা বাড়ানোর সুযোগ যেমন থাকে না বললেই চলে, তেমনই কর বাবদ আয় ছেড়ে দেওয়ার সুযোগও কার্যত থাকে না। তবু তিনি প্রথম স্তরের করদাতাদের কিছুটা ছাড় দিতে চান করের অঙ্কে। উদারীকরণের কট্টর প্রবক্তা চিদাম্বরম গত কয়েক মাসে অগ্নিমূল্য বাজারের মধ্যে গরিব-মধ্যবিত্তকে ঠেলে দিয়েছেন এবং ভরতুকি কমিয়ে তাঁদের ঘাড়ে আর্থিক বোঝার ভার বাড়িয়েছেন। তারপর তাঁর এই পদক্ষেপ আসলে মানবিক মুখের ছদ্মবেশ ধারণের চেষ্টা বলে অনেকেই মনে করছেন।

উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রীর এদিনের বাজেট প্রস্তাবের পরে বার্ষিক ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে করের হার শূন্যই রইলো। ২ লক্ষ টাকার বেশি কিন্তু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে করের হার ১০ শতাংশ থাকলেও মোট কর থেকে বাদ যাবে ২ হাজার টাকা। এছাড়া ৫ লক্ষ টাকার বেশি কিন্তু ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে করের হার ২০ শতাংশ এবং ১০ লক্ষ টাকার বেশি কিন্তু ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ে করের হার ৩০ শতাংশই থাকছে। আর বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকার বেশি হলে ৩০ শতাংশ করের উপর ১০ শতাংশ সারচার্জ ধার্য হবে। পাশাপাশি ৬০-৮০ বছর বয়স্ক প্রবীণ ও ৮০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের ক্ষেত্রে যে আয়ের সীমায় করের হার ১০ শতাংশ, সেই আয়ে কর খাতে ছাড় পাওয়া যাবে ২ হাজার টাকা এবং আয় ১ কোটি টাকা ছাড়ালে ৩০ শতাংশ আয়করের সঙ্গে সারচার্জ যুক্ত হবে ১০ শতাংশ।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=36620#sthash.MhA7AzR9.dpuf

জয়ের আনন্দে মাথার মুকুট অসাধ্য সাধনের রামনগর



জয়ের আনন্দে মাথার মুকুট অসাধ্য সাধনের রামনগর

স্বর্ণেন্দু দত্ত

আগরতলা :২৮শে ফেব্রুয়ারি- আলো ফুটতেই উমাকান্ত আকাদেমিকে ঘিরে বাড়তে শুরু করলো ভিড়। হাসপাতাল রোডের উপর ব্যারিকেডের দু’ধারে বামফ্রন্ট সমর্থকরা আর আখাউড়া রোডের ব্যারিকেডের অন্যদিকে কংগ্রেসীরা। তবে বেশি ভিড় হরিগঙ্গা বসাক রোডেই। আটটা-সাড়ে আটটায় যখন গণনা শুরু হচ্ছে তখন বটতলা থেকে মেলার মাঠ হয়ে প্যারাডাইস চৌমুনী জুড়ে শুধুই লাল ঝাণ্ডার স্রোত। একটু দূরের কেন্দ্রগুলি থেকে সমর্থকরা ট্রেকার, গাড়ি বোঝাই হয়ে নামছেন ঝাঁকে ঝাঁকে। শহরের ব্যস্ততম এই রাস্তা বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বামফ্রন্ট সমর্থকদের স্লোগানের উত্তাপে সরগরম আর পতাকায় রঙিন।

সাড়ে ন’টা নাগাদ সিটি সেন্টারের কাছে সি পি আই (এম)-র জেলা অফিস থেকে ছিটকে বেরলো এক ঝাঁক তরুণ। স্লোগানে আর জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা যৌবনের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ালো আশপাশে জমায়েত হয়ে থাকা সমর্থকদের মধ্যে। একদফা আনন্দ উচ্ছ্বাসের পর পরস্পরের থেকে জানার চেষ্টা কোন্‌ আসনে কে এগিয়ে। আরো আধঘন্টার মধ্যে যখন প্রবণতা স্পষ্ট, শুরু হয়ে গেল বিজয় উৎসব। সকাল দশটাতেই।

প্যারাডাইস চৌমুনীতে আজ কোনো ট্রাফিক পুলিস নেই। রাস্তাজুড়ে মানিক সরকারের ছবি হাতে অসংখ্য মহিলা নাচ করছেন, স্লোগান দিচ্ছেন। সেই ছবিকে ‘ওয়াইডলি’ ধরতে চিত্র সাংবাদিকদের প্রিয়তম জায়গায় ট্রাফিক পুলিসের স্ট্যান্ডে একের পর এক জয়ের খবর আসছে, ফেটে পড়ছে জনতা। ভিড়ও বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে। ক্রমশ স্পষ্ট আগের বারের আসন ধরে রেখে বাড়াচ্ছে বামফ্রন্ট। টিভি চ্যানেলের দৌলতে আচমকাই রটে গেলে বিরোধী দলনেতা রতন নাথ পরাস্ত হয়েছেন। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যে সেই খবর সত্য নয় জানতে পেরে মন খারাপ মোহনপুরের শুভঙ্করের। বিপুল জয়ের ভিড়ে কংগ্রেসের ‘নিশ্চিত’ আসনেও হারতে রাজি নয় শুভঙ্কররা। মন খারাপের রেশ কাটতে সময় লাগলো ঠিক দু’মিনিট। খবর এলো রামনগর কেন্দ্রে পিছিয়ে পড়েছেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট সুরজিৎ দত্ত। দীর্ঘ দু’দশক পরে শহর আগরতলায় ফিরছেন বামপন্থীরা, এই সম্ভাবনাতেই ফের উদ্বেলিত জনতা। অলিগলি পেরিয়ে ফের গণনা কেন্দ্রের দিকে ছুটে যাওয়ার অবাধ্য চেষ্টা। 

তিন স্তরের নিরাপত্তা পেরিয়ে উমাকান্ত স্কুলে ঢোকার মুখেই এই স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে সাদা-কালোর রবীন্দ্রনাথের ছবি। রাজার তৈরি স্কুলে ছাত্র- শিক্ষকদের সংর্ধনায় আপ্লুত কবির বক্তব্যও লেখা ছবির নিচে। ছবি পেরিয়ে চার নম্বর ঘরের বাইরে একটি বেঞ্চে বসে কংগ্রেস নেতা সুরজিৎ দত্ত। কালো চেহারায় যেন আষাঢ়ের কালো মেঘ। ঘনঘন সিগারেট। সি পি আই (এম) প্রার্থী রতন দাস ২৩৩ভোটে এগিয়ে তখন। চলছে পোস্টাল ব্যালট গণনা। রয়েছে আরো পাঁচটি বুথ। টানাটানির লড়াইয়ে কান ঘেঁষে জিততে পারেন যে কেউ-ই। 

উমাকান্তর বাংলা বিভাগের এই স্কুলে ৮টা আসনের গণনায় অধিকাংশতেই এগিয়ে কংগ্রেস। তার মধ্যে বড়জলা বামফ্রন্টের থেকে নিয়ে নিয়েছে। অনেক ভোটে এগিয়ে প্রদেশ সভাপতিও। সূর্যমণিনগর আর প্রতাপগড়ে এগিয়ে বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। তবুও সব ছেড়ে মিডিয়ার আগ্রহ একটাই, রামনগরে কী হলো? আরো দীর্ঘ অপেক্ষার পর উল্লাসে ফেটে পড়লেন বামফ্রন্টের কাউন্টিং এজেন্টরা। পঁচিশ বছর পর রামনগরে উড়লো লালঝাণ্ডার জয়ের নিশান। কর্মীদের সংযত থাকতে বলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দিকে এগোলেন রতন দাস। হাত বাড়িয়ে অভিনন্দন জানালেন সুরজিৎ দত্ত। পরস্পরকে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর গণনা কেন্দ্র ছেড়ে দ্রুত বেরিয়ে গেলেন কংগ্রেস হেভিওয়েট। সাংবাদিকদের অনেক অনুরোধে গেটের মুখে এক মিনিট থমকে দাঁড়ালেন। ছোট্ট প্রতিক্রিয়া, ‘‘জেতা-হারার খেলাতে, জীবন গেল মেলাতে।’’

বেলা প্রায় আড়াইটে, ফায়ার ব্রিগেড চৌমুনী তখন আবিরে লাল। কয়েক হাজার জনতা আবেগে উদ্বেল। খালি গায়ের হাফ প্যান্টের বিশু একটা লাল পতাকা পেয়েছে পার্টির দাদার থেকে। সেটা নিয়েই তার খুদে বন্ধুরা সবাই নাচছে। ম্যাটাডোরের উপর পরপর সাজানো বক্সে বাজছে ভোটের গান। তাল মিলিয়ে নাচছেন মেয়েরা-মায়েরা, আগাম হোলি খেলে ফেলা যুবকরা। ভিড় ঠেলে সমর্থকরাই ঘাড়ে করে এনে রতন দাসকে তুললেন ম্যাটাডোরের মাথায়। মাইক হাতে নিয়েই বললেন, রামনগর কেন্দ্র কমরেড বীরেন দত্তর জায়গা। কমিউনিস্ট আন্দোলনের অবিসংবাদী এই নেতার আসন ফিরিয়ে এনে আমরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। স্লোগান উঠলো কমরেড বীরেন দত্ত, নৃপেন চক্রবর্তী, দশরথ দেবের নামে।

মিছিল এগোলো মেলার মাঠে সি পি আই (এম) রাজ্য দপ্তরের দিকে। এরমধ্যেই ফের মাইকে ঘোষণা, ‘কমরেড একটি আনন্দের খবর, পশ্চিম বাংলায় উপনির্বাচনে নলহাটি আসনে আমরা জিতে গেছি’। রাস্তা জোড়া লাল তরঙ্গে যেন জোয়ার এলো। বাংলার মানুষের থেকে বাংলার বেশি খবর রাখা ত্রিপুরার জনতার কাছে আজ এটা বাড়তি পাওনা। 

মিছিল ঢুকছে মেলার মাঠে। জনসমুদ্রের সামনে আবিরে লাল মহিলাদের ভিড়ে অক্লান্ত নেচে চলেছেন প্রৌঢ়া আনোয়ারা বেগম। রাজনগরে বাড়ি। সারা দিন চায়ের দোকান চালান। আজ বন্ধ। প্রশ্ন শুনে অবাক হয়ে তাঁরই পালটা প্রশ্ন, ‘‘আজ আবার দোকান কি? আনন্দ করুম না? আমরা সেই গাই-বাছুরের সময় থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়তাসি। কত অত্যাচার করসে। জোট আমলে স্বামীরে কোপাইসে। বুক চাপড়ে বললেন, আজ সব কষ্ট গেছে গিয়া।’’ 

দশরথ দেব ভবনের সামনে এসে দাঁড়ালো মানুষের মিছিল। স্লোগানের তীব্রতায় পাশের লোকের কথা শোনাও দায়। রতন দাসকে বুকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললেন বামফ্রন্টের আহ্বায়ক, একসময়ের রামনগরের বিধায়ক খগেন দাস। বললেন, অসাধ্য সাধন করেছ। 

আবিরে, রঙে, রক্তপতাকায় রঙিন রামনগরের জনতা তাঁদের প্রতিনিধিকে নিয়ে ফের এগোলেন নিজেদের কেন্দ্রের দিকে, সমস্ত মানুষকে অভিবাদন জানাতে।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=36607#sthash.7ByPsro7.dpuf

উপনির্বাচনে টাকার খেলা হয়েছে আগাম আভাস মিলছে তৃণমূল-বি জে পি জোটের: বিমান বসু



উপনির্বাচনে টাকার খেলা হয়েছে আগাম আভাস মিলছে তৃণমূল-বি জে পি জোটের: বিমান বসু

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ২৮শে ফেব্রুয়ারি—রাজ্যের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূল-বি জে পি জোটের আগাম আভাস মিলছে বলে মন্তব্য করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম‌্যান ও সি পি আই (এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিমান বসু। গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি ইংরেজবাজার, নলহাটি ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার এই নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটপ্রদান ও ফলপ্রকাশের দিনও শান্তিপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখার জন্য এই তিন কেন্দ্রের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিমান বসু। 

এদিন বিমান বসু সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তিনটি কেন্দ্রের মধ্যে বামফ্রন্ট নলহাটিতে জয়ী হয়েছে। অপর দুটি কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, শতাংশের হারে বামফ্রন্টের ভোট কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ইংরেজবাজার কেন্দ্রে এতাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছে বামফ্রন্ট। বুথওয়াড়ি ফলাফল এলে বামফ্রন্টে তার বিস্তারিত পর্যালোচনা হবে। এছাড়া আমাদের নির্বাচনী রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলায় কিছু ঘাটতি শেষ মুহূর্তে চিহ্নিত হয়েছে। আপ্রাণ চেষ্টা করে তা পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সবটা হয়তো করা যায়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই এই নির্বাচনে তিনটি কেন্দ্রেই টাকার খেলা হয়েছে, কোথাও কম, কোথাও বেশি। কোথাও কোটি টাকার কম নয়। নির্দিষ্ট সূত্র থেকে খবর পাওয়ার পরই একথা বলছি। সংবাদমাধ্যমের অন্তর্তদন্ত করে দেখা উচিত, এই টাকা কারা পেয়েছে, কোথায় গেছে। এর কিছুটা প্রভাব নির্বাচনেও পড়েছে। এই তিন কেন্দ্রেই বি জে পি-র ভোট কমা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বিমান বসু বলেন, হতে পারে টাকার খেলা এর সঙ্গে যুক্ত আছে। এটাও হতে পারে এরাজ্যে তৃণমূল-বি জে পি জোট হওয়ার এটি আগাম আভাস। 

এদিন তৃণমূল নেতা মুকুল রায় অভিযোগ করেন, সি পি আই (এম) নলহাটিতে শরিকের হয়ে কাজ করলেও রেজিনগরে করেনি। এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিমান বসু বলেন, বামফ্রন্ট সম্পর্কে শ্রীমান রায়ের কোনো ধারণা নেই বলে উনি একথা বলেছেন। বামফ্রন্টের শরিক দলের যেখানে যে প্রার্থীই থাকুন না কেন, বামফ্রন্ট সর্বত্র ঐক্যবদ্ধভাবেই লড়াই করে। সি পি আই (এম)-ও শরিক দলের প্রার্থীদের জন্য জান লড়িয়েই কাজ করে থাকে। এই তিনটি কেন্দ্রেই বামফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে। আর এস পি এবং ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্বের কাছ থেকেই যে কেউ জেনে নিতে পারেন সি পি আই (এম) কর্মীরা কীভাবে কাজ করেছেন। 

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের দুটিতেই তৃতীয় স্থানে রইলো, ২১ মাসের সরকার পরিচালনার সঙ্গে এর কি সম্পর্ক আছে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে বিমান বসু বলেন, যদি রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে যে কোনো ঘটনাকে ‘ছোট ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়, যখন প্রৌঢ় বয়স্কদের কাজকেও ‘ছোটো ছোটো ছেলেদের কাজ’ বলে এড়ানোর চেষ্টা হয়, তখন নৈরাজ্যই উৎসাহিত হয়। মানুষ দেখছেন সরকারের কাজে অন্ধকারের জীবরা, যারা বেআইনী কার্যকলাপ করে, তারাই উৎসাহিত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে কিছু প্রশ্ন ওঠছে। নির্বাচনে তার কিছু প্রভাব পড়তে পারে।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=36624#sthash.6d3z53zY.dpuf

উজ্জীবিত কলকাতা থেকে আজ শুরু পূর্ব জাঠা



উজ্জীবিত কলকাতা থেকে আজ শুরু পূর্ব জাঠা

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ২৮শে ফেব্রুয়ারি— শেষমুহূর্তে সংগ্রামের বার্তায় নতুন ঢেউ জাগিয়েছে জনমতের বার্তা। লাল ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচন আর পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনের ফলাফলে উজ্জীবিত কলকাতা থেকে শুক্রবার সকালে যাত্রা শুরু করবে পূর্ব ভারতের ‘সংগ্রাম বার্তা জাঠা’। দুদিনের সফল ধর্মঘট আর নির্বাচনে মানুষের রায় সংগ্রামের বার্তাকে আরো বেশি করে সময়ের দাবি হিসাবে প্রমাণিত করেছে। ‘সংগ্রাম বার্তা জাঠা’ তাই যাত্রাপথকে আরো বেশি আলোড়িত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। 


সর্বভারতীয় সংগ্রাম বার্তা জাঠার চারটি মূল জাঠার মধ্যে পূর্বভারতের মূল জাঠাটি যাত্রা শুরু করবে শুক্রবার কলকাতার রানী রাসমণি রোড থেকে। সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত কলকাতার রানী রাসমণি রোডে জাঠাটির উদ্বোধন করবেন। সকাল দশটার সময় এই উপলক্ষে রানী রাসমণি রোডে একটি সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে সি পি আই (এম)-র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন পার্টির রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু। বিমান বসু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জ্ঞানশঙ্কর মজুমদার ও যোগীন্দর শর্মাও কলকাতা থেকে জাঠায় অংশ নেবেন। 

কলকাতা থেকে যে মূল জাঠাটি শুক্রবার রওনা হবে তাতে শুরু থেকেই অংশ নেবে আরো দুটি উপজাঠা। আসামের গুয়াহাটি থেকে একটি উপজাঠা রওনা হয়ে কোচবিহার দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি পরিক্রমা করে মুর্শিদাবাদ নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা ঘুরে বৃহস্পতিবার রাতেই সল্টলেকে এসে পৌঁছেছে। আসামের সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক উদ্বব বর্মণ, প্রবীণ নেতা নুরুল হুদা, টিকেন দাস, থিমরাজ ছেত্রী ও ফজলুর রহমান গুয়াহাটি থেকে রওনা হয়ে এই উপজাঠায় অংশ নিয়েছেন। কোচবিহার থেকে এই জাঠায় রয়েছেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃদুল দেও। একইভাবে ওড়িশা অন্ধ্রপ্রদেশের সীমানা সংলগ্ন পার্লাখমন্ডি থেকে রওনা হয়ে আরেকটি উপজাঠা বৃহস্পতিবার রাতে খড়গপুরে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার কলকাতার মূল জাঠার সঙ্গে সেটিও মিশে যাবে। সি পি আই (এম)-র রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও কলকাতার মানুষের কাছে পূর্ব ভারতের মূল জাঠার যাত্রাসূচনা উপলক্ষে রানী রাসমণি রোডে সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।

গুয়াহাটি থেকে রওনা হওয়া উপজাঠাটি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি পরিক্রমা করে বুধবার রাতেই বহরমপুরে এসেছিলো। বহরমপুর থেকে আমাদের সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, বৃহস্পতিবার সকাল নটায় বহরমপুর শহর থেকে জাঠা ফের বের হয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে যাত্রা শুরু করে। বহরমপুরের পশ্চিমগামিনীতে জাঠা যাত্রীদের সংবর্ধনার পরে ফের বেলডাঙায় সমবেত মানুষজন তাঁদের সংবর্ধিত করেন। এরপর পলাশী দিয়ে নদীয়া জেলায় প্রবেশ করে জাঠা। 

নদীয়া থেকে আমাদের সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, সকাল পৌনে এগারোটায় জাঠা পলাশী বাজারে ঢোকে। জেলার সীমানা সংলগ্ন জানকীনগরে জাঠাকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা ছিলো নদীয়া জেলার সি পি আই (এম) নেতৃবৃন্দের। কিন্তু সেখানে একটি স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় পার্টি নেতারা পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পিছিয়ে এসে পলাশী বাসস্ট্যান্ডে স্বাগত জানান জাঠাযাত্রীদের। পার্টির জেলা সম্পাদক সুমিত দে, বিধায়ক এস এম শাদী এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ স্বাগত জানান তাঁদের। এরপর দেবগ্রাম বাসস্ট্যান্ড মোড়, বেথুয়াডহরী গান্ধী মূর্তি মোড়, ধুবুলিয়া বিডিও অফিস মোড় হয়ে জাঠা এসে পৌঁছয় কৃষ্ণনগরে। এইসব মোড়গুলিতে মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাঁদের জন্য জাঠা যাত্রীদের নিয়ে বাসকে খানিকক্ষণের জন্য দাঁড়াতে হয়। আবেগে উচ্ছাসে মানুষ জাঠা যাত্রীদের দিকে ফুল ছুঁড়ে দিয়েছেন। লালপতাকা লাগানো মোটরসাইকেলে চেপে সি পি আই (এম) কর্মী সমর্থকরা জাঠাকে ঘিরে এগিয়ে দিয়েছেন পথে। 

জাঠার যাত্রাপথ থেকে দূরেই থেকে গেছে তেহট্ট, করিমপুর, চাপড়া ইত্যাদি এলাকা। তাই সেখানকার বহু মানুষ কৃষ্ণনগর পি ডবলিউ ডি মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিশাল সেই জমায়েত উদ্বেলিত হয়ে ওঠে জাঠার বাস আসার সঙ্গে সঙ্গে। বাসটি এসে থামে কালেকটরেট মোড়ে। আদিবাসী লোকশিল্পীদের নাচগান, হাজার হাজার মানুষের স্লোগানে চারিদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। কৃষ্ণনগর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সভা অনুষ্ঠিত হলো। উদ্বব বর্মণ, মৃদুল দে, নুরুল হুদা, দীপক দাশগুপ্ত প্রমুখ ভাষণ দিয়ে জাঠার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন সমবেত মানুষের সামনে। সভাপতিত্ব করেন সুমিত দে। এরপর জাঠা আবার এগিয়ে চলে শান্তিপুর বাগদীয়া বেলেডাঙা বাজার, ফুলিয়াপাড়া মোড়, ফুলিয়া বাসস্ট্যান্ড, হবিবপুর বিডিও অফিস মোড় হয়ে রানাঘাটে। রানাঘাট প্রামাণিক সিনেমা হলে আবার একটি সংবর্ধনা সভা হয়। এরপর জাঠা চাকদহ চৌমাথা, জাগুলি মোড় হয়ে উত্তর ২৪পরগনা জেলায় প্রবেশ করে। সবমিলিয়ে নদীয়া জেলার পঁচিশ থেকে তিরিশ হাজার মানুষ রাস্তায় বিভিন্ন এলাকায় জাঠাকে সংবর্ধিত করেন। 

সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ জাঠা উত্তর ২৪ পরগনায় প্রবেশ করে আমডাঙায় পৌঁছয়। আমডাঙা রাজবেরিয়াতে একটি সভা করে স্বাগত জানানো হয়ে জাঠা যাত্রীদের। রঞ্জিৎ কুন্ডু সভায় সভাপতিত্ব করেন। উদ্বব বর্মণের হাতে পার্টির পতাকা তুলে দিয়ে স্বাগত জানান তড়িৎবরণ তোপদার এবং পার্টি নেতৃবৃন্দ। এরপর জাঠা বারাসতের দিকে এগিয়ে চলে, আমডাঙা আবালসিদ্ধির মোড়ে এবং আমডাঙা থানার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বহু মানুষ। তাঁরাও সংবর্ধনা জানান জাঠাযাত্রীদের। কয়েকশো মোটরসাইকেল আরোহী পার্টি সমর্থক জাঠার বাসকে এগিয়ে দেয় বারাসতের রবীন্দ্রভবন পর্যন্ত। সাড়ে আটটায় রবীন্দ্রভবনে জাঠা পৌঁছলে সেখানে জাঠাযাত্রীদের সংবর্ধিত করেন সি পি আই (এম) নেতা অমিতাভ বসু এবং জেলার পার্টি নেতৃবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করেন তড়িৎ তোপদার। এরপর জাঠা মধ্যমগ্রাম, বিরাটি, দমদম হয়ে এগিয়ে যায় কলকাতার দিকে। রাতে জাঠাযাত্রীরা পৌঁছন বিধাননগরে। সেখানেই তাঁরা রাতে থাকছেন। শুক্রবার সকালে তাঁরা রানী রাসমণি রোডে এসে মূল জাঠার সঙ্গে যুক্ত হবেন।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=36629#sthash.ZmcNWOn6.dpuf


লগ্নিপুঁজির বশ্যতার বাজেট


লগ্নিপুঁজির বশ্যতার বাজেট

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ২৮শে ফেব্রুয়ারি- মূল লক্ষ্য ‘আর্থিক বিচক্ষণতা’। তারজন্য খরচ যথাসম্ভব কমাবে সরকার। আর অর্থনীতির বৃদ্ধির হাত উপুড় করে উৎসাহ দেওয়া হবে দেশী-বিদেশী বেসরকারী কর্পোরেট ক্ষেত্রকে। 


আই এম এফ-বিশ্বব্যাঙ্কের অতি পরিচিত এই দাওয়াই মেনে বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। জ্বালানির ভরতুকি বিপুলভাবে কমেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদায় ঘাটতির মুখে দাঁড়িয়েও মূল্যবৃদ্ধির প্রশ্নে মুখ ঘুরিয়েই পেশ হয়েছে ইউ পি এ-২ সরকারের বাজেট। অর্থমন্ত্রী নিজেই এই পন্থাকে বলেছেন বিচক্ষণতা। যদিও, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের একের পর এক দেশ এই পন্থায় চলেও পড়ে রয়েছে মন্দার গর্তে। 

কেন্দ্রেরই হিসেব দেখিয়েছে খাদ্যদ্রব্যে মূল্যবৃদ্ধির হার দশ শতাংশের উপর। অন্য দিকে সঙ্কটে রয়েছে শিল্পোৎপাদন। হয় তা কমছে, না হলে বাড়ছে অতি কম হারে। কাজ কমছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ছবিও স্পষ্ট। বৃহস্পতিবারই প্রকাশিত কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান সংগঠনের তথ্য দেখাচ্ছে, চলতি আর্থিক বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর মেয়াদে আগের বছরের এই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি মাত্র ৪.৫শতাংশ। কৃষিতে বৃদ্ধি মাত্র ১.১শতাংশ। যেখানে নিয়োজিত দেশের সিংহভাগ মানুষ। কারখানা উৎপাদন ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ২.৫শতাংশ। 

এক বছরের মধ্যেই লোকসভা নির্বাচন দেশে। তবু, জনতার পক্ষে অন্তত ঘোষণাও করার রাস্তায় হাঁটেননি চিদাম্বরম। অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষের প্রতিক্রিয়া, লগ্নিপুঁজি এবং তাদেরই পক্ষে থাকা ঋণ মান নির্ধারণ সংস্থাগুলির মনোভাবই একমাত্র বিবেচ্য হয়ে উঠেছে এই সরকারের। 

আর্থিক সমীক্ষা অনুযায়ী চলতি বছরে ভোগব্যয় কমেছে ৪শতাংশ। যেখানে গত তিন বছরে ভোগব্যয় বৃদ্ধির হার ছিল ৮শতাংশ। তথ্যেই স্পষ্ট, দেশের মানুষের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমছে। যার বড় কারণ জ্বালানি এবং খাদ্যে মূল্যবৃদ্ধি। অথচ আগামী আর্থিক বছরে ভরতুকি চলতি বছরের প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় সব মিলিয়ে ২৬হাজার ৫৭১ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। 

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণের লক্ষ্য অনেকটাই বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। ২০১৩-১৪ বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে ৫৫,৮১৪কোটি টাকা আয় করার লক্ষ্য ঘোষিত হয়েছে। চলতি আর্থিক বছরে বিলগ্নীকরণ বাবদ ২৪,০০০কোটি টাকা এসেছে কোষাগারে।

খাদ্য সুরক্ষা বিল পাস করার প্রতিশ্রুতি ফের শুনিয়েছেন চিদাম্বরম। কিন্তু, তারজন্য টাকার অঙ্কে মাত্র ১০হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভরতুকি বরাদ্দ করেছেন। চলতি বছরে বরাদ্দের তুলনায় ৫হাজার কোটি টাকা বেশি খরচা হয়েছে কেন্দ্রের। সেই বিচারে খাদ্যে ভরতুকি প্রকৃতপক্ষে ৫হাজার কোটি টাকা মাত্র বেড়েছে। আর পেট্রোপণ্যে ভরতুকি কমানো হয়েছে ৩০হাজার কোটি টাকা। চিদাম্বরমের লক্ষ্য পরিষ্কার, পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে বিনিয়ন্ত্রণ বা ভরতুকিযুক্ত রান্নার গ্যাসের সংখ্যা বেঁধে দেওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের মানুষের উপর বোঝা চাপানোর মাত্রা বাড়বে। 

চিদাম্বরম নিজেই বুঝিয়েছেন তাঁর অগ্রাধিকার কী? বাজেট পেশ করার পর সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, বাজেটের মূল লক্ষ্য আর্থিক অবস্থা গোছানোতে বিচক্ষণ হওয়া। চলতি আর্থিক বছরে মোট জাতীয় উৎপাদনের ৫.২শতাংশে থাকবে কোষাগারীয় ঘাটতি। ২০১৩-১৪ আর্থিক বছরে তা বেঁধে রাখতে হবে ৪.৮শতাংশে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কোনো নির্দিষ্ট জবাব দেওয়ার মতো প্রস্তুতি তাঁর ছিল না। চিদাম্বরমের অস্পষ্ট জবাব, আর্থিক নীতি মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে নিশ্চয় কিছু ভূমিকা নেবে। বাকি দায়িত্ব পালন করতে হবে মুদ্রানীতিকে। যদিও, মুদ্রানীতি স্থির করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সুদের হার বাড়িয়ে রাখার পক্ষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু সুদের হারের জন্য বিনিয়োগ উৎসাহ হারাচ্ছে এই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন চিদাম্বরম নিজেই। সুদের হার নামানোর জন্য চাপও দিয়ে চলেছে কেন্দ্র। 

কোন সঙ্কটের সামনে অর্থনীতি? অর্থমন্ত্রী জানাচ্ছেন, অর্থনীতি সত্যিই সমস্যার মুখে। তার নানাবিধ কারণ রয়েছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা তারমধ্যে কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছে। সংসদে বাজেট বিতর্কের জবাব দেওয়ার সময় আরো কিছু সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। 

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বরাদ্দ বিপুল ২লক্ষ কোটি টাকার উপর। তার একটি অংশ বেছে রাখা হয়েছে মূলধনী বিনিয়োগের জন্য। অঙ্কের হিসেবে গ্রামোন্নয়নেও বরাদ্দের আয়তন ৮০হাজার কোটি টাকার উপর হলেও এক পয়সা বরাদ্দ বাড়েনি ‘রেগা’য়। মোট জাতীয় উৎপাদনের অংশ হিসেবে গতবারের তুলনায় বরাদ্দ কম। তাছাড়াও, চলতি আর্থিক বছরে চিদাম্বরম ঘাটতি বাঁধতে যে কৌশল নিয়েছেন তারপর প্রশ্ন উঠতে বাধ্য গ্রামোন্নয়ন বা সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যয় আদৌ কতটা করা হবে। চলতি বছরে পরিকল্পনা খাতে বরাদ্দ ছিল ৬লক্ষ ৫১হাজার ৫০৯কোটি টাকা। অথচ চলতি বছরে সরকার খরচ করছে ৫লক্ষ, ৫৬হাজার ১৭৬কোটি টাকা, ৯৫হাজার ৩৩৩কোটি টাকা কম। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ‘রেগা’, জে এন এন ইউ আর এম, ভারত নির্মাণের মতো প্রকল্পে। 

দেশের গরিবদের জন্য একটিই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, তা হলো নগদে ভরতুকির আওতা বাড়ানো। আপাতত ১১লক্ষ মানুষ কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়েছেন। যে প্রকল্পগুলির জন্য তা চালু করা হয়েছে তার বেশ কয়েকটিতে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে অবশ্য আগে থেকেই টাকা পেতেন উপভোক্তারা। চিদাম্বরম জানিয়েছেন, সারা দেশে এই প্রক্রিয়া চালু হবে ইউ পি এ-২ সরকারের মেয়াদের মধ্যেই। তবে, খাদ্য এবং জ্বালানি ভরতুকিতে এই প্রক্রিয়া সব শেষে চালু হবে। হাতে কিছু নগদ ধরিয়ে চড়া থাকা খোলা বাজারের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে অতি দরিদ্র মানুষকেও। 

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ‘ব্রিকস’ গোষ্ঠীর দেশগুলির মধ্যে স্বাস্থ্যে আনুপাতিক হারে সরকারী ব্যয় সবচেয়ে কম ভারতে। টাকার অঙ্কে বরাদ্দ বাড়লেও গত বছরের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের শতাংশে বরাদ্দ গতবারের চেয়ে কম। শিক্ষার ক্ষেত্রেও কমেছে এই অনুপাত। 

কিছু নতুন ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। যেমন, করযোগ্য আয় যাদের ১কোটি টাকা বা তার বেশি, তাদের জন্য ১০শতাংশ সারচার্জ বসানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে ২০১৩-১৪ আর্থিক বছরের বাজেটে। যে সব ভারতীয় সংস্থার করযোগ্য আয় ১০কোটি টাকার বেশি তাদের উপরও সারচার্জ দ্বিগুণ করে ১০শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর অনুমান, বর্ধিত রাজস্ব আয় বাবদ যে ১৮হাজার কোটি টাকা হাতে আসবে ধরা হয়েছে তার অনেকটাই জোগাবে এই দুই সিদ্ধান্ত। বিদেশী সংস্থার ক্ষেত্রে সারচার্জ ২শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫শতাংশ করা হয়েছে। তবে কেবল আগামী আর্থিক বছরের জন্যই এইসব সারচার্জ প্রযোজ্য। বহাল থাকছে ৩শতাংশ শিক্ষা সেস। আবার পণ্যের ফাটকা বাজারে সামান্য লেনদেন কর বসিয়েছেন চিদাম্বরম। ০.০১শতাংশ হারে এই করের আওতায় আসবে না কৃষিপণ্য। বস্তুত, খাদ্যদ্রব্যে ফাটকা ঠেকানোর কোনো উদ্যোগ প্রতিফলিত হয়নি বাজেটে। শেয়ার বাজারে লেনদেনে ছাড় দেওয়া হয়েছে বাজেটে। মিউচুয়াল ফান্ডে লেনদেনের ০.২৫শতাংশ হারে যে কর আছে তা ০.০০১শতাংশ কমবে। ইকুইটি ফিউচার’র ক্ষেত্রে ০.০১৭শতাংশ থেকে কমিয়ে হবে ০.০১শতাংশ। স্পষ্টতই, দেশী-বিদেশী ফাটকা পুঁজির বিচরণক্ষেত্রে হিসেবে অর্থনীতি খুলে দিতে মরিয়া অর্থমন্ত্রী। 

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=36642#sthash.eVs1Dmjm.dpuf



রেজিনগরে রাজ্যের মন্ত্রী হেরে গেলেন নলহাটি ছিনিয়ে নিলো বামফ্রন্ট



রেজিনগরে রাজ্যের মন্ত্রী হেরে গেলেন নলহাটি ছিনিয়ে নিলো বামফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা,২৮শে ফেব্রুয়ারি— রাজ্যে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে একটি কেন্দ্র ছিনিয়ে নিলো বামফ্রন্ট। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নলহাটি, রেজিনগর এবং ইংরেজবাজার এই তিনটি কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিলো কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার নলহাটি কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধার করেছে বামফ্রন্ট। ফরওয়ার্ড ব্লকের দীপক চ্যাটার্জি এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের আব্দুর রহমানকে ৭৭৪২ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। অন্য দুটি কেন্দ্র মালদহের ইংরেজবাজার এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বামফ্রন্ট দ্বিতীয় স্থানে। ইংরেজবাজারে জয়ী হয়েছেন তৃণমূলের কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, রেজিনগরে জিতেছেন কংগ্রেসের রবিউল আলম চৌধুরী। রেজিনগরে তৃণমূল মন্ত্রিসভার সদস্য হুমায়ুন কবীর তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ইংরেজবাজারে সি পি আই (এম) প্রার্থী কৌশিক মিশ্র (সাহেব) এবং রেজিনগর কেন্দ্রে আর এস পি’র সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। কংগ্রেসের শক্তঘাঁটি বলে পরিচিত মালদহের ইংরেজবাজার কেন্দ্রে কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে চ‍‌লে গেছে। প্রসঙ্গত, নলহাটি, রেজিনগর এবং ইংরেজবাজার এই তিনটি কেন্দ্রেই ২০১১ সালে কংগ্রেস এবং তৃণমূল জোটের প্রার্থী হিসাবে কংগ্রেস জয়ী হয়েছিলো। নলহাটি থেকে জিতে‍‌ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুত্র অভিজিৎ মুখার্জি। পরে তিনি মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুর লোকসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হন এবং জয়ী হয়েছিলেন। ফলে নলহা‍‌টি কেন্দ্র থেকে সাংবিধানিকভাবেই তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। অন্য দুটি কেন্দ্র ইংরেজবাজার এবং রেজিনগর কেন্দ্রে কংগ্রেসের দুই বিধায়ক কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবীর ২০১২সালের শেষের দিকে দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেস দল ভাঙার ফরমুলায় দু’জনকেই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দেন। যার ফলে এই দুটি কেন্দ্রেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ২৩শে ফেব্রুয়ারি তিন জায়গাতেই ভোট গ্রহণ করা হয়েছিলো।

এদিন সকাল থেকে ইংরেজবাজার কেন্দ্রের ভোট গণনা শুরু হয় মালদহ পলিটেকনিক কলেজে। রেজিনগর কেন্দ্রের জন্য বহরমপুর কলেজ এবং নলহাটির গণনা রামপুরহাট কলেজে সকাল ৮টা থেকেই শুরু হয়ে যায়। দুপুরের মধ্যেই তিন কেন্দ্রের গণনা শেষ হয়ে যায়। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরে দেখা যায় ইংরেজবাজার কেন্দ্রে তৃণমূলের কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী জয়ী হয়েছেন ২০৪৫২ ভোটে, রেজিনগরে কংগ্রেসের রবিউল আলম চৌধুরী ১১৩৬৫ ভোটে জিতেছেন এবং নলহাটি কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধার করেছে বামফ্রন্ট। এই কেন্দ্রে ফরওয়ার্ড ব্লকের দীপক চ্যাটার্জি ৭৭৪২ভোটে জয়ী হয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য দিক হলো এই তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচনে সরকারে থেকেও ২বছরের মধ্যেই তৃণমূল দুই কেন্দ্রে তৃতীয় স্থানে চলে গেল। তাও আবার দক্ষিণবঙ্গের দুটি জেলা বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে। নলহাটি এবং রেজিনগর এই দুটি জায়গাতেই তৃণমূল ৩০ শতাংশের নিচে ভোট পেয়েছে। রেজিনগর কেন্দ্রে যেখানে ঘাঁ‍‌টি গেড়ে বসে ছিলেন তৃণমূলের ‘তরুণ তুর্কি’ নেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রার্থী আবার রাজ্য সরকারের মন্ত্রী। এই কেন্দ্রে ৬৭ শতাংশই সংখ্যালঘু ভোটার। প্রচারে রূপালী পর্দার নায়ক-নায়িকাদের নিয়মিত আনাগোনা। এতকিছুর পরেও রেজিনগরে তৃণমূল শুধু তৃতীয় স্থানেই নয়। মাত্র ২৩.৯১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন হুমায়ুন কবীর। আর রেজিনগরে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের ভোটের ব্যবধান প্রায় ২৬ হাজার। অর্থাৎ বোঝাই যায় মুর্শিদাবাদের মতো ঐতিহাসিক জেলায় দলত্যাগী হুমায়ুন কবীরকে মানুষ একপ্রকার বিশ্বাসঘাতক হিসাবেই চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে কংগ্রেসও যে এখনো পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে জেলায় এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ তা প্রমাণ করে দিয়েছেন দলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর চৌধুরী। আর এস পি’র সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল এই কেন্দ্রে ৫৫১৫৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

তৃণমূলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধাক্কা নলহাটি কেন্দ্রটি। নিশ্চিত জয় ছিনিয়ে আনতে নলহাটিতে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী তুলে দিয়েছিলেন তাঁর অত্যন্ত স্নেহের ফিরহাদ হাকিমের হাতে। রামপুরহাটের একটি ব্যয়বহুল রিসর্টে বাংলা চলচ্চিত্রের কয়েকজন নায়ক-নায়িকাদের নিয়ে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর আদরের হাকিম। গার্ডেনরিচের ঘটনার পরও তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি। নলহাটিতে ২৮.০৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে তৃণমূলের বিপ্লব ওঝা। কংগ্রেসের আব্দুর রহমান ৪৭৫৯৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। দেখা যাচ্ছে একমাত্র বি জে পি’র নলহাটিতে সামান্য কিছু ভোট বেড়েছে। ২০১১ সালে বি জে পি এখানে ১০৬৫৬টি ভোট পেয়েছিলো। এবার বি জে পি প্রার্থী অনিল সিং ১২২১৯ ভোট পেয়েছেন। উল্লেখ্য তিন জায়গাতেই ২০১১ সালের নিরিখে এবারের উপ নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে সব রাজনৈতিক দলেরই শতাংশের বিচারে ভোট কমেছে। ইংরেজবাজার এবং রেজিনগরে বি জে পি’রও ভোট কমেছে। রেজিনগরে তো বি জে পি’র জামানত জব্দ হয়ে গেছে। এখা‍‌‍‌নে বি জে পি প্রার্থী মাত্র ৩৭২০ ভোট পেয়েছেন।

ইংরেজবাজার কেন্দ্রে তৃণমূলের জয় নিঃসন্দেহে কোতয়ালির বরকত গনিখান চৌধুরী পরিবারের কাছে সব চেয়ে বড় ধাক্কা। বিশেষ করে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা গনিখান চৌধুরীর বাড়িও এই বিধানসভা এলাকার কোতয়ালি পঞ্চায়েতে। ইংরেজবাজার শহর এলাকা বাদ দিলে গ্রামাঞ্চলে কংগ্রেস যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলো। ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে অধিকাংশই কংগ্রেসের দখলে। এই এলাকার সংখ্যালঘু ভোটাররা দীর্ঘদিন ধরেই গনি পরিবারের পাশেই সমর্থন দিয়ে এসেছে। সেই জায়গায় কংগ্রেস এখানে তৃতীয় স্থানে চলে গেছে। কংগ্রেসের সঙ্গে প্রথম স্থানে থাকা তৃণমূলের ভোটের ব্যবধান প্রায় ২৫হাজার। সি পি আই (এম)-এর কৌশিক মিশ্র (সাহেব) এখানে দ্বিতীয় স্থানে, তিনি পেয়েছেন ৫০৩৩৯টি ভোট। আর তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষে গেছে ৭০৪৯১ ভোট। কংগ্রেস পেয়েছে ৪৫২৭১টি ভোট। এদিন নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিন বিধানসভা এলাকার মানুষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=36628#sthash.DyGG6S6D.dpuf

লাল ত্রিপুরা আরো লাল আরো বেশি আসন, আরো বেশি ভোট পেয়ে জয়ী বামফ্রন্ট



লাল ত্রিপুরা আরো লাল আরো বেশি আসন, আরো বেশি ভোট পেয়ে জয়ী বামফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি

আগরতলা, ২৮শে ফেব্রুয়ারি- এই বসন্তে ত্রিপুরা আরও লাল। শিমূল-পলাশের রঙের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃহস্পতিবার রক্তিম হয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট এই ভূখণ্ড। আরো বেশি ভোট, আরও বেশি আসনে বামপন্থীদের জয়ী করে দেশজুড়ে বার্তা পাঠিয়েছে লড়াই জারি আছে। পুঁজিপতি আর ধনীদের স্বার্থরক্ষাকারী দেশের সরকার, শাসক দলের মুখোমুখি শ্রমিক-কৃষক-মেহনতীর লালঝাণ্ডা আছে লড়াইতেই। ছোট্ট রাজ্য, তবে বার্তা স্পষ্ট। দৃঢ়।

বৃহস্পতিবার সকালে গণনা শুরুর ঘণ্টাদুয়েকের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় ফের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরতে চলেছে বামফ্রন্ট। দিনের শেষে দেখা গেছে গতবারের তুলনায় ভোট এবং আসন দুই বেশি পেয়েছে বামফ্রন্ট। পাঁচ বছর আগে বামফ্রন্ট পেয়েছিল ৪৯টি আসন। কংগ্রেস-আই এন পি টি জোট ১১। এবার বামফ্রন্ট ৫০। কংগ্রেস জোট ১০। সবকটিই কংগ্রেস পেয়েছে। জোট শরিক আই এন পি টি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আই এন পি টি প্রধান বিজয় রাঙ্খল আমবাসা কেন্দ্র থেকে প্রায় এগারোশো ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত হয়েছেন। শতাংশের হিসেবে বামফ্রন্টের প্রাপ্ত ভোট ৫২শতাংশের বেশি। গতবার ছিল ৫১শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ অন্যান্য মন্ত্রীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। একমাত্র ব্যতিক্রম জয়গোবিন্দ দেবরায়। রাজ্যের বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রী উদয়পুরের রাধাকিশোরপুর থেকে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত হয়েছেন। এর ফলে এবার বিধানসভায় আর এস পি’র কোনো প্রতিনিধি থাকলেন না। শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকও আগরতলা শহরে বড়দোয়ালি কেন্দ্রে জয়ী হতে পারেনি। 

গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের পর টানা দুই সপ্তাহ পরে এদিন ভোট গণনা শুরু হয়। সকাল থেকে তা নিয়ে উন্মাদনা ছিল চূড়ান্ত। বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় রাস্তায় লাল আবির খেলা শুরু হয়ে যায়। বামফ্রন্ট সমর্থকরা দলে দলে রাস্তায় নেমে পড়ে। বিপরীতে হতাশার ছায়া কংগ্রেস শিবিরে। ভোটের আগে থেকে প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরের সামনে একটি বিরাট পর্দায় লেখা থাকতো ‘বামফ্রন্ট সরকার আর— কদিন’ শূন্যস্থানে রোজ একদিন করে কমতে থাকতো। আজ কাউন্ট ডাউন স্তব্ধ। স্তব্ধ কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের ভাষাও। সারা রাজ্যে বামপন্থীদের বিপুল জয়েও অক্ষত থাকতো রাজধানী। এবার সেখানেও ঢুকে পড়েছেন বামপন্থীরা। টানা পঁচিশ বছর পর রামনগর কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন সি পি আই (এম) প্রার্থী রতন দাস। নক্ষত্র পতন হয়েছে এই কেন্দ্রে এমনই বলা হচ্ছে। ১৯৮৮সাল থেকে জিতে আসা কংগ্রেস হেভিওয়েট সুরজিৎ দত্ত হেরে গেছেন। সামান্য ভোটে জিতেছেন প্রদেশ সভাপতি সুদীপ বর্মণ। তাঁর বাবা জোট জমানার কুখ্যাত মুখ্যমন্ত্রী সমীররঞ্জন বর্মণ ফের বিশালগড় কেন্দ্রে পরাস্ত হয়েছেন বিধানসভার উপাধ্যক্ষ ভানুলাল সাহার কাছে। বিরোধী দলনেতা রতন নাথ এবং কৈলাশহরে কংগ্রেসের আরেক বড় নেতা বীরজিৎ সিংহও জিতেছেন কোনোক্রমে। শেষবেলায় প্রচারে এসে রাহুল গান্ধী কোনো কেন্দ্রেই দলের প্রার্থীদের বাড়তি সুবিধা করে দিতে পারেননি, ভোটের ফলেই তা স্পষ্ট। ফলের প্রবণতা দেখেই মুখ লুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কংগ্রেস নেতারা। প্রদেশ সভাপতি সারাদিন ঘর থেকেই বের হননি। সন্ধ্যায় দলের মুখপাত্র অশোক সিনহা দায়সারা বিবৃতিতে পরাজয় ‘স্বীকার’ করে যোগ্য বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের কথা জানিয়ে দেন। ক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মীরা অবশ্য প্রকাশ্যেই বলছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ‘পরিবর্তনের’ স্লোগান আমদানি করেই নেতারা আমাদের আরো ডোবালো। সেখানে কী হচ্ছে মানুষ রোজ টিভিতে দেখছে। 

বামফ্রন্ট প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত। গতবারের জেতা অধিকাংশ আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। কোথাও কোথাও জয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়েছে। নানা প্ররোচনা সত্ত্বেও ত্রিপুরায় কমিউনিস্ট পার্টির আঁতুড়ঘর উপজাতি জনপদ ফের উজাড় করে ভোট দিয়েছে লালঝাণ্ডাকেই। উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত ২০টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে ফের জয়ী হয়েছে বামফ্রন্ট। কংগ্রেস একটি। মহারাজাকে নামিয়েও কোনো সুবিধা করতে পারেনি আই এন পি টি। বিচ্ছিন্নতার রাজনীতিকে উড়িয়ে দিয়েছেন উপজাতিরা। তফসিলী জাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ১০টির মধ্যে ৮টিতে জয়ী হয়েছেন বামফ্রন্ট প্রার্থীরা। বামফ্রন্টের মহিলা প্রার্থীরা সবাই জয়ী হয়েছেন। খোয়াইয়ের সব কেন্দ্র, গোটা দক্ষিণ ত্রিপুরায় একটি বাদে সব কেন্দ্রে বামফ্রন্ট প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। 

প্রথম জয়ের খবর আসে জোলাইবাড়ি কেন্দ্র থেকে। সি পি আই (এম) প্রার্থী যশবীর ত্রিপুরা ৬১শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন। তবে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন অর্থমন্ত্রী বাদল চৌধুরী। ঋষ্যমুখ কেন্দ্র থেকে তিনি কংগ্রেস প্রার্থীকে হারিয়েছেন ১২হাজারের বেশি ভোটে। শতাংশের হিসেবে বাদল চৌধুরী ভোট পেয়েছেন ৬৫শতাংশের বেশি। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও গতবারের তুলনায় বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ধনপুর কেন্দ্রে তিনি ভোট পেয়েছেন ৫৭শতাংশের বেশি, ব্যবধান ৬হাজারের বেশি। বিধানসভার অধ্যক্ষ রমেন্দ্রচন্দ্র দেবনাথ জয়ী হয়েছেন যুবরাজনগর কেন্দ্র থেকে। নতুন প্রার্থীদের মধ্যে পাবিয়াছড়ায় সমীরণ মালাকার, ফটিকরায়ে টুনু মালাকার, আমবাসায় ললিত দেববর্মা, করবুকে প্রিয়মণি দেববর্মা, কাঁকড়াবন-শালগড়ায় রতন ভৌমিক, সোনামুড়ায় শ্যামল চক্রবর্তী জয়ী হয়েছেন। এরমধ্যে সোনামুড়া কংগ্রেসের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বামফ্রন্ট। প্রতাপগড় কেন্দ্র থেকে ফের জয়ী হয়েছেন প্রবীণ নেতা মন্ত্রী অনিল সরকার। এই নিয়ে নয় বার জয়ী হলেন তিনি। 

বিপুল জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এদিন সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, মানুষ শান্তি-সম্প্রীতি-উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেল। বিনম্রভাবে সেই দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে। এই জয় সারা দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে উৎসাহিত করবে। উজ্জীবিত হবেন দেশের শ্রমজীবী মানুষ। এই জয় মানিক সরকারের জয় কিনা জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সবার মধ্যে একজন। জনগণের সম্মিলিত সংগ্রামই ইতিহাসের চালিকাশক্তি। এর আগে বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের জনগণকে অভিনন্দন জানানো হয়। বামফ্রন্ট আহ্বায়ক খগেন দাসও এই জয়কে শান্তি-উন্নয়নের জয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বামফ্রন্টের সাংবাদিক বৈঠকে সমস্ত শরিক দলের নেতারাই উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার বামফ্রন্টের বৈঠকের পর সরকার গঠন, শপথ গ্রহণ ইত্যাদি বিষয় স্থির হবে বলে জানিয়েছেন খগেন দাস।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/news_details.php?newsid=36627#sthash.pZl5tVV5.dpuf

মন্ত্রী, নেতা, নায়ক, টাকা কিছুই নলহাটিতে কাজে দিলো না



মন্ত্রী, নেতা, নায়ক, টাকা কিছুই নলহাটিতে কাজে দিলো না

জয়দীপ সরকার: নলহাটি, ২৮শে ফেব্রুয়ারি— আয়োজনের খামতি ছিলো না। কলকাতা থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছিলো রুপোলি পর্দার নায়ক-নায়িকাও। দায়িত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ গার্ডেনরিচ বিতর্কে জড়িয়ে পড়া ফিরহাদ হাকিম। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও শাসক তৃণমূল পর্যুদস্তু হলো নলহাটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনে। সন্তুষ্ট থাকলে হলো তৃতীয় স্থানে। ৭,৭৪২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেন বামফ্রন্ট মনোনীত ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী দীপক চ্যাটার্জি। 

নলহাটিতে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর থেকে যে পরিমাণ বহিরাগত তৃণমূলের নেতা কর্মী নলহাটিতে ঘাঁটি গেড়ে তৃণমূলকে জেতাতে মরিয়া হয়ে নেমেছিলেন তাতে হতবাক হয়েছিলেন এলাকার মানুষজন। বোলপুর পৌরসভার ৭০০জন অস্থায়ী কর্মী ছিলেন শুধু শহর এলাকায়, এর বাইরে লাভপুর নানুর দুবরাজপুর থেকে শুরু করে জেলার এবং অন্য জেলার নেতা কর্মীরাও ভিড় করেছিলেন। নলহাটি থেকে তারাপীঠের বিলাসবহুল হোটেল তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভিড়ে উপচে পড়েছিল। নলহাটির মানুষ ভয় পেয়েছিলেন এই অবস্থা দেখে। ফল ঘোষণার পরের স্বস্তি ফিরেছে নলহাটিতে। স্বস্তির রঙেই রঙিন হলো নলহাটি জুড়ে বিজয়োল্লাসের দৃশ্য। ভোট গণনা শেষ হতেই নলহাটির মানুষ তাই রাস্তায়। শত প্ররোচনা, কুৎসা, টাকার খেলাকে পরাস্ত করেই নলহাটি রায় দিয়েছে। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষার থাকায় কোন বিজয় মিছিল করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ।

ভোট গণনা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পাওয়ার পরেই বামফ্রন্টের বিজয়ী প্রার্থী দীপক চ্যাটার্জি বলেন, গ্রামের পর গ্রামের মানুষ বলছিলেন এত টাকা কোথা থেকে পায় তৃণমূল ? বামফ্রন্টের প্রচার ছিল তৃণমূল যেভাবে রাজ্যে নৈরাজ্য কায়েম করেছে তার একটা প্রতিবাদ করুন। খুন,সন্ত্রাস, নারী নিগ্রহ , মিথ্যা মামলায় সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার, গ্রাম বাংলায় কৃষির সঙ্কট থেকে ব্যবসায়ীর ওপর আক্রমণ- এই সামগ্রিক নৈরাজ্যর বিরুদ্ধে উপনির্বাচনে মানুষকে রায় দিতে আবেদন জানিয়েছিল বামফ্রন্ট। মানুষ সেই রায়ই দিয়েছেন।

নলহাটিতে তৃণমূলকে জেতানোর দায়িত্বে ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। নির্বাচনী প্রচারে তিনি আরেক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা মুকুল রায় এবং মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহকে নিয়ে নলহাটি জেতার ঘুটি সাজিয়েছিলেন। সঙ্গে প্রশাসনের একাংশের সরাসরি মদত। এত চেষ্টা তবুও বিফলে গেছে। বামফ্রন্ট প্রার্থী দীপক চ্যাটার্জি ৫৫হাজার ৩৪১টি (৩৩শতাংশ) ভোট পেয়েছেন। ৪৭ হাজার ৫৯৬টি ভোট( ২৮.৩৮শতাংশ) পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী আবদুর রহমান। ২৮ শতাংশের মত ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে তৃণমূলী প্রার্থী বিপ্লব ওঝা। তবে শতাংশের বিচারের বামফ্রন্টের ভোট কিছু কমেছে নলহাটিতে।

কৌশলের হরেক ধারা থেকে অর্থশক্তি কোন কিছুরই কমতি রাখেনি তৃণমূল, তবু তারা হারলেন কেন? ফল প্রকাশের পর এ নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে। কেউ বলছেন যে পৌরভোটে যেখানে দাঁড়ায় সেখানে হারে, সেই হারা প্রার্থী বিপ্লব ওঝাকে টিকিট দেওয়া ভুল হয়েছে। আবার কেউ বলছেন কংগ্রেস ভোট কেটে নেওয়ায় তাদের এই বিপর্যয় হয়েছে। শাসকদল তৃতীয় স্থান পাচ্ছে, এই লজ্জায় অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে যান। তৃণমূলের নেতারাই রামপুরহাট কলেজে গণনার গতি-প্রকৃতি দেখে বলছিলেন ৬কোটিরও বেশি টাকা খরচ করে তৃতীয় স্থান যদি জোটে তাহলে গলদ বিরাট আছে বুঝতে হবে। 

ভোটের গতিপ্রকৃতি ছিল নতুনত্বে ভরা। নলহাটির কংগ্রেস অধ্যুষিত কিছু এলাকা যেগুলো মুরারইয়ের লাগোয়া সেখানে এবার বিশেষ নজর দিয়েছিল তৃণমূল। ফিরহাদ হাকিম থেকে চিরঞ্জিত, অভিনেত্রী লকেট চ্যাটার্জি, হরেক নেতা-নেত্রী রোড শো প্রচার তুঙ্গে তুলেছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ঐ সব এলাকাতেও তৃতীয় স্থানে তৃণমূল। প্রথম স্থানে হয় বামফ্রন্ট, নয় কংগ্রেস। নলহাটি শহরে তৃণমূলের প্রভাব সবথেকে বেশি ছিল। সেখানে এবার অন্য ছবি। সেখানে তৃণমূলী আধিপত্যে থাবা বসিয়েছে বামফ্রন্ট। কয়েকটি ওয়ার্ডে তৃণমূল জিতলেও দেখা যাচ্ছে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে। বানিওর বাউটিয়া হরিদাসপুরের মতন বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি অক্ষতই আছে। পাইকপাড়া এলাকায় তৃণমূলের প্রভাব থাকলেও সেখানে বামফ্রন্টের ভোট বেড়েছে। কৃষিজীবীদের মধ্যে অনেকেই যারা গত নির্বাচনে কংগ্রেসকে বা লোকসভায় তৃণমূলকে ভোট দিয়েছিলেন তাঁরা এবার বামফ্রন্টকে ভোট দিয়েছেন। ফলাফলই সেই ছবিই তুলে ধরেছে। নলহাটি উপনির্বাচনে বি জে পি গত নির্বাচনের থেকে কিছু ভোট বাড়ালেও তাদের প্রভাব থাকা এলাকায় তৃণমূল ভোট বাড়িয়েছে। তৃণমূলের শীর্ষনেতারা ভোটে বড় ধরনের অঘটন ঘটনোর ছক কষে রেখেছিলেন, কিন্তু ১২কোম্পানি আধা সামরিকবাহিনী ভোটের দিন যেভাবে বহিরাগতদের রুখেছে তাতে ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতারা বলছেন, তাদের পরাজয়ের পেছনে পুলিসের ভূমিকাও নাকি আছে!

নলহাটিবাসীকে এই রায়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলা বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ। তাঁরা বলেছেন শাসকদলকে উপযু্ক্ত জবাব দিয়ে তাদের তৃতীয় স্থান দিয়েছেন নলহাটির নির্বাচকরা। এতে বামফ্রন্টের দায়িত্ব আরও বাড়লো। তৃণমূলের নৈরাজ্য প্রতিরোধে আরও তীব্র করতে হবে আন্দোলন। এখন আবার যেতে হবে সব মানুষের কাছে,এবার গ্রাম বাঁচানোর লড়াই আসছে। তার প্রস্তুতি শুরু করে দিতে হবে শুক্রবার থেকেই।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/breaking_news_details.php?newsid=1074#sthash.69sz6E9I.dpuf

ত্রিপুরার ঐতিহাসিক জয়ে অভিনন্দন পলিট ব্যুরোর


ত্রিপুরার ঐতিহাসিক জয়ে অভিনন্দন পলিট ব্যুরোর

আই এন এন : নয়াদিল্লি, ২৮শে ফেব্রুয়ারি — ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের ঐতিহাসিক জয়ে অভিনন্দন জানালো সি পি আই (এম)-র পলিট ব্যুরো। বামফ্রন্টকে টানা পাঁচবার জয়ী করার জন্য ত্রিপুরার জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে পার্টির পলিট ব্যুরো। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পলিট ব্যুরো জানিয়েছে, এই নিয়ে ত্রিপুরায় ৭ম বারের জন্য বামফ্রন্ট সরকার গড়তে চলছে। যা এক ঐতিহাসিক ঘটনা। বামফ্রন্টের বিপুল জয়ে পার্টির ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি সহ রাজ্যের গোটা পার্টিকেও অভিনন্দিত করেছে পলিট ব্যুরো। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিধানসভার ৬০টি আসনের মধ্যে পঞ্চাশটিতেই জয়ী হয়েছে বামফ্রন্ট। গতবার ৪৯টি আসনের তুলনায় একটি আসন বেড়েছে বামফ্রন্টের।

ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের জয়ে বিপুল অভিনন্দন জানিয়েছে সি আই টি ইউ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী এদিন এক বিবৃতিতে সি পি আই (এম)-র নেতৃত্বাধীন পঞ্চম বামফ্রন্ট সরকার গঠনের জন্য রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের প্রতিফলন ঘটেছে এই জয়ে। 

ত্রিপুরার বামফ্রন্টের নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতায় অভিনন্দন জানিয়েছেন পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য এবং সাংসদ সীতারাম ইয়েচুরি। এদিন পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার উপ নির্বাচনে নলহাটি কেন্দ্রের বামফ্রন্টের জয়কেও অভিনন্দন জানিয়েছেন ইয়েচুরি। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইয়েচুরি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীদের পুনরুত্থান ঘটছে। এই জয় তারই প্রতিফলন। 

ত্রিপুরায় প্রচারে গিয়ে সি পি আই (এম)-কে ছুঁড়ে ফেলার ডাক দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। এর প্রতিক্রিয়ায় ইয়েচুরি বলেন, ত্রিপুরার জনগণ এই বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। তাই তাঁরা বামপন্থীদের আরো দীর্ঘ সময়ের জন্য জয়ী করেছেন। এই প্রসঙ্গে গনিখান চৌধুরীর মন্তব্য উল্লেখ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারকে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলতে বলেছিলেন। উলটে রাজ্যের মানুষ টানা চারবার বামফ্রন্টকে জয়ী করেছিলেন।

- See more at: http://ganashakti.com/bengali/breaking_news_details.php?newsid=1073#sthash.Faw7uJIg.dpuf

লাল ত্রিপুরা

লাল ত্রিপুরা

একের পর এক জয়ের খবর। বৃহস্পতিবার আগরতলা রাজপথে বামফ্রন্ট সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। ছবি: অভীক দেব - See more at: http://ganashakti.com/bengali/#sthash.SJwntW6i.dpuf



Heed the Warning on Higher Food Prices in 2013


Heed the Warning on Higher Food Prices in 2013

The Sangharsh Sandesh Yatra  of the CPI(M) will travel more than 10,000 kilometres across the country. In its projection of policies alternative to those being followed and promoted by the main ruling class parties, the Congress and the BJP is the Left alternative approach to control price rise. This issue is going to become even more important in the days to come.

 International agencies are warning of high prices in food on a global scale in 2013 if urgent action is not taken. But the Government of India shows little concern. The Presidential Address to the Joint Session of Parliament had only a cursory mention of inflation. ”Inflation is easing gradually, but is still a problem” said the President. Still a problem? Surely the suffering of the people from the relentless price rise inflicted on them by flawed policies of the UPA Government deserves more recognition and redressal.  Perversely, the UPA Government is intensifying the very policies, which cause price rise.
 
Even the World Bank whose neo liberal policy impositions are responsible to a great extent for global food inflation has warned that “high and volatile food prices are becoming the new normal.” The FAO in warns “despite decline in international food prices in the latter quarter of 2012, they remain close to all time highs. Stocks of key cereals have tightened.” Among the reasons are the diversion of land from food grains production, speculative trade, low public investment in agriculture and depleted stocks. This critique is as valid for India as it is for the more developed capitalist countries.
 
Food vs. Fuel

While the severe drought in the United States, Russia, the Ukraine and others is also cited as a  reason for a likely fall in production of wheat and a consequent increase in food prices, the FAO has warned that the continuing diversion of land to produce crops for the biofuel industry in the US, Europe and the growing trend of companies to buy land in developing countries like Africa for growing such crops, will lead to “increasing hunger worldwide.” By subsidizing corn production for bio-fuels, the US  pulls out corn from food supply, raising prices. Cars and fuel it would seem are more important than people and food.

Still No Regulations

Food shortages are also ideal scenarios for rampant speculation. Speculation in futures trade in food commodities was one of the crucial causes for international prices of food  skyrocketing in 2008. The impact was disastrous for import dependent countries. In the aftermath of  the ruination of millions of families across the world, the G 20 countries including India had resolved to take remedial measures. In 2010 in the United States, the Dodd Frank "Wall Street Reform and Consumer Protection Act" suggested a set of regulations to curb speculation. To implement the law the Commodities Future Trade Commission in the US had imposed “position limits’ on the proportion of the market that could be held by any one institution so as to curb the capacity to manipulate prices. Even though the limit was as high as a quarter of the market, it was challenged in court by financial market associations. 

A District Federal Court has recently ruled that no such limitations can be imposed, holding that the CFTC has been unable to prove any link between the speculation in food commodities and high prices!  The CTFC has decided to appeal against this and it will be interesting to see the arguments it puts forward to establish the linkages. Perhaps homegrown loyalists to the US views can take a few lessons from even the limited interventions of the CFTC. But in any case, the regulations have been put on hold. In the EU, the regulatory regime which was to be implemted by the end of 2012, has also  been postponed.
 
The speculators, in the meanwhile have been back in business.  Barclays Bank has admitted that it made a profit of 548 million dollars  and Goldman Sachs made up to 400 million dollars in 2012 from speculation in food including wheat and maize. Glencore, one of the biggest companies in the business was pretty clear of its priorities" the U.S. drought is good for Glencore" said its Trade Wing Chief, meaning thereby that its 2.5 billion dollar pre- tax profit could be further augmented by speculation on the shortages created by the drought.The recent UNCTAD report linking speculative capital with price rise in food stated that “over 400 billion dollars is traded in food commodities, that is 20-30 times the physical production of the actual commodity.” The crux of the issue is that high speculation in futures markets pushes up spot prices of the commodity being traded. That is why there is  a rising global demand for prohibition of futures trade in essential commodities.


Little Difference in India 

Is it any different in India? The  Government often  uses high global prices of food to camouflage its own utter failure. In fact the reasons for price rise in India are entirely domestic and indeed self inflicted, an adherence to the same disastrous policies that resulted high global prices.
 
A comparison of the Consumer Price Index for BRICS countries shows that India has the dubious distinction of the highest year on year inflation at 11.17 per cent, with China at the lowest of 1.9 per cent, South Africa at 5.75 per cent, Brazil at 6.15 per cent and Russia at 6.54 per cent. Data provided by the Ministry of Commerce and Industry shows a rise in the wholesale price index of food between 2011-2012 and January 2012-2013 by 11. 88 per cent. Some striking examples are the rise in the price of cereals  by over 18 per cent, vegetables by 28.4 per cent, pulses by nearly 19 per cent and sugar by 13 per cent. These are the wholesale prices. The increase in retail prices would be even higher. 

Sugar decontrol is imminent which will be followed by a further rise in sugar prices. The deregulation of petrol and now diesel prices have a cascading impact on increasing inflation including in food. Petrol prices have been raised nineteen times since the UPA took office in 2009 registering an increase of 120 per cent.The price of diesel is up by 67 per cent.
 
Land use

Mimicking the U.S., India too is ignoring the lessons of the global crisis. Large tracts of agricultural land are being handed over to the private corporate sector, including  for real estate.This is in addition to the ongoing policy of incentivising production of export driven cash crops instead of foodgrains.  The Economic Survey itself reports this fall in gross area under food grains by roughly 5 million hectares if we compare the decade preceding the neoliberal reforms in the 1980s to the two post-reform decades of the 1990s and the 2000s.  Self -reliance and self sufficiency in food grain production which requires an alternative policy framework, are now discarded policy pursuits for this Government despite their crucial role in protecting Indian consumers from the volatility of international prices. 

Futures Trade in Agricultural Commodities

In India,  futures trade in agricultural commodities includes around 25 sensitive food items like wheat, sugar, chana,desi urad, edible oil, mustard seed,, a variety of spices and even potatoes and onions. In the light of the warnings of global food shortages, it is essential for the Government to delist food items from futures trade and also to  resist the growing pressure to lift the current ban on rice futures. It should learn from the most recent and scandalous example of the highly speculative trade in Guar  (the gum of which is used as a thickening agent in some foods and also as a sealant for shale gas). In the year ending October 2012, the price had shot up 1000 times yielding profits worth 1290 crores rupees to identified companies indulging in speculation. But producers of guar, mainly farmers from Rajasthan received no benefits as they had already sold their crop. Although the trade has since been suspended, prices are still volatile.  Such blatant manipulation of the market invites no punishment in liberalised India. 

Food Security and Food Stocks
 
Unlike some other developing countries, India has sufficient stocks, over 6.62 crore tonnes of foodgrains as on February 1, 2013, three times the norm set for this quarter which is 2 crore tonnes. Given the anticipated shortage in world markets, big companies foreign and domestic have started putting pressure on the Government to “liquidate” the stocks by allowing liberal exports. The value of exports of foodgrains in 2012 was 20 billion dollars or over 1.8 lakh crore rupees. While wheat was exported at global prices of between 1800 to 2000 rupees a quintal, the support price the Indian farmer received was at least one third less at 1285 rupees.  The export of rice also was at prices far higher than the MSP. Thus the Government helped traders and exporters make profits while denying farmers a fair price.
 
The liquidation of  stocks for exports which help traders not farmers is taking place at a time when India is home to a quarter of all malnourished people in the world. The stocks should and must be used to ensure an amount of foodgrains not less then 35 kgs per family at subsidized rates through a universal public distribution system  
 
It is equally necessary in view of the anticipated global shortage of foodgrains to use the stocks judiciously as a buffer against hoarding and blackmarketing. Reckless exports of foodgrains are not in India’s interests.

Alternative Policy Framework

The alternative policy framework being suggested by the CPI(M) is entirely doable if the Government has the political will to do so. The first step is to reestablish the administered price mechanism on petroleum products. The over one lakh crore rupees the Central Government gets from revenue of its unfair tax regime on petroleum products should be drastically reduced which by bringing the prices of transport down, will have a salutaory impact on other prices. The second step is to stop speculation in food commodities and ban all such commodities from the futures exchanges. The third step is to expand, expand and reform  the public distribution system to take strict action against corruption in the PDS and to ensure a minimum of 35 kg of foodgrains per family at a subsidized price of  maximum two rupees. The fourth step is to initiate action against corruption, hoarding and blackmarketing in the food trade. These measures will act as a bulwark against price rise. At the same time long term measures must be taken to ensure expansion in production of food items which will prevent shortages.

The CPI(M) not only promotes this policy but when in Government has, even within the limited resources available to State Governments, taken such measures as described above.

Chidambaram offers minor sops to income tax payers in budget


Chidambaram offers minor sops to income tax payers in budget

  New Delhi, Feb 28: Walking the tight rope ahead of next year's elections, Finance Minister P Chidambaram today offered minor sops to income tax payers but slapped a 10 per cent surcharge on 'super-rich' individuals and corporates, levied an inheritance tax and raised duties on mobile phones, cigarettes and luxury vehicles.

    In his tax proposals in the Budget for 2013-14 to raise an additional Rs 18,000 crore, he gave a benefit of Rs 2,000 to individual tax payers with taxable income of up to Rs 5 lakh but made no change in either slabs or rates of personal income tax which will continue at 10, 20 and 30 per cent.

    Aiming at higher growth rate for inclusive and sustainable development and revive manufacturing, Chidambaram hiked outlays for health, water and sanitation, SCs/STs and tribals and rural development.

    Defence allocation has been increased to Rs 2,03,672 crore, including Rs 86,741 crore for capital expenditure. 

    First-time home buyers will get an additional deduction of interest of Rs 1 lakh for home loans above Rs 25 lakh and Rs 1.50 lakh for home loans up to Rs 25 lakh. This will be over and above the current Rs 1 lakh deduction allowed for self-occupation.
    Implementing the much-talked about super-rich tax, Chidambaram proposed to levy a 10 per cent surcharge on income of Rs 1 crore and above and a 5 to 10 per cent surcharge on domestic corporates whose income exceeds Rs 10 crore a year.

    In the case of foreign companies, who pay a higher rate of corporate tax, the surcharge will go up from 2 to 5 per cent. On dividend distribution tax, he proposed to raise current surcharge from 5 to 10 per cent.

    Presenting his eighth budget, the first after coming back to Finance Ministry last year, Chidambaram imposed a tax of 1 per cent on transfer of immovable property of over Rs 50 lakh. 

    Continuing the education cess for all tax payers at 3 per cent, he promised that the new surcharges will be in force for just a year during 2013-14. While the direct tax proposals will bring in Rs 13,300 crore, those on indirect tax side will rake in Rs 4,700 crore. 

    Bringing in the super-rich tax, Chidambaram said, "I believe there is a little bit of the spirit of Mr Azim Premji (of Wipro) in every affluent tax payer. I am confident that when I ask the relatively prosperous to bear a little more burden for one year, just one year, they will do so cheerfully."

    The Minister did not resist the temptation of burdening smokers when he raised the excise duty by 18 per cent on cigarettes, cigars, cheroots and cigarillos. 

    Including two more services in the negative list of service taxes, he extended the levy to all air-conditioned restaurants and introduced a one-time voluntary compliance scheme for about 10 lakh service tax defaulters to rake in more money.

    High-end luxury motor vehicles, motorcycles and yacht will attract 100 per cent import duty, up from 75 per cent while SUVs will attract a higher excise duty at 30 per cent, up by 3 per cent.

    Passengers will be allowed to bring in duty free gold jewellery of up to Rs 50,000 in case of men and Rs 1,00,000 in case of women.

    There is no change in the peak rate of basic customs duty on non-agriculture products and rates of excise duty and service tax of 12 per cent.

    Chidambaram introduced a commodities transaction tax on non-agriculture commodities futures contracts at the same rate as equity futures that is 0.01 per cent of the price of the trade.

Left Front workers celebrate the victory of Forward Block candidate Deepak Chatterjee in Nalhati on February 28, 2013.



Forward Block candidate wins Nalahati Assembly bypoll


Forward Block candidate wins Nalahati Assembly bypoll

Kolkata, Feb 28 : Trinamool Congress minister Krishnendu Narayan Choudhury won the Assembly by-election from English Bazar constituency in Malda district today with a margin of 20,452 votes.

    Choudhary defeated his nearest CPIM rival Kaushik Mishra. In the other two constituencies of Rejinagar and Nalhati, the Congress and Forward Bloc are leading respectively, State Election Commissioner Sunil Gupta said.

    All three seats were won by Congress candidates in the 2011 Assembly elections at a time when Congress had an alliance with the TMC.

    The Nalhati Assembly seat fell vacant after its MLA Abhijit Mukherjee, son of President Pranab Mukherjee, quit his seat to fight the Lok Sabha by-election from Jangipur.

    Elections to English Bazar and Rejinagar seats were necessitated following resignation of Congress MLAs Krishnendu Choudhury and Humayun Kabir after their switch-over to the TMC.

Historic Victory in Tripura


New Delhi, February 28: The Polit Bureau of the Communist Party of India (Marxist) warmly greets the people of Tripura forelecting the Left Front to a historic fifth successive term in office. With this reelection, the seventh Left Front Government will be formed in Tripura.

The Left Front has won a sweeping victory getting 50 out of the 60 assembly seats. This is one more than the tally of 49 won in the previous election. This victory is a resounding endorsement of the performance and policies of the Left Front government.

The Polit Bureau congratulates the CPI(M) state committee and the entire Party of Tripura for this splendid victory.

Congratulations on the Victory of the Left Front in the Assembly elections 2013


New Delhi, February 28: The Central Secretariat of the Centre of Indian Trade Unions (CITU) greets the people of Tripura for electing the CPI(M) led left front government for a fourth term. We also congratulate the working class for reelecting a government which has the notable achievements of controlling the extremist/separatist forces and implementing development policies which benefit the mass of the people.

This victory also reflects the people’s support for the innovative schemes and programmes for the welfare of the people adopted by the incumbent government which constitute an alternative to the neoliberal policies of the regime at the centre.

We are confident that the new government will continue to strengthen this alternative policy frame work.

The Union Budget presented by the Finance Minister today is nothing but an exercise of inaction as well as deception.


Union Budget 2013-14- An exercise of inaction as well as Deception

New Delhi, February 28: The Union Budget presented by the Finance Minister today is nothing but an exercise of inaction as well as deception. 

Despite being high on rhetoric, the Budget does not reflect even a minimum effort to address the serious concerns of the common people like the rising food prices, growing unemployment and inequalities, which found expression even in the Economic Survey. These concerns were emphatically demonstrated by the unprecedented two days’ countrywide general strike just a few days ago.

The Budget was preceded by unscrupulous inflationary measures through executive order by a hectic 21 per cent rise in railway fares, and multiple hikes in the prices of diesel, petrol and LPG fuelling the price-rise further exposing their hypocrisy.   Rather, it has given further encouragement to speculative activities both in money and commodity market by reducing security transaction tax, by exempting securitisation of debt from tax-net and also by exempting agricultural products from commodity transaction tax which includes food-items as well. Such commodity speculation is the major factor for continuing price-rise of essential commodities. 

The Finance Minister did not fail to boast of India being the fastest growing economy next only to China and Indonesia. But his budget contained nothing to address the mismatch between the satisfactory growth which has failed to provide employment or to address the deteriorating quality of employment. 

The Finance Minister flagged the task of containing fiscal deficit as one of the primary task of his economy management strategy. And at the same time every bit of his fiscal strategy in the budget is seen to be indulging in huge tax concessions to big corporate and big business lobby and his own budget-document admitted that “the aggregate revenue foregone only on direct tax account (income tax and corporate tax) which was Rs 1.01 lakh crore in 2011-12, rose to Rs 1.13 lakh crore, in 2011-12 and is showing an upward trend.” Added to that is the uncollected dues on income tax and corporate tax alone accumulated to Rs 2.57 lakh crore. The government owes an answer to the nation the reasons for such an indulgence to organised pilferage of the national exchequer while lamenting about the fiscal deficit. 

The Finance Minister boasted high of making higher percentage of allocation to agriculture, rural development, education etc. But the comparison is made with the revised estimates on all those heads last year which have been much lower than the original budgetary allocation of 2011-12. The Govt had not spent the money they have allocated on different heads last year may be as per their strategy of austerity. If that strategy continues, do these allocations make any sense? Only on account of four flagship programmes of rural development viz., MNREGA, Gram Sadak Yojana, Indira Awas Yojana and IWMP, more than Rs28000 crore, which is more than 25 per cent of the original allocation, remained unspent till December 2012.  The entire budgetary exercise is full of such deceptive exercise. 

This Union Budget has totally deceived the working people of the country, who contribute to the GDP through their sweat and blood and create national wealth. It has nothing for the unorganised workers except an announcement of ‘convergence’ of various welfare schemes applicable to them. Not a single paisa has been allotted for the welfare fund for the unorganised workers. The extension of Rastriya Swasthya Bima Yojana to rickshaw-pullers, ragpickers etc announced in the budget is nothing but an eye wash. The RSBY has been able to cover only 3.34 crore people despite being in existence for more than five years and a lot of fanfare.

While the Finance Minister spoke eloquently about malnutrition, health, education etc and the schemes to address these, there was nothing for the around 1 crore workers working in various central government schemes like the anganwadi employees, ASHAs, mid day meal workers, the para teachers etc who are not even paid minimum wages or provided with any social security benefits. 

The Centre of Indian Trade Unions totally condemns the approach of the Union Budget which seeks to continue in the disastrous path of carrying forward the neoliberal reforms without an iota of concern for the suffering of the common people and the workers. It calls upon all its committees and affiliated unions and the working class as a whole to oppose the Budget and continue to fight for the reversal of such anti people policies.

'CPI(M) win in Tripura reflects re-emergence of Left Parties'



'CPI(M) win in Tripura reflects re-emergence of Left Parties'

 New Delhi, Feb 28 : The return of the CPI(M)-led Left Front in Tripura and Forward Bloc wresting the Nalhati seat from Congress in West Bengal reflects "re-emergence" of the Left parties, senior CPI(M) leader Sitaram Yechury said today.

    "We congratulate the people of Tripura to have given us two-thirds majority for the seventh Left Front government in the state and sixth in a row," he told reporters when his reaction was sought on the poll results.

    Asked about Left Front partner Forward Bloc winning the Nalhati seat, earlier represented by President Pranab Mukherjee's son Abhijit Mukherjee, Yechury said, "It reflects the re-emergence of the Left."

    To a question on Congress Vice President Rahul Gandhi's election campaign speech that the Left should be thrown out of the country, the CPI(M) leader said: "Please take the people more seriously.

    "... More they say such things, more the people react. When Rajiv Gandhi described Kolkata as a 'dying city', we won three subsequent elections in West Bengal. Another Congress leader, who is no RPT no more now, also wanted to throw out the Left in the Bay of Bengal, but we kept winning."